🧥🤫 চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া
আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ (ব্যভিচারের অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত মাঈজ আসলামী সম্পর্কে) হুজ্জাল (রাঃ)-কে বলেছিলেন: "হে হুজ্জাল! তুমি যদি তোমার চাদর দিয়ে তাকে (মাঈজকে) ঢেকে রাখতে (অর্থাৎ তাকে গোপনে তওবা করতে বলতে এবং তার দোষ প্রকাশ না করতে), তবে তা তোমার জন্য উত্তম হতো।" Reference: সুনান আবু দাউদ ৪৩৭৭
Key Points: ✅ কেউ কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের হাতে তুলে না দিয়ে গোপনে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উত্তম। ✅ নবীজি ﷺ চেয়েছিলেন লোকটি যেন নিজের পাপ গোপন রেখে আল্লাহর কাছে তওবা করত। ✅ কাউকে অপমানিত করার চেয়ে তাকে গোপনে শুধরে দেওয়া ইসলামের শিক্ষা।
Da'waah Circle Noakhali govt. College
দাওয়াহ সার্কেল নোয়াখালী সরকারি কলেজ একটি অ-রাজনৈতিক ইসলামিক দাওয়াহ সংগঠন। যেটি ২০২৫ সালে তার যাত্রা শুরু করে নোয়াখালী সরকারি কলেজের প্রাঙ্গন থেকে।
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের সেরা ১০টি আমল
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া:
ঠিক সময়ে খুশূ-খুযূ বা মনোযোগের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।
২. বেশি বেশি জিকির করা:
তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) এবং ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) ইত্যাদি বেশি বেশি পড়া।
৩. নফল রোজা রাখা:
বিশেষ করে যারা হজে যাননি তাদের জন্য আরাফার দিনের (৯ জিলহজ) রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
৪. কুরআন তিলাওয়াত:
প্রতিদিনের জন্য কুরআনের একটি নির্দিষ্ট অংশ ওয়াজিফা হিসেবে নির্ধারণ করে নেওয়া এবং অর্থ বুঝে আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা।
৫. দোয়া করা:
সেজদায়, নামাজের পর এবং দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।
৬. সদকা বা দান-সদকা করা:
পরিমাণে কম হোক বা বেশি দান করা। এর সওয়াব ও প্রতিদান অনেক বিশাল।
৭. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ও পিতামাতার প্রতি সদয় হওয়া:
এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম সেরা মাধ্যম এবং এর সুফল খুব দ্রুত পাওয়া যায়।
৮. তওবা করা ও গুনাহ বর্জন করা:
এই পবিত্র দিনগুলোতে সব ধরনের অন্যায় ও পাপকাজ পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া।
৯. কুরবানি করা:
সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য এই দিনগুলোর অন্যতম মহান একটি সুন্নত হল কুরবানি দেওয়া।
১০. কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাজ:
রাতের শেষভাগে কিয়ামুল্লায়ল করা তা মাত্র কয়েক রাকাত হলেও। মনোযোগের সাথে পড়া দুই রাকাত নামাজও অলস সময় কাটানোর থেকে অনেক উত্তম।
▪️গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
এই বরকতময় দিনগুলোতে আপনার জীবনের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময়টুকু ব্যয় করুন এবং সব ধরনের অনর্থক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকুন।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা:
- আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
প্রশ্ন: ইবাদতের মৌসুমগুলো আমরা কীভাবে গ্রহণ করব?
