আপনি নিজে জয়েন করুন আর আপনার নোয়াখাল
বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা এবং পশ্চিমে লক্ষীপুর ও ভোলা জেলা অবস্থিত। বছরব্যাপী সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড় ৩৪.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার গড় ১৪.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বছরে গড় বৃষ্টিপাত ৩৩০২ মিমি। এই জেলার প্রধান নদী বামনি এবং মেঘনা। প্রধান খাল নোয়াখালী খাল ।
প্রশাসনিক এলাকাসমূহ
_______________
নোয়াখালী সদর
বেগমগঞ্জ
চাটখিল
কোম্পানীগঞ্জ
হাতিয়া
সেনবাগ
সুবর্ণ চর
সোনাইমুড়ি
কবিরহাট
জনসংখ্যা
___________
নোয়াখালী জেলার মোট জনসংখ্যা ৩১,০৮,০৮৩ (পুরুষ- ১৪।৮৫,১৬৯ এবং মহিলা- ১৬,২২,৯১৪)। পুরুষ এবং মহিলার অনুপাত ৯২ঃ১০০, জনসংখ্যার ঘনত্ব ৮৪৩/ বর্গ কিলোমিটার এবং জন্মহার ১.৮৩%। প্রধান শহর মাজেদির জনসংখ্যা ৭৪৫৮৫ জন (পুরুষ ৫১.৫০%, মহিলা ৪৮.৫০%)। জনসংখ্যার ঘনত্ব ৫৯১৫/ বর্গ কিলোমিটার। শিক্ষার হার ৬০.৭%।
নোয়াখালীর শহর
______________
নোয়াখালী সদর মাইজদি ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। শহরের মোট জনসংখ্যা ৭৪,৫৮৫; এর মধ্যে ৫১.৫০% পুরুষ এবং ৪৮.৫০% মহিলা; জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫৯১৫। শহুরে লোকদের মধ্যে শিক্ষিতের হার প্রায় ৬০.৭০%। নোয়াখালী সদরের আদি নাম সুধারাম। ১৯৪৮ সালে যখন উপজেলা সদর দফতর মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তখন তা ৮ কিলোমিটার উত্তরে সরিয়ে বর্তমান মাইজদিতে স্থানান্তর করে হয়।
চৌমুহনী নোয়াখালীর আরেকটি ব্যস্ত শহর ও বাণিজ্য কেন্দ্র, যা একসময়ে মুদ্রণ ও প্রকাশনা ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল। বসুরহাট শহরটি দ্রুত বেড়ে উঠছে এবং ব্যস্ত শহরের রুপ নিচ্ছে । এই শহরের অধিবাসীদের একটি বড় অংশ কাজের জন্য আমেরিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী।
বসুরহাট হতে ৮ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে চোধুরীহাট নামে আরেকটা বাজার আছে , যা কিনা বর্তমানে ঐ এলাকার মোটামোটি দ্রুত উন্নয়নশীল এলাকা হিসাবে পরিচিত। মূলত এই চোধুরী হাট বাজার চরপার্বতী গ্রামে অবস্থিত। এই গ্রাম পুরো ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। চরপার্বতী গ্রামের চোধুরী হাট বাজারের বিখ্যাত হাই স্কুল 'চোধুরী হাট উচ্চ বিদ্যালয় " এই বাজারে অবস্থিত। এই ছাড়া এই গ্রামে আর ও অনেক গুলো হাই স্কুল আছে যেমন - কদমতলা হাই স্কুল, মেহেরুন্নিসা হাই স্কুল, চোধুরী হাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই ছাড়া কয়েকটা প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে যেমন - উত্তর চরপার্বতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (খাঁয়ের গো স্কুল), দক্ষিণ চরপার্বতী প্রাথমিক বিদ্যালয় (জংল্যা স্কুল), চোধুরী হাট প্রাথমিক বিদ্যালয়, জনতা বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অনেক গুলো।
নামকরণ
_______________
নোয়াখালী জেলার প্রাচীন নাম ছিল ভুলুয়া। নোয়াখালী সদর থানার আদি নাম সুধারাম। ইতিহাসবিদদের মতে একবার ত্রিপুরা-র পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়া-র উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয় ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসাবে ১৬৬০ সালে একটি বিশাল খাল খনন করা হয়, যা পানির প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে। এই বিশাল নতুন খালকে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় "নোয়া (নতুন) খাল" বলা হত, এর ফলে "ভুলুয়া" নামটি একসময়ে পরিবর্তিত হয়ে ১৬৬৮ সালে হয়ে যায় "নোয়াখালী"।
ইতিহাস
________________
নোয়াখালী জেলার মর্যাদা পায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক এদেশে জেলা প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় থেকেই। ১৭৭২ সালে কোম্পানীর গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এদেশে প্রথম আধুনিক জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রচেষ্টা নেন। তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯টি জেলায় বিভক্ত করে প্রতি জেলায় একজন করে কালেক্টর নিয়োগ করেন। এ ১৯টি জেলার একটি ছিল কলিন্দা। এ জেলাটি গঠিত হয়েছিল মূলতঃ নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে। কিন্ত ১৭৭৩ সালে জেলা প্রথা প্রত্যাহার করা হয় এবং প্রদেশ প্রথা প্রবর্তন করে জেলাগুলোকে করা হয় প্রদেশের অধীনস্থ অফিস। ১৭৮৭ সালে পুনরায় জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং এবার সমগ্র বাংলাদেশকে ১৪টি জেলায় ভাগ করা হয়। এ ১৪ টির মধ্যেও ভুলুয়া নামে নোয়াখালী অঞ্চলে একটি জেলা ছিল। পরে ১৭৯২ সালে ত্রিপুরা নামে একটি নতুন জেলা সৃষ্টি করে ভুলুয়াকে এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ১৮২১ সালে ভুলুয়া নামে নোয়াখালী জেলা প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত এ অঞ্চল ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা গঠিত হয়। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের অর্ন্তভূক্ত একটি বিশাল জেলা হিসেবে পরিচালনা হয়ে আসছিল। ১৯৮৩ সালে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হলে লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা আলাদা হয়ে যায়। শুধুমাত্র নোয়াখালী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা পুনর্গঠিত হয়। তখন এ জেলায় উপজেলা ছিল ছয়টি। পরবর্তীতে আরো তিনটি উপজেলার সৃষ্টি করা হয়। এবং বর্তমানে জেলায় মোট উপজেলার সংখ্যা নয়টি। জেলার একটি বিশেষত্ব হলো আটটি উপজেলা মূল ভূখন্ডের সাথে রয়েছে। আর হাতিয়া নামক উপজেলাটির কিছু অংশ জেলার মূল ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত থাকলে ও বৃহত্তর অংশ (মূল হাতিয়া) এর চর্তুদিকে মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা।
নোয়াখালীর ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা ১৮৩০ সালে নোয়াখালীর জনগণের জিহাদ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলন। জাতিগত সংঘাত ও রায়টের পর ১৯৪৬ সালে মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা ভ্রমণ করেন। বর্তমান বেগমগঞ্জ উপজেলার জয়াগ নামক স্থানে গান্ধীজির নামে একটি আশ্রম রয়েছে, যা "গান্ধী আশ্রম" নামে পরিচিত।
১৭৯০ সালের পর হতে নোয়াখালী জেলা বহুবার ঘুর্ণিঝড়, বন্যা, টর্নেডো, সাইক্লোন ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হয়। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১০ লক্ষ লোকের প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে নোয়াখালী জেলার অনেকে ছিলেন। ১৯৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে বহু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নোয়াখালীর মাটি রঞ্জিত হয়ে আছে। ১৫ই জুন, ১৯৭১ সালে সোনাপুর আহমদীয়া স্কুলের সম্মুখ যুদ্ধে প্রায় ৭০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়। ১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট পাকবাহিনী বেগমগঞ্জ থানার গোপালপুরে গণহত্যা চালায়। নিহত হন প্রায় ৫০ জন নিরস্ত্র মানুষ। নোয়াখালী জেলা স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর।
অর্থনীতি
__________
নোয়াখালী জেলার মোট আয় ৩৭৮ কোটি টাকা (১৯৯৯-২০০০)। জেলার মোট আয়ের ৪৮% আসে চাকরি বা সেবামূলক খাত থেকে। অপরদিকে আয়ের মাত্র ১৭% আসে শিল্পখাত থেকে। নোয়াখালী জেলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশ হারে হচ্ছে। নোয়াখালী জেলার মানুষের মাথা পিছু আয় ১৩,৯৩৮ টাকা (১৯৯৯-২০০০)।
বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার কৃতি সন্তান
_______________________________
শমসের গাজী
হযরত মাওলানা কারামত আলী (র.) জৈনপুরী
অচিন্ত কুমার সেনগুপ্ত
কমরেড মোহম্মদ তোয়াহা
আবদুল মালেক উকিল
বেগম খালেদা জিয়া
নুরুল হক
আবদুস সালাম (ভাষা শহীদ )
আলী আহমদ,ভাষা সৈনিক ও প্রখ্যাত ছাত্রনেতা
সার্জেন্ট জহুরুল হক
বীর শ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
মোঃ আবুল বাশার মুন্সী, বীর বিক্রম
মোঃ শহিদ উল্লাহ মুন্সী, বীর প্রতীক
মওদুদ আহমেদ
মুনীর চৌধুরী
শহীদুল্লাহ কায়সার
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী
ওবায়দুল কাদের
কামরুল আহসান
জহীর রায়হান
রোজী সামাদ
ফেরদৌসী মজুমদার
চিত্তাকর্ষক স্থান
__________________
নিঝুম দ্বীপ - হাতিয়া, এটি নোয়াখালী জেলার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম - আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু।
বজরা শাহী মসজিদ - বজরা।
লুর্দের রাণীর গীর্জা - সোনাপুর।
গান্ধি আশ্রম - জয়াগ, সোনাইমুড়ি।
ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল - চর জব্বর।
নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ - মাইজদী।
নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার - মাইজদী।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোঃ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর - সোনাইমুড়ী।
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের আশ্রম - চৌমুহনী।
গান্ধী আশ্রম - জয়াগ
আরো জানতে - http://bn.wikipedia.org/wiki/নোয়াখালী_জেলা