করমজল, সুন্দর বন।
Health Assistant
Follow this page
সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্র মেরামতে
বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা হলো:
১. প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সব মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
২. বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।
৩. সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচারবিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুসমন্বয় করা হবে।
৪. পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।
৫. বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তন করা হবে।
৬. আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এমন সব বিষয় ব্যতীত অন্যসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে (দেখা হবে) বিবেচনা করা হবে।
৭. রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এবং বিশিষ্টজনের অভিমতের ভিত্তিতে স্বাধীন, দক্ষ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে বর্তমান ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ সংশোধন করা হবে। ইভিএম নয়, সব কেন্দ্রে পেপার-ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন সংস্কার করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা হবে।
৮. সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠিয়া সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠান আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হবে। শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভেটিং সাপেক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
৯. বাংলাদেশের সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল কমিশন’ গঠন করা হবে। অধঃস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যাস্ত হবে (সংবিধানের ভাষা)। বিচারবিভাগের জন্য সুপ্রিমকোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে বর্ণিত ইতোপূর্বেকার ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। এজন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কেবল জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিচারবোধ ও সুনামের কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করিয়া বিচারক নিয়োগ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৫(গ) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদণ্ড সম্বলিত ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন করা হবে।
১০. দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পরিষেবা, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি “প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন” গঠন করে প্রশাসন সংস্কার ও পুনঃগঠন করা হবে। মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে।
১১. গণমাধ্যমের পুর্নস্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান ও সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি, মিডিয়া সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীএবং বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য মিডিয়া ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠন করা হবে। সৎ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই লক্ষ্যে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে। চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাসহ সকল সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
১২. দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। গত দেড় দশকব্যাপী সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং শ্বেতপত্রে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের বাইরে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে 'দুদকের' স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ করা হবে।
১৩. সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অমানবিক নিষ্ঠুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হবে। সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ প্রদান করা হবে। গত দেড় দশক যাবত সংগঠিত সকল বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ারের নামে নির্বিচারে হত্যা, গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল ব্যক্তিকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।
১৪. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও গবেষক, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, কর্পোরেট নেতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি সমন্বয়ে একটি ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নিরিখে প্রবৃদ্ধির সুফল সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দুর করা হবে।
