14/05/2026
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ফিকে হতে চলছে
-পীর সাহেব চরমোনাই
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, স্বাধীনতার প্রত্যাশা পূরণে অতিতের সরকারগুলোর ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রেক্ষিতেই ২০২৪ এ গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিলো। একটি সম্ভবনা তৈরি হয়েছিলো। দেশকে নতুন করে গঠন করার সম্ভবনা সৃষ্টি হয়েছিলো। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হওয়ায়, দেশের কাঠামোগত পরিবর্তন না হওয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ফিকে হতে চলছে। এর দায়িত্ব বর্তমান সরকারকে নিতে হবে।
আজ ১৪ মে, বৃহস্পতিবার নোয়াখালীর মাইজদি বাজারে অনুষ্ঠিত জেলা ও থানা যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর বলেন, দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ভালো না, দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলছে, জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে আছে, হামে শতশত শিশু মারা যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে নেয়া অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে। সরকারকে বলবো, জুলাইয়ের প্রত্যাশা ছিলো জনদুর্ভোগ দুর করা এবং স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ। সেই লক্ষে কাজ করতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে আমাদের অঙ্গিকার পূরণে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষের পাশে দাড়াতে হবে। জনগণের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে হবে।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
14/05/2026
“যারা আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য করে, আল্লাহ অবশ্যই তাদের সাহায্য করেন এবং তাদের পদক্ষেপ সুদৃঢ় করেন।”
(সূরা মুহাম্মদ: ৭)
13/05/2026
জনাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন ব্যাখ্যায় না বরং আইন প্রয়োগে মনোযোগী হোন
-অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমদ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আইন ও সংবিধান ব্যাখ্যায় আপনার পারঙ্গমতা বারংবার দেখিয়েছেন। এখন নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আইন প্রয়োগে মনোযোগ দিন। কারণ সাম্প্রতিক যে ধরণের নৃশংসতা ছড়িয়ে পড়ছে তা কোন সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। আইনের শক্ত প্রয়োগ অপরাধীদের মনে ভীতির সঞ্চার করে। তাই আইন প্রয়োগে কঠোর ও নিয়মনিষ্ঠ হতে হবে।
আজ ১৩ মে, বুধবার এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
চলতি বছরের অপরাধের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৪ মাসে ১১৫ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।
এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে মারা যায় ৩৪ শিশু। আর পারিবারিক পরিমণ্ডলে নির্যাতনে মারা যায় ২৫ শিশু। এছাড়া ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ১১ জনকে। আর ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করে দুই শিশু।
একই সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে ১৯৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
এই ৪ মাসে ৫৬ জন নারী তার স্বামীর দ্বারা হত্যার শিকার হন। স্বামীর পরিবার দ্বারা হত্যার শিকার হন ৮ জন। আর নিজের পরিবারের দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ২১ জন নারী।
এছাড়া এই সময়ের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র ৪ মাসে ধর্ষণের শিকার হন ১৮০ জন নারী। যার মধ্যে গ্যাং রেপের ঘটনা ছিল ৫৬টি। ধর্ষণের শিকার হওয়ার নারীদের মধ্যে ৬ বছরের কম বয়সি শিশুও আছে অন্তত ১৬ জন। যার মধ্যে একজনকে আবার গ্যাং রেপ করা হয়। আর ৪ মাসে ধর্ষণের কারণে হত্যার শিকার হয়েছেন অন্তত ৪৪ নারী।
অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ বলেন, এসব তথ্য পড়া যায় না, মানসিকভাবে অস্থির লাগে। রাষ্ট্রে সরকার থাকতে এমন নৃশংসতা কোন স্বাভাবিক ঘটনা না। সরকারকে এসব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতেই হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, সাম্প্রতিক বাংলাদেশি সিনেমায় নৃশংসতা দেখানোর প্রবনতা বেড়েছে। অনলাইনে নৃশংসতা সম্বলিত কন্টেন্টের ছড়াছড়ি। ফলে নাগরিক মনস্তত্ত্বে নৃশংসতা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। সরকারকে এই দিকেও নজরদারি করতে হবে।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
