Rajshahi University Dawah Community

Rajshahi University Dawah Community

Share

Campus based Islamic platform for students of Rajshahi University.

05/06/2026

আমল… দেখে শেখা লাগে -

ভার্সিটিতে আসার পর শবগুজারীতে কিংবা তাবলীগের কোনো বয়ানে অথবা প্রবীণ উলামায়ে কেরাম এর আলোচনায় হঠাৎ শুনতাম - আমল দেখে শেখা লাগে। কথাটা শুনে উপলব্ধি করতে পারতাম না - দেখে দেখে শেখার ফায়দা কী ? এসব নিয়ে ভাবতাম। যদি চোখের সামনে না দেখি - তাহলে কি আমল শিখতে পারবো না ? ভাইরা বলতেন - চোখের সামনে বারবার দেখলে অন্তরে যেভাবে বসবে অন্যভাবে সেটা হবে না - সময় নিতে পারে। মনোযোগ দিয়ে শুনে নিতাম, আলহামদুলিল্লাহ।

একবার এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেলাম - সাক্ষাতেই তিনি একটা মিসওয়াক হাদিয়া দিলেন। বললেন মুমিন ভাইদের মাঝে হাদিয়া বিনিময় করলে আন্তরিকতা বেড়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় মানুষদের সাথে হাদিয়া বিনিময় করতেন। আমি খুশি হলাম। ভাইয়ের সাথেই কিছুদিন পর আবার দেখা - আবারও একটা হাদিয়া দিলেন, এইবার ছোট একটা বই। সুবহানাল্লাহ। যতবার দেখা করেছি, পরিমাণে অল্প হোক যেমনই হোক ভাই হাদিয়া দিয়েছেন কিছু না কিছু, আমি অবাক হয়ে প্রতিবার দেখি আর শিখে নেই। জানিনা কতটুকু শিখলাম, শুধু মনে পড়ে আমার স্টুডেন্টরা যখন আমাকে বলে - স্যার, আপনি এমনি এমনি গিফট কেন দেন আমাদেরকে ? আমি মুচকি হাসি, মনে পড়ে যায় - রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো তাঁর প্রিয় মানুষদের হাদিয়া দিতেন - আমিও আমার প্রিয় মানুষদের জন্য অল্প চেষ্টা করি। নিজেই ভাবি - যদি চোখে দেখে না শিখতাম অভ্যাস হতো না। সত্যই, আমল… দেখে শেখা লাগে।

ফার্স্ট ইয়ারে কাছের বন্ধুর সাথে বাইরে ঘুরতে যেতাম মাঝেমধ্যে। একসাথে ইশা পড়তাম বেশিরভাগ সময়। ইশা ও বিতর শেষে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে আছি। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখি ও মাত্র সুন্নত শেষ করে বিতরের জন্য দাঁড়ালো। এটাই নিত্যদিনের ঘটনা। একদিন ভাবলাম, ও এতো সময় নিয়ে ধীর স্থির ভাবে নামাজ পড়ে - আর আমার তো আগেই শেষ হয়ে যায়। দুজনই ইশা পড়লাম, কিন্তু ওর আদায় করা সালাত আর আমার সালাতের মাঝে কত ফারাক। উপলব্ধি আসলো, সময় বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলাম। বুঝলাম - ওকে এভাবে প্রায়শই না দেখলে এই ব্যাপারটা আমার মনে রেখাপাত করতো না। আবারও উপলব্ধি হলো - আমল…দেখে শেখা লাগে।