উপরোক্ত সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, জুডিশিয়াল কমিশন, মিডিয়া কমিশন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশনগুলি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্ব-স্ব প্রতিবেদন দাখিল করিবে যেন সংশ্লিষ্ট সুপারিসসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
১৫. ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করিবেন। দলমত ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল জাতি-গোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার, নাগরিক অধিকার এবং জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হইবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ভাঙচুর এবং তাদের সম্পত্তি দখলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৬. মুদ্রাস্ফীতির আলোকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে। শিশু-শ্রম বন্ধ করে তাদের জীবন বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাটকল, বস্ত্রকল, চিনিকলসহ বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন, মর্যাদা ও কর্মের নিরাপত্তা এবং দেশে বিমানবন্দরসহ সকল ক্ষেত্রে হয়রানিমুক্ত সেবা প্রাপ্তি ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে। চা-বাগান, বস্তি, চরাঞ্চল, হাওড়-বাওর ও মঙ্গাপীড়িত ও উপকূলীয় অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
১৭. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ রোধ করার লক্ষ্যে জনস্বার্থবিরোধী কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনায় চলমান সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। আমদানিনির্ভরতা বাদ দিয়ে নবায়নযোগ্য ও মিশ্র এনার্জি-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উপেক্ষিত গ্যাস ও খনিজ সম্পদ আবিষ্কার ও আহরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিল্পখাতের বিকাশে বিনিয়োগ বান্ধব নীতি গ্রহণ করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ, সুযোগ ও প্রনোদনা দেওয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
১৮. বৈদেশিক সম্পর্কের সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। সমতা, ন্যায্যতা, পারপরিক স্বার্থের স্বীকৃতি ও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান অনুযায়ী দ্বি-পাক্ষিক ও বহু-পাক্ষিক সমস্যার সমাধান করা হবে। বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের মধ্যে কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না এবং কোন সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাবে না। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক ঢাল বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়ে ভিন্নমতের বিরোধী শক্তি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদল দমনের অপতৎপরতা বন্ধ করা হলে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হবে।
১৯. দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে। স্বকীয় মর্যাদা বহাল রেখে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হবে।
২০. ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর স্বাধীন, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান করা হবে। এই সব প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে যেন তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির খবরদারী মুক্ত স্বাধীন স্থানীয় সরকার নিশ্চিত করা হইবে। মৃত্যুজনিত কারণ কিংবা আদালতের আদেশে পদশূন্য না হইলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করা হবে না। আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশবলে সাসপেন্ড/বরখাস্ত/অপসারণ করা হবে না।
২১. ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যার যার অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা হইবে। এই তালিকার ভিত্তিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণার্থে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করিয়া একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
২২. যুবসমাজের ভিশন, চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব-উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হইবে। বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ আদায়ের লক্ষ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়া মানবসম্পন্ন উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি বিবেচনা করা হবে।
২৩. জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। নারী ও শিশুদের জীবনমান বিকাশের নিমিত্তে যুপোপযোগী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হইবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
