Shibdas Ghosh quotes

Shibdas Ghosh quotes

Share

Shibdas Ghosh was an Indian politician and Marxist philosopher. He was involved in the Communist movement in India for several decades.

He was also the founding general secretary of Socialist Unity Centre of India (Communist).

28/05/2026

".......একথা তো ঠিক যে, যাঁরা রবীন্দ্র সংস্কৃতির চর্চা করবেন তাঁদের যদি সাহসের সঙ্গে অন্যায়ের মোকাবিলা করবার, অর্থাৎ 'নিজে অন্যায় করব না, অপরকে অন্যায় করতে দেব না' এবং অন্যায়ের ফলে দেশ ডুবে যাচ্ছে যদি দেখতে পাই, তাহলে তার প্রতিবাদ করবার জন্য সামনে এগিয়ে আসব'- এই মানসিকতা না থাকে, তাহলে রবীন্দ্রনাথের জয়গান গাওয়া, রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে বড় বড় কথা বলার সত্যিকারের তাৎপর্য কোথায়?"--শিবদাস ঘোষ।

28/05/2026

" লেনিন বলেছেন, শ্রমিকদের কাছে যাও, তবে তারা যেমন অবস্থায় আছে তেমন হতে নয়, যাবে তাদের কমিউনিষ্টের স্তরে উন্নীত করার জন্য --অর্থাৎ শ্রমিকদের মধ্যে যা আছে, তা গ্রহন করবার জন্য আমরা তাদের কাছে যাই না। আমরা তাদের জীবন থেকে শিখতে যাই-একথার মানে হল, আমরা প্রোলেটারিয়ান বিপ্লবী রাজনীতি ও সংস্কৃতির যে ভাবনাধারনাগুলো জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে আয়ত্ব করেছি, তাদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সেটাকে উন্নত করে আবার তাদের মধ্যে সেটা দিই। তাদের কমিউনিষ্ট হিসাবে গড়ে তোলবার জন্য, উদ্বুদ্ধ করার জন্যই আমরা তাদের মধ্যে যাই। আমরা যারা তাদের কমিউনিষ্ট হিসাবে উন্নত করবো, সেই আমরা নিজেরাই যদি কমিউনিষ্ট সংস্কৃতি আয়ত্ব করতে না পারি, তাহলে শুধুমাত্র কতগুলো কমিউনিষ্ট রাজনৈতিক বুকনি আউড়ে আমরা কি তাদের বিপ্লবী করতে পারি? না, তা কখনোই সম্ভব নয়। তাহলে, জনগনের সাথে সংযোগ এবং জনগণের আন্দোলন যারা পরিচালনা করবেন, তাদের এই আন্দোলন পরিচালনা করার সাথে সাথে দেখতে হবে, তাদের তত্বটা ঠিক কিনা, তাদের রাজনীতিটা বিপ্লবী কিনা, এবং তাদের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংস্কৃতি পাল্টাবার জন্য তাদের প্রতিনিয়ত ' গাইড ' করছে কিনা। কাজেই কোন সহজ রাস্তায় এর কোন সমাধান নেই। একজন শ্রমিক‌ও এই সমাজে বুর্জোয়া চিন্তাধারায় প্রভাবিত শ্রমিক। তার অবস্থান, তার সংস্কৃতি, সমস্তই বুর্জোয়া সংস্কৃতির প্রভাবে প্রভাবিত-এই কথাটা সবসময় মনে রাখতে হবে। একথা ঠিক যে, সে শ্রমিক বলে তার পক্ষে বিপ্লবী শ্রেণীচরিত্র অর্জন করা অপেক্ষাকৃত সোজা, কিন্তু সেক্ষেত্রেও তাকে নিজেকে বুর্জোয়া ভাবধারার প্রভাব থেকে মুক্ত করে কমিউনিষ্ট চেতনার স্তরে উন্নীত হতে হবে, নিজেকে পরিবর্তিত করতে হবে কমিউনিষ্ট হিসাবে। যার জন্যই মার্কস বলেছেন, এই সমাজের শ্রমিকরা আগে নিজেদের বিপ্লবী হিসাবে পরিবর্তিত করবে, তবে সে বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবে।"
শিবদাস ঘোষ।।
(সুত্র-" কেন ভারতবর্ষের মাটিতে এস ইউ সি আই একমাত্র সাম্যবাদী দল" পুস্তিকা/পৃষ্ঠা-৭৬-শিবদাস ঘোষ।)

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী, আনারা, জেলা-‌পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।।)

