16/06/2025
দণ্ডকারণ্যে যে পুলিশরা কয়েকশ মানুষকে খুন করেছে, তাদের দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল অমিত শা। নকশাল দমনে সফল হওয়ায় অমিত শাহ তাদের পান ভোজনে আপ্যায়িত করেছে। অর্থাৎ জানা গেল, মানুষ শিকার করার পরে পুলিশরা সরকারের পয়সায় ফুর্তি করে।
তবে কি মাওবাদীদের সাথে যুদ্ধ শেষ? তাহলে এখনো লিস্ট বানিয়ে ওরা কাদের খুঁজছে?
পড়ুন যাদের ওরা খুঁজছে
লিঙ্ক কমেন্টে 👇
03/09/2022
আমাদের আন্দোলনের সাথী আমাদের শ্রদ্ধার টুপান দা Arindam Srimani আর নেই। আজ সকাল এগারোটা নাগাদ সেরিব্রাল অ্যাটাকের ফলে উনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আজ সন্ধ্যায় পাণিহাটি মহোৎসবতলায় আহ্বান পাঠশালার পক্ষ থেকে টুপান দা কে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন...
02/09/2022
বিগত কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় একপ্রকার নির্বিবাদে আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসকন। বাংলা (পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ)ও তার বাইরে নয়। ইসকনের উগ্র সাম্প্রদায়িক এবং বিদেশি লগ্নিপুঁজির চামচাগিরি তথা বিভিন্ন স্থানে মন্দির পার্শ্ববর্তী এলাকা দখলের জঘণ্য চেষ্টার বিরুদ্ধে বহুদিন থেকেই বাংলাদেশের জনগণ সরব হলেও পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীতার আঁচ বেশ নরম। ফলস্বরূপ পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসক দলের মদত সহকারে আজ তাদের দখলে। মায়াপুর ছাড়াও আর যে যে অঞ্চলে এই এজেন্সি ঘাঁটি তৈরি করেছে তার মধ্যে অন্যতম হল উত্তর চব্বিশ পরগনার সোদপুর পাণিহাটি। তবে এখানে হাওয়া অন্যরকম। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ইসকন এলাকার জনগণের বিরোধীতার সম্মুখীন হয়েছে। বিগত কয়েকমাস ধরে ইসকনকেন্দ্রীক সন্দেহজনক অ্যাক্টিভিটির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এলাকার জনগণ এবং বিভিন্ন ক্লাব সংগঠন। গত দুদিন আগে ইসকনের চৌহদ্দিতে সন্দেহজনক খুনের কারণে এলাকা আরোও উতপ্ত হয়ে ওঠে। এই মর্মে আজ পোস্টারিং এবং লিফলেটিং কর্মসূচি।
অবশেষে পাঠকদের কাছে একটি ছোট্ট প্রশ্ন:-
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় তথাকথিত কোনো উগ্র সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় দল নেই বদলে আছে তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক দল। তাহলে এই ভূখণ্ডে ইসকনের মতো উগ্র ধর্মীয় সংগঠন কীভাবে ডালপালা ছড়ায়? এদের চামচা কারা? এলাকাবাসীর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে যে শাসকদলের ছোটো-বড়-মেজো নেতারা টাকা খেয়ে টলছে। আর এখনতো চুরির শব্দ ঢাকতে আগে থাকতেই উৎসবের ধর্মের ঢাক নিয়ে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। কিন্তু যে খেকি কুত্তাদের লেলিয়ে দিয়ে শাসকেরা তাণ্ডব করে তারা প্রায়শই ভুলে যায় দুনিয়ার বড় বড় সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, কিন্তু খেকি কুত্তাদের ইতিহাস লেখা হয় না।
26/08/2022
