কোনো মানুষকেই তার প্রকৃত যোগ্যতার চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করা উচিত নয়। কারণ, মানুষ যখন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা, জবাবদিহিতা, লোভহীনতা, বিনয় ও কৃতজ্ঞতার গুণে সমৃদ্ধ না হয় অথচ তাকে অতিরিক্ত ক্ষমতা, মর্যাদা বা প্রভাব দেওয়া হয়; তখন সেই ক্ষমতাই তার চরিত্রকে বিষাক্ত করে তোলে।
এমন মানুষ ধীরে ধীরে নিজেকে ভুলে যায়, কি ছিলো তার যোগ্যতা আর কেমনে পেলো এই মর্যাদা!! সে অহংকারে অন্ধ হয়ে পড়ে এবং মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে নিজের স্বার্থ, প্রতিহিংসা ও আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত হয়ে যায়। তখন তার আচরণ হয়ে ওঠে বিষধর সাপের মতো, যার বিষ নীরবে সংস্থা, পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষমতা নিজে কখনো খারাপ নয়; কিন্তু অযোগ্য, অসৎ ও অকৃতজ্ঞ মানুষের হাতে ক্ষমতা পড়লে তা আশীর্বাদের বদলে অভিশাপে পরিণত হয়।
তাই মানুষকে মূল্যায়ন করতে হলে শুধু বাহ্যিক চাকচিক্য, পদ-পদবি বা কথার জৌলুস নয়; বরং তার চরিত্র, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, বিনয়, অতীত কাজের রেকর্ড, কৃতজ্ঞতাবোধ ও মানবিকতাকে বিচার করা জরুরি। কারণ, যোগ্যতার চেয়ে অতিরিক্ত সম্মান অনেক সময় মানুষকে মানুষ না রেখে অহংকারী ও ক্ষতিকর সত্তায় রূপান্তরিত করে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই অকৃতজ্ঞ মানুষকে সনাক্ত করতে এবং তাদের সংস্পর্শ ত্যাগ করার তাওফিক দিন । আমিন ।
Brig Gen Waliur Rahman
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Brig Gen Waliur Rahman, Eastern Housing, Mirpur.
My best efforts are given here
“কামলা”— এটা কোন অবহেলার শব্দ নয়, মানবতার মহাকাব্য
“কামলা”—শব্দটি আমরা কত সহজে অবজ্ঞার ছুরিতে কেটে ফেলি! কিন্তু একটু থেমে যদি হৃদয়ের গভীরে তাকাই, তবে বুঝবো— এই শব্দের ভেতরেই লুকিয়ে আছে মানব সভ্যতার মেরুদণ্ড, অস্তিত্বের মূল সুর, জীবনের অবিনাশী স্পন্দন। কামলা মানে কেবল ঘাম ঝরানো কোনো দিনমজুর নয়— কামলা মানে সে, যে কাজ করে; সে, যে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়; সে, যে নিজের স্বার্থ ছাপিয়ে মানুষের, সমাজের, জাতির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে।
এই দুনিয়ার প্রতিটি সৎ পরিশ্রমী মানুষ হলো একেকজন “কামলা”। তবে পার্থক্য একটাই— কেউ আদর্শের আলোয় আলোকিত কামলা, আর কেউ লোভ- লালসা আর অহংকারের অন্ধকারে পথভ্রষ্ট কামলা। কৃষক যখন অনুর্বর মাটিতে জীবনের বীজ বপন করে তখন সে শুধু খাদ্য উৎপাদক নয়, সে মানবতার জীবন এর পেটের ক্ষুধা নিবারণের পণ্য উৎপাদনের বড় কামলা। শিক্ষক যখন অজ্ঞতার অন্ধকার ভেদ করে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালান, তখন তিনি কেবল পেশাজীবী নন, তিনি ভবিষ্যৎ নির্মাণের কামলা। চিকিৎসক যখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে জীবন ফিরিয়ে আনেন রোগীর চিকিৎসা দিয়ে , তখন তিনি শুধু ডাক্তার নন, তিনি স্রষ্টার রহমতের এক নিবেদিত কামলা।
