সচেতন নাগরিক ফোরাম: ১৩ নং শাল্টিগোপালপুর

সচেতন নাগরিক ফোরাম: ১৩ নং শাল্টিগোপালপুর

Share

১৩ নং শাল্টিগোপালপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন, সচেতনতা ও অসংগতির বিরুদ্ধে শিক্ষিত তরুণদের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।

Photos from সচেতন নাগরিক ফোরাম: ১৩ নং শাল্টিগোপালপুর

's post 02/05/2026

🏛️ধাপ উদয়পুর: রাজা ভবচন্দ্রের হারিয়ে যাওয়া রাজ্য📜

(একটি সংকলিত গবেষণা 🗞️)

📚📍মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩ নং গোপালপুর ইউনিয়নের ধাপ উদয়পুর গ্রামটি মানচিত্রে একটি সাধারণ গ্রাম হিসেবেই চিহ্নিত। কিন্তু যখন আমি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নথি এবং পুরনো জনশ্রুতির সন্ধান করি, তখন দেখি এই গ্রামটি আসলে একটি হারিয়ে যাওয়া রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ। রাজা ভবচন্দ্র বা হবচন্দ্রের নামে যে রাজ্য ছিল, তার সাক্ষী এখনো এই ধাপের মাটিতে লুকিয়ে আছে।

⚔️ ১. রাজা ভবচন্দ্র: ইতিহাস নাকি জনশ্রুতি?

প্রাচীন গ্রন্থের সূত্র

দীনেশচন্দ্র সেনের "গোপীচন্দ্র" গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে রংপুর অঞ্চলের প্রবাদ অনুযায়ী উল্লেখ আছে যে, গোপীচন্দ্রের পুত্রের নাম ছিল উদয়চন্দ্র বা ভবচন্দ্র। রংপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চলে বাগদুয়ার পরগণায় ভবচন্দ্রের বাসভবনের ধ্বংসাবশেষ এখনো প্রদর্শিত হইয়া থাকে এবং ভবচন্দ্রের বা হবচন্দ্রের নির্ব্বুদ্বিতার অনেক গল্প এখনও ঠাকুরমার ঝুলি অন্বেষণ করিলে প্রাপ্ত হওয়া যায়।
এটি মাত্র একটি জনশ্রুতি নয়। কৈলাসচন্দ্র সিংহ ত্রিপুরা জেলার চৌদ্দগ্রাম ও তৎসন্নিহিত স্থানেও ভবচন্দ্র নামে এক রাজার উল্লেখ করিয়াছেন। সম্ভবত রংপুরের ভবচন্দ্র ও চৌদ্দগ্রামের ভবচন্দ্র অভিন্ন। মাণিকচন্দ্র ও গোপীচন্দ্রের ত্রিপুরা ও রংপুর জেলা উভয় অঞ্চলে রাজত্ব থাকিলে তদ্বংশীয় ভবচন্দ্রের না থাকিবার কথা কি?

মুদ্রার সন্ধান: প্রমাণের খোঁজে

গ্লেজিয়ার সাহেব তাঁহার রংপুরের বিবরণে উল্লেখ করিয়াছেন যে, এ জেলায় খৃঃ অষ্টাদশ শতাব্দীতে পায়রাবন্দ নামক স্থানে কতকগুলি মুদ্রা পাওয়া গিয়াছিল। এক বৃদ্ধ তাঁহাকে বলিয়াছিল যে, তাহার একটীর উপর এক দিকে ভবচন্দ্র রাজার নাম ও অপরদিকে তাঁহার গৃহদেবী বাগীশ্বরী খোদিত দেখা গিয়াছিল। দুঃখের বিষয়, গোপীচন্দ্র বা ভবচন্দ্রের কোন মুদ্রা বা খোদিত লিপির পরিচয় এ পর্য্যন্ত পাওয়া যায় নাই। পাওয়া গেলে এই যুগের ঐতিহাসিক রহস্য উদ্ঘাটনের বিশেষ সহায়তা ঘঠিত।

🔍সূত্র: ।

🗺️ ২. ধাপ উদয়পুর: নামের পেছনের অর্থঃ

"ধাপ" = উঁচু স্থান

স্থানীয়ভাবে প্রত্নতত্ত্ব স্থানটি "ধাপ" নামে পরিচিত। ধাপ অর্থ উঁচু স্থান। এটি সূচিত করে যে এই এলাকাটি প্রাকৃতিকভাবে উঁচু ছিল, এবং সম্ভবত রাজবাড়ি বা দুর্গ নির্মাণের জন্য এটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

"উদয়পুর" = উদয়চন্দ্রের শহর?

