কম্পিউটার শিখুন, যুগের সঙ্গে তাল মেলান....
বেলাল স্যার স্মৃতি ইসলামিক পাঠাগার
স্যার এর জন্য আমরা সবাই দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন। আমিন ইসলামের সঙ্গে থাকুন, ইসলামীক জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
17/09/2021
আর কোন বাসনা নেই যে আমার- লিখেছেন-আবু তাহের বেলাল, সুর ও মুল শিল্পী- মশিউর রহমান। কন্ঠে- জাফর ইকবা আমার অত্যন্ত প্রিয় শিল্পী মশিউর রহমান ভাইয়ের কন্ঠে গাওয়া এই গানটি আমার একজন প্রিয় মানুষ হাফেজ আবু সাঈদ এর অনুরোধ.....
*যিলহজ্ব মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল সমুহ*
___________________________
♦১) কবে শুরু ?
১১ জুলাই বাংলাদেশের রবিবার যিলক্বদ মাসের ২৯ দিন শেষ হবে। ঐ দিন সন্ধ্যাই চাঁদ দেখতে হবে।
♦২) রোযা রাখবো কবে?
যদি চাঁদ ১১ জুলাই সন্ধ্যাই দেখা যায় তাহলে ঐ দিন রাতেই সাহরি খেয়ে ১২ জুলাই সোমবার থেকে রোযা রাখা শুরু করতে হবে।
(সেই ভাবেই প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন।)
আর যদি ১১ তারিখ চাঁদ দেখা না যায় তাহলে ১২ তারিখ সোমবার রাতে সাহরি খেয়ে ১৩ তারিখ মঙ্গলবার থেকে রোযা রাখতে হবে ।।
♦৩) কতগুলো রাখবো?
রোযা মোট ৯ টা ( ১~৯ যিলহজ্জ)। সবগুলো রাখাই উত্তম । সব না পারলে সাধ্যমত রাখবেন। অন্তত কিছু না হলেও শেষের দুটো রোযা ( ৮,৯ যিলহজ্জ ) বা শেষ ( ৯ যিলহজ্জ ) একটা রোযা রাখা উচিত।
এগুলো নফল রোযা । কেউ না রাখলে গুনাহ হবে না। কেউ আবার ভাববেন না যে রাখতেই হবে। আপনার ইচ্ছা । আপনি আপনার আখেরাত কেমন ভাবে গড়বেন।
যাদের রমজানের কাযা আছে তারা প্রথম ৭ টা কাযা রোযার নিয়তে আর শেষ দুটো নফলের নিয়তে রাখতে পারেন।।
♦৪) শুনেছি ঈদের আগের দিন রোযা রাখা হারাম?
ভুল শুনেছেন । বছরের ৫ দিন রোযা রাখা হারাম ।
শাওয়ালের ১ তারিখ ( রোযার ঈদের দিন ), যিলহজ্বের ১০,১১,১২,১৩ তারিখ ( কুরবানি ঈদের দিন ও পরের ৩ দিন )। মোট 5 দিন।
এছাড়া শুধু শুক্রবার একদিন ও শুধু শনিবার একদিন সাধারণ নফল রোযা রাখা নিষেধ । তবে এর সাথে আরো একটি করে রোযা রাখলে রাখা যায়।
♦৫) আমি তো কুরবানী দিবো না তাহলে?
এই রোযা গুলো নফল । কুরবানীর সাথে সম্পর্ক না। আপনি রাখলে সওয়াব পাবেন। না রাখলে সমস্যা নাই।
♦৬ ) শুনেছি যারা কুরবানী করবে তারা নখ চুল ইত্যাদি কাটবে না?
জি । যারা কুরবানী করবে তাদের জন্য সুন্নাত হলো যিলহজ্ব শুরুর পর থেকে কুরবানী না করা পর্যন্ত চুল নখ গুপ্তাঙ্গ পরিষ্কার না করা।
এজন্য যিলহজ্জ মাস শুরুর আগেই এই কাজ গুলো করে নিতে হবে ।
যারা কুরবানী করবে না তারাও এই আমল গুলো করলে সোওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ। নারী পুরুষ ছেলে মেয়ে সবাই করতে পারবে এই আমল।
এই আমল করতে চাইলে ১১ জুলাই সন্ধ্যার আগেই সব কিছু পরিষ্কার করে নিতে হবে । আপনি সেই ভাবেই প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন।
♦৭) রোযা রাখতে গিয়ে যদি সাহরি খেতে না পারি ?
সাহরি খাওয়া সুন্নাত । ইচ্ছা করে ত্যাগ করা যাবে না। যদি ঘুমের কারনে টের না পাওয়া যায় তাহলে কিছু না খেয়ে শুধু নিয়ত করে রাখলেই রোযা হবে।।নফল রোযা রাখছি বললেই হবে।। অন্যদিকে রোযা রাখার জন্য সাহরি করলেই নিয়ত হয়ে যাবে( ইং শা আল্লাহ) মুখে না বল্লেও চলবে।।
♦৮ ) আরাফার দুআ ও তাকবীরে তাশরীক কি?
আরাফার দুআ আরাফার দিনে পড়তে হয়। তবে সেটা অন্যান্য যে কোন সময়ও পড়া যাবে। দুআ টি হলোঃ
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ
وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ
لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ
وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
#উচ্চারণঃলা ইলাহা ইল্লাল্লহু
ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু
লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু
ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাই ইং কদির।
( আরবি উচ্চারণ কোন ভাষাতেই লেখা যায় না । এটা পড়ে শিখে নিবেন )
🚩এছাড়া নীচের তাসবীহটি বেশী বেশী পড়বেন।
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ وَسُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ
#উচ্চারণঃ সুবহানাল্লহি ওয়াবিহামদিহি ওয়া সুবহানাল্লহিল আযীম ।
🚫( আরবি উচ্চারণ বাংলা বা ইংরেজী তে সঠিক ভাবে লেখা যায় না । কারো থেকে শিখে নিবেন )
♦আর তাকবীরে তাশরীক প্রত্যেক বালেগ পুরুষ ও নারীর উপর ফরয নামায শেষ করে একবার উচ্চস্বরে পড়া ওয়াজিব। নারীরা নিজে শুনতে পারবে এমন ভাবে পড়বে বেশি উচু স্বরে পড়বে না।
তাকবীর হলঃ
اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أكْبَرُ،
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ،
وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ
ﻭ ﻟِﻠّﻪ الحَمْدُ
আল্লহু আকবার আল্লহু আকবার
লা-ইলাহা ইল্লাল্লহু
ওয়াল্লহু আকবার আল্লহু আকবার
ওয়ালিল্লাহিল হামদ
🚫( আরবি উচ্চারণ বাংলা বা ইংরেজী তে সঠিক ভাবে লেখা যায় না । কারো থেকে শিখে নিবেন )
♦কবে_কখন_পড়বেনঃ_______
( ইংরেজি তারিখ ও বার পরে জানানো হবে ইংশা আল্লাহ )
0৯ যিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১০ যিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১১ যিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১২ যিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১৩ যিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর..
সকল ওয়াক্তে ফরয নামাযের সালামের পরপর একবার পুরুষেরা উচ্চ স্বরে পড়বেন আর নারীরা নিজে শোনার মত পড়বেন ।
🚫 সুন্নাত নফল ওয়াজিব নামাযে পড়া লাগবে না ❌❌❌
♦১০) মহিলাদের কি কুরবানী করতে হয়?
জি । কুরবানীর শর্ত পূরণ হলেই করতে হবে। যদি সোনা রূপা ও নগদ অর্থ আলাদা ভাবে বা এক সাথে ৪৩০০০ টাকা বা এর বেশি হয় তাহলে কুরবানী করতে হবে। এটা আনুমানিক হিসাব বললাম । বাজার থেকে ৫২.৫ ভরি রূপার বিক্রয় দাম জেনে নিবেন।
♦৯) ঈদ কবে হবে?
যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ ঈদ হয়। চাঁদ দেখার পর হিসাব করলেই পাবেন। ২১ জুলাই বা ২২ জুলাই যে কোন একদিন হবে।
♦১০) এখন কি যাকাত দেওয়া যাবে?
যি যাবে । যাকাত যে কোন সময় দেওয়া যায়। যার যাকাত যখন ফরয হয় তখন দিয়ে দেওয়াই উত্তম ।
♦১১) আরাফার রোযা কবে?
আরাফার রোযা ঈদের আগের দিন। বাংলাদেশে ঈদ সৌদির একদিন পরে হয়। তাই আলেমগণ বলেন ঈদের আগের দুই দিন রোযা রাখতে ।
১৯,২০,২১ জুলাই এর যে কোন দুই দিন হবে আরাফার রোযা।।
♦১২) যারা অন্য দেশে থাকে তারা কবে রোযা রাখবে?
যার যার দেশের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে রাখবে । এজন্য চাঁদ কবে উঠছে খেয়াল রাখতে হবে । সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী অনলাইন বা গুগল থেকে জেনে নিবেন।।
( collected )
03/07/2021
এমন হলে কেমন হতো??
ছেলেরা মেয়ে দেখতে গেলে টাকা দিতে হয়।এটা সমাজ স্বীকৃত নিয়মে পরিণত হয়েছে।কিন্তু একটাবার ভেবে দেখেছেন,আমরা চিড়িয়াখানার জন্তুর দেখতে টাকা দেই আবার মানুষ দেখতেও দেই।মানুষ কি বিনোদনের বস্তু নাকি টাকা দিয়ে দেখতে হবে? আপনাকে দেখার বিনিময়ে অন্য একজন পুরুষ আপনাকে টাকা দিয়েছে এতে কি আপনার সম্মান বেড়েছে??মনে হয়না। অনেক মেয়ে আছে দিতে চাইলেও নেয়না, আবার অনেক মেয়ে আছে এরকম শত ছেলেকে চেহারা দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়।নতুন ড্রেস,জুতা,ব্যাগ কিনে স্ট্যাটাস দেয়" নতুন মক্কেলের টাকায়" বা "ঘটক সাহেব আনতে থাকেন"।ছি: বোন তোমার লজ্জা হওয়া উচিত। এগুলোর মানে হয়না।বিষয়টা এমন হলে কেমন হতো ছেলেরা মেয়ে দেখে টাকা না দিয়ে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে ৪-৫ টা ভালো বই উপহার দেবে।মেয়েদের রুমে ছোটখাটো একটি লাইব্রেরি বা সংগ্রহশালা হয়ে যাবে।আপনি পড়ুন বা না পড়ুন বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি নিয়ে রাখবেন।আগামীতে আপনার সন্তান পড়বে।সে বই পড়ার আবহাওয়ায় বেড়ে উঠবে।মেধাবী হবে।দিনশেষে মা হিসেবে আপনি স্বার্থক হবেন।সুস্থ সুন্দর জাতী ঘটন হবে।
ভেবে দেখার বিষয় কি??
লেখকঃ মুহাম্মদ ফয়সাল হোসাইন।
চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রচলিত কুসংস্কার এবং আমাদের করণীয়
▬▬▬▬🌖🌑🌔▬▬▬▬
প্রশ্ন: আমাদের সমাজে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী মাকে অনেক নিয়ম পালন করতে বলা হয় এবং অনেক কিছুতে বাধা দেয়া হয়। অন্যথায় গর্ভস্থ সন্তানের নাকি ক্ষতি হয়। এ বিষয়টি কুরআন-হাদিসের আলোকে কতটুকু সঠিক? এবং চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ কালে আমাদের কী করা উচিত?
উত্তর:
নি:সন্দেহে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ মহান আল্লাহর সৃষ্টি জগত ও মহাবিশ্বের মধ্যে দুটি বিশাল প্রাকৃতিক পরিবর্তন-যা মহান আল্লাহর অসীম শক্তিমত্তার পরিচয় বহন করে।
বিজ্ঞান বলে, চাঁদ যখন পরিভ্রমণ অবস্থায় কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে কিছু সময়ের জন্য সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাই সূর্যগ্রহণ (Solar eclipse) বা কুসুফ। আর পৃথিবী যখন তার পরিভ্রমণ অবস্থায় চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখনই পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে চাঁদ কিছুক্ষণের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাই চন্দ্রগ্রহণ (Lunar eclipse) বা খুসুফ।
🌀 সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সময় করণীয়:
এ সময় সকল মুসলিমদের জন্য করণীয় হল, সালাতুল কুসুফ/খুসুফ বা চন্দ্রগ্রহণ/সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করা, আল্লাহর কাছে নিজেদের পাপাচারের জন্য ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাকবীর পাঠ করা, আল্লাহর নিকট দুআ করা, দান-সদকা করা এবং এত বড় নিদর্শন দেখে মহান আল্লাহর প্রতি মনে ভয়-ভীতি জাগ্রত করা। এগুলো নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মুসলিমের জন্য প্রযোজ্য-এমনকি একজন গর্ভবতী নারীর জন্য।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী মা জননী আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ مِنْ آيَاتِ اللهِ، وَإِنَّهُمَا لَا يَنْخَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ، وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَكَبِّرُوا، وَادْعُوا اللهَ وَصَلُّوا وَتَصَدَّقُوا،
”সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর কুদর (ক্ষমতার) বিশেষ নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ হয় না। অত:এব যখন তোমরা সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ দেখতে পাও, তখন তাকবীর বলো, আল্লাহর নিকট দু’আ করো, সালাত আদায় করো এবং দান-সদকা করো।” [সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: [1964], অধ্যায়ঃ ১১/ সালাতুল কুসূফ (كتاب الكسوف) ইসলামিক ফাউন্ডেশন]
🌀 সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার:
সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে আমাদের সমাজে (বিশেষ করে প্রসূতি মাদের বিষয়ে) অনেক কুসংস্কার ও ভুল বিশ্বাস প্রচলিত আছে। যেমন:
- এ সময় কোন কিছু খেতে নেই। বলা হয়, সূর্যগ্রহণের ১২ ঘণ্টা এবং চন্দ্রগ্রহণের ৯ ঘণ্টা আগে থেকে খাবার গ্রহণ করা বারণ!
- এ সময় তৈরি করা খাবার ফেলে দিতে হবে!
- এ সময় যৌন সংসর্গ করা যাবে না!
- গর্ভবতী মায়েরা এ সময় যা করে, তার প্রভাব সন্তানের ওপর পড়বে!
- সূর্যগ্রহণে গর্ভবতী মায়েদের কাত হয়ে শুতে বারণ নইলে নাকি গর্ভের শিশু বিকলাঙ্গ হয়!
- সূর্যগ্রহণের সময় জন্ম নেওয়া শিশুদের ব্যাপারে দুই ধরনের গপ্প শুনতে পাওয়া যায়। এক, শিশুটি অসুস্থ হবে এবং দুই, শিশুটি চালাক হবে!
- প্রসূতি মা সূর্যগ্রহণ দেখলে তার অনাগত সন্তানের বিকলঙ্গ হবে!
- চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় যদি গর্ভবতী নারী কিছু কাটাকাটি করেন, তাহলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হয়—এ গুলো সবই কুসংস্কার ও ভুল বিশ্বাস।
- এ সময় কোনো নারীকে ঘুম বা পানাহার থেকে বারণ করাও অন্যায়।
এছাড়া গর্ভবতী নারীর করণীয়-বর্জনীয় বিষয়ে সমাজে বহু কিছু প্রচলিত রয়েছে সেগুলো সব কুসংস্কার এবং ভ্রান্ত ধারণা।আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন। ইসলামী শরিয়াহ ও বাস্তবতার সঙ্গে এগুলোর কোনো মিল নেই এবং বৈজ্ঞানিকভাবেও গ্রহণযোগ্য নয়।
জাহেলি যুগেও এ ধরণের কিছু ধারণা প্রচলিত ছিল। সেকালে মানুষ ধারণা করত যে, চন্দ্রগ্রহণ কিংবা সূর্যগ্রহণ হলে অচিরেই দুর্যোগ বা দুর্ভিক্ষ হবে। চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ পৃথিবীতে কোনো মহাপুরুষের জন্ম বা মৃত্যুর বার্তাও বহন করে বলে তারা মনে করত। বিশ্বমানবতার পরম বন্ধু, মহান সংস্কারক, প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেগুলোকে ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মুগিরা ইবনে শুবা রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পুত্র ইবরাহিমের মৃত্যুর দিনটিতেই সূর্যগ্রহণ হলে আমরা বলাবলি করছিলাম যে, নবী পুত্রের মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। এসব কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহ তাআলার অগণিত নিদর্শনের দুটি। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ হয় না।” (সহিহ বুখারি :১০৪৩)
সুতরাং চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ লোকদের মাঝে যে সকল কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে সেগুলো দূর করার জন্য দ্বীনের বিশুদ্ধ জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে হবে এবং এ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষ থেকে উম্মতকে যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে সেগুলো পালনে সচেষ্ট হতে হবে। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।
والله أعلم بالصواب
▬▬▬▬💠🌀💠 ▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
fb/AbdullaahilHadi
লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব।
15/06/2020
#আযান_ইকামতের_সময়_দোয়া_কবুল_হয়
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, "আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু'আ ফিরিয়ে দেয়া
হয়না।”
(আবু দাউদ ৫২১, তিরমিজি ২১২)
আজান -ইকামতের মাঝখানে একাগ্রচিত্তে আপনিও দোয়া করে দেখতে পারেন
.ইনশাআল্লাহ দেখবেন কবুল হয়ে গেছে।
দু'আ কবুলের অন্যতম সময় হলো আযান
এবং ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়টুকু।
অনেক বোনের জিজ্ঞাসা "ইকামাত কী?
আমরা কীভাবে বুঝব কখন ইকামাত হচ্ছে?"
মাসজিদে আযান হওয়ার ১৫/৩০ মিনিট পর জামাতে নামায শুরু হয়।
জামাতে নামায শুরুর পূর্ব মুহূর্তে আযানের বাক্যগুলো দিয়ে মাসজিদে আবার আযান
দেয়া হয়, যাতে সবাই জামাতে এসে শামিল হয়।
এটাকেই ইকামাত বলে।
এটি আযানের মত এত দীর্ঘ ও উচ্চ আওয়াজে (মাইকে) বলা হয় না, বরং একটু দ্রুত বলা
হয়।
ইকামাত শেষ হওয়া মাত্রই জামাতের সাথে নামায শুরু হয়ে যায়।
আযানের কতক্ষণ পর ইকামাত শুরু হয়?
১। সাধারণত ফজরের আযানের ৩০ মিনিট পর ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়ে
যায়।
যেমনঃ বর্তমানে ভোর ৪:০০-এ ফজরের আযান হয় ও ৪.৪০-টায় ইকামাতের মাধ্যমে
জামাত শুরু হয়ে যায়।
২। দেশের অধিকাংশ মাসজিদে ১টায় আযান হয় এবং ১.৩০ ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়।
অনেক স্থানে আবার সোয়া একটায়ও জামাত শুরু হয়।
৩। আসরের আযানের ১৫ মিনিট পর ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়।
৪। মাগরিবের আযানের পরপরই জামাত শুরু হয়।
সাধারণত ২ থেকে ৫ মিনিট পরই জামাত শুরু হয়।
৫। ইশার আযানের ১৫/৩০ মিনিট পর জামাত শুরু হয়।
সাধারণভাবে আযান থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দু'আ করতে পারেন নিঃসংকোচে।
কারণ ১৫ মিনিট আগে কোথাও ইকামাত শুরু হয় না (মাগরিব বাদে)।
এ সময় বেশি বেশি দু'আ করুন।
দুআর শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করবেন। সেটা হতে পারে সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াত
বা আয়াতুল কুরসির প্রথম লাইনটি (কিংবা পুরোটা)।
তাসবী গুলো পড়তে পারেন। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ইস্তেগফার পড়েতে পারেন( আস্তাগফিরুলা)
এরপর দুরুদে ইবরাহীম (যেটা নামাযের শেষ বৈঠকে পড়ি) পড়বেন।
এরপর নিজের মত করে দু'আ করবেন।
দু'আর মাঝে একটু পর-পর "ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ূমু"( ইসমে আযম)পড়তে থাকবেন।
দু'আ ইউনুসও পড়বেন (লা ইলাহা ইল্লা আনতা... যোয়ালিমিন)।
দু'আ শেষ করবেন আগের মতই-- আল্লাহর প্রশংসা, অতপর দুরূদ এরপর "আমীন" বা "ইয়া
যাল জালালি ওয়াল ইকরাম" বলে দু'আ শেষ করবেন।
অথবা আল্লাহর কোন গুণবাচক নাম দিয়ে ।
বি দ্রঃ উযু করে দুয়া করবেন। এটাই উত্তম। অন্তরে দৃঢ বিশ্বাস রাখবেন যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আপনার দুয়া কবুল করবেন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন তো আমাদেরই জন্য এই পদ্ধতি গুলো দান করছেন।
বেশি বেশি দু'আ করুন। আর নিজের নেক ইচ্ছা গুলো পূরণ করুন।
জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।
কালেক্টেড
যারা এখন এই ব্যাপারটা বুঝতে পারেন নি তাদের জন্য আরেকটি পোস্ট করা হয়ছে
আশা করি বিস্তারিত বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ
..কালেক্টেড
09/05/2020
হযরত ইব্রাহীম (আ:) কাবা-নির্মানের পর মক্কানগরীর জন্য দোয়া করেছিলেন, আর আল্লাহপাক ঐ নগরীকে সবচেয়ে মর্যাদা আর শান্তির স্থান বানিয়ে দিয়েছেন।
وَإِذْ قَالَ إِبْرَٰهِيمُ رَبِّ ٱجْعَلْ هَٰذَا ٱلْبَلَدَ ءَامِنًا وَٱجْنُبْنِى وَبَنِىَّ أَن نَّعْبُدَ ٱلْأَصْنَامَ
(যখন ইব্রাহীম বললেনঃ হে পালনকর্তা, এ শহরকে শান্তিময় করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তান সন্ততিকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখুন।) [আল কুরআন: সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ৩৫]
প্রিয় বাংলাদেশ আজ অশান্তি আর সংঘাতের মুখোমুখি। আল্লাহপাক আমাদের দেশকে শান্তির স্থান করে দিন, মানুষের মন থেকে অন্যায় ইচ্ছাগুলো দুর করে ভালোবাসা, ন্যায় আর সততায় পুর্ন করে দিন।
"সংগৃহীত"
মোহররম- কাজী নজরুল ইসলাম
নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া।
“আম্মা! লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া।”
কাঁদে কোন্ ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে,
সে কাঁদনে আঁসু আনে সীমারেরও ছোরাতে!
রুদ্র মাতম্ ওঠে দুনিয়া-দামেশকে-
“জয়নালে পরালো এ খুনিয়ারা বেশ কে?”
‘হায় হায় হোসেনা, ওঠে রোল ঝঞ্ঝায়,
তলওয়ার কেঁপে ওঠে এজিদেরো পঞ্জায়!
উন্মাদ দুলদুল ছুটে ফেরে মদিনায়,
আলি-জাদা হোসেনের দেখা হেথা যদি পায়!
মা ফাতেমা আসমানে কাঁদে খুলি’ কেশপাশ,
বেটাদের লাশ নিয়ে বধূদের শ্বেত বাস!
রণে যায় কাসিম ঐ দু’ঘড়ির নওশা,
মেহেদীর রঙটুকু মুছে গেল সহসা!
‘হায় হায়’ কাঁদে বায় পূরবী ও দখিনা-
কঙ্কণ পঁইচি খুলে ফেল সকীনা!
কাঁদে কে রে কোলে ক’রে কাসিমের কাটা-শির?
খান্ খান্ খুন হ’য়ে ক্ষরে বুক-ফাটা নীর!
কেঁদে গেছে থামি’ হেথা মৃত্যুও রুদ্র,
বিশ্বের ব্যথা যেন বালিকা এ ক্ষুদ্র!
গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদে কচি মেয়ে ফাতিমা,
“আম্মা গো পানি দাও ফেটে গেল ছাতি মা!”
নিয়ে তৃষা শাহারার দুনিয়ার হাহাকার,
কারবালা-প্রান্তরে কাঁদে বাছা আহা কার!
দুই হাত কাটা তবু শের-নর আব্বাস,
পানি আনে মুখে, হাঁকে দুষমনও সাব্বাস’!
দ্রিম্ দ্রিম্ বাজে ঘন দুন্দুভি দামামা,
হাঁকে বীর ‘শির দেগা, নেহি দেগা আমামা।’
কলিজা কাবাব-সম ভুনে মরু-রোদ্দুর,
খাঁ খাঁ করে কারবালা, নাই পানি খর্জ্জুর,
মা’র স্তনে দুধ নাই, বাচ্চারা তড়পায়
জিব চুষে’ কচি জান থাকে কিরে ধড়টায়?
দাউ দাউ জ্বলে শিরে কারবালা ভাস্কর,
কাঁদে বানু-“পানি দাও, মরে জাদু আসগর!”
পেলো না তো পানি শিশু পিয়ে গেল কাঁচা খুন,
ডাকে মাতা,-পানি দেবো ফিরে আয় বাছা শুন!
পুত্রহীনার আর বিধবার কাঁদনে
ছিঁড়ে আনে মর্ম্মের বত্রিশ বাঁধনে!
তাম্বুতে শয্যায় কাঁদে একা জয়নাল,
“দাদা! তেরি ঘর্ কিয়া বরবাদ্ পয়মাল্!
হাইদরী-হাঁক হাঁকি দুলদুল-আসওয়ার
শমশের চমকায় দুষমনে ত্রাসবার।
খ’সে পড়ে হাত হ’তে শত্রুর তরবার,
ভাসে চোখে কিয়ামতে আল্লার দরবার।
নিঃশেষ দুষমন; ও কে রণ-শ্রান্ত
ফোরাতের নীরে নেমে মুছে আঁখি-প্রান্ত?
কোথা বাবা আসগর? শোকে বুক ঝাঁঝরা
পানি দেখে হোসেনের ফেটে যায় পাঁজরা!
ধুঁকে ম’লো আহা তবু পানি এক কাৎরা
দেয় নি রে বাছাদের মুখে কমজাতরা!
অঞ্জলি হ’তে পানি প’ড়ে গেল ঝর্ ঝর্
লুটে ভূমে মহাবাহু খঞ্জর-জর্জ্জর!
হলকুমে হানে তেগ ও কে ব’সে ছাতিতে?
আফতাব ছেয়ে নিল আঁধারিয়া রাতিতে!
আসমান ভ’রে গেল গোধূলিতে দুপুরে,
লাল নীল খুন ঝরে কুফরের উপরে!
বেটাদের লোহু-রাঙা পিরহাণ হতে, আহ-
‘আরশে’র পায়া ধ’
04/07/2017
"হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।" - [সূরা আল-ইমরান - ০৮]
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Kushtia
7031