আর রাষ্ট্রের উচ্চ আসনে যারা অধিষ্ঠিত— তারা কি এই পরিচয়ের বাইরে? না, বরং তাদের দায়িত্ব আরও ভারী, আরও জবাবদিহিমূলক করার দায়িত্বশীল বড় কামলা ।
দেশের প্রধানমন্ত্রী— তিনি এই জাতির সবচেয়ে বড় কামলা; কারণ তিনি বহন করেন কোটি মানুষের আশা, নিরাপত্তা, ভাগ্য ও ভবিষ্যতের ভার।
সংসদ সদস্যরা— তারা আইনের কারিগর, ন্যায়ের স্থপতি ; তারা জাতির কাঠামো গড়ার কামলা।
প্রধান বিচারপতি— তিনি ন্যায়বিচারের প্রহরী, সত্যের তলোয়ারধারী; তিনি ন্যায় প্রতিষ্ঠার নির্ভীক কামলা।
সেনাপ্রধান— তিনি মানচিত্রের রক্ষক, স্বাধীনতার প্রাচীর; তিনি সার্বভৌমত্বের অটল কামলা।
এভাবে যদি দেখি— তবে স্পষ্ট হয়ে যায় এক অনিবার্য সত্য, আর তাহলো:
এই পৃথিবীতে “কামলা” ছাড়া কোনো মানুষ নেই।
কারণ কর্মহীন মানুষ নিঃস্ব, দায়িত্বহীন মানুষ শূন্য,
আর ত্যাগহীন মানুষ অর্থহীন।
শেষের আহ্বান— নিজেকে প্রশ্ন করুন : সমস্যা “কামলা” হওয়ায় নয়; সমস্যা হলো, আমরা কেমন কামলা?
আমরা কি সত্য, ন্যায় ও আদর্শের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করছি? নাকি ক্ষমতা, লোভ আর স্বার্থের কাছে আত্মসমর্পণ করছি?
একজন আদর্শবান কামলা ইতিহাসের পৃষ্ঠায় অমর হয়ে থাকে। আর একজন পথভ্রষ্ট কামলা নিজের হাতেই সমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়, মানুষের কাছে রেখে যায় ঘৃনিত কামলার প্রতিচ্ছবি।
তাই আজ গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ হোক- “আমি কামলা” কিন্তু আমি সত্য, ন্যায় আর আদর্শের কামলা!”
“আবেগের ঝড় বনাম বিবেকের আলো”
১। মানুষের ভেতরে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব সব সময় কাজ করে—একদিকে শান্ত, স্থির বিবেক; অন্যদিকে উত্তাল, অস্থির আবেগ। যখন কেউ কোনো অপরাধ বা খারাপ কাজের দিকে এগোতে চায়, তখন তার ভেতরের ন্যায়বোধ, ইনসাফ, তাকে থামাতে চায়। সে ফিসফিস করে বলে—
“এটা ভুল…, এটা অন্যায়…, এর পরিণতি ভালো নয়।”
কিন্তু হায়! অনেক সময় আবেগ সেই কণ্ঠকে দমিয়ে ফেলে, ইনসাফের স্লোগান কে থামিয়ে দেয়। রাগ, লোভ, প্রতিশোধ, অহংকার—এই অনুভূতিগুলো যখন জ্বলে ওঠে, তখন যুক্তির কণ্ঠ দুর্বল ও ক্ষীণ হয়ে যায়। মানুষ তখন নিজের ভুলকেই সঠিক প্রমাণ করার জন্য যুক্তি দাঁড় করায়; যেন সে নিজেকেই বোঝাতে চায়— “আমি যা করছি, সেটাই ঠিক।”
এভাবেই ঘটে অপরাধ।
এভাবেই ঘটে পতন।
এইভাবেই পরাজিত হয় সুবিবেক ।
২। অপরাধের পর দুটি পথ খোলা থাকে: যখন আবেগের ঝড় থামে, আবেগের যুক্তি স্তিমিত হয়, তখন সু-বিবেক এবং ইনসাফের ভাবনা আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। তখন মানুষ তার নিজের ভুল কাজের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে— “আমি কী করলাম?”
