30/09/2026
।। ইউরোপকে আর সোনা লুটতে দেবে না বুর্কিনা ফাসো ।।
ইরান-আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন-রাশিয়া, গাজায় ইজরায়েলি হামলা, চীন-মার্কিন দ্বৈরথের মাঝে কামাল করলো আফ্রিকার এই দেশ। ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে একটা কাজ করলেন, যা স্বাধীনতার পর থেকে বুর্কিনা ফাসোর কোনো নেতা করতে পারেননি। তিনি একটা সোনা পরিশোধনের কারখানা বানালেন। এবং তা প্যারিস, লন্ডন, টরন্টোতে নয়। নিজের দেশের মাটিতে, ওয়াগাডুগুতে।
কয়েক দশক বক্ললে ভুল হবে। কয়েক শতক ধরে ফ্রান্সের খনি কোম্পানিগুলো এসেছে, বুর্কিনা ফাসোর বুক খুঁচিয়ে সোনা বের করেছে। কাঁচা সোনা জাহাজে তুলে ইউরোপে পাঠিয়ে দিয়েছে। লাভের গুড় খেয়েছে ইউরোপে। আর আফ্রিকার কালো মানুষগুলো খালি হাতে দাঁড়িয়ে থেকেছে। যে শিশুরা খনির অন্ধকার সুড়ঙ্গে দিনরাত খেটেছে, তারা কিছু পায়নি। যে গ্রামগুলোর জল বিষ হয়ে গেছে, সেই গ্রামগুলোও কিছু পায়নি। কেউ কিছু পায়নি। বুর্কিনা ফাসো যা রপ্তানি করত, তার অর্ধেক ৫০ শতাংশ সোজা চলে যেত ফ্রান্সের কোষাগারে। এটাই ছিল চুক্তি। এটাই ছিল ঔপনিবেশিক কর। এটাই ছিল সিএফএ ফ্রাঁ ব্যবহারের দাম। তাদের ভাষায় এটা ছিল "উন্নয়ন"। আমাদের ভাষায় এটা ছিল লুট। তারা ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সোনা নিয়ে গেছে। পিছনে রেখে গেছে মাত্র ১০ বিলিয়ন। আর তার নাম দিয়েছে "সহায়তা"।
তবে এইবার ইতিহাসের চাকা উল্টোলো। ক্যাপ্টেন ট্রাওরে বলেছেন, "যথেষ্ট হয়েছে। আর নয়।" নতুন কারখানার নাম RAFFINOR-BF। খরচ হয়েছে ১৯ মিলিয়ন ডলার। বছরে ১৬৪ টন সোনা পরিশোধন করতে পারবে। পরে ক্ষমতা বাড়িয়ে ৫১৫ টন করা হবে। শুধু নিজের দেশের জন্য নয় পুরো অঞ্চলের সোনা এখানেই পরিশোধন হবে। মানে, সোনার আসল দামটা এবার থাকবে এদেশেই। ট্রাওরে বলেছেন, "আমাদের স্বপ্ন আর এমন দেশ হওয়া নয়, যা শুধু খুঁড়বে আর পাঠিয়ে দেবে। আমরা এখানেই পরিশোধন করব। এখানেই যাচাই করব। আমাদের সোনা আমরা এখানেই নিয়ন্ত্রণ করব।" আর আফ্রিকার এই দেশটির খনিমন্ত্রীর বলেছেন, "আজ সেই দিন, যেদিন আমরা নিজের ঘরের চাবি নিজের হাতে ফিরিয়ে নিলাম।" ২০২৬ সালের জুনে ফ্রান্স বুর্কিনা ফাসোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এরপর অনেক পশ্চিমী বোদ্ধা ভেবেছিলো দেশটি না খেয়ে মরবে। ট্রাওরে কথা কম বলে চুপচাপ একটা কারখানা বানিয়ে ফেললেন।
শুধু বুর্কিনা ফাসো নয়। মালিও রাশিয়ার সহায়তায় নিজের পরিশোধন কারখানা বানাচ্ছে। নাইজার ফরাসি ইউরেনিয়াম নিজের করে নিয়েছে। গিনি আর ঘানা কাঁচা সোনা রপ্তানি কমিয়ে দিচ্ছে। গোটা সাহেল অঞ্চলটা যেন ঘুম থেকে জেগে উঠছে। এভাবেই নয়া বিশ্ব ব্যবস্থায় ইউরোপের শতাব্দী প্রাচীন উপনিবেশবাদীরা আফ্রিকা হারাচ্ছে। একবারে একটা করে কারখানা হারাচ্ছে। আর প্রতিটা কারখানার সঙ্গে হারাচ্ছে তাদের পুরনো সেই দখলদারির স্বপ্ন।
আর সেখানে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে শুধু "নেতা" নন। তিনি একজন মুক্তিদাতায় রূপান্তরিত হচ্ছেন। "আফ্রিকার চে গেভারা" বামপন্থী টমাস সাংকারার এই ভাবশিষ্য "পশ্চিমীপন্থী" নন, "রাশিয়াপন্থী"ও নন। তিনি বুর্কিনা ফাসোপন্থী। আর সেজন্যই ফ্রান্স তাকে এতটা ঘৃণা করে। এইবার থেকে বুর্কিনা ফাসোর সোনা বুর্কিনা ফাসোর মানুষের। আজ প্রথমবারের মতো এই কথাটা শুধু মুখের স্লোগান নয়। আজ এটা সত্যি।
বহুমেরুর এই বিশ্বে এই রকম ছবি আরোও আরোও আসুক। এই আশা করি।
Video - dbcnews.tv