সারা উপমহাদেশেই ইসকনের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বৈরিমূলক। খুব স্বাভাবিকভাবেই ইসকন পাণিহাটির সঙ্গেও এই এলাকার জনগণের সম্পর্ক এর অন্যথা নয়। এর আগেই আমরা ইসকনের যাবতীয় কুকীর্তির কথা তুলে ধরেছি যার মধ্যে অন্যতম প্রধান হল জমি দখল।
প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এই কুখ্যাত এজেন্সি নানা অছিলায় পাণিহাটির জনগণের সাধারণ সম্পত্তি অর্থাৎ, দাঁ পরিবারের জগদ্ধাত্রী মন্দির, কলুঘাট, গড়ভবানীর মাঠ, মহুয়া সব পেয়েছির আসর ইত্যাদির দিকে আগ্রাসনের হাত বাড়াতে থাকে।
গত জুন মাসে পাণিহাটি দণ্ডমহোৎসব চলাকালীন পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে দায়ী সম্ভবত এরাই, অন্ততঃ এলাকাবাসীর তাই বক্তব্য। অথচ সেই ঘটনার দুইদিন পর যখন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতির পাণিহাটি শাখার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টীম এলাকায় আসে তখন ইসকন সাধুরা যাবতীয় অভিযোগ (জমি দখলের অভিযোগও) অস্বীকার করে।
এবার দুই-তিনদিন আগে অভিযোগ হিসেবে যা জানা যায়:- পাণিহাটি গড়ভবানীর মাঠ, যা কিনা বাচ্চাদের খেলার মাঠ সেখানে একদল বাচ্চা বল খেলছিল। ঘটনাচক্রে তাদের বল ইসকনের চৌহদ্দিতে ঢুকে যায়। তাদের মধ্যে কয়েকজন বল আনতে গেলে ইসকনের সাধুরা তাদের আটকে রাখে এবং শারীরিক নিগ্রহ করার চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে একজন কোনোক্রমে বেরিয়ে এসে অভিভাবকদের খবর দিলে তারা এবং অন্যান্য এলাকাবাসী ইসকন ঘেরাও করে।
সুতরাং, সাধারণ সামাজিক অভ্যাস বিবর্জিত এই সমস্ত ভণ্ড সন্ন্যাসীরা কখনই যে এসব বদলে সাধারণ মানুষের বন্ধু হতে পারবে না তা প্রমাণিত। কারণ এরা খেটে খাওয়া থেকে অনেক দূরে তথাকথিত ধর্মের, সন্ন্যাসের নামে ভণ্ড পরজীবী। তাই এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণসচেতনতা গড়ে তুলুন।
আমরা সাধ্যমতো সচেতনতা অভিযানে হাত লাগিয়েছি যাতে এলাকাবাসীর প্রভূত সাড়া পাওয়া গিয়েছে।
#চৈতন্য_চেতনা_ব্রিগেড
22/07/2022
লিখছেন শঙ্খ চিল
উনি শাসকগোষ্ঠীর হোতা হয়েও "চাকরি চাই-চাইকরি চাই" বললেন। উনি আসলে এতে কি বললেন আর কি বললেন না?
উনি যা বললেন না তা হলো;-উনি যে ব্যবস্থাটার চৌকিদারী করছেন সেই ব্যবস্থাটাকে পাহারা দিতে যতটুকু দরকার তার বাইরে বেশি কিচ্ছু মাত্র চাকরি বাকরি আর সম্ভব নয়। কারণ লগ্নিকারিরা মানুষের চাহিদা দেখে বা তৈরি করে উৎপাদন করে। আর মানুষের চাহিদা থাকা বা তৈরি করা তখনই সম্ভব হয় যখন পণ্য হিসেবে লগ্নিকারির মুনাফার মূল্য যুক্ত উৎপন্ন কেনার ক্ষমতা মানুষের থাকে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থার ধারায় আমাদের দেশেও মানুষের জীবন জীবিকার অবস্থা কৃচ্ছতা সাধন করতে করতে ক্রয় ক্ষমতার শেষ সীমায় ক্রমতলমুখী আজ। বর্তমানে সারা দুনিয়া সমেত আমাদের দেশেও মানুষেরই তৈরি ৮৪ শতাংশ সম্পদের উপরে ৯৯ শতাংশ মানুষেরই কোনো অধিকার নেই। মাত্র ১ শতাংশ লগ্নিপতি সেই সম্পদের মালিক। অর্থাৎ স্থাবর অস্থাবর মিলিয়ে মাত্র ১৬ শতাংশ সম্পদের অবশিষ্ট নিয়ে নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করতে