এই মুহূর্তেই শুরু হয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়—অনুতাপ। একটি অনুতাপ মানুষকে মনুষত্বের আলোয় ফেরায়। সে ভুল স্বীকার করে, শিক্ষা নেয়, নিজেকে সংশোধন করে। তার চোখে পানি আসে, কিন্তু সেই পানি তার আত্মাকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে।
আরেকটি অনুতাপ মানুষকে অন্ধকারে ডুবায়। সে নিজের ভুল আবারও মিথ্যা যুক্তি দিয়ে ঢাকতে চায়, নিজেকে যুক্তি দিয়ে সান্ত্বনা দেয়, অথবা হতাশায় ডুবে যায়। ফলে সে আরও দূরে সরে যায় সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে।
৩। মূল শিক্ষা: মানুষের শক্তি আবেগে নয়, বরং আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতায়। বিবেক কখনো ভুল পথ দেখায় না, কিন্তু আমরা অনেক সময় তার কথা শুনতে চাই না। যে ব্যক্তি আবেগের আগুনে নিজেকে হারায়, সে ক্ষণিকের তৃপ্তি পায় কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী অনুতাপ অর্জন করে। আর যে ব্যক্তি বিবেকের আলো আঁকড়ে ধরে, সে হয়তো সাময়িক কষ্ট পায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শান্তি লাভ করে।
৪। শেষ কথা: জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের আগে যদি আমরা এক মুহূর্ত থামি, নিজের বিবেক প্রসূত অন্তরের সেই নীরব ইনসাফের কণ্ঠকে শুনি; তাহলেই অনেক ভুল থেকে বাঁচা সম্ভব। কারণ, অপরাধের আগে বিবেক কথা বলে,� অপরাধের পরে বিবেক কাঁদে।
“পহেলা বৈশাখ: শখ, বিনোদন না প্রয়োজন?”
পহেলা বৈশাখ মানে বাংলার আকাশে নতুন সূর্যের প্রথম আলো, মাঠে-ঘাটে, পার্কে , থিয়েটারে, বর্ণাঢ্য মিছিলে মানুষের ঢল, লাল-সাদা রঙে রাঙানো এক আনন্দময় প্রভাত। এ যেন হৃদয়ের উৎসব, সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রকাশ।
কিন্তু গভীরভাবে ভাবলে মনে প্রশ্ন জাগে- এটি কি আমাদের জীবনের প্রয়োজন, নাকি শুধুই শখ ও বিনোদনের রঙিন আয়োজন?
সত্যটা হলো— এ দিনটি আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য নয়, না এটি কোনো ফরজ বা ওয়াজিব দায়িত্ব। বরং এটি মানুষের মনকে আনন্দ দেওয়ার, একসাথে মিলিত হওয়ার, সাংস্কৃতিক অনুভূতি প্রকাশের একটি উপলক্ষ অর্থাৎ বিনোদন ও শখেরই একটি রূপ। কিন্তু এখানে একটি গভীর প্রশ্ন—
এই আনন্দ কি সবার জন্য সমান?
যে মজুর দিন এনে দিন খায়, যে কৃষক রোদে পুড়ে ফসল ফলায়, যে খেটে খাওয়া মানুষ প্রতিদিন জীবনের সংগ্রামে লিপ্ত— তাদের ঘরে কি এই উৎসবের রঙ পৌঁছে?
অনেক ক্ষেত্রেই না। তাদের জন্য এই দিনটি হয়তো আরেকটি সাধারণ দিন, যেখানে পেটের চিন্তা, ঋণের বোঝা, আর জীবিকার তাগিদই প্রধান বাস্তবতা। তখন প্রশ্ন জাগে—
যে আনন্দ সবার মাঝে সমানভাবে ছড়ায় না, তা কি সত্যিকারের আনন্দ?
