29/11/2025
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, ১৮২০ সালের ২৮ নভেম্বর জার্মান-শিল্পপতি-পরিবারে জন্ম নেওয়া দার্শনিক ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসকে এই প্রবন্ধ ফিরে দেখতে চায়। সেই দেখা কতভাবে হতে পারে তারই সমাজতাত্ত্বিক পারে-আখ্যান হিসেবে পাঠক এই প্রবন্ধটিকে বুঝে নিতে পারেন।
এঙ্গেলস প্রসঙ্গে প্রাথমিক ধারণা গঠনের লক্ষ্যেই এই প্রবন্ধ লেখা। তাই হয়তো এখানে বলা কথাগুলো বিশেষজ্ঞদের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে কার্ল মার্কসের একজন অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে, লেখক পরিচিতিতে, মার্কসবাদের ভাষ্যকার হয়ে, একজন সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে, অথবা প্রকৃতির অভ্যন্তরে দ্বন্দ্বের বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ভাববাদ বিরোধী একজন রচনাকার পরিচয়েও পাঠক তার এঙ্গেলসকে এই প্রবন্ধে ফিরে পেতে পারেন।
এখানেই শেষ নয়। শ্রম শোষণ যন্ত্রের চালিকা শক্তির অর্থনৈতিক সমীকরণটিকে, এবং তার বস্তুবাদী ভিতটিকে এখানে পাঠক সচেতনে দেখে নিতে পারেন। সেই সমীকরণের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত এঙ্গেলসের ধারণাগুলিকে এই প্রবন্ধ কোন আঙ্গিকে ব্যবহার করেছে, তাতেও পাঠক একবার চোখ বোলাতে পারেন। মার্কসবাদী ধারণায় ডুব দেওয়ার সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাঠক এখানে বুঝে নিতে পারবেন বিশ্বপরিসরের অতিমারিকালের রাজনীতিকে। সেই ফাঁকেই দেখা হয়ে যাবে এঙ্গেলসের বর্ণময় জীবন। সেখানে আমাদের দেশের কথা থাকবে। সেই কথায় সমাজ গবেষক এঙ্গেলস ভারতীয় সমাজ ও তার রাজনৈতিক শাসন প্রসঙ্গে ঠিক কোন বার্তা দিয়েছিলেন তা সচেতন পাঠক বুঝে নিতে পারবেন। অর্বাচীন পাঠকের দলে থাকারাও বিদেশী কমিউনিস্ট পরিচিতিতে চিহ্নিত এঙ্গেলসকে আড়চোখে পাঠ করে নিতে পারবেন। সেই পাঠে, সমালোচনায় উঠে আসবেন এঙ্গেলস, আজ ২০৬তম জন্মদিনে।
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
Friedrich Engels: এঙ্গেলস! কোন এঙ্গেলস? সমাজতাত্ত্বিক চোখে ফিরে দেখা ২০৬ বছর
এই প্রবন্ধ সকল ধরনের পাঠকের কথা ভেবেই লেখা। যেভাবে দেখবেন, সেভাবেই পাঠক এঙ্গেলসকে খুঁজে পাবেন।
28/11/2025
১৯৭৫-এর জরুরি অবস্থা বিতর্কিত কেন?
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন ভারতে জাতীয় জরুরি অবস্থা লাগু হওয়ার পরবর্তী ২১ মাস বিতর্কিত অনেকগুলি কারণে। যদিও ভারতের ইতিহাসে জরুরি অবস্থা সর্বদাই একটি বিতর্কিত ঘটনা, তবে এই ২১ মাস ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক নীতিগুলোর উপর একটি বড় আঘাত হেনেছিল কারণ এখানে “অভ্যন্তরীণ গোলযোগ” এর ভিত্তিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়ে গেলেও, গোলযোগটা যে ঠিক কি, তা বলা হল না। উল্টে আপামর জনগণের জন্য বাক স্বাধীনতা, সমাবেশ করার অধিকার এবং গ্রেপ্তার ও আটক করার ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেন্সরশিপ চালিয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং সরকারের সমালোচনা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বহু রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও বুদ্ধিজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করার জন্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার রক্ষণাবেক্ষণ আইন বা মিশা আইন ১৯৭৫ সালে ভারত সরকার কর্তৃক প্রণীত হয়, যা কংগ্রেসের নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই আইনটি সরকারকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিনা বিচারে আটক করার ক্ষমতা দিয়েছিল, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সমালোচিত হয়েছিল। আইনের ভাষাকে অস্পষ্ট করে তুলে অপব্যবহারের মাত্রাকে বাড়িয়ে তোলা হয়, যা সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে সুযোগ করে দেয়। এই রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচার জনগণের মধ্যে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
এই অসন্তোষের নেপথ্যকে আমরা দুইভাবে দেখতে পারি। প্রথমত, জাতীয় পরিস্থিতি; দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। ১৯৭০ সালের পর থেকে ভারতে কয়লা খনিগুলির জাতীয়করণের সঙ্গে ব্যাংক ও বীমার জাতীয়করণ ঘটে। আবার ১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয় ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি, যা আনুষ্ঠানিকভাবে “ইন্দো-সোভিয়েত শান্তি, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি” নামে পারস্পরিক সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার লিপিবদ্ধ হয়। জাতীয় পরিস্থিতিতে ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে "সমাজতান্ত্রিক" ও "ধর্মনিরপেক্ষ" শব্দ দুটি প্রস্তাবনায় যুক্ত করা হয়, যা আগে ছিল "সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র"। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সোভিয়েত ঘেঁষা অবস্থানের জন্য ভারতের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুনজর পড়ে।
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
Emergency 1975: পোহালে শর্বরী নতুন দেশ : জরুরি অবস্থার কয়েকটি কথা
১৯৭৫ সালের ২৫ জুনও ছিল বুধবার। মঙ্গলে ঊষা বুধে পা হলেও সেই দিন অমঙ্গল, অনাচার, আধাফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল...