উত্তর:────
▪️ ১) প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য, ইবাদতের মৌসুমগুলোতে খাঁটি ভাবে তওবা করা এবং পাপাচার ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে বিরত থাকা। কারণ পাপাচার মানুষকে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে শুধু বঞ্চিতই রাখে না বরং আল্লাহ ও তার অন্তরের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেয়।
▪️ ২) আরও কর্তব্য হল, আল্লাহ তাআলাকে খুশি করে এমন কাজগুলোকে গনিমত মনে করে সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। যে আল্লাহর কথাকে বিশ্বাস করবে আল্লাহ তার ব্যাপারে তাঁর ওয়াদাকে বাস্তবায়ন করবেন। তিনি ওয়াদা করেছেন:
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا
“যারা আমার ব্যাপারে চেষ্টা ও সাধনা করবে আমি অবশ্যই তাকে আমার রাস্তাগুলো দেখাবো।”
[সূরা আনকাবুত: ৬৯]
🔷 জিলহজের প্রথম দশকে যেসব আমল করা মোস্তাহাব:
▪️ ১. সালাত:
ফরজ সালাতগুলো যথাসময়ে সম্পাদন করার পাশাপাশি প্রচুর নফল সালাত আদায় করা। কারণ সালাতই হল আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। সাওবান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “তুমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে অধিক পরিমাণ সেজদা কর (নফল সালাত আদায় কর), কারণ যখনই তুমি সেজদা কর বিনিময় আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং গুনাহ মোচন করেন।” (মুসলিম) এটি কেবল জিলহজ মাস নয় বরং অন্য সকল সময়ের জন্য প্রযোজ্য।
▪️ ২. সিয়াম:
রোজা রাখা অন্যতম একটি নেক কাজ। তাই এ দিনগুলোতে নফল রোজা রাখা খুবই ফজিলতের। হুনাইদা বিন খালেদ তার স্ত্রী থেকে, তিনি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জনৈক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন: “রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিলহজ মাসের নয় তারিখ, আশুরার দিন ও প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোজা পালন করতেন।” (আহমদ, আবু দাউদ ও নাসায়ী) ইমাম নববী জিলহজ মাসের শেষ দশ দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে বলেছেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব।
▪️ ৩. তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ পাঠ করা:
ইবনে ওমর রা. এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তাতে রয়েছে, “তোমরা বেশি বেশি তাকবির (আল্লা-হু আকবার), তাহলিল (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ), ও তাহমিদ (আল হামদু লিল্লা-হ) পড়া। ইমাম বুখারি রহ. বলেছেন, ইবনে ওমর রা. এবং আবু হুরায়রা রা. এ দশ দিন তাকবির বলতে বলতে বাজারে বের হতেন আর মানুষরাও তাদের দেখে তাকবির বলত।”
তিনি আরও বলেছেন, “ইবনে উমর রা. মিনায় তাঁর তাঁবুতে জিলহজ বলতেন, তা শুনে মসজিদের লোকেরা তাকবির বলত এবং বাজারের লোকেরাও তাকবির বলত। এক পর্যায়ে পুরো মিনা তাকবির ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠত।”
ইবনে উমর রা. মিনায় অবস্থানের দিনগুলোতে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে, তাঁবুতে, বিছানায়, বসার স্থানে, চলার পথে সর্বত্র তাকবির পাঠ করতেন।
এ তাকবিরগুলো উচ্চ আওয়াজে পাঠ করা মুস্তাহাব। কারণ সাহাবি উমর রা., তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা., আবু হুরায়রা রা. তা উচ্চ আওয়াজে পাঠ করতেন।
মুসলমানদের উচিত এ সুন্নতটি পুনর্জীবিত করা, যা বর্তমান যুগে প্রায় হারিয়ে গেছে এবং দু:খ জনক হলেও সত্য, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নেককার লোকেরাও এটি প্রায় ভুলতে বসেছে। অথচ আমাদের পূর্বপুরুষগণ ছিলেন এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।
তাকবির বলার নিয়ম: নিন্মোক্ত যে কোন পদ্ধতিতে তাকবির পাঠ করা যায়:
ক. আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার কাবীরা।
খ. আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
গ. আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
▪️ ৪. আরাফার দিন রোজা:
