09/03/2016
হুমায়ুন আহমেদ এর শেষ উপন্যাস "দেয়াল"।
বইটি পাওয়া যাচ্ছে "উচ্ছ্বাসিত তরুন পাবলিক লাইব্রেরীতে"।
ছড়িয়ে পড়ুক জ্ঞানের আলো
জ্ঞানই আলো। আর জ্ঞান আহরনের প্রধান উৎস বই।তাই জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে "উচ্ছ্বািত তরুণ" প্রতিষ্ঠা করেছে উত্তরার প্রথম এবং একমাত্র পাবলিক
লাইব্রেরী " উচ্ছ্বাসিত তরণ পাবলিক
লাইব্রেরী"
এটি "উচ্ছ্বািসত তরুণের " একটি
প্রোগ্রাম
।আপনারা সকলে আমন্ত্রিত এই
জ্ঞানের আলোতে....
,
09/03/2016
হুমায়ুন আহমেদ এর শেষ উপন্যাস "দেয়াল"।
বইটি পাওয়া যাচ্ছে "উচ্ছ্বাসিত তরুন পাবলিক লাইব্রেরীতে"।
20/09/2015
দ্বিতীয় লিঙ্গ
হূমায়ন আজাদ
‘কেউ নারী হয়ে জন্ম নেয় না, বরং হয়ে ওঠে নারী,’ নারী সম্পর্কে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয়তম এ-মন্তব্যটি সিমোন দ্য বোভোয়ারের, যিনি শুধু বিশশতকের নয়, চিরকালের শ্রেষ্ঠ নারীদের, অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ মানুষদের, একজন। ফরাশি ঔপন্যাসিক, দার্শনিক, ও প্রাবন্ধিক সিমোন দ্য বোভোয়ারের মহত্তম গ্রন্থ ল্য দ্যজিয়েম সেক্স, ইংরেজিতে যা বিশ্ববিখ্যাত দি সেকেন্ড সেক্স নামে, বাঙলায় দ্বিতীয় লিঙ্গ। নারীবাদের জননী মেরি ওলস্টোনক্র্যাফট ছিলেন নারীমুক্তির জোয়ান অব আর্ক, আর সিমোন দ্য বোভোয়ার নারীবাদের আইনস্টাইন। সভ্যতাবাপী নারীর পরিস্থিতি সম্পর্কে এমন অসাধারণ গ্রন্থ আর লেখা হয় নি, সম্ভাবনাও নেই, অদ্বিতীয় এ-গ্রন্থ; প্রজ্ঞা ও শিল্পিতার অনন্য নিদর্শন দ্য বোভোয়ারের দ্বিতীয় লিঙ্গ, যার পাতা থেকে বেরিয়ে এসেছে বিশশতকের দ্বিতীয়াংশের নারীবাদ, এবং পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতাকে বদলে দিয়েছে নানাভাবে। অবিবাহিত, সন্তানহীন, জাঁ-পল সার্ত্রের আমরণ বান্ধবী হিশেবে কিংবদন্তি, যদিও অন্য প্রেমের কাছেও ধরা দিয়েছেন তিনি মাঝেমাঝে, দ্য বোভোয়ার গণ্য হয়ে থাকেন আধুনিক নারীবাদের জননীরূপে, যার কাছে ঋণী আমরা সবাই। তাঁর মহাগ্রন্থটি বাঙলায় অনুবাদ হয় নি, এ-দুরূহ জটিল বিস্ময়কর গ্রন্থের মুখোমুখি দাঁড়ানো কঠিন; এবং এ-কাজটি করেছেন হুমায়ুন আজাদ, যিনি তাঁর নারী নামক একদা নিষিদ্ধ বইটির জন্যে হয়ে উঠেছেন বাঙলায় নারীবাদের প্রধান প্রবক্তা। হুমায়ুন আজাদ অসাধারণ গদ্যে প্রকাশ করেছেন মূল গ্রন্থের জ্ঞান ও সৌন্দর্য, যা বাঙলার পাঠকদের কাছে এক অলৌকিক বিস্ময় ব’লে মনে হবে।
বইটি এখন পাওয়া যাচ্ছে "উচ্ছ্বাসিত তরুন পাবলিক লাইব্রেরী" তে......