মাদরাসাতুল মাদীনায় যেবার গেলাম, আসর পড়ে বের হয়ে দেখি ত্বলিবুল ইলম বাচ্চারা সবাই একদম নিচু হয়ে বসে জুতা রেখে তারপর জুতা পরে চলে যাচ্ছে। জুতা মাটিতে ফেলার একদম কোনো শব্দ নেই। একেবারে অবাক হয়ে গেলাম - আদীব হুজুরের প্রতিষ্ঠানে তো আদব থাকবেই সর্বোচ্চ। সুবহানাল্লাহ। স্বাভাবিক জীবনে মসজিদ থেকে বের হয়ে জুতা মাটিতে ফেলার শব্দ শুনি বারবার - কিন্তু এখানে পিনপতন নিরবতা। আমল শিখলাম - চোখের সামনে ঘটে যাওয়ায় আরও ভালোভাবে শিখলাম। তারপর থেকে ব্যক্তিগত জীবনে যতবার মসজিদ থেকে বের হয়েছি - জুতা রাখার সময় বাচ্চাদের আমল মনে পড়ে যায় - নিজে একইভাবে করেছি কি না সবসময় তা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারছি না - কিন্তু এমন কোনো দিন নেই মসজিদ থেকে বের হয়েছি অথচ এই আমলের কথা মনে পড়েনি।

বারবার মনে পড়ে যায় বড়রা যা বলতেন – আমল…দেখে শেখা লাগে।

04/06/2026

দেয়ালিকায় লেখা পাঠানোর সময় বাড়ানো হলো ১৭ই জুন পর্যন্ত। আজই কলম নিয়ে বসে পড়ুন, শব্দের গাঁথুনিতে সাজিয়ে তুলুন আপন অভিব্যক্তি আর পাঠিয়ে দিন আমাদের ইমেইলে। আল্লাহ সকলের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমীন।

29/05/2026

📢 কলম ধরুন, শব্দের বুননে ছড়িয়ে দিন আপনার চিন্তা!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দাওয়াহ কমিউনিটি কর্তৃক আয়োজিত দেয়ালিকা "আল-মুআল্লাকাত"-এর জন্য আহবান করা হচ্ছে আপনার মননশীল ও সৃজনশীল লেখনী। আপনার ভেতরের লেখককে জাগিয়ে তোলার এবং ক্যাম্পাস ও সমাজের আঙিনায় নিজের চিন্তার ছাপ রাখার এটাই চমৎকার সুযোগ!

গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ কিংবা সমসাময়িক বিশ্লেষণ—আপনার চিন্তার গভীরতা মলাটবন্দী হোক আমাদের দেয়ালিকায়।

📌 আমাদের লেখার মূল বিষয়সমূহ:

🌍 ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সমসাময়িক ভাবনা (ক্যাম্পাস, সমাজ, দেশ ও বিশ্ব)

📜 ইতিহাসভিত্তিক গবেষণাধর্মী লেখা

📝 সাহিত্য (গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ও স্মৃতিচারণ)

📚 বই আলোচনা ও পর্যালোচনা (সারসংক্ষেপ, বিশ্লেষণ ও সাজেশন)

🌱 আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিষয়ক লেখা

📝 লেখা পাঠানোর সহজ নির্দেশনাবলী:

🗓️ লেখা জমা দেওয়ার শেষ সময়: ১০ জুন, ২০২৬

🌐 লেখার ভাষা: যেকোনো ভাষা (বাংলা/ইংরেজি/আরবি)

📂 ফাইল ফরম্যাট: অবশ্যই DOCX অথবা PDF ফরম্যাটে পাঠাতে হবে।

✒️ যোগাযোগের তথ্য : নাম, সেশন, ডিপার্টমেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই ইমেইল এ লিখে দিতে হবে।

📧 যেখানে পাঠাবেন (ইমেইল): [email protected]

⚠️ জরুরি কিছু নিয়মাবলী:

১. লেখাটি অবশ্যই সম্পূর্ণ মৌলিক (Original) হতে হবে।
২. কোনো ধরনের অশালীন, বিদ্বেষমূলক বা অন্য কোথাও থেকে হুবহু কপি করা লেখা গ্রহণযোগ্য হবে না।
৩. চয়নকৃত সেরা লেখাগুলোই কেবল দেয়ালিকায় প্রকাশের জন্য নির্বাচিত হবে।
৪. প্রয়োজনে সম্পাদনা পরিষদ লেখা পরিমার্জনের অধিকার সংরক্ষণ করেন।