13/05/2026
দেশের সম্পদকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া ভালো লক্ষণ নয়। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার নাম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির কারণে বাংলাদেশ রাজস্ব হারাবে, বেশি দরে পণ্য কিনতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া অনুযায়ী নীতি ঠিক করতে হবে এবং বাধ্যতামূলকভাবে অসংখ্য শর্ত পালন করতে হবে- এমন চুক্তি বাতিল করার জন্য সরকারকে আহ্বান করছি।
--মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই
আমীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
12/05/2026
ভারত তার সীমান্ত রক্ষায় যা খুশি তাই করতে পারে,তবে বাংলাদেশ সীমান্তে বর্বরতা করা যাবে না
-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ দলের নিয়মিত বৈঠকে বলেছেন, পশ্চিমবাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এসে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত যেভাবে ঘোষণা দিয়েছে তাতে নিরাপত্তার চেয়ে রাজনীতি বেশি। তথাপিও আমরা মনে করি, ভারত তাদের সীমান্তে কি করবে না করবে তা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশ সীমান্তে কোন ধরণের বর্বরতা করা যাবে না। পরিবর্তিত বাংলাদেশ সীমান্তে কোন বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকে আর মেনে নেবে না।
আজ ১২ মে, মঙ্গলবার, পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের নিয়মিত বৈঠকে অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ এই মন্তব্য করেন। তিনি আরো যোগ করেন, একই ভাষাভাষি দুইটি প্রতিবেশি দেশের মধ্যকার সীমান্তে আইনের ফাঁক গলে নানা কর্মকাণ্ড হয়; উভয় দেশের নাগরিকরাই এসবের সাথে জড়িত থাকে। এসব কর্মকাণ্ডের আর্থিক দিকে বিবেচনায় বাংলাদেশের ক্ষতিই বেশি। আমাদের সাহসী সীমান্তরক্ষী বাহিনী সীমান্ত রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হয়ে সীমানা পাহারা দেয়। এই ক্ষেত্রে বিএসএফও যদি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে তাহলে সীমান্ত নিরাপদ হবে। কিন্তু বিএসএফের অতীতের আচরণ আমাদেরকে ক্ষুদ্ধ করেছে। পশ্চিমবাংলায় বিজেপির ক্ষমতাগ্রহণের পরে পরিস্থিতির উন্নতি আশা করছি এবং অবনতি হলে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করছি।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব হারুন অর রশীদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেম, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী শেখ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা এম হাছিবুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম রুহুল আমীন, ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ্ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ।
বার্তা প্রেরক
হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
10/05/2026
বিদ্যুৎখাতে পদ্ধতিগত অপচয় অনেক বেশি। নীতিগত ভুলের কারণে বিদ্যুতখাতে সরকারের অহেতুক ব্যয় আকাশচুম্বী। সরকারের নীতিগত ও পদ্ধতিগত ব্যর্থতার দায় জনগনের ওপরে চাপানো যাবে না। আমরা সরকারকে বলবো, বিদ্যুৎখাতে নীতি সংস্কার করুন, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দুর করুন। সরকারের আয় বৃদ্ধির জন্য রাজস্ব আদায়ে মনোযোগী হোন।
অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ
মহাসচিব
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
08/05/2026
মূল্যস্ফীতি রোধে সরকারের পদক্ষেপ দৃশ্যমান না, ফলে তা বেড়েই চলছে
-অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ বলেছেন, দেশে মূল্যস্ফীতি বরাবরই উচ্চ। নিম্নবিত্ত ও নির্ধারিত আয়ের মধ্যবিত্তের জন্য জীবন যাপন এখন জীবন সংগ্রামে পরিনত হয়েছে। সরকার আসে যায়; মূল্যস্ফীতি আর কমে না। ফ্যাসিবাদের পতন হলো, অন্তর্বর্তী সরকার আশা জাগানিয়া কিছু কাজ করলেও মূল্যস্ফীতি সহনীয় হয় নাই। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যদেশগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও আমরা পারলাম না। দেশে নির্বাচিত নতুন সরকার এলো। কিন্তু অবস্থার ইতিবাচক কোন পরিবর্তন নাই বরং মূল্যস্ফীতি আরো বেড়েছে। এপ্রিলে আগের মাসের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যক্রম ও পদক্ষেপ দৃশ্যমান না; ফলে তা জনমনে আস্থা তৈরি করতে পারছে না, মূল্যস্ফীতিও কমছে না। আমরা সরকারকে বলবো, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বা জ্বালানির অজুহাতে দায় না এড়িয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিন, শক্তহাতে মুনাফাখোর সিন্ডিকেটগুলোকে দমন করুন।