11/09/2015
নারী
হূমায়ন আজাদ
নারী (ইংরেজি: Woman বা Nāree) বাংলাদেশের অন্যতম প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের একটি নারীবাদী রচনা। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের নদী গ্রকাশনী থেকে এব পরবর্তীতে আগামী প্রকাশনী, ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বঙ্গদেশে নারীবাদের সূচনা হয় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের[১] হাতে। এরপর তসলিমা নাসরিন বেশ কিছু ছোট কলাম রচনা করেন নারীবাদ বিষয়ে। কিন্তু কেউই নারীর বা নারীবাদের অনুপুঙ্খ বর্ণনা দেন নি বা দিতে পারেন নি। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে হুমায়ুন আজাদের নারী গ্রন্থটিই বাংলা সাহিত্যে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ নারীবাদী বই।
সারাংশ সম্পাদনা
পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে নারীকে কি কি রূপে দেখা হয় বইটির প্রতিটি পৃষ্টায় তা ছড়িয়ে আছে। এছাড়াও ধর্মের দ্বারা নারী কিভাবে শোষিত হয় তারও বর্ণনা পাওয়া যাবে উক্ত গ্রন্থটিতে। বইটির প্রথম অধ্যায় শুরু হয় সিমোন দ্য ভোব্যায়ারের বিখ্যাত উক্তি দিয়ে, অর্থাৎ কেউই নারী হয়ে জন্ম নেয় না, ক্রমশ নারী হয়ে ওঠে। এছাড়াও বিখ্যাত মনীষীদের নারী সম্পর্কে নানা ভ্রান্ত ধারণাও পাওয়া যাবে বইটিতে। উক্ত মনীষীদের মধ্যে সিগমুন্ড ফ্রয়েড, মনু, প্লেটো প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
নিষিদ্ধকরণ[১] সম্পাদনা
অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ রচিত এই পাণ্ডিত্যপূর্ণ নারীবাদী গ্রন্থ ১৯৯৫ সালের ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। প্রায় সাড়ে চার বছর পরে ২০০০ সালের ৭ মার্চ উচ্চবিচারালয় রায় প্রদান করেন যে নারী নিষিদ্ধকরণ আদেশ সম্পূর্ণ অবৈধ। তারপর এর তিনটি সংস্করণ ও বহু পুনর্মুদ্রণ প্রকাশিত হবার পর ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।[২]
এই মূল্যবান বইটি পাওয়া যাচ্ছে "উচ্ছ্বসিত পাবলিক লাইব্রেরী" তে
07/09/2015
বৃষ্টি বিলাস
হুমায়ুন আহমেদ
হুমায়ুন আহমেদের সেরা কিছু উপন্যাসের মাঝে একটি "বৃষ্টি বিলাস"। সুখের আশায় ছুটে চলা আমাদের জীবনে সুখের খোঁজ কম বেশী সবাই করে। বইটিতে লেখক একজন মেয়ের জীবনীতে একটি ছেলের প্রভাব সুক্ষ ভাবে তুলে ধরেছেন। শামার বিয়ে ঠিক হয় তার বাবার অফিসের এক কলিগের সাথে। কিন্তু মেয়েটির মন দোটানায় পরে যখন সে জানে তার মনের মাঝে যে লোকটি একটু একটু ভালোলাগার জন্ম দিয়েছিলো, তার জটিল এক সমস্যা আছে। ছেলেটি প্রতি বর্ষায় একবার পাগল হয়ে যায়। তাই শামা নামের মেয়েটি বাবার পছন্দের ছেলেকেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। আতাউর নামের ছেলেটির প্রতি বর্ষায় এই পাগল হওয়ার পিছের কাহিনীটাই গল্পের চুম্বুক অংশ। শেষ পর্যন্ত শামা তার সিদ্ধান্ত বদলায়। সে প্রতি বর্ষায় আতাউরের সাথে বৃষ্টি বিলাস করবে। কথাটা ভাবতেই তার দু-চোখ বেয়ে অঝোরে বৃষ্টি ঝরছিলো।
বইটি পড়তে উচ্ছ্বাসিত পাবলিক লাইব্রেরীতে যোগাযোগ করুন
05/09/2015
উচ্ছ্বাসিত তরুণ এর সাফল্যের এক বছর....
