শেফা-Shefa

শেফা-Shefa

Share

নব_লেখিকা

01/02/2026

#নীল_সাগরের_ভালোবাসা
#শেফা
পর্ব ২...
রুমে ঢোকার সময় রাসেল মেয়েদের উদ্দেশ্য করে..
বলল, "এই, মহিলারা! আপনারা সবাই কাল একটু দ্রুত উঠবেন। না হলে কিন্তু রেখেই চলে যাব।"
বিন্দু বলে, "ওই! আমাদের অমন বলছিস, তোরা যদি কাল জলদি না উঠিস তাহলে তোদের কান কেটে সাগরে ভাসিয়ে দেব।"
ছেলেরা বুঝতে পারে যে মেয়েদের সাথে ও আর কোনো উল্টাপাল্টা কথা বললে সত্যি সত্যি ওদের কানের আর অস্তিত্ব থাকবে না। তাই ওরা চুপচাপ কেটে পড়ে। মেয়েরাও চলে যায় রুমে। তারপর লাইট বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে সবাই।
সকাল হয়। সূর্যের কিরণ আস্তে আস্তে সাগরের ঢেউয়ের ভিতর পড়ে। ঢেউয়ের শব্দেই সাফিয়ার ঘুম ভেঙে যায়। তারপর বিন্দু, মুনিরা, ইন্নি, সিমি, রাইসা সবাইকে তুলে দেয় ঘুম থেকে। তারপর একে একে সবাই ফ্রেশ হয়ে নেয়।
ইন্নি জিজ্ঞেস করে, "আচ্ছা, ছাগলগুলা এখনো ওঠে নি?" সাফিয়া বলে, "মনে হয় না। চল গিয়ে ওদের কানগুলোর একটু খোঁজ নিয়ে আসি।"
আর এদিকে ছেলেরা স্বভাবতই ঘুমিয়ে আছে যে যার মতো। কেউ বিছানায় কেউ ফ্লোরে, ঠিক নাই। মেয়েরা গিয়েই দেখে যে, ছয়টা ছেলে একদম ছয়জন ছয়টা সাপের মতো জড়িয়ে পেঁচিয়ে হাফ
প্যান্ট পরে ঘুমিয়ে আছে। গ্রুপে মোট ১২ জন আর এর মধ্যে ৬ জন মেয়ে আর ৬ জন ছেলে। ওই অবস্থায় মানে হাফ প্যান্ট পরা অবস্থায় দেখে সবকিছু ভুলে গিয়ে মেয়েরা মুখে হাত দিয়ে চোখ মুখ ঢেকে চিৎকার করে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। চিৎকার শুনতেই ছেলেরা সবাই ধড়ফড় করে লাফিয়ে ওঠে আর চিৎকার করে বলতে থাকে, "এই কী হইছে?!" তারপর খেয়াল করে দেখে যে মেয়েরা সব উল্টো দিকে মুখ করে আছে, তার মানে ওরা দেখে ফেলেছে ওদের এই-
অবস্থায়। ছেলেরা নিজেদের লজ্জা কমানোর জন্য মেয়েদের জিজ্ঞেস করে, "বাহ্ তোরা এত আগে আগে উঠছিস! গুড। বাট প্লিজ আমাদের কান ছিঁড়িস না। কান ছিঁড়লে তোদের কথা শুনব কী করে?" মেয়েরা চলে যায়। তাড়াতাড়ি করে ছেলেরা রেডি হয়ে ক্যান্টিনে যায়। তারপর সবাই ব্রেকফাস্ট করে সৈকতের দিকে যায়। সবাই জুতো স্যান্ডেল খুলে পানিতে নেমে একে অপরকে ভেজাতে থাকে। কিছুক্ষণ ভেজাভেজির পর ছেলেরা সৈকতে ফুটবল খেলা শুরু করে আর মেয়েরা বালু দিয়ে ছোট ছোট ঘর বানাতে থাকে। সবাই-একসাথে থাকলেও সাফিয়া একা একা পানিতে হাঁটতে থাকে। ওর কেমন যেনো মনে হচ্ছিল যে সাগরটা ওর খুব আপন। যেন নাড়ির টানের মতো সম্পর্ক। এতো সব ভাবছিল আর নীল সাগরের দিকে তাকিয়ে হাঁটছিল সাফিয়া। ঠিক সেই সময় সাফিয়া যেন শুনতে পায় যে সাগর থেকে কেউ ওকে ওর নাম ধরে ডাকছে। আর বলছে যে, "তুমিই এই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী"। কথাগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় আর সাথে সাথেই কোনো কিছুর সাথে লেগে সাফিয়ার পায়ের নিচের অংশ একটুখানি কেটে...যায় আর সামান্য একটু রক্ত বের হয়। আর তখনই ও দেখতে পায় যে ওর পায়ের নিচে নীল রঙের কী যেন একটা রোদের আলোয় চকচক করছে। আর পাশে একটু রক্ত। সাফিয়া বুঝতে পারে যে এই জিনিসটাতেই ওর পা কেটেছে, যদিও রক্তটুকু সাগরের নোনা পানিতে ধুয়ে মিলিয়ে গিয়েছে। কিছুক্ষণ দেখে ওর মনে হতে থাকে যে ও বস্তুটার প্রেমে পড়ে গেছে। তাৎক্ষণাৎ ও জিনিসটাকে তুলে পরিষ্কার করতে থাকে আর আবিষ্কার করে যে ওটা গাঢ় নীল রঙের অনেকটা ডিমের আকৃতির কিন্তু ছোট সাইজের একটা লকেট। সাফিয়া লকেটটা ধুয়ে পরিষ্কার করে টিস্যুতে পেঁচিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে নিয়ে-
হোটেলের দিকে যেতে থাকে। সবাই যখন সাফিয়াকে জিজ্ঞেস করে সে কেন ও চলে যাচ্ছে। সাফিয়া শুধু বলে যে, "আমার ভালো লাগছে না তাই, তোরা ঘোর।" এই বলে ও তরতর করে চলে যায়।
হোটেলে গিয়ে ও নিজের গলার চেনের লকেটটি খুলে ওই নীল লকেটটি পরে। বেশ মানিয়েছে ওকে। ও ভাবে যে বোনের বিয়েতে এই লকেটের সাথে সবকিছু মিলিয়েই পরবে। এরপর কিছুদিন থাকার পর ওরা সবাই আবার বাসায় ফিরে যায়।
কিছুদিন পর...
বোনের বিয়েতে এসেছে সাফিয়া। এসেই.......

চলবে...

31/01/2026


পর্ব ২।।
#অভিশাপ?
#আশির্বাদ?

31/01/2026

বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে সাফিয়া। ঘুরতে খুব ভালোবাসে সে। সাফিয়ার সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হবে সে খুব ভদ্র। সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করে। সবাইকেই খুব আপন মনে করে এবং ভালোবাসে।
সাফিয়া বি.এন. স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক ছাত্রী। বন্ধুমহলেও অনেক সুনাম ওর। । এইচ.এস.সি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ায় বাবা-মা খুশিতে আটখানা। সাফিয়া বায়না ধরে যে নানুবাড়ি যাবে। মা বলেন যে, "যাবি মানে? না যেতে চাইলেও তো যেতে হবে।"
"কেন মা?" সাফিয়া জিজ্ঞেস করে।
"তোর মামাতো বোন রত্নার বিয়ে।" শুনে তো সাফিয়া খুশিতে আটখানা। সাফিয়া লিস্ট করতে থাকে যে কী পরবে? কী করে সাজবে? বোনের জন্য কী নেবে? দুলাভাইয়ের জুতা কী করে চুরি করবে? বিয়ে বাড়ির লোকদের কীভাবে জ্বালাবে ইত্যাদি ইত্যাদি।
এতসবের মাঝেই ডাক আসে বন্ধুমহল থেকে। পরীক্ষার ভালো ফলাফলের জন্য সবাই পিকনিকে যাবে কক্সবাজারে। বিয়ের দেরি আছে বলে রাজি হয়ে যায় সাফিয়া। কাল ট্রেন। আজ রাতেই সবকিছু গুছিয়ে নেয় সাফিয়া। রাতে আগে আগেই খাইয়ে দেয় মা। একমাত্র মেয়ে বলে কথা! আহ্লাদ একটু বেশিই বটে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়ে সাফিয়া। হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে-দেয়ে অপেক্ষা করে যে কখন ফ্রেন্ডরা ফোন দেবে। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। কল আসার সাথে সাথে রেডি হয়ে যায়। তারপর ফ্রেন্ডরা গাড়ি নিয়ে আসলে মা-বাবাকে বিদায় দিয়ে নেমে যায় তাদের তিন তলা বিশিষ্ট বাড়ি থেকে।