আরাফার দিন রোজা রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত, তিনি আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে বলেছেন: “আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, এটি পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।” (মুসলিম) তবে আরাফায় অবস্থানকারী হাজিদের জন্য রোজা রাখা মুস্তাহাব নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফায় অবস্থান করেছিলেন রোজা বিহীন অবস্থায়।
▪️ ৫. কুরবানির দিন (দশম জিলহজ) এর মর্যাদা:
এই মহান দিনটির মর্যাদার ব্যাপারে অনেক মুসলমানই অসচেতন। কতিপয় বিদ্বান এ মত ব্যক্ত করেছেন যে, সাধারণভাবে সারা বছরের মধ্যে-এমনকি আরাফার দিনের চেয়েও নহর তথা কুরবানির দিন উত্তম।
ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম দিন নহরের দিন। এটিই হল, হজ্জে আকবর (বড় হজ) এর দিন। যেমন: সুনানে আবু দাউদে রয়েছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মহিমান্বিত দিন হল নহর তথা কুরবানির দিন। অতঃপর কুরবানির পরের দিন (অর্থাৎ জিলহজের এগারতম দিন যে দিন হাজিগণ কুরবানি করার পর মিনায় অবস্থান করেন)।
অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, নহরের দিনের চেয়ে আরাফার দিন উত্তম। কারণ সে দিনের সিয়াম দুই বছরের গুনাহের কাফফারা। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা আরাফার দিন যে পরিমাণ লোক জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন, তা অন্য কোন দিন করেন না। আরও এ জন্যও যে, আল্লাহ তাআলা সে দিন বান্দার নিকটবর্তী হন এবং আরাফায় অবস্থানকারীদের নিয়ে ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন। তবে প্রথম বক্তব্যই সঠিক। কারণ হাদিস তারই প্রমাণ বহন করে। এর বিরোধী কিছু নেই।
যাহোক, সর্বোত্তম দিন চাই কুরবানির দিন হোক অথবা আরাফার দিন হোক যারা হজ্জে গমন করেছেন বা যারা করেন নি সবার জন্য উচিৎ হল, সে দিনের ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করা এবং এই সুযোগকে কাজে লাগানো।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
লেখক: শায়খ আব্দুল মালিক আল-কাসেম।
সম্পাদনায়: শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল জিবরীল।
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার
বজ্রপাতের সময়
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, বজ্রধ্বনি বা বর্জতুল্য উচ্চ আওয়াজ শুনলে, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বলতেন -
اَللَّهُمَّ لَا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلَا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ
আল্লা-হুম্মা লা- তাক্বতুল্না বিগাদ্বাবিকা ওয়ালা তুহ্লিক্বনা বি-আযা‘বিকা ওয়া-আ‘ফিনা ক্বব্লা যালিক
হে আল্লাহ্! তোমার ক্রোধ দিয়ে আমাদের হত্যা করো না; তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদের ধ্বংস করো না; এর আগেই তুমি আমাদের মাফ করে দাও!
Reference: সহিহুল ইসনাদ (আহমাদ শাকির)। মুসনাদ আহমাদঃ ৮/৯৮
17/05/2026
💎 হালাল ও হারামের সুস্পষ্ট সীমানা এবং হৃদয়ের পবিত্রতা রক্ষা
নুমান ইবনে বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। আর এই দুটির মাঝে রয়েছে অনেক সন্দেহজনক বিষয়, যা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ জানে না। যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়গুলো পরিহার করে চলল, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে রক্ষা করল। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজে লিপ্ত হলো, সে হারামে লিপ্ত হয়ে গেল। এর উদাহরণ হলো সেই রাখালের মতো, যে সংরক্ষিত চারণভূমির চারপাশে পশু চরায়, যেকোনো সময় তার পশু সেই সংরক্ষিত সীমায় ঢুকে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। সাবধান! প্রত্যেক বাদশাহরই একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে। আর আল্লাহর জমিনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। সাবধান! শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরো আছে, যা সুস্থ থাকলে পুরো শরীর সুস্থ থাকে, আর তা নষ্ট হয়ে গেলে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রেখো, সেই গোশতের টুকরোটি হলো মানুষের অন্তর। নবী করীম ﷺ আরও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন যে, মানুষের অর্জিত সম্পদ যদি হালাল ও পবিত্র হয়, তবে তার অন্তর পরিশুদ্ধ থাকে এবং ইবাদতে স্বাদ পাওয়া যায়। কিন্তু যদি হারামের মিশ্রণ ঘটে, তবে হৃদয়ের নূর নিভে যায় এবং মানুষ সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। তাই মুমিনের উচিত সর্বদা নিজ উপার্জনকে হালাল উপায়ে নিশ্চিত করা এবং অস্পষ্ট বা সন্দেহযুক্ত বস্তু থেকে নিজেকে শতহস্তে দূরে রাখা। কারণ, হারাম রিজিক গ্রহণকারী ব্যক্তির দোয়া কবুল হওয়ার পথে বড় বাধা সৃষ্টি হয় এবং তা পরকালে কঠিন শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
