Islami Chhatra Andolan Bangladesh is the real Islamic political Student Organization in Bangladesh. Estd.
It's Founded by Maulana Fazlul Karim (Ex-Shayekh of Charmonai). in 23 August 1991. It's a student branch of Islami Andolan Bangladesh. We want to establish Islamic Rules and it's a Farz work for all Muslims.
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পরিচিতি
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
প্রারম্ভিকা
‘সত্যের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধ’ এর মধ্যেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব নিহীত। এ কাজ সাধ্যানুযায়ী সর্বাত্মকভাব
ে আঞ্জাম দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। বিশেষ করে ছাত্রসমাজ এ কাজের যোগ্য সৈনিক কারণ ছাত্রসমাজই দেশ ও জাতির সক্রিয় ও কার্যকর জনশক্তি। এরা দেশের অমূল্য সম্পদ, ভবিষ্যত কর্ণধার। ছাত্রদের ক্লান্তিহীন শ্রম, অপ্রতিরোধ্য শক্তি এবং তীক্ষ্ম মেধার সঠিক চর্চা ও প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে দেশের গতি-প্রকৃতি, সুখ-সমৃদ্ধি তথা জাতির আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন। ছাত্রদের শ্রম দেশগড়ায় ও মানব কল্যাণে প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের শক্তি অন্যায়-অবিচার-জুলুম তথা বাতিলের বিরুদ্ধে আর তাদের মেধা সত্য অন্বেষণ, দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার মাধ্যমেই সার্থক হয়ে ওঠে। ছাত্রজীবনই সৎ ও আদর্শ মানুষ হওয়ার প্রথম সোপান।
ছাত্রদের মন ও মানস সর্বদাই অনুসন্ধিৎসু। একজন সচেতন ছাত্রের সম্মুখে থাকে দু’টি প্রশ্ন। একটি জীবন-জিজ্ঞাসা; সে কোথা থেকে এসেছে, এ দুনিয়ার জীবনে তার করণীয় কী এবং পরিণামে তার গন্তব্য কোথায়? দ্বিতীয়টি, যুগ-জিজ্ঞাসা; দেশব্যাপী অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন, হাহাকার, অশান্তি কেন? দেশের স্থায়ী শান্তি এবং মানুষের সার্বিক মুক্তির পথই বা কী? নৈতিক আদর্শ বিবর্জিত বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এসবের উত্তর দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাছাড়া বিদ্যমান জাহিলী সমাজব্যবস্থার ধারক ও বাহকেরা ছাত্রদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে অক্ষম। আমাদের অনেকেই নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে ছাত্রসমাজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারুণ্যের শ্রম, শক্তি ও মেধা ভুল পথে পরিচালনার মাধ্যমে এই বিভ্রান্ত নেতৃত্ব নিষ্কলুষ ছাত্রসমাজের মসৃণ ও নির্মল ঐতিহ্যকে কলঙ্কময় করে তুলছে।
বারবার আমাদের সরকার পরিবর্তনে ছাত্রসমাজের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকলেও শিক্ষাঙ্গণে সুষ্ঠু পরিবেশ কখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হয়নি তাদের দাবি-দাওয়ার বাস্তব প্রতিফলন। যার কারণে ছাত্রদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা। তারা আস্থা হারিয়ে ফেলছে নৈতিকতা বিবর্জিত এই ধর্মহীন শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি। তাদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে যুদ্ধংদেহী মনোভাব। ছাত্রদের এহেন ভূমিকার কারণে সমগ্র জাতি আজ দিশেহারা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে আতংকিত। এরূপ নাজুক ও সংকটময় মুহূর্তের কথা চিন্তা করে দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, পীর মাশায়েখ এবং দীনদার বুদ্ধিজীবীগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কল্যাণচিন্তায় এবং তাদের শ্রম, শক্তি ও মেধার সঠিক চর্চা করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি, আদর্শ মানুষ হওয়ার শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন এবং প্রচলিত জাহিলী সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে পরিপূরক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালনের নিমিত্তে দেশের সর্বস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিশীল, প্রতিভাবান ও প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্রদের নিয়ে ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট, শুক্রবার ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের তরুণ ছাত্রসমাজকে চারিত্রিক ও নৈতিক অধঃপতন থেকে তুলে এনে সিরাতুল মুস্তাকীমে পরিচালিত করে মুসলিম মিল্লাতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের অভিমুখে পরিচালিত করার লক্ষ্যেই আমাদের এ অভিযাত্রা।
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য
লক্ষ্য : জাহিলিয়াতের সকল প্রকার আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী খোলাফায়ে রাশেদার নমুনায়-সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথে মানবজীবন গঠন ও সমাজের সর্বস্তরে পূণ দ্বীন বাস্তবায়ন।
উদ্দেশ্য
আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন
এ লক্ষ্য হাসিলের জন্য ইশা ছাত্র আন্দোলন প্রণয়ন করেছে সুচিন্তিত পাঁচ দফা কর্মসূচি।
কর্মসূচি
১. ইলম ও তারবিয়াত (জ্ঞানর্জন ও প্রশিক্ষণ)
২. আমল ও তাযকিয়াহ (আমল ও আত্মশুদ্ধি)
৩. তাবলীগ (দাওয়াত)
৪. তানজীম (সংগঠন)
৫. ইনকিলাব (বিপ্লব)
১. ইলম ও তারবিয়াত:
১.১ তরুণ ছাত্রসমাজকে ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জনে উদ্বুদ্ধ করা।
১.২ ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন এবং প্রচলিত ধর্মহীন শিক্ষা ও মানবরচিত সকল মতাদর্শের অসারতা অনুধাবনে উৎসাহিত করা।
১.৩ জাহিলিয়াতের সকল প্রকার চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় ইসলামী সমাজবিপ্লবের যোগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো।
২. আমল ও তাযকিয়াহ
২.১ ব্যক্তিজীবনকে ইসলামী শরীয়তের আলোকে সুন্নত তরীকায় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো।
২.২ সর্বাবস্থায় সকল কাজে আল্লাহ তায়ালার জিকির জারী রাখা।
২.৩ আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিদের সোহবত লাভের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো।
২.৪ জাহেরী ও বাতেনী নেক আমল অর্জন এবং বদ আমল বর্জনের চেষ্টা করা।
৩. তাবলীগ
৩.১ সকল প্রকার তাগুতী মত ও পথ অস্বীকার করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার সার্বভোমত্ব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক হবার আহ্বান করা।
৪. তানজীম
৪.১ যে সকল তরুণ শিক্ষার্থী আন্দোলনের উদ্দেশ্যের সাথে একমত হয়ে জীবনের সর্বস্তরে কুরআন সুন্নাহর আইন তথা ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক হতে আগ্রহী তাদেরকে সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করা।
৪.২ শিক্ষাঙ্গনসহ সর্বত্র ছাত্রসমাজের মাঝে সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে আন্দোলনের সম্প্রসারণ ঘটানো।
৫. ইনকিলাব
৫.১ শিক্ষাঙ্গনের সমস্যাবলী চিহ্নিত করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তা দূরীকরণের জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানো।
৫.২ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্দেশিথ ও অনুমোদিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।
৫.৩ সকল প্রকার ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের অবসান ঘটিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থায়ী শান্তি এবং মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে ইসলামী বিপ্লব সাধনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।
সাংগঠনিক কাঠামো
কেন্দ্রীয় সংগঠন, জেলা শাখা, মহানগর শাখা, থানা শাখা, পৌর শাখা, ইউনিয়ন শাখা, ওয়ার্ড শাখা ও প্রতিষ্ঠান শাখাসমূহের সমন্বয়ে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো গঠিত হবে।
যোগদানের নিয়ম