তবে এখানেই রয়েছে এক সূক্ষ্ম সীমারেখা। আর তা হলো- যখন এই আনন্দ অপচয়, বাড়াবাড়ি, বা অনৈতিকতার দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন তা আর নির্দোষ থাকে না; বরং তা নফসের খেলা হয়ে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয় সংযম ও তাকওয়া থেকে।
আর যখন কেউ এই দিনটিকে পালন করে সাদাসিধে, সংযত, অপচয়হীন ও শালীনভাবে এবং সেই আনন্দের ভাগ দরিদ্র, মজুর, কৃষক—সবাইকে সাথে নিয়ে করে, তখনই এই উৎসব পায় প্রকৃত সৌন্দর্য, পায় মানবিকতার পূর্ণতা। পুনরায় প্রশ্ন থাকে- এটা করার মানুষিক শক্তি এবং বিবেক কি আমরা ধারণ করি?
যাইহোক , পহেলা বৈশাখ প্রয়োজন নয়, এটি একটি অনুভূতির উৎসব; যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখলে তা আনন্দ, আর সবার মাঝে ভাগ করে নিলে তবেই তা হয়ে ওঠে প্রকৃত মানবিক উৎসব।
“যখন ঈমান জ্বলে ওঠে, তখন ভয়ের সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে”
১। সাহাবিদের বীরত্বের সেই সোনালি সকাল : যখন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) এর কণ্ঠে ধ্বনিত হতো—
“উঠে দাঁড়াও! আল্লাহর পথে অগ্রসর হও! দ্বীন কায়েম এর যুদ্ধে শরিক হও”
তখন পৃথিবীর সবচেয়ে সাধারণ মানুষগুলো হয়ে উঠত ইতিহাসের অমর বীর। তাদের পদচারণায় কাঁপত মরুভূমি, তাদের তাকবীরে কেঁপে উঠত আকাশ, তাদের ঘোড়ার খুরের ধুলবালির ঝড় থামিয়ে দিতো সেই সমাজের শক্তিধর অবিশ্বাসীদের অন্তর।
মৃত্যু তাদের কাছে ছিল না শেষ; বরং ছিল শাহাদাতের দরজা, এক অনন্ত জীবনের সূচনা, মৃত্যুর মধ্যে খুঁজে পেত শান্তির আলো।
২। অন্ধকারের ফিসফাস আর ভয়ের বিষাক্ত ছায়া: কিন্তু এই আলোয়ও ছিল কিছু বিষাক্ত কালো ছায়া, লোভী, নীরব, ধূর্ত, হৃদয়হীন , ক্ষমতা প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখার চক্র। তারা বলত—
“যেও না… মৃত্যু তোমাদের গ্রাস করবে…”
“তোমাদের ঘর, তোমাদের সন্তান—সব ই হারাবে…”
এই কথাগুলো ছিল না সত্য এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দরদ-ভালোবাসার আশা , এগুলো ছিল ঈমান ভাঙার সূক্ষ্ম ছুরি, সাহস নিভিয়ে দেওয়ার এক নিঃশব্দ ষড়যন্ত্র। ইতিহাস তাদের চিহ্নিত করেছে—
মুনাফিক, যাদের অন্তর অন্ধকার আর ষড়যন্ত্রের বিষ বাষ্পে নিমজ্জিত ছিলো ।
৩। আজকের পৃথিবীতে মুসলিম সম্রাজ্যে কি সেই একই নাটকের নতুন পর্ব ?
আজও কি নবী মোহামেদ (স:) এর বরকতময় মরুভূমিতে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে ?
বিশ্ব রাজনীতির জটিল দাবার ছকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা তার মত শক্তিধর শক্তির ছায়ায়— আমরা দেখি কিছু মুসলিম নেতৃত্ব, যারা উম্মাহর আত্মাকে জাগ্রত করার বদলে নিজেদের অবস্থান, ক্ষমতা , গদি বাঁচাতে ব্যস্ত।
ক্ষমতার মসনদ…, অর্থের ঝলক…, ভেঙ্গে পড়বে তাদের সামনে সেই ভয়ের অদৃশ্য শিকল… !!