28/11/2025
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নির্মিত সিস্টেম ইতিমধ্যেই মানুষকে বড় সমস্যা মোকাবেলায় সাহায্য করছে। এর একটি ভাল উদাহরণ হল ‘ইনারআই’, একটি প্রকল্প, যেখানে মাইক্রোসফ্টের যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষকরা ক্যান্সারকে আরও কার্যকরভাবে চিকিত্সা করতে সাহায্য করার জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেম বিকাশের চেষ্টা করছেন। তার জন্য তাঁরা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছেন।
বিকল্প প্রযুক্তিব্যবস্থা যতক্ষণ না আমরা তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছি, ততক্ষণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচলিত ফাঁদকে পাশ কাটিয়েই এর সাহায্য আমাদের নিতে হবে। মানবজাতির মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে জটিল এবং চাপের বিষয়গুলি সম্পর্কে চিন্তা করেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে আমাদের সমাধান খুঁজতে হবে। দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষার উন্নতি, স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ, মারণ রোগ নির্মূল করা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা এবং দ্রুত বর্ধনশীল বিশ্ব জনসংখ্যাকে খাওয়ানোর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য বৃদ্ধির মতো টেকসই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করাটাই যখন আমাদের মানবিক লক্ষ্য।
জ্ঞানীয় পুঁজিবাদের সমকালীন ধারা অবশ্য জীবন বাঁচানো, দুর্ভোগ লাঘব করা এবং মানুষের সম্ভাব্যতা প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাগুলিকে জানান দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমকালীন ব্যবহার সেটা দাবি করলেও, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং লিবারেল আর্টসের সংযোগস্থলে শোষণের একমুখীকরণ চিহ্ন আজও দৈনন্দিন জীবনের ক্ষত হয়েই রয়ে যায়।
জীবন্ত লাশ হতে থাকে মানব সভ্যতা। মৃত্যু সেখানে এখনও নিস্তব্ধতায় নেমে আসে।
AI: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা - মানব সভ্যতা জীবন্ত লাশ হয়ে যাবে না তো?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সিস্টেমগুলি তাই জ্ঞানীয় পুঁজিবাদের পক্ষে কাজ করে। প্রচারে আসে সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা।
28/11/2025
গাজ়ায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে সারা বিশ্বের মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। প্রতিদিন শতাধিক শিশুর পরিকল্পিত-মৃত্যু, মানব সভ্যতায় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। ইহুদি, মুসলিম, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, অজ্ঞেয়বাদী, নাস্তিক, কমিউনিস্ট সহ সকল মানবতাবাদী, এই নির্লজ্জ হত্যাকাণ্ডকে ধিক্কার জানাচ্ছেন। হাসপাতাল ঘিরে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রাখার রাষ্ট্রীয় মানসিকতাকে নিন্দা করছেন।
রাজনৈতিক পরিকল্পনায় ধর্মের তাসটিকে নিহত সেনার আবেগ চিহ্নে ট্রাম্প কার্ডে পরিণত করা হয়েছে। ইজ়রায়েলের মাটিতে সেই রাজনৈতিক কৌশল সাফল্য পেয়েছে। লিকুদ সরকারের নেতা নেতানিয়াহু তাঁর সেই বসতি পরিকল্পনাকে জাতিতন্ত্রে বাস্তবায়িত করেছেন।
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
