ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ
SUST Students' League
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অফিসিয়াল পেইজ।
ভালোবাসা মানে অন্ধ সমর্থন নয়, ভালোবাসা মানে আশা করা—আর সেই আশার জায়গা থেকেই আমার এই ভালোবাসা। 🇧🇩❤️
12/12/2025
11/12/2025
বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় প্রান্তিক দরিদ্র কৃষকের ১ বিঘা জমির ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
শাপলা ম্যাসাকার নাকি সাজানো নাটক
বিবিসি প্রধান মোস্তফা ভাইয়ের থেকে শুনেন।
মানুষের আবেগকে দুর্বলতাকে পুজি করে সাজানো নাটক চলবে না।
জয় বাংলা
11/12/2025
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দখলদার ইউনূস সরকার পতনের মহাআন্দোলনে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতি ছাত্রলীগের সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা :
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ছিনতাই করে বসে থাকা অবৈধ , দখলদার, খুনি ও ফ্যাসিস্ট ইউনূসের সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে রাষ্ট্রমাতৃক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেই কর্মসূচির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানাচ্ছে। একই সাথে ছাত্রলীগের প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে এই কর্মসূচি দৃঢ়ভাবে সফল করতে হবে। রাষ্ট্রজুড়ে ভয়, নিপীড়ন ও সন্ত্রাসের যে দানবীয় শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধকে সংগঠিত করাই এখন সময়ের দাবি; আর সে প্রতিরোধের অগ্রণী বাহিনী ছাত্রলীগই।
অবৈধ গ্রেফতার, গায়েবী মামলা, শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার–সনদ বাতিলের নামে শিক্ষাজীবন ধ্বংস, শিক্ষক অপমান, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নগ্ন প্রদর্শন - সবকিছুর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ঘোষিত আন্দোলনের প্রতিটি মুহূর্তে সামনে থাকবে। জনগণের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠন করা এবং বঙ্গবন্ধুতনয়া দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নামে দায়ের করা মিথ্যা ও গায়েবী মামলা প্রত্যাহার করানো আজ ছাত্রসমাজের অস্তিত্বের লড়াই, আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ:
১১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার : সারা দেশে মশাল মিছিল
১২ ডিসেম্বর, শুক্রবার : বাদ জুম্মা বিক্ষোভ মিছিল
১৩ ডিসেম্বর, শনিবার : ঢাকাসহ সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা লকডাউন
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক ইউনিট—বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, প্রকৌশল, কলেজ, মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে উপরোক্ত কর্মসূচি সর্বোচ্চ শক্তি, শৃঙ্খলা ও ত্যাগের মনোভাবে সফল করতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঘোষণা করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের মর্যাদা এবং শিক্ষাঙ্গনের স্বাধীন পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রতিটি ইউনিটকে মাঠে নামতে হবে অটল সংকল্পে। কোনো দুর্বলতা, কোনো শৈথিল্য, কোনো ভয় কোনো কিছুই এই লড়াইকে থামাতে পারবে না। কারণ এই সংগ্রাম শুধু এক অবৈধ সরকারের পতনের জন্য নয় এই লড়াই বাংলাদেশকে অমানিশার আধার থেকে গণতান্ত্রিক আলোয় ফিরিয়ে আনার লড়াই; আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, নাগরিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। বাংলাদেশকে বিদেশি ভূরাজনীতির দাবার গুটি বানাতে যারা উঠে পড়ে লেগেছে আমরা তাদের শিকার হবো না। এই দেশকে পরিচালনা করবে জনগণ এবং জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত গণতান্ত্রিক শক্তি, কোনো দখলদার, পরাশক্তির তল্পিবাহক বা মৌলবাদী এজেন্ট নয়। এই অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রলীগের লড়াই চলবেই।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
11/12/2025
সরাদিন মব করতে চাওয়া ছোট ভাইটি যখন নিজেই মবের শিকার হয়
ক্ষমতা না জনতা?
ধর্মব্যাবসা
09/12/2025
"গাজায় ইজরায়েল এতো আধুনিক অস্ত্র দিয়ে তিরিশ লাখ মারতে পারছে?"