থাকা ৯৯ শতাংশ মানুষের কোনসা চাহিদা ও কোনসা মুনাফার জন্যে উৎপাদন ও উৎপাদন ভিত্তিক শিল্প, কারখানা বা কর্মসংস্থান সম্ভব? এই অবস্থায় ইতিমধ্যেই ৮৪ শতাংশ সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া ঐ ১ শতাংশ লগ্নিপতিরা ৯৯ শতাংশ জনগণের মাত্র ১৬ শতাংশ উচ্ছিষ্টের জন্য বিনিয়োগ করার বোকামি করবে কেন? তাই যেই মানুষের কেনারই ক্ষমতা নেই সেই মানুষদের জন্য উৎপাদনে বিনিয়োগ করা মুনাফাকামী লগ্নিকারীদের কর্ম্ম নয়। আর শাসকগোষ্ঠীর তাবেদার হিসেবে এটা উনিও জানেন না বা বোঝেন না তা নয়। বরং এই সরল সত্যিটাকেই যে যত বেশি গুলিয়ে দিতে পারে সেই তত বেশি শাসকগোষ্ঠীর সেরা দালালির চাকরির ছাড়পত্রটা আদায় করতে পারে। সেই চাকরির লক্ষ্যেই মড়িয়া উনি "চাকরি চাই-চাকরি চাই" বলে ক্ষেপে উঠেছেন সম্ভবত। তাই ক্ষমতায় বসেও উৎপাদন ভিত্তিক শিল্প, কারখানা, কর্মসংস্থান ও চাকরি বাকরির হাস্যকর দাবী, অদ্ভুত স্বপ্ন দেখানো, গল্প শোনানো স্রেফ মানুষকে ধাপ্পা দেওয়ার খেলো লুচ্চাবাজী ছাড়া আর কিচ্ছু নয়। তখন উনি নিশ্চয়ই নিজের দালালির চাকরিটার দাবি ছাড়া লুচ্চামিটা করেননি নিশ্চয়ই। সে দিক দিয়ে উনি নিজেও শাসকগোষ্ঠীর পক্ষের বখড়া খোড় বাটোয়ারার তীব্র প্রতিযোগিতায় সর্বদাই চাকরি হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আরও বিশ্বস্ততার সঙ্গে আরও বড়ো আরও দক্ষতার সঙ্গে চাকরির সঙ্গত দাবির পক্ষে চেল্লাবেন এটাই স্বাভাবিক। নচেৎ ওনার কাছে জনগণের সঙ্গত চাকরির দাবিটার উনি কি জবাব দেবেন?
তাহলে এই "চাকরি চাই-চাকরি চাই" হুক্কহুয়া রবে উনি বললেনটা কি? অর্থাৎ এর পরেও এর অর্থ দাড়ায় এই যে;- জমি আন্দোলনের কাঁধে চেপেই ক্ষমতায় আসীন, চালু ব্যবস্থার সবচেয়ে চালু ও স্থূল বিদূষক হিসেবে যে কথাটা উনি সরাসরি বলতে পারেন না হেজিয়ে, ভেজিয়ে সেই কথাটাই বললেন উনি। যা করতে গিয়ে একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা আরকি। অর্থাৎ চাকরি বাকরি ও তথাকথিত কর্মসংস্থানের নামে পণ্য রূপে উদ্বৃত্ত মূল্যযুক্ত উৎপন্নের উপভোক্তা হিসেবে খোদ উৎপাদক ও সম্পদের ন্যায়সঙ্গত মালিক-ঐ ক্রয় ক্ষমতা হীন জনগণকেই তাদের সমাজ ও প্রকৃতি থেকে উপড়ে ফেলা। উদ্বৃত্ত মূল্য তৈরি করতে সক্ষম কিন্তু সর্বোচ্চ মুনাফা ভিত্তিক চালু ব্যবস্থার অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার জন্যই তা কিনতে ও মুনাফা তৈরি করতে অপারগ তথাকথিত ক্রয় ক্ষমতা হীন, বেকার, অযথা মজুদ শ্রম শক্তির উৎস হিসেবে খোদ জনগণকেই সমূলে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ ও ধ্বংস করে লগ্নিপতিদের স্বপক্ষে সরাসরি তাদের জমি-জিরেত ও প্রাকৃতিক সম্পদকে লুঠ করার অশুভ ঈঙ্গিত এ। এই- ই হচ্ছে আসল NRC। এই-ই হচ্ছে তাঁর শাসকগোষ্ঠীর স্বপক্ষে চাকরি চাওয়ার আসল তাৎপর্য। শাসকগোষ্ঠীর আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তথাকথিত বড়ো পক্ষ দিচ্ছে না বলে, উনি দিতে পারছেন না এমন ভান করে বিষয়টাকে ঘুড়িয়ে দিতে চাইলেন উনি। আর ভোটার হিসেবে জনগণ ও শাসকদের কাছে একটু নাক পেঁচিয়ে দাবি করে রাখলেন তথাকথিত বড়ো পক্ষ হিসেবে নিজের চাকরির প্রশ্নটা।