একাকী ভিড়: সংস্কৃতি, ধর্ম ও রাজনীতির প্যালেস্টাইন - উপকথার কথোপকথন শেষে (শেষ পর্ব)
কেন ফিলিস্তিনিরাই কেবলমাত্র খেসারৎ দিয়ে যাবে? এই প্রশ্ন ‘বিদ্বেষী’ প্রত্যুত্তরে অনুরণিত হয়।
28/11/2025
মোজেস সর্বত্রাতা, মুক্তিদাতা হয়ে সেই আখ্যানে হাজির হয়েছেন অবশ্য অনেক আগেই। সিনাই সেখানে ঘরানায় ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। আব্রাহাম, মূলত আব্রাম, হয়ে উঠেছেন ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্মের হিব্রু পিতৃপুরুষ। ইসলামে তিনি হয়েছেন আদম থেকে মুহাম্মদের মধ্যে অন্যতম সংযোগ সূত্র। নবী-সূত্রের একটি অন্যতম ‘মিসিং লিঙ্ক’। একজন ইহুদির ধর্মাচরণে তিনিই হন ঈশ্বরের প্রধান দূত। আবার খ্রিস্টধর্মে তিনিই হলেন ধর্মবিশ্বাসীর আধ্যাত্মিক বংশধর।
সেই ধর্মসূত্রে ইহুদিবাদের কাছে একজন খ্রিস্টান হলেন অনুদিত ঈশ্বরের উপাসক। ভাষা হয়ে ওঠে ধর্মের অনুরূপ। ধর্মের অনুক্ষণে ভাষার সেই হাজিরা গ্রাহ্য হয়েছে ‘টুনাহ’ রচনার সময় থেকে। সেই সময় থেকেই হিব্রু এবং আরবিকে পবিত্র ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ভাষা আর ধর্ম হয়ে উঠেছে একে অপরের পরিপূরক। ইহুদি বিশ্বাসে ধর্মগ্রন্থে যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা হল আসল, ঈশ্বরের প্রকৃত শব্দ। হিব্রু বাইবেলজাত এই পরিচিতিকে অবচেতনে কেউ ইতিবাচক বা সমাজপন্থী হিসেবে কল্পনা করতেই পারেন।
ধর্মের এই আদি রূপ-কল্পনা অলৌকিক। ঠিক যেমন ইজ়রায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাতের অবসান হল আর এক জাদুকরী বয়ান-বিন্যাস। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাও তাই হল এক অতিকথন। সেই আখ্যানে জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর (ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক) এবং গাজ়া উপত্যকায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সীমানাহীন বিস্তৃতি। সেই অবরুদ্ধ অঞ্চলের সঙ্গে ইজ়রায়েলের একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তির অধীনে সকল প্রকার শত্রুতার অবসান ঘটে। শান্তির এই অলৌকিক বিশ্বাস দ্বিতীয়বারের জন্য অসলো নীতিমালার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে সাহায্য করে।
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
একাকী ভিড়: সংস্কৃতি-ধর্ম-রাজনীতির প্যালেস্টাইন - প্রতিরক্ষার নামে পরিচয় রাজনীতির ষড়যন্ত্র (প
হঠাৎ করেই গণতন্ত্র এখানে জাতিতন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এও এক প্রকারের প্রতিকল্পীয় বাঁক।
28/11/2025
অবশেষে ইহুদিদের জন্য একটা দেশ তৈরি করার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে বাস্তবায়িত হল। ইজ়রায়েল প্রতিষ্ঠিত হল। পৃথিবীর বহু দেশ থেকে ইহুদি জনগণ সেখানে আরও বেশী হারে আসতে শুরু করলেন। প্যালেস্টাইনের গর্ভে সদ্য জন্ম নেওয়া ইজ়রায়েলের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকলো। ইজ়রায়েল হয়ে উঠল পাশ্চাত্যের এক আদর্শ সামরিক গড়নের প্রাচ্য সংস্করণ।