ফ্রেন্ডদের সাথে গাড়িতে উঠে স্টেশনে যায় ও। জানালার পাশে বসেছে ও। সাফিয়ার ট্রেনে বসে ঘুমানোর অভ্যাস। তাই আধা ঘণ্টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ল ও। মাঝে কয়েকবার উঠে নাস্তা করে একটু-আধটু কথা বলে আবার ঘুমিয়ে পড়ে । তারপর যখন ওঠে তখন একেবারে স্টেশনেই পৌঁছে গেছে ওরা। সুটকেস ব্যাগ নিয়ে নেমে একটা ট্যাক্সি নেয় ওদের দলটি। কক্সবাজারে সমুদ্র দেখা যাবে এমন একটা হোটেলে ওঠে ওরা। ছেলে-মেয়েরা আলাদা থাকবে। রুমে গিয়ে ছেলেরা কি করেছে কে জানে? কিন্তু মেয়েরা ব্যাগ-গুলো সুন্দরমতো গুছিয়ে রেখে... ওরে বাবা! চিৎকার দিয়ে বিছানায় যে যেখানে পেরেছে সেখানেই একদম চিৎপটাং হয়ে শুয়ে পড়েছে! সবাই আঃ!! উঃ!! করে কোমর সোজা করে নিচ্ছিল। এভাবেই কিছু সময় মোড়ামুড়ির পর মেয়েরা উঠে দাঁড়ালো। তারপর একে একে করে সবাই ফ্রেশ হয়ে এসে নিচের ক্যান্টিনে আসলো। গিয়ে দেখে যে ছেলেরা আগেই উপস্থিত। শাহেদ জিজ্ঞেস করলো, "কীরে সাফিয়া? এতো দেরি হলো যে? সবগুলো কি ঘুমিয়ে ছিলি?"
-"আরে না, ওই আরকি মেয়েদের একটু দেরি হয় বুঝিসই তো। হেহে!!"
-না বুঝি নি। বোঝায় দে দেখি।
-বোঝা লাগবে না তোর।
-ওকে। তাহলে চল খাব।
-হুম।
সবাই চলে যায় ডিনারের জন্য। সবাই ফ্রাইড রাইস ও ভেজিটেবল এর অর্ডার দেয়। এর মধ্যেই তারা অনেক গল্প করে আর বিভিন্ন প্ল্যান করে যে কাল কী করবে। কে কী পরে যাবে সৈকতে? কোনদিকে যাবে ইত্যাদি। এতো সব প্ল্যান করতে করতে খাবার চলে আসে। এরপর সবাই খেয়ে-দেয়ে রুমে চলে যায়। রুমে ঢোকার সময় রাসেল মেয়েদের উদ্দেশ্য করে...

চলবে....
#শেফা
#নীল_সাগরের_ভালোবাসা

২০১৯ এ লেখা আমার প্রথম উপন্যাস। ক্রিন্জ লাগলেও কিছু মনে করবেন না। কারন এটা যখন লিখি তখন আমি ৮ম শ্রেনীতে পড়ি৷🙂 আরো আশ্চর্য বিষয় হলো আমি একদিন স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেই স্বপ্নটাই ঘুরায় ফিরায় নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে খিচুড়ি বানিয়ে লিখেছিলাম আমার ডায়রিতে৷ 🥲

27/02/2025

#একটি_কল্পকাহিনী
#সাদিয়া_হাসান
পর্ব ৩

( গত পর্বে ছিলো শাহাদাত সিয়াম অতীতের স্মৃতি মনে করছেন)
২৩ বছর আগের কথা.... সোশাল মিডিয়াতে পরিচয় হয়েছিলো সিয়াম ও শ্রেয়ার। দু'জনই ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট,, শ্রেয়া বিজ্ঞান বিভাগের এবং সিয়াম ব্যাবসা বিভাগের স্টুডেন্ট। শ্রেয়া চাপা এবং রাগি স্বভাবের হওয়ায় তার বাস্তবিক কোনো বন্ধু ছিলো না,,এদিকে সিয়াম ছিলো তার বন্ধু মহলের মধ্যমনি! বাস্তবে শ্রেয়ার কোনো বন্ধু বান্ধব না থাকলেও অনলাইন জগতে বেশ ভালোই মানুষজন এর সাথে পরিচিত হয়েছিলো,,,তাদের সাথেই সময় কাটতো তার,,,এভাবেই খুলনার শ্রেয়ার সাথে একদিন পরিচয় হয় চট্টগ্রামের সিয়ামের।। পরিচয় পর্ব,,স্বপ্ন,, পরিবার,,জীবন গাঁথা বিমিময় হতে থাকে তাদের মধ্যে,,,। শ্রেয়া জীবনের প্রথবার কারো ওপর মুগ্ধ হয়,,!! তার সাথে পরিচয় হওয়া সব মানুষের মধ্যে একমাত্র সিয়ামই ছিলো যে কিনা কখনো তার কাছে ছবি চায় নি,,অন্যদের মতো ফ্লার্ট করার চেষ্টা করে নি,,,।। এদিকে সিয়ামও শ্রেয়ার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে তার ব্যাক্তিত্ব দেখে,,অন্য মেয়েদের মত কোনো ন্যাকামি নেই মেয়েটার মধ্যে!! কেমন যেনো সলিড একটা মানুষ। মার্জিত। ভদ্র! এভাবেই একদিন সিয়াম বলে দেয় তার মনের কথা,,শ্রেয়াও মেনে যায়। তারপর শুরু হয় তাদের পথ চলা!! ৩ বছর প্রনয়ের পর পারিবারিক সম্মতিতে তারা বিয়ে করে নেয়। যদিও এতে তাদের অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছিলো কারন,,সিয়ামের মা তাদের নিয়ম অনুযায়ী ছেলেকে চট্টগ্রামের মেয়ের সাথেই বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন,,কিন্তু বড় ছেলের জিদের কাছে সেটা করতে পারেন নি। তাইতো বিয়ে বা বিয়ের পর কখনোই তিনি শ্রেয়াকে মন থেকে মানতে পারেন নি! তার চিন্তা ছিলো চট্টগ্রামের বাইরের মানুষ তাদের নিয়মের মতো ফার্নিচার,, গাড়ি,, টাকা পয়সা,, গয়না কিছুই দিতে চাইবে না,,নিয়মও মানবেনা। কিন্তু শ্রেয়া রা যথেষ্ট দেওয়ার পরও তিনি মানতে পারনে নি।
স্টুডেন্ট অবস্থাতেই সিয়াম শ্রেয়া বিয়ে করে নেয়,,সিয়াম BBA পড়ার পাশাপাশি নিজের ওয়েব ডেভেলপ বিজনেস শুরু করে,,,আর শ্রেয়া রোবোটিকস এ পড়াশোনা ও রিসার্চ শুরু করে।।
১ বছরের মাথায় শ্রেয়ার কোল আলো করে সায়েমের জন্ম হয়। সিয়াম এর আনন্দের ঠিকানা থাকে না,,প্রথম সন্তানকে বুকে নেয়ার অনুভুতি কেউ কে বলে বোঝানো যায় না।। সায়েম জন্মের পর কখনোই বাবুকে বুক থেকে নামাতো না সিয়াম,,সারাক্ষণ কলে নিয়ে কপালে,, ছোট ছোট হাত পায়ে চুমু খেতো,,শ্রেয়াটাও দুষ্টুমি করে রাগ দেখাতো আর বলতো,," ছেলেকে পেয়ে আমাকে তুমি ভুলেই গেছো প্রিয়তম সিয়াম"। সিয়াম শ্রেয়ার কপলেও চুমু একে দিতো বর বলতো,, " পাগলি প্রিয়তমা আমার, তোমার জন্যই তে ওকে পেয়েছি,,তোমার জায়গা সবচেয়ে ওপরে শ্রেয়া,,আমি তোমাকে ভুলতে পারি বলো?"
দুষ্টু মিষ্টি ঝগড়া খুনসুটি তে পেরিয়ে গেলো ৫টি বছর। এর মধ্যে সায়মার জন্ম হলো। সব কিছুই সুন্দর করে চলছিলো,,শ্রেয়া কীভাবে যেনো এক হাতেই স্বামী,,সংসার,, বাচ্চা,,ননদ দেবর,, শশুর-শাশুড়ি,, পড়ালেখা রিসার্চ সব কিছু সুন্দর ভাবে সামলে নিচ্ছিলো।। ননদ মাইশা ও দেবর সাদাত এর প্রিয় ও সম্মানিত ভাবি ছিলো শ্রেয়া..শশুরের লক্ষি বউমা। শুধু শাশুড়ীর মন টাই পায় নি সে।
সবকিছু ভালোই চলছিলো যতদিন না একটা চিঠি আসে,,সেই চিঠি যার জন্য শ্রেয়া আজ ১৫ টা বছর ধরে উধাও! চিঠি টা পাওয়ার পর কত খুশিই না ছিলো শ্রেয়া! তার থেকে বেশি খুশি হয়েছিলো সিয়াম!! সায়েম সায়মা অবুঝ হলেও মা বাবার খুশি দেখে তারাও হাত তালি দিয়ে হেসেছিলো খুব...!!
বেশি হাসা নাকি কান্নার লক্ষন?? কথাটা হয়তো সত্যি!! নাহলে জীবন তো এমন হওয়ার কথা না..?
শ্রেয়ার সমস্ত রিসার্চ ও মেধার কারনে তাকে ডাকা হয়েছিলো ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে..। রবোটিক্স!! শ্রেয়া এমন এক রোবট আবিষ্কার করেছিলো যা হুবহু মানুষের মত কর্মক্ষমতা সম্পন্ন ও অনুভব করতে পারে এমন। কোনোদিন কোনো দীর্ঘ যাত্রায় এই রোবট এর ব্যাবহার হবে,,কখনো কোনো সমস্যা হলে বা স্পেস্ শিপ ধ্বংস হওয়ার পথে থাকলে খুব ইমার্জেন্সিতে এটি ব্যাবহার হবে,,রোবট স্বাভাবিক অবস্থায় সবাইকে সাহায্য করবে এবং ইমার্জেন্সি সিচুয়েশনে এটি ট্রান্সফার হবে একটি স্পেস্ ক্যাপসুলে যার ভেতর কেবল একজন মানুষ প্রায় ১০ বছর বেচে থাকতে পারবে তবে ঘুমিয়ে। সে এক বছরের সমান ঘুমাবে এবং একবছর পর সে উঠবে,,এতে তার খাদ্য অভাবে থাকতে হবে না,,আবার কৃত্রিম উপায়ে সে অনেকদিন বেঁচে থাকতে পারবে...। এই আবিষ্কারের জন্যই শ্রেয়াকে ডাকা হয় এক মহাজাগতিক অভিযানের ক্রু মেম্বার হওয়ার জন্য। নিরাপত্তা রক্ষার্থে বিষয়টি গোপন রাখা হয়...। শ্রেয়ার এতোদিনের স্বপ্ন অবশেষে পুরন হচ্ছিলো কিন্তু মাতৃসত্তার জোরে সে চেয়েও যেতে চাইছিলেো না,,সিয়াম শোনে না সে কথা,,বাচ্চাদের খেয়াল সে রাখবে বলে কথা দেয় এবং শ্রেয়াকে যেতে বলে,,রীতিমতো জোর করেই পাঠায় সে শ্রেয়াকে,।। বাসার সবাইকে বিজনেস ট্রীপের কথা বলে শ্রেয়াকে পাঠিয়ে দেয় সিয়াম।।
কিন্তু স্পেস স্টেশনে যাওয়ার ২০ দিন পর বিশাল "সোলার স্ট্রোম" এক নিমিষেই সব কিছু শেষ করে দেয়,,পৃথিবী থেকে ওখানের কারো সাথেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি,,সম্ভব হয়নি কারো খোজ পাওয়া বা কারো অবশেষ পাওয়া!! সিয়াম বিশ্বাসও করতে পারে নি সে তার শ্রেয়াকে এভাবে শেষ দেখা না করেই হারাবে,,,।।শ্রেয়া তো যেতে চায় নি,,,কেনো সে জোর করে পাঠালো?? কেনো??
( ভুল হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন,,এটা সম্পুর্ন কল্পকাহীনি তাই বাস্তবের সাথে দয়া করে কেউ মিলাবেন না)

