30/01/2025
Bangladesh Administrative Service Association-BASA
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bangladesh Administrative Service Association-BASA, Government Organization, 63, New Eskaton, Ramna.
Bangladesh Administrative Service Association (BASA) is an organization of Bangladesh Civil Service Administration Cadre Officials who play pivotal role in policy formulation and take part in policy implementation in field level.
30/01/2025
উপসচিবের শতভাগ পদ প্রশাসন ক্যাডারের জন্য পুনর্বহাল করাসহ ‘বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস’ গঠন
# ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
অবিভক্ত ভারত ও পাকিস্তান আমলে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থায় বিভক্ত কাঠামোতে সিভিল প্রশাসনের উচ্চতর পদগুলোতে সব সময়ে Indian Civil Service, Civil Service of Pakistan (CSP), East Pakistan Civil Service (EPCS) এর কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করতেন। বলা বাহুল্য যে তারা সবাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। তদানিন্তন পাকিস্তানে উচ্চতর পদসমূহে কোটা পদ্ধতি ছিলো কিন্তু সেটা কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক CSP ও EPCS/WPCS এর মধ্যে বিদ্যমান ছিলো। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক Superior প্রশাসনিক পদে অন্য কোনো সার্ভিসের কোনো সদস্যের নিয়োগ বা পদায়নের সুযোগ ছিলো না। স্বাধীন বাংলাদেশে এক-কেন্দ্রীক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরত আসা CSP কর্মকর্তা এবং পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত EPCS কর্মকর্তাদের নিয়ে স্বাধীন দেশের সিভিল প্রশাসনের যাত্রা শুরু হয় এবং এখানেও সিভিল প্রশাসনে অন্য সার্ভিসের কোনো পদ ছিল না। BCS Composition and Cadre Rules of 1980 এর মাধ্যমে প্রাক্তন CSP, EPCS (Executive) Class-1 এবং Military Lands and Cantonments Service কর্মকর্তাদের নিয়ে বিসিএস (প্রশাসন) হিসেবে সার্ভিসের নামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রথমবারের মতো সচিবালয়ের Superior প্রশাসনিক পদসমূহে অন্য সার্ভিসের সুযোগ দেয়ার জন্য ১৯৭৯ সালে The Superior Service Pool Order 1979 জারি করা হয় এবং এই আদেশে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মকর্তাগণকে পুলভুক্ত করার বিধান করা হয়। কিন্তু পরবর্তী ১০ বছরেও এই আদেশটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হওয়ায় একাধিক কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সালে The Superior Service Pool Order 1979 রহিত করা হয় এবং সেই সময় উপসচিবদের ৩৭৭টি পদের মধ্যে অন্যায্যভাবে (পৃথকভাবে বর্ণানাকৃত) অন্যান্য ক্যাডারের জন্য ৭৫টি পদ সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের এক আদেশে সচিবালয় ক্যাডারকে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে একীভূত করা হয় এবং সচিবালয় ক্যাডারের সব পদও প্রশাসন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হয়। বিগত ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ তারিখে তৎকালীন সরকার জারীকৃত নীতিমালায় ২৫% উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্যায্যভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে তা অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে আনুপাতিকভাবে বণ্টন করে কোটা পদ্ধতি চালু করে।
# SSP থেকে অন্যায্যভাবে কোটা প্রথা চালু:
বলা বাহুল্য যে ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত Superior প্রশাসনিক পদে অন্য কোনো সার্ভিসের কোনো সদস্যের নিয়োগ বা পদায়নের সুযোগ ছিলো না। প্রশাসনিক পদসমূহে অন্য সার্ভিসের সুযোগ দেয়ার জন্য ১৯৭৯ সালে The Superior Service Pool Order 1979 জারি করা হয়। এই আদেশে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মকর্তাগণকে পুলভুক্ত করার বিধান করা হয়। কিন্তু পরবর্তী ১০ বছরে এই আদেশটি অন্তত ৫/৬ বার সংশোধন করেও নানা জটিলতার কারণে পাবলিক সর্ভিস কমিশন কর্তৃক একবারও সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মকর্তা পুলভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বরং এই সময়ে পাবলিক সর্ভিস কমিশনের সাথে কোনো রকম পরামর্শ না করেই প্রশাসন সার্ভিসের ইতিঃপূর্বে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে বিভিন্ন ক্যাডারের উল্লেখযোগ্য কিছু কর্মকর্তাকে বিধি বহির্ভূতভাবে, কোনো