ফিলিস্তিনে সর্বশেষ গত দেড় বছর ধরে ইসরায়েল বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র, ড্রোন, মিসাইল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যে ভয়াবহ গণহত্যা চালাচ্ছে, তাতে তো নিহতের সংখ্যা ত্রিশ লাখে পৌঁছায়নি, তাহলে আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী তাদের মান্ধাতার আমলের অস্ত্র বা সাধারণ রাইফেল দিয়ে কীভাবে মাত্র নয় মাসে ২০-৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করতে পারে?
আপাতদৃষ্টিতে এই প্রশ্নটি অনেকের কাছে খুব সলিড মনে হতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটার গভীরে ঢুকলে বোঝা যাবে এখানে আপেল এবং কমলার মধ্যে তুলনা করার মতো এক অদ্ভুত অবাস্তব সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুরুতেই সব থেকে বড় যে গাণিতিক ও ডেমোগ্রাফিক ভুলটি এই তর্কে করা হয় তা হলো জনসংখ্যার আকার বা মোট পপুলেশনের হিসাবটি বিবেচনায় না নেওয়া। কারণ ইসরায়েল চাইলেও গাজায় ত্রিশ লাখ মানুষ মারতে পারবে না, এর অত্যন্ত সরল কারণ হলো গাজার মোট জনসংখ্যাই ত্রিশ লাখ নয়। গাজা স্ট্রিপ বা উপত্যকার বর্তমান মোট জনসংখ্যা প্রায় তেইশ লাখের কাছাকাছি, তাই যেখানে মোট মানুষই আছে তেইশ লাখ সেখানে ত্রিশ লাখ মানুষ হত্যা করা গাণিতিকভাবে অসম্ভব যদি না বাইরে থেকে মানুষ আমদানি করে সেখানে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে সাত কোটি এবং সেই সাড়ে সাত কোটি মানুষের বিশাল জনসমুদ্রের মধ্যে ২০-২৫ লাখ মানুষকে হত্যা করা মানে হলো মোট জনসংখ্যার মাত্র চার শতাংশ মানুষকে নির্মূল করা যা।
এখন যদি আমরা গাজার বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকাই এবং মৃত্যুর হারের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করি তবে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে কারণ গাজায় গত এক-দেড় বছরে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের অফিসিয়াল সংখ্যা সত্তুর হাজার ছাড়িয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা নিশ্চিত করেছে, কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া হাজার হাজার মানুষ এবং যুদ্ধকালীন অনাহার, রোগবালাই ও চিকিৎসার অভাবে পরোক্ষভাবে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের হিসাব এই অফিসিয়াল তালিকায় সবসময় উঠে আসে না।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল 'দ্য ল্যানসেট'-এর সাম্প্রতিক গবেষণা এবং প্রক্ষেপণ অনুযায়ী গাজায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এক লাখ ছিয়াশি হাজার বা তারও বেশি হতে পারে এবং যদি আমরা এই সংখ্যাটিকেই ধরি তবে দেখা যাবে গাজার মোট তেইশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় দুই লাখ মানুষ নাই হয়ে গেছে যা মোট জনসংখ্যার প্রায় আট শতাংশেরও বেশি।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে নিহতের হার ছিল মোট জনসংখ্যার চার শতাংশ আর ২০২৪ সালে গাজায় নিহতের হার মোট জনসংখ্যার আট শতাংশেরও বেশি।
অর্থাৎ জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে গাজার মৃত্যুহার একাত্তরের চেয়েও ভয়াবহ। যেখানে পাকিস্তান আর্মি একটা জনগোষ্ঠীর ৪ শতাংশ মানুষকে মেরেছে সেখানে ইজরায়েল মেরেছে ফিলিস্তিনের ৮ থেকে ৯ শতাংশ মানুষকে।
-
দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে সবথেকে বেশি তর্ক হয় তা হলো হত্যার হারের বিষয়টি কারণ অনেকে ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে যান এবং হিসাব কষে বলেন যে ত্রিশ লাখ মানুষ নয় মাসে মারা গেলে প্রতিদিন গড়ে এগারো হাজার মানুষকে হত্যা করতে হয় যা নাকি অসম্ভব বা অবাস্তব।
কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় এই সংখ্যাটি মোটেও নজিরবিহীন নয় বরং এর চেয়েও কম সময়ে এবং কম প্রযুক্তিতে এর চেয়েও বেশি হারে মানুষ হত্যার ঘটনা পৃথিবীতে ঘটেছে।
এর সব থেকে বড় ও জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ হলো ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যা যেখানে হুতু ও তুতসি জাতিগোষ্ঠীর দাঙ্গায় মাত্র একশো দিনের ব্যবধানে প্রায় দশ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল এবং সেই হত্যাযজ্ঞে কোনো পারমাণবিক বোমা, ড্রোন বা মিসাইল ব্যবহার করা হয়নি বরং মূলত রামদা, চাপাতি এবং সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেই এই ভয়াবহ ম্যাসাকার চালানো হয়েছিল।
রুয়ান্ডার সেই পরিসংখ্যান যদি আমরা বিশ্লেষণ করি তবে দেখা যায় সেখানে প্রতিদিন গড়ে দশ হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছিল যা বাংলাদেশের দৈনিক এগারো হাজার মানুষ হত্যার পরিসংখ্যানের একদম কাছাকাছি, অর্থাৎ ভোঁতা অস্ত্র বা লো-টেক প্রযুক্তি দিয়েও যে প্রতিদিন দশ-বারো হাজার মানুষ মারা সম্ভব তা রুয়ান্ডার ইতিহাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে রুয়ান্ডায় তো জাতিগত দাঙ্গা ছিল যেখানে সাধারণ মানুষও হত্যায় অংশ নিয়েছিল কিন্তু বাংলাদেশে তো প্রাতিষ্ঠানিক সেনাবাহিনী ছিল, তাহলে কি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একার পক্ষে এটা সম্ভব ছিল?
এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের নাইজেরিয়ার বায়াফ্রা যুদ্ধের দিকে তাকাতে হবে যেখানে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধে নাইজেরিয়ান সেনাবাহিনী প্রায় ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল এবং অবাক করার বিষয় হলো সেই হত্যাযজ্ঞ চালানোর সময় নাইজেরিয়ান সেনাবাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র পঁয়ত্রিশ হাজার।
মাত্র পঁয়ত্রিশ হাজার সৈন্য যদি আড়াই বছরে ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করতে পারে, তবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়মিত সদস্যই ছিল বিরানব্বই হাজারেরও বেশি এবং তাদের সাথে যোগ দিয়েছিল স্থানীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনীর লক্ষাধিক সদস্য যারা গ্রাম-গঞ্জে পথ চিনিয়ে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নিয়েছিল, তাই প্রায় দুই লাখের বেশি সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত ঘাতক বাহিনীর পক্ষে নয় মাসে ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করা কোনোভাবেই আশ্চর্যের বিষয় নয় বরং এটি তাদের সক্ষমতার মধ্যেই পড়ে।
কম্বোডিয়ার দিকে তাকালে আমরা আরও ভয়াবহ চিত্র দেখি যেখানে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে খেমার রুজ বাহিনী তাদের নিজস্ব জনগোষ্ঠীর প্রায় সতেরো থেকে ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল এবং সেই সময় কম্বোডিয়ার মোট জনসংখ্যা ছিল মাত্র ছিয়াত্তর লাখ, অর্থাৎ তারা তাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় পঁচিশ থেকে ত্রিশ শতাংশ মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল এবং গড়ে প্রতিটি পরিবার থেকে একজন বা তার বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা একাত্তরের বাংলাদেশের চার শতাংশ মানুষ হত্যার তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ।
১৯১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোমান সাম্রাজ্য বা বর্তমান তুরস্কের শাসনামলে আর্মেনিয় গণহত্যায় মাত্র তিন বছরে পনেরো লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল যখন আর্মেনিয়দের মোট সংখ্যাই ছিল তেতাল্লিশ লাখ, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে মেরে ফেলা হয়েছিল এবং ১৯৩৭ সালে জাপানি বাহিনী চীনের নানকিং শহরে প্রবেশ করে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল যা ইতিহাসে 'রেপ অফ নানকিং' নামে পরিচিত।