📞 যেকোনো তথ্য বা জিজ্ঞাসায় যোগাযোগ করুন: 01917014024

আপনার অনন্য ও চমৎকার লেখনীর অপেক্ষায় রইলাম। আজই কলম ধরুন আর আপনার ভাবনাকে দিন এক নতুন রূপ! আল্লাহ তাআলা এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমীন। ✨

ুআল্লাকত #লেখনী_আহবান #রাজশাহী_বিশ্ববিদ্যালয়_দাওয়াহ_কমিউনিটি

29/05/2026

দাওয়াহ কর্মশালায় শাইখ ড জয়নুল আবেদিন বিন নুমান মাদানী এর 'দায়ীর গুণাবলী এবং আত্মশুদ্ধির পথ' সংক্রান্ত আলোচনা।

27/05/2026

দাওয়াহ কর্মশালায় খন্দকার মো: মাহমুদুল হাসান স্যারের আলোচনা।
বিষয়: 'ইসলামের পথে দাওয়াত'

27/05/2026

🕋 ঈদুল আযহার ১২টি সুন্নত আমল 🕋
ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়, বরং এটি সুন্নাহ অনুসরণেরও এক বিশেষ দিন।
রাসূল ﷺ আমাদের জন্য ঈদের দিনে কিছু সুন্দর আমল শিক্ষা দিয়েছেন, যা পালন করলে ঈদের আনন্দের সাথে সওয়াবও অর্জিত হয়। ✨

✅ তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা
✅ খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা
✅ মিসওয়াক, গোসল ও সুগন্ধি ব্যবহার করা
✅ পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা
✅ ঈদগাহে যাওয়ার আগে কিছু না খাওয়া (ঈদুল আযহায়)
✅ হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
✅ এক রাস্তা দিয়ে গিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা
✅ খোলা স্থানে ঈদের সালাত আদায় করা
✅ ঈদের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
✅ সামর্থ্য থাকলে কুরবানি করা
✅ হাসিখুশি থাকা ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা
✅ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো 🤝

আসুন, কেবল বাহ্যিক আনন্দে সীমাবদ্ধ না থেকে সুন্নাহ অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের কুরবানি, ইবাদত ও নেক আমল কবুল করুন। আমিন। 🌙💚
ঈদ মোবারক! ✨

Image: muslimsday.com

27/05/2026

পঁচিশ বছরের জীবনে আমার কখনো কোরবানি করার খোশ নছীব হয়নি ; এবারও হলো না। আব্বাকে কোরবানি করতে দেখেছি। আব্বার সঙ্গে কোরবানির হাটে গিয়েছি বহুবার ; প্রথমে অবুঝ আনন্দের আকর্ষণে, পরবর্তীতে অনুভব-অনূভুতি সঙ্গে করে। কোরবানির হাটে আব্বাকে দেখেছি। কেমন দেখেছি তা হয়তো বুঝিয়ে বলতে পারবো না, শুধু বলতে পারবো, সেখানে আব্বার মত কাউকে কখনো দেখিনি।

রওনা হওয়ার আগে আব্বা দু'রাকাত নামায পড়েন। সে নামাযে আব্বার দাড়ি তো ভেজে, জায়নামাযও ভেজে। মোনাজাতে সেকী কাকুতি-মিনতি! দেখেছি, শিখতে পারিনি। খরিদ করার পর আব্বার প্রথম কাজ হলো পশুটিকে 'আদর' করা এবং আশ্চর্য, কোনো পশুকে দেখিনি আব্বার আদর প্রত্যাখ্যান করতে!

কয়েকবছর আগে - আব্বার তখন খুব বিপর্যস্ত জীবন এবং জীবনে সেই একবার তিনি শরিকে কোরবানি করেছেন - কোরবানির হাটে আব্বার সাথে আছি ; দেখি, চোখে ধরে এমন একটি গাভীর দিকে মায়ার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলছেন, দিলের তামান্না, তোকে কোরবানি দেই, যাবি আমার সঙ্গে! আমার যে তাওফীক নাই তোকে নেয়ার।

প্রিয় পাঠক, এমন বাবার কোরবানি দেখা সন্তানকে কি ভাগ্যবান বলা যায় না! প্রার্থনা করি প্রতিটি মুসলিম সন্তান যেন দেখতে পায় আমার বাবার মত কোরবানি।

