Bangladesh Archives

Bangladesh Archives

Share

A non-partisan platform with the objective to disseminate archived documents & debunk historic myths.

30/12/2025

Begum Khaleda Zia with her elder son Tarique Rahman, addressing a campaign rally in February 1991. One of the first few photographs of the mother and son joining a political rally together. Khaleda Zia is said to have started grooming her son since early 1990s, who now have became the de facto chief of BNP.

Photograph: Robert Nickelsberg/Getty Images.

Photos from Bangladesh Archives's post 25/10/2025

১৯৭৮ সালের ২৬ অক্টোবর কী ঘটেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিবরণ পাওয়া যায় তৎকালীন তিনটি প্রধান বাংলা দৈনিকে - ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা ও সংবাদ।

ইত্তেফাকের খবর বিবরণে উল্লেখ করা হয়, "প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯.০৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে পৌঁছেন। গাড়ী হইতে নামার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর তাহাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান এবং দুইজন ছাত্রী তাহাকে মালা দান করেন [...] ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ গজ দূরে রাস্তার অপর প্রান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনের জায়গায় কিছুসংখ্যক ছাত্র কালো পতাকা, ফেস্টুনসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে।"

সেদিনের ঘটনার বিবরণে বলা হয়, "ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশদের পিছনে রাখিয়া প্রেসিডেন্ট রাস্তা পার হইয়া বিক্ষোভকারীদের কাছে যান। তাহাদের আহ্বান করিয়া প্রেসিডেন্ট বলেন: "কি বলিতে চান বলেন। প্রেসিডেন্টের কথার কোন উত্তর না দিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান অব্যহত রাখেন প্রেসিডেন্ট বিক্ষোভকারীদের মধ্যখানে পৌঁছার জন্য আগাইয়া যান। সাথে সাথে কতিপয় বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্টের পথ অবরোধ করিয়া শুইয়া পড়ে। ক্রমাগত স্লোগানের মুখে প্রেসিডেন্ট অবরোধ ডিঙাইয়া সম্মুখে আগাইয়া যাইতে থাকেন এবং দুইবার পড়িয়া যাওয়ার উপক্রম হন। প্রায় ১৫ মিনিট পর প্রেসিডেন্ট ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে ফিরিয়া যান।"

"অনুষ্ঠানকালে প্রেসিডেন্ট জিয়া বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বলেন "আমি আসার সময় কালো পতাকা নিয়া কিছু ছেলে চিল্লাচিল্লি করিতেছিল। আমি তাহাদের নিকট গেলাম। কয়েকজন আমার প্রতি ঢিল মারিয়াছে। সম্মুখে শুইয়াছে। তাহাদের জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম - কেন চিৎকার করিতেছেন উত্তর দিতে পারে নাই। ৫ জন বা ১০ জনের প্রতি ভীত হইলে আমরা শৃঙ্খলা বা সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরাইয়া আনিতে পারিব না।"

ইত্তেফাকের খবর অনুসারে এই ঘটনার জন্য কাউকে গ্রেপ্তার বা কারো বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

বাম ধারার সাংবাদিকদের পত্রিকা দৈনিক সংবাদ 'চ্যান্সেলরের সহিষ্ণুতা' শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে লেখে, "রাষ্ট্রপতি যখন ছাত্রীদের সাথে আলাপ করছিলেন তখন বিশ্ববিদ্যালয় পাঠাগারের কাছে যুবকরা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিল। রাষ্ট্রপতি বিক্ষোভকারীদের কাছে যান এবং তাদের অভাব-অভিযোগ জানতে চান। তারা কোন উত্তর না দিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং স্লোগান দিতে থাকে।"

তারা আরো লেখে, "এই উস্কানি সত্ত্বেও চ্যান্সেলর অত্যন্ত শান্ত মেজাজ দেখান এবং বার বার তাদের অভাব-অভিযোগ জানাতে বলেন। কিন্তু তখনও পর্যন্ত তিনি কোন উত্তর পাননি। ইট-পাটলেক নিক্ষেপ অব্যাহত থাকে। রাষ্ট্রপতি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মচারী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে বিক্ষোভকারীদের কাছে আসতে দেননি।"

২৭ অক্টোবরে প্রকাশিত দৈনিক বাংলা থেকে জানা যায়, "প্রেসিডেন্ট যখন রোকেয়া হলের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরী চত্তরে একদল কালো পতাকাধারী ছাত্র রাষ্ট্রবিরোধী শ্লোগান দিচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট তাদের দাবী-দাওয়া ও বক্তব্য শোনার জন্যে বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় বিক্ষোভরত ছাত্ররা ইট পাটকেল ছোঁড়ে। প্রেসিডেন্ট তা অগ্রাহ্য, করেও এগিয়ে যান এবং তাদের বক্তব্য শুনতে চান। প্রেসিডেন্ট কয়েকবার প্রশ্ন করেও বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে কোন উত্তর পাননি।"