মানুষের ক্রয় ক্ষমতা তৈরি হয় উৎপাদনে শ্রম দেওয়ার জন্য অত্যন্ত সাধারণভাবে বেঁচেবর্তে থাকার জন্য ন্যূনতম যেটুকু দরকার, সেটুকুর সমপরিমাণ মুনাফার মূল্য যুক্ত পণ্য হিসেবে তাদেরই তৈরি উৎপন্নের একটা অংশ কিনতে পারা মজুরি ভিত্তিক ক্ষমতার মাধ্যমে। কিন্তু চালু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দ্রুতই মানুষেরই সৃষ্টি হিসেবে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি সহ যাবতীয় আশির্বাদকে সর্বোচ্চ মুনাফা ভিত্তিক সংকীর্ণ ক্ষমতার খোটায় তথাকথিত ক্রয় ক্ষমতা হিসেবে মানুষের মজুরি ভিত্তিক উৎপাদনের সুযোগকেই করে তোলে তাদেরই সৃষ্টির তুলনায় অত্যন্ত সঙ্কোচিত। তথাকথিত ক্রয় ক্ষমতা হীন বাজার হিসেবে উদ্বৃত্ত সৃষ্টিকারী সুবিপুল উৎপাদিকা শক্তির ভিত্তি হিসেবে খোদ মানুষই হয়ে পরে অত্যন্ত অক্ষম, অসহায়, সীমায়িত, সীমাবদ্ধ ও নিঃস্প্রান বেকার বাহিনীর হতাশাগ্রস্থ জনগণের ভাণ্ডারে।
তাই এই ব্যবস্থার তল্পিবাহীরা এর ক্ষমতায় বসে নিজেরা এর এই স্ববিরোধকে ঢাকা দিতে এমন হাস্যকৌতুক ছাড়া আর কিছুই পারবে না,-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একেবারেই কিছু পারেননা তা নয়। তারা যা পারেন তা হলো;- নিজেদের হাসির খোড়াক হিসেবে পিড়ীত জনগণকে খানিকটা অন্তত বিনোদন দিতে। এবং তাই-ই দিচ্ছেন এরা নির্দ্বিধায়।
আপাতত যা দাড়িয়েছে, তাতে উৎপাদিকা শক্তির খানিক সুরাহা করতে চালু পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্কের নাটবল্টু খানিকটা ঢিলা না করলে প্যাঁচ কাটার উপক্রম সমাসন্ন। তার জন্য পুঁজি ও মুনাফার একটা মর্যাদাকর সিলিং না হলেই নয়। যেমন কেউ দাবি তুলতেই পারেন;-ব্যক্তিগত পুঁজির পরিমান ৫০০ কোটি, গোষ্ঠী পুঁজির পরিমাণ ১০০০ কোটি ও বহুজাতিক পুঁজির পরিমাণ ২০০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারবে না। সাধারন ব্যবহারিক স্বাচ্ছন্দের জন্য ন্যূনতম নির্ধারিত পরিমাণের বেশি জমি, বাড়ি ও উপকরণ মূলক উপাদান রাখা যাবেনা। এর প্রতিশোধ ও প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ আকাঙ্ক্ষীত ও সমাজ নির্ধারিত বিকাশের বদলে বিনিয়োগ ও উৎপাদন উদ্যোগ বিমুখতার নিয়ন্ত্রণে ঐ যার যার নির্ধারিত পুঁজি ও সম্পত্তির অধিকারও খর্ব করা হবে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যবেক্ষণের মানদণ্ডে। আর সেই জন্যই দরকার হতে পারে শ্রম দিবসের যতটা সম্ভব কম শ্রম সময় নির্ধারণের মাধ্যমে উৎপাদনে যতটা সম্ভব বেশি মানুষকে যুক্ত করে সর্বোচ্চ মুনাফার যতটা সম্ভব অংশ সবচেয়ে বেশি মানুষের মধ্যে চুঁইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। যেমন যদি দৈনিক ৪ ঘন্টা কাজের সময় নির্ধারিত করা যায় তাহলে ৮ ঘন্টায় একজন আর ১২ ঘন্টায় অতিরিক্ত আরও দুজন বেকারের কর্মসংস্থান অনায়াসেই করা যায়। ও যতটা সম্ভব সর্বোচ্চ মজুরি নির্ধারিত না হলে ক্রয় ক্ষমতা, চাহিদা ও উৎপাদনের একটা নূন্যতম সুষম বিন্যাস ছাড়া তা একেবারে ঘাটাঘাটি হয়ে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটাই যাতে না লাটে উটে যায় তার