আব্বা কোরবানির পশু বাড়িতে আনেন ঈদ এর দু'একদিন আগে। সেই পশুকে তিনি এমন যত্ন করেন যেন তাঁর আদরের সন্তান! কতবার যে তাঁর তিরস্কার শুনেছি গরুটার ঠিকমতো 'খেদমত' হচ্ছে না বলে! কোরবানির গরুর চারপাশে কয়েল জ্বেলে দেন, যেন মশা কষ্ট না দেয়। একবার তো রীতিমতো মশারি টানানোর ব্যবস্থা করেছিলেন! হাসছো তুমি! আমি কিন্তু সত্য কথা বলছি!

কোরবানির দিন আমরা গোসল করি; আব্বা কোরবানির পশুকে 'স্নান' করান। ঈদের নামায পড়ার পর তিনি একেবারে বদলে যান! আমার কাছে একেবারেই অচেনা হয়ে যান! কোরবানির পশুকে যখন শোয়ানো হয় আব্বার চোখে তখন পানি এসে যায়, কখনো শব্দ করে কেঁদে ওঠেন। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে যখন তিনি ছুরি চালান, তখন তাঁর বেচায়ন অবস্থা হয় দেখার মত; যেন পশুর গলায় নয়, তিনি ছুরি বসিয়েছেন আপন সন্তানের গলায়! এমন কোরবানি আমি আর কারো দেখিনি! এমন মমতার সঙ্গে ছুরি হাতে নিলেই হয় কোরবানি, নইলে হয়ে যায় কসাই ও জবাই। কোরবানির প্রতিটি পশুকে আল্লাহ যেন দান করেন আমার বাবার মত কোরবানি 'কারনেওয়ালা'!

বই : বাইতুল্লাহর মুসাফির

আদীব হুজুর মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ হাফিজাহুল্লাহ

26/05/2026

🌙✨ জিলহজের পবিত্র দিনগুলোকে গনিমত মনে করুন
তাকবীরে তাশরীক পড়ুন, বেশি বেশি ইবাদত করুন এবং প্রতিটি ফরজ নামাজের পর তাকবীর আদায় করতে ভুলবেন না। 🤲💚
🕌 ৯ জিলহজ ফজর থেকে
🕌 ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত
প্রতিটি ফরজ নামাজের পর:
اللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ
আল্লাহ আমাদের আমলগুলো কবুল করুন। আমীন। 🤍

25/05/2026

দিনব্যাপী দাওয়াহ কর্মশালায় ভ্রান্ত মতবাদ 'কোয়ান্টাম মেথড' এর বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন
- শাইখ মুশাহিদ আলি চমকপুরি হাফিজাহুল্লাহ, বিভাগীয় প্রধান, উচ্চতর দাওয়াহ বিভাগ, আস সুন্নাহ ট্রাস্ট

21/05/2026

শিক্ষাজীবনে পরীক্ষার হলে দেখাদেখি এবং ক্লাসে প্রক্সি সমাচার - উপকার না অপকার? ⬇️

স্কুল কলেজ এর জীবন পেরিয়ে ভার্সিটির জীবন যখন শুরু করি আমরা, সবারই বয়স ও দায়িত্বের ভারত্ব একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছে। অন্তত কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ এতোটুকু বুঝ তো সাধারণত আমাদের বেশিরভাগেরই থাকে ইন শা আল্লাহ । নতুন এই জীবনে ছোটখাট বিচ্ছিন্ন ঘটনা যেমন অনেক আনন্দ দেয়, তেমনি কিছু ঘটনা বেশ কষ্ট দেয় মাঝেমধ্যে । কাছের ভাইদের যখন এইসব নিয়ে বলতে ইচ্ছে করে, তখন নিজের আমলের যোগ্যতা নিয়ে অজান্তে প্রশ্ন করে ফেলি, ভয় হয় বেশ, কতটুকুই বা ইলম আছে । আজ আমরা প্রত্যেকেই যতটুকুই, সবই তো মহান রবের অনুগ্রহ। শেষমেষ লস্ট মডেস্টির টুকলিবাজি প্রবন্ধের সাহায্য নিয়ে একটু সাহস করে লিখে ফেললাম। আল্লাহ কবুল করুন। আমিন।