Photos from Bangladesh Archives's post 17/09/2025

জামায়াতে ইসলামীর দাবি তারা ক্ষমতায় আসলে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করবে। তারা তাদের স্লোগানে সৎ লোকের শাসন চায়। জামায়াতের একটি বুকলেটে তারা এমন দাবিও করেছিল যে চারদলীয় জোট সরকারে থাকা অবস্থায় তাদের কোন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না।

কিন্তু ইতিহাস বলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বহু অভিযোগ ছিল জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে, এমনকি তাদের দলের মন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধেও।

চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী ও সংসদে ছিল ১৭ জন এমপি। এই ১৭ জনের মধ্যে নয়জন, অর্থাৎ অর্ধেকের বেশির বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছিল এবং অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগও গঠন করা হয়েছিল। তিনজন হয়েছিল কারাবন্দী, বাকিরা ছিলেন পলাতক।

এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক প্রথম আলো, ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই। প্রতিবেদনের তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায় তৎকালীন বিভিন্ন দৈনিক থেকেও।

বর্তমানে জামায়াতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক দায়িত্বে থাকা নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছিল যার মধ্যে ছিল একজন জেলের কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা নেয়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ সরকারি সহায়তা আত্মসাতের অভিযোগে হওয়া মামলা। ডা. তাহেরের বিরুদ্ধে বালুমহাল-জলমহাল অভিযোগেও মামলা হয়েছিল।

খুলনার শ্রমিক নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বর্তমানে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। তার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২৭ জুন খুলনার আফিল জুটমিলের পক্ষ থেকে কারখানাটির ৩০-৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট এবং আড়াই কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখে কারখানাটিকে পঙ্গু করে দেয়ার অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়। অভিযোগ করা হয় যে মিয়া গোলাম পরওয়ার, তার ভাই ও স্থানীয় এক বিএনপি নেতা মিলটি ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দখল করে রেখে এই অপরাধে জড়িত ছিলেন।

চারদলীয় জোট সরকারে মন্ত্রী ছিলেন আলী আহসান মুজাহিদ। ২০০৭ সালের ৩ মে তাকে এবং জামায়াতের মনোনয়নে সিলেট-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদউদ্দিন চৌধুরীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন কানাইঘাটের স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্লাহ্‌।

মিজানুর রহমান চৌধুরী ছিলেন জামায়াত থেকে নির্বাচিত নীলফামারী-৩ আসনের এমপি। তার বাড়ি, তার নিয়ন্ত্রণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জামায়াতের কার্যালয় থেকে ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ১১৫ টন ও ১৪৯ টন আত্মসাৎ করা ত্রাণের টিন পাওয়া যায়। জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করে।

সাতক্ষীরা-৫ আসনের জামায়াতের সাবেক সাংসদ গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে টেস্ট রিলিফের এক কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে। এছাড়া এলাকায় ২৫ বিঘা জমি ও একাধিক চিংড়ি ঘের দখলও করেছিলেন তিনি ক্ষমতায় থাকতে। তিনটি চাঁদাবাজির মামলাও হয় সে সময় তার বিরুদ্ধে।

২০০৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা-১ আসনের সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুল আজিজের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা চাচিয়া মীরগঞ্জ আজিজিয়া বায়তুল নূর হাফিজিয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসা থেকে পাঁচ বান্ডিল ত্রাণের টিন উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

একই বছর চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার প্রভাবশালী জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোট তিনটি চাঁদাবাজির মামলা হয়। দুদকও দুর্নীতির মামলা দায়ের করে তার বিরুদ্ধে। মামলা দায়েরের পর শাহজাহান চৌধুরী পালিয়ে যান এবং পলাতক অবস্থায় ২০০৮ সালের ১৭ মার্চ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পাবনা-৫ আসনের সাবেক এমপি ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত মাওলানা আব্দুস সুবহানের আল আমানা ক্লিনিক থেকে ২০০৭ সালের ২৭ জুন ১৬০টি ত্রাণের টিন উদ্ধার করে পুলিশ। ক্ষমতায় থাকাকালে অবৈধভাবে ওই প্রতিষ্ঠানকে টিন বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি পালিয়ে যান।

তবে এই মামলাগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি কী হয়েছে তার মধ্যে কয়েকটি বাদে অধিকাংশের ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়নি।

২০১৮ সালের হলফনামা অনুসারে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহেরের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলার চারটিতে তিনি খালাস ও অব্যহতি পেলেও একটি উচ্চ আদালতের রায়ে স্থগিত ছিল। আলী আহসান মুজাহিদ ও মাওলানা আব্দুস সুবহান মৃত্যুবরণ করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর কোন কার্যকারিতা নেই।

