একতা কমিউনিটি পুলিশিং ও সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন,মাষ্টারপাড়া,মাইজদী,নোয়াখালী
Share
একতা কমিউনিটি পুলিশিং ও সামাজিক উন্ন?
শিক্ষিত,সভ্রান্ত ও শান্তিপ্রিয় মানুষের বসবাস এই মাস্টারপাড়া।যেটি নোয়াখালী সদরের ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর অবস্থান এর পাশে হওয়ায় এই এলাকা অঘোষিত ছাত্রাবাস হিসেবে পরিচিত। যা কিছু সংখ্যক স্থানীয় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদকসেবীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। এই শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী তাদের অত্যাচারে যখন সহ্যসীমা অতিক্রম করল ও মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গেলো, ঠিক তখনেই এলাকাবাসী ঐক্য
বদ্ধ হতে শুরু করল।উক্ত প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ২রা নভেম্বর,২০১২ইং শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর এলাকাবাসী ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে পুরো এলাকায় এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত করে।তারই ধারাবাহিকতায় এই এলাকার সকল শান্তিপ্রিয় মানুষ দলমত নির্বিশেষে মানববন্ধন এবং সভা- সমাবেশ করে নোয়াখালি জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসন সহ প্রসাসনের বিভিন্ন স্তরে স্মারকলিপি প্রদান করে।তারই ধারাবাহিকতায় নোয়াখালীর সদর থানার পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় ২০১২ সালের ১লা ডিসেম্বার আমরা আমাদের সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করি। তার আগে আমরা পুরো এলাকাতে ১টি জরিপ করি এলাকাবাসীর মধ্যে।তারমধ্যে ৬৫০টির ও বেশী পরিবার আমাদের আর্থিক সহয়তার প্রতিশ্রুতি ও সমর্থন দিলে আমরা এই সংগঠন সৃষ্টির সিন্ধান্ত নিই।
প্রথমে ৬জন কমিউনিটি পুলিশ ও ১জন কালেক্টর নিয়োগের মাধ্যমে আমাদের পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়। যা বর্তমানে আরও বাড়ানো হয়েছে।
যেহেতু এটি একটি সামাজিক সংগঠন। তাই সকল জাতীয় দিবস যেমন, ২১শে ফেব্রুয়ারী, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বার এবং ১লা বৈশাখ সংগঠনের পক্ষ থেকে উৎযাপন করা হয়। “লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা” কার্যক্রমের দিনসহ সকল ধরনের সামাজিক কার্যক্রমেও আমরা অংশগ্রহণ করি। তাছাড়াও বিনামূল্য রক্তদান, রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, এলাকার ময়লা-আবর্জনা অপসারণ,শীতবস্ত্র বিতরণ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, নিরাপত্তামূলক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সামাজিক কাজগুলো মূলত তরুণদের নেতৃতে হয়ে থাকে।
অত্র এলাকাতে তরুণদের নেতৃতে পাঠাগার আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১৯শে আগস্ট ২০১৪ সালে ১টি পাঠাগার স্থাপিত হয়।যেটি বিনামূলে এলাকার মানুষকে বই ও রক্ত প্রদান করে আসছে। যার পাঠক সংখ্যা বর্তমানে একশজনের ও বেশী ও সদস্য সংখ্যা প্রায় ২০০ জন,এবং ইতিমধ্যে এটি সরকারি সকল শর্তপূরণ করার মাধ্যমে সরকারীভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।
এর নিজস্ব গঠনতন্ত্র আছে এবং সেই অনুযায়ী এটি পরিচালিত হয়ে থাকে।
এছাড়াও ২০১৫ সালের মহান স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে মাইজদীর বিজয় মঞ্চে মাষ্টারপাড়া " একতা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী " সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনের মাধ্যম "একতা কমিউনিটি পুলিশিং ও সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন" এর সহযোগী সংগঠন হিসাবে আত্বপ্রকাশ করে।মাহমুদুর রহমান জাবেদ কে সভাপতি ও মোঃ ফয়েজ আহমদ কে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করে কমিটি গঠন করা হয়। আমাদের এই সহযোগী সংগঠন এখন থেকে সকল ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যেমন গান শিখানো, জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান এ সঙ্গীত পরিচালনা ইত্যাদি করবে।
আবার ২০১৫ সালে মাস্টারপাড়ায় ‘একতা ক্রীড়া সংসদ’ নামে স্পোর্টিং ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়।বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক জনাব ইসমাইল হোসেনকে সভাপতি ও বাসব কান্তি সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে এর নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।যা ইতিমধ্যে "একতা কমিউনিটি পুলিশিং ও সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন" এর সহযোগী সংগঠন হিসেবে এর কার্যকরী পরিষদকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে,এই এলাকার তরুণদের খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক গঠন,মানসিক বিকাশ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা। তাই নিয়মিত খেলাধুলায় তরুণরা অংশগ্রহণ করলে নিয়মশৃঙ্খলাবোধ শেখার পাশাপাশি আত্ম-বিশ্বাসী হয়ে উঠবে।এবং এই খেলার মাধ্যমেই সবার মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও জোরদার হবে বলে আমরা আশা করছি।
তাছাড়াও এই এলাকার তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়মিত উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করনো সহ ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও দাবায় সেরা দল গঠন করা হবে।এতে করে এই এলাকা ও সংগঠনের নাম ও সুনাম আর বৃদ্ধি পাবে।
মূলত পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে এই এলাকার মানুষকে নিরাপত্তা প্রদান ও সচেতন করে তোলা এবং সকল সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণসাধন, মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রতকরণ, ভাতৃত্ববোধবৃদ্ধি , অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও পাঠাগার আন্দোলনের মাধ্যমে এলাকার তরুণ সমাজকে বই প্রেমী,জ্ঞান নির্ভর ও মননশীল করে তোলা এবং আত্মমর্যাদাবান গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজে আলোকিত মানুষ তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
তাই আসুন এই সংগঠনের এর পাশে থাকার অঙ্গিকার করি এবং একটি আদর্শ পাড়া গড়ে তুলি।
মাস্টারপাড়া থেকে যত দূরেই থাকুন,অন্তত এলাকার ভালো কাজের সঙ্গে থাকুন।