পরীক্ষা না নিয়ে সরাসরি পুলভুক্ত করা হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গঠিত SSP পর্যালোচনার জন্য একাধিক কমিটি গঠিত হয় এবং সেই কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে SSP রহিত করা হয়। সিনিয়র সার্ভিস পুলের গঠন কাঠামো পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ উপ-কমিটির ২২/০৬/১৯৮৯ তারিখে দাখিলকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে- সিনিয়র সার্ভিস পুল অবলুপ্ত হলে উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পদগুলো স্বভাবতই পূ্র্বের ন্যায় প্রশাসন সার্ভিসের সহজাত পদ হয়ে যায়। কিন্ত গত ১০ বছরের SSP এর বিধান লঙ্ঘন করে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কোনো রকম পরামর্শ না নিয়ে, কোনো রকম পরীক্ষা/বাছাইবিহীনভাবে অন্যা ক্যাডারের যে সকল সদস্য পুলভুক্ত হয়েছেন তাদের ভবিষ্যৎ পদ-পদোন্নতি বা গন্তব্য কী হবে সেটি অনিশ্চিত থেকে যায়। পুল অবলুপ্ত হলে অন্য ক্যাডারের উপসচিবগণের পরবর্তীতে প্রশাসন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। আবার তারা উপসচিব হওয়ার পরে তাদের নিজেদের ক্যাডার থেকে তাদের নাম বাদ পড়েছে এবং ইতোমধ্যে তাদের কনিষ্ঠ কর্মকর্তাগণ পদোন্নতি পেয়ে তাদের নিজ ক্যাডারের শূন্য পদসমূহ পূরণ করে ফেলেছেন অর্থাৎ তার নিজের ক্যাডারেও প্রত্যাবর্তনের সুযোগ নেই। উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সালে SSP Order 1979 রহিত করা হয় এবং পাশাপাশি প্রশাসন ক্যাডারকে উপসচিব পদে শতভাগ পদোন্নতির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ৩৭৭টি পদের মধ্যে অন্যায্যভাবে অন্যান্য ক্যাডারের জন্য ৭৫টি পদ সংরক্ষণ করা হয়। এখানে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো অন্যান্য ক্যাডারের কিছু কিছু কর্মকর্তা ইতিহাস, বিধি-বিধান বা কোনোরূপ যুক্তির তোয়াক্কা না করে সোশাল মিডিয়াতে উপসচিব পদে বরং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কোটা সুবিধা নেয়ার অপবাদ নির্বিচারে প্রচার করে যাচ্ছেন। একই ধারাবাহিকতায় ইস্যুটিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ না করে বিগত ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ তারিখে তৎকালীন সরকার জারীকৃত নীতিমালায় ২৫% উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্যায্যভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে তা অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে আনুপাতিকভাবে বণ্টন করে কোটা পদ্ধতি চালু করা হয় যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার পরিপন্থী।
# সর্বোচ্চ আদালতের রায়:
১৯৯৮ ও ২০০২ সালে পদোন্নতি নীতিমালার মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তাঁদের পদোন্নতিযোগ্য এক-চতুর্থাংশ পদ হতে বঞ্চিত করার পর, বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উল্টো স্রোতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ৭৫% অবশিষ্ট পদকেই অন্য ক্যাডারের কয়েকজন উপসচিব প্রত্যাশী কর্মকর্তা কর্তৃক আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরিশেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ Civil Appeal No 294-98/2003 মামলায় বিস্তারিত শুনানি করে উপসচিব পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডার হতে ৭৫% থাকার বিধানকে শুধু বৈধ নয় বরং যৌক্তিক, বাস্তব সম্মত ও সংবিধান সম্মত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি মহামান্য আপিল বিভাগ রায়ের একটি অংশে সচিবালয়ের প্রশাসনিক উপসচিব পদে প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ ব্যতিরেকে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাগণের পুনরায় নিয়োগ বা পদোন্নতি প্রাপ্ত হইবার কোন সহজাত অধিকার নেই মর্মে উল্লেখ করেছেন। এমনকি প্রতিপক্ষ রিভিউ করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়।
আপিল বিভাগ সচিবালয়ে উচ্চতর প্রশাসনিক পদসমূহে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাগণের নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে উল্লিখিত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন:-