জন্যই এমন কিছু একটা ব্যবস্থা না হলেই কি আর চলে! কোনো বিপ্লব টিপ্লবের গল্প সল্প নয় কিন্তু। বরং বদলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্যই কি এমন একটা উপপ্লব মার্কা জঙ্গিয়ানা সত্যিই খুব বেশি ক্ষমার অযোগ্য পাপ-টাপ কিছু একটা হয়ে যাবে কি? সত্যিকার স্থিতাবস্থাপন্থীদের জন্য তো এমন একটা কিছুই দরকার। আপাতত এবং এক্ষুনি। যদিও সর্বোচ্চ মুনাফাবাদী ও ন্যূনতম মজুরি ভিত্তিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় এমন কাঠালের আমসত্বের চক্রবুহ্যেই প্রানপাত হওয়ার ১৬ আনার মধ্যে ১৮ আনাই সম্ভাবনাই নিশ্চিত, তবুও দেখুন না কেউ প্রস্তাবটা পেরে একবার। পুঁজিবাদের জন্যই। অগত্যা তারা না মানলে.....সে তো অন্য কথা। আপনারই কি ব্যপারটা খুব একটা যুতসই মনে হচ্ছে?
তাই ক্ষমতার অলিন্দে বসেও আজ যারা "চাকরি চাই-চাকরি চাই" বলে জনগণকে পেটে খোচা মেরে হাসাচ্ছেন, তারাই কিন্তু আবার জনগণের একটা বিশাল অংশকে বিভ্রান্ত করেই এইসব ছলাকলা করতে সাহস ও রসদ পাচ্ছেন। কিন্তু জনগণ বেশিদিন এই ভাড়ামীর সঙ্গে থাকবে না, সে সব্বাই জানে। তাই কাল তাদেরই একাংশ যদি এমনই ভয়ানক কিছু জঙ্গি স্লোগান-টোগান নিয়েও হাজির হন;-আমরা অবাক হব কি?....
প্রোফাইল লিঙ্ক-
https://www.facebook.com/shankha.chil.526
13/06/2022
পাণিহাটি দণ্ড মহোৎসবে ঘটে যাওয়া আজকের ঘটনা কি কাকতালীয় ঘটনা? এই বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি কি এড়ানো সম্ভব ছিল? পরিচালনার দক্ষতা সুযোগ পেলে যতটা সক্রিয় হতে পারতো সেই সুযোগ কি তারা পেয়েছে? কারণ কিছু দক্ষ ও পরিশ্রমী পুলিশ কর্মীরা কিন্তু সকাল থেকেই একটি অজানা দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছিলেন এবং দুঃখ প্রকাশ করছিলেন এই প্রসঙ্গে তাদের ক্ষমতা সীমিত। এরপরেই বিভিন্ন কারণে এই পরিমাণে মানুষ মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটে যা ৫০০বছরের ইতিহাসে এই প্রথম। এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে মহোৎসবতলা সংলগ্ন বিরাট অঞ্চল কোনো কুখ্যাত ধর্মীয় এজেন্সির সঙ্গে কেনা বেচা নিয়ে এক অদৃশ্য অথচ সচেতন আঁশটে গন্ধ এলাকায় বহুকাল ধরেই সক্রিয়। তাঁদের বক্তব্য এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আসলে গোটা এলাকা ওই বিশেষ এজেন্সির দখলে চলে যাওয়ার নৈতিক সমর্থন তৈরি হল বোধহয়।
#প্রত্যক্ষদর্শী
লিখেছেন ✍️ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী
13/06/2022
পানিহাটির দন্ডমহোৎসবে হতাহতের ঘটনায় মূলে একটি কুখ্যাত আন্তর্জাতিক মন্দির সংস্হার দিকে অভিযোগ।ওরা বেশ কিছুদিন ধরেই নেতাদের হাত করে স্হানীয় মানুষকে উচ্ছেদ করে জমিজমা ও এলাকার ঐতিহাসিক স্হানগুলি বিশেষতঃ চৈতন্যের স্মৃতিবিজড়িত মন্দিরস্হান(চৈতন্য ভক্ত রাঘব পন্ডিতের ৫০০বছরের পুরাতন মন্দির), রানী ভবানীর মন্দির, ভবানি পাঠকের কালীমন্দির ও গড়ভবানি, মহোৎসবতলা ইত্যাদি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
#বাবলু দেবশর্মা লিখেছেন
13/06/2022
◆সুপ্রচীন ও ঐতিহাসিক দণ্ড মহোৎসবের উপর কোন দণ্ডের ভবিষ্যৎ নেমে আসছে?
