10/03/2024
আজম খান। বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের পপসম্রাট হিসেবে উল্লেখ করা হয় তাঁকে। পপ সংগীত ভুবনে সকলে বলেন "গুরু"। তাঁর পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে এই শিল্পীর পরিচয়ের বিস্তার ঘটানোর প্রয়োজন পড়ে না। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলা পপ সংগীতকে যে ক'জন শিল্পী পৌঁছে দিয়েছেন ভিন্ন মাত্রায় তাদের অন্যতম একজন তিনি। তার গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পশ্চিমা ধাঁচের পপ সংগীতে দেশজ বিষয়ের সংযোজন। পাশাপাশি তিনি অভিনয় করেছেন শাহীন সুমন পরিচালিত একটি ছবিতে। অভিনয় করেছেন একটি নাটকে। কয়েকটি বিজ্ঞাপন চিত্রে মডেল হয়েছেন। পেয়েছেন 'একুশে পদক'। আজম খান ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
ছবিঃ (বামে নিচে) উচ্চারণ ব্যান্ডের সূচনা হয়েছে যখন। (ডানে মাঝে) এক সঙ্গে মঞ্চে পপ গানের পাঁচ তারকা, সংগীত পরিবেশনা ফেরদৌস ওয়াহিদ, ফকির আলমগীর, পিলু মমতাজ, ফিরোজ সাই এবং আজম খান।
06/03/2024
এসব লেখা দিতে কষ্ট হয়,লজ্জা হয়,সংকোচ বোধ করি।কিন্তু সত্য যে বলে যেতে হবে দুনিয়া থেকে,সত্য তো বলে যাবোই...
বাংলাদেশের একটা প্রজন্মকে খুবই পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানপন্থী বানানো হয়েছে..... কারা বানিয়েছে ? এরা পাকিস্তানেরই পালা কুকুর, এই প্রজন্ম জানেইনা বা জানতে চায়না কত রক্ত আর জীবনের বিনিময়ে এই বাংলাদেশের অভ্যূদয়, নতুন প্রজন্ম এসো সেই দুঃখজনক ইতিহাসের কিছুটা অংশ আজ জানার চেষ্টা করিঃ
বীভৎসতা১৯৭১......
পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডির সামরিক হাসপাতালে এক তরুণ পাকিস্তানী অফিসারকে আনা হয়েছিলো মানসিক চিকিৎসা করানোর জন্য। সেই তরুণ বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পর গুরুতর মানসিক সমস্যায় পড়ে।
মুক্তিযুদ্ধে সে একাই হত্যা করেছিলো ১৪ হাজারের বেশী মানুষ, জ্বি চৌদ্দ হাজার !!!
দিনের পর দিন ব্রাশফায়ারে হত্যা করতে করতে সে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলো। যুদ্ধের কথা মনে হলেই গোটা শরীরে তার ভয়ংকর খিঁচুনি শুরু হতো, আর ঘুমাতে গেলেই ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখতো সে। কে যেন তাঁকে বলছে আবার ফিরে যেতে হবে বাংলাদেশে, আবার হিন্দুদের চিরতরে শেষ করে দিতে হবে। এছাড়া ওর মুক্তি নেই।
সূত্র- পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গওহর আইয়ুবের লেখা বই "Glimpses into the corridors of power" তিনি এই লেখার সূত্র হিসেবে নিয়েছিলেন বাবা ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের ব্যক্তিগত ডায়েরি থেকে।
রাজারবাগ পুলিশ লাইনে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫ যে মার্চ রাত থেকেই স্কুল কলেজের মেয়েদের ধরে আনতো হানাদারেরা।
ট্রাকে তুলে এনে পছন্দ মত মেয়েদের টেনে হিঁচড়ে নামাতো! প্রকাশ্যে এদের পোশাক খুলে গাছের আড়ালে, দেয়ালের পাশে ধর্ষণ করতো!
ধর্ষণ করার পরে হেড কোয়ার্টারের চার তলায় নিয়ে উলঙ্গ অবস্থায় লোহার রডের সাথে চুল শক্ত করে বেঁধে পুনরায় শুরু করতো নির্যাতন!
শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেলেদের ধরে আনলো। কারো পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হতো, কারো মুখে গরম পানি ঢালা হতো!
কারো হাত পায়ে গিট মেরে গুড়িয়ে ফেলা হতো!
পরদেশী নামে একজন ডোম শাঁখারী পট্টির এক বাড়িতে যান। ঐ বাড়ি থেকে অপরূপ সুন্দরী একটি মেয়ের লাশ তুলে আনেন! মেয়েটির স্তন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে! যৌনাঙ্গ সম্পূর্ণ রূপে থেতলানো!
মুখ বাহু উরুতে জমাট বাঁধা রক্ত! সমস্ত শরীরে কামড়ের চিহ্ন! তিনি আরো বলেন, আরমানিটোলার এক বাড়িতে দশ এগারো বছরের এক ফুটফুটে মেয়ের কথা! মেয়েটির সম্পূর্ণ শরীর ক্ষতবিক্ষত! নরপশুরা মেয়েটিকে ধর্ষণ শেষে দুদিক থেকে পা ধরে নাভি পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলেছে!
.
কদিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খবর আসে, এক মেজরের কাছে! মৃত মানুষের গন্ধে থাকা যাচ্ছেনা! অবিলম্বে লাশ তুলে ফেলা হোক!
এ পর্যন্ত তারা শুধু শহরেই লাশ তোলার কাজ করে যাচ্ছিলো!
এ সংবাদ পাওয়ার পর চুন্নু, পরদেশী, রনজিৎ, মধুরাম, দুখিরাম সহ আরো কয়েকজন ডোম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়! প্রথমে তারা রোকেয়া হলে প্রবেশ করে! কিন্তু হলের কোনো কক্ষেই লাশ ছিলোনা! কেননা ২৫শে মার্চ রাতেই হলে অবস্থানরত ছাত্রীদের পাকিরা তুলে নিয়ে যায়!
.
এসময় তারা হলের চারতলার ছাদে গিয়ে দেখতে পান সেখানে অনেকগুলো ছাত্রীর লাশ ছড়ানো ছিটানো! তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই! অথচ এরা মরলো কিভাবে?
এই প্রশ্নের জবাবে এক সৈন্য বলে, এদেরকে আমরা উপভোগ করেছি! তারপর যৌনাঙ্গে বেয়নেট ঢুকিয়ে হত্যা করেছি!