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কাজের মানোন্নয়নের জন্য আমলের ৪টি স্তর থাকবে:
১. সদস্য ২. কর্মী ৩. মুবাল্লিগ প্রত্যাশী ৪. মুবাল্লিগ
সদস্য : যদি কোন শিক্ষার্থী ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের উদ্দেশ্যের সাথে একমত হয়ে কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির উপর আস্থাবান হন এবং সঠিক ইসলামী জীবন-যাপন ও আন্দোলনের সামগ্রিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে তিনি সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন।
দৈনন্দিন কর্মসূচি
১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় ও তাহাজ্জুদের অভ্যাস গড়ে তোলা। ফরয সালাতের পর অন্তত কিছু সময় জিকির, অজিফা, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি নফল ইবাদতে মশগুল থাকা। সকল অবস্থায়, সর্বদা জিকরুল্লাহ ও দরুদ শরীফ জারী রাখা।
২. নিয়মিত কুরআন হাদীস, মাসআলা-মাসায়েল, সাংগঠনিক বই-পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা পড়া।
৩. দৈনিক অন্তত এক ব্যক্তিকে সংগঠনের দাওয়াত দেওয়া।
৪. আল্লাহর পথে জানমাল কুরবানী করার জযবা সৃষ্টি করা।
৫. দৈনন্দিন পারস্পরিক লেনদেন স্বচ্ছতা এবং আচার-আচরণ মার্জিত হওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখা।
৬. প্রত্যহ কারো কোন উপকার করা।
৭. নিদ্রার পূর্বে মুহাসাবায়ে নফ্স (আত্মপর্যালোচনা) করা।
৮. দ্বীন প্রতিষ্ঠার নিয়তে প্রতিদিন দু’রাকাত সালাতুল হাজত আদায় করা।
বৈশিষ্ট্য
*ইসলামী আদর্শ বিবর্জিত জাহেলী সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের নবী রাসূলগণের (সা.) উত্তরসূরী উলামায়ে কেরামের অনুপ্রেরণা, দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি ছাত্র কাফেলা।
*আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে ইসলামী সমাজ গঠনের সার্বক্ষণিক জিহাদে একটি পরিপূরক শক্তি।
*রূহানিয়াত ও জিহাদের একটি সমন্বিত প্রয়াস।
*প্রচলিত ছাত্র রাজনীতি নয়; বরং একটি ঐক্যপ্রয়াসী আন্দোলনকামী শক্তি।
*প্রচলিত ছাত্র রাজনীতি নয়; বরং আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের ঈমানী দায়িত্ব পালনের একটি প্রক্রিয়া।
প্রিয় ভাই!
আসুন, আল্লাহর দেয়া জীবন-যৌবন, শ্রম, শক্তি ও মেধা তাঁরই নির্দেশিত পথে পরিচালিত করে অন্যায়-অসত্য ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গড়ে তুলি। দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে সর্বপ্রকার ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের অবসান ঘটিয়ে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলি এবং জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ-এ শরীক হয়ে স্বীয় জীবনকে আল্লাহর রংয়ে রঙ্গীন করি। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন।
বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন
*এসো মুক্তির মোহনায়
*এসো মুক্তির রাজপথে
*কালিমায়ে তায়্যিবার দাবি
*আমাদের লক্ষ্য ও পথ চলার নীতি
*পাঁচ দফা কর্মসূচির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ
*নীতির পরিবর্তন চাই
*নীতিমালা এবং
*কর্মকৌশল-সহ নিয়মিত প্রকাশনা
বেফাক পরীক্ষায় তালীমুদ্দীন মাদরাসা খাজুরা, যশোর এর ঈর্ষণীয় সাফল্যের স্বর্ণালি অধ্যায়
কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ -এর ৪৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাথে সাথেই যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানার অন্তর্গত তালীমুদ্দীন মাদরাসা খাজুরার আকাশে আনন্দের দীপ্তিময় আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে পড়েছে। এ যেন এক পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও তাওয়াক্কুলের অপূর্ব সমন্বয়ে গাঁথা সাফল্যের উজ্জ্বল ইতিহাস।
আজ বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত ফলাফলে প্রতীয়মান হয়েছে—এই প্রতিষ্ঠান কেবল অংশগ্রহণেই নয়, কৃতিত্বের মুকুটও গৌরবের সাথে ধারণ করেছে।