◆৫০৬ বছর আগে ভারতবর্ষের ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম পিঠস্থান এই পানিহাটীর দণ্ড মহোৎসব তলা। ছোটোবেলা থেকেই যে মহোৎসব ও সামাজিক মেলাটার সঙ্গে যুক্ত আমার বন্ধু বান্ধবেরা। তাঁদের কাছ থেকেই জানলাম কিছু কথা। ক্লাব সংগঠনের মাধ্যমে তাঁদের মতোই এলাকার সাধারণ মানুষই সহযোগিতামূলকভাবে এই গণনিবিড় মেলাটার সঙ্গে যুক্ত থেকেছে বরাবর। মেলাটায় মূলত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষিজীবী সাধারণ ভক্ত মণ্ডলিরই সমাগম হয় সবচেয়ে বেশি। সম্ভবত ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী শুদ্র চেতনার চৈতন্য প্রীতির প্রভাব তা। কিন্তু ইসকনীয় সাধু সন্তদের প্রতি এলাকার লোকজনের বিশেষ শ্রদ্ধা, সৎভাব কখনোই ছিলনা। বরং নানা সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে এলাকার লোকের একটা চাপা বিতৃষ্ণা ও ক্ষোভ ছোটখাট ধ্বস্তাধ্বস্তির পর্যায়ও গেছে কখনো কখনো। সাধারণ জনগণের থেকে বৈষম্য বৈচিত্র্যে বিচ্ছিন্ন, প্রথম বিশ্বমার্কা ইসকনীয় ঔদ্ধত্ব ও আত্মম্ভরি সাধুয়ানাই এর কারণ। কিন্তু খুব তাড়াতাড়িই সামনে আসে তাঁদের অসাধু ও অসততার আঁশটে গন্ধ নিয়ে জনগণের আগাম সচেতনতার অভিজ্ঞতা।
মহোৎসবতলা সংলগ্ন পাইন পরিবারের ঐতিহ্য মণ্ডিত পুরোনো এক জগদ্ধাত্রী মন্দির ছিল। সম্ভবত বছর ১৫-২০ আগে প্রথম ইসকনের নামে তার মালিকানার হাত বদল দিয়েই এই অঞ্চলের ভারসাম্যে ইসকনের দৌরাত্ম্য শুরু। তখন ঐ মন্দিরে আদি উড়িষ্যা নিবাসী এক পরিবারকে স্থানিয় গুণ্ডা মাস্তানদের সহযোগে যৎসামান্য অর্থের ফাঁদে ফেলে উচ্ছেদ করেই তা ঘটে। দ্রুতই তার পাশেই ভবাণী পাঠকের গড় সম্বোদিত গড় ভবাণী ক্লাব ও খেলার মাঠটাও হাতিয়ে নিতে অতিসক্রীয় হয়ে হঠে ইসকন। পাশেই ভারতের নারী শিক্ষার পথিকৃত প্রখ্যাতা রকেয়া বেগমের সমাধী স্মৃতি বিধৌত পানিহাটী বালিকা বিদ্যালয়ের পরিবেশও বিঘ্নিত হয় এর ফলে। স্থানীয় ক্লাব, সংগঠন, এলাকার সমস্ত সাধারণ মানুষ, পানিহাটী এপিডিআর ও নানান গণ উদ্যোগের সম্মিলিত প্রয়াসে শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ। তারই অংশ হিসেবে পানিহাটীর গণ অভিভাবক প্রখ্যাত ও প্রবীণ (বর্তমানে প্রয়াত) সমাজসেবী ডা: সন্মথনাথ ঘোