True News BD

True News BD

Share

দেশের সত্য সংবাদ প্রকাশ

14/04/2026

বৈসাবির উৎসবের আড়ালে মাদকের অশুভ ছায়া! বিপন্ন যুবসমাজ, বিলীন হতে বসেছে জাতিসত্তার ঐতিহ্য,,,

পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব বৈসাবি-যা বৈসুক, সাংগ্রাই ও বিজু এই তিনটি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক সম্মিলন-দীর্ঘদিন ধরে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। এই উৎসব শুধুমাত্র একটি আনন্দ আয়োজন নয়, বরং এটি ছিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও জীবনচর্চার প্রতিফলন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই মহৎ উৎসবের পবিত্রতা মারাত্মকভাবে কলুষিত হচ্ছে মাদক ও নেশার ভয়াবহ আগ্রাসনে। বিশেষ করে যুবসমাজের একটি বড় অংশ এখন বৈসাবিকে আনন্দ ও সংস্কৃতির উৎসব হিসেবে না দেখে, বরং উন্মুক্ত মাদক সেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক ও বিপজ্জনক প্রবণতা।
এক সময় বৈসাবির মাঠ ছিল রঙিন পোশাক, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, সুরেলা গান ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ভরপুর। সেখানে এখন দৃশ্যমান হচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র-যেখানে প্রকাশ্যে মাদক সেবন, অশালীন নৃত্য এবং অসংযত আচরণ দিন দিন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। যুবক-যুবতীদের একটি অংশ যেন নৈতিকতার সীমারেখা অতিক্রম করে এক ধরনের উন্মাদনায় লিপ্ত হচ্ছে, যা কেবল তাদের ব্যক্তিগত জীবনই নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোকেও বিপর্যস্ত করছে। এ যেন এক নীরব সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র, যার ভয়াবহতা দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।

পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার (বার্মা) ও ভারতের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে অবৈধভাবে প্রবেশ করা মাদকদ্রব্য এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। সীমান্তের দুর্বল নজরদারি ও আইন প্রয়োগের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে চোরাকারবারিরা সহজেই ইয়াবা, গাঁজা, বিদেশি মদসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক নেশাদ্রব্য বাজারজাত করছে। বৈসাবির মতো বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে এসব মাদকদ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, এবং সেই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এতে করে যুবসমাজ খুব সহজেই এসব মাদকের নাগালে চলে যাচ্ছে।

অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, উপজাতীয় ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতিতে যেখানে মাদক সেবন করতে পারলেও ধর্মীয়ভাবে সভ্য সামাজিকভাবে তারা নিরুৎসাহিত করছে। সেখানে বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশ সেই মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে উল্টো চরম মাত্রায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। পূর্বে নিজেদের উৎপাদিত সীমিত পরিমাণ ঐতিহ্যবাহী পানীয় গ্রহণের মধ্যে যে নিয়ন্ত্রিত সংস্কৃতি ছিল, তা এখন বিলুপ্তপ্রায়। তার পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে বিদেশি ও উচ্চমাত্রার নেশাদ্রব্য, যা শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক তিন দিক থেকেই ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতির ফলে সামাজিক অবক্ষয় যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বাড়ছে অপরাধ প্রবণতাও। মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে অনেক যুবক-যুবতী অসামাজিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে হুমকির মুখে ফেলছে। পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত হচ্ছে। এটি কেবল একটি উৎসবের অবক্ষয় নয়, বরং একটি জাতিগত ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের জন্য হুমকি।

বৈসাবির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে ঘিরে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে, সমাজের অভ্যন্তরে এক ধরনের নৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত পূরণ না করা গেলে ভবিষ্যতে এর পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ। তাই এখনই সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার, যাতে করে এই অবক্ষয়ের ধারা রোধ করা যায় এবং যুবসমাজকে সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনের পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা, মাদক পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা জরুরি। পাশাপাশি বৈসাবি উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে করে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রয় ও সেবন বন্ধ করা যায়। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃত্বকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে করে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত করা যায়।

তদুপরি, পরিবার ও সমাজের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের বিকল্প আনন্দের পথ তৈরি করতে হবে। একই সাথে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে তাদের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় কথা, বৈসাবির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে তার প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং একটি জাতির পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। তাই এই উৎসবকে মাদক ও নেশার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। অন্যথায়, আমরা কেবল একটি উৎসবই হারাবো না, বরং হারাবো আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনা।

অতএব, এখনই সময় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের-রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তি-সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকমুক্ত বৈসাবি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই কেবল আমরা আমাদের ঐতিহ্য রক্ষা করতে পারবো এবং একটি সুস্থ, সচেতন ও আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

10/04/2026
05/04/2026

বৈসাবির আগে পাহাড়ে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার চক্রান্তকে রুখে দিন

পার্বত্য চট্টগ্রামের আকাশে-বাতাসে এখন উৎসবের আমেজ। বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণকে ঘিরে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর প্রধান উৎসব বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু ও নববর্ষ (যাকে সংক্ষেপে বৈসাবিন বলা হয়) কড়া নাড়ছে। কিন্তু এই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো পাহাড়বাসীর জন্য সবসময় স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে না। বছরের এই নির্দিষ্ট সময়টি কাছে এলেই পাহাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে তৎপর হয়ে ওঠে একটি স্বার্থান্বেষী ও ষড়যন্ত্রকারী মহল। যার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে লেখার কলেবর দীর্ঘ হয়ে যাবে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পান থেকে চুন খসলেই তাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানো, হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও এবং বাজার বয়কটের মতো কর্মসূচি দিয়ে পাহাড়কে অচল করে দেওয়া এখন এক ‘ওপেন সিক্রেট’। এই ষড়যন্ত্রের কারণে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর ধরে শান্তিতে তাদের প্রাণের উৎসব পালন করতে পারছে না।

সম্প্রতি বান্দরবানের লামার গজালিয়া ইউনিয়নের বছাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এই ষড়যন্ত্রেরই এক নগ্ন উদাহরণ। গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এক সহকারী শিক্ষক কর্তৃক প্রথম শ্রেণির এক ত্রিপুরা শিশু শিক্ষার্থীকে শাসনমূলক একটি ‘চড়’ মারার অভিযোগ ওঠে। এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়। কিন্তু দুঃখজনক হলো, একটি কুচক্রী মহল এই সাধারণ শিক্ষকসুলভ শাসনকে ‘ধর্ষণ চেষ্টা’র মতো জঘন্য ও মিথ্যা তকমা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার বাঙালি ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়ে একটি রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানো।

তবে ষড়যন্ত্রকারীদের সেই ছক নস্যাৎ করে দিয়েছে স্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের দ্রুত এবং নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ। আলীকদম জোনের গজালিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন আসলামের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তড়িৎ গতিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো হয়েছে। প্রশাসনের এই অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা না থাকলে হয়তো উৎসবের আগেই পাহাড় আরও একবার রক্তাক্ত হতো।

পাহাড়ের সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার আরেক নাম সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বেপরোয়া চাঁদাবাজি। সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে দুই ত্রিপুরা যুবক নয়ন ত্রিপুরা ও অতর ত্রিপুরার ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা বিবেকবান যে কাউকে নাড়া দেবে। অভিযোগ উঠেছে, ইউপিডিএফ-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গরু-ছাগল পারাপারের নির্ধারিত চাঁদার চেয়ে মাত্র ১০০ টাকা কম দিতে চাওয়ায় তাদের বেধড়ক মারধর করেছে। তাদের পিঠের রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্নগুলো বলে দিচ্ছে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপত্তাহীন।

সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হলো, এই চাঁদাবাজির রশিদে লেখা থাকে “জনতার মুক্তির সংগ্রামে এগিয়ে আসুন”। যে স্লোগান হওয়ার কথা ছিল অধিকার ও মুক্তির প্রতীক, সেটি আজ পাহাড়ের মানুষের জন্য শোষণ ও জবরদস্তির হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিজেদেরকে ‘জাতীয় মুক্তিদাতা’ দাবি করলেও বাস্তবে তারা স্বজাতির সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে খাচ্ছে। যখন একজন দরিদ্র পাহাড়ি তার কষ্টে লালিত পশু বিক্রির সামান্য অর্থ থেকেও চাঁদা দিতে বাধ্য হন এবং ব্যর্থ হলে নির্যাতনের শিকার হন, তখন প্রশ্ন ওঠে এই মুক্তি আসলে কার জন্য?

পাহাড়ের এই অরাজক পরিস্থিতির চেয়েও ভয়াবহ হলো তথাকথিত ‘পাহাড়ি সুশীল সমাজ’-এর একপাক্ষিক ভূমিকা। সাংবাদিক নামধারী রাঙ্গামাটির হিমেল চাকমা বা খাগড়াছড়ির এক্টিভিস্ট কামাল বা কমল বিকাশ চাকমার মতো যারা নিজেদের মানবাধিকারকর্মী বা সুশীল হিসেবে পরিচয় দেন, তারা যখন সাধারণ ত্রিপুরা ভাইদের ওপর নির্যাতন হয়, তখন রহস্যজনকভাবে নীরব থাকেন। অপরাধী যদি তাদের স্বজাতীয় (চাকমা) বা তাদের সমর্থিত সংগঠনের সদস্য হয়, তবে সেই মানবাধিকারের বুলি যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। উল্টো যারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তাদেরকেই তারা নানাভাবে আক্রমণ করেন। এই উগ্রবাদী সুশীল সমাজ মূলত পাহাড়ে উগ্রবাদ ও বিভাজনের রাজনীতিকে উসকে দিচ্ছে। তাদের এই দ্বিচারিতা পাহাড়ের শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম বড় বাধা।

পাহাড়ে দাঙ্গা বা অস্থিরতা তৈরির পর ষড়যন্ত্রকারীদের অন্যতম হাতিয়ার হলো ‘জালাও পোড়াও’ এবং ‘বাজার বয়কট’। এর ফলে সাধারণ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ এবং বাঙালি ব্যবসায়ীরা উভয়ই চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বাজারে পণ্য আনতে না পেরে দরিদ্র পাহাড়িরা তাদের সবজি ও কৃষিপণ্য পচিয়ে ফেলতে বাধ্য হন, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের অভাবে পাহাড়ে হাহাকার তৈরি হয়। এই অর্থনৈতিক অবরোধ মূলত সাধারণ মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি অপকৌশল, যা প্রায় প্রতিটি উৎসবের আগেই পরিকল্পিতভাবে করা হয়।

বিগত কয়েক বছরের খতিয়ান বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, যখনই বৈসু-সাংগ্রাই-বিজু এবং নববর্ষ উৎসব ঘনিয়ে আসে, তখনই পাহাড়ে কোনো না কোনো অজুহাতে রক্তপাত ঘটানো হয়। ২০২৩ সালে কেএনএফ-এর তাণ্ডব, ২০২৪ সালে মহালছড়ির ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত, আর ২০২৬-এ এসে লামার তুচ্ছ ঘটনাকে 'ধর্ষণ চেষ্টা' তকমা দেওয়া সবই একই সুতোয় গাঁথা। এর মূল লক্ষ্য হলো উৎসবের প্রাক্কালে সাধারণ মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত রাখা এবং আন্তর্জাতিক মহলে পাহাড়ে 'অস্থিরতা'র একটি ভুয়া চিত্র তুলে ধরা।

পাহাড়ের এই গভীর ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এখন দেশবাসীকে সজাগ হতে হবে। শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার জন্য নিচের বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি। যেমন- গুজবে কান না দেওয়া: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো পোস্ট দেখলেই আবেগপ্রবণ হওয়া যাবে না। বিশেষ করে ধর্ষণ বা সাম্প্রদায়িক অবমাননার মতো সংবেদনশীল খবরের সত্যতা প্রশাসন থেকে যাচাই করতে হবে।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান: পাহাড়ের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ চিরুনি অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি। চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের সাথে জড়িত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করা: পাহাড়ে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠী—চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙালি—সবাইকে বুঝতে হবে যে বিভাজন কেবল সন্ত্রাসীদের উপকারে আসে। নিজেদের মধ্যে সংলাপ ও সম্প্রীতি বাড়ালে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হবে না।

প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি: লামার ঘটনার মতো প্রতিটি ছোট ঘটনায় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের দ্রুত রেসপন্স অব্যাহত রাখতে হবে।

পাহাড় কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি বাংলাদেশের অখণ্ড অংশ। বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের এই পবিত্র সময়ে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ কেবল শান্তি চায়। একটি স্বার্থান্বেষী মহল যেন সাধারণ কোনো ঘটনাকে পুঁজি করে উৎসবের আনন্দ মাটি করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সবাইকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসনের দৃঢ়তা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত ভেঙে দিয়ে সম্প্রীতির এক নতুন পাহাড় গড়ে তুলতে। এবারের বৈসাবি যেন রক্তে নয়, বরং ভ্রাতৃত্বের রঙে রাঙানো হয়—এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।

31/03/2026

অপ্রতিরোদ্ধ তাজু ভাই

27/03/2026

দৌলতদিয়া ঘাটের দুর্ঘটনার ফুল ভিডিও

25/03/2026

ঈদ ছুটিতে বাড়ি থেকে ফেরার পথে সৌহার্দ্য পরিবহন এর বাস দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাট এ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পরে যায় অনেকেই নিখোঁজ ও নিহত হয়েছেন, অনেকেই বেঁচে ফিরে নতুন জীবন পেয়েছেন।
আল্লাহ তুমি সকলকে হেফাজত করুন।

25/03/2026

🔴সরাসরি>>> দৌলতদিয়ায় দু'র্ঘটনাক'বলিত বাসটি উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে

25/03/2026

🚨 এইমাত্র পাওয়া খবর: "এইমাত্র ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টারত একটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে।"

20/03/2026

গ্রামের শৈশবে

20/03/2026

গণভোটের মধ্য দিয়ে যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল সেই বিএনপি এখন গণভোটের জনরায় মানতে টালবাহানা শুরু করেছে!

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল মেজর জিয়ার শাসনামলে। জিয়ার আমলে দেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ৩০ মে। উদ্দেশ্য ছিল সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়া জিয়ার শাসনকাজের বৈধতা দেওয়া। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তাঁর নীতি ও কর্মসূচির প্রতি আস্থা আছে কি না, সে বিষয়ে দেশের জনগণের মতামত জানতে ওই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল।

১৯৭৭ সালের ২২ এপ্রিল মেজর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বেতার ও টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে গণভোটের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ওই বছরের ৩১ মে দৈনিক ইত্তেফাকের খবরে জানা যায়, সারা দেশে ২১ হাজার ৬৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ মে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট নেওয়া হয়। ওই সময় দেশে মোট ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৮৪ লাখ।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, সেই গণভোটে ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে ‘না’ ভোট পড়েছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ।

18/03/2026

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশ্নবিদ্ধ এনজিও কার্যক্রম, তদারকির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন- প্রথম পর্ব।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ১৯৯৭ সালের চুক্তি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় এনজিওগুলো প্রধান অন্তরায়। এনজিওগুলো বাঙালি তথা সরকার ও উপজাতি জনগোষ্ঠীর মাঝে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করছে। আঞ্চলিক দলগুলোকে উসকানি দিয়ে পাহাড়ে ধর্মীয় বিভেদ, জাতিগত বিভেদ, হানাহানি ও সংঘাত সৃষ্টি করছে। পাহাড়ে প্রতিটি ঘটনার সাথে এনজিওগুলো কোন না কোনো ভাবে সম্পৃক্ত। স্থানীয় অধিবাসীরা বরাবরই পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্তির পেছনে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা হিসেবে এনজিও'র ভূমিকাকে দায়ী করে আসছেন।

স্থানীয় বাঙালি ও সচেতন উপজাতিরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এনজিওগুলো এখানকার জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ধর্ম নিয়ে তামাশা করছে। যে-সব উপজাতি সংগঠন অভিযোগ করে বলেন পাহাড়ে ইসলামীকরণ চলছে তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত আগস্ট ২০১৭-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে যেখানে গির্জার সংখ্যা ছিল ৩৬৫ টি, তা ২০২০ সালের আগস্টের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭১৪টিতে। এই পরিসংখ্যান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিষ্টধর্মের প্রভাব দিনদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আগামী ২০ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫০ ভাগ মানুষ খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী হবে। সুতরাং পাহাড়ে ইসলামীকরণ নয় বরং খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত চলছে বলা যায়। বৌদ্ধ, হিন্দু সম্প্রদায় খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরণ নিয়ে উপজাতি সংগঠনগুলো মুখে কুলুপ এঁটেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সহিংস কবলিত এলাকা। এখানে উপজাতি বিভিন্ন জাতিসত্তার বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী বসবাস করে। যারা জনসংখ্যা অনুপাতে ১% থেকে কম। এভাবে ধর্মান্তরিত ঘটনা উদ্বেগজনক। নিরাপত্তার সামগ্রিক অর্থে পাহাড়ে এনজিও কার্যক্রমকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ইভাঞ্জেলিক্যাল বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) হল এক ধরনের খ্রিষ্টান মিশন যা অন্যদের সাথে সুসমাচার শেয়ার করে।ধর্মপ্রচারে জড়িত বিশ্বাস-ভিত্তিক এনজিও এবং সংস্থাগুলির কিছু উদাহরণের মধ্যে রয়েছে:
ইভাঞ্জেলিক্যাল পার্টনারস ইন্টারন্যাশনাল। একটি সংগঠন যা ঈশ্বরের সাথে অংশীদারিত্ব করে তাদের কাছে সুসমাচার ছড়িয়ে দিতে যারা এখনও এটি গ্রহণ করেনি। এটি সম্পর্কে আরো জানা যায়, ইভানজেলিকাল শব্দটি মূলত কথিত খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের একটি অংশকে বোঝায় যা বাইবেলের শিক্ষা ও প্রচারকে কেন্দ্র করে। এটি সাধারণত একটি ধর্মীয় আন্দোলন হিসেবে দেখা হয় যা মানুষকে অন্যান্য ধর্ম থেকে কনভার্ট করে খ্রিষ্টান ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আকর্ষিত করে। ইভানজেলিকাল বিশ্বাসীরা তাদের বিশ্বাসের বিভিন্ন দিককে প্রচার করে এবং অঙ্গীভূত হয়ে সমাজের মধ্যে ধর্মীয়তা নিয়ে আসে। তাদের কর্মসূচি প্রায়ই বাইবেলের প্রচার এবং এনজিও'র মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত। এনজিও সৃষ্টি ও পরিচালনা করেন ইভাঞ্জেলিক্যাল পার্টনারস ইন্টারন্যাশনাল। এটি দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করে অভ্যন্তরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠন করে। বিভিন্ন এনজিও কে পৃষ্ঠপোষকতা করে তার অন্তরালে ধর্ম প্রচারে কাজ করে।

ইভাঞ্জেলিস্টিক একটি কথিত বিশ্বাস-ভিত্তিক সংস্থা যা সিয়েরা লিওনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে সরাসরি কাজ করে। মন্ত্রণালয় শিক্ষা, শিশু যত্ন, আশ্রয়, চিকিৎসা যত্ন, এবং খাওয়ানো প্রোগ্রাম প্রদান করে। ইভাঞ্জেলিস্টিক একটি ফাউন্ডেশন হয়ে সারা বিশ্বের কয়েক শতাধিক এনজিও'র মাধ্যমে কাজ করে। তারা প্রথম শুরু করে বাইবেল প্রকল্প। এটি একটি অলাভজনক সংস্থা যা মানুষকে বাইবেল বুঝতে এবং এর সাথে জড়িত হতে সাহায্য করার জন্য অ্যানিমেটেড ভিডিও এবং শিক্ষামূলক সংস্থান তৈরি করে৷ সুসমাচার প্রচারের জন্য কিছু টিপস অন্তর্ভুক্ত: আপনার সাক্ষ্য শেয়ার করা, একজন ভাল শ্রোতা হওয়া, সমস্ত উত্তর পাওয়ার ভান না করা, প্রার্থনা করা এবং বাইরে যাওয়া এবং আপনার বিশ্বাস শেয়ার করা।

পাহাড়ে এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ তৈরি ও খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচার এবং মানুষদের সেবা ও ঋণের নামে অতিরিক্ত সুদ গ্রহণের মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমা নিচে পরিণত করেছে এনজিও। এসব এনজিওগুলোর কার্যক্রমে তদারকি নেই। এনজিওগুলো যে পাহাড়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে? এদের অর্থের উৎস কী? জনবলের বেতন-ভাতা কীভাবে পূরণ করে? কিন্তু এত এতো প্রকল্প পরিচালনা কীভাবে তারা করে? আয় কত আর ব্যয় কত? একটি অঞ্চলকে ঘিরে কোন স্বার্থে তাদের এই বিপুল ব্যয়? কয়েক হাজার মাইল দূরে থেকে কেন তারা বাংলাদেশ তথা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বেছে নিলো? এমন সব প্রশ্ন পার্বত্য চট্টগ্রামের এনজিও কার্যক্রম নিয়ে। পাহাড়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করে আসছে। এনজিওগুলোর কার্যক্রমের কোনো জবাবদিহিতা নেই। এসব এনজিও পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র মেতে আছে। মাঠ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থারগুলোর উদাসীনতার কারণে তারা এখানে অপতৎপরতা পরিচালনা করার সুযোগ পাচ্ছে। এনজিও সংস্থাগুলোকে দাতাসংস্থা, মিশনারি কেন বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়। এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এনজিও ও দাতাসংস্থার হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান সত্যি উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা বলছেন, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএনডিপি পাহাড়ে হাজার কোটি টাকা পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এসব টাকা ঠিক কী কাজে ব্যয় করেন তা নিয়ে প্রশাসনের তদারকি নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামে যে-সব এনজিও-আইএনজিও, দাতাসংস্থা বাঙালি ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হতদরিদ্র সহজসরল মানুষদের বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণে কাজ করছে, ইতোমধ্যে তাদের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। কারিতাস, ওয়ার্ল্ড ভিশন, তহজিংডং, সিসিডিবি, গ্রাউস (গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন), হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন, কমিউনিটি অ্যডভান্সমেন্ট ফোরাম, সনে ইন্টারন্যাশনাল, কমিউনিটি অ্যাডভান্সমেন্ট ফোরাম, ব্যাপ্টিস্ট চার্চ ওফ বাংলাদেশ, ব্র্যাক, আশা, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, প্রত্যাশী, টিএমএসএস ও লিন প্রকল্প এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এ সকল এনজিও পার্বত্য চট্টগ্রামের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আর্থিক প্রলোভন বা ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে তাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং স্বকীয়তা বিসর্জনের মাধ্যমে এই ধর্মান্তকরণের কার্যক্রম হরহামেশাই পরিচালিত করে আসছে। বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ির চাক উপজাতির অনেকেই খ্রিষ্টান হয়ে গেছে এনজিও খপ্পরে পরে।

কারিতাস বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন নিয়ে যখন সমালোচনা শুরু হয় তখন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে দেয় কিছুদিন বন্ধ থাকার পর কারিতাস বাংলাদেশ এখনও বান্দরবান প্রায় উপজেলায় কাজ করেন। জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত ও অপুষ্টিকর জনগোষ্ঠীদের স্বাস্থ্য সেবাদান ও জনজীবন এর মান্নোয়নের নামে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়নকারী বেসরকারি সংস্থা কারিতাস কর্তৃক লিন প্রকল্পের আওতায় নিউট্রিশন বিষয়ে রোয়াংছড়ি, তারাছা, আলোক্ষ্যং ও নোয়াপতং সহ ৪টি ইউনিয়নে কাজের আড়ালে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছেন। ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনাল হল একটি বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান মানবিক সাহায্য , উন্নয়ন , এবং অ্যাডভোকেসি সংস্থা। ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্পনসর এ চাইল্ড -টাইপ তহবিল সংগ্রহের কিছু দাতা রিপোর্ট করেছেন যে গোষ্ঠীর দ্বারা ব্যক্তি-নির্দিষ্ট প্রকল্পের পরিবর্তে সম্প্রদায়ের জন্য এই ধরনের তহবিল ব্যবহারের দ্বারা তারা সমালোচিত। ওয়ার্ল্ড ভিশন চট্টগ্রামে ও কক্সবাজার থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং অন্যান্য এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পাহাড়ে কল্পিত মিশন পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে। তবে তাদের বান্দরবানে এখনও কার্যক্রম রয়েছে। জেলা প্রশাসকের ২১ জুলাই ২০২৩ এর মাসিক সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে।

তহজিংডং, বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলায় এর কার্যক্রম চলমান বলে জানা গেছে। দুর্গম থানচিকে ঘিরে তার কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি।

সোনে ইন্টারন্যাশনাল ও কথোওয়াইন যৌথভাবে আলিকদমে কাজ করেন। ২০২৩ সালে আলিকদমের জন্য ৪২৯০ জনের জন্য বরাদ্দ করে, ৮৯,০৪,৯৩২/-

ব্র্যাক পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের ৫টি প্রকল্প চলমান। এগুলো হলো: জিআরইএসপি প্রকল্প, এসএসএসিটিএন প্রকল্প, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া কর্মসূচি প্রকল্প, মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি প্রকল্প ও ব্ল‍্যাক শিক্ষা কর্মসূচি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য যা বলা হয়েছে তার আড়ালে তারা ইসলাম বিরোধী কাজ করেন, মুসলিম নারীদের ঘর থেকে বের করেন এবং উপজাতিদের বাঙালি বিদ্বেষী করে তোলেন। ঋণ বিতরণে অনিয়ম, বৈষম্য ও সুদ অতিরিক্ত আদায় করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি বাঙালি সমানে সমান। অনেক এলাকায় বাঙালি বেশি কিন্তু তাদের কর্মী নিয়োগে শতভাগ উপজাতি বা ৯০% উপজাতি নিয়োগ প্রদান করা হয়। যা বৈষম্যের শামিল। জেলা প্রশাসনকে তারা যে মাসিক রিপোর্ট প্রদান করে সেখানে পরিপূর্ণ তথ্য ও কার্যবিবরণী দেওয়া হয় না। তাদের অনেক অদৃশ্য কার্যক্রম রয়েছে।

আইডিএফ ও আশা তারা বিভিন্ন অজুহাতে অনেক সময় মাসিক রিপোর্ট প্রদান করে না। তাদের কার্যক্রম নিয়েও ব্যাপক অভিযোগ আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে এই রকম প্রকাশ্য ও গোপনে অনেক এনজিও কার্যক্রম চলমান। তারা পরিপূর্ণ মনিটরিং বা তদারকির অভাবে নিজেদের খেয়াল খুশি মত কার্যক্রম পরিচালনা করে। জেলা প্রশাসক এসব এনজিও দেখার কথা থাকলেও দায়সারা মাসিক প্রতিবেদন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেন।
চলমান-
সূত্র: www.hillnewsbd.com

Want your business to be the top-listed Government Service in Rangamati?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Rangamati
2001