ত্রিপুরা সাহিত্য জগৎ

ত্রিপুরা সাহিত্য জগৎ

Share

বিভিন্ন সাহিত্যকদের কবিতার পাতা, page কে

29/09/2021
20/07/2021

ঈদ
বনমালী নন্দী
২০,০৭,২০২১

নতুন চাঁদ
পৃথিবীতে নামবে আলোর ঝর্ণা
স্নান হবে হৃদয়ের
খুলে যাবে বন্ধ জানালা দরজা
আলো ঝলমলে রোদ আলিঙ্গন প্রেম
বা
আপন পর সম্পর্ক গড়ে ভেঙ্গে
একাত্ব
তবু ও থেকে যায় আলোর গর্ভাবস্থায় প্রসিদ্ধি অন্ধকার
কত চেনা অচেনা পথ আকাশ
আকাশ ফুটপাত
ভাঙ্গাচুরা ব্রীজ
রেলওয়ে স্টেশন
ভিজে বৃষ্টিতে
শীতের স্নিগ্ধতায় আগুনে পুড়ে রক্ত
বুক পকেটে রেখে যায় নিরুদ্দেশ ঠিকানা
বোবা কান্না
অশ্রুর মিউজিক আয়ুর এলবামে
আমি দোকানে কাজ করি
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
আমার পৃথিবী ঝড়ের
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দলিল দিয়েছে শূন্যতা
শুকনো পাতার দুঃখ
কান্নাকাটি উৎসব
এবার ঈদে
ভিক্ষারিটি কে যার নীল আকাশ যার ঘর
পথ যার আত্মীয়
প্রেম ভালোবাসা আরগ্য ফুটপাত
কিনবো কম্বল গরীব ঈশ্বরের জন্য

09/05/2021

২৫ শে বৈশাখ
বনমালী নন্দী
০৯,০৫,২০২১

সময় এখন
হাসপাতালে
বা
ই সি ইউনিটে চিকিৎসাধীন
পৃথিবী উন্মত্ত
বাতাসের অসুখ
চাঁদের ও চাই হিমোগ্লোবিন
আকাশের হাতে নীল নোটবুক
লিখছে মৃত্যু
মুখগুলি সব নক্ষত্র দেশে
চরিত্র ও পরজিবীর মত বাচে
আমাদের কাব্য চাষবাস
দীন দুঃখি
শরীর ই আমাদের ভাতজমি
অশ্রুর আয়নায় ভেঙ্গে পড়ছে চোখগলি
হৃদয় প্রাচীন গরীব
কাল কোকিলের কন্ঠে ভোর সকাল বাজলে ই
রবী ঠাকুরের জন্মদিন
কবি ব্যসদেবের জন্মদিন
ধূপ ফুল কয়েকটি প্রদীপ
আর
রেকাবিতে বাতাসামুড়ি

19/04/2021

গদ্য
এবং আমি
বনমালী নন্দী
19,04,2021

জামার ভিতর গভীরতম এক ঘর আকাশের
আকাশ রং সূতোর
সকল বিকেল
পকেটেই থাকে ফ্রেমে বাঁধানো মন
আয়নার পারদবিহীন জলতরঙে নিঃসঙ্গতার লবন জমে
পাঠশালা হল
পলাশ শিমুলের গান
হলুদ নদী
বেচ কয়েত বেলের ছায়া তল
ব্লাকবোডে আকি এক পৃথিবী
দুই পৃথিবী
বর্ণ পরিচয় করিয়ে দেয় আগুন আর চিতা
যেরাতে
চাঁদ চোখে কাজল কুমকুমে
মাখে
ধানের শিষের মত জোছনা
কাঠবেড়ালি মত ভাঙা প্রাচীরে
লাফিয়ে উঠে
আমি জামার সামনে নত হ ই
শিশু আত্মার চুমু খায়
যদি ফেরা যেত
পিছু পথে