(ক্রমশঃ)।।।।

26/05/2026

" তাহলে দেখা যাচ্ছে মানবতাবাদী মূল্যবোধগুলি নিঃশেষিত হ‌ওয়ার পথেই সর্বহারা সংস্কৃতির জন্ম। তাই আজ আর শুধু রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, নজরুল প্রশস্তি গাইলেই চলবে না। এঁদের সাহিত্যচিন্তার মুখ্য শ্রেণীচরিত্র নির্নয় করে, সম্পূর্ণ এক নুতন দৃষ্টিভঙ্গিতে এঁদের মূল্যায়ন করার যে প্রয়োজন রয়েছে-সে ব্যাপারে জনসাধারণকে আপনাদের সাহায্য করতে হবে। রামমোহন থেকে শুরু করে বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, নজরুল প্রভৃতিরা সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে স্তরে স্তরে যে উন্নত পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেলেন, ঠিক সেইখান থেকে আপনাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের শুরু। ঠিক সেইখান থেকেই হবে সর্বহারা সংস্কৃতির জয়যাত্রার শুরু। এর সাথে কিন্তু আর একটা কথাও আপনাদের মনে রাখতে হবে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে এদেশের বুর্জোয়া মানবতাবাদী আন্দোলনের মধ্যেই যে দুটো ধারার কথা আমি আগেই বলেছি- তার মধ্যে মুলতঃ মানবতাবাদের আপোষহীন যৌবনোদ্দীপ্ত ও বিপ্লবাত্মক ধারাটি-যে ধারার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন শরৎচন্দ্র ও নজরুল-তারই ধারাবাহিকতায় ও তার সাথে ছেদ ঘটিয়ে সর্বহারা সংস্কৃতির জন্ম। আজ আপনারা, যারা যথার্থ অর্থে শরৎচন্দ্র ও নজরুলের উত্তরসাধক হতে চান, ইতিহাসের অমোঘ নিয়মেই শরৎচিন্তা ও নজরুল চিন্তার সাথে স্বাভাবিকভাবেই তাদের চিন্তার একটা বিরোধ দেখা দিতে বাধ্য। আজকের সর্বহারা সংস্কৃতির উদগাতারা শরৎচন্দ্র ও নজরুলের‌ই উত্তরাধিকারী। আর, উপযুক্ত উত্তরাধিকারী হ‌ওয়ার মানেই যাঁদের উত্তরাধিকারী তাঁদের সঙ্গে আপনাদের চিন্তাগত বিরোধ ঘটবে। যারা পরিবর্তিত অবস্থাতেও সেই পুরানো চিন্তার‌ই জাবর কেটে চলেছে, তারা তাঁদের উত্তরাধিকারী তো নয়‌ই উপরন্তু এইসব স্তাবকেরা তাঁদের যে সংস্কৃতি একদিন লড়াইয়ের হাতিয়ার ছিল, তাকে আজ 'প্রিভিলেজে' পর্যবসিত করেছে। তাহলে আজ প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সামনে প্রধান কাজ হচ্ছে, জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের যে ঝান্ডাটি রাজনৈতিক নেতারা রাজনৈতিক ক্ষমতালাভের তাড়াহুড়ায় অবহেলায় ফেলে দিলেন, শরৎচন্দ্র এবং নজরুল যাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন-এবং যে ঝান্ডাটি গনতন্ত্রীরা, সমাজতন্ত্রীরা ও মেকী সাম্যবাদীরা ভোটের রাজনীতিতে অসুবিধা হতে পারে এই ভয়ে অবহেলায় ফেলে রেখেছেন, সেই ভুলুন্ঠিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ঝান্ডাটিকে আজ আপনাদের ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে এবং ক্রমাগত জ্ঞানের আলোকে তাকে আর‌ও উদ্ভাসিত করতে হবে। 'বিশুদ্ধ সংস্কৃতি'র চর্চা ও সর্বপ্রকার বুর্জোয়া ভাবধারার আক্রমনকে প্রতিহত করে আপনারা যদি এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে স্তরে স্তরে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে সর্বহারা বিপ্লবের পরিপুরক এমন একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলন দেশে গড়ে তুলতে পারেন, তবেই আপনারা হবেন রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র ও নজরুল সংস্কৃতির সত্যিকারের উত্তরসাধক। তবেই জাতীয় জীবনে আজ যে নৈতিকতার সংকট, সাংস্কৃতিক আন্দোলনে আজ যে জড়তা, তা দুর হবে। আপনারা এগিয়ে চলুন-শেষ জয় আপনাদের‌ই।"

শিবদাস ঘোষ।।



(সুত্র-'ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও আমাদের কর্তব্য'-শিবদাস ঘোষ, এই পুস্তক থেকে উদ্ধৃত)।

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/পশ্চিমবঙ্গ/ভারতবর্ষ,কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

20/05/2026

আপনারা যদি মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রে তাকে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারেন একমাত্র তখনই বিপ্লবের উপলব্ধি আপনাদের প্রাঞ্জল হবে, সমাজবিকাশের প্রক্রিয়াকে আপনারা অনুধাবন করতে পারবেন এবং সমাজ অভ্যন্তরের অন্তর্নিহিত নিয়মাবলী- যা সমাজের প্রতিটি কার্যকলাপ, ঘটনা ও বিকাশের ধারাকে প্রভাবিত করে চলেছে সেগুলোকে খুঁজে বের করতে ও বুঝতে সক্ষম হবেন। অর্থাৎ, আপনারা যদি শ্রেণীসংগ্রামের বিকাশের নিয়মকে অনুধাবন করতে পারেন একমাত্র তখনই আপনারা অপরাজেয় শক্তির অধিকারী হবেন এবং শেষপর্যন্ত দুনিয়াকে জয় করতে পারবেন। হ্যাঁ, বাস্তবিকই আপনারা গোটা দুনিয়াকে জয় করতে পারেন যদি এই বিজ্ঞানকে, মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে আয়ত্ত করতে পারেন। কেননা কোনও অস্ত্রই এর কাছে দাঁড়াতে পারে না। শ্রমিকশ্রেণী, জনসাধারণ ও মেহনতি মানুষের হাতে এটা একটা অমোঘ অস্ত্র। ফলে বর্তমান মুহূর্তে সেই জ্ঞানের অধিকারী হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি, যা সৃষ্টিশীল ও অমোঘ এবং যে জ্ঞান সমাজবিকাশের যে সামগ্রিক প্রক্রিয়া তার অন্তর্নিহিত নিয়মগুলিকে বোঝবার ক্ষমতা অর্জনে আপনাদের সাহায্য করতে সক্ষম। এইভাবে জনসাধারণের সংগ্রামে এবং প্রতিদিনের অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের নিযুক্ত করার সাথে সাথে যদি আপনারা নিজেদের রাজনীতিগত ও আদর্শগত দিক থেকে উপযুক্তভাবে গড়ে তুলতে পারেন, একমাত্র তখনই বিশেষ বিশেষ শ্রেণীসংগ্রামগুলি যে বিশেষ বিশেষ নিয়মের দ্বারা পরিচালিত তা ধরতে আপনারা সক্ষম হবেন এবং একটি বিশেষ সমাজ পরিবেশে তার সমস্ত বৈচিত্র্য, তার গড়ে ওঠা ও বিকাশের ধারাকে আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন। কাজেই মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হল একটি বিজ্ঞান যা আপনাদের অত্যন্ত যত্নের সাথে পড়তে হবে এবং বার বার পড়তে হবে। কেবলমাত্র বই লেখার জন্য বা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো উদ্ধৃতি দেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই নয় এমনভাবে আপনাদের অধ্যয়ন করতে হবে যাতে আপনারা একে বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারেন এবং জনসাধারণের কাছে তাদের বোঝবার মতো করে নিয়ে যেতে পারেন। মার্কসবাদ আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছে যে, জানা আর উপলব্ধি করা, এই দু'টি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। যদি আপনারা মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সত্যিই উপলব্ধি করতে পারেন তাহলে আপনারা জনসাধারণের কাছেও তাকে অত্যন্ত সহজভাবে উপস্থাপনা করতে পারবেন এবং দেখবেন জনসাধারও সহজেই তা বুঝতে পারছেন।

কারণ, মার্কসবাদ একটা জীবন দর্শন এবং আমার কথা যদি ধরেন, আমি গ্রাম-শহরে নিরক্ষর চাষী-মজুরদের অনেক শিক্ষাশিবির পরিচালনা করেছি। সেখানে আমি দেখেছি যদি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ, দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ, এমনকী বিজ্ঞানের জটিল সূক্ষ্মতম বিষয়গুলিও চাষী-মজুররা বুঝতে পারে এমন ভাষায়, এমন ঢঙে তাদের কাছে আলোচনা করা যায় তাহলে তারা তা বুঝতে পারে এবং নিরক্ষর হয়েও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের তুলনায় ভালই বুঝতে পারে। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। কারণ আমি নিজে গ্রাম-শহরে স্কুল পরিচালনা করি। তাই আমি মনে করি না যে, এটা এমন কঠিন, যা নিরক্ষর-নিপীড়িত জনগণের পক্ষে আয়ত্ত করা, বোঝা এবং উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। বরং আমাদের এটা সবসময় মনে রাখা দরকার যে, এটা একটা জীবনদর্শন এবং সেই অর্থে আজকের দিনে শ্রমিকশ্রেণীর, নিপীড়িত জনগণের এবং দরিদ্র, নিরক্ষর মানুষের জীবনদর্শন। তারাই একে সব থেকে ভালভাবে বুঝতে পারে যদি তাদের কাছে এটা নিয়ে যাওয়া যায় এবং যেভাবে, যে ভাষায়, যে ঢঙে বললে তাদের পক্ষে বোঝা সুবিধা তেমনভাবে তাদের কাছে উপস্থাপনা করা যায়।

শিবদাস ঘোষ।।

(তথ্যসূত্র-কমরেড শিবদাস ঘোষের ভাষন, "ছাত্র ও যুবসমাজের কর্তব্য " পুস্তক ও শিবদাস ঘোষ নির্বাচিত রচনাবলী চতুর্থ খন্ড পৃষ্ঠা ৩৬৯-৭০ এর অন্তর্গত।)

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী, আনারা, জেলা-পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