A Journey Of one Year With Ucchasito Torun One year's progress of Ucchasito Torun
ছড়িয়ে পড়ুক জ্ঞানের আলো
শিক্ষা সম্পর্কিত বিখ্যাত কিছু উক্তি
♦আমরা অজ্ঞ থাকবো বলে বদ্ধপরিকর ছিলাম আর
আমাদের শিক্ষকরা আমাদের মন পাল্টানোর চেষ্টা
করে যাচ্ছিলো। – এলান ব্রায়েন
♦শিক্ষার প্রথম কাজ হলো কৌতুহলের শিকে ছেঁড়া। –
আইভরি ব্রাউন
♦স্কুল জীবনের প্রস্তুতির জন্যে তৈরি হওয়া উচিত নয়।
স্কুলই জীবন হওয়া উচিত। – এলবার্ট হাবার্ড
♦ভাবনার জগতের সাথে একাত্ম হওয়া – এটাই হলো
শিক্ষা। – এডিথ হেমিলটন
♦শিক্ষা হলো সভ্যতার রূপায়ন। – উইল এণ্ড এরিয়াল
ডুরান্ট
♦মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত মানুষের শিক্ষা সমাপ্ত হয় না।
– রবার্ট ই লি
♦মানুষের সুখী হওয়ার জন্যে সবচেয়ে বেশি দরকার
বুদ্ধির – এবং শিক্ষার মাধ্যমে এর বৃদ্ধি ঘটানো
সম্ভব। – বাট্রাণ্ড রাসেল
♦শেখাতে গেলেই শেখা হয়। – জাপানী প্রবাদ
♦আমি শুনলাম এবং ভুলে গেলাম, আমি দেখলাম এবং
মনে রাখলাম, আমি করলাম আর বুঝতেও পারলাম। –
চীনা প্রবাদ
♦একজন শিক্ষক সামগ্রিকভাবে প্রভাব ফেলে, কেউ
বলতে পারে না তার প্রভাব কোথায় গিয়ে শেষ হয়।
– হেনরি এডামস
♦মাঝারি মানের শিক্ষক বলেন, ভাল শিক্ষক বুঝিয়ে
দেন, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক করে দেখান। মহান শিক্ষক
অনুপ্রাণিত করেন। – উইলয়াম আর্থার ওয়ার্ড
♦আপনি একদিনের জন্য একটা ছাত্রকে একটা পড়া
পড়াতে পারেন; কিন’ যদি তাকে আপনি কৌতুহলী
হতে শেখান সে যতোদিন বাঁচবে শিক্ষা চালিয়েই
যাবে। – ক্লে পি. বেডফোর্ড
14/08/2015
সাইকো
- অনিশ দাস অপু
লোরি এজেন্সির ৪০ হাজার ডলার নিয়ে পালিয়েছে মেরি, উদ্দেশ্য হলো নিজের প্রেমিক স্যামের ঋণ শোধ করা।কিন্তু পথ হারিয়ে কোন এক মোটেলে আশ্রয় নিয়েছে সে।নির্জন এ মোটেলে থাকে এর মালিক মিঃ নরম্যান বেটস আর তার মা।কিন্তু সে রাতেই খুন হন মেরি। এদিকে মেরির নিখোঁজ রহস্যের সমাধা করতে এ মোটেলে এসে হাজির হয় লোরি এজেন্সির নিয়োগকৃত এক গোয়েন্দা,খুন হয় সেও।এদিকে মেরিকে খুঁজতে স্যামের কাছে এসে পৌছেছে বোন লিলা।রহস্যের সমাধা করতে স্যাম আর লিলা সম্মুখীন হলো এক অদ্ভুত সত্যের। এ কাহিনী নিয়েই এগিয়ে যায় পৃথিবীর সর্বকালের সেরা এ সাইকোলজিকাল থ্রিলার।যার পরতে পরতে আছে রোমাঞ্চ,ভয় আর শিরশিরে অনুভূতি।না পড়লে একটি ঊচ্চমানের থ্রিলারের রোমাঞ্চ থেকে বঞ্চিত হবেন।
05/08/2015
পূফি
হুমায়ন আহমেদ
একটা ধবধবে সাদা বিড়াল। লেজটা কুচকুচে কালো। অন্য বিড়ালদের সঙ্গে তার কোনো তফাৎ নেই। সে আরাম করে সোফায় শুয়ে ঘমায়। হাই তুলতে তুলতে টিভিতে হিন্দি সিরিয়াল দেখে।তার প্রিয় সিরিয়াল “ইহা মে ঘর ঘর খেলি।”
বিড়ালটার একটাই সমস্যা, ক্যামেরায় তার ছবি আসে উল্টা, মিরর ইমেজ।