এইসবের মাঝে তারা হারিয়ে ফেলছে— সত্য বলার সাহস, নিবে গেছে প্রতিবাদের আগুন, ঈমানের দৃঢ়তা, মুসলিমদের প্রতি ভ্রাতৃত্বের সেই আগুন ঝরা আবেগ।
৪। দুর্বল ঈমানের ভীরু নীরবতা বহন করছে মুসলমানদের সাহসের দাফন করা কফিন: আজ আর কেউ সরাসরি বলে না— চলো জীবন দিয়ে থামিয়ে দিবো জুলুমকারী শক্তি! কিন্তু এর বদলে তারা বলে—
“সময়টা সংবেদনশীল…”,
“চুপ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ…”
এই কোমল শব্দগুলো আসলে— একটি কফিন, যেখানে সাহসকে দাফন করা হয়, ঈমানি শক্তিকে দুর্বল করা হয়। এ কি সেই একই কণ্ঠ নয়, যা একদিন মুনাফিক-কাফেরদের ঠোঁট থেকে ঝরেছিল?
৫। তবুও ঈমানের আগুন নিভে না: যতই অন্ধকার ঘন হোক, একটি স্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট— একটি আগুন জ্বালাতে। আজও পৃথিবীর আনাচে-কানাচে, নীরব অথচ দৃঢ় কিছু হৃদয়ে— জ্বলছে সেই আগুন। তারা হয়তো একা, কিন্তু তারা ভাঙেনি। কারণ, ঈমান যখন জেগে ওঠে, তখন ভয় পালিয়ে যায়।
৬। শেষ আহ্বান: কবে সকল মুসলিম হৃদয়ের দরজায় ভোগ বিলাসিতার চাদর সরিয়ে ঈমানি জাগরণের বাতাস ভ্রাতৃত্বের কড়া নাড়বে?
আজ মুসলিম উম্মাহর জন্য সামনে দুটি পথ— মসনদ রক্ষা এবং দালালির নামে ভুয়া নিরাপত্তার নামে আত্মসমর্পণের পথ, আরেকটি সত্যের জন্য দাঁড়ানো এবং মুসলিম উম্মাহর আত্মমর্যাদার পথ ।
তুমি কি বেছে নেবে?
ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার আরাম, নাকি অনন্ত মর্যাদার পথ?
“উপকারীকে বাঘে খায়( মানুষের জীবনে বাস্তবতার এক জীবন্ত আর্তনাদ)”
মানুষের হৃদয়ে ক্ষণিকের জীবন ইতিহাসে কিছু বাক্য আছে, যা শুধু শব্দ নয়; রক্ত ও আপসোস এর অশ্রুঝরা নীরব এক অভিজ্ঞতা।
“উপকারীকে বাঘে খায়”— এই প্রবাদটি তেমনই এক নির্মম সত্য, যা যুগে যুগে মানুষের কৃতঘ্নতার মুখোশ খুলে দিয়েছে এবং এখনও খুলছে।
আমরা ভাবি, উপকার করলে ভালোবাসা পাবো, দায়িত্ববোধ, সহানুভূতি আর সহমর্মিতার ছোঁয়ায় ফিরে আসবে কৃতজ্ঞতা আর সুন্দরতম সম্পর্কের পরশ মেলা । কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় তার উল্টো পথে চলে এবং বিপরীত গল্প বলে। যাকে হাত ধরে উঠতে সাহায্য করে , সেই হাতই একদিন দায়িত্ব পালনকারী ভালোবাসার আপন মানুষটিকে ঠেলে ফেলে দেয় অন্ধকারে। যাকে বিশ্বাস করে নিজের মতো করে মনের বাগানে দরদী মনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, সেই বিশ্বাসই ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে বুকের দরদী মনের খাঁচার ভেতরে , ভালোবাসার সেই নির্মল হৃদয়ে প্রবাহিত করে চৈত্রের তপ্ত বাতাস।