২৪. বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদা-ভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হইবে। গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হইবে। একই মানের শিক্ষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হইবে। যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যেজাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ক্রমান্বয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্টখাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সকল খাতকে ঢেলে সাজানো হবে। শিক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উৎপাদানখাতে গবেষণা ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ক্রীড়া উন্নয়ন ও জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনৈতিক আকাশ সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা হবে।
২৫. স্বাস্থ্যকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ ও ‘বিনা চিকিৎসায় কোনো মৃত্যু নয়’ এই নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের আদলে সর্বজনীন করা হবে।
২৬. স্বাস্থ্যসেবা প্রবর্তন করে সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচন না হওয়া পর্যন্ত সুবিধা বঞ্চিত হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরো সম্প্রসারিত করা হবে।
২৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হইবে। পর্যায়ক্রমে সকল ইউনিয়নে কৃষিপণ্যের জন্য সরকারি ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হইবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বীমা, পশু বীমা, মৎস্য বীমা এবং পোল্ট্রি বীমা চালু করা হবে। কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হবে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং গবেষণার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্ম-কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এতদসংশ্লিষ্ট রফতানিমুখী কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প খাতকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
২৮. দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সড়ক, রেল ও নৌপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সারা দেশে সমন্বিত বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দেশের সমুদ্র বন্দর ও নৌবন্দর সমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হইবে।
২৯. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট ও ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাধুনিক ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। নদী ও জলাশয় দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বন্যা ও খরা প্রতিরোধে খাল-নদী খনন পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সামুদ্রিক সম্পদের বিজ্ঞান সম্মত জরিপ ও মজুদের ভিত্তিতে তা আহরণ এবং অর্থনৈতিক ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩০. তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সর্বক্ষেত্রে এর প্রয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। মহাকাশ গবেষণা এবং আনবিক শক্তি কমিশনের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সুযোগ সমৃদ্ধ করা হবে।
৩১. এক জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে শহরে ও গ্রামে কৃষি জমি নষ্ট না করে এবং নগরে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ হ্রাস করে পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়নের নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হইবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিত করা হবে।
26/12/2025
শীত
08/11/2025
করোনা আমাদের কিছিুই করতে পারে নি।
20/10/2025
🌸 বাচ্চাকে কোন ডিম দেবেন? কোয়েল, দেশি, ব্রয়লার না হাঁসের? — পূর্ণ ধারণা এক পোস্টে! 🌸
👇👇
🩵 ডিম বাচ্চার জন্য আদর্শ পুষ্টিকর খাবার, কারণ এতে থাকে প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কোলিন ও ভিটামিন–যা বাচ্চার মস্তিষ্ক, হাড় ও শরীরের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। তবে কোন ডিমটি সবচেয়ে ভালো – সেটা অনেক মা’ই জানেন না। চলুন জেনে নেই👇
🥚 ১️⃣ কোয়েলের ডিম:
✅ পুষ্টিতে ঘন, ছোট আকার হলেও এতে আয়রন, ভিটামিন বি১২, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম বেশি থাকে।
✅ হজমে তুলনামূলক সহজ।
⚠️ তবে কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে এলার্জি হতে পারে, তাই প্রথমবার অল্প করে দিন।
🍼 উপযুক্ত বয়স: ৮ মাসের পর থেকে সিদ্ধ করে অল্প পরিমাণে দেওয়া যায়। কুসুম দিয়ে শুরু করুন।
🥚 ২️⃣ দেশি মুরগির ডিম:
✅ সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর বিকল্প।
✅ এতে প্রোটিন, ওমেগা-৩, কোলিন ও ক্যালসিয়াম বেশি থাকে।
✅ কোনো হরমোন বা কেমিক্যাল ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়।
🌿 দেশি ডিম নিয়মিত দিলে বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
🍼 উপযুক্ত বয়স: ৭ মাস পার হলে কুসুম দিয়ে শুরু করুন, পরে সাদা অংশ যোগ করুন।