14/05/2026

" বিপ্লবীর মধ্যেও দোষগুণ আছে। কিন্তু, বিপ্লবী তাঁর চরিত্রের যেগুলি গুণের দিক তার দ্বারা এবং গুণগুলিকে ক্রমাগত উন্নত করার সংগ্রামের মারফত দোষগুলিকে গুন অনুযায়ী প্যাটার্ন করে, পরিবর্তন করে। এ প্রসঙ্গে আর একটা কথাও মনে রাখতে হবে, তা হচ্ছে, দুজন মানুষ নিজ নিজ দোষগুণ নিয়ে দুটো আলাদা সত্তা, হুবহু কখন‌ই এক নয় এবং একজন বড় মানুষের যেটা দোষ, দেখা যাবে সেটাই হয়তো তাঁর নিচুস্তরের আর একজন মানুষের গুণ । আবার একজন অপেক্ষাকৃত নিচুস্তরের মানুষের যেটা গুন, সেটাই হয়তো একজন বড় মানুষের দোষ। যাই হোক, এইভাবে দোষগুণ মিলিয়ে মানুষের যে পুরো কাঠামো, সেখানে গুণকে ভিত্তি করে দোষগুনের দ্বন্দ্বের মধ্যে বিচার করে আমরা একজন মানুষের গুণ নিরূপন করি এবং সেই গুণাবলীর ভিত্তিতে তাঁর মূল্য নির্ধারণ করি, ক্রিয়া করি এবং তার দ্বারা দোষটাকে পরিবর্তন করি। অর্থাৎ, গুণটাকে ধরেই আমরা তার চরিত্র বিশদভাবে ব্যখ্যা করি, সাথে সাথে তাঁর ত্রুটির দিকটাও এড়িয়ে যাই না। কারন,গুণ আলোচনা করতে যাওয়ার মানেই হচ্ছে, কখন‌ই তাঁর গুণকে আমরা ঠিকমত বিচার করতে পারি না, যদি না তাঁর দোষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে গুণটাকে বিচার করি। ফলে গুণ আলোচনা করতে গেলেই দোষটা আপনাআপনি এসে যায়। কাজেই দোষটা আলাদা করে খোঁজবার দরকার হয় না। সেইজন্যই দ্বন্দ্বমূলক বস্ত্তুবাদীদের গুণ থেকে শুরু করার কথা। নাহলে ক্রিয়ার উদ্দেশ্য থাকে না, উদ্দেশ্য হারিয়ে যায়। অথচ বেশিরভাগ কমরেডের‌ই অপর সম্পর্কে আলোচনার সময় দেখি, দোষের দিক নিয়ে তাদের আলোচনার ঝোঁকটা বেশি। আমরা গুনের দিকটা দেখিনা। যদি আমরা গুনের দিকটা না দেখি, তাহলে দোষের দিকটা বলবার সময় আমাদের সঙ্গে সঙ্গে মনে রাখা দরকার, আমাদের আলোচনা উদ্দেশ্যহীন হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে আমাদের কোন অধিকার‌ই নেই সমালোচনা করার।.... যাঁরা অপরের সমালোচনা করে সন্তুষ্ট হন, অপরকে ছোট করে খুশি হন, অপরের দোষ দেখিয়ে নিজের বাহাদুরি জাহির করেন, পরোক্ষভাবে নিজেকে একটু বড় প্রমান করতে চান, তাঁরাই শুধুমাত্র দোষের ওপর ভিত্তি করে মানুষকে বিচার করেন, দোষটাই শুধু আলোচনা করেন। শুধু দোষের দিকের ওপর ভিত্তি করে আলোচনার দরকার কি ? আমরা কি অপরে কত মূর্খ তা দেখিয়ে আনন্দ পেতে চাই ? না, আমরা কত বিজ্ঞ সেটা প্রকাশ করতে চাই ? নাহলে কেন আমরা অপরের দোষের দিকটা নিয়ে আলোচনা করছি ? যদি অপরের দোষ দুর করা আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে আমাদের মনে রাখা দরকার, শুধু দোষের আলোচনা করে দোষ দুর করা যায়না যদি না আমরা গুন থেকে শুরু করি। যদি কারো গুণটাকে বাড়াবার চেষ্টা করি তবেই তার দ্বারা আমরা তাঁর দোষ দুর করতে পারি। ফলে সবসময়‌ই আমরা কোন মানুষের গুনের ওপর গুরুত্ব দিই, দোষ থেকে শুরু করিনা। করলে দোষ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমার আলোচনার‌ই কোন স্বার্থকতা থাকেনা।"

শিবদাস ঘোষ।।

(তথ্যসূত্র -' শিবদাস ঘোষ নির্বাচিত রচনাবলী' /প্রথম খন্ড। পৃষ্ঠা-২৭৯-২৮৹)।

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/জেলা-পুরুলিয়া /পশ্চিমবঙ্গ /ভারতবর্ষ, কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত)।।

12/05/2026

" প্রগতিশীল এবং সর্বহারা সংস্কৃতি চর্চার নামে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের যে চেহারা দেখছি, তাতে আর একটি কথাও না বলে পারছি না। তা হচ্ছে, শ্রমিক, চাষী ও নিম্নমধ্যবিত্তদের উপর মালিকগোষ্ঠী ও জোতদারদের ভয়াবহ অত্যাচারের ঘটনাগুলিকে করুণ কাহিনী হিসাবে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলতে পারলেই যে সর্বহারা বিপ্লবী সংস্কৃতির জন্ম দেওয়া যায় না, আজ একথা ভালোভাবে বোঝার সময় এসেছে। পুঁজিবাদী শোষনের যাঁতাকলে পিষ্ট এবং সবদিক দিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিক, চাষী ও নিম্নমধ্যবিত্ত বস্তিবাসীদের দৈনন্দিন ক্লেদাক্ত জীবনযাত্রা হুবহু ফুটিয়ে তোলা, অর্থাৎ তার হুবহু প্রতিচ্ছবিও সর্বহারা সংস্কৃতি নয়। বিপ্লবী সর্বহারা সংস্কৃতির কথা যাঁরা বলছেন, তাঁদের প্রথমেই বোঝা দরকার, আমাদের দেশের সর্বহারাশ্রেণীর বিন্যাস কি? দুনিয়ার সমস্ত পিছিয়ে-পড়া দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও শ্রমীকশ্রেণীর মধ্যে তিনটে ভাগ রয়েছে। একদল যাদের সঙ্গে গ্রামীন চাষীজীবনের আজ‌ও পূর্ণচ্ছেদ ঘটেনি। মজুরের এই অংশ চাষীজীবনের নানা কুসংস্কার, কুঅভ্যাস, ধর্মীয় অন্ধতা ও গোঁড়ামি প্রভৃতি গ্রাম্য অভ্যাসগুলো শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে আমদানি করছে। মজুরশ্রেণীর দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে, যারা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলি থেকে অর্থনৈতিক শোষনের চাপে ধীরে ধীরে বস্তিবাসী ও মজুরে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির দিক থেকে মজুরশ্রেণীতে পরিণত হলেও ভাবগত ও রুচিগত দিক থেকে মধ্যবিত্ত বাবু সমাজের সঙ্গে এদের সম্পর্ক আজ‌ও একেবারে চুকে যায়নি। মজুরশ্রেণীর এই অংশ‌ই শ্রমিক আন্দোলনে পেটিবুর্জোয়া ভাববিলাসীতা ও দোদুল্যমানতা, ব্যক্তিগত সুবিধাবাদ, আত্মকেন্দ্রিকতা, ব্যক্তিবাদ, উদারনীতিবাদ, অর্থনীতিবাদ ও সমস্ত রকমের সুবিধাবাদী মানসিকতা আমদানি করে থাকে। সর্বশেষ যে অংশ, এদের শহরের মধ্যবিত্ত বাবু সমাজ ও গ্রামীন চাষী সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক একেবারে চুকে গিয়েছে। আমাদের দেশে এরা সংখ্যায় অল্প হলেও সর্বহারাশ্রেণীর মধ্যে এরাই সবচেয়ে বিপ্লবী অংশ-কাজে কাজেই সবচেয়ে বেপরোয়া (desparate)। কিন্তু, যতদিন পর্য্যন্ত না এরা যথার্থ শ্রেণীসচেতন হয়, অর্থাৎ বিপ্লবী চেতনা এদের মধ্যে গড়ে ওঠে, মনে রাখতে হবে ততদিন এই বেপরোয়াভাব (desperateness) কিন্তু উদ্দেশ্যহীন, এবং আজ সমাজে বুর্জোয়া ব্যক্তিবাদের যে নোংরা পরিণতি ঘটেছে, তার প্রভাবও এদের মধ্যে পুরোমাত্রায় বর্তমান। এই তিনটি অংশের ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতার পারস্পরিক দ্বন্দ্ব‌ই হচ্ছে শ্রমিকশ্রেণীর আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। কিন্তু গোটা শ্রমিকশ্রেণীর সাথে পুঁজিপতিশ্রেণীর প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সংস্কৃতিগত ক্ষেত্রে যে মরণপণ সংগ্রাম চলছে, তাই হচ্ছে আজকের সমাজের মূল দ্বন্দ্ব। এই মূল দ্বন্দ্ব‌ই ক্রমাগত শ্রমিকশ্রেণীর আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে প্রভাবিত করে চলেছে। এখানে সর্বদা মনে রাখতে হবে, প্রতিদিনকার শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য থেকে শ্রমিকদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক চেতনা, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ভাবাদর্শ, সর্বহারাশ্রেণীর রাজনীতিটা আপনাআপনি জন্ম নেয় না। এই চেতনা বাইরে থেকে নিয়ে যেতে হয় (comes from without), অর্থাৎ এই চেতনা আয়ত্ব করার সংগ্রাম একটা আলাদা সংগ্রাম। আর, এই কারনেই একমাত্র সর্বহারা বিপ্লবী রাজনীতির প্রভাব বাড়িয়েই শ্রমিকশ্রেনীর মধ্যে বুর্জোয়া, পেটিবুর্জোয়া ও সামন্ততান্ত্রিক ভাবধারার যে প্রভাব আজ‌ও বর্তমান রয়েছে, তা ভাঙতে হবে এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে নতুন বিপ্লবী চেতনা, মূল্যবোধ, ন্যায়নীতি ও নৈতিকতার ধারণা গড়ে তুলতে হবে।"

শিবদাস ঘোষ।।

(ক্রমশঃ)।।

(সুত্র-' ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও আমাদের কর্তব্য'-শিবদাস ঘোষ, এই পুস্তক থেকে উদ্ধৃত।)।

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী, আনারা, জেলা-পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