Photos from Bangladesh Archives's post 21/08/2025

একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব পাকিস্তানের সভাপতি ছিলেন গোলাম আযম। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস জুড়েই তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় দালাল আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যায় মদদ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে।

মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে গোলাম আযম ও জামায়াতের তৎপরতা শুরু হয় ৪ এপ্রিল, অপারেশন সার্চলাইটের নামে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং প্রায় প্রতিটি জেলা শহরে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর টিক্কা খানের সাথে দেখা করার মধ্য দিয়ে। সেদিন টিক্কা খানের সাথে দেখা করে গোলাম আযমসহ অন্যান্য পাকিস্তানপন্থী নেতারা অবিলম্বে সমগ্র প্রদেশে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সামরিক আইন প্রশাসনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস এবং জনগণের মন থেকে ভিত্তিহীন ভয় দূর করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় নাগরিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়।

পরে নিজের আত্মজীবনীতে গোলাম আযম দাবি করেন যে তিনি টিক্কা খানকে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্ন করেন সেদিন এবং গণহত্যায় সহযোগিতার বিষয়ে তার ভূমিকা ছিল না। তবে সেই সময়ের পত্রিকা, এমনকি জামায়াতের পত্রিকা দৈনিক সংগ্রামেও এই বিবৃতির বিরুদ্ধে গোলাম আযমের কোন বিবৃতি পাওয়া যায় না। বরং বৈঠকের পর গোলাম আযমকে পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তা করার জন্য বেশ সক্রিয় দেখা যায়।

এই প্রসঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানে দায়িত্বরত রাও ফরমান আলী তার বই How Pakistan Got Divided-এ লেখেন, “I contacted all the political leaders in Dacca — Nurul Amin, Khawaja Khairuddin, Maulvi Farid Ahmed, Shafiqul Islam, Professor Ghulam Azam and others, and requested them to come to the MLA headquarters. They met Gen. Tikka, agreed to issue a press statement, and to form peace committees. They were truly loyal Pakistanis.”

এরপর ৬ এপ্রিল নুরুল আমীনের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের পাকিস্তানপন্থী নেতাদের একটি অংশ আবার টিক্কা খানের সাথে দেখা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। টিক্কা খানের সাথে বৈঠকের পর ১০ এপ্রিল গঠিত হয় "নাগরিক শান্তি কমিটি" যেখানে গোলাম আযম ছিলেন ছিলেন ওয়ার্কিং কমিটির অন্যতম সদস্য। ১৬ এপ্রিল নুরুল আমিনের নেতৃত্বে গোলাম আযম আবারও যান টিক্কা খানের সাথে দেখা করে তাদের উদ্যোগ শান্তি কমিটির অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে। ২০ এপ্রিল সারাদেশে শান্তি কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হলে সেখানে গোলাম আযমকে দায়িত্ব দেয়া হয় শান্তি কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম সচল রাখার জন্য গঠিত সাব-কমিটিতে। তিনি ছিলেন সাব-কমিটির দ্বিতীয় সদস্য। ২৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির পক্ষ থেকে একটা বিশেষ প্রেস রিলিজ পাঠিয়ে আহ্বান জানানো হয় যেন মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মূলে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে আসে।

মে মাসের ২১ তারিখ জামায়াতে ইসলামী বিবৃতি দিয়ে দাবি করে ভারত পূর্ব পাকিস্তানে তাদের দালালদের মাধ্যমে পাকিস্তান ভাঙার চেষ্টা করলে "বীর সেনাবাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে" তা সম্ভব হয়নি। অপারেশন সার্চলাইট এবং লক্ষাধিক মানুষকে হত্যাকে গোলাম আযমের নেতৃত্বাধীন জামায়াত সময়োচিত পদক্ষেপ আখ্যা দেয়।

এরই মধ্যে পাকিস্তানি হানাদার সেনাদের সহায়তায় খুলনা অঞ্চলে জামায়াত নেতা একেএম ইউসুফের নেতৃত্বে গঠিত হয় রাজাকার বাহিনী। শুরুতে এই বাহিনী ছিল অনিয়মিত বাহিনী। হবে টিক্কা খানের সরকার ১ জুন রাজাকার বাহিনীকে স্বীকৃতি দেয়। ইয়েলেনা বিবারম্যানের বই Gambling with Violence: State Outsourcing of War in Pakistan and India থেকে রাজাকার বাহিনীর গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়। পাকিস্তান সরকারের একটি গোপন নথি থেকে জানা যায় রাজাকার বাহিনীর গঠন প্রক্রিয়ায় গোলাম আযমের নেতৃত্বাধীন শান্তি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

নথিতে লেখা ছিল, “The recruitment will be carried out mainly through the org [sic] of loyal political leaders and prominent members of Peace Committees. The political leaders and members of Peace Committees will stand surety for the Razakars who are enrolled and will be answerable [sic] for conduct of Razakars.”

অর্থাৎ, পাকিস্তানের সরকারি দলিল থেকে জানা যাচ্ছে, তখন শান্তি কমিটির সবচেয়ে অনুগত ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে রাজাকার বাহিনীতে সদস্যদের নেয়া হতো এবং যে শান্তি কমিটি সদস্য যেই সদস্যের নাম প্রস্তাব করবে তাকে সেই রাজাকারের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হতো। সুতরাং রাজাকার বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য গোলাম আযম এবং জামায়াতের যেসব নেতারা শান্তি কমিটির সদস্য ছিল স্পষ্টতই তাদের দায় ছিল।

রাজাকার বাহিনীর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের জানাশোনার প্রমাণ পাওয়া যায় পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুল খালেকের স্বাক্ষরিত ১৯৭১ সালের ৮ জুলাইর বিবৃতিতে। খুলনা ও যশোর অঞ্চলে রাজনৈতিক সফর শেষে দেয়া এই বিবৃতিতে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ‘অনুপ্রবেশকারী ও ভারতীয় এজেন্টদের মাধ্যমে’ পূর্ব পাকিস্তানকে হজম করার ভারতীয় পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছে জানিয়ে বলেন, “দুষ্কৃতিকারী ও ডাকাতদের নির্মূল করার জন্য জনগণ এখন স্বেচ্ছায় রেজাকার ট্রেনিং নিচ্ছেন।” উল্লেখ্য, জামায়াতের তৎকালীন সকল বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতিকারী, অনুপ্রবেশকারী, ভারতীয় চর আখ্যা দেয়া হতো।

এদিকে রাজাকার বাহিনী গঠনের তোড়জোড়ের মধ্যেই ২১ জুন গোলাম আযম লাহোরে যান এবং সেখানে জামায়াতের একটি সভায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে তাদের হত্যাযজ্ঞের জন্য "গভীর শ্রদ্ধা" জানান ও ভূয়সী প্রশংসা করেন। ২২ জুন দৈনিক পাকিস্তানে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, “জামায়াতের ফাতেমা জিন্নাহ রোড অফিসে কর্মীদের এক সভায় তিনি বলেন যে, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া দেশকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হতে রক্ষা করার অপর কোনই বিকল্প কিছু ছিল না।” পাকিস্তানে অবস্থানকালে গোলাম আযম ইয়াহিয়া খানের সাথেও বৈঠক করেন।

১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন করে জামায়াত এবং কার্জন হলে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে বকৃতা করে গোলাম আযম। সেখানে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের দুশমন আখ্যা দিয়ে বলেন, “১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের দুশমন ছিল বাইরের [...] কিন্তু এবার পাকিস্তানের ভেতরে হাজারও দুশমন সৃষ্টি হয়েছে [...] এবারের দুশমন ভারতকে তাদের বন্ধু মনে করছে।”

দৈনিক পাকিস্তানের ১৬ আগস্টের প্রতিবেদনে গোলাম আযমের বক্তৃতা উদ্ধৃত করে বলা হয়, “সেনাবাহিনী ও শান্তি কমিটির মধ্যে যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে জামাত নেতা বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত দেশ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য শান্তি কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।” প্রতিবেদন অনুসারে গোলাম আযম সেদিন আরো বলেন যে, “দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর। তাই দেশের মানুষকে বোঝানোর দায়িত্ব শান্তি কমিটির হাতে তুলে নিতে হবে। বক্তৃতার শেষে তিনি ঘরে ঘরে যেসব দুশমন রয়েছে, তাদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

সেপ্টেম্বরে গোলাম আযমের নেতৃত্বে জামায়াতের পক্ষ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নতুন সরকারের অন্তর্ভুক্ত হওয়া জামায়াত নেতাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। দৈনিক সংগ্রামে এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয় ২৫ সেপ্টেম্বর। খবর অনুসারে সরকারে জামায়াতের অংশগ্রহণের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গোলাম আযম পাকিস্তান রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “যে উদেশ্য নিয়ে জামাত রাজাকার বাহিনীতে লোক পাঠিয়েছে শাস্তি কমিটিতে যোগ দিয়েছে সেই উদ্দেশ্যেই মন্ত্রিসভায় লোক পাঠিয়েছে।”