আজ শুক্রবার, ৮ মে এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব এই দাবি করেন।
তিনি বলেন,এপ্রিলের মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি শুধু জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। সরবরাহ ব্যবস্থায় অদক্ষতা, বিনিময় হারের চাপ, আমদানি ব্যয়, বাজার আচরণ এবং মূল্যস্ফীতির আশংকাও মূল্যস্ফীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকারের পক্ষে এসব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিলো। কিন্তু সরকার কাজের কাজ তেমন কিছু করে নাই। আমরা বলি, সরকারকে কাজ করতে হবে। ফ্যাসিবাদের উৎখাতের পরে গণতান্ত্রিক সরকারের সুফল মানুষকে অনুধাবন করতে দিতে হবে।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
07/05/2026
বিজিপির জয়ে কলকাতায় মুসলিমদের দোকান ভাংচুর
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজেপি ও ভারতকে দায়িত্বশীল হতে হবে
-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ বলেছেন, ভারতের পশ্চিমবাংলার নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপি জেতার পরে যে ধরণের সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তা কোন সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে জেতার পর ব্যাপক সহিংসতা শুরু করেছে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে মিছিল থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হামলা চালিয়ে একাধিক দোকান মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বুলডোজার দিয়ে নিউমার্কেটের দোকান ভাঙা শুরু হয়। মার্কেটের একটি বড় অংশজুড়ে চালানো হয় ভাঙচুর। নিউমার্কেটের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। বিজেপি কর্মীরা এ সময় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিচ্ছিল। পুরো এলাকা ছিল বিজেপির পতাকায় মোড়া। ভাঙচুর চালানোর সময় কলকাতা পুলিশের অসংখ্য সদস্যকে সেখানে দেখা যায়। পুরো ঘটনা পুলিশ সদস্যদের সামনেই ঘটে।
অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, যে নির্বাচন বা যে গণতন্ত্র সংখ্যালঘুর নিরাপত্তাহানীর কারণ হয় তা কোন নির্বাচন হতে পারে না, এটা কোন গণতন্ত্র হতে পারে না। আমরা বিজেপি কর্মীদের এহেন নোংরা সাম্প্রদায়িক মানসিকতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে। সেজন্য ভারত সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে দায়িত্ব নিতে হবে।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
05/05/2026
বিএনপি-জামায়াতের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একতরফাভাবে বাধ্যবাধকতা আরোপের চুক্তি জাতির জন্য অশনি সংকেত
-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আজ ৫ মে, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি সাক্ষরের আগেই এর যথার্থতা ও সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। এই চুক্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিলো। এখন দেখা যাচ্ছে আমাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আশংকা বাস্তবে পরিনত হয়েছে। চুক্তিতে একতরফাভাবে বাংলাদেশের ওপরে ১৩১ টা বিষয়ে বাধ্যবাধকতা চাপানো হয়েছে। বিপরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মাত্র ৬ টি বিষয়ে আবশ্যকীয় সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হয়েছে।
চুক্তিতে সবচেয়ে সমস্যাজনক বিষয় হলো, একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেশ হিসেবে দেশের জনগণের স্বার্থে ভর্তুকি দেয়ার সক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। চুক্তিতে বাণিজ্যিক বিবেচনা ও সুযোগ ধারায় বলা হয়েছে “রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থে দেশীয় উৎপাদকদের ভর্তুকি দিতে পারবে না এবং পণ্য উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র লিখিতভাবে চাইলে বাংলাদেশ ভর্তুকির তথ্য দেবে। কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কী বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে “।