🥚 ৩️⃣ ব্রয়লার মুরগির ডিম:
✅ দাম কম ও সহজলভ্য। ওজন বেশি তাই পুষ্টিগুন তুলনামূলক বেশি। সব ধরনের প্রায় ১১ টা খনিজ থাকে। একটি ডিমে প্রায় ৪০ গ্রাম ক্যালরি থাকে।
⚠️ তবে ব্রয়লার মুরগিকে অনেক সময় দ্রুত বড় করার জন্য হরমোন বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। রোদে যাওয়ার সুযোগ থাকেনা সেজন্য ভিটামিন-ডি এর পরিমান কম।
🥚 ৪️⃣ হাঁসের ডিম:
✅ প্রোটিন বেশি, কিন্তু কোলেস্টেরলও বেশি।
✅ হজমে ভারি, তাই ছোট বাচ্চার জন্য উপযুক্ত নয়।
⚠️ ২ বছর বয়সের পর অল্প করে দেওয়া যেতে পারে।
💛 👉 সারসংক্ষেপ:
ডিমের ধরন উপকারিতা বয়স অনুযায়ী পরামর্শ
কোয়েলের ডিম আয়রন, ভিটামিনে ভরপুর ৮ মাসের পর
দেশি মুরগির ডিম সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর ৭ মাসের পর
ব্রয়লার ডিম সহজলভ্য,উৎপাদান পদ্ধতি ঠিক থাকলে এই ডিম অনেক উপকারী , কিন্তু হরমোন ঝুঁকি থাকতে পারে।
হাঁসের ডিম ভারি, কোলেস্টেরল বেশি ২ বছর পর
💚 ✅ সবচেয়ে ভালো বিকল্প:
দেশি মুরগির ডিম — পুষ্টি, নিরাপত্তা ও স্বাদের দিক থেকে বাচ্চার জন্য সেরা।
তবে available না থাকলে কোয়েল ও ব্রয়লার মুরগীর ডিম দিতে পারেন।
📌 পরামর্শ:
সবসময় ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে দিন।
নতুন ডিম প্রথমবার দিলে অল্প পরিমাণে দিন এবং ৩ দিন পর্যবেক্ষণ করুন এলার্জি হয় কিনা।
কুসুম দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সাদা অংশ দিন।
✨ #দেশিমুরগীরডিম #বাচ্চার_খাবার #বাংলা_প্যারেন্টিং
Ai ゚
18/08/2025
🎤টাইফয়েড জ্বর ছড়ানোর প্রধান উপায়গুলি হলো: 👇👇👇
• দূষিত খাদ্য ও পানি: টাইফয়েড সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া (সালমোনেলা টাইফি) সংক্রমিত খাবার বা পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।
• ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সংক্রমণ: সংক্রামিত ব্যক্তির মল বা মূত্রের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
• স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির অভাব: যেখানে স্যানিটেশন ব্যবস্থা দুর্বল এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয় না, সেখানে টাইফয়েড রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
টাইফয়েড জ্বর থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হলে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার ও পানি গ্রহণ করা উচিত এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
#যে কোন তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ স্বাস্থ্য সহকারীদের সাথে যোগাযোগ করুন।
゚
কুয়াকাটা ゚
11/08/2025
❇️ স্বাস্থ্য সহকারীর পরিচিতিঃ
★চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় "রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম", সেবা ও শিক্ষা নিন সুস্থ থাকুন★
🏙️ ইউনিয়ন/ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারী'র দায়িত্ব ও কাজসমূহ
✅ স্বাস্থ্য সহকারী (Health Assistant ) হলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের- স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন কমিউনিটির অর্থাৎ ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকর্মী, যারা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তূণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত সকল কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকেন।
যিনি প্রতিদিন গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় বাড়ি বাড়ি অর্থাৎ ঘরে গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতামূলক সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
👉 একজন স্বাস্থ্য সহকারীর প্রধান/মূল কাজ হলো টীকাদান- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের "সম্প্রসারিত টীকাদান কর্মসূচি"( Epi) এর মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামের পাড়া মহল্লায় গিয়ে অস্থায়ী টীকাদান কেন্দ্র স্থাপন করে শিশু, গর্ভবতী মহিলা,কিশোর ও কিশোরী সহ সকলের টীকাদান সেবা নিশ্চিত করা।
“Prevention is better than cure (প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা)” — এই মূলনীতিকে ধারণ করে স্বাস্থ্য সহকারীগণ সবসময় চেষ্টা করেন যেন অসুস্থ হওয়ার আগেই মানুষ স্বাস্থ্য সুরক্ষা/সচেতন হয়ে যায়।
✅ স্বাস্থ্য সহকারী-এর গুরুত্বপূর্ণ কাজসমূহ:
1. ভ্যাকসিন সরবরাহ:-
নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী বিনামূল্যে সকল প্রকার সরকার কতৃক প্রদত্ত ভ্যাকসিন/টীকা প্রদান করেন।
2. প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাঃ- ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, সর্দি কাশি ও জ্বর এবং ত্বকের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ প্রদান।
3. গর্ভবতী নারীদের সেবা (ANC):-
গর্ভকালীন চেকআপ, রক্তচাপ ও ওজন মাপা, কাউন্সিলিং ও পরামর্শ দেওয়া , পুষ্টি কর খাবার সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া, হাই-রিস্ক মায়েদের শনাক্ত করে রেফার করা।