সংস্কৃতির পরিব্যাপ্তিতে ইজ়রায়েল হয়ে উঠল ঔপনিবেশিক আমেরিকা, যেখানের বেশিরভাগ সামাজিক ঐতিহ্য ইংল্যান্ড, স্পেন এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ থেকে আনা হয়েছিল। যুদ্ধের পদ্ধতি আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে কাদের অবদান ছিল, এই সত্যটি যদিও সাধারণত জানা যায় না। ঠিক যেমন জানা যায় না যে চীনারা গরুর মাংস খাওয়া (সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদান) কোথা থেকে শিখেছিল। তবে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক উপাদানগুলির বেশিরভাগই যে ইতালি থেকে উদ্ভূত, সেটা প্রমাণিত। আবার এই ইতালি, পালাক্রমে, গ্রীকদের কাছ থেকে জীবনধারার উপাদানগুলিকে ধার নিয়েছিল।
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
একাকী ভিড়: প্যালেস্টাইন - বিশ্ব-ক্ষমতা কাঠামো ও এশীয় জ়ায়নবাদী শক্তিকেন্দ্র (পর্ব ২)
অবশেষে ইহুদিদের জন্য একটা দেশ তৈরি করার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে বাস্তবায়িত হল। ইজ়রায়েল প্রতিষ্ঠিত হল।
28/11/2025
বিশ শতকের দুই ও তিনের দশক জুড়ে ফিলিস্তিন দ্রুত উত্তপ্ত হতে থাকে। একদিকে ইহুদি অভিবাসনের ফলে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইহুদি অভিবাসীদের আর্থিক সহায়তার সঙ্গে ব্রিটিশ ও মার্কিন সামরিক সহায়তা, ফিলিস্তিনে জায়নবাদী রাষ্ট্র গঠনের কাজটিকে সহায়তা করে। ইহুদি-প্রধান একটি রাষ্ট্র, যা হল তাদের জাতীয় আবাস। সেই লক্ষ্যে এই সময়ের মধ্যে হাগানাহ ও হিস্তাদ্রেত তাদের সংগঠনকে বৃহৎ মাত্রায় প্রসারিত করতে সক্ষম হয়। ইহুদি জাতিসত্তায় ভর করে রাজনৈতিক এবং সামরিক হাতিয়ারের ব্যবহারে জায়নবাদী জাতীয়তাবাদের প্রয়াস জোরদার হয়। হাগানাহের অভ্যন্তরে আরও জঙ্গি উপাদানগুলি ক্রমে দ্রুত বেড়ে যায়। ১৯৩১ সালে হাগানাহ থেকে ইরগুন বিভক্ত হয়। হাগানাহের মাত্রাতিরিক্ত জঙ্গি উপাদানগুলির সমন্বয়ে গঠিত সামরিক অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে ইরগুন তসওয়াই-লিউমি (জাতীয় সামরিক সংস্থা) গঠন করে, যা ওই ‘ইরগুন’ নামে বেশি পরিচিত।
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
একাকী ভিড় : সংস্কৃতি, ধর্ম ও রাজনীতির প্যালেস্টাইন - ইজ়রায়েল ও তার জায়নবাদী ভূ-রাজনীতি (১ম পর্
১৯৩৭ সালের জুলাই মাসে জারি করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে, পিল কমিশন ফিলিস্তিনকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করার সুপারিশ করে....
28/11/2025
নীতিনির্ভর রাজনীতির সেই সুফলের কথা বাবা আমাদের বলতেন। কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু, হরেকৃষ্ণ কোঙার, রতনলাল ব্রাহ্মণ, মুজফ্ফর আহমেদ, ভবানী সেন সহ অনেকের কথায় আমাদের রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের কাজ বাড়িতে সম্পাদিত হতো। বর্ধমান জেলার সেই প্রত্যন্ত গ্রামে তখন বিদ্যুৎ এলেও আমাদের পাড়াতে তখনও বিদ্যুৎ আসেনি। হ্যারিকেনের আলো জ্বালিয়ে সন্ধ্যায় আমরা পড়তে বসতাম, সেই আলোয় এক বর্ষার রাতে নবরত্নের মধ্যে আমি জ্যোতি বসুর ছবি দেখেছিলাম। বাবার মতোই ধুতি পরা লড়াকু চরিত্রের একজন সাধারণ মানুষ।
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
Jyoti Basu: আমি জ্যোতি বসুকে ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছিলাম
বাবার মুখে শুনতাম যে আমার কাকা ক্যান্সারের ওপর পোস্ট-ডক্টরেট করতে জাপান যেতে পেরেছিলেন জ্যোতি বসুর কারণে।
28/11/2025
আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে রাজস্থানের মারওয়ার অঞ্চলে বনাঞ্চল রক্ষার জন্য বিষ্ণোই আন্দোলন গড়ে ওঠে। অমৃতা দেবী সহ খেজারলি এবং তাঁর আশেপাশের গ্রামের বিষ্ণোই গ্রামবাসীরা এই আন্দোলন গড়ে তোলেন। একটি নতুন প্রাসাদের জন্য রাজার সৈন্যদের দ্বারা কাটা পড়ার হাত থেকে পবিত্র গাছগুলিকে বাঁচানোই ছিল এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য। পরিবেশ আন্দোলনের ধারায় এটি ভারতের মাটিতে ঘটা প্রথম ঘটনা।
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
বিষ্ণোই আন্দোলন : ভারতে পরিবেশ লড়াইয়ের গোড়ার কথা
চরমভাবে নিবেদিত পরিবেশ রক্ষাকারী পরিচিতির বিষ্ণোই সম্প্রদায়, ধর্মীয় রীতিতে পুরোপুরি হিন্দু নয়।
28/11/2025
গ্রুণ্ডিস-এ মার্কস আরও লিখছেন, “এটি প্রকৃতির সঙ্গে তাদের বিপাকীয় বিনিময়ের প্রাকৃতিক, কিম্বা অজৈব অবস্থার সঙ্গে জীবিত এবং সক্রিয় মানবতার একতা নয়, এবং তাই তাদের প্রকৃতির প্রয়োগ, যার ব্যাখ্যা প্রয়োজন, অথবা যা একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফলাফল, বরং এটা মানব অস্তিত্বের অজৈব অবস্থাগুলির এবং তার সক্রিয় অস্তিত্বর মধ্যে পার্থক্য করে, একটি বিচ্ছেদ যা সম্পূর্ণভাবে শুধুমাত্র মজুরি শ্রম এবং মূলধনের সম্পর্কের মধ্যেই রয়েছে।”
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
পরিবেশ ভাবনায় কার্ল মার্কস: ২০৬তম জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য
মুনাফার লোভে, প্রাণীকুলে, মানব প্রজাতির একটা মুষ্টিমেয় অংশ প্রকৃতির ক্ষয় নিশ্চিত করে।
28/11/2025
ভাষা ইতিহাসে লড়াইয়ের কথা, সংগ্রামের কথা, বাঙালি জীবনের সেই পূর্বকথা, না বললেই নয়। ইংরেজ অধীন ভারতীয় উপমহাদেশে তখন সুচতুর শাসননীতির ব্যথা, অনভিপ্রেত অনুভূতির সে-এক ভয়ের সাম্রাজ্য। “ভাগ করো, এবং শাসন করো।” – এই ভাবনার রাজনৈতিক প্রকাশে, সম্প্রদায়ে লেগেছে তখন স্বার্থপরতার গন্ধ।
হিন্দু-মুসলমানের ধর্মীয় ভিন্নতায়, জাতীয় কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের সংগঠন ব্যবধানে, ভ্রাতৃত্বের পরম্পরা যখন বৈর অবস্থানে দীর্ণ, কূট নেতাদের ক্ষমতালোভের কৌশলী ফাটলে তখন চেপে বসে সাম্রাজ্যবাদী তীক্ষ্ণতা।
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
অমর একুশে বাঙালি: ভাষা আন্দোলনের দিনলিপি
নানা ভাষা, নানা মত, আর নানা পরিধানে মিলনকে মেনে নিয়ে ভারত স্বাধীন হল। পুবে পাকিস্তান, পশ্চিমেও পাকিস্তান।
28/11/2025
১৪৫তম জন্মদিনে দাঁড়িয়ে স্তালিনকে স্মরণ করলে তাঁর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডতেই ফিরে যেতে হয়। মার্কস-এঙ্গেলসের ঐতিহাসিক মতবাদের বাস্তব রূপায়ণে তাঁর ভূমিকার দিকে আমাদের চেয়ে থাকতে হয়। বিজ্ঞাননির্ভর মার্কসবাদী তত্ত্বের বিকাশে মহান লেনিনের পাশাপাশি তাঁর উজ্জ্বল অবদান সেখানে মুক্তিকামী শ্রমজীবী মানুষের জীবন-ইতিহাসে শিরোনাম হয়ে থাকে।
পশ্চাৎপদ কৃষি-অর্থনীতিতে ভর করে রুশ দেশের সমাজ কাঠামোকে সমাজতন্ত্রে উত্তরণের মূলে ছিল লেনিনের শিক্ষা। সেই জ্ঞানে, লেনিনের মৃত্যুর পর, সামাজিক পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি সমবেত রুশ জনগণ হলেও, স্তালিনকে তার প্রধান স্থপতি ও রূপকার বলা চলে। বিপ্লবের সফল রূপায়ণে তাঁর অসামান্য অবদান পৃথিবীর ইতিহাসে আজও অমলিন।
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়
শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রামে জোসেফ স্তালিন
নীতির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আপোষহীন। শুধুমাত্র নেতাদেরই ইতিহাসের স্রষ্টা বলে মনে করার কোনো কারণ তিনি দেখেন না।