সেদিনের বক্তৃতায় গোলাম আযম বলেন, “সারা প্রদেশে সামরিক বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরও যে কয়েক হাজার লোক শহীদ হয়েছেন তাদের অধিকাংশই জামায়াতের কর্মী।” অর্থাৎ, গোলাম আযম স্বীকার করে নেন যে শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠনে জামায়াতের প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা ছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে কয়েক হাজার জামায়াতের কর্মী, যারা তখন রাজাকার বাহিনীর অংশ ছিল, মারা গিয়েছিল।

তবে জামায়াতের এই দুই নেতার অন্তর্ভুক্তির মূল কারণ ছিল একদমই ভিন্ন। রাজাকার বাহিনীর গঠন প্রক্রিয়া ছিল কিছুটা অনানুষ্ঠানিক। রাজাকার বাহিনীর প্রশিক্ষণ হতো দশদিন। এদের মধ্যে একটা অংশ ছিল জামায়াত ও ছাত্র সংঘের কর্মী যারা ছিল পাকিস্তান রক্ষায় আদর্শিকভাবে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ (ideologically motivated), অন্যদিকে এদের অপর অংশের অনেকেই ছিল সুযোগসন্ধানী যারা মূলত আর্থিক সুবিধা, অস্ত্র ও সেই অস্ত্র ব্যবহার করে লুটপাটে আগ্রহী। যুদ্ধ তীব্র হতে শুরু করলে এই

সুযোগসন্ধানীরা কেউ পালিয়ে যায়, কেউ ভিড়ে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। এই প্রসঙ্গে তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাদের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান এএকে নিয়াজি তার The Betrayal Of East Pakistan বইতে লেখেন, “Their defection rate was four per cent in October 1971 and six percent in November 1971 and it increased tremendously when the (India-Pakistan) war started.”

তাই পাকিস্তানের সেনারা তখন খুঁজছিল এমন ব্যক্তিদের যারা যেকোন মূল্যে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তা করবে — মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ এনে দিতে পারবে, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করবে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পাহাড়া দিতে পারবে।

জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংঘের কর্মীরা ছিল এই কাজের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তাই জামায়াতের আস্থা অর্জনে নতুন সরকারে তাদের দুইজন প্রতিনিধিকে — একেএম ইউসুফ এবং আব্বাস আলী খান — নেয়া হয়। জামায়াতও এর প্রতিদান দেয়। সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ ছাত্রসংঘের কর্মীদের নিয়ে তৈরি হয় রাজাকার বাহিনীরই বিশেষ দল আল-বদর ও আল-শামস। ইয়েলেনা বিবারম্যানের Gambling with Violence: State Outsourcing of War in Pakistan and India বই অনুসারে, “Most of the al-Badr comprised members of the student wing of the Jamaat, the Islami Jamiat-e Tulabah.” জমিয়ত-এ-তালাবাহ হচ্ছে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের নাম, যার পূর্ব পাকিস্তানের অংশকে ছাত্রসংঘ বলা হতো।

আল-বদর ও আল-শামস সম্পর্কে নিয়াজি তার The Betrayal Of East Pakistan বইতে লেখেন, “Two separate wings called Al-Badr and Al-Shams were organized. Well-educated and properly motivated students from the schools and madrasas were put in Al-Badr Wing, where they were trained to undertake 'Specialized Operations', while the remainder were grouped together under Al Shams, which was responsible for the protection of bridges, vital points, and other areas.”

রাজাকার বাহিনীতে যে জামায়াত ও ছাত্রসংঘ কর্মীদের আধিক্য ছিল তা উঠে এসেছে পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিকের Witness to Surrender বইতেও। বইয়ের ১০৫ পৃষ্ঠায় লেখা আছে যে, “In September, a political delegation from West Pakistan complained to General Niazi that he had raised an army of Jamaat-i-Islami nominees.”

সিদ্দিক সালিক আরো লেখেন, “The Al-Badr and Ash-Shams groups were a dedicated lot, keen to help the Army. They worked hard and suffered hard. About 5,000 of them or their dependents suffered at the hands of the Mukti Bahini for the crime of co-operation.”

তবে গোলাম আযম ও জামায়াতের নেতারা রাজাকার বাহিনী ও এর বিশেষ দলগুলোকে পাকিস্তানিরা যেসব অস্ত্র দিচ্ছিল সেগুলোর কার্যকারিতা, অর্থাৎ সেগুলো দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের যথেষ্ট পরিমাণে হত্যা না করতে না পারায় ক্ষুদ্ধ ছিল। যার প্রমাণ মেলে নভেম্বরের ২৩ তারিখ লাহোরে দেয়া গোলাম আযমের এক বক্তৃতায়। দৈনিক সংগ্রামের প্রতিবেদনে লেখা হয় “সকল দেশপ্রেমিক, শাস্তি কমিটির সদস্য এবং রেজাকারদের উন্নতমানের ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত করার জন্য অধ্যাপক আযম দাবী জানান।”