চলবে.....

26/02/2025

#একটি_কল্পকাহিনী
#সাদিয়া_হাসান
২য় পর্ব

আজকের সকাল টা অন্যরকম লাগছে সায়মার। মাকে স্বপ্নে দেখেছে আজ,,স্বপ্নে মা তাকে বলেছে যে মা আসছে!! সত্যিই কি তাই?? আজ ১৫ টা বছর হয়ে গেলো!! মাকে বিদায় দিয়েছিলো এয়ারপোর্টে,,, বলেছিলো ইমপোর্টেন্ট মিশনে যাচ্ছে। কি মিশন সেটা বাবা ছাড়া কেউ জানে না,,,অনেক বার জিজ্ঞেস করেও কখনো সে বা সায়েম উত্তর পায় নি।। দু' ভাইবোন কেউই জানে না তাদের মা আসলে কেমন ছিলো,,কি ছিলো মায়ের প্রফেশন!! বাবা যেনো সবকিছু তাদের থেকে লুকিয়ে গেছে,,কিন্তু কেনো?? এসব ভাবতে ভাবতে সায়মা ফ্রেস হয়ে নিচে আসে.....।
সবাই খেতে বসেছে। সায়মা ভাইয়ের পাশে বসতেই তার বাবা শাহাদাত সিয়াম মেয়ে কে নিজের পাশে বসতে বলেন,,সায়মার কাছে কেমন যেনো অবিশ্বাস্য লাগলো! কারন বাবার ২ পাশে সব সময় সৎ মা আর সৎ ভাই জোহান বসে। আগে সায়মা বসলেও জোহান বড় হওয়ার পর থেকে সায়মাকে বসতে দেয় না,,এদিকে রহিমা ( সৎ মা) ও জায়গা ছাড়ে না,,তার ধারনা সায়মা তার বাবার কাছে বসলে কিছু না কিছু চেয়ে বসবে আর শাহাদাত সিয়াম ও মেয়ের কথায় সব কিনে দেবে।।। সতীনের মেয়ে কিছু পাবে এটা সে সহ্যই করতে পারে না কারন তার কাছে এটা বেহুদা খরচ ছাড়া কিছু না,,!! কিন্তু আাজ শাহাদাত সিয়াম রহিমা বা জোহান কেউ কেই বসতে দিলো না,,সায়েম ও সায়মা কে পাশে নিয়ে বসলো,,তার চেহারায় অনুতাপের ছাপ স্পষ্ট!! এদিকে রহিমা রাগে ফেটে পড়বে এমন অবস্থা!! জোহান চিৎকার করে ওঠে,,"তোরা কেনো বসেছিস!! এখনি ওঠ নয়তো....." আর বলতে পারে না জোহান। শাহাদাত সিয়াম উঠে শক্ত পোক্ত চড় লাগায় জোহানের গালে,,হুংকার করে ওঠে,," অসভ্য!! বড় ভাই বোনের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তোমার মা শিখায় নি??" রহিমা আরো জোরে চিৎকার দেয়,,"" আপনার সাহস তো কম না!! আপনি ওই দুটোর জন্য আপনার ছেলেকে মারছেন!!"" শাহাদাত সিয়াম এবার রহিমাকেও চড় দেয়!! " তোমার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি!! ওই দুটো মানে?? ওরা কে জানো না?? আমার বড় ছেলে আর একমাত্র মেয়ে,,কোন সাহসে ওদের নিয়ে এমন ভাষা ব্যাবহার করো?!" ডায়নিং এর সার্ভেন্ট,,শেফ, সায়মা সবাই অবাক হয়ে আছে।।।
যেই বাবার সামনে রহিমা সায়মা কে মারলেও কিছু বলতো না আজ একটু কথার কারনে হাত তুললো? এটা কি সত্যিই হচ্ছে?? সায়মা খেয়াল করে তার বড় ভাই মুচকি হাসছে,,সে বুঝে যায় গত রাতে হয়তো ভাইয়া বাবার সাথে এমন কিছু বলেছে যার কারনে গত ১৫ বছরে আজ প্রথম সে বাবাকে নিজেদের পক্ষে লড়তে দেখছে‌‌!! সায়মার কেমন যেনো আনন্দ হয় খুব....।