এদের কারো পরনে কোনো কাপড় ছিলোনা! তাদের আশেপাশে দুএকটা সেলোয়ার কামিজ ছিলো!
রাবেয়া খাতুন কাজ করতেন রাজারবাগ ক্যান্টিনে! তিনি বলেন, "তিনি দেখতে পান ট্রাকে এবং জিপে করে প্রায় পঞ্চাশ জন মেয়েকে আনা হয়েছে! এদেরকে একটি কক্ষে রাখা হলো! প্রায় প্রত্যেকের হাতে বই খাতা ছিলো!
একদল সেনা কুকুরের মতো হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়লো তাদের উপর! প্রথমে জানোয়ার গুলো সমস্ত মেয়েদের পরনের কাপড় খুলে উলঙ্গ অবস্থায় সবাইকে মাটিতে শুয়ে পড়তে নির্দেশ দিলো! নির্দেশ অমান্য করলে লাথি মেরে ফেলে ধর্ষণ করেছিলো!
তিনি বলেন প্রতিটি মেয়ের শরীর থেকে রক্ত ঝরছিলো! যোনিপথে বেয়নেট ঢুকিয়ে তাদের হত্যা করা হয়!"
.
সূত্র- ডোম পরদেশী, চুন্নু, রনজিৎ, মধুরামের সাক্ষ্য/ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।
সুসান ব্রাউনি মিলার নামের এক গবেষক লিখেছিলেন....
"কোনো কোনো মেয়েকে পাকসেনারা এক রাতে ৮০ বারও ধর্ষণ করেছে।"
"ধর্ষিতা মেয়েরা চিৎকার করে আমাদের বলতেন 'আমরা তো মরে যাব, আপনারা যদি কেউ বেঁচে যান তাহলে আমাদের কথা আমাদের বাড়িতে গিয়ে বলবেন।'... পাকিদের নির্যাতনের ধরন ছিল বীভৎস। তারা মেয়েদের স্তন কেটে ফেলত, যৌনাঙ্গে রাইফেল ঢুকিয়ে গুলি করত; এমনভাবে নির্যাতন করত যে সে প্রক্রিয়া আমি ভাষায় বর্ণনা করতে পারছি না, এসব আমি নিজের চোখে দেখেছি।"
- ফরিদপুরের মুক্তিযোদ্ধা একে এম আবু ইউসুফের ভাষ্য।
"পাকিস্তানী সেনারা প্রত্যেক মহিলাকে অবর্ণনীয় কষ্ট ও যন্ত্রণা দিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর তাদের হত্যা করে। ধোপা যেভাবে কাপড় কাচে সেভাবে রেললাইনের ওপর মাথা আছড়ে, কখনও দু'পা ধরে টান দিয়ে ছিঁড়ে দু'টুকরা করে হত্যা করেছে শিশুদের। স্বাধীনতার অনেকদিন পরেও সেখানে মহিলাদের কাপড়, ক্লিপ, চুল, চুলের খোঁপা ইত্যাদি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে আমি আমার ছোট বোনের ফ্রকের এক টুকরো কাপড় খুঁজে পাই।
সূত্র- নীলফামারীর বিনোদ কুমারের সাক্ষ্য।
টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরের ছাব্বিশা গ্রামের মানুষ বেগম বলেছিলেন, "আমাদের পাশের বাড়ির একটি মেয়ে। সদ্য মা হয়েছে, আট দিনের বাচ্চা কোলে। ঐ সময় সে বাচ্চাটিকে দুধ খাওয়াচ্ছিলো। এমন সময় বাড়িতে আক্রমণ। ঘরে তখন কেউ ছিলো না। এরপর যা হবার তাই হলো, মেয়েটির উপর চলল অমানসিক নির্যাতন। এরমধ্যেই দুপুর গড়িয়ে এল, পাকিরা খাবার খেতে চাইল। ঘরে কিছু না থাকায় ক্ষেত থেকে বেগুণ এনে দিতে বলল। ভীত মেয়েটি ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। মেয়েটির আসতে দেরি হচ্ছিলো দেখে পাকিরা তার বাচ্চাকে গরম ভাতের হাঁড়িতে ছুঁড়ে দিয়ে ঘর থেকে নেমে গেল।"
মুক্তিযুদ্ধের মার্চ মাসে মিরপুরের একটি বাড়ি থেকে পরিবারের সবাইকে ধরে আনা হয় এবং কাপড় খুলতে বলা হয়। তারা এতে রাজি না হলে বাবা ও ছেলেকে আদেশ করা হয় যথাক্রমে মেয়ে এবং মাকে ধর্ষণ করতে। এতেও রাজি না হলে প্রথমে বাবা এবং ছেলে কে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয় এবং মা মেয়ে দুজনকে দুজনের চুলের সাথে বেঁধে উলঙ্গ অবস্থায় টানতে টানতে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।"
নিয়াজী ধর্ষণে তার সেনাদের এতই চাপ দিতেন যে তা সামলে উঠতে না পেরে এক বাঙালি সেনা অফিসার নিজে আত্মহত্যা করেন।
সূত্র- পাকিস্তানী জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজার লেখা "A Stranger in My Own Country"
খুলনার একটি ক্যাম্প থেকে কাচের জারে ফরমালিনে সংরক্ষিত রাখা মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পাওয়া যায় যা খুব নিখুঁতভাবে কাঁটা ছিলো। এটা পুরোটাই ছিলো পাকিস্তানি সেনাদের বিনোদনের উদ্দেশ্যে। তারা পরখ করতো মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন অংশ কেমন!
আমাদের সংস্থায় আসা ধর্ষিত নারীদের প্রায় সবারই ছিল ক্ষত-বিক্ষত যৌনাঙ্গ। বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ছিড়ে ফেলা রক্তাক্ত যোনিপথ, দাঁত দিয়ে ছিড়ে ফেলা স্তন, বেয়োনেট দিয়ে কেটে ফেলা স্তন-উরু এবং পশ্চাৎদেশে ছুরির আঘাত নিয়ে নারীরা পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসতো।"
- মালেকা খান/ সমাজকর্মী।
এক টর্চার সেলের প্রায় ১০ হাজার বাঙ্গালীকে নির্যাতন করেছিলো পাকিস্তানীরা। যার ফলে সেই মেঝেতে ৩ ইঞ্চি উঁচু রক্তের জমাট বেঁধে গিয়েছিলো।
কর্ণেল নাদির আলী নামের এক পাকিস্তানী অফিসার লিখেছিলেন,
১৯৭৩ সালে আমি ছয় মাস পাগলাগারদে ছিলাম। আমি কেন পাগল হয়ে গেলাম? আসলে আমি সেনাবাহিনীর আগ্রাসনের সামষ্টিক অপরাধবোধে ভুগছিলাম, যে গণ-অপরাধ ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যেই বন্ধ করা উচিত ছিল।’
সূত্র - khaki dissident on 1971 by Colonel Nadir Ali.