এটি কোনো শিশুতোষ বই না। পুফি নামের কারণে অভিভাবকরা অবশ্যই বিভ্রান্ত হয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের এই কিনে দেবেন না। পুফিতে এমন সব বিষয়ের অবতারনা করেছি যা থেকে শিশু কিশোরদের একশ হাত দূরে থাকা প্রয়োজন।
ব্যাখ্যার অতীত জগৎ আমার অতি প্রিয় বিষয়। পুফিকে নিয়ে ব্যাখ্যার অতীত গল্পই লিখতে চেষ্টা করেছি। আমার নিজের মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা যে জগতে বাস করছি সেটাইতো ব্যাখ্যার অতীত। বাইরে থেকে পুফি আনার প্রয়োজন কি ? কথাটা ভুল না।
হুমায়ূন আহেমেদ
দখিন হাওয়া।
26/07/2015
রাজনীতিবিদগণ - হুমায়ুন আজাদ
হুমায়ুন আজাদকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছে : দেশে হু হু করে বাড়ছে চায়নিজ রেস্টুরেন্ট, বিউটি পার্লার অথচ সেই হারে বাড়ছে না পাবলিক লাইব্রেরি– এই ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী ? হুমায়ুন আজাদ : "এতে এই রাষ্ট্র কতো অসুস্থ তার পরিচয় বহন করে। কথা হচ্ছে, কেন পাঠাগার বাড়ছে না? কেন চায়নিজ রেস্টুরেন্ট বা বিউটি পার্লার বাড়ছে? বোঝা যাচ্ছে যে, এক গোত্র প্রচুর টাকা উপার্জন করছে, অবৈধভাবে উপার্জন করছে, সেই টাকা অপচয় করার জন্য তাদের এখন নানা জায়গা দরকার। সেই টাকা অপচয় করার জন্য একটি স্থান হচ্ছে চায়নিজ রেস্টুরেন্ট, আরেকটি জায়গা হচ্ছে বিউটি পার্লার, আরো জায়গা আছে– সুপার মার্কেট বা চার তারা , তিনতারা হোটেল– এই জাতীয় স্থুল ব্যাপারে, অবৈধভাবে যারা অর্থ উপার্জন করছে, তারা লিপ্ত হয়ে রয়েছে কিন্তু বই মননশীল ব্যাপার। আমাদের রাষ্ট্র যারা চালায় তারা মননশীল নয়। আমাদের আমলা-সেনাপতি-বিচারপতি-অধ্যাপক–প্রকৌশলী-চিকিৎসক কারো মননশীলতা নেই, বই তাদের চিন্তার মধ্যেও নেই। কাজেই পাঠাগার কী করে বাড়বে ? বোঝা যাচ্ছে, যে মানুষেরা আমাদের রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা শক্তিশালী, বই তাদের প্রয়োজন নয়; না হলে পাঠাগার বাড়তো। পাঠাগার প্রয়োজন হচ্ছে ছাত্রের এবং জ্ঞান মনস্ক মানুষের, তাদের কোন ক্ষমতা নেই, তাদের কোন অর্থশক্তি নেই যে তারা পাঠাগার বানাবে এবং আমাদের রাষ্ট্র পাঠাগার চায়না। আমাদের রাষ্ট্র ঐ চায়নিজ রেস্টুরেন্ট চায়, বিউটি পার্লার চায়, সুপার মার্কেট চায় এবং নতুন নতুন পাজেরো চায়; মননশীলতা চায় না, সৃষ্টিশীলতা চায় না। কাজেই পাঠাগার বাড়ছে না।"
10/07/2015
দানব
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
দানব" কে বলা যেতে পারে মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের একটি ভূতূড়ে কিংবা অলৌকিক ধরণের উপন্যাস । বইটির কাহিনী সংক্ষেপ এ রকম - কিছু খারাপ মানুষের মাঝে অতিপ্রাকৃত মানব হবার ইচ্ছা জেগেছে । তারা শয়তানকে তুষ্ট করার মাধ্যমে এ ক্ষমতা অর্জন করতে চায় । ছোট ছোট শিশুদের উত্সর্গ করে সন্তুষ্ট করতে চায় শয়তান লুসিফারকে । আশীর্বাদ পেতে চায় লুসিফারের । সাথে সাথে সকল মৃত আত্মাকেও শয়তানের