10/05/2026

" যৌথ নেতৃত্বের বাস্তব ও বিশেষকৃত ধারণা গড়ে তোলার সংগ্রাম এক অর্থে পার্টি গড়ে তোলার প্রাথমিক সংগ্রাম। তাই চিন্তাজগতের সর্বক্ষেত্রকে ব্যাপ্ত করে আদর্শগত কেন্দ্রীকরন, অর্থাৎ, সম-‌চিন্তাপদ্ধতি, সম-চিন্তা, সম-বিচারধারা ও সম-‌উদ্দেশ্যমুখীনতা গড়ে তুলতে না পারলে যৌথ নেতৃত্বের এই বাস্তবীকৃত ধারণাটি দলের মধ্যে গড়ে তোলাই সম্ভব নয়,এবং যতদিন পর্য্যন্ত যাঁরা দল গঠন করতে অগ্রণী হয়েছেন সেই সমস্ত নেতা ও কর্মীদের মধ্যে যৌথ নেতৃত্বের এই বিশেষীকৃত ধারণার জন্ম না হয়, মনে রাখতে হবে, ততদিন পর্যন্ত দলের চুড়ান্ত সাংগঠনিক রূপ দেবার সময় আসেনি। কারন, এরূপ অবস্থায় দলের চুড়ান্ত সাংগঠনিক রুপ দিতে গেলে দলটি গনতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রীভূত পার্টির বদলে যান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রীভূত পার্টিতে পর্য্যবসিত হয় এবং যৌথ নেতৃত্ব গড়ে তোলার বদলে দলটি আনুষ্ঠানিক এবং ব্যুরোক্র্যাটিক নেতৃত্বের জন্ম দিয়ে থাকে।"
শিবদাস ঘোষ।।
(সুত্র-'কেন ভারতবর্ষের মাটিতে এস ইউ সি আই একমাত্র সাম্যবাদী দল।'-শিবদাস ঘোষ। এই পুস্তিকা।)
(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী। আনারা। জেলা-পুরুলিয়া। পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত)।

08/05/2026

" কয়েকজন লোক একত্রে বসে কাজ করলেই যৌথ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। দলের চিন্তার ক্ষেত্রে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি, চিন্তার সংঘর্ষ ও আদান-প্রদান কাজ করলেই একমাত্র বলা যাবে যে, দলে যৌথ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।..... কতিপয় লোককে নিয়ে গঠিত কোন কমিটির চিন্তাতে যেমন ব্যক্তিবাদী চিন্তার প্রভাব থাকতে পারে এবং তা বাস্তবে ব্যক্তিবাদী চিন্তাপ্রবণতাকে প্রতিফলিত করতে পারে, তেমনি একজন ব্যক্তির মধ্য দিয়েও দলের সদস্য ও কর্মীদের যৌথ জ্ঞানের (collective knowledge) সর্বোত্তম প্রকাশ ঘটতে পারে। সমাজচিন্তা যখন দলের সকল সদস্যের যৌথ জ্ঞানের রূপে একজন ব্যক্তির মধ্য দিয়ে মূর্ত্ত হয়ে ওঠে তখন সেটিও যৌথ নেতৃত্ব। আসলে দেখা দরকার, দলের মধ্যে চিন্তার ক্ষেত্রে সত্যিকারের দ্বন্দ্ব-স়ংঘর্ষ জারি আছে কি না। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে যে, একজন ব্যক্তির মধ্য দিয়ে যদি যৌথ চিন্তা (collective knowledge) রূপ নিতে পারে, তাহলে আর যৌথ নেতৃত্বে প্রয়োজন কি ?
না, তাহলে ভুলভ্রান্তি রোধ করার ক্ষেত্রে গ্যারান্টি আসে না। সেই গ্যারান্টির জন্য আদর্শগত ও সাংগঠনিক ক্রিয়াকলাপের ক্ষেত্রে যৌথ কর্মপ্রক্রিয়া শুধু প্রয়োজন‌ই নয়, তা অপরিহার্য। একজন বিপ্লবী তা তিনি যতবড় বিপ্লবীই হোন না কেন, ভুল করতে পারেন। সে অবস্থায় সাংগঠনিক ক্ষেত্রে (operational side) যৌথ কর্মপ্রক্রিয়া না থাকলে নেতার সেই ভুলের পথ বেয়ে গোটা পার্টি একদিন এমনকি মূল নীতি থেকেও বিচ্যুত হয়ে যেতে পারে। তাই একটি সর্বহারা বিপ্লবী দলে যৌথ কর্মপ্রক্রিয়া ও ও যৌথ নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রশ্ন এত গুরুত্বপূর্ণ।"

শিবদাস ঘোষ।

(তথ্যসূত্র-'সোভিয়েট কমিউনিস্ট পার্টির বিংশতি কংগ্রেসের রিপোর্ট প্রসঙ্গে'-শিবদাস ঘোষ, এই পুস্তকে উল্লেখিত ভাষনের অংশবিশেষ।)

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী, আনারা, জেলা-পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

06/05/2026

" সমাজ পাল্টাবার একটা ঐতিহাসিক ও বিজ্ঞানসম্মত রাস্তা আছে। এই রাস্তাটার হদিস প্রথম মানুষকে দিয়েছে মার্কসবাদ। আবার, আজকের যুগে, অর্থাৎ বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী -পুঁজিবাদী ক্ষয়িষ্ণু ব্যবস্থার যুগে আন্তর্জাতিক সর্বহারা বিপ্লবের যুগে যাঁরাই নিজেদের মার্কসবাদী বলেন তাঁরা মার্কসবাদের সঙ্গে লেনিনবাদ কথাটা যুক্ত করে বলেন যে, এ যুগে মার্কসবাদ লেনিনবাদ‌ই হচ্ছে সমাজবিপ্লবের একমাত্র হাতিয়ার। এই হাতিয়ার কথাটার অর্থ কামান-বন্দুক-পিস্তল-বোমা নয়, এ তার চেয়েও অনেক বেশী শক্তিশালী হাতিয়ার। এই হাতিয়ারটি আয়ত্ব করতে পারলে জনসাধারণের মধ্যে চেতনার এমন মান, এমন তেজ, এমন সংগঠন শক্তি এমন পরিকল্পনা শক্তি দানা বেঁধে ওঠে, যার জোরে শোষিত মেহনতি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী লড়াই চালাতে পারে -কামান বন্দুকের পাহাড় জমা করে যারা শোষিত মানুষের লড়াইকে বাধা দিতে আসে, তারা তার হদিস পায় না।
তাই মার্কস থেকে শুরু করে লেনিন, স্ট্যালিন , মাও সে তুঙ সকলে একবাক্যে বলেছেন, সর্বহারার হাতে শোষিত মানুষের হাতে অ্য‌াটম বোমা, নাপাম বোমার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র হচ্ছে মার্কসবাদ লেনিনবাদ। কারন এই মার্কসবাদ-লেনিনবাদ‌ই মানুষকে বুঝতে শেখায় তার জীবনের সত্যিকারের সমস্যাগুলোকে, সেই সমস্যাগুলোর চরিত্র ও মূল কারণকে। অন্য সমস্ত মতবাদ শুধু কথার বাঁধুনি দিয়ে, সুললিত ভাষা ও ভঙ্গি দিয়ে, মিষ্টি মধূর কথা ও শ্লোগানের আড়ালে মানুষের জীবনের আসল সমস্যাগুলোকে চাপা দিতে ব্যস্ত, মানুষের দৃষ্টিকে বিপথগামী করতে ব্যস্ত। এদের কাজ হল যা সত্য নয়, তাকেই সত্য বলে বুঝিয়ে মানুষকে নিরস্ত রাখার চেষ্টা করা। আর, কোথায় রোগ, কোথায় সমস্যার মূল কারণ নিহিত এবং এই সমাজ যেটা পরিবর্তিত হয়ে চলেছে, সেই পরিবর্তনের নিয়ম কি, তা ধরতে ও বুঝতে শেখায় মার্কসবাদ-লেনিনবাদ "।
শিবদাস ঘোষ।

(তথ্যসূত্র-'বৈজ্ঞানিক দ্বন্দ্বমূলক বিচারপদ্ধতিই মার্কসবাদী বিজ্ঞান'-শিবদাস ঘোষ, এই পুস্তকের অংশবিশেষ)।

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/জেলা-পুরুলিয়া /পশ্চিমবঙ্গ /ভারতবর্ষ, কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত)।