18/04/2021

গদ্য একটি
নোটবুক
বনমালী নন্দী
18,04,2021

বয়স শুধু পোষাক পরিধান উৎসব
নীল আকাশ ময়দান
পাখিরা যেখানে ফেলে যায়
পালক
হৃদয়ের মাটি
বাতাসে নূপুর শোক
যেখানে মেঘেদের কুড়ে ঘর
কাশ রদ্দুর
নক্ষত্র কাজলে কুমারী স্বপ্ন
জামারা হেটে যেতে পারে
নিজ ধানজমি
উর্বর মাটি
ঘন নীল সাগরে
যেখানে
জলের রং তৃষ্ণা
অসংখ্য বয়সের চাঁদ গুলি
সাতরে বড়ায়
রাজহাস নীলপদ্ম ফোটে
চোখ আজীবন স্বপ্ন পারাপারের মাঝি
আকাশের নদী চরে আয়ু
বা
সময় থমকে দাড়ালে
মায়া আঁকে স্বর্গ
জন্নত
নীলফ্রেমে বাঁধানো আকাশ এক নোটবুক
মনখারাপের সূর্যোদয়
ডিনারের টেবিলে হৃদয়ের শিককাবাব

09/03/2021

নারদীয়-নারকীয়
সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

মানুষের সাথে মানুষের কলহগুলোর বিচ্যুতি ঘটলে
উচ্ছ্বাসে ভাসমান সারা রাত, সারা দিনমান।
তখন থাকে না অশান্তির ক্ষুরধার বন্য আগ্রাসন,
তখুনি তপোবনের নির্জনতা ঘিরে ফেলে আকাশ,
সেই আসমানে উড়তে উড়তে উড়তে প্রসারিত প্রাণ।
অথচ নারদীয় চক্রান্তে দিশেহারা মানুষ-মানুষীরা
বিছানো ফাঁদে চরণ রেখে উন্মাদের মতন ঘোরে,
এমন ঘোরাঘুরির মাঝখানে গরম পরম মেজাজে
তপ্ত আবহাওয়ায় অজান্তে অকারণে হৃদয়ের আবাসন।
অসুখের ভেতর সুখী-সুখী আচরণের আদল,
আদলখানিতে লেলিহান শিখার অতি তৎপরতা-
তৎপর বিবাদ আপনাআপনি সবেগে জড়িয়ে ধরে
প্রবৃত্তির প্রতি রন্ধ্র অসীম চরম কুশলতায়।
ঝগরুটের নামকীর্তন ঝগড়া ঝগড়া ঝগড়া
বৈরিতায় জড়িয়ে পড়ে উজানে নাওখানি বায়।
তবুও দীপ্যমান প্রত্যাশায় প্রশান্তির পৃথিবীখানি
মানুষের সাথে মানুষের কলহের বিচ্ছেদ ঘটলে।

শ্রীরামপুর, হুগলী-৭১২২০১,
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
তারিখঃ ০৫/০৩/২০২১।

26/09/2020

★★★ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর★★★
*******************************
ঠাকুরদাস হাট থেকে ফিরতেই বাবা বললেন, ওরে আমাদের একটি এঁড়ে বাছুর হয়েছে। ঠাকুরদাস তাড়াতাড়ি নতুন বাছুর দেখতে গোয়ালের দিকে চললেন। বাবা বললেন, ওরে ওদিকে নয়। এই বলে তিনি আঁতুড় ঘর দেখিয়ে দিলেন।
ঠাকুরদাস প্রথমে ব্যাপারটা বুঝতে পারেন নি। বুঝতে পেরে বাবার কথায় লজ্জা পেলেন। আঁতুড় ঘরে গিয়ে দেখলেন। তাঁর স্ত্রী ভগবতী দেবীর কোল জুড়ে একটি ফুটফুটে শিশু শুয়ে আছে --- এই শিশুই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
ছেলেবেলায় খুবই দুরন্ত ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র। ছেলের দৌরাত্মে বাড়ির লোক অতিষ্ট হয়ে উঠতো। তবে তিনি ছিলেন খুব বুদ্ধিমান। পিতা ঠাকুরদাসের ইচ্ছা ছেলে বেশী লেখাপড়া শিখুক কিন্তু সে সামর্থ কোথায়? তবুও সাহস করে তিনি ছেলেকে কলকাতায় নিয়ে চললেন উচ্চশিক্ষা দেবার জন্যে। তখনকার দিনে রেলগাড়ি ছিল না। বীরসিংহ গ্রাম থেকে কলকাতা কম দূরের পথ নয়। ছেলের হাত ধরে ঠাকুরদাস হাঁটা পথেই কলকাতা চললেন। কলকাতায় ভর্তি হলেন সংস্কৃত কলেজে খুব কষ্ট করেই পড়াশোনা করতে লাগলেন। বাড়ীর সব কাজ তাঁকেই করতে হত। বাসন মাজা, রান্নাকরা, তার ফাঁকেই পড়াশোনা করতে হত। এত কিছু করেও পরীক্ষায় তিনি সকলের চেয়ে বেশী নম্বর পেয়ে বৃত্তি পেলেন।
তাঁর মাতৃভক্তির গল্প মুখে মুখে প্রচলিত। একবার তাঁর ইচ্ছা হলো মাকে গহনা গড়িয়ে দেবেন। মাকে শুধালেন, কি গহনা নেবে বল মা? -- ভগবতী দেবী বললেন, আমার তিনটি গহনা চাই বাবা গ্রামের ছেলেদের জন্য একটি স্কুল, মেয়েদের জন্য একটি স্কুল, আর গরিবদুঃখীদের জন্য একটি ডাক্তারখানা এই তিনটি গহনা পেলেই আমি খুশি হব বাবা। ভগবতী দেবী ছিলেন এমনই নিঃস্বার্থপর। আর মায়ের এ গুণটি ছেলেও পেয়েছিলেন। তিনিও নিজের জন্য কিছু করেন নি দেশের জন্য সব কিছু করেছিলেন।
তিনি ছিলেন বিরাট পণ্ডিত, বিদ্যার সাগর। তিনি দয়ার সাগর ছিলেন। হিন্দু সমাজের বিধবা নারীদের দুঃখ-যন্ত্রণা দেখে কাতর হয়ে বিধবা-বিবাহ প্রচলনের জন্য আন্দোলন করেছিলেন। কেউ হয়তো একটু অগ্রসর হয়ে বলবেন, বিদ্যাসাগর নারীশিক্ষা বিস্তারের জন্য আন্দোলন করেছিলেন, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ বন্ধের জন্যও আন্দোলন করেছেন। অর্থাৎ তিনি একজন সমাজ সংস্কারক। এসব কথা স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইতেও পাওয়া যাবে। টেবিলের ওপর পা তুলে ইংরেজ সাহেবের নাকের সামনে চটিজুতা নাচানোর ঘটনাটিও হয়তো অনেকে জানেন। আর শিক্ষার্থীরা এও জানে যে তিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেছিলেন।
বিদ্যাসাগর সম্পর্কে লিখতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, “তাঁহার প্রধান কীর্তি বঙ্গভাষা। …বিদ্যাসাগর বাংলাভাষার প্রথম যথার্থ শিল্পী ছিলেন।” কিন্তু এটুকুতেই রবীন্দ্রনাথ থেমে ছিলেন না। তিনি আরো লিখেছিলেন : “বিদ্যাসাগরের চরিত্রে যাহা সর্বপ্রধান গুণ—যে গুণে তিনি পল্লী-আচারের ক্ষুদ্রতা, বাঙালি-জীবনের জড়ত্ব, সবলে ভেদ করিয়া একমাত্র নিজের গতিবেগ প্রাবল্যে কঠিন প্রতিকূলতার বক্ষ বিদীর্ণ করিয়া, হিন্দুত্বের দিকে নহে, সাম্প্রদায়িকতার দিকে নহে—করুণার অশ্রুজলপূর্ণ উন্মুক্ত অপার মনুষ্যত্বের অভিমুখে আপনার দৃঢ়নিষ্ঠ একাগ্র একক জীবনকে প্রবাহিত করিয়া লইয়া গিয়াছিলেন।... তিনি যে বাঙালি বড়োলোক ছিলেন তাহা নহে, তিনি যে রীতিমত হিন্দু ছিলেন তাহাও নহে—তিনি তাহা অপেক্ষাও অনেক বেশি বড়ো ছিলেন, তিনি যথার্থ মানুষ ছিলেন।” (চারিত্রপূজা) আর তাই, রবীন্দ্রনাথের ভাষায় : “দয়া নহে, বিদ্যা নহে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চরিত্রে প্রধান গৌরব তাঁহার অজেয় পৌরুষ, তাঁহার অক্ষয় মনুষ্যত্ব; ...।” তিনি আরো লিখেছিলেন : “আমাদের এই অবমানিত দেশে ঈশ্বরচন্দ্রের মতো এমন অখণ্ড পৌরুষের আদর্শ কেমন করিয়া জন্মগ্রহণ করিল, আমরা বলিতে পারি না।” আর সে কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষণা করছেন, “... বিদ্যাসাগর এই বঙ্গদেশে একক ছিলেন।”
আজ এই মহামানবের ২০১ তম শুভ জন্মদিনে জানাই শতকোটি প্রণাম ---
" তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে,
এসো গন্ধে বরনে এসো গানে।।"