হঠাৎ শাহাদাত সিয়াম বলে ওঠে,, " সায়েম! তুমি আর সায়মা আজ আমার সাথে অফিসে যাবে,,নিজেদের দায়িত্ব ও কোম্পানি বুঝে নেবে,,। যে ভুল এতো বছর ধরে করে আসছি,,আজ থেকে শুধরে নেবো নাহলে তোমাদের মা আমায় মাফ করবেনা কখনো।" কোম্পানির কথা শুনে রহিমার মাথা ঘুরে ওঠে,," কোম্পানির দায়িত্ব নেবে মানে?? আমার ছেলের ভাগ কোথায়? সব ওদের দিবেন কেনো আপনি!! সায়মা চলে যাবে শশুর বাড়ি,, ও নিয়ে কি করবে?" শাহাদাত সিয়াম আবার রেগে বলে,," ওর এখানে কোনো ভাগ নেই! এটা শ্রেয়ার নামে ছিলে সারাজীবন আর এর উত্তরাধীকারি শুধু মাত্র সায়েম ও সায়মা। এ নিয়ে কোনো কথা বলবে না,,লজ্জা করে না তোমার?? ওদের মায়ের সংসার,, বাড়ি,,গাড়ি কোম্পানি সব ভোগ করো মা ছেলে মিলে আবার ওদেরই দেখতে পারো না!"
রহিমা ভাষা হারিয়ে ফেলে কথা শুনে।। কি বলে কি শাহ! যেই জিনিসের লোভে সে শাহাদাত সিয়ামকে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেছিলো,,আজ জানতে পারলো সেগুলো খোদ শাহাদাত সিয়ামেরই না! নিজে কঠোর পরিশ্রম করে কোম্পানি টা গড়লেও বিয়ের পর প্রেমিকা থেকে প্রানপ্রিয়া স্ত্রীর নামে সব করে দেয় সে!! যার কারনে আজ সে আর তার ছেলে কিছুই পেলো না!! এবার সে কি করবে?? সায়েম সায়মা কে সরিয়ে দেবে রাস্তা থেকে??
শ্রেয়াকে তো সরাতে হয়নি,,নিজেই হারিয়ে গেছে,,,শশুর শাশুড়ি,, দেবর,,ননদ কেউ কেউ বাড়িতে থাকতে দেয় নি,,১২ বছর ধরে সব কিছু নিজের দখলে নিয়ে যেভাবে খুশি চলেছে!! এখন কি হবে??

শাহাদাত সিয়াম শ্রেয়ার থেকে পাওয়া শ্রেষ্ঠ উপহারের দিকে তাকিয়ে দেখে,,মেয়েটা দেখতে মায়ের মত হয়েছে,,,ছেলেটা তার চেহারা পেলেও স্বভাব চরিত্র হুবহু মায়ের মত!! প্রতিশোধী মনোভাবের হয়েছে ছেলেটা,,। আচ্ছা.... কেনো সে এতোগুলো বছর ছেলে মেয়েদের থেকে মুখ ফিরিয়ে ছিলো?বাবা হয়ে কিভাবে পারলে সে এই কাজ করতে?? শ্রেয়ার স্মৃতি ও কষ্ট থেকে বাঁচতে বিজনেসে এতোটই ডুবে গিয়েছিলো যে দুনিয়ার কিছুই তাকে টানতে পারে নি।।
শ্রেয়া যখন হারিয়ে যায় তখন ওদের কতই বা বয়স হবে?? সায়েমের ৫ বছর,, সায়মার ৩ বছর! কথা ছিলো ২ মাসেই ফিরে আসবে,,যেতে চায় নি সে এতো ছোট বচ্চাদের রেখে,,শাহাদাত সিয়াম জোর করেছিলো কারন সে কখনো চাইতোনা,,শ্রেয়া কোনো কারনে তার স্বপ্ন অপূর্ণ রাখুক,,শ্রেয়া যেনো তার স্বপ্ন পুরন করতে পারে তাই সে জোর করে পাঠিয়ে বলেছিলো বাচ্চাদের সে দেখে রাখবে,,শাহাদাত সিয়াম যদি জানতো শ্রেয়া আর ফিরবে না,,তাহলে কোনোদিনই তাকে যেতে দিতো না... সে তার কথাও রাখে নি,,,বাচ্চারা আর তাদের কৈশোর কাটিয়ে যৌবনে পৌছেছে!! অথচ সিয়াম কখনো একটাবার খোজ নেয়নি তারা কেমন আছে,,,,!!
শ্রেয়া কোনোদিন জানতে পারলে তাকে ক্ষমা করবে তো?
আহ্ শ্রেয়া! তার প্রেয়সী শ্রেয়া!!
অতীতে ডুব দেয় সিয়াম,,,সেই সোনালি দিন যেদিন শ্রেয়ার সাথে প্রথম পরিচয় হয়.... ২০ বছর আগের সময়ে হারিয়ে যায় সিয়াম,,,,

চলবে...

25/02/2025

প্রথম অধ্যায়

বদ্ধ রুমে বসে ফুপিয়ে কাঁদছে সায়মা।। বাবার ওপর রাগ অভিমান সব হচ্ছে! সায়েমের জন্যও কষ্ট হচ্ছে খুব! বাবা কেনো আর আগের মত দেখে না ওদের? কেনো বদলে গেলো তাদের সুপারম্যান বাবা?? আজ যদি মা থাকতো এমন করতে পারতো কি?? সৎ মা তার বিয়ে ঠিক করেছে! কিন্তু সায়মার কোনো ইচ্ছে নেই জীবন গড়ার বয়সে বিয়ে করে খুন্তি ধরার!! সৎ মা তার আপন ভাতিজার সাথে সায়মার বিয়ে দিতে চায়। সায়মা ছেলেটাকে চেনে বাবার ২য় বিয়ের পর থেকে ফুফুকে দেখার নাম করে ছেলেটা প্রায়ই আসতো,, ছোটবেলায় সায়মার খেলনা ভেঙে ফেলতো নাহয় সায়মা কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিত বা মারতো,,কোনো না কোনোভাবে সে সায়মার ক্ষতি করতো!! সায়মা কান্না করলে তার বড় ভাই সায়েম এসে ছেলেটাকে প্রচুর মাইর দিতো।। প্রথম প্রথম সৎ মা তার ভাতিজা কে নিয়ে গেলেও পরে থেকে সায়েমকেই শাসাত নয়তো শাহদাত সিয়াম ( সায়মা,,সায়েমের বাবা) কে উল্টা পাল্টা বলে সায়েমকে বকা শুনিয়ে দিত!
বড় হওয়ার সাথে সাথে সৎ মার সেই ভাতিজা জয় নোংরা আকার ইঙ্গিত করতে থাকে। সায়েম ছোট বোন কে আগলে রাখে সব সময় আর সেই তার সাথেই কিনা সায়মার বিয়ে হবে?? অবাক করা বিষয় হলো শাহাদাত সিয়ামও এতে মত দিয়েছেন!

সায়মা আবারো ফুপিয়ে ওঠে,,তখন দরজায় নক করে কেউ,,,গলার আওয়াজ শুনে বুজতে পারে এই পৃথিবীর একমাত্র আপনজন তার বড় ভাই সায়েম ডাকছে,,,সে দরজা খুলে দেয়।।

সায়েম:-" কান্না করছিলি নাকি বনু?"
সায়মা:-" না ভাইয়া, তেমন কিছু না"।( নাক টেনে)
সায়েম:-" ঠিক আছে,,কান্না করিস না আর,,তো বিয়ে হবে না,,যতদিন আমি বেঁচে আছি তোর ভালো থাকার দায়িত্ব আমার!! "
সায়মা:-" সত্যি ভাইয়া!! এটা কিভাবে হলো??"
সয়েম:-" এটা তোর জানা দরকার নাই,,ফ্রেস হয়ে খেয়ে নে,,তারপর ঘুমাবি।। আর হ্যা ওই মহিলা যদি কিছু বলে,,এখন থেকে জবাব দিবি,,চুপ করে থাকলে আমি আর তোর হয়ে কিছু বলবো না,,,শক্ত হতে শেখ! ঠিক যেমন আমাদের মা ছিলো!!"