জীবনের পথে হাঁটতে গিয়ে আমরা অনেককে মমতার পরশে জড়িয়ে নেই—কখনো স্নেহে, কখনো দায়িত্বে, কখনো নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়। কিন্তু কিছু মানুষ আছে, যারা উপকারকে ভুলে যায় তার অবস্থানের উত্থানের সাথে, যে মমতার হাত ধরে পথ দেখিয়েছে তাকে দুর্বল ভাবে, আন্তরিকতাকে সরলতা মনে করে, আর সুযোগ পেলেই সেই উপকারের প্রতিদান দেয় অবহেলা, প্রতারণা , অপমান আর বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে।
এই কষ্টটা অন্য সব কষ্টের চেয়ে আলাদা। কারণ, এটি শত্রুর আঘাত নয়; এটি হয় কাছের আপনজনের আঘাত। শত্রু যদি আঘাত করে, আমরা প্রস্তুত থাকি, মন সেটা ধারণ করতে পারে। কিন্তু আপনজন যখন আঘাত করে, তখন আত্মা ভেঙে যায় নীরবে, মন সেটা ধারণ করতে পারে না । মনের অজান্তে চোখে নেমে আসে কান্না আর হৃদয়ের নীরব কান্না দগ্ধ করে তিলে তিলে, ভালোবাসার বাগানের ভালোবাসার সবুজ-সতেজ পাতাগুলো শুকিয়ে যায় কিন্তু অভিযোগ করার ভাষা থাকে না।
তবুও, এই প্রবাদ বাক্য শুধু হতাশার গল্প নয়, বরং এটি এক শিক্ষা। এটি আমাদের শেখায়, উপকার করো, দায়িত্ব পালন করো কিন্তু বিনিময়ের প্রত্যাশা রেখো না। তুমি ভালোবেসেছো বলে সেও তোমাকে ভালোবাসবে এবং তুমি দায়িত্ব পালন করেছো বলে সেও দায়িত্ব পালন করবে, তা কখনো আশা করিও না; বরং নিজের আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে দায়িত্ব পালনের পুরাতন ইতিহাস খুঁজে ফিরিওনা। মানুষকে সাহায্য করো, ভালোবাসো কিন্তু তার বিনিময়ে কষ্ট আসতে পারে সেইভাবে মনকে প্রস্তুত করিও। কারণ , পৃথিবীতে কৃতঘ্ন মানুষের ছড়াছড়ির মধ্যে ই সুখ খুঁজে বের করতে হবে আর আক্ষেপকে বনবাসে দিতে হবে। পৃথিবীর স্বল্প সংখ্যক কৃতজ্ঞ মানুষের পরশ তোমার সংস্পর্শে নাও আসতে পারে। আর সবচেয়ে বড় কথা—প্রতিটি ভালো কাজের প্রকৃত প্রতিদান মানুষ না দিলেও, সৃষ্টিকর্তা কখনো ভুলে যান না, এই বিশ্বাসকে মনে দৃঢ়ভাবে ধারণ করিও ।
তাই যদি জীবনে “উপকারীকে বাঘে খায়” এর নির্মম সত্যটি সামনে এসে পড়ে , তবে ভেঙ্গে পড়িওনা; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে মহত্ত্বের সাক্ষ্য হিসাবে হৃদয়ের সাথে মিছিয়ে নিও। কারণ সবাই আঘাত দিতে পারে, কিন্তু সবাই উপকার করতে পারে না, ভালোবাসার বন্ধনেও জড়িয়ে নিতে পারে না।
শেষে একটিই কথা— মানুষের কাছে নয়, স্রষ্টার কাছে রাখিও তোমার হিসাব। তাহলেই কৃতঘ্নতার এই দুনিয়াতেও তোমার হৃদয় থাকবে অটুট, প্রশান্ত এবং আলোকিত শান্তির পথে।
“সূরাহ আশ-শামস হলো আত্মার শুদ্ধতার মহাকাব্য”