Reference: সহীহ বুখারী ৫২ ও সহীহ মুসলিম ১৫৯৯।
Key Points:
✧ হালাল ও হারাম সুস্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাঝখানে কিছু অস্পষ্ট বিষয় রয়েছে যা থেকে বেঁচে থাকা তাকওয়ার পরিচয়। ✧ মানুষের অন্তর হলো তার আমলের কেন্দ্রবিন্দু, তাই হারাম থেকে বাঁচলে অন্তর পরিশুদ্ধ থাকে এবং ইবাদতে একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। ✧ সন্দেহজনক বিষয় পরিহার করা একজন মুমিনের ঈমান ও সততার মানদণ্ড, যা তাকে হারামের পতন থেকে রক্ষা করে।
Hisnul Mslim | Dua and Zikr:
16/05/2026
"আমার সাথে নির্বোধরা তাদের সব বোকামি সহ কথা বলত, আর আমি তাদের জবাব দেওয়ারও মনে করতাম না। তাদের নির্বুদ্ধিতা বেড়েই চলত, আর আমার সহনশীলতাও বাড়ত। উদ কাঠ যেমন আগুনে যত পোড়ে, তত সুগন্ধি ছড়ায়, ব্যাপারটি ছিলো এমনই।"
— ইমাম শাফিয়ী (রাহি.)
Imam Shafi'i (Rh.) said:
"The fools would address me with all their foolishness, but I would not bother to reply to them. Their ignorance would only increase, and my patience would grow in response. Just like oud (agarwood), which spreads more fragrance the more it burns in the fire; that is exactly how it was."
💍 দেনমোহরের সহজীকরণ ও বরকতময় বিবাহের তাৎপর্য
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বিবাহের ক্ষেত্রে সেই বিবাহ সবচেয়ে বেশি বরকতময় ও কল্যাণকর, যে বিবাহে দেনমোহরের পরিমাণ সহজ এবং হালকা রাখা হয়েছে। অপর এক বর্ণনায় সাহাবী আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, হে আয়েশা! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মোহরানা কত ছিল? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের জন্য বারো উকিয়া এবং এক নাশ অর্পণ করেছিলেন। তিনি বলেন, তোমরা কি জানো এক নাশ কী? আবু সালামা বলেন, আমি বললাম, না। তিনি বললেন, এক নাশ হলো অর্ধেক উকিয়া। সুতরাং সব মিলিয়ে মোট পরিমাণ দাঁড়াল বারো উকিয়া এবং অর্ধেক উকিয়া। তিনি বললেন, এটিই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মোহরানা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, তোমরা নারীদের মোহরানার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করো না। যদি মোহরানার পরিমাণ দুনিয়ার কোনো বিশাল সম্পদ বা স্বর্ণ-রৌপ্যের পাহাড়ের সমতুল্য হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তা তাঁর স্ত্রীদের জন্য নির্ধারণ করতেন। কিন্তু তিনি সর্বদা সহজ ও মধ্যম পন্থা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে উম্মতের জন্য বিবাহ সহজসাধ্য হয় এবং সমাজে অশ্লীলতার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
Reference: সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪২৬।
Key Points:
✧ দেনমোহরের পরিমাণ সাধ্যের মধ্যে রাখা সুন্নাহসম্মত এবং এতে দাম্পত্য জীবনে অধিক বরকত অর্জিত হয়। ✧ মোহরানা নির্ধারণে বাড়াবাড়ি না করা এবং নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সহজ ও সাবলীল পন্থা অবলম্বন করা ইসলামের শিক্ষা। ✧ বিবাহের আনুষ্ঠানিকতাকে সহজ করলে সমাজের যুবক-যুবতীদের জন্য পবিত্রতা রক্ষা করা ও দ্বীনের পথে চলা অনেক বেশি সহজতর হয়ে যায়।
10/05/2026
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
"পুরুষরা যখন নারীদের আনুগত্য শুরু করবে, তখন তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।
হাকিম আল মোসতাদরক আলাস সহিহাইন: ৭৮৭০ (ইমাম জাহাবি একে সহি বলেছেন)
বিয়ের আগে কুরআন শুদ্ধ করে নিন....
ঐতিহাসিক ৫ই মে