মায়ের কথা মনে পড়তেই দুজনের চোখ ভরে ওঠে...।
কে জানে মা কোথায় আছে কেমন আছে,,আদৌ বেঁচে আছে কিনা,,। সায়মা ঠিক করলো আজ থেকে সে আর চুপ থাকবে না,,সে কার মেয়ে ভুলে গেলে চলবে না!! তার নাম সায়মা!! সায়মা স্নেহা ! শ্রেয়া ইসলাম ও শাহাদাত সিয়ামের কন্যা!! মায়ের শেষ কথা গুলে মনে পড়ে গেলো তার,,," তুমি কখনো হারবে না বুঝেছো মা? সফলতাকে তোমার অধিকার মনে করবে..তবেই কেবল তুমি সফল হবে..!"
সায়মা আনমনে সায়েমকে বলে,," মা কোথায় ভাইয়া?? মা মারা যায়নি!! মা কবে আসবে ভাইয়া?? কবে?? "
সায়েম বোনের কষ্ট বোঝে,,বোনকে বলে,," জানি না বনু,,মা আসবে দেখিস!! আমাদের মা!! আমাদের সেই সাহসী লৌহকঠীন মা আসবে,, অবশ্যই আসবে!!
চলবে...
#একটি_কল্পকাহিনী
পর্ব ১
#সাদিয়া_হাসান_শেফা

21/03/2024

অঙ্কে খারাপ করলে আম্মু রাগ হতো খুব।

ধর্ম, সমাজ বা বাংলাতে খারাপ করলে আম্মুকে আমি কখনও রাগ করতে দেখিনি।

অথচ ম্যাথমেটিক্সে ১ মার্ক কম পাইলেও আম্মুর রাগটা হতো দেখার মতো।

প্রথমেই রেজাল্ট কার্ডটা ছুড়ে ফেলতেন। তারপর আমার কলার ধরে আমাকে তুলে বসাতেন ডাইনিং টেবিলের উপর। তারপর আমাকে দিতেন তার কষ্টের ইয়া বড় ফিরিস্তি।

তোর জন্য আমি কী না করেছি? চাকরি ছেড়েছি, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তোরে আমি পানির জগটা পর্যন্ত ধরতে দিই না। ভোরে উঠে টিফিন বানাইয়া রেডি করে দিই। আবার দুপুরে নিয়ে আসি। এইসব দেখার জন্য?

ক্লাস ফাইভের পরীক্ষায় একশো তুলতে পারিস না, তুই ইঞ্জিনিয়ার হবি কী করে?

আমি চুপচাপ আম্মুর কথা শুনি। আমার অসহ্য লাগে। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে, আমি ইঞ্জিনিয়ার হবো না। আমার চিৎকার গলাতেই আটকাতে যায়। আম্মু এখন রেগে আগুন। সেই আগুনে ঘি ঢালার সাহস আমার নাই।

আম্মুর দ্বিতীয় দফার শাসন শুরু হতো নাহিদ ভাইয়া পড়াতে আসার পর।

নাহিদ ভাইয়া চোখ নিচু করে বসে থাকতো। আমার এতো লজ্জা লাগতো যে বলার না। আম্মুর লজ্জা লাগতো না। তিনি এক নাগাড়ে বলেই যেতেন, এতোগুলো টাকা তো বাবা মুখ দেখতে দিই না আমরা। আমাদেরও কষ্টের টাকা। ন্যাশনালের টিচার রেখে রাফি এতো মার্কস পাইলে পাবলিক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট রেখে আমার লাভ কী বলো?

নাহিদ ভাই উত্তর দেন না।

আমি বুঝি, উনি নিরুপায়। আমার মতোই।

সেদিন আর পড়ানোটা জমে না। আমরা রোবটের মতো ক্যালকুলেশন করতে থাকি।

লেখাপড়া আমি করি না, এমন না। বাট পরীক্ষার হলে আমার কী যেন হয়ে যায়, আমার অঙ্ক কোনভাবেই মেলে না। এখানে আমার দোষটা কী?

২.
বাবার সাথে আমার দেখা হয় কম।

প্রথম কারণ, উনি ব্যাংকের কাজে ভয়ঙ্কর ব্যস্ত থাকেন। দ্বিতীয় কারণ, আমি উনাকে ভয় পাই।

একবার বাবা আমাকে গল্পের ছলেই প্রশ্ন করেছিলো, আজ স্কুলে কী শিখলে, বাবা? আমি আমার নতুন শেখা কবিতাটা বাবাকে বলি,

আম্মু বলেন, পড়রে সোনা
আব্বু বলেন, মন দে।
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।

আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে,
বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।

সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কূলটায়,
দুধভরা ওই চাঁদের বাটি
ফেরেশতারা উল্টায়।

তখন কেবল ভাবতে থাকি
কেমন করে উড়ব......

বাবা আমাকে থামিয়ে দেন। বলেন, চাঁদ কোন বাটি না। চাঁদ একটা উপগ্রহ। আর চাঁদ কোন ফেরেশতারা উল্টায় না। তোমাদের স্কুলের বিজ্ঞান কে শেখায়? বলো, ১৪৪ এর বর্গমূল করলে কত হবে?

আমি বলতে পারি না। থেমে যাই।

বাবা আম্মুর সাথে রাগে গজগজ করে। এখন তো চাকরির বাজার খুব খারাপ। এর ম্যাথ এর যদি এই অবস্থা হয়, ভবিষ্যতে কী করবে? তুমি দ্যাখো না কেন কিছু......

সেদিন থেকে বাবাকে আমি খুব ভয় পাই।

কারণ আপনাদের আগেই বলেছি, ম্যাথ জিনিসটা আমার একদমই পছন্দ না।

৩.
টুটুল ছিলো আমার বেস্টফ্রেন্ড।

হ্যা, স্কুলের বেস্টফ্রেন্ড যেমন হয়, অমনই। টুটুল ক্লাসে না আসলে আমিও ক্লাস করি না। আমরা এক বেঞ্চে বসতাম। টিফিন ভাগাভাগি করে খেতাম। একবার স্যার টুটুলকে বের করে দিলো। সাথে সাথে আমিও বের হয়ে গেলাম।

ফাইভের বৃত্তির রেজাল্ট হওয়ার পর আমার খুব মন খারাপ হলো। বৃত্তিটা আমি পাইনি, তাই।

তবে যখন জানলাম বৃত্তিটা পেয়েছে টুটুল, তখন আমার আর কোন খারাপ লাগা ছিলো না। আমি আনন্দে দুইটা ডিগবাজি দিলাম। আম্মুকে এসে খবরটা দিলাম হাসতে হাসতে।

এবং সেই প্রথমবার আম্মু আমার গায়ে হাত তুললো।

রাতে আব্বু এসে বোঝালো, টুটুল কীভাবে আমি বোকা বানিয়েছে। আমাকে পড়তে না দিয়ে নিজে চুপিচুপি পড়েছে। এরপর আব্বু মাথায় শক্ত করে হাত দিয়ে বলেছিলো, বি ক্যালকুলেটিভ। মেইক শিওর, তোমারে যেন কেউ ইউজ করতে না পারে। ক্লিয়ার?

আমি মাথা নাড়াই। পরদিন টুটুলকে বাটপার, বেঈমান যত কিছু আছে বলে গালি দিয়েছিলাম। মিষ্টির প্যাকেট ফেলে দিয়ে টুটুল সেই যে কানতে কানতে চলে গেল, আর কখনও আমার সামনে এলো না।

সেই থেকে আমার আর কোন বেস্টফ্রেন্ড হয় নাই কখনও। ভেবেছিলাম আর হবেও না।

ক্যালকুলেশন দিয়ে ফ্রেন্ড বানানো সম্ভব। বেস্টফ্রেন্ড না।

কিন্তু না, ক্লাস নাইনে উঠে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হলো। আরেকটা।

৪.
বাহাদুরের সাথে আমার পরিচয়টা রাস্তায়।

প্রথম প্রথম যখন পিছে পিছে আসতো, ভয় পেয়েছিলাম খুব। ছোটবেলা থেকেই আমি কুত্তা ডরাই কি না!

কিন্তু স্কুল শেষে বের হয়েও যখন দেখলাম মাঠের কোণে বসে আমার জন্য ওয়েট করছে, অদ্ভুত এক ভালো লাগায় ভরে গিয়েছিলো আমার মন। কতদিন পর কেউ আমার জন্য ওয়েট করলো!!