'প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে একজন সচিব/অতিরিক্ত সচিব থাকেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের Principal Accounts কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাহী। তাহার প্রধান কাজ মাঠ পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করিয়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে যথাযথ কর্মপন্থা নির্ধারণ করতঃ সিদ্ধান্ত লইতে (Policy Decision) সহায়তা করা। কর্মপন্থা নির্ধারণ হইলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হইতে সেই সিদ্ধান্ত কার্যে পরিণত করতে তত্ত্বাবধায়ন করার দায়িত্বও সচিবের উপর বর্তায়। এরূপ কর্মপন্থা নির্ধারণ (Policy Decision) ও তাহা কার্যে পরিণত করিতে (Ex*****on) সচিবের সহিত যুগ্মসচিব ও উপসচিব সহায়ক ভূমিকা পালন করেন এবং তাহারা নির্বাহী সরকারের নির্বাহী অঙ্গ (Executive arm) হিসাবে পরিচিত। সাধারণ প্রশাসন কার্য ব্যতিরেকে মাঠ-পর্যায়ে সরকারের উপরোক্তভাবে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে বিভিন্ন পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হইতে বিভাগীয় কমিশনার পর্যন্ত সকল কর্মকর্তাগণের উপর। প্রকৃতপক্ষে মাঠ পর্যায় প্রশাসন এবং নির্বাহী বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহিত উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিবগণ সেতুবন্ধের মত কার্য করেন। এই কারণেই ব্রিটিশ আমল হইতেই সচিবালয়ের উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে সব সময়ই প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ নিয়োগ ও পদোন্নতি পাইতেন। একমাত্র ব্যতিক্রম SSP Order এর মাধ্যমে সকল ক্যাডার হতে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে নিয়োগ/পদোন্নতি প্রদান করা হইয়াছিল যাহা ১৯৮৯ সনেই পরিত্যক্ত হইয়াছে। যেহেতু PSC এর সুপারিশ পর্যায় হইতেই কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন ক্যাডারে শ্রেণীভুক্ত হইয়া যায়, সেহেতু সচিবালয়ের প্রশাসনিক উপসচিব পদে প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ ব্যতিরেকে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাগণের পুনরায় নিয়োগ বা পদোন্নতি প্রাপ্ত হইবার কোন সহজাত অধিকার নেই।' [Civil Appeal No 294-98/2003]
উক্ত রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) গঠন ও ক্যাডার আদেশ ২০২৪ এর তফসিলের ৬(১) নং এন্ট্রিতে প্রশাসন ক্যাডারের পদোন্নতিযোগ্য পদ হিসেবে উপসচিব পদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
# উপসচিব পদ কেন প্রশাসন ক্যাডারের সহজাত পদ:
ধরুন প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা তাদের লাইন পদ যেমন জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন পেতে চাইল তার পূর্ব শর্ত কী কী, বেশি বলতে হবে না প্রথম শর্তই হল তাকে উপসচিব হতে হবে। একইভাবে বিভাগীয় কমিশনার হতে হলে একজন কর্মকর্তার যুগ্মসচিব হওয়া বাধ্যতামূলক। আচ্ছা আর কী কোনো ক্যাডারের লাইন পদে পদায়ন বা পদোন্নতির জন্য এমন শর্ত আছে? মনে করুন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য উপসচিব হতে হবে এমন শর্ত কি কস্মিনকালেও ছিল? এটা কল্পনা করা যায়? কিন্তু প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ কিন্তু ডিসি বা কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি পান না, তারা সবাই উপসচিব বা যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান কারণ এগুলো তাদের সার্ভিসে সহজাত।
এবার অন্য দিক থেকে যদি বলি, উপসচিব পদকে যারা প্রশাসন ক্যাডারের সহজাত পদ মনে করেন না, বরং সকলের সমান সুযোগসহ সরকারি পদ বলতে চান তারা ভাবুন, প্রশাসন সার্ভিসের কর্মকর্তাগণ কিন্তু উপসচিব হওয়ার পরে চাইলে তাদের মাঠ প্রশাসনের লাইন পদে পদায়ন পেতে পারেন অর্থাৎ ডিডিএলজি, ডিসি, কমিশনার হতে পারেন কিন্তু অন্য কোনো ক্যাডারের ক্ষেত্রে কি এটা সম্ভব? অর্থাৎ শিক্ষা ক্যাডার থেকে একজন শিক্ষক যদি ডিএস পুলে উপসচিব হন তিনি কি আর কখনো তার শিক্ষা ক্যাডারের লাইন পদে পদায়ন পেতে পারবেন? তিনি কি আর চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ বা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হতে পারবেন? না। পারবেন না। কারণ তিনি তার ক্যাডারের সকল সম্পর্ক চুকেবুকে দিয়ে তারপর উপসচিব হয়েছেন কিন্তু প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ কিন্তু আজীবন প্রশাসন ক্যাডারেই থাকেন।
অন্য সকল ক্যাডারের ৫ম গ্রেডে পদোন্নতির নিজস্ব লাইন পদ রয়েছে এবং তারা তাদের নিজস্ব শতভাগ পদে পদোন্নতি পান আবার উপসচিবও হতে চান; কিন্তু প্রশাসন ক্যাডারের ৫ম গ্রেডে পদোন্নতির একমাত্র লাইন পদ ‘উপসচিব’। আর কোনো পদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ পদোন্নতি পান না কারণ উপসচিবই তাদের সহজাত লাইন পদ।