11/07/2020

কবিতাঃকাঠের ফ্রেম,
কলমেঃপ্রতাপ কুমার, তাং-১১/৭/২০ইং,
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
কিছু আকাশ নীলের গহীনে চলে দুরে,
কিছু আকাশ চলছে তারার মেলা।
কিছু আকাশ মেঘ বৃষ্টির দুপুরে,
কিছু আকাশ মন নিয়ে করে খেলা।
কিছু কথা দিয়ে যায় ঘাসের কোলে,
কিছু চোখ কভু নাহি ভোলা যায়।
কিছু মন বাতাস উজানে দাড়িয়ে,
কিছু স্মৃতি বুকের বালিশে ঘুমায়।
কিছু প্রেম হারায় ঘুর্ণিঝড়ে,
কিছু স্মৃতি আটকে থাকে প্রেমে।
কিছু প্রেম না পাওয়ার বেদনাতে,
বেঁচে রয় সাদা-কালো ছবি ফ্রেমে।।

30/05/2020

লেখাঃরম্য
লেখকঃ অচেনা মুসাফির
যেখানে সবাই স্টাইল আর পপুলার হওয়া নিয়ে ব্যাস্ত সেখানে আমি সাধারনের থেকেও বেশি মানে অতিসাধারণ হওয়া নিয়ে ব্যাস্ত। সব সময় ব্যাতিক্রম কিছু করার চেষ্টা করি।অদ্ভুত বা উদ্ভট কার্যকলাপ আমার নিত্যদিনের কাজ।তাই আজও ব্যাতিক্রম কিছু করার চেষ্টায় বের হলাম।হাটতে হাটতে স্টেশনে এসে বসলাম। স্টেশন প্লাটফর্ম আমার অনেক পছন্দের যায়গা। এখানে এসে বসলেই বিভিন্ন অভিজ্ঞতা আর নানান কিসিমের মানুষ দেখা যায়।আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি বোবার ভং ধরবো। কারন শুনেছি বোবার কোন শত্রু নেই।
প্লাটফর্মের এক কোনায় বসে আছি। হটাৎ এক মায়াবতী পাশে এসে বসলো মায়াবতী বললাম তার মানে এই নয় যে তার চেহারায় খুব মায়া।আসলে বাঙালী মেয়েদের শাড়িতেই বেশি সুন্দর লাগে।বেশ অনেকক্ষন অতিবাহিত হবার পরে আমাকে জিজ্ঞেস করল ঃ
--::কোথায় যাবেন আপনি??
--::আমি আঙুল নিজের দিকে তাক করে নিশ্চিত হতে চাইলাম আমাকেই বলছে কিনা । (যদিওবা আমি সব শুনেছি)
--::হ্যা আপনাকেই বলছি।খুলনা যাবার ট্রেনটা কখন আসবে বলতে পারেন??
--::(আমি কোন উত্তর দিলাম না কারন আজ যে আমি বোবা,কালার ভং ধরেছি।তাই চুপ করে রইলাম)
--::সে এবার প্রায় জোরেই বললো, কি ব্যাপার উত্তর দিচ্ছেন না কেন।?
--:: এবার আমি আঙুল আমার ঠোটের কাছে এনে না ইশারা করলা আবার কানের কাছে এনেও না ইশারা করলাম। সাংক্রেতিক ভাষায় বোঝাতে চাইলাম আমি কানেও শুনিনা আর কথাও বলতে পারিনা।
মেয়েটা এবার বেশ ভরকে গেল।
--:: সরি, আমি বুঝতে পারিনি আপনি কথা বলতে পারেন না।
--::এবারও চুপ করে রইলাম। বুঝতে পারলাম মেয়েটা সত্যিই মনে করেছে আমি বোবা। কিন্তু মনে মনে এক পিশাচ মার্কা হাসি দিচ্ছি।
এরপরে বেশ কিছুক্ষন কেটে গেল।কিন্তু বিপত্তি টা ঘটলো আমার ফোনে একটা কল এসে।আম্মু ফোন দিয়েছে আর আমার স্বাধ্য নেই আম্মুর ফোন রিসিভ না করা।কল আসা দেখে মেয়েটা ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে।হয়তো সে ভাবছে যে ছেলে কানে শোনেনা বা কথা বলতে পারেনা সে ফোন ব্যাবহার করে আমার তাকে কলও দেয়।
তাকে অবাক করার জন্য ফোন রিসিভ করলাম।
--:: হ্যা আম্মু বলো।
মেয়েটা আমার কথা শুনে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেন এক এলিয়েন মাত্র পৃথিবীতে নেমে এসে তার পাসে বসেছে।হয়ত কিছু বলতে চাচ্ছিল তাই আমি হুট করে উঠেই দৌড়।দৌড়াচ্ছি আস ভিলেন মার্কা হাসি দিচ্ছি ভাবছি মেয়েটাকে ভালই বোকা বানিয়েছি। পেছন ফিরে দেখি মেয়েটা এখনো হা করে তাকিয়ে আছে।