ফলাফলের উজ্জ্বল চিত্রপট:
এবার মোট ৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে গৌরবোজ্জ্বল ফলাফল অর্জন করেছে। এর মধ্যে—
🏆 ১৪ জন মেধা তালিকায় স্থান লাভ করেছে, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য এক অনন্য সম্মান
⭐ ২৩ জন মুমতাজ (স্টার মার্ক) অর্জন করে উৎকর্ষতার স্বাক্ষর রেখেছে
🥇 ১১ জন জায়্যিদ জিদ্দান (প্রথম বিভাগ)
🥈 ৭ জন জায়্যিদ (দ্বিতীয় বিভাগ)
🥉 ১ জন মকবুল (তৃতীয় বিভাগ)
উল্লেখযোগ্য যে, বাঘারপাড়া থানার পরিসরে এটিই সর্বোচ্চ ফলাফল—যা তালীমুদ্দীন মাদরাসার ধারাবাহিক সাফল্যের উজ্জ্বল প্রমাণ। প্রতিষ্ঠালগ্ন (২০১৯) থেকে আজ পর্যন্ত এই শ্রেষ্ঠত্ব অটুট রাখা নিঃসন্দেহে এক বিরল অর্জন।
🎙️ মাদরাসার পরিচালক মুফতি রেজাউল করীম যশোরী বলেন,
“উস্তাদগণের আন্তরিক তালীম-তারবিয়াত, স্টাফদের নিরলস পরিশ্রম এবং ছাত্রদের একাগ্র সাধনার ফলেই এই উজ্জ্বল সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
🎙️ ব্যবস্থাপক মুফতি আব্দুল জব্বার মাহমূদী বলেন,
“মুহতামিম সাহেবের দূরদর্শী চিন্তা, সুশৃঙ্খল পরিচালনা এবং উস্তাদ, অভিভাবক ও প্রিয় তালাবাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা—ইনশাআল্লাহ তালীমুদ্দীন মাদরাসাকে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দেবে।”
21/02/2026
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সম্মানিত আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীরসাহেব চরমোনাইয়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
15/02/2026
সৈয়দ ফয়জুল করিম (চরমোনাই পীর) জোড়া আসনে পরাজয়ের পর স্পষ্ট ভাষায় বললেন,
জনগণ আমাকে দিয়ে খেদমত করাতে চায়নি,আলহামদুলিল্লাহ, আমার থেকে দায়িত্ব কমে গেল।
কথাগুলো শুনে বুঝলাম, দায়িত্বকে তিনি ক্ষমতা হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন আমানত হিসেবে।
পদ হারালে অনেকে কষ্ট পান, কিন্তু তিনি শোক না করে শোকর করেছেন।
এই সরল স্বীকারোক্তি, এই বিনয় মন ছুঁয়ে যায়।
ভালোবাসা আসলে এমন মানুষদের জন্যই বাড়ে,
যারা দায়িত্বকে সম্মান করেন, আর সিদ্ধান্তকে তাকদীর মনে করে মেনে নেন।
14/02/2026
৫৩ টি আসনে জামাত হেরেছে অল্প ভোটের ব্যবধানে।
৩৩টি আসনে ইসলামী আন্দোলন ভোট পেয়েছে জামাত থেকে বেশি।
বর্তমান জামাতের অর্জিত আসন। -৭৭টি
ইসলামী আন্দোলন অর্জিত আসন -১টি
৫৩+৩৩+৭৭+১= ১৬৪আসন। (হালকা কম বেশ হতো)
মধ্যখানে আমেরিকার ফাঁদে পড়ে অতি রাজনীতির কারণে সরকার গঠনের সম্ভাবনা অকালে মৃত্যু বরণ করেছে।
শুধু তাই নয়, এমন এক অবিশ্বাসের বীজ বপণ করেছে, আগামীতেও এই জোট হওয়ার সম্ভাবনা আর নেই।
গত দেড় বছর বিএনপি দেশে যে অবস্থা করেছে, এতগুলো আসনে তারা এভাবে বিজয়ী হবার কথা নয়, ইসলামী ভোট ভাগ হওয়ার সুবিধাটা বিএনপি নিয়েছে।
03/02/2026
শরয়ী আইনের পক্ষে , জিতলেও হাত পাখা । হারলেও হাত পাখা ইনশাআল্লাহ।
মাগুরা -২, কামাল ভাই
03/02/2026
21/01/2026
হেফাজতে ইসলামের মুহতারাম আমীরকে আন্তরিকভাবে মোবারকবাদ।
এটাই জামায়তের চির চরিত্র
মুখে এক কাজে ভিন্নতা।
জাতীয় ভাবে মিথ্যা বলতে তাদের বিবেকে বাধেনা।
17/01/2026
জামায়াত নেতার ইসলামী আন্দোলনে যোগদান।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর রুকন,বরিশাল সদর থানার ইসলামী ছাত্র শিবির এর সাবেক সভাপতি, এয়ারপোর্ট থানার জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর সভাপতি, এবং ৩০ ওয়ার্ড বিসিসি (বরিশাল সিটি কর্পোরেশন) এর সাবেক কমিশনার জনাব মোঃ নিয়াজ মাহমুদ বেগ গতকাল বরিশালে সদস্য ফরম পূরণ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম দাঃবাঃ (শায়েখে চরমোনাই) এর হাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলদেশ এ যোগদান করেন।
17/01/2026
বিশ্বস্ত সঙ্গীকে ছুড়ে ফেলে ট্র্যাপে আত্মসমর্পণ
জামায়াতের এই ভুলের দায় ইতিহাস এড়াবে না!