# উপসিচব পদে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ কতটা ফলপ্রসু:
বিদ্যামান পদোন্নতি ও পদায়ন সংক্রান্ত নীতিমালসমূহে অন্য ক্যাডার থেকে ডিএস পুলে উপসচিব হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদায়নের সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। তিনি দীর্ঘ বছর যে সেক্টরে কাজ করেছেন সেই সেক্টর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও যে তাকে পদায়ন করা হবে সেই বিধান করা সম্ভব নয় কারণ সকল সময় সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগে শূন্য পদ থাকে না। তাছাড়া উক্ত কর্মকর্তাদের মাঝেও কখনো কখনো নিজ পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পদায়ন না নিয়ে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক মন্ত্রণালয়ে পদায়ন পাওয়ার জন্য তদবির করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। সে ক্ষেত্রে ধরুন- দীর্ঘ ২০ বছর শ্রেণি কক্ষে পাঠদানকারী একজন শিক্ষক যদি ডিএস পুলে উপসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যদি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে (উদাহরণস্বরূপ ব্যবহৃত) পদায়িত হন তখন তিনি তার দীর্ঘ কর্মজীবনের কতটুকু অভিজ্ঞাতা এখানে প্রয়োগ করতে পারবেন। এটি কোনোভাবেই বাস্তব সম্মত নয়।
# বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস গঠন:
• বিশ্বের কোথাও উচ্চতর সিভিল প্রশাসনে বাংলাদেশের ন্যায় বিভিন্ন টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল সার্ভিসের জন্য আনুপাতিকভাবে কোটা সংরক্ষণ করে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয় না। সিভিল প্রশাসনের স্বাতন্ত্র্য ও গুরুত্বকে উপেক্ষা করে অন্যান্য জেনারেল/টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল সার্ভিসের সাথে সমান্তরালে নিয়ে এসে একত্রে ক্যাডারভুক্তকরণ করার নজিরও দেখা যায়না।
• দেশের সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে দীর্ঘ বছরের অন্তঃক্যাডার দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য সিভিল প্রশাসন সার্ভিসকে অন্যান্য টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডারের সংমিশ্রণ থেকে আলাদা করে স্বতন্ত্র 'বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক।
• অন্যান্য টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডারকেও আরও কয়েকটি প্রথক কমিশসনের আওতায় আনা যেতে পারে।
• তাতে পিএসসির নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতা কমবে। শুধুমাত্র প্রশাসন সার্ভিসের আগ্রহী মেধাবীগণ বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস কমিশনের আওতায় পরীক্ষা দিবে। নিয়োগে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিকা কমবে এবং সচ্ছ ও দক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
• উচ্চ শিক্ষা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, সৎ, কর্তব্যপরায়ণ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন সার্ভিস গঠন করা সম্ভব হবে।
টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল/বিষয়ভিত্তিক ক্যাডার সার্ভিস থেকে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারকে পৃথক করে এন্ট্রি পদ সহকারী কমিশনার/সহকারী সচিব থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত পদসমূহ (নন-ক্যাডার পদ ব্যতীত) সমন্বয়ে একটি জনমুখী, দক্ষ, নিরপেক্ষ, যুগোপযোগী সিভিল প্রশাসন হিসেবে 'বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস' প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যায্যভাবে বাদ দেয়া উপসচিবের ২৫% পদসমূহ পুনরায় উক্ত সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
26/12/2024
26/12/2024
https://www.kalbela.com/opinion/sub-editorial/150584
উপসচিব ও তদুর্ধ্ব পদ প্রশাসন ক্যাডারের : অন্যদের অনাহুত প্রবেশ প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করব বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে উপসচিব ও তদুর্ধ্ব পদে সবসময় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা পালন করে আসছেন। এই কা...
25/12/2024
https://www.youtube.com/watch?v=rmjwzEl8lc8
না জেনে অথবা কম জেনে আমাদের সংস্কার কমিশনগুলো সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে | ড. মো মিজানুর রহমান ‘প্রশাসনের ক্ষমতা খর্ব করা ছাড়া, প্রশাসনের সংস্কার সম্ভব নয়’। এমনটি যারা বলছে তারা সমস্যা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। আন...
25/12/2024
সকলের অবগতির জন্য ...
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Ramna
1000