05/05/2026

" বুর্জোয়া দালালরা বলে, গভর্নমেন্ট সর্বশক্তিমান। বিপ্লবের দরকার কী? বিদেশের তত্ত্ব ধার করে কতকগুলো লাল ঝান্ডাওয়ালা দেশের মধ্যে গৃহযুদ্ধ ডেকে আনতে চাইছে, বিপ্লবের কোন প্রয়োজন নেই। কারণ আমাদের দেশে প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার রয়েছে। জনসাধারণ ইচ্ছা করলেই তাদের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং সেই সরকার ইচ্ছা করলে নাকি জনস্বার্থের অনুকূলে যেমন যেমন আইন কানুন করতে চায় করতে পারে। পুলিশ তো সরকারের অধীন, মিলিটারিও কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন, অ্যাডমিনিস্ট্রেটররা, সেক্রেটারিরাও তো সরকারের অধীন। আমি চিরকাল বলে এসেছি, এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা। আসলে শাসন করে রাষ্ট্রের তিনটি 'অরগ্যান' (অঙ্গ)--পুলিশ সহ বুরোক্রেসি, মিলিটারি, জুডিশিয়ারি 'কম্বাইন্ডলি' (সম্মিলিতভাবে)। আর গভর্নমেন্টের মন্ত্রীরা হল--ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। এই নিধিরাম সর্দাররা ওদের দালালি করে, বুরোক্রেসির দালালি করে, তাই বুরোক্র্যাটরাও ওদের 'স্যার' 'স্যার' করে। আর যে সব মন্ত্রীদের কাণ্ডজ্ঞান নেই তাঁরা ভাবেন তাঁরা মহাশক্তিমান। কিন্তু এইসব মন্ত্রীরা জানেন না যে, এই বুরোক্রেসিকে যদি ওরা কন্ট্রোল করতে যান, পুলিশকে যদি ওঁরা পুলিশের শ্রেণীস্বার্থের বিরুদ্ধে, অফিসারদের স্বার্থের বিরুদ্ধে, পুঁজিপতিশ্রেণীর স্বার্থের বিরুদ্ধে চালাতে যান জোর করে, তখন‌ই ধরা পড়ে যাবে গভর্নমেন্টের কতটুকু ক্ষমতা।........ আইন এ সমাজে মালিককে রক্ষা করে। পাঁচটা মালিক বদমাইশি করছে, হাজার হাজার মানুষ তার প্রতিকার চাইছে এবং চিৎকার করছে। গোটা দেশের শাসনতন্ত্র, প্রেস, প্রোপাগান্ডা, কেন্দ্রীয় গভর্নমেন্ট‌ও ঐ পাঁচটা মালিকের পেছনে। ওদের কাছে দেশ হচ্ছে শুধুমাত্র ঐ পাঁচটা মালিক। আর মজুররা--যারা উৎপাদন করছে, দেশের সম্পদ গড়ে তুলছে, তারা কেউই নয়। তাই এদেশের আইনের কাজ হচ্ছে শেষপর্যন্ত মালিকের স্বার্থ রক্ষা করা--মজুরদের স্বার্থ রক্ষা করা এর কাজ নয়। চাষিকে মেরে তছনছ করে দিচ্ছে, কত পরিবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে--তাদের রক্ষা করার দরকার নেই, তাদের রক্ষা করা অবশ্যকরণীয় কাজ নয় আইনের এবং পুলিশের।...... যখন সাধারণ চাষিরা আন্দোলন গড়ে তোলে.... চাষিদের ওপর নেমে আসে আইনের খড়্গ। এই হল এদেশের 'আইন ও শৃঙ্খলা'র আসল চেহারা।... জনসাধারণকে আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলার এই সত্যিকারের চেহারাটা সম্বন্ধে সচেতন করে তুলতে হবে।
ভোটের মারফত হাজার বার গভর্নমেন্ট পাল্টে বা আক্ষরিক অর্থে আইন-কানুন সংশোধন করার চেষ্টা করার মধ্য দিয়ে জনসাধারণের পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও পুঁজিবাদী শোষণব্যবস্থা থেকে মুক্তি অর্জন অসম্ভব। এই মুক্তি অর্জনের একমাত্র পথ হচ্ছে, জনসাধারণের গনতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোকে সঠিক বিপ্লবী কায়দায় পরিচালনা করার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে জনসাধারণের অমোঘ বিপ্লবী সংঘশক্তি গড়ে তোলা এবং বিপ্লবী শ্রমিকশ্রেণীর দলের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করা। এছাড়া জনগনের মুক্তির আর কোন দ্বিতীয় রাস্তা নেই। বাকি সব রাস্তাই হচ্ছে অযথা সময় নষ্ট ও আত্মপ্রতারণা মাত্র।"

শিবদাস ঘোষ।।

(তথ্যসূত্র-"১৫ই আগষ্টের স্বাধীনতা ও গনমুক্তির সমস্যা"-শিবদাস ঘোষ, এই পুস্তকে প্রকাশিত আলোচনার অংশবিশেষ।)

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/জেলা-পুরুলিয়া /পশ্চিমবঙ্গ /ভারতবর্ষ, কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

29/04/2026

" আদর্শগত সংগ্রামের উদ্দেশ্য‌ই হচ্ছে শিক্ষিত করা। সেই শিক্ষাতো কেবলমাত্র নেতাদের জন্য নয়, তা কমিউনিস্ট আন্দোলনের কর্মী, শ্রমিকশ্রেণী ও জনগনের জন্যও। আদর্শগত মতপার্থক্যের বিষয় যদি কেবলমাত্র কমিউনিস্ট পার্টিগুলির উচ্চতম নেতাদের রুদ্ধদ্বার গোপন বৈঠকে আলোচিত হয়, তাহলে সাধারণ সদস্য, শ্রমিকশ্রেণী ও জনগনের আদর্শগত সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণ করা থেকে ও তার দ্বারা নিজেদের শিক্ষিত করা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তাছাড়া, এভাবে গোপন সভা করার মধ্যে একধরনের ষড়যন্ত্রমূলক ক্রিয়াকলাপের গন্ধ থাকে, যা কমিউনিস্টদের ভাবাদর্শ‌ও নয়, কমিউনিজমের শিক্ষাও নয়। অন্যদিকে মতবাদিক আলোচনা প্রকাশ্যে হলে তা আদর্শগত মতভেদগুলিকে উদঘাটিত করে ও সেগুলিকে সমাধান করতেই সাহায্য করে। আবার, প্রকাশ্য মতবাদিক আলোচনা ও প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার জনমানসে মিথ্যা আশংকা ও সংশয়ের সুযোগ এবং প্রতিপক্ষের মতামত বিকৃত করা এবং ক্রমাগত নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসার সম্ভাবনা ন্যুনতম মাত্রায় নামিয়ে আনে। রুদ্ধদ্বার গোপন সভা এই সম্ভাব্য বিপদ সৃষ্টি করে।........আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে মতভেদ নিয়ে প্রকাশ্য মতবাদিক আলোচনা যদি নীতিসম্মতভাবে পরিচালিত হয়, তবে তা পার্টি-উগ্রতা ও নেতাদের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করবে।"
শিবদাস ঘোষ।

('আন্তর্জাতিক সাম্যবাদী আন্দোলনের নেতাদের উদ্দেশ্যে একটি আবেদন'-শিবদাস ঘোষ)।

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী, আনারা, জেলা-পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

Want your business to be the top-listed Government Service in KOLKATA?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address

Kolkata