লাহোরে থাকা অবস্থায় ভারত পাকিস্তানে বিমান হামলা শুরু করলে গোলাম আযম ‘পূর্ব পাকিস্তান’ তথা বাংলাদেশে না এসে কিছুদিন পাকিস্তানে থেকে প্রথম সৌদি আরব ও পরে যুক্তরাজ্যে চলে যান।

Photos from Bangladesh Archives's post 17/08/2025

১৯৬৯ সালে তৎকালীন ছাত্রসংঘের কর্মী আব্দুল মালেক হত্যাকাণ্ডের পূর্বাপর ঘটনাবলি ফুটে ওঠে দৈনিক আজাদের প্রথম ও চতুর্থ পৃষ্ঠায়।

প্রথম পৃষ্ঠায় দেখা যাচ্ছে অনুষ্ঠান পণ্ড করতে লাঠিসোঁটা ও চেয়ার নিয়ে এগিয়ে টিএসসির দিকে যাচ্ছে ছাত্রসংঘের কর্মীরা।

চতুর্থ পৃষ্ঠায় দেখা যায় অনুষ্ঠান পণ্ডের চেষ্টা করা ছাত্রদের প্রতিরোধকারীরা ধাওয়া দিলে তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, তৎকালীন রেস কোর্স ময়দানের মধ্যে দিয়ে উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে যাচ্ছে।

চতুর্থ পৃষ্ঠায় অপর ছবিতে দেখা যায় ছাত্রদের সংঘর্ষে আহত একজন ছাত্র মাটিতে পড়ে আছে। ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন প্রকাশনায় দাবি করা হয় তিনিই আব্দুল মালেক। তবে আজাদ পত্রিকার ক্যাপশনে এমন কিছু দাবি করা হয়নি।

Photos from Bangladesh Archives's post 15/08/2025

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইসলামী ছাত্র শিবিরের পূর্বসূরী ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেককে হত্যার দিনটিতে টিএসসিতে অনুষ্ঠান আয়োজন করছে ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট এই টিএসসি মিলনায়তনে ডাকসু আয়োজিত একটি সভা থেকে সৃষ্ট সংঘর্ষের পর হত্যার শিকার হন আব্দুল মালেক। সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল টিএসসিতে তা সেই সময়ের তিনটি ভিন্ন মতাদর্শের ভিন্ন দৈনিকে উঠে এসেছে।

মাওলানা আকরাম খাঁ'র প্রতিষ্ঠা করা দৈনিক আজাদ'র ১৩ আগস্ট ১৯৬৯ সংখ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় দুইদল ছাত্রের মধ্যে সংঘর্ষ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের গোলমালের সূত্রপাত শীর্ষক অংশে বর্ণনা করা হয়।

"গতকাল সকাল ১১ টায় ঢাকা বিশ্বব্যিালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে খসড়া শিক্ষানীতি সম্পর্কে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় [...] সভার প্রথম বক্তা জনাব শামসুদ্দোহা নয়া শিক্ষানীতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দান করিতে থাকিলে এক পর্যায়ে কিছুসংখ্যক ছাত্র একযোগে দাড়াইয়া পড়ে এবং বিভিন্ন ধ্বনি করিয়া বক্তার মতামতের প্রতিবাদ জানায় [...] এই সময় সভাপতি জনাব তোফায়েল আহমদ সকলের প্রতি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং প্রতিবাদমুখর ছাত্রদেরও বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দানের প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু গোলযোগ ক্রমেই বাড়িতে থাকে এবং এক পর্যায়ে কিছুসংখ্যক ছাত্র দৌড়াইয়া মঞ্চে আরোহণ করিয়া মঞ্চের চেয়ার টেবিল তছনছ করিয়া দেয়। সেমিনারে উপস্থিত দর্শকগণ এই সময় দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হইয়া এদিক ওদিক ছুটাছুটি করিতে থাকে। মুহূর্ত্ত মধ্যে হলের মধ্যে বেদম চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয় এবং এইভাবে প্রায় অর্ধঘণ্ট। গোলযোগ পর উভয়পক্ষই হল ত্যাগ করিয়া বাহিরে চলিয়া আসে।

এই সময় হলের সমস্ত চেয়ার-টেবিল লণ্ড ভণ্ড অবস্থায় দেখা যায় কয়েকটি চেয়ারে রক্তের দাগও লক্ষ্য করা যায়। এই চেয়ার নিক্ষেপের মধ্যে ঢাকায় জনৈক সাংবাদিক এবং এক ছাত্রীও সামান্য আহত হন।"

আজাদের প্রতিবেদনে মালেকের উপর হামলার বিষয়ে বিস্তারিত না লেখা হলেও তিনি সংঘর্ষে আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এমন তথ্য ছিল।