উপাসনায় লাগাতে চায় । এই খারাপ লোকেদের লীডার কোরায়শী মহাশক্তি অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে । জীবিত কে মৃত আর মৃত কে জীবিত করার অলৌকিক ক্ষমতায় কাছাকাছিও পৌঁছে গেছে সে । আর এক ধাপ পেরোলেই মহাশক্তি । কিন্তু তার মহাশক্তি অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ একটি ছেলে রাজু । কিছু কিছু বিচিত্র সংবাদ রাজু কেমন করে জানি অলৌকিকভাবে আগাম পেয়ে যেতে লাগল । নিজের ভেতর যে অলৌকিকতার তার ব্যাখ্যা রাজু নিজেও জানেনা ! অবশেষে একে অপরকে মোকাবেলা করার জন্য সমুদ্রের পাড়ে রাজুর মুখোমুখি হয় শয়তানের প্রবল শক্তির সাধক কোরায়শী আর তার দল । চলে এক আশ্চর্যরকম লড়াই । এমনই অলৌকিকতার এক কাহিনী "দানব" !
বইটি পাওয়া যাচ্ছে উচ্ছ্বাসিত তরুণ পাবলিক লাইব্রেরীতে। বইটি পড়তে যোগাযোগ করুন।
09/07/2015
আমরা কেউ বাসায় নেই
হুমায়ূন আহমেদ
হালকা গোছের মজার উপন্যাস, হুমায়ুন আহমেদের অন্যান্য উপন্যাসের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ধরণের
হুমায়ুন আহমেদ নিজেই বিভিন্ন আত্মজৈবনিক রচনা ও সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে তাঁর অধিকাংশ উপন্যাসেরই ধরাবাঁধা কোন প্লট থাকে না। কোন একটা জায়গা থেকে তিনি কাহিনীর প্রস্তাবনা শুরু করেন এবং তারপর কাহিনী নিজস্ব গতিতে এগোতে থাকে। একটি লাইন লিখবার আগমুহুর্তেও তিনি ঠিক করে নেন না যে সেই লাইনটা কেমন হতে যাচ্ছে। 'বাদশাহ নামদার' বা 'জোছনা ও জননীর গল্প' এর মত উপন্যাসগুলো হয়ত ব্যতিক্রম তবে বেশিরভাগ উপন্যাসেই তিনি এই রীতি অনুসরণ করেছেন।
কিন্তু 'আমরা কেউ বাসায় নেই' উপন্যাসের শুরুতেই তিনি প্রতিটা চরিত্রকে বেশ সচেতনভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং তার ফাঁকে ফাঁকে তিনি কোন একটা গল্পের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ থেকে আমার ধারণা হয়েছিল, এই উপন্যাসটি হয়ত লেখকের অন্যান্য উপন্যাসের মত না। নির্দিষ্ট একটা প্লট মেনটেন করে লেখক এগোচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ঘটনা পুরোই উল্টো। একই সাথে এই উপন্যাসে দ্বৈত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
প্রথমত, লেখক এই উপন্যাসের প্রতিটি পরিচ্ছেদ রচনার আগেই সে সম্পর্কে ব্যাপক চিন্তা ভাবনা করেছেন বলে মনে হয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে তিনি উপন্যাস রচনাকালে মাথায় যা আসবে তাই লিখব ধরণের পন্থা অনুসরণ করেন নি। যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন নির্দিষ্ট থিমের উপর যথাসম্ভব মজা করে একেকটি দৃশ্য বা ঘটনাকে সাজাতে।