4. প্রসব পরবর্তী সেবা (PNC):-
মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যা , বাচ্চাকে ৬ মাস পর্যন্ত শুধু মাত্র বুকের দুধ খাওয়া ও ৬ মাসের পর থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া ।
5. জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন- স্বাস্থ্য সহকারীগণ ওয়ার্ড পর্যায়ের ফোকাল পারসন হিসাবে এডভোকেসি সভার আয়োজন, সেচ্ছাসেবীর প্রশিক্ষণ, ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরন খাওয়ানো সহ সকল রিপোর্ট-রিপোর্টিং সম্পন্ন করেন।
6. জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ ও ক্ষুদে ডাক্তার কার্যক্রম :-
প্রতিটি পুরাতন ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা অনুযায়ী কৃমি ট্যাবলেট বিতরণ ও ক্ষুদে ডাক্তার কার্যক্রম সম্পন্ন করন।
7. মহামারী নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমঃ- কোভিড মহামারি ভ্যাকসিন, জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন, বর্তমানে টাইফয়েড জ্বরের ভ্যাকসিনের চাহিদা পত্র তৈরি ও মাইক্রোপ্লান প্রস্তুতকরণ সহ সকলের রেজিষ্ট্রেশনে উদ্বুদ্ধকরণ ও টিকা প্রদান নিশ্চিত করন।
8. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেশন ভিত্তিক আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান।
9. উঠান বৈঠকঃ উঠান বৈঠক এর মাধ্যমে শিশু ও মাতৃ মৃত্যু প্রতিরোধে সকল প্রকার স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরামর্শ প্রদান।
10. জন্ম ও মৃত্যু রিপোর্ট প্রদান।
11. ডায়রিয়া মহামারি হলে এলাকা চিহ্নিত করে প্রাদুর্ভাবের উৎস খুঁজে বের করা এবং খাবার স্যালাইন বিতরণ ও রিপোর্ট প্রদান।
12. যক্ষা রোগঃ যক্ষা রোগের বিসিজি টীকা প্রদান এবং সন্দেহজনক রোগীকে পরীক্ষার জন্য রেফার করা এবং পরীক্ষায় যক্ষা নিশ্চিত হলে ডটস পদ্ধতিতে ঔষধ সেবন।
13. সপ্তাহে ২/৩ দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা দান।
14. AFP,AEFi,ARI,CRS সহ সন্দেহ জনক রোগী খোঁজে বের করে রেফার করন।
15. জরায়ুমুখ (VIA) ও স্তন টেস্টের জন্য কাউন্সিলিং:
জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে VIA টেস্ট এবং স্তন সম্পর্কে নারীদের উদ্বুদ্ধ করা ও সচেতনতা বৃদ্ধি ও রেজিস্ট্রেশন করণ।
16. NCD (অসংক্রামক) বিষয়ক স্বাস্থ্য শিক্ষা ও কাউন্সেলিং:
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতনতা এবং জীবনধারায় পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া।
17. স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান:-
বিশুদ্ধ পানি, হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম, পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা।
18. উঠান বৈঠক ও স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন আয়োজন:-
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে উঠান বৈঠক, স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
18. শিশুদের জন্ম নিবন্ধনে উৎসাহ প্রদান:-
প্রতিটি শিশুর জন্মের পর জন্ম নিবন্ধন করা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য সহকারীগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং টীকাদান কেন্দ্রে আগত অভিভাবকগণকে শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই জন্ম নিবন্ধন করতে অনুপ্রাণিত করেন এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করেন।
19. টীকাদানে সকল তথ্য সংরক্ষণ ও রিপোর্ট তৈরি করন।
20. করোনা ,ডেঙ্গু,ডায়রিয়া সহ যে কোনো রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি হলে জনগণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করা ।
21. ঝড় , বন্যা যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে, পরীক্ষা কেন্দ্রে, মেডিকেল টীমের সদস্য হিসেবে স্বাস্থ্য সেবা অব্যাহত রাখা ।
----------
❤️ স্বাস্থ্য সহকারী কেবল একজন স্বাস্থ্য কর্মী নন, তিনি জনগণের স্বাস্থ্যসচেতনতায় এক অন্যতম অগ্রদূত। তার কার্যক্রমে টীকাদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ সহ স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং শিশু-মাতৃ কল্যাণে মাতৃ ও শিশু মৃত্যু কমিয়ে আনার মাধ্যমে
👉 বাংলাদেশ আজ টীকাদানে সারা বিশ্বে রোল মডেল।
👉 দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠতম টীকাদানকারী দেশ বাংলাদেশ।
👉শিশু ও মাতৃমৃত্যু রোধে এমডিজি অর্জন।
👉সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত।
👉 ভ্যাকসিনহিরো উপাদি গ্রহণ।
👉 কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানে সারা বিশ্বে পঞ্চম স্থান অর্জন।
👉পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টীকাদান ক্যাম্পেইন হাম ও রুবেলা টিকাদানের সাফল্য।
"ভ্যাকসিন হিরো সম্মান স্বাস্থ্য সহকারীর অবদান"
(🙏 শেয়ার করে দিন)
゚
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Nagerpara