বিজয় এতো সহজে আসেনি! বিজয় কেবল রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে আসেনি! বিজয় এসেছে বহু ভয়ংকর অধ্যায়ের পরে। এমন লাখ লাখ ভয়াবহতার পর!
মুক্তিযুদ্ধ স্রেফ কেবল একটি যুদ্ধ না তো; মুক্তিযুদ্ধ একটা জাতির জন্ম পরিচয়, প্রতিটি মাধ্যম।
কি করে ভুলি এতো এতো আত্মত্যাগ? মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতম অধ্যায়গুলো কী এড়ানো আসলেই সম্ভব?
সবাই বলছি , মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস! মুক্তিযুদ্ধ তো কেবল ইতিহাসের মতো ক্ষুদ্র একটা জিনিষও না..!
লেখা- জাফর ওয়াজেদ
04/03/2024
মুক্তিযুদ্ধের দুষ্প্রাপ্য ছবি।
মুক্তিযুদ্ধ ৭১।
1st Bangladesh War Course
THOSE MAGNIFICENT 61 OF '71.
মুক্তিযুদ্ধে প্রথম ব্যাচের officer cadetরা প্রশিক্ষনের অবসরে আগষ্টের কোন এক দিন।
22/02/2024
ভাষা শহীদ আবুল বরকত।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবুল বরকত।
ছবিটি ১৯৪৮ সালে তোলা।
22/02/2024
"ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ মাওলানা তর্কবাগীশ
ও অগ্নিগর্ভ বায়ান্নর একুশে"।
============
============
যে কেউ এই লিখাটি পড়বে
ভাবনার তরঙ্গ তাকে ছুঁয়ে যাবেই ..!!
আমি নিশ্চিত। ✔
-সৈয়দ হাদি তর্কবাগীশ ।
Syed Hadi Tarkabagish.
মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ তখন সরকারি দলের পুর্ববঙ্গ আইন পরিষদের মুসলিম লীগ দলীয় সদস্য। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তখন ১৪৪ ধারা।
আগের দিন পুর্ববঙ্গের কুখ্যাত প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন ১৪৪ ধারা জারি করেছেন...।
২১ শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের ঔ দিনই ডাকা হয়েছে পুর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশন (সংসদের বাজেট অধিবেশন)। বৈঠকে যথারীতি উপস্থিত আছেন ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ।
পার্লামেন্টারি বৈঠক চলাকালে সহসা ভেসে এলো গুলির শব্দ। চমকে উঠলেন তর্কবাগীশ। কেঁপে উঠলো তাঁর অন্তরআত্বা...।
অবাক বিস্ময়ে তিনি দেখলেন উপস্থিত সদস্যরা বিচলিত ; কিন্তু মন্ত্রীরা নির্বিকার ।
ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ মাওলানা তর্কবাগীশ এক মুহুর্ত থাকতে পারলেন না। তিনি বেরিয়ে পড়লেন।
পরিষদ ভবনের সামনের (সংসদ ভবনের সামনের) রাজপথ জনশুন্য। অদুরে মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে মাইকে ভেসে আসছে ছাত্রদের অন্তরভেদী আর্তচিৎকার...।
তাঁরা ব্যবস্থাপক পরিষদের (অ্যাসেম্বলি/ সংসদ) সদস্যদের কাছে জানাচ্ছে অধিবেশন বর্জনের আহ্বান।
ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ মাওলানা তর্কবাগীশ ছুটে চললেন সেই দিকে। মেডিকেল হোস্টেল প্রাঙ্গনে এসে দেখলেন এক হৃদয় বিদারক বীভৎস দৃশ্য...।
রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রাজপথে...। গুলির আঘাতে ঝাঝরা হয়েছে কয়েকটি টগবগে তরুনের বুক, দেহ...।
ইতি মধ্যে নিভে গেছে কয়েকটা প্রান প্রদীপ। সাথী বন্ধুদের মৃত্যু চিৎকার আর রক্তের ফিনকি ছাত্রদের বুকের ভিতর জ্বেলে দিয়েছে অগ্নিশিখা...।
সমাজ সংস্কারক গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা, ভাষা আন্দোলনের মহানায়ক মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশের জবানীতেই সেই দিনের ঘটনা তুলে ধরছি....।
আমি তখন পুর্ববাংলা আইন পরিষদের সদস্য। ২০ শে ফেব্রুয়ারি নুরুল আমিন সরকার ঢাকায় জারি করেন ১৪৪ ধারা...।
কাজেই জনসভা, মিছিল ইত্যাদি নিষদ্ধ ছিল। রাস্তায় রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও মিলিটারি। এরই মধ্যে দুপুর দুইটার দিকে অ্যাসেম্বলি হাউসে মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি দলের সভা বসে।
আমার মনে পড়ে ২১ শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে পরিষদের সভা আহ্বান করা হয়( সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়)। তখন বাহিরে মুহুর্মুহু রাইফেলের গর্জন। কিন্তু কোন মন্ত্রী কিংবা পরিষদের কোন সদস্যদের মধ্যে কোন সাড়া নেই।
মাঝ মাঝে গুলি কাঁদানে গ্যাস, শেল বর্ষনের শব্দে আমি শিউরে উঠছিলাম। এক সময় হাউস থেকে বেরিয়ে আসি (একসময় সংসদ থেকে আমি বেরিয়ে আসি)।
দেখি রাজপথ জনশুন্য। রাইফেল ও লাঠি হাতে স্থানে স্থানে দাড়িয়ে আছে পুলিশ ও সৈন্যরা।
আমি মেডিকেল কলেজের দিকে অগ্রসর হলাম।
কলেজের কাছে এসে আমি যে দৃশ্য দেখলাম তাতে আমি অশ্রু সংবরন করতে পারিনি। ছাত্ররা চিৎকার করছে। দূর থেকে তারা আইন সভার সদস্যদের প্রতি (সংসদ সদস্যদের প্রতি) আহ্বান জানাচ্ছে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি দেখার জন্য।
আহত ছাত্ররা আর্তনাদ করছে। কারও কারও কাপড়ে ফেনা যুক্ত রক্ত...।
শুনতে পেলাম বহু ছাত্র হতাহত হয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে আমার সক্রিয় রাজনীতির চল্লিশ বছরের জীবনে হাসপাতালের অভ্যান্তরে পুলিশের গুলি বর্ষনের এমন ঘটনা আমি দ্বিতীয়টি আর দেখিনি....।