সুরাহ আশ-শামস—সূর্যের শপথে শুরু হওয়া আল্লাহর এক বিস্ময়কর আহ্বান। এ যেন শুধু একটি সূরা নয়, বরং আকাশ ও পৃথিবীর বুকে লেখা এক মহান ঘোষণা। মহান আল্লাহ একের পর এক শপথ করেন—
শপথ সূর্যের, তার দীপ্তিময় আলোয়…,
শপথ চাঁদের, যে তার পিছু পিছু চলে…,
শপথ দিনের, যা সবকিছুকে উন্মোচিত করে…,
শপথ রাতের, যা ঢেকে দেয় সবকিছু…,
শপথ আকাশের, তার সুবিন্যস্ত বিস্তারে…,
শপথ পৃথিবীর, তার বিস্তৃত বিছানায়…,
শপথ মানুষের নফসের এবং যিনি তাকে সুষমভাবে গঠন করেছেন… । প্রথম আট আয়াত কেবলই আল্লাহর শপথ ।
এ যেন সমগ্র মহাবিশ্ব একসাথে দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে- কোনো এক মহাসত্যের পক্ষে! নিবেদিত কুরআন পাঠকের হৃদয় তখন কেঁপে ওঠে—
কি সেই কথা, যার জন্য এত মহাজাগতিক শপথ?
তারপর নেমে আসে আল্লাহর সেই চূড়ান্ত ঘোষণা—
“নিশ্চয়ই সফল সে, যে তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং ব্যর্থ সে, যে তাকে কলুষিত করে(সূরা আশ-শামস, আয়াত : ৯-১০)।
এ যেন সব শপথের সারকথা, যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে-মানুষের প্রকৃত সফলতা বাহ্যিক সফলতা বা জয়ে নয়, বরং তা বিদ্যমান অন্তরের পবিত্রতায়।
এতে স্পষ্ট হয়েছে- হে মানুষ, তুমি ভুল করবে এবং এটাই তোমার স্বভাব বা প্রকৃতি। তোমার অতীতের পাতা খুললে হয়তো দেখবে অসংখ্য ভুল, লজ্জায় নত হওয়ার মতো স্মৃতি, নিঃশব্দ অপরাধ আর অনুতাপের দীর্ঘ কালো ছায়া… ; কিন্তু মনে রেখো—
তুমি একা নও। এই পৃথিবীর প্রতিটি হৃদয়ই কামনা, আবেগ, সম্পর্ক এবং স্বীকৃতির তৃষ্ণায় লালায়িত। তাই নিজেকে নিখুঁত ভাবার যেমন প্রয়োজন নেই, আবার নিজেকে সবচেয়ে অধম বা নিকৃষ্ট ভাবারও অবকাশ নেই। কারণ, আল্লাহ তোমার জন্য একটি দরজা খোলা রেখেছেন…। আর তা হলো ফিরে আসার দরজা, তাওবার দরজা, আত্মশুদ্ধির দরজা, অনুতাপের দরজা।
যে ব্যক্তি থেমে যায়, নিজেকে প্রশ্ন করে, নিজের ভুল স্বীকার করে , নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং নিজেকে সংশোধনের পথে এগিয়ে যায়; সে-ই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে আল্লাহর কাছে প্রিয় এবং পৃথিবীর সুন্দর মানুষের একজন মহিমান্বিত মানুষ ।
একদিন সে দাঁড়াবে— একটি পরিশুদ্ধ পবিত্র আত্মা নিয়ে, একটি প্রশান্ত কলুষমুক্ত হৃদয় নিয়ে। আর তখন সূর্য, চাঁদ, দিন, রাত—… এই সব শপথ যেন তার পক্ষেই সাক্ষ্য দেবে। কারণ, আল্লাহ শপথ করেই বলেছেন, সফলতা তারই, যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Website
Address
Mirpur
1216