Pakistan Observer ছিল কৃষক শ্রমিক পার্টির হামিদুল হক চৌধুরীর পত্রিকা। সেখানে Clash at Seminar শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ১৩ আগস্ট ১৯৬৯ সংখ্যায়।

"Before Mr. Shamsuddoha could finish what he wanted to say, some elements shouted against secular education and rushed to the dais. They used iron rods and wooden sticks, and the tables, chairs and glasses inside the hall were heavily damaged. The students ran away in all directions, while some of them fell apart inside the room, grievously injured. After a few minutes of this, the students mobilised and launched a counterattack. This time, there was an exchange of chairs, wooden sticks and brickbats.

The rowdy elements who had launched the attack first inside the Teacher Student Centre this time found themselves surrounded by hundreds of students and thus started searching for the way to escape from the scene. Most of them ran towards the Race Course and took shelter inside the temple there.

Some of the injured were taken to the Dacca Medical College Hospital. Six of them were admitted to the hospital, while ten of them were released from the emergency after first aid."

আব্দুল মালেক যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন সেই ব্যাপারে আলাদা একটি ছোট প্রতিবেদন করে পত্রিকাটি। তবে সেখানে সংঘর্ষের বিস্তারিত উল্লেখ ছিল না।

বাংলাভাষী পত্রিকা দৈনিক সংবাদ ছিল বামপন্থী মতবাদে বিশ্বাসীদের দ্বারা পরিচালিত। সংবাদের বর্ণনা ছিল নিম্নরূপ।

"এখানে উল্লেখযোগ্য যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সহ- সভাপতি জনাব তোফায়েল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারের প্রথমে পূর্ব পাকিস্তান ইউনিয়নের সভাপতি জনাব শামসুদ্দোহার বক্তৃতার উপসংহারে গুটিকয়েক ছাত্র অকস্মাৎ হৈ চৈ শুরু করিয়া দেয় এবং মঞ্চের দিকে চেয়ার ছুড়িতে শুরু করে। সেমিনারের সভাপতি ও ছাত্র নেতৃত্ব কি হইয়াছে জানিতে চাহিলে তাহারা কোন জবাব না দিয়া হট্টগোল অব্যাহত রাখে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়।

এই অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠে এবং গোলমাল সৃষ্টিকারীদের মিলনায়তন হইতে বাহির করিয়া দেয়। এই পর্যায়ে গোলমালকারীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ইসলামী সংঘের এক প্রেস বিজ্ঞতিতে দাবি করা হয় যে, তাহাদের ৫ জন কর্মীকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হইয়াছে।"

তিনটি পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে ধারণা করা যায় যে ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা সেদিন ডাকসু আয়োজিত সভায় ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শামসুদ্দোহার বক্তব্যের মাঝপথে সভার মঞ্চে উঠে পড়ে এবং চেয়ার ভাঙচুর ও ছোড়াছুড়ি করলে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ এবং অন্য সংগঠনের কর্মীরাও পালটা হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে ছাত্রসংঘের কর্মীরা পিছু হটে রেস কোর্স ময়দান এবং রমনা কালীমন্দির এলাকায় আশ্রয় নিলে তাদেরকে বেধড়ক পেটানো হয়। আহতদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রসংঘের কর্মী আব্দুল মালেকও। তবে তিনি টিএসসিতে হামলার সময় সেখানে ছিলেন কিনা পরিষ্কার না।

আব্দুল মালেক দুইদিন পর মারা যান।

24/06/2025

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজ নেতাদের হাত থেকে বাঁচতে জামায়াতের সমর্থকেরা তাদের দলের পক্ষে দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাইছেন। তাদের স্লোগান, “সৎ মানুষের শাসন চাই।”

কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে কতটা সৎ ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্যরা? ২০০৭ সালের ১৯ জুন দি ডেইলি স্টার এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে সেই আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহেরের কর্মীরা স্থানীয় মৎস্যচাষী সোহাগ মোর্শেদ চৌধুরীর কাছে ২০০৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা চায় এবং ২০০৪ সালের ১০ জুন তিনি তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হন। এই অভিযোগ তুলে তিনি ২০০৭ সালের ১৮ জুন মামলা করেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায়।

সোহাগ দাবি করে যে তাহেরের লোকেরা তার পুকুর থেকে একাধিকবার মাছ লুটও করে।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর। তিনি মার্চ মাসে এক বক্তৃতায় বলেন, “জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়।” তার মতে ‘সৎ’, ‘যোগ্য’ ও ‘দক্ষ’ নেতৃত্বের অভাবের কারণে বাংলাদেশ বারবার পথ হারাচ্ছে।