এই প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করে যে গণহত্যা চালানোর জন্য অত্যাধুনিক লেজার গাইডেড মিসাইল বা স্যাটেলাইট প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না বরং প্রয়োজন হয় একটি পৈশাচিক 'ইনটেনশন' বা উদ্দেশ্য এবং একটি সুপরিকল্পিত 'সিস্টেমেটিক কিলিং' মেকানিজম যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পুরোদস্তুর ছিল কারণ তারা অপারেশন সার্চলাইটের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট টার্গেট করে করে মানুষ হত্যা শুরু করেছিল এবং তাদের উদ্দেশ্যই ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া।
বাংলাদেশের মাটির দিকে তাকালেও আমরা এই সিস্টেমেটিক কিলিং-এর ভয়াবহ প্রমাণ পাই কারণ ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির গবেষণা অনুযায়ী সারা দেশে হাজারের বেশি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে যার মধ্যে নয়শো বিয়াল্লিশটি বড় বধ্যভূমি হিসেবে চিহ্নিত এবং এর মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়তলী বধ্যভূমির একটি মাত্র গর্ত খুঁড়েই এগারোশো মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গেছে। একটি মাত্র গর্তে যদি এগারোশো মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যায় তবে সারা দেশের হাজার হাজার বধ্যভূমি, নদী-নালা, খাল-বিল এবং মাটির নিচে কত লক্ষ মানুষের হাড়গোড় চাপা পড়ে আছে তা কল্পনা করলেই গা শিউরে ওঠে।
খুলনার চুকনগর, সিলেটের শালুটিকর, মিরপুরের জল্লাদখানা কিংবা রায়েরবাজার বধ্যভূমির মতো জায়গাগুলো সাক্ষী দেয় যে পাকিস্তান বাহিনী এবং তাদের দোসররা মানুষকে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, জবাই করে এবং গণকবর দিয়ে হত্যা করেছে এবং এই কাজগুলো করার জন্য তাদের কোনো হাই-টেক অস্ত্রের দরকার হয়নি, দরকার হয়েছে কেবল পাশবিক হিংস্রতার।
যারা ত্রিশ লাখের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বা তর্কে লিপ্ত হন তাদের অনেকেই হয়তো জানেন না যে রুডলফ জোসেফ রুমেলের মতো আন্তর্জাতিক গবেষকরাও সর্বনিম্ন পনেরো লাখ মানুষের মৃত্যুর কথা বলেছেন, আবার অনেক গবেষক ত্রিশ লাখ বা তার বেশি সংখ্যার কথাও বলেছেন।
কিন্তু মূল বিষয়টি হলো সংখ্যাটি পনেরো লাখ হোক বা ত্রিশ লাখ হোক, এটি একটি জেনোসাইড বা গণহত্যা ছিল এবং এই সংখ্যাটি নিয়ে অহেতুক তর্ক করাটা অদরকারি।
পরিশেষে এটা বলা জরুরি যে, গণহত্যাকে কখনো কেবল সংখ্যার ফ্রেমে বেঁধে বিচার করা উচিত নয়, কিন্তু যখন সংখ্যার দোহাই দিয়ে ইতিহাসের একটি সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয় তখন পরিসংখ্যান এবং ইতিহাসের সঠিক তথ্য দিয়ে তার জবাব দেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়ে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দালালরা যে ভয়াবহতা চালিয়েছিল তা পৃথিবীর ইতিহাসের জঘন্যতম অধ্যায়গুলোর একটি এবং নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, কম্বোডিয়া বা আর্মেনিয়ার মতোই এটিও একটি নির্মম সত্য যা ভোঁতা অস্ত্র বা আধুনিক প্রযুক্তির তর্কে মলিন হওয়ার নয়।
এটাই তাদের কৌশল।
যারা মিথাকে নিজেদের কৌশল বলে প্রচার করে হিরো সাজতে চায়, জাতির ইতিহাসকে বিকৃত করে স্বাধীনতাকে অস্বীকার করতে চায়
তাদের ঠিকানা এই বাংলায় নয়
জেগে উঠো পদাতিক
জয় জয় ছাত্রলীগ
#শাবিপ্রবি_ছাত্রলীগ
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Sylhet
3114