30/05/2020

(অণু গল্প )
"বেলা শেষে "
প্রবীর কুমার চৌধুরী

সারা রাত দুচোখের পাতা এক করতে পারেনি নিলয় ,শুধুই ভেবেছে কি পেল এতে ? তৃপ্তি না প্রতিশোধ ? বুকের মধ্যের বহুদিনের যন্ত্রণাটার কতটা নিবৃত্তি হল ? কোন সদুত্তর পাইনি । চিন্তায়,চিন্তায় শুধু রাত কেটে গেছে।

বহু দিন আগের একটি অসহায় বৃদ্ধার করুণ দুটিচোখ সেই মুহূর্তে ভেসে উঠেছে আর যেন বলেছে - দাদু ভাই আমি যে তোকে ছেড়ে আমি থাকতে পারব না কিন্তূ তোর বাবা আর মা আমাকে রাখতে চাইছে না ,আমি এখন বোঝা হয়ে গেছি দাদু । তোর মাকে খুশি করার জন্যে তোর বাবা নিজের মাকেও আজ বিসর্জন দিতে পিছুপা নয়।

দশমীর সকালে চোখের জল ফেলতে ফেলতে
নিলয়ের প্রিয় ঠাম্মা চলে গেছিল বৃদ্ধাশ্রমে । এর ঠিক এক মাসের মাথায় ঠাম্মা মারা গেলেন ।দূঃখ রাগ ,,একাকীত্ব ,আর নিঃসঙ্গতার মাঝে বেড়ে উঠতে লাগলো নিলয় । ছোট্ট বুকে তার অনুচ্চারিত শপদ। মনে সঞ্চিত হল অভিমান ,প্রতিহিংসা ।