রাস্তার বন্ধুত্বটা দিন দিন গাঢ় হতে লাগলো। কোনদিন পাউরিটি কিনে দিতাম, কোনদিন দিতাম আমার টিফিন বক্সের পুরোটাই। বাহাদুর খেতে খেতে কুই কুই শব্দ করতো। আমি ওর মাথায় হাত রাখতাম।

আমার সাথে স্কুল পর্যন্ত যাওয়া আবার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসা হয়ে দাঁড়াল ওর রোজকার একটা রুটিন।

পোলাপাইন আমাকে খেপাত কুকুর বডিগার্ড নিয়ে আসার জন্য। আমার গায়ে লাগতো না একটুও। ভালোবাসা আর মায়া অদ্ভুত একটা জিনিস। একবার জমে গেলে কিছুই আর গায়ে লাগে না।

৫.
বাবার বদলির নোটিশ আসলো বছর খানেক পর।

দুইদিনের মধ্যে আমাদের বাসার সবকিছু ট্রাকে উঠে গেল। জায়গা হলো না শুধু বাহাদুরের। আমি বাবার পা ধরলাম, মায়ের আচল ধরলাম, মাটিতে গড়াগড়ি খাইলাম। লাভ হলো না।

বাহদুরের ছলছল চোখের সামনে দিয়ে চলে গেল আমাদের ট্রাক। বাবা তখন আমাকে বোঝাচ্ছেন, বি ক্যালকুলেটিভ। একটা কুত্তাকে এতোদূর নিয়ে গিয়ে লাভটা কী বলো? ছেলে মানুষ, এতো ইমোশনাল হলে চলে?

৬.
তিথির সাথে আমার সম্পর্কটা যে বাসায় মানবে না, আমি ভালো করেই জানতাম।

বাট আম্মু যে লোক পাঠাইয়া তিথির বাসায় হুমকি দিয়া আসবে, এতোদূর আমি ভাবিনি কখনও।

তিথি অবশ্য শক্ত মেয়ে ছিলো। আমার চোখে চোখ রেখে বলেছিল, আমাকে নিয়ে পালাতে পারবা?

আমি চোখ নামিয়ে নিয়েছিলাম। তিথি আর কখনওই আমার সামনে আসে নাই। ভেবেছিলাম, সহজেই ভুলে যাবো।

বাট পারলাম না। ঘুম উধাও হয়ে গেল। খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিলাম। লেখাপড়াও। এখানে সেখানে ঘুরি। একদিন চেক করার জন্য ইট দিয়ে হাতে বাড়ি দিলাম। একটুও ব্যথা লাগলো না আমার। বুঝলাম, আমার অনুভূতি মরে গেছে।

পরের সপ্তাহে আমাকে ধরে বেঁধে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। বাবা বলে দিলো, ওরে সুস্থ করতে হবে ডাক্তার। আমার একটিমাত্র ছেলে, খুব আদরে মানুষ করেছি।

ডাক্তার আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন।

৭.
বিয়ের তিন বছর পর আমি বাবা হলাম।

বাবা হতে পেরে আমি খুশি। আব্বু আম্মু আরো বেশি খুশি। ততদিনে আমি এমবিএ শেষ করে সিক্স ডিজিট স্যালারিতে তিন বছর পার করে ফেলেছি। কিছুদিনের মধ্যেই সাত ডিজিট হবে বলে অফিসে জোর গুঞ্জন।

এর মধ্যে তরু বললো, দেশের এজুকেশন সিস্টেমের কী অবস্থা, দেখেছ?

আমি মাথা নাড়াই।

ও বলতে থাকে, মাথা নাড়ালে তো হবে না। বাবা হয়েছো, ছেলের ভবিষ্যত নিয়েও তো কিছু ভাবতে হবে। কানাডা না হোক,ইউরোপে মাইগ্রেটের চেষ্টা তো আমরা করতেই পারি? এই দেশে বাচ্চা মানুষ করতে ইচ্ছা করে না আমার।

আমি নিজেও যে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবি নি, তা না।

তরুর কথা শোনার পর আরো জোরেশোরে ভাবা শুরু করি।

সবকিছুর ক্যালকুলেশন করি। বাড়ি, গাড়ি, ক্যারিয়ার সুইচ, ডেবিট, ক্রেডিট, পিআর পাইতে কতদিন লাগবে, স্কুলিং সিস্টেম বা ডে কেয়ার সিস্টেম। সেভিংস বা ইনস্যুরেন্স। সবকিছু গুছাইয়া উঠতে বেশ কষ্ট হলেও শেষপর্যন্ত এদিক ওদিক করে ম্যানেজ করে ফেলি।

বাবা বলে, কবে যাচ্ছি তাহলে? মা বলে, কানাডায় নাকি খুব ঠান্ডা?

আমি তারচেয়েও ঠান্ডা কন্ঠে বলি, আমরা যাচ্ছি। তোমরা যাচ্ছো না।

৮.
এরপর মা বাবা অনেক চিৎকার চেচামেচি করেছে।

আমার কানে আসেনি আর।

তিথিরে ছাড়ার পর থেকে আমি আর মানুষ ছাড়তে ভয় পাই না। আমারে ভয় দেখাইয়া লাভ আছে?

আম্মু বলে, এইদিন দেখার জন্য তোরে পেটে ধরসিলাম? একলা থাকবো কিভাবে এখানে?

আমি বলি, বাহাদুরও তো একলাই ছিলো, আম্মু!!

বাবা বলে, এই তোরে শিক্ষা দিয়েছি? বাবার প্রতি এতোটুকু ভালোবাসা নাই?

আমি বলি, ক্যালকুলেশন বাবা। তোমারে আর মারে নিয়ে গিয়ে আমার লাভটা কী? বুড়ো মানুষ, কোন কাজ করতে পারবা না, বাইরে চিকিৎসার আর ওষুধের খরচ জানো? এসব করতে গেলে আমি আমার বাচ্চা মানুষ করবো কীভাবে?

আর তুমি আমাকে ক্যালকুলেশন শিখিয়েছো। ভালোবাসা শেখাওনি তো!!

বাবা শেষপর্যন্ত চুপ হয়েছিলো। চুপ হয়নি আম্মু।

আমাদের ফ্লাইটের দিন যত আগাইয়া আসতে থাকে, আম্মু তত পাগলের মতো করতে থাকে। কোনদিন সমাজের দোহাই দেয়, কোনদিন ধর্ম কোনদিন আবার দোহাই দেয় বাঙ্গালী কালচারের।

বোকা মেয়ে!!

বাংলা, ধর্ম আর সমাজ আমি সেই কবেই ছেড়ে এসেছি।

এখন আমি শুধু ম্যাথমেটিক্স বুঝি। সারাজীবন ক্যালকুলেশন শিখিয়ে এখন আমার কাছে সমাজবিজ্ঞান বা ধর্ম আশা করলে কীভাবে হবে!!

যত্তসব ডিজগাস্টিং ব্যাকডেটেড বুড়ো মানুষের দল!!





18/03/2024

#রমজান,,
S_H_Shefa
ওহে এলো রে,এলো রে মাহে রমজান!!
নিয়ে এলো সাথে রহমত,মাগফেরাত ও নাজাত!!
তারাবীর রাকাত আট নাকি বিশ নিয়ে দন্দ!
আট পড়লে হয় না মন্দ!?
সাহারী শেষে,খেজুর ও রুহ্-আফজা খেয়ে,,
বুড়ো-গুড়ো সকলে থাকে ক্ষুদার দহনে কাতরিয়ে।
রোজা থেকে কুরআন নাই,নামাজও নাই,
তবু "রোজা আছি" সুরেতে ভেসে যাই..।!
অবশেষে আসে যখন ইফতার,,!!
ঘরে ঘরে ব্যাস্ত হয় রান্নায়,,
গাজাবাসী ভেসে যায় অশ্রুরের বন্যায়!!
আজান শেষে,,খেজুরে, চপে ইফতার শুরু হয়,,।।

খেয়ে দেয়ে ফুলিয়ে পেট,,!!
কারো কি থাকে মনে,,,
মহান আল্লাহ্ কি বলেছেন,,
মাহে রমজানের মানে???