দেখুন ভাইয়েরা, অনেক ক্ষণস্থায়ী আমাদের এই দুনিয়ার জীবন। ছোট এই জীবনের অধিকাংশ সময় আমাদের ব্যয় হয় পড়াশুনার পেছনে। পারিবারিক, সামাজিক কিংবা নিজের ইচ্ছাই হোক জীবনের লম্বা অংশ কাটে অধ্যয়নের পেছনে। আমাদের একেকজনের পড়াশোনার ধরন একেকরকম। একেকজনের সাফল্য একেকরকম। এই যে এই পড়াশুনা, এই যে ২৬-২৮ বছর বয়স পর্যন্ত এতো কষ্ট আমাদের, এই সবই তো রিযিকের চিন্তায় কিংবা রিযিকের এক ব্যবস্থার জন্য ইন শা আল্লাহ। আমরা সবাই ই বলি কর্মক্ষেত্রে আমরা কখনো প্রতারনা করবো না, বাকি সবাই করলেও আমরা নিজেরা দূরে থাকবো। কিন্তু যেই মূল্যবোধের ক্ষয় শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকে সেই মূল্যবোধ আমরা ধরে রাখতে পারবো এতোগুলো বছর তার নিশ্চয়তা কী ? সত্যি বলতে ভার্সিটি জীবন পর্যন্ত আসতে আসতে নিজের এই সকল মূল্যবোধ লোপ পায়। তার কারণ, একই কাজ ও একই ভুলের জেনেবুঝে বারবার পুনরাবৃত্তি।

পরীক্ষার হলে যেই পরীক্ষা নেওয়া হয় তা আমাদের পড়াশুনা কিংবা ইলমের যেই সফর তার একটি বড় অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই পরীক্ষার হলে অন্যকে কিছু বলে দেওয়াকে আমরা যেভাবে সাহায্যের চোখে দেখি, সত্যই তা কি উপকার নাকি অপকার - সেটা আমরা অধিকাংশ মানুষই জানি এবং বুঝি। কিন্তু ওই যে একই কাজের পুনরাবৃত্তি আমাদের চিন্তাভাবনা এবং মূল্যবোধকে পঙ্গু বানিয়ে ফেলে। আমরা জেনেশুনেই কাছের বন্ধুর উপকারের নামে অপকার করে ফেলি। সবচেয়ে বড় কথা, এতে করে আমরা একটি নিষিদ্ধ কাজকে নরমালাইজ করে ফেলি। আর যা পারতপক্ষে প্রতারনার শামিল তাতে আল্লাহ তাআলা কি বারাকাহ দিবেন বলেন তো! হয়তো এভাবে আমরা সেই পরীক্ষায় পার পেয়ে যেতে পারি, কিন্তু পরবর্তী জীবনে সেই শিক্ষা কিংবা পরীক্ষার কোন ইতিবাচক প্রভাব আমাদের জীবনে থাকবে না। উল্টো অন্যের কাঁধের উপর ভর করে জীবন চলা আর প্রতারনার এক মিশ্রিত সত্তা আমাদের মনে বাসা বাঁধে।

আরেকটু বিস্তারিত বললে দেখা যায় যে, আমরা যখন প্রক্সি দেই তখন সেটা কিন্তু আরেকজনের রোল এর প্রেজেন্ট নিজে দিয়ে দেই। তাহলে এখানে প্রথমত শিক্ষকের সাথে প্রতারনা এবং মিথ্যা বলা হলো এবং তারই পাশাপাশি বন্ধুদের ক্ষতি করছি। ক্ষতি করছি কারণ তারা যেই উপস্থিতির নম্বর পাচ্ছে তা আসলে তাদের জন্য হালাল হয় না, বরং প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে নম্বর পাওয়া হয়। যদি যেই বন্ধুর উপস্থিতি দিচ্ছি সেই বন্ধু ক্লাসে না এসে কোনো পাপ কাজে লিপ্ত থাকে তাহলে তার অংশীদারও আমি হচ্ছি। আস্তাগফিরুল্লাহ।