16/06/2025

১৯৭৫ সালের ১৬ জুন ছিল সোমবার, আজকের মতই।

সেদিন বাংলাদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর নেমে আসে শেখ মুজিব সরকারের সবচেয়ে কঠোর খড়্গ। চারটি সংবাদপত্র --- ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজার্ভার ও বাংলাদেশ টাইমস --- বাদে অন্য সব পত্রিকার প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া প্রতিটি সংবাদপত্রের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেয় সরকার অর্থাৎ পত্রিকায় কারা সম্পাদক হবে, কারা চাকরি করতে পারবে সেই সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতাও সরকারের কাছে চলে যায়। একটি প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে শেখ মুজিব নিজে এই ব্যবস্থা করেন।

শেখ মুজিবকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি অথর্বের মত একটা যুক্তি হাজির করেন। তিনি জানান সংবাদপত্রের জন্য নিউজপ্রিন্ট কাগজ আমদানি না করে তা দিয়ে খাবার কেনা গেলে চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষে কম মানুষ মারা যেত। অথচ চুয়াত্তর সালে আগের দুই বছরের তুলনায় বেশি খাদ্য-শস্যের মজুদ ছিল। কিন্তু শহর এলাকায় বসবাসকারী দেশের ৯% মানুষের জন্য দেশের প্রায় ৬০% খাদ্য বরাদ্দ করে মুজিবের সরকারই গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের ঠেলে দিয়েছিল মৃত্যুর পথে।

শেখ মুজিবুর রহমানের কর্তৃত্ববাদী শাসন ও দেশের সংবাদপত্রের বিধি-নিষেধ নিয়ে ২২ জুন যুক্তরাজ্যের অবজার্ভার পত্রিকা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

Photos from Bangladesh Archives's post 12/06/2025

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার তিন দিনের মাথায় ১৮ আগস্ট শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্য এবং শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া বাকশাল ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর ফান্ডের ব্যাংক হিসাব ও লকারে কোন ধরণের লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়।

04/05/2025

২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর, বাংলাদেশের কওমি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বোর্ড, আল-হায়াত'আল উলইয়া লিল জামিয়াত আল-কাওমিয়াহ বাংলাদেশ আয়োজন করে এক মহাসমাবেশের। যার উদ্দেশ্য ছিল দুই মাস আগে জাতীয় সংসদে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন, ২০১৮ পাস করার জন্য শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া।

সমাবেশে শেখ হাসিনা এবং হেফাজতে ইসলামের প্রধান মাওলানা শাহ আহমদ শফীর উপস্থিতিতে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন শেখ হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দেন।

মুফতি রুহুল আমীন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা আপনি স্বীকৃতি দিয়েছেন, সবকিছু উপেক্ষা করে। অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন, তার জবাব দিয়েছেন। ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর জননীর ভূমিকা আপনি (শেখ হাসিনা) পালন করেছেন। আজকে কওমি মহাসমুদ্রে আমি ঘোষণা করতে চাই, আপনি কওমি জননী। আজ থেকে আপনাকে এ উপাধি দিলাম। আপনার মাতৃত্বের ভূমিকা না থাকলে দেশবিরোধী, সাহাবাদের শত্রু, জামাত-মওদুদীবাদীরা এ দেশে (স্বীকৃতি) তা হতে দিতো না।’

03/05/2025

১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জোর করে ঢুকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়িতে হামলা চালান একজন ব্যক্তি এবং তার সঙ্গীরা। হামলার নেতৃত্ব দেয়া লে. কর্নেল আব্দুর রশিদ এসময় খালেদা জিয়ার খোঁজ করতে থাকেন বাড়িতে কিন্তু খালেদা জিয়া বাড়িতে তখন না থাকায় তার পুত্র তারেক রহমানের উপর হামলা চালান তিনি। জানা যায় এই পুরো ঘটনায় বাড়ির গেটের বাইরে এবং আশেপাশে সাদা পোশাকে কিছু ব্যক্তি উপস্থিত ছিল।

সূত্র- দৈনিক ইনকিলাব (২১ নভেম্বর, ১৯৯০)

Photos from Bangladesh Archives's post 06/04/2025

আশির দশকে শেষভাগে এবং নব্বইর দশকে ছাত্র শিবিরের দখলে ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রামের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই সময় চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিবিরের সাথে প্রায়ই সংঘর্ষ হতো ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কে হবে তাও নির্ধারণ করে দিতে চাইতো ছাত্র শিবির।

তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্র — আজকের কাগজ, সংবাদ, ভোরের কাগজ, ইনকিলাব এবং ইত্তেফাক — থেকে পাওয়া চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিষয়ক খবরগুলোর সংকলন প্রকাশ করা হলো।

Want your business to be the top-listed Government Service in London?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address

London