(( ভালো না লাগলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ অনুরোধ))

13/03/2024

লেখিকাঃ S H Shefa
গল্পঃ #বন্ধ্যা_মায়ের_হাসি (পর্ব ৫)
............কেটে গেছে ২০ বছর............
রোহান সেদিনই মায়াকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে তার সন্তানের মা হিসেবে।। আস্তে আস্তে মায়ার দায়িত্ব বোধ ও সবার প্রতি ভালোবাসা থেকে রেহানও তাকে ভালোবেসে স্ত্রী এর সম্মান দিয়ে দেয়।। শিরিন রহমান গত বছর গত হয়েছেন।। মারার যাবার আগে মায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে গেছেন,, " মা তোর জন্য আমার নাতির মা পেয়েছিলো,,আর আমি পেয়েছিলাম মেয়ে।। আমার ছেলেকে দেখে রাখিস মা।। তোর ওপর অনেক সন্তুষ্ট আমরা।""
সায়েম মা বলতে পাগল,,। যখন মায়া এবাড়িতে নতুন এসেছিলো তখনও সবাই মুখ সেটকিয়ে বলেছিলো,, " টাকা দেখে এসেছে এই মেয়ে,,,দেখো কবে সৎ ছেলেকে মেরে টেরে ফেলে কিনা। সৎ তো সৎ ই হয়,,!"
কিন্তু মায়া সবাইকে ভুল প্রমান করে নিজেকে সায়েমের আদর্শ মা হিসেবে গড়ে তুলেছিলো,,। সায়েমের কাছে সত্যি বলেছিলো যে সে তার দ্বিতীয় মা,,কারন মায়া চায় নি সায়েম কোনো মিথ্যার মধ্যে বেড়ে উঠুক,,।। সায়েমকে সে দ্বীনি ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলে,,,সায়েম কে সব সময় মায়া শিক্ষা দিয়েছে,,কখনো কেউকে মিথ্যা না বলা,,মিথ্যা প্রতিশ্রুতি না দেওয়া,,কারো বিশ্বাস না ভাঙ্গা।।
বছর দুয়েক আগে সায়েম যেদিন বুয়েটে চান্স পায় এবং রোহানের বিজনেসের উন্নতি হয়,, সেদিন সুমনা ফিরে আসে,,এবং আবার এক হতে চায়।। রোহন সায়েমের ওপর সিদ্ধান্ত দেয়,,সায়েম চাইলে তবেই সে বাড়িতে ঢুকবে।। সায়েমকে জড়িয়ে সুমনা বলতে থাকে,," আমি তোমার মা,,আমি তোমার জান্নাত! তোমার বাবাকে বলো আমায় নিয়ে নিতে"।
মায়া হতবিহ্বল হয়ে শুধু দেখতে থাকে,,। সে রোহানকে হারিয়ে ফেলবে?? সায়েম কি তাকে আর মা বলে ডাকবে না??,,, সবাইকে অবাক করে সায়েম বলে,,,"" আপনি কোন মা তা আমি জানি না,,আপনি কোন জান্নাত তাও জানি না।। আমি সেই জান্নাত চাই না,, যে জান্নাত ৭ দিনের নিস্পাপ শিশুকে ফেলে হারাম প্রেমেকের হাত ধরে পালায়!!"" এরপর সায়েম মায়ার দিকে ইশারা করে বলে,," ওইযে আমার মা!! ওইযে আমার জান্নাত তাকিয়ে দেখুন,,! যে আমাকে বড় করেছে, যে আমাকে গড়েছে,,,""।। রোহান মুচকি হাসে,,সে জানতো তার ছেলে মানুষ বুঝে সিদ্ধান্ত নিবে,,।। এরপর সুমনা চলে যায়,,কারন তার কিছু করার নেই,,নিজের দোষেই তার এমন অবস্থা হয়েছে,,যাকে ভরসা করে হাত ধরেছিলো,,সে এখন নেশার দুনিয়ায় ডুবে প্রতিনিয়ত সুমনাকে অত্যাচার করে,,।। নিজের দোষে সুখের সংসার হারিয়েছে সে,,।।
সুমনা যাওয়ার পর সায়েম মায়ার হাতে চুম্বন করে বলে,," তোমার ছেলে কখনো যাবে না,,আমি তোমার ছেলে,,, তুমিই আমার মা!" মায়া খুশি হয়ে অনেক দোয়া করে দেয় তার এই ছেলেকে,,,জন্ম না দিয়েও সে সায়েম আহমেদ এর মা!!
আজ রোহানের সাথে বের হয়েছে মায়া,,।। সায়েমের জন্মদিন আজ,,খুব সুন্দর করে আয়োজন করবে ভেবে রেখেছে মায়া,,।। ছেলের জন্য গিফ্ট চুজ্ করার সময় রোহান বলে,,"" সারাদিন ছেলে ছেলে করো কেনো বউ,! একটা স্বামী ও তো আছে,,তার দিকেও একটু তাকাও!! স্বামীর সেবা করলে সওয়াব হয় বুঝেছো মায়াবউ!"
মায়া আসে পাশে দেখে নিয়ে বড় বড় চোখ করে তাকায় রোহানের দিকে!! "" আপনি এতো নির্লজ্জ কেনো বলেন তো? দু'দিন পর ছেলে বিয়ে দিয়ে দাদা হয়ে যাবেন,,এখনো বউ বউ করা গেলো না?? মানুষ কি বলবে?? একটু লাজ সরম করেন!"
--""" তুমি আমাকে বুড়ো বললে নাকি বউ?? আমি মনের দিক থেকে এখনো যুবক তুমি কি জানো সেটা?"
মায়া অসহায় হয়ে তাকিয়ে থাকে,,,এই লোককে থামানো মুশকিল...।। হঠাৎ শুনতে পায় বাইরে শোরগোল হচ্ছে! বাইরে এসে দেখে এক ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে,, পিছন থেকে এক পৌড় দম্পত্তি আকুতি করে ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বলছে,,।। মায়া খেয়াল করে দেখতে পায়,,পৌড় লোকটি আর কেউ নয়,,তার ই প্রথম স্বামী ইমন!! লোকমুখে মায়া জেনেছিলো যে ইমন তার এক খালাতো বোনকে বিয়ে করেছে,,কিন্তু বিয়ের পরের কাহিনী খুব সুখের ছিলো না,,যেই যৌতুকের লোভে ইমনের মা মায়া কে চোখের বিষ মনে করতো সেই যৌতুক পপিরা দেওয়ার পর,,সারাদিন পপি ইমনের মা কে ফকিন্নি বলে খোটা দিতো,,সম্পর্কে খালা-ভাগনি হলেও পপি তুই তোকারি পর্যন্ত করতো ইমনের মায়ের সাথে,,। পপির বাড়ি থেকে আনা কোনো ফার্নিচার ব্যাবহার করার অধিকার ছিলো না ইমনের মায়ের!! রাগে,,দুঃখে,, মায়ার ওপর করা অত্যাচার করার আত্মগ্লানিতে স্ট্রোক করে বসে একদিন,,তার কিছুদিন পরই মারা যান।। ইমনের এক ছেলে হওয়ার পর পপিরও সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা চলে যায় জরায়ু টিউমারের কারনে।। এক ছেলেকে আদরে আদরে অমানুষে পরিনত করে পপি ও ইমন,,যার পরিনতি মাদক পাচার আসমি পর্যন্ত নিয়ে আসে তাদের ছেলেকে,,!

মায়া দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ও মনে মনে বলে,,"" আল্লাহ্ ছাড় দেন,,ছেড়ে দেন না!,,,পৃথিবীটা গোল,, তুমি অন্যের সাথে যা করবে,, তা তোমার সাথেও হবে!!"
...............................................................................

