12/08/2026
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলটি দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের জন্য জাতীয় দৈনিক ও সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত আলোচিত ছিল। সে সময়কার দৈনিক জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ খাতের চরম অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের চিত্র ফুটে ওঠে।
পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে আসা মূল চিত্রঃ
তীব্র লোডশেডিংঃ দৈনিক সংবাদ ও অন্যান্য পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, সে সময় দেশের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম থাকায় গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা এবং কোনো কোনো এলাকায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকত না।
উৎপাদন ঘাটতিঃ পিডিবি (PDB) ও সরকারি হিসাবের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় যে, বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট থাকলেও উৎপাদন নেমে এসেছিল মাত্র ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বা তারও নিচে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবঃ বিদ্যুতের অভাবে শিল্পোৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দিনের আলোতে মোমবাতি জ্বালিয়ে স্কুল-কলেজে ক্লাস নেওয়ার খবরও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল।
বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্কঃ ২০০৬ সালের শেষের দিকে বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়, যা সংবাদমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম হয়েছিল। খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এবং 'খাম্বা কেলেঙ্কারি'র মতো বিষয়গুলো সে সময়কার প্রেস ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।