দ্বিতীয়ত, লেখক ভেবেচিন্তে উপন্যাসটি লিখেছেন এটা যেমন সত্যি, তেমনি আরেকটা সত্যি হচ্ছে এই উপন্যাসের কোন কাহিনীই নেই! হুমায়ুন আহমেদের প্রায় সকল উপন্যাসের গতিপ্রকৃতিই নিজস্ব গতিতে সঞ্চারিত হলেও একটা সময় এসে কাহিনীতে ঠিকই প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। তাই বোঝার উপায় নেই যে লেখার শুরুতে লেখক নিজেও জানতেন না শেষে কি হতে চলেছে। কিন্তু 'আমরা কেউ বাসায় নেই' উপন্যাসে দেখলাম, আগে থেকে বিষয়বস্তু ঠিক করে রেখে এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের কাহিনীই অত্যন্ত মজার ও উপভোগ্য করে তুললেও শেষ পর্যন্ত লেখক সামগ্রিকভাবে একটি পরিচ্ছেদের কাহিনীর সাথে অন্য পরিচ্ছেদের কাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। (এই কথাটাকে কেউ নেতিবাচক অর্থে নেবেন না আশা করি)
সত্যি কথা বলতে কি, এই উপন্যাসের আঙ্গিক গঠনটাই একেবারে অন্যরকম। শুরুতেই লেখক একেবারে ডিটেইলে প্রধান চরিত্রদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। অপরদিকে পরবর্তি প্রতিটি পরিচ্ছেদেই নির্দিষ্ট কোন ঘটনাকে ফোকাস করা হয়েছে। তাই সেগুলো একেকটা স্বতন্ত্র গল্পে পরিণত হয়েছে। ফলে পাঠক যদি শুরুতে চরিত্রসমূহ সম্পর্কে জেনে নিয়ে পরবর্তিতে উপন্যাসের মাঝখান দিয়ে যেকোন একটা পরিচ্ছেদ পড়া শুরু করেন, তাহলেও খুব বেশি সমস্যায় না পড়েই তারা কাহিনীর সাথে নিজেদের রিলেট করতে পারবেন।
উপন্যাসের শুরুতেই কথক মনজুর ভাই টগরের অদ্ভুত চরিত্র ও নিজস্ব ধর্ম প্রচারের বিষয়টি এবং মনজুদের বাড়ি পদ্ম ও তার মায়ের উঠে আসার ব্যাপার দুটি রয়েছে। কাহিনীতে মূল নাটকীয়তা মূলত ঐ দুই জায়গায়ই ছিল। এরপরও লেখক স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে প্রতিটা দৃশ্যকে নিজের মত করে নাটকীয় ও মজাদার করে তুলতে চেয়েছেন। তবে সেগুলোতে খুব বেশি নতুনত্ব নেই। অবশ্য লেখক একেবারে পারফেক্ট টাইমিংয়ে যেভাবে প্রতিটা দৃশ্যে হিউমার সংযোজন করেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ।
প্রথমেই বলেছি এই উপন্যাসের নির্দিষ্ট কোন কাহিনী নেই। সুতরাং কাহিনী সংক্ষেপ সম্পর্কে জানানোর বিষয়টিও অপ্রয়োজনীয় মনে করছি। তবে এটুক জানিয়ে রাখি যে উপন্যাসের গতিপ্রকৃতি আবর্তিত হয়েছে একটি পরিবারের বিচিত্র সব চরিত্রের আজব কর্মকান্ডকে ঘরে। উপন্যাসের প্রতিটা চরিত্রই অসাধারণ, অর্থাৎ সাধারণত এই ধরণের চরিত্র বাস্তবজীবনে দেখা যায় না। আর তাই এই উপন্যাসটিও সত্যিকারের জীবনঘনিষ্ট বা সামাজিক উপন্যাস হয়ে উঠতে পারেনি। উপন্যাসের বিভিন্ন দৃশ্যের মাধ্যমে হয়ত লেখক সাম্প্রতিক কালের সিরিয়াস কিছু দিককে স্যাটায়ারের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চেয়েছেন তারপরও আমার কাছে মনে হয়নি এই উপন্যাসে গভীর জীবনবোধের কোন ব্যাপার আছে যার দেখা মেলে হুমায়ুন আহমেদের অন্যান্য উপন্যাসে।
সবমিলিয়ে 'আমরা কেউ বাসায় নেই'কে নিছকই একটা হালকা গোছের মজার উপন্যাস বলে মনে হয়েছে আমার। টিভির প্যাকেজ কমেডি নাটক বা টেলিফিল্ম নির্মানের ক্ষেত্রে এই ধরণের উপন্যাসের কাহিনী আদর্শ।