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে,,
মায়া মা-বাবা,,ভাই-ভাবি,,ভাতিজা-ভাতিজি সবাই উপস্থিত।। মায়া কেক নিয়ে হল রুমে প্রবেশ করে,,নিজের হাতে সায়েমের পছন্দের চকলেট লাভা কেক বানিয়েছে সে,,।। সায়েম বাবা-মা কে দুই পাশে রেখে কেক কাটে।। প্রথমে মা কে খাইয়ে দেয়,,তার পর বাবা,,মামা,,নানু,,,নানাভাই।।
মায়ার খুব গর্ব করে সায়েমকে নিয়ে,,।। মুচকি হাসে তার ছেলের দিকে তাকিয়ে...।।
সায়েম বলে,,"" সবাই দেখো,,,পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও দামী হাসি!! আমার মায়ের হাসি!! আমার #বন্ধ্যা_মায়ের_হাসি। ""

সমাপ্ত.....
(( ফেসবুকে দেওয়া প্রথম গল্প আমার,,যারা এই অপরিপক্ক হাতের লেখাকে পছন্দ করেছেন এবং পড়েছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ,,❤️।। কেমন লেগেছে বলে যাবেন,,এতে আমি আরো গল্প আনার অনুপ্রেরনা পাবো... ধন্যবাদ❤️))

12/03/2024

লেখিকা ঃ S H Shefa
গল্প ঃ #বন্ধ্যা_মায়ের_হাসি (পর্ব ৪)
মায়া সিলিং এর দিকে তাকিয়ে যখনই খারাপ কিছু করার পরিকল্পনা করছিলো,,, ঠিক তখনই মায়ার মা দরজা ঠেলে রুমে আসেন,,।। আজকে একটা খুশির সংবাদ দিবেন মেয়েকে তিনি,,,শুধু রাজি হলেই হবে,,।। মায়ের মুখ দেখেই মায়া বুঝতে পারে মা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে চায়,,,।।

" কিছু বলবে আম্মু??"
--" মামনি কথাটা তুমি কিভাবে নিবে জানি না,,তবে আমরা সবাই চাই তোমার একটা ভবিষ্যৎ হোক।। মা-বাবা তো খারাপ চায় না বলো..?"
--" বুঝেছি আম্মু,,সমন্ধ এসেছে,,তাই তো?? তোমরা যেমন চাও আমি রাজি কিন্তু আম্মু,, আমি কেউকে ঠকাতে পারবো না,,,। কেউ যদি আমায় পছন্দ করে,,তাহলে তাদের সব কিছু জানিয়ে তবেই কথা এগোবে,,,আমি কেউকে ঠকাতে চাই না,,। তা ছাড়া পুরুষ জাতির ওপর বিশ্বাস উঠে গেছে আমার.."
-- " এভাবে বলতে নেই মা,,একজনের জন্য তুমি সবাইকে দোষ দিতে পারবে না,,এটা অন্যায়!! তুমি চিন্তা করো না,,ছেলে পক্ষ সবকিছু জানে,,এবং সব জেনে তারা নিজেরাই প্রস্তাব দিয়েছে,,,।। ছেলে তার বাবার ব্যাবসা দেখাশোনা করে,,শিক্ষিত,,সুদর্শন!! নিজের ৪ তলা বাড়ি আছে,,গাড়ি আছে,,,,আর....""
--"এতোই যদি ভালো হয়,,তবে সে কেনো আমার মতো মেয়েকে বিয়ে করতে চাইবে??"
----"" একটা সমস্যা আছে,,তুমি ভেবে চিন্তে মতামত দিতে পারো,,আমরা জোর করছি না।। ছেলের আগে বিয়ে ছিলো,,৫ মাসের একটি পুত্রসন্তানও আছে,,,কিন্তু তার এক্স ওয়াইফ ছেলেকে জন্ম দেয়ার ৭ দিনের মাথায় পরকীয়া প্রেমিকের সাথে চলে গিয়েছে,,,,তাই ছেলের মা....""
--- আচ্ছা বুঝতে পেরেছি,,,।
---তোমাকে দেখতে আসবে একটু পর রেডি হয়ে নিও,,আমরা তোমায় জোর করবো না,,শুধু তোমাকে ভালো দেখতে চাই,,।।

এই বলে মায়ার মা কক্ষ ত্যাগ করলো।।
বিকালের দিকে পাত্রপক্ষ মায়াকে দেখতে আসলো,,। পক্ষ বলতে শুধু ছেলে রোহান আহমেদ,,তার মা শিরিন ও শিরিনের কলে তার ৫ মাসের নাতি সায়েম।।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে মায়াকে সামনে আনা হলো,,। শিরিন রহমান মায়া কে কিছু প্রশ্ন করলেন,,মায়া ভদ্রতার সাথে যথা্যথ উত্তর দিলো,।। এরপর মায়া ও রোহানকে একান্তে কথা বলার জন্য ছাদে পাঠানো হলো,,, রোহান জিজ্ঞেস করলো,,"" মিস মায়া,,আপনার কোনো প্রশ্ন আছে কি??""
---জ্বী আছে,, আপনারা জেনে শুনে কেনো আমাকে পছন্দ করলেন?? আমার তো....
---" দেখুন মিস মায়া,,আমি আসলে আর বিয়েই করতে চাই নি,,সুমনা চলে যাওয়ার পর ভেবেছিলাম জীবন একাই পার করে দেবো,,আমার ছোট্ট সায়েমের জন্য সৎমা আনতে চাইনি,,কারন,, সৎ মা যে আসবে সে হয়তো কিছুদিন ভালোবাসবে,,কিন্তু নিজের সন্তান হওয়ার পর সায়েমের ওপর ভালোবাসা ফিকে হয়ে যাবে,,,আমি চাই না আমার ছেলে হীনমন্য হয়ে বেড়ে উঠুক!! কিন্তু আমার আম্মাও বৃদ্ধ হয়েছেন,,সায়েমকে দেখে রাখতে তার হিমসিম খেতে হয়,,২ জনকে দেখার জন্যই একজন সঠিক মানুষ দরকার,,,আমি আমার ছেলের জন্য মা চাই,,আপনার যদি আপত্তি থাকে তাহলে আমাদের জানিয়ে দেবেন,,,,আসি...."
--"" যদি আপনার স্ত্রী ফিরে আসে??""
--"" বেইমান কে রোহান সুযোগ দেয় না! কারন বেইমানদের সুযোগ দিলে তারা আরো ভয়ানক ক্ষতি করে বসে..।"
এই বলে রোহান নেমে গেলো,,,।।
মায়া ছাদের কার্নিশে দাড়িয়ে ভাবছে,,,তার কি করা উচিত?? রাজি হবে কি হবে না?? আচ্ছা সে যদি এখানে বিয়ে করে,,তাহলে কি তার মাতৃত্বের যেই অপূর্ণতা! সে ্টা কি লাঘব হবে?? সমাজের মানুষ কি তাকে নিয়ে বিষাক্ত কটুক্তি করা ছেড়ে দেবে?? সে কি করবে??
হঠাৎ নিচ থেকে কন্নার আওয়াজ আসে,,!! মায়া দৌড়ে নিচে নেমে দেখে রোহানের কোলে বাচ্চাটা কন্না করছে,,।।
রোহান বা তার মা শিরিন কেউ ই বুঝতে পারছে না কি করবে,,,।। মায়া আনমনে এগিয়ে গেলো,,,বললো,," ওর ক্ষুদা লেগেছে,খাওয়াতে হবে,।" শিরিন তড়িগড়ি করে ফিডার রেডি করে খাওয়াতে নেয় কিন্তু হচ্ছে না,,! সায়েম খুব বেশি কন্না করতে থাকে,,।
মায়া রোহানের কাছ থেকে সায়েম কে কোলে নিয়ে আস্তে আস্তে দোল দিতে থাকে,,,।। সায়েম যেনো মায়ের কোল পেয়েছে,,আস্তে আস্তে চুপ হয়ে দেখতে থাকে মায়ার মুখ পানে.... যেনো বলতে চায়,,তুমি তো আমার মা নও,,তবু কেনো এতো ভালো লাগছে আমার?
মায়ার বুকটাও যেনো প্রশান্তিতে ভরে যাচ্ছে! আহ্! কতো সপ্ন ছিলো নিজের ছেলে মেয়ে কে নিয়ে৷ তার মেয়ে হবে ছেলে হবে,,সেগুলো আর পুরন হলো কোথায়?? কিন্তু সায়েমের আদুরে মায়াবী মুখ খানা দেখে খুশিতে চোখে পানি এসে যাচ্ছে! সায়েম আবার কন্না করতে নিলে মায়া সায়েমের ছোট্ট ঠোঁটগুলোর মাঝে ফিডার দিয়ে দেয়,,কিছুক্ষণ ওর সায়েম মায়ার কোলে ঘুমিয়ে যায়....

এতোক্ষণ সবকিছু অবলোকন করছিলো,,রোহান ও শিরিন,,। হঠাৎ রোহান মায়ার সামনে বসে পকেট থেকে রিং সামনে বের করে বলে ওঠে!!
"" উইল ইউ বি মাই সান্'স মাদার??"

চলবে....
((কে জানি বললো,,পর্ব ছোট হচ্ছে তাই এবার একটু বড় করে দিলাম,,। গল্প দিতে দেরি হওয়ার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখীত))

Want your business to be the top-listed Government Service in Khulna?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

Khulna
KHULNA