কালের নিয়মে নিলয়ও সংসারী হল ,স্ত্রী ,সন্তান এলো ,আর এলো অমোঘ নিয়তির বিধান শাশুড়ি- বৌয়ের সাংসারিক অধিপত্য দখলের লড়াই ।জেদী ও দাম্ভিক মায়ের " বিনা রণে নাহি দিব সুচাগ্র মেদিনী " মনোভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠল জীবন ,বাড়ীতে কাক চিল বসতে পারেনা ।
নিলয় তার কর্তব্য স্থির করতে দেরি করে নি ।চারিদিকে সমস্থ বন্দোবস্ত পাকা করে এসে মাকে বলল -মা তুমি সব গুছিয়ে নাও কাল তোমায় বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যাব ।খুব সুন্দর আয়োজন ,আলাদা ঘর ,সুন্দর খাওয়ার ব্যবস্থা ও সর্বক্ষনের জন্যে ডাক্তার আছে ।টাকাটা একটু বেশী নেবে মাসে আঠারো হাজার তা নিক তুমি তো ভাল থাকবে ।
মা চিৎকার করে উঠেছিল -তোর কি মাথা খারাপ হল নীলু ? নিজের মাকে বলছিস বৃদ্ধাশ্রমে যেতে ।কেউ কি এমন কাজ করে?
নিলয় করুণ হেসে বলল -বাবা তো করেছিল ,তোমার দম্ভের কাছে হার মেনে আপন গর্ভধারিণীকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসতে ! কত অনুনয় ,বিনয় কত চোখের জল .....।

একবার দেখতে যাবে না মা ৭৫ বছরের বৃদ্ধা ঠাম্মা কত সুখে ছিল সেখানে .........?

30/05/2020

কবিতাঃ~ "হে রমণী "
কলমেঃ~ ✍️তাপস কুমার বর

রূপসী রমণী,
তুমি ও কি স্বপ্নের সাজ সাজনি?
তোমার রূপের চিত্রকল্পে,
বারে বারে আমার বিবেকের তাড়না ওঠে ।
ওই ছাপোষা নির্জন দ্বি- প্রহরে,
তোমার বাস্তবের নীড় বেঁধে,
আমার স্মৃতিতে এঁকে রেখেছি,
বন্ধনের বেড়া টেনে।
তুমি কি ভাবনি?
আমার চিন্তার বাসনার সাধ পেতে।
হে রমণী,
তুমি রূপসী মানস সুন্দরী সেজে,
তুলির রঙ এঁকেছিলে আমার স্মৃতিতে ।
সে কি বাস্তবে মেলে?
আমার কল্পনা আজ,
প্রেমরূপী চিত্রকল্পতরু সেজে,
সবুজের আচ্ছাদন টানে।
বসে বসে সে শুধু ভাবে।
হে মহিনী, চিত্রকল্প রমণী ,
তুমি কখন,
আমার বাস্তবের রমণী সাজবে?
________________*****________________

30/05/2020

কবিতাঃমায়ের শেষ ঠিকানায় চিঠি,
কলমেঃ প্রতাপ
,,,,,,,,
ছেড়ে যায় ছেলেবেলা সূর্যিটা তলে চলে যায় যেমন,
ছেড়ে যায় অতীত গুলো তিল তিল করেই এমন,
ছেড়ে যায় সম্পর্কগুলো আত্মাকে যায় ছিড়ে ছিড়ে,
ছেড়ে যায় পথ নদী মোহনার টানে কোন তীরে,
ছেড়ে যায় আকাশটা আমাবস্যার ঘন অন্ধকারে,
ছেড়ে যায় প্রিয়তমা তারচে বড় কোন আকাশে,
ছেড়ে যায় একে একে ধর্ম যুদ্ধ আর জাত ভেদাভেদ,
কভু ছেড়ে যায়না বুক ভরা ব্যাথা যত ক্লেশ,
ছেড়ে যায়না কেন প্রেম ভালোবাসা আর মায়া,
ছেড়ে যায়না কভু মাতৃর স্নেহ ভালোবাসা আর ছায়া,
ছেড়ে চলে যায় ছেলে মাকে রেখে বৃন্দাবনে বনবাস,
সুখ খুঁজে সাহারায় সুখকে পায়ে ঠেলে কারাবাস,
একরত্তি সুখে আর একমুঠো ভাতের জ্বালাতে,
মা গুলো সং শেষে খুঁড়ে চলে কাজে কিবা ভিখারীতে।

Want your business to be the top-listed Government Service in Agartala?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Agartala
977131