মর্মান্তিক এ দৃশ্য সহ্য করতে পারলাম না।
হাউসের কাছে প্রতিবাদ জানানোর জন্য, অবস্থা বিবৃতি করার জন্য ছুটে এলাম অ্যাসেম্বলি হাউসে (সংসদ ভবনে)।
বিকাল তিনটা ত্রিশ মিনিট, স্পিকার আব্দুল করিম আসন গ্রহন করলেন। আমি তখন সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাড়ালাম...।
জনাব স্পিকার: প্রশ্নোত্তরের পূর্বে আমি আপনার কাছে একটা নিবেদন করতে চাই...,
ভবিষ্যতের আশা ভরসা দেশের ছাত্ররা যখন পুলিশের গুলিতে জীবন দিচ্ছে তখন আমরা এখানে বসে সভা করতে পারিনা। আমার দাবি প্রথমে ইনকোয়ারি, তারপর হাউস বসবে।এর আগে হাউস বাসতে আমি
দিবো না.....।
এ নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে আমার দীর্ঘ বাকবিতন্ডা হয়। তিনি বারবার আমাকে অ্যাসেম্বলির আইন মোতাবেক আচরন করার কথা বলেন।
আমারও এক কথা, যে সরকার আমাদের সন্তানদের গুলি করে হত্যা করছে, সেই সরকারের আইন মানা যায় না....।
আমি মানবো না.....।
আগে প্রধান মন্ত্রীকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসে বিবৃতি দিতে হবে, তারপর অধিবেশন চলবে (সংসদ চলবে), তার পূর্বে নয়....।
আমি অধিবেশন চলবে দেব না...।
তুমুল বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে স্পিকার অধিবেশন মুলতবি ঘোষনা করতে বাধ্য হয়। অধিবেশন মুলতবির পর অধিবেশন আবার শুরু হলে,
এক বিবৃতির মাধ্যমে এহেন জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে আমি পরিষদ ভবন (সংসদ ভবন) ত্যাগ করি। এবং চিরতরে মুসলিম লীগ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই...।
ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ মাওলানা তর্কবাগীশ একাই পরিষদ ভবন (সংসদ ভবন) ত্যাগ করে সরাসরি চলে আসেন মেডিকেল কলেজে।
তিনি এখানে ছাত্রদের মিছিলে এবং সমাবেশে যোগ দেন...।
মিছিল সহযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে যেখানে বর্তমানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সেখানে যে টিনের হোস্টেল ছিল তার বারান্দায় দেখতে পান একজন শহীদ ছাত্রের মাথার খুলি বুলেটের আঘাতে উড়ে গেছে...। ছাত্রদের মধ্যে চরম উত্তেজনা...। হোস্টেল সমাগত ছাত্রদের উদ্দ্যেশে ভাষন দিতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
মাওলানা তর্কবাগীশ ভাষনে বলেন,
যার হাতে আমার জীবন মৃত্যু সেই মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ পাকের কসম, শহীদদের পবিত্র রক্তের শপথ আল্লাহ পাক যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে বাংলা ভাষাকে আমি রাষ্ট্রভাষায় পরিনত করবোই ইনশাআল্লাহ...।
শৃংখলার মাধ্যমে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছা না পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ।
*** উল্লেখ্য বক্তৃতা দেয়ার সময় ভাষা আন্দোলনের মহানায়ক মাওলানা তর্কবাগীশের ডান হাতে ভাষা শহীদদের পবিত্র রক্ত লেগেছিল...।
তিনি একাই মুসলিম লীগ ও পরিষদ ভবন ( সংসদ ভবন) ত্যাগ করে ছাত্র জনতার কাতারে শামিল হয়ে গেলেন...।
এর জন্য তাঁকে রুদ্ধদার কক্ষে বৈঠক কিংবা কোন আলোচনায় বসতে হয়নি কারো মতামতের জন্য এক মুহুর্ত অপেক্ষা করতে হয়নি..।
.. চীর বিপ্লবী মাওলানা তর্কবাগীশ নিজ বিবেক তাড়িত হয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহনে এক মুহুর্ত দ্বিধা করেননি...।
আবার ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ
মাওলানা তর্কবাগীশের জবানিতেই বলি....,
পরদিন ২২ শে ফেব্রুয়ারি যথারীতি অধিবেশন বসেছে পরিষদের (সংসদ ভবনে)।
আমি প্রস্তাব উত্থাপন করলাম অধিবেশন মুলতবির (সংসদ অধিবেশন মুলতবির), এ প্রস্তাবের প্রতি ৩৫ জন সদস্যের সমর্থন আছে কিনা সদস্যদের কাছে স্পিকার জানতে চাইলেন...।
কিন্তু খয়রাত হোসেন, খান সাহেব ওসমান আলী, আলী আহমেদ, আনোয়ারা খাতুন, মনোরঞ্জন ধর, ধীরেন দত্ত, গোবিন্দ বল্লভ ব্যানার্জী, বসন্ত কুমার দাস, মনির উদ্দিন আকন্দ, সামসুদ্দিন আহমেদ, আলী আহমদ চৌধুরী, কবির চৌধুরী, ডাঃ ভোলানাথ বিশ্বাস, হারান চন্দ্র বর্মন ছাড়া কেউই প্রস্তাবে সমর্থন করলেন না, ফলে মুলতবি প্রস্তাব স্পিকার নাকচ করে দিলেন...।
*** অতপর আমি নুরুল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করলাম...।
ঘোষনা দেয়া হলো ২৫ ফেব্রুয়ারি নুরুল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে...।
সারাদেশ তখন অগ্নিগর্ভ, তীব্র ক্ষোভ ও রোষে দাউ দাউ করে জ্বলছে...।
প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ধিক্কার দেশ জুড়ে...।
এরই মধ্যে সরকার বাংলা ভাষা আন্দোলনের পিছনে বিদেশী হাত বিশেষ করে অপসংস্কৃতির প্রভাব আবিষ্কার করলো এবং এ আন্দোলনকে পাকিস্তানের ঔক্য ও সংহতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করলো...।