রাজা ভবচন্দ্রের আরেক নাম ছিল উদয়চন্দ্র। তাহলে কি "উদয়পুর" মানে "উদয়চন্দ্রের পুর"? এটি একটি যৌক্তিক অনুমান যা স্থানীয় নামকরণের ঐতিহাসিক পটভূমিকে আরও সমৃদ্ধ করে।

🕌 ৩. রাজা গোপাল ও ভবচন্দ্র পাল: দুই রাজার এক রাজ্য?

গোপালপুর ইউনিয়নের নামকরণ সম্পর্কে উইকিপিডিয়ায় উল্লেখ আছে যে, মোঘল শাসন আমলের রাজা গোপাল এর নামানুসারে এ ইউনিয়নের নাম রাখা হয় "গোপালপুর"। রাজা গোপাল এর রাজবাড়ি ইউনিয়নের উদয়পুরে আছে ।
একই উৎসে আরও উল্লেখ আছে যে, মোঘল শাসন আমলে রাজা গোপাল ও ভবচন্দ্র পাল এর রাজবাড়ী ও প্রকৃতি প্রদত্ত ৫০০ একর সুবিশাল শালবন ও রাবার বাগান ছিল।

গবেষণার প্রশ্ন: মুঘল আমলের আগেই কি রাজ্য ছিল?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে "মোঘল শাসন আমলের রাজা গোপাল"। কিন্তু দীনেশচন্দ্র সেনের গ্রন্থ অনুযায়ী ভবচন্দ্রের রাজত্ব গোপীচন্দ্রের বংশধর হিসেবে, যা সম্ভবত মুঘল আমলেরও আগে।
তাহলে কি ধাপ উদয়পুরে মুঘল আমলের আগেই একটি হিন্দু রাজ্য ছিল, যা পরে মুঘলদের অধীনে চলে আসে? এবং রাজা গোপাল কি সেই পুরনো রাজ্যের শেষ শাসক, নাকি মুঘল আমলে নিযুক্ত একজন নবাব?

🌊 ৪. পাঁচ রানীর পুকুর: রাজকীয় প্রেমের সাক্ষী
পুকুরগুলোর তালিকা
ধাপ উদয়পুরে রাজা গোপাল ও ভবচন্দ্র পালের চারজন রানীর নামে পাঁচটি পুকুর খনন করা হয়েছিল।
সেগুলো হলো:
প্রথমটি শুভরানী পুকুর — শুভ্রা রানীর নামে।
দ্বিতীয়টি কদরানী পুকুর — কদরা রানীর নামে।
তৃতীয়টি ঝলেআনী পুকুর — ঝলেআ রানীর নামে।
চতুর্থটি পদ্ম পুকুর — পদ্মা রানীর নামে।
এবং পঞ্চমটি ঘোটক পুকুর — ঘোটক রানীর নামে।

উইকিপিডিয়ায় আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য উল্লেখ আছে — রাজার ছেলে-মেয়ে, নাতী-নাতনী সহ ১০০টি পুকুর। এটি কি শুধু জনশ্রুতি, নাকি আসলেই এতগুলো পুকুর ছিল?
স্থানীয়ভাবে এখনো "চার রানীর পুকুর" বলা হয়। সম্ভবত পঞ্চমটি পরে যোগ করা হয়, অথবা এটি অন্য রাজার সময়কার। কিন্তু ১০০টি পুকুরের কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে ধাপ উদয়পুর ছিল একটি বিশাল রাজকীয় জল ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র।

🌲🌳 ৫. ৫০০ একর শালবন ও রাবার বাগান: প্রকৃতির রাজ্য

রাজকীয় শিকারখেত্র

মুঘল শাসন আমলে রাজা গোপাল ও ভবচন্দ্র পালের ৫০০ একর সুবিশাল শালবন ও রাবার বাগান ছিল। এই বনভূমি ছিল রাজাদের শিকারখেত্র, গোচারণ ভূমি, এবং প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদের ভাণ্ডার।

বরেন্দ্র বনের অংশ

মিঠাপুকুরের পশ্চিমাঞ্চলে প্রচুর শালবন রয়েছে, যা এক সময় বিশাল বরেন্দ্র বনের অংশ ছিল। গোপালপুর বন এই এলাকার একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিরূপ। মিঠাপুকুর জাতীয় উদ্যানের একটি অংশ শালটি গোপালপুর মৌজায় অবস্থিত।
এটি সূচিত করে যে রাজা গোপাল ও ভবচন্দ্রের শালবন কেবল তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না, বরং একটি বৃহৎ বন্যপ্রাণী ও পরিবেশগত করিডোরের অংশ ছিল।

গ্রামের তালিকাঃ

বর্তমানে ধাপ উদয়পুর গোপালপুর ইউনিয়নের ১০ নং গ্রাম। ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোট কৃষ্ণপুর তেঁতুলবাড়ি(এজরাপাড়া), শাল্টিপাড়া, গোপালপুর, বগেরবাড়ী, মন্ডলপাড়া, ধাপশ্যামপুর, রামেশ্বরপুর মরিচবাড়ী, রাঙ্গাপুকুর, এবং দুর্গামতি।

নামগুলোর ঐতিহাসিক সূত্রঃ

এই গ্রামের নামগুলোতেও ঐতিহাসিক সূত্র লুকিয়ে আছে। ধাপশ্যামপুর — শ্যামপুর? কৃষ্ণ বা শ্যামের নামে? রামেশ্বরপুর — রামেশ্বর দেবতার নামে? দুর্গামতি — দুর্গা দেবীর নামে? এই নামগুলো সূচিত করে যে গোপালপুর ইউনিয়নে হিন্দু ধর্মীয় উপাসনার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল, যা পরে মুসলিম সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে।

🚫⛔৬. গবেষণার সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচিঃ

যা পাওয়া গেছে

রাজা ভবচন্দ্রের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে দীনেশচন্দ্র সেনের "গোপীচন্দ্র" গ্রন্থ থেকে। মুদ্রার সন্ধানের কথা জানা গেছে গ্লেজিয়ার সাহেবের রংপুর বিবরণ থেকে। ধাপ উদয়পুরের অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নথি থেকে। পাঁচ রানীর পুকুরের তথ্য পাওয়া গেছে উইকিপিডিয়ার গোপালপুর ইউনিয়ন প্রবেশদ্বার থেকে। ৫০০ একর শালবনের কথাও একই উৎস থেকে জানা গেছে। এবং বাগদুয়ার ঢিবির অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকা থেকে।

যা এখনো পাওয়া যায়নি

ভবচন্দ্রের মুদ্রা বা খোদিত লিপি এখনো পাওয়া যায়নি। রাজবাড়ীর সুনির্দিষ্ট স্থান নির্দেশ করা যায়নি। ১০০টি পুকুরের সঠিক অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি। এবং রাজা গোপাল ও ভবচন্দ্রের সময়কাল নির্ণয় করা যায়নি।

🌐 📖 গবেষণায় ব্যবহৃত প্রাথমিক সূত্রঃ

১. বাংলাপিডিয়া — মিঠাপুকুর উপজেলা প্রবেশদ্বার।
২. উইকিপিডিয়া — গোপালপুর ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর।
৩. দীনেশচন্দ্র সেন, "গোপীচন্দ্র" (দ্বিতীয় খণ্ড)।
৪. বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর — বাগদুয়ার ঢিবি। এবং মিঠাপুকুর উপজেলা পর্যটন স্পট সম্পর্কিত তথ্য।
5. স্থানীয় জনশ্রুতি ও বয়োবৃদ্ধদের সাক্ষাৎকার (স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত)

💡ধাপ উদয়পুর কেবল একটি গ্রাম নয়, এটি একটি স্তরযুক্ত ইতিহাসের সাক্ষী। যেখানে গোপীচন্দ্রের বংশধর ভবচন্দ্রের রাজত্ব, মুঘল আমলের রাজা গোপালের শাসন, পাঁচ রানীর পুকুর, ৫০০ একর শালবন, এবং সুফি সাধকের মাজার — সব একত্রিত হয়েছে।
গ্লেজিয়ার সাহেবের মুদ্রার সন্ধান এবং বাগদুয়ার ঢিবির ধ্বংসাবশেষ আমাদের বলে দেয় যে এই এলাকায় আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন আছে। হয়তো একদিন ধাপ উদয়পুরের মাটি থেকে ভবচন্দ্রের সেই হারিয়ে যাওয়া মুদ্রা বেরিয়ে আসবে, এবং রংপুরের ঐতিহাসিক রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।

Photos from সচেতন নাগরিক ফোরাম: ১৩ নং শাল্টিগোপালপুর

's post 01/05/2026

🏛️মিঠাপুকুর: নামের পেছনে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস📜

(একটি সংকলিত গবেষণা 🗞️)

📚📍রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলা। নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মুঘল সুবাদার মীর জুমলার খননকৃত বিশাল পুকুরের কথা। কিন্তু এই নামের পেছনে কি শুধুই মুঘল ইতিহাস? নাকি তারও আগে, আরও গভীরে, লুকিয়ে আছে অন্য কিছু? এই প্রশ্নই আমাকে বিভিন্ন প্রাচীন নথি, মানচিত্র, স্থানীয় জনশ্রুতি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্র অনুসরণ করে এই গবেষণায় নিয়ে গেছে। যা পেয়েছি, তা মিঠাপুকুরের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ ও বহুস্তরীয় করে তোলে।

⚔️ ১. প্রচলিত ইতিহাস: মীর জুমলার পুকুরঃ

মিঠাপুকুরের নামকরণ নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যাটি মুঘল আমলের সাথে জড়িত। মুঘল সুবাদার মীর জুমলা (মুহাম্মাদ সায়েদ খান) ১৬৬০ সালের দিকে রংপুর অঞ্চল জয় করেন এবং এই এলাকায় একটি বিশাল পুকুর খনন করান। সময়ের বিবর্তনে "মীরের পুকুর" থেকে "মিঠাপুকুর" হয়ে যায় — এটিই সরকারি ও পাঠ্যবইয়ের স্বীকৃত ইতিহাস।

🔍সূত্র: বাংলাপিডিয়া, মিঠাপুকুর উপজেলা প্রবেশদ্বার; উইকিপিডিয়া, মিঠাপুকুর উপজেলা।

🗺️ ২. জেমস রেনেলের মানচিত্র: একটি ভিন্ন নামের সন্ধানঃ

কিন্তু যখন আমি ১৭৭৬ সালের জেমস রেনেলের (James Rennell) বিখ্যাত বাংলার মানচিত্রটি পরীক্ষা করি, সেখানে মিঠাপুকুরের নাম দুটি ভিন্ন রূপে লিপিবদ্ধ পাই:

"Mettypukre"

"Mettypokra"
এই বানানগুলো থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। যদি নামটি কেবল "মীরের পুকুর" থেকে এসে থাকত, তবে রেনেলের মতো নিখুঁত কার্টোগ্রাফার কেন "Metty" বা "Metti" ব্যবহার করতেন? "Mir" এর ইংরেজি বানান "Metty" হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বরং, এটি সূচিত করে যে স্থানীয় উচ্চারণে কোনো "মিঠা" বা "মিঠান" ধ্বনি ছিল, যা পরে "মীর" এর সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়।

🔍সূত্র: জেমস রেনেলের "A Map of Bengal, Bahar, Oude, Allahabad" (১৭৭৬); বাংলাপিডিয়া, মিঠাপুকুর উপজেলা প্রবেশদ্বার।

🕌 ৩. শাহ ইসমাইল গাজী সংযোগ: একটি জনশ্রুতির খোঁজঃ

স্থানীয় বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে এখনো একটি কম প্রচলিত কাহিনী শোনা যায়। অনুযায়ী, মীর জুমলার আগেই শাহ ইসমাইল গাজী (১৩৫০-১৪৩০) এই এলাকায় এসেছিলেন এবং একটি পুকুর খননের নির্দেশ দিয়েছিলেন। শাহ ইসমাইল গাজী ছিলেন একজন সুফি সাধক যিনি উত্তরবঙ্গে ইসলাম প্রচার করেছিলেন এবং তার নামে রংপুরের পীরগঞ্জেও একটি বিখ্যাত দরগাহ রয়েছে।

এই জনশ্রুতির ঐতিহাসিক প্রমাণ সীমিত হলেও, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করে: মিঠাপুকুরের পুকুর সংস্কৃতি কি কেবল মুঘল আমলের, নাকি তারও আগে সুফি আন্দোলনের সময় থেকে শুরু? যদি এটি সত্যি হয়, তবে মিঠাপুকুরের নামের পেছনের ইতিহাস আরও এক শতাব্দী পিছিয়ে যায়।

🔍সূত্র: স্থানীয় জনশ্রুতি; বাংলাপিডিয়া, মিঠাপুকুর উপজেলা প্রবেশদ্বার (বিকল্প তত্ত্র উল্লেখ); শাহ ইসমাইল গাজীর রংপুর অঞ্চলে কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত ঐতিহাসিক নথি।

🌊 ৪. "মিঠা" পানির ভৌগোলিক ব্যাখ্যাঃ

আরেকটি তত্ত্ব, যা আমি বিভিন্ন ভৌগোলিক ও হাইড্রোলজিক্যাল সূত্র থেকে সংগ্রহ করি, তা হলো — এই পুকুরের পানি ছিল অস্বাভাবিক মিষ্টি। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য পুকুরের তুলনায়, বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের লবণাক্ত মাটির প্রেক্ষাপটে, মিঠাপুকুরের পানি ছিল তুলনামূলকভাবে মিষ্টি। স্থানীয়রা হয়তো একে "মিঠা পানির পুকুর" বলতেন, যা কালক্রমে "মিঠাপুকুর" হয়ে যায়।

এই ব্যাখ্যাটি রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ইতিহাসের বাইরে একটি প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক কারণ তুলে ধরে, যা নামের বহুমাত্রিকতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

🛕 ৫. "মঠপুকুর" থেকে "মিঠাপুকুর": প্রত্নতাত্ত্বিক সম্ভাবনাঃ

গবেষণার সময় আমি কিছু পুরনো নথিতে এই এলাকাকে "মঠপুকুর" হিসেবেও উল্লেখ পাই। "মঠ" — অর্থাৎ বৌদ্ধ বা হিন্দু ধর্মীয় কেন্দ্র — থেকে "মঠ" ধ্বনি বিকৃত হয়ে "মিঠ" হতে পারে। মিঠাপুকুরে বেনুবন বৌদ্ধ বিহার এবং প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, যা এই তত্ত্বকে কিছুটা সমর্থন করে।

এটি দেখায় যে মিঠাপুকুর কেবল মুসলিম ও মুঘল সংস্কৃতির কেন্দ্র ছিল না, বরং সম্ভবত প্রাচীন বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল।

🔍সূত্র: বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নথি; বাংলাপিডিয়া, মিঠাপুকুর উপজেলা (প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান উল্লেখ); বেনুবন বৌদ্ধ বিহার সম্পর্কিত তথ্য।

৬. মীর জুমলার সময়কাল: একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিঃ

মীর জুমলা রংপুরে ১৬৬০ সালে আসেন এবং ১৬৬৩ সালে মারা যান — মাত্র তিন বছরের মধ্যে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি কতগুলো বিশাল পুকুর খনন করতে পারেন, তা নিয়েও ঐতিহাসিক প্রশ্ন রয়েছে। সম্ভবত তিনি বিদ্যমান কিছু পুকুরকে সম্প্রসারিত বা সংস্কার করেছিলেন, যা পরে তাঁর নামে চালু হয়ে যায়। এটি মিঠাপুকুরের নামকরণের মীর জুমলা-কেন্দ্রিক ব্যাখ্যাকে কিছুটা জটিল করে তোলে এবং অন্য তত্ত্রগুলোর গুরুত্বকে বাড়িয়ে দেয়।

🌐 📖 গবেষণায় ব্যবহৃত প্রাথমিক সূত্র:
1. বাংলাপিডিয়া — মিঠাপুকুর উপজেলা প্রবেশদ্বার
2. উইকিপিডিয়া — মিঠাপুকুর উপজেলা
3. জেমস রেনেল, "A Map of Bengal, Bahar, Oude, Allahabad" (১৭৭৬)
4. বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর — মিঠাপুকুরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানসমূহ
5. স্থানীয় জনশ্রুতি ও বয়োবৃদ্ধদের সাক্ষাৎকার (স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত)

