01/02/2026
#নীল_সাগরের_ভালোবাসা
#শেফা
পর্ব ২...
রুমে ঢোকার সময় রাসেল মেয়েদের উদ্দেশ্য করে..
বলল, "এই, মহিলারা! আপনারা সবাই কাল একটু দ্রুত উঠবেন। না হলে কিন্তু রেখেই চলে যাব।"
বিন্দু বলে, "ওই! আমাদের অমন বলছিস, তোরা যদি কাল জলদি না উঠিস তাহলে তোদের কান কেটে সাগরে ভাসিয়ে দেব।"
ছেলেরা বুঝতে পারে যে মেয়েদের সাথে ও আর কোনো উল্টাপাল্টা কথা বললে সত্যি সত্যি ওদের কানের আর অস্তিত্ব থাকবে না। তাই ওরা চুপচাপ কেটে পড়ে। মেয়েরাও চলে যায় রুমে। তারপর লাইট বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে সবাই।
সকাল হয়। সূর্যের কিরণ আস্তে আস্তে সাগরের ঢেউয়ের ভিতর পড়ে। ঢেউয়ের শব্দেই সাফিয়ার ঘুম ভেঙে যায়। তারপর বিন্দু, মুনিরা, ইন্নি, সিমি, রাইসা সবাইকে তুলে দেয় ঘুম থেকে। তারপর একে একে সবাই ফ্রেশ হয়ে নেয়।
ইন্নি জিজ্ঞেস করে, "আচ্ছা, ছাগলগুলা এখনো ওঠে নি?" সাফিয়া বলে, "মনে হয় না। চল গিয়ে ওদের কানগুলোর একটু খোঁজ নিয়ে আসি।"
আর এদিকে ছেলেরা স্বভাবতই ঘুমিয়ে আছে যে যার মতো। কেউ বিছানায় কেউ ফ্লোরে, ঠিক নাই। মেয়েরা গিয়েই দেখে যে, ছয়টা ছেলে একদম ছয়জন ছয়টা সাপের মতো জড়িয়ে পেঁচিয়ে হাফ
প্যান্ট পরে ঘুমিয়ে আছে। গ্রুপে মোট ১২ জন আর এর মধ্যে ৬ জন মেয়ে আর ৬ জন ছেলে। ওই অবস্থায় মানে হাফ প্যান্ট পরা অবস্থায় দেখে সবকিছু ভুলে গিয়ে মেয়েরা মুখে হাত দিয়ে চোখ মুখ ঢেকে চিৎকার করে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। চিৎকার শুনতেই ছেলেরা সবাই ধড়ফড় করে লাফিয়ে ওঠে আর চিৎকার করে বলতে থাকে, "এই কী হইছে?!" তারপর খেয়াল করে দেখে যে মেয়েরা সব উল্টো দিকে মুখ করে আছে, তার মানে ওরা দেখে ফেলেছে ওদের এই-
অবস্থায়। ছেলেরা নিজেদের লজ্জা কমানোর জন্য মেয়েদের জিজ্ঞেস করে, "বাহ্ তোরা এত আগে আগে উঠছিস! গুড। বাট প্লিজ আমাদের কান ছিঁড়িস না। কান ছিঁড়লে তোদের কথা শুনব কী করে?" মেয়েরা চলে যায়। তাড়াতাড়ি করে ছেলেরা রেডি হয়ে ক্যান্টিনে যায়। তারপর সবাই ব্রেকফাস্ট করে সৈকতের দিকে যায়। সবাই জুতো স্যান্ডেল খুলে পানিতে নেমে একে অপরকে ভেজাতে থাকে। কিছুক্ষণ ভেজাভেজির পর ছেলেরা সৈকতে ফুটবল খেলা শুরু করে আর মেয়েরা বালু দিয়ে ছোট ছোট ঘর বানাতে থাকে। সবাই-একসাথে থাকলেও সাফিয়া একা একা পানিতে হাঁটতে থাকে। ওর কেমন যেনো মনে হচ্ছিল যে সাগরটা ওর খুব আপন। যেন নাড়ির টানের মতো সম্পর্ক। এতো সব ভাবছিল আর নীল সাগরের দিকে তাকিয়ে হাঁটছিল সাফিয়া। ঠিক সেই সময় সাফিয়া যেন শুনতে পায় যে সাগর থেকে কেউ ওকে ওর নাম ধরে ডাকছে। আর বলছে যে, "তুমিই এই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী"। কথাগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় আর সাথে সাথেই কোনো কিছুর সাথে লেগে সাফিয়ার পায়ের নিচের অংশ একটুখানি কেটে...যায় আর সামান্য একটু রক্ত বের হয়। আর তখনই ও দেখতে পায় যে ওর পায়ের নিচে নীল রঙের কী যেন একটা রোদের আলোয় চকচক করছে। আর পাশে একটু রক্ত। সাফিয়া বুঝতে পারে যে এই জিনিসটাতেই ওর পা কেটেছে, যদিও রক্তটুকু সাগরের নোনা পানিতে ধুয়ে মিলিয়ে গিয়েছে। কিছুক্ষণ দেখে ওর মনে হতে থাকে যে ও বস্তুটার প্রেমে পড়ে গেছে। তাৎক্ষণাৎ ও জিনিসটাকে তুলে পরিষ্কার করতে থাকে আর আবিষ্কার করে যে ওটা গাঢ় নীল রঙের অনেকটা ডিমের আকৃতির কিন্তু ছোট সাইজের একটা লকেট। সাফিয়া লকেটটা ধুয়ে পরিষ্কার করে টিস্যুতে পেঁচিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে নিয়ে-
হোটেলের দিকে যেতে থাকে। সবাই যখন সাফিয়াকে জিজ্ঞেস করে সে কেন ও চলে যাচ্ছে। সাফিয়া শুধু বলে যে, "আমার ভালো লাগছে না তাই, তোরা ঘোর।" এই বলে ও তরতর করে চলে যায়।
হোটেলে গিয়ে ও নিজের গলার চেনের লকেটটি খুলে ওই নীল লকেটটি পরে। বেশ মানিয়েছে ওকে। ও ভাবে যে বোনের বিয়েতে এই লকেটের সাথে সবকিছু মিলিয়েই পরবে। এরপর কিছুদিন থাকার পর ওরা সবাই আবার বাসায় ফিরে যায়।
কিছুদিন পর...
বোনের বিয়েতে এসেছে সাফিয়া। এসেই.......
চলবে...

31/01/2026
27/02/2025
26/02/2025
25/02/2025
18/03/2024
13/03/2024
12/03/2024