আর পরীক্ষার হলে যদি দেখাদেখি করি, তাহলে প্রথমত স্যারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হচ্ছে। অতঃপর বন্ধুদের পরীক্ষার খাতা দেখাবো, তারা ভালো নম্বর পাবে - এই আশায় তারা পড়াশুনায় অবহেলা করবে। যদি ভালো রেজাল্ট নিয়েও বের হয় তারা, তবুও যোগ্যতা অর্জিত হয় না। কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।

এখন এই মিথ্যা, প্রতারণা, ধোঁকাবাজি, অসততা, অন্যের ক্ষতি করা এগুলোর ব্যাপারে কুরআন, হাদিসের কী বক্তব্য ?

“ নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী ও মিথ্যাবাদীকে সুপথ প্রদর্শন করেন না।” [১]

“মিথ্যা থেকে দূরে থাক। কারণ, মিথ্যা উপনীত করে পাপাচারে। আর পাপাচার উপনীত করে জাহান্নামে । যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে এবং মিথ্যার অন্নেষায় থাকে, এভাবে একসময় আল্লাহর কাছে সে চরম মিথ্যুক হিসেবে লিখিত হয়ে যায় । [২]

সহীহ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন - “ যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

তাছাড়াও এই সবকিছুই একটি খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা।

“হে ঈমানদারগন ! তোমরা জেনেশুনে খিয়ানত করো না আল্লাহ ও রসুলের সাথে এবং খিয়ানত করো না নিজেদের পারস্পরিক আমানতের ক্ষেত্রে।” [৩]

প্রিয় ভাইয়েরা, দেখুন, আমরা দেখাদেখি করে ভালো রেজাল্ট করলেই যে ভালো চাকরী হয়ে যাবে তার নিশ্চয়তা নেই। বরং এভাবে দেখাদেখি করার কারণে, নকল করার কারণে আল্লাহ আমাদের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে আমাদের রিযক থেকে বারাকাহ তুলে নিতে পারেন। হারাম কখনোই আমাদের জীবনে শান্তি বয়ে আনেনা, ভাই। আল্লাহ তাআলা চাইলে এইসব হারামের শাস্তি এই দুনিয়াতেই পেয়ে যেতে পারি। আস্তাগফিরুল্লাহ। আল্লাহ মাফ করুন।

তাই ভাই, আশেপাশের মানুষ যাই করুক, যত প্রলোভনই আসুক না কেন, আমাদের সৎ থাকতে হবে ইন শা আল্লাহ। সততার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের মাঝেমধ্যে হয়তো মনে হয়, সৎ থাকলে পিছিয়ে পড়তে হয়। অনেক বড় ভুল ধারনা এটা ভাই, একদম!

যারা অসৎ হয় তারা কখনো রেসে জেতে না। খরগোশের মতো তারা হয়তো এক লাফে অনেক দূর এগিয়ে যায়। কিন্তু দিনশেষে তাদের রেস শেষ হয় না। পাপের হতাশা, গ্লানি, অবসাদ, শাস্তি তাদের পায়ে বেড়ি পরিয়ে দেয় - ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। সৎ মানুষেরা কচ্ছপের গতিতে এগুলেও একমাত্র তারাই পারে রেস শেষ করতে। খরগোশ হবেন না, প্রিয় ভাইয়েরা আমার - কচ্ছপ হোন ।

“ তুমি ধৈর্য ধারণ করো। কেননা, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।” [৪]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন -

“ সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সাহায্য করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।” [৫]

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে বোঝার ও আমল করার তাওফীক দিন। আমীন।

[১] সূরা মুমিন, ৪০:২৮
[২] সহীহ মুসলিম, ২৬০৭
[৩] সূরা আনফাল, ৮:২৭
[৪] সূরা হুদ, ১১:১১৫
[৫] সূরা মায়িদা, ৫:২

Want your business to be the top-listed Government Service?

Website