💡মিঠাপুকুরের নামটি শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়, এটি একটি স্তরযুক্ত ইতিহাসের সাক্ষী। যেখানে মুঘল, সুফি, প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য একত্রিত হয়েছে।
জেমস রেনেলের মানচিত্রে "Mettypukre" লেখাটি আমাদের বলে দেয় যে, মীর জুমলার আগেও এই নামটি কোনো রূপে বিদ্যমান ছিল। স্থানীয় জনশ্রুতি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্রগুলো আমাদের আরও গভীরে নিয়ে যায় — একটি এমন অতীতে যেখানে মঠের ঘণ্টা, সুফির আজান, এবং মুঘলের তোপ একই পুকুরের পাড়ে প্রতিধ্বনিত হতে পারত।
এই গবেষণার মাধ্যমে মিঠাপুকুরকে শুধু একটি উপজেলা হিসেবে নয়, উত্তরবঙ্গের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অনন্য প্রতীক হিসেবে দেখার আহ্বান জানাই।

30/04/2026

🎯 তোমার সময়ের হিসাবঃ

ধরো, তুমি প্রতিদিন মোবাইলে ৪ ঘণ্টা সময় নষ্ট করো।
এক বছরে তা হয় ১৪৬০ ঘণ্টা। এই সময়ে তুমি:

★একটি নতুন ভাষা শিখতে পারো
★একটি কম্পিউটার কোর্স শেষ করতে পারো
★৫০টা বই পড়তে পারো
★একটি ব্যাবসার আইডিয়া কাজে লাগাতে পারো

এই সময়টাই তোমার জীবন বদলে দিতে পারে।

Photos from সচেতন নাগরিক ফোরাম: ১৩ নং শাল্টিগোপালপুর

's post 29/04/2026

প্রিয় ১৩ নং শাল্টিগোপালপুর ইউনিয়নবাসী,

​এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের পথপরিক্রমায় আমরা প্রত্যেকেই একেকটি দায়িত্ব নিয়ে পৃথিবীতে এসেছি। সময়ের প্রয়োজনে আমরা আজ এখানে আছি, কাল হয়তো থাকবো না। কিন্তু আমরা পেছনে কী রেখে যাচ্ছি, সেটাই আমাদের আসল পরিচয়। আমাদের প্রিয় ইউনিয়নের আলো-বাতাসে বেড়ে উঠে আমরা যদি এর অসংগতি, উন্নয়ন আর উজ্জ্বল সম্ভাবনাগুলো নিয়ে কথা না বলি, তবে আমাদের এই শিক্ষিত পরিচয় কেবল একটি সনদেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

​সেই দায়বদ্ধতা থেকেই জন্ম নিয়েছে— ‘সচেতন নাগরিক ফোরাম: ১৩ নং শাল্টিগোপালপুর’।

​আমাদের লক্ষ্য:
​অসংগতির প্রতিবাদ: ইউনিয়নের যেকোনো সামাজিক অসংগতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠনমূলক জনমত তৈরি করা।

​উন্নয়নের সহযাত্রী: স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে সচেতন নাগরিক হিসেবে মতামত ও তদারকি করা।

​সফলতা উদযাপন: আমাদের ইউনিয়নের কৃতি সন্তান, মেধাবী শিক্ষার্থী ও সফল উদ্যোক্তাদের গল্প জনসমক্ষে এনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করা।

​সচেতনতা বৃদ্ধি: সামাজিক ব্যাধি দূর করে একটি আদর্শ ও আধুনিক ইউনিয়ন গড়তে ভূমিকা রাখা।
​এটি কোনো রাজনৈতিক প্লাটফর্ম নয়; বরং এটি আমাদের ইউনিয়নের শিক্ষিত ও সচেতন তরুণদের একটি মিলনমেলা। যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকবে সামাজিক কল্যাণ।

​আসুন, আমরা আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তুলি। সত্যের পক্ষে কথা বলি এবং শাল্টিগোপালপুরকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করি।
​আপনার মূল্যবান মতামত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের কাম্য।

​ধন্যবাদান্তে,
এডমিন প্যানেল
সচেতন নাগরিক ফোরাম: ১৩ নং শাল্টিগোপালপুর ইউনিয়ন।

Want your business to be the top-listed Government Service in Rangpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

13 No Shaltigopalpur
Rangpur
5460