বাংলাদেশের প্রাচীন ও প্রধান শহরগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলা অন্যতম ।
বাংলা সাহিত্যের অনেক প্রাচীন পুস্তকেও এই শহরের নামোল্লেখ দেখা যায়। ময়মনসিংহের ঐতিহ্যের প্রধান অঙ্গ হচ্ছে মৈমনসিংহ গীতিকা যা প্রাচীন পুঁথি ও লোকগাঁথার সংকলন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ময়মনসিংহ বলতে এখানে সমগ্র বৃহত্তর ময়মনসিংহ (বর্তমান ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলা) বোঝানো হয়েছে।
নামকরণ :
ময়মনসিংহ জেলার নামকরণ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মাঝে ভিন্ন মত প্রচ
লিত আছে। আর ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ’র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি। সলিম যুগের উৎস হিসেবে নাসিরাবাদ নামটিও আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোথাও উল্লেখ করা হচ্ছে না। ১৭৭৯-তে প্রকাশিত রেনেল এর ম্যাপে মোমেসিং নামটি বর্তমান 'ময়মনসিংহ' অঞ্চলকেই নির্দেশ করে। তার আগে আইন-ই-আকবরীতে ‘মিহমানশাহী’ এবং ‘মনমনিসিংহ’ সরকার বাজুহার পরগনা হিসাবে লিখিত আছে; যা বর্তমান ময়মনসিংহকেই ধরা যায়। এসব বিবেচনায় বলা যায় সম্রাট আকবরের রাজত্ব কালের পূর্ব থেকেই ময়মনসিংহ নামটি প্রচলিত ছিলো। ব্রিটিশ আমলে জেলা পত্তন কালে ময়মনসিংহ অঞ্চলের সমৃদ্ধ জমিদারগণ সরকারের কাছে জেলার নাম 'ময়মনসিংহ' রাখার আবেদন করলে সরকার তা গ্রহণ করে নেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান :
ময়মনসিংহ শহর বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষানগরী হিসাবে পরিচিত । ময়মনসিংহে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় , অবস্থিত। এছাড়া এখানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, আনন্দমোহন কলেজ (বাংলাদেশ), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ইত্যাদি খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ অারোও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা:
ময়মনসিংহ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে রয়েছে ট্রেন যোগাযোগ। রয়েছে আন্তঃনগর এবং মেইল ট্রেন উভয়ই।