চুক্তিতে একগাদা আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দেয়া ও বাস্তবায়ন করার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তির অধিকাংশেই শক্তিশালী রাষ্ট্রের স্বার্থের অনুকূলে শর্ত রাখা হয়। দেশীয় বাস্তবতায় কোন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দেয়া না দেয়ার বিষয়টি একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। অন্যকোন রাষ্ট্র সেই সিদ্ধান্ত আমাদের ওপরে চাপিয়ে দিতে পারে না। কিন্তু এই চুক্তিতে সেই বাধ্যবাধকতা মেনে নেয়া হয়েছে।
এভাবে এই চুক্তির বহুবিষয় আছে যা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। সেই চুক্তি অন্তর্বতী সরকার সাক্ষর করেছে এবং তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই চুক্তি করার সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। এটাই সবচেয়ে বড় আশংকার বিষয়। দেশের স্বার্থ বিসর্জনে সরকার ও বিরোধীদল একমত হলে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাড়ায়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, আমরা মনে করি, এই চুক্তি নিয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে সর্বদলীয় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে। কারণ, আমরা কোন পরাশক্তির আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিনত হতে পারি না। একাত্তর ও জুলাই আমাদের স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দেয়।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
05/05/2026
শাপলার ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিলো
-পীর সাহেব চরমোনাই
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই ৫ মে ঐতিহাসিক শাপলা দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫-মে ঢাকায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিলো তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলংকময় অধ্যায়। নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের স্বশস্ত্র অভিযান চালানোর নজীর ইতিহাসে বিরল। সেদিন যারা শাপলা চত্তরে রাত্রিযাপন করেছিলো তাদের অধিকাংশই অল্পবয়সি ছাত্র, যাদের সাথে কোন ধরণের অস্ত্র ছিলো না, যাদের অপরাধের কোন পূর্ব নজীরও ছিলো না। তেমন একদল শিক্ষার্থীদের ওপরে রাষ্ট্রের পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সামরিক অভিযানের মতো করে যেভাবে হামলে পড়েছিলো তার দৃষ্টান্ত অভিশপ্ত ইজরাইলী বাহিনীর অভিযান ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যাবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম, মাদ্রাসা ও ইসলামপন্থার ওপরে চরম বিদ্বেষ ও জিঘাংশা থেকে সেই অভিযান পরিচালনা করেছিলো। সেই বিভৎস হত্যাকাণ্ডের পরেই আওয়ামী লীগের স্বৈরতন্ত্রের শেকড় আরো গভীরে প্রোথিত হয় যার পরিনাম জাতিকে বহন করতে হয়েছে আরো এগারো বছর। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মী সেই বর্বরতার শিকার হয়েছে। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে সেই হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আর কোন স্বৈরাচার নিজ দেশের নাগরিকদের সাথে এমন নৃশংসতা করতে না পারে।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ২০১৩ সালের পাঁচ-মের পরে দেশের রাজনৈতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবি, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরী। সরকারকে বুদ্ধিজীবি শ্রেণী ও রাষ্ট্রের ৫ম স্তম্ভ গণমাধ্যমের থেকেও কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নাই; বরং বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সেই বর্বরতাও কেবল আদর্শিক মতভিন্নতার কারণে এক ধরণের বৈধতা পেয়েছিলো। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, যে কোন ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিলো।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর দাবী করে বলেন, শাপলায় যারা শাহাদাৎবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন তাদেরকে জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলাকেন্দ্রীক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে মামলায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জাগরূক রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনকে স্বরণ করতে হবে।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