*** জাতির এ সন্ধিক্ষনে ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ মাওলানা তর্কবাগীশ ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন...।
ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ মাওলানা তর্কবাগীশ আইন পরিষদে (অ্যাসেম্বলি হাউসে) প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে যে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন তা সমর্থন করার জন্য ছাত্ররা এম এল এ দের সাথে সাক্ষাৎ করে ব্যাপক ভাবে অনুরোধ জানাতে লাগলো...।
তখন পরিষদ সদস্যদের (সংসদ সদস্যদের) আবাসস্থল পার্টি হাউসের দোতলায় যে কক্ষটিতে ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ মাওলানা তর্কবাগীশ থাকতেন, সেটাই তখন ভাষা আন্দোলন পরিচালনা এবং ছাত্র নেতাদের বৈঠক ও আলাপ আলোচনার এক মাত্র কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছিলো...।
ছাত্রদের ব্যাপক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধারনা বদ্ধমুল হলো, ২৫ ফেব্রুয়ারি নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয়ে যাবেই.....।
এরই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিনের পক্ষ থেকে মাওলানা তর্কবাগীশের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহারের বিনিময়ে কিছু লোভনীয় প্রস্তাব এলো... ।
... ক্রুদ্ধ মাওলানা তর্কবাগীশ দৃঢ়তার সঙ্গে তা প্রত্যাখান করলেন...। নুরুল আমিনের দূত ফিরে গেলেন, কিন্তু আবার এলেন আরও বড় প্রস্তাব নিয়ে.....,
.. বৃহৎ আকারের ঢাকায় চার খানা বাড়ী এবং ২ লাখ নগত টাকা।
কিন্তু ভাষা আন্দোলনের মহানায়ক মাওলানা তর্কবাগীশ কৃত সংকল্প।
..জেল, জুলম, মৃত্যু, বাড়ী, টাকা পয়সা কিছুই পরোয়া করেননি অকুতোভয় মাওলানা তর্কবাগীশ... ।
যখন তাঁকে কোন কিছুতেই টলানো গেলোনা...,
অবশেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ রাতে পুলিশ এসে ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ মাওলানা তর্কবাগীশ ও তৎকালীন ছাত্রনেতা তাঁর জ্যোষ্ঠ পূত্র ভাষা সৈনিক এস এম নুরুল আলম কে গ্রেফতার করে।
পাকিস্তান সরকার তখন ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দানের অপরাধে মাওলানা তর্কবাগীশ এবং তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র ভাষা সংগ্রামী এস এম নুরুল আলমকে ১৮ মাস কারাগারে আটক করে রাখে ।
১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, রোববার রাতে গভর্নর ফিরোজ খান নুন বিশেষ ক্ষমতা বলে অর্ডিন্যান্স জারি করে আইন পরিষদের অধিবেশন (সংসদ অধিবেশন) বন্ধ করে দেন।
এভাবে নিয়ম তান্ত্রিক আন্দোলন ও গনতন্ত্রের সুচনাকে রুদ্ধ করে হত্যা করা হলো.....।
অংকুরিত হলো স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বীজ...।
-সৈয়দ হাদি তর্কবাগীশ ।
( ভাষা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ
মাওলানা তর্কবাগীশের নাতি )
19/02/2024
নিউজউইকের প্রচ্ছদের সেই গেরিলাযোদ্ধা।
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাপ্তাহিক সাময়িকী নিউজউইক- এর সেই প্রচ্ছদ।
প্রচ্ছদের শিরোনাম ‘বাংলা দেশ গেরিলাস’।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দলিল হয়ে ওঠা প্রচ্ছদটি দেখেননি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলে এই প্রচ্ছদটি। কিন্তু জানেন কি ছবিতে স্টেনগান হাতে দাড়িয়ে থাকা এই তরুন গেরিলাযোদ্ধা কে ?
তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব হেবজুল বারী।
১৯৬৯ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পদায়ন হয়েছিল চট্টগ্রামে। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যোগ দেন চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ২৫ থেকে ২৮ মার্চ বেলুচ রেজিমেন্টের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। চার দিন যুদ্ধ চলতে চলতে খাবার, গোলাবারুদ একপর্যায়ে শেষের দিকে। কিছুতেই যখন মুক্তিযোদ্ধা আর কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না, ওদিকে গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ব্রাহ্মণহাটার বাড়িতে থানা থেকে খবর জানায়, হেবজুল বারী মারা গেছেন ! এরপর চলে অসংখ্য অপারেশন। মুক্তিযুদ্ধেও রয়েছে তার অসংখ্য স্মৃতি...
ছবিটি সম্পর্কে আমরা জানলেও, জানিনা ছবিটির এই তরুন গেরিলাযোদ্ধা সম্পর্কে, জানিনা তার বীরত্বগাথা!
বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র'র মাধ্যমে সুলতান মাহমুদের ( মুক্তিযোদ্ধার নাতী ) থেকে গত জানুয়ারি মাসে অন্তরালে থাকা মানুষটির খোঁজ পাই আমরা, এরপর যোগাযোগ, তথ্যসংগ্রহ, প্রচার....
পরবর্তীতে 'বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র'র মাধ্যমে যোগাযোগ করে স্ব শরীরে গিয়ে বিপুল পরিমান তথ্য সংগ্রহ করে প্রথমআলো। এরপর টিভি চ্যানেলসহ অনেকেই অন্তরালে থাকা এই ব্যক্তিটিকে নিয়ে আয়োজন করেন, কিন্তু 'বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র' ও সরাসরি গিয়ে তথ্যসংগ্রহকারীদের নামটি সেভাবে কোথায় মূল্যায়িত হয়নি!