শিবির নেতা আলিফ মাহমুদ
কলাম | নোয়াখালী প্রতিদিন
যেদিন জানাপা জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়, সেদিনই স্পষ্ট করে বলেছিলাম—জামায়াত সচেতনভাবে একটি রাজনৈতিক ট্র্যাপে পা দিচ্ছে। আজ যা ঘটছে, তা সেই আশঙ্কাকেই নির্মমভাবে সত্য প্রমাণ করছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে ৮ দলীয় শরিকদের অন্ধকারে রেখে। এটি ভুল নয়—এটি বিশ্বাসঘাতকতা।
তখনই লিখেছিলাম, জামায়াতের উচিত ছিল শরিকদের কাছে নিঃশর্তভাবে দুঃখ প্রকাশ করা। কিন্তু জামায়াত ক্ষমা চাওয়ার বদলে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে, আর আজ তারই মূল্য দিতে হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘এক বাক্স’ নীতির ভিত্তিতে। এটি ছিল কোনো সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল নয়; বরং ইসলামকে কেন্দ্র করে পীর সাহেব চরমোনাই এর একটি নৈতিক ঐক্যের প্রয়াস। দীর্ঘদিন ধরে এই বোঝাপড়া টিকে ছিল পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ওপর। অথচ কোনো আলোচনা, কোনো সমঝোতা, কোনো দরকষাকষি ছাড়াই হঠাৎ করে জানাপাকে যুক্ত করে মুখস্থভাবে ৩০টি আসনের ঘোষণা—এটি রাজনৈতিক ভুলের চেয়েও বড় কিছু জামাতের। এটি শরিকদের মুখে থুতু ছিটানোর শামিল।
এই সিদ্ধান্ত সবচেয়ে গভীর আঘাত দিয়েছে পীর সাহেব চরমোনাইকে। কারণ এই ঐক্যে তাদের আন্তরিকতা ছিল নিঃস্বার্থ ও প্রশ্নাতীত। পীর সাহেব ও আকন সাহেব ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে এই সমঝোতাকে ধারণ করেছিলেন ইসলামকে সামনে রেখে। কিন্তু জামায়াত সেই ইসলামি আস্থাকেই পদদলিত করেছে।
এর বিপরীতে জানাপার ভূমিকা ছিল নগ্ন স্বার্থবাদী। বাস্তবতা হলো—যেই চরমোনাই ‘না’ বলেছে, সেই জানাপাই আজ ৩০ থেকে ৪৫ আসনের জন্য হুমকি ও চাপ তৈরি করছে। গত রাত থেকেই তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতবিরোধী গালাগাল, ভোট বর্জনের ডাক এবং পরিকল্পিত অপপ্রচারে নেমেছে। এমনকি সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক নারী নেত্রী জামায়াতকে অপদস্থ করার অভিযোগ তুলছেন—যেন জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তাদের ব্যক্তিগত চাকর।
এই হলো জামায়াতের নতুন মিত্রদের চরিত্র।
চরমোনাইকে নিয়ে অনেক সমালোচনা করা যায়। তারা কখনো কখনো আবেগপ্রবণ, তারা সহজ সরল তাদের ইগোতে আঘাত পেলে প্রতিক্রিয়াশীল। এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই ঐক্যে কে সবচেয়ে বেশি সততা দেখিয়েছে? উত্তর একটাই:পীর সাহেব চরমোনাই। তারা এসেছিল ইসলামকে কেন্দ্র করে, ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার জন্য নয়।
আর জামায়াত কী করলো?
বন্ধুকে ত্যাগ করে শত্রুকে বুকে টেনে নিল।
ঘরের লক্ষ্মীকে পায়ে ঠেলে দিয়ে এমন শক্তিকে আলিঙ্গন করলো, যারা ইসলামকে বিশ্বাস করে না, কিন্তু প্রয়োজনে ইসলামকে ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না। যারা ইসলামকে বাদ দিয়ে ইসলামফোবিক রাজনীতির সাথে আপস করে, জামায়াত আজ তাদের হাতেই নিজেদের ভবিষ্যৎ তুলে দিয়েছে।
এটা কেবল একটি রাজনৈতিক ভুল নয়।
এটি একটি নৈতিক বিপর্যয়।
এটি একটি ঐতিহাসিক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
এর খেসারত জামায়াতকে দিতেই হবে—ভোটে, বিশ্বাসে এবং ইতিহাসের বিচারে।