মূল্যায়িত নাহলেও অন্তরালে থাকা এমন এক বীরমুক্তিযোদ্ধাকে মূল্যায়িত হতে কিঞ্চিৎ ভূমিকা রাখতে পারার মত সৌভাগ্য হওয়াও কম নয়। আমাদের প্রাপ্তি এটুকুই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হেবজুল বারীর মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অনেক আক্রমণ রয়েছে এগুলো সহ আরও অনেক অজানা ঘটনা সরাসরি বীর মুক্তিযোদ্ধার মুখ থেকে শুনতে আমরা তাকে 'বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র' র আয়োজিত সরাসরি অনুষ্ঠান বুকের ভেতর যুদ্ধকথা'য় আমন্ত্রন জানিয়েছি।
আগামীকাল সরাসরি জানা যাবে অজানা অনেক কথা। জানা যাবে কিভাবে তিনি নিউজউইকের প্রচ্ছদ হলেন, এছাড়া অনুষ্ঠানে সরাসরি অতিথিকে প্রশ্নও করা যাবে।
প্রচার সময় - ১০ আগস্ট ২০২১,
মঙ্গলবার, রাত - ৯টা (বাংলাদেশ সময়)
সকলকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রন রইলো।
অংশ নেওয়ার লাইভ লিংক - https://www.facebook.com/groups/rarephotoarchive.bd/permalink/3056297864605147/
14/02/2024
শহীদ মিনারের মূল নকশা এবং একজন " নভেরা আহমেদ " ।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ছিলেন এই বিশ্ববিখ্যাত ভাস্কর নভেরা আহমেদ।
শিল্পী হামিদুর রহমানের তৎপরতায় তিনি ও ভাস্কর নভেরা আহমেদ মিলে একটা নকশা করেছিলেন শহীদ মিনারের জন্য । অবশ্য শহীদ মিনারের মূল নকশাটি নভেরা আহমেদের করা। কথাসাহিত্যিক আনা ইসলামের সদ্য প্রকাশিত ‘নভেরা : বিভুঁইয়ে স্বভূমে’ বইতে উল্লেখ করেছেন বিস্তারিতভাবে ।
বলা বাহুল্য যে , কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশা ১৯৫৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সরকারিভাবে পাস করা হয়। সেই সময় শহীদ মিনারের মূল নকশায় একটি অংশে লেখা ছিল ‘শহীদ মেমোরিয়াল : কম্পোজার হামিদুর রহমান মুর্যালিস্ট ইন কোলাবরেশন উইথ নভেরা আহমেদ স্কাল্পটর।’ এখানে নভেরাকে সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও আনা ইসলামের বইটিতে ২০১৪ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভাস্কর নভেরা আহমেদ শহীদ মিনার প্রসঙ্গে বলেছেন ‘... আমি আমার আইডিয়ার কথা বলেছি। কী করতে হবে বলেছি। ... অনেক কাজ একা করতে হবে বলে হামিদকে বলি সাহায্যের জন্য। ... সে আমার কথা অনুসরণ করত। ... কারণ আইডিয়া আমার।
দুঃখের বিষয় এই প্রজন্মকে বাদই দিলাম আমরাই বা কয়জন চিনি জানি বাংলাদেশের এই বিশ্ববিখ্যাত ভাস্করকে ।
অথচ বাংলাদেশের আধুনিক যুগের কিংবদন্তি ভাস্কর নভেরা আহমেদের ৮০ তম জন্মদিন স্মরণ করে ২৯শে মার্চ ২০১৯ শিল্পসম্মত ডুডল করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগল। তাতে প্রদর্শন করা হয়েছে নভেরা আহমেদের কাজের প্রতীকী। একইসঙ্গে এই ডুডলে ক্লিক করলেই চলে আসছে কতোগুলো ছবি, ভিডিওসহ তার জীবনবৃত্তান্ত।
ভাষার মাসে এই বিখ্যাত ব্যক্তিটিকে তুলে ধরছি সংক্ষিপ্ত আকারে ;
নভেরা আহমেদ বাংলাদেশী ভাস্কর। তিনি বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যশিল্পের অন্যতম অগ্রদূত এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম বাংলাদেশী আধুনিক ভাস্কর।
১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক প্রদান করে।
তিনি প্রায় ৪৫ বছর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্যারিসে বসবাস করেন।
নভেরা। ফার্সি শব্দ ‘নভেরা’র অর্থ নবাগত, নতুন জন্ম।
উনার পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের আসকারদিঘির উত্তর পাড়।
বাবার কর্মস্থল কলিকাতা এবং দেশে বিভাগের পর ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়ালেখা করেন।
পরবর্তীতে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাঁর প্রিয় সাবজেক্ট ভাস্কর্য এবং চিত্রশিল্প বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন ।
নভেরা আহমেদের কাজের সর্ববৃহৎ সংগ্রহ রয়েছে ঢাকাস্থ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। চট্টগ্রামের রেকিট অ্যান্ড কোলম্যান-এর বাংলাদেশ কার্যালয়ে এবং ঢাকার অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের সামনের উদ্যানে নভেরার আরো দুটি কাজ সংস্থাপিত আছে।
নভেরার প্রথম একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছিল ১৯৬০ সালের ৭ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় গণ গ্রন্থাগার প্রাঙ্গনে (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার) পাকিস্তান জাতিসংঘ সমিতির উদ্যোগে এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়।
ইনার গেজ শিরোনামের ওই প্রদর্শনীটি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী। প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আজম খান।
নভেরার দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে ব্যাংককে। এই প্রদর্শনীটি ছিল ব্যাংককে ধাতব ভাস্কর্যের প্রথম মুক্তাঙ্গন প্রদর্শনী। এতে নভেরা ধাতব মাধ্যমে কিছু ভাস্কর্য প্রদর্শন করেন।
১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে জুলাই মাসে তার তৃতীয় একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছিল প্যারিসের রিভগেস গ্যালারিতে।
সর্বশেষ ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসে তার পূর্বাপর কাজের একশ দিনব্যাপী একটি প্রদর্শনী আয়োজিত হয়।
১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসে অবস্থানকালে ব্যাংককের আলিয়ঁস ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস যৌথভাবে তার একটি একক প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
৪১ বছর পর ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি প্যারিসের গ্যালারি রিভগেসে নভেরা আহমেদের রেট্রোসপেকটিভ প্রদর্শনী শিল্পকর্মের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় একশো দিন ব্যাপী (১৬ জানুয়ারি–২৬ এপ্রিল ২০১৪) প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছে তার ১৯৬৯–২০১৪ কালপর্বের ৫১টি শিল্পকর্ম, যার মধ্যে রয়েছে ৪২টি চিত্রকর্ম ও নয়টি ভাস্কর্য।
২০১৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর নভেরার জীবন ও আদ্যন্ত শিল্পকর্মের ওপর একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
৭ থেকে ১৯ অক্টোবর ২০১৫ এই দুই সপ্তাহব্যাপাী প্রদর্শনীটির আয়োজন করা হয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী চিত্রশালায়। এতে নভেরার ৩৫টি শিল্প কর্ম প্রদর্শিত হয়।
এক সময় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি হলের নামকরণ করা হয়েছিল "ভাস্কর নভেরা আহমেদ হল"।
বর্তমানে বাংলা একাডেমী’র একটি হলের নাম নভেরা হল।
বলাবাহুল্য যে, ১৯৬০ সালে নভেরার এক প্রদর্শনীর পুস্তিকায় শিল্পাচার্য জয়নুল তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আজ এখানে নভেরা যা করছেন, তা বুঝতে আমাদের অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে।’
শুধু তাঁর কাজের ক্ষেত্রে নয়, ব্যক্তি জীবনে পশ্চিমা ধরনের চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদ, ভবঘুরে স্বভাব তাঁর সম্পর্কে একটি মিথ তৈরি করেছিল।।
ধন্যবাদ ।
( বিভিন্ন সূত্র থেকে নেয়া )
02/02/2024
৭ মার্চ, ১৯৭১ সাল।ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক ইতিহাস রচিত হয়েছিল। ঐদিন আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণ প্রদান করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৮ মিনিট ব্যাপ্তি এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়েই স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য ঝাপিয়ে পড়েছিলেন আপামর বাঙালি জাতি।
বঙ্গবন্ধু সেদিন গুরুত্বপূর্ণ কোনো বক্তব্য রাখতে পারেন, এ আশায় রেসকোর্সের ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ঢাকা বেতার থেকে এ ভাষণ প্রচার করার কথা ছিল, কিন্তু পাকিস্তান সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে সেদিন রেডিওতে তা প্রচার করা যায়নি।
তবে সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র কর্পোরেশন (ঢাকা রেকর্ড) এর চেয়ারম্যান এ এইচ এম সালাহউদ্দিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবুল খায়ের এমএনএ ভাষণটি ধারণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার সময় টেকনিশিয়ানরা ভাষণটির অডিও ধারণ করেন, অন্যদিকে এম এ মোবিন, এম এ রউফ, এস এম তোহিদ বাবু ও আমজাদ আলী খন্দকার সহ চারজন ক্যামেরাম্যান চিত্রধারন করেন।
অন্যদিকে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে বেতার কর্মীরা সরাসরি ভাষণটি প্রচার করতে না পারলেও; রেকর্ডটি সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন, যেটা পরদিন বাঙালি বেতারকর্মী ও আপামর জনতার দাবির প্রেক্ষিতে বেতারে প্রচার করা হয়।পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শুধুমাত্র এর ধারণকৃত অডিও তাকে উপহার দেওয়া হয়েছিল,তখন সরকারের ফিল্ম ডিভিশনের পরিচালক ছিলেন আবুল খায়ের,তিনি ছিলেন প্রযোজক। আজকের দিনে এসে যেই ৭ই মার্চের ভাষণ দেখতে পাই তার অনেকখানি অবদান আছে উনার,যার জন্য রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা। তবে দর্শকদের কাছে উনার সফল পরিচিতি একজন অভিনেতা হিসেবে,হ্যাঁ সেইদিনেই সেই প্রযোজক আবুল খায়ের ই আমাদের সবার প্রিয় অভিনেতা কিংবদন্তি 'আবুল খায়ের'।
'আবুল খায়ের',চলচ্চিত্র ও নাটকপ্রেমীদের কাছে খুব ই শ্রদ্ধাভাজন নাম। বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ'তেও ছিলেন অন্যতম অভিনেতা,জহির রায়হানের কাচের দেয়াল,সঙ্গমে অভিনয় করেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু উনাকে এফডিসির মহাপরিচালক বানিয়েছিলেন। ঋত্বিক ঘটকের তিতাস একটি নদীর নাম থেকে দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর শিমুল পারুল সব ছবিতেই ছিল সরব উপস্থিতি। 'দহন' সিনেমায় উনার অসামান্য অভিনয় যে কেউ প্রশংসা করতে বাধ্য,এই ছবিতেই পান প্রথম জাতীয় পুরস্কার,এরপর একে একে রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত,অন্য জীবন,দুখাই দিয়ে মোট চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। রাজ্জাকের 'জিনের বাদশা'য় করেছিলেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয়। দীপু নাম্বার টু তে ছিলেন স্কুল শিক্ষক,বিখ্যাত ছবি পদ্মা নদীর মাঝিতে হয়েছিলেন পীতম মাঝি। মূলধারার বেশকিছু ছবিতেই উনাকে দেখা গিয়েছিল।
হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে ছিল উনার অপূর্ব রসায়ন। আগে থেকেই ছিলেন সফল অভিনেতা তবে হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিলেন। বিশেষ করে নব্বই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তিনি এইকাজ গুলোর জন্যই বেশি স্মরনীয়। এই জুটির সূচনাটা হয়েছিল 'এইসব দিনরাত্রি'র মধ্য দিয়ে। একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকের চরিত্রে,যিনি সুখী নীলগঞ্জ করার প্রচেষ্টায় ছিলেন। অনেক বাধা বিঘ্ন এসেছে তবে সেটা কাটিয়ে গড়ে তুলতে ছিলেন বদ্ধ পরিকর। এর ঠিক পরের ধারাবাহিক 'বহুব্রীহি'তে পেলেন পুরো ভিন্ন চরিত্র। গ্রাম থেকে আসা এক দাদার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অয়োময়তে চিকিৎসক তবে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন কোথাও কেউ নেই তে বাকের ভাইয়ের বিপক্ষে উকিলের চরিত্রে অভিনয় করে। যার কুবুদ্ধিতে বদি মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়। নক্ষত্রের রাতে অত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র না পেলেও আজ রবিবারে ছিলেন বাড়ির প্রধান কর্তা হিসেবে,তিতলী- কঙ্কার দাদার চরিত্রে। একক নাটকের মধ্যে জননী,মাটির পিঞ্জিরার মাঝে,নিমফুল,অচিনবৃক্ষ রয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের 'শ্রাবণ মেঘের দিন'তেও ছিলেন স্বল্প সময়ের জন্য। এর বাইরে 'শেকড়' নাটকটাও বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
'আমি এখন ঔষধ বানামু কি দিয়া',নতুন শতকের শুরুর দিকে ঔষধি গাছের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জন সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন বানানো হয়েছিল,এতে তিনি কবিরাজের চরিত্রে অভিনয় করে বেশ আলোচিত হন। আমাদের শৈশবের এই বিজ্ঞাপন এখনো অনেকে মনে রেখেছে। এর কিছুদিন পরেই তিনি মারা যান,বিটিভিতে এরপরেও বেশ কিছু বছর প্রচারিত হয়েছিল। ১৯২৯ সালের ৪ই এপ্রিল জন্মগ্রহণ করা এই শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব ২০০১ সালের আজকের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। আজ উনার ২০ তম মৃত্যুবার্ষিকী,রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।
আফসোসের বিষয় এই যে,অভিনেতা হিসেবে তিনি কিংবদন্তির আসনে প্রতিষ্ঠিত,৭ ই মার্চের ভাষণ সংরক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন,তবুও আজ পর্যন্ত উনাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হল না! এখনো যদি কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে উদ্যেগ না নেন তা হবে হতাশাজনক। দর্শকদের কাছে তিনি উনার কর্মের মধ্য দিয়ে থেকে যাবেন চির অম্লান।
30/01/2024
মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি..."
এটি গোবিন্দ হালদারের লেখা গান। ১৯৩০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তদানিন্তন যশোর জেলার বনগাঁয় জন্মগ্রহণ করা এই গীতিকার ও সুরকার, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার সময়, আয়কর বিভাগে কাজ করতেন। গান লিখতেন এবং সুর করতেন আগে থেকেই। তাঁর বন্ধু কামাল আহমেদ তাঁকে স্বাধীন বাংলা বেতারের কামাল লোহানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। উৎসহিত হয়ে তিনি কামাল লোহানীর কাছে ১৫ টি গান লেখা একটি খাতা জমা দেন। এ গানগুলোর মধ্যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম প্রচারিত হয় সমর দাসের সুরারোপিত "পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে" গানটি। মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়েই তার আরও কিছু গান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত হয়। পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্থনের খবর পাওয়ার পরপরই সন্ধ্যায় ১৬ ডিসেম্বর প্রচারিত হয় "এক সাগর রক্তের বিনিময়ে" গানটি, যা সুর দিয়েছিলেন আপেল মাহমুদ এবং মূল কণ্ঠ দিয়েছিলেন স্বপ্না রায়। গোবিন্দ হালদার আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনেক গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন, যা প্রেরনা যুগিয়েছে আমাদের। তাঁর লেখা কবিতা ও গানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'দূর দিগন্ত'। গীতিকবি গোবিন্দ হালদার ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রয়াত হন। তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
30/01/2024
জহির রায়হান। চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি নির্মাণ করেছিলেন "স্টপ জেনোসাইড", যা বিশ্বের তামাম বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। স্টপ জেনোসাইড ১৯৭২ সালে তাসখন্দ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়। ১৯৭৫ সালে দিল্লি চলচ্চিত্র উৎসবে সিডলক পুরস্কার অর্জন করে। পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর), একুশে পদক (মরণোত্তর), বিশেষ জাতীয় পুরস্কার (মরণোত্তর), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর), হাজার বছর ধরে চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসেবে জাতীয় পুরস্কার (মরণোত্তর)। স্বাধীনতার আগে হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য পেয়েছিলেন আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, কাঁচের দেয়াল চলচ্চিত্রের জন্য পেয়েছিলেন নিগার পুরস্কার। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি, চিরদিনের মত নিখোঁজ হয়ে যান জহির রায়হান। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠের সময় অনেকেই ছদ্মনাম ব্যাবহার করলেও তিনি স্বনামে খবর পড়তেন। বিজয় অর্জনের পর বুদ্ধিজীবী হ*+ত্যাকাণ্ড বিষয়ে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। এর চেয়ারম্যান ছিলেন জহির রায়হান। ২৮ জানুয়ারী প্রেস কনফারেন্স করে জহির রায়হান যখন জানালেন, সব তথ্য ও উপাত্ত তাঁর হাতে, সবই তিনি জানেন, কয়েকদিনের মধ্যেই বুদ্ধিজীবী হ*+ত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন তিনি জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর কাছে হস্তান্তর করবেন। (কথাগুলো ওই কনফারেন্সে উপস্থিত আলী ইমাম ভায়ের কাছ থেকে আমি সরাসরি শুনেছিলাম)। তাঁর ভাই, শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সার বেঁচে আছেন এবং তাঁকে আঁটকে রাখা হয়েছে, টেলিফোনে এমন একটি সংবাদ পেয়ে তিনি ভাইকে উদ্ধার করতে বেরিয়ে যান। এরপর তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা জহির রায়হানের স্মৃতির প্রতি।
(collected)
11/01/2024
বিদেশ যাবো পড়াশোনা করতে, উচ্চতর ডিগ্রি আনতে। একথা শুনে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘কী পড়তে যাবি, তাও আবার ইংরাজি পরীক্ষা দিয়া। তার চাইতে বরং এক কাম কর, আমি টুঙ্গিপাড়া যাইতেছি, আরো অনেকে যাইব। তুই থিসিস লিখবি আর আমরা সুপারভাইজ করমু।’
একদিন আমার কাজের লোকের মা মারা গেছে শুনে তিনি আমায় ডেকে নিয়ে বললেন, ‘জানি, তোর মন ভারি কেন; যা দাফন-কাফন কিংবা অন্য উদ্দেশ্যে খরচের টাকা নিয়ে যা।’
এক কথায় বলতে গেলে বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন মহাপ্রাণ, যিনি মেসেঞ্জারকে ডাকতেন একসঙ্গে খেতে। আসতে-যেতে নিয়মিত নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীদের নাম ধরে কাছে ডেকে এনে তাদের ভালো-মন্দের খবর নিতেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই বাঙালি, আমাদের জাতির পিতা।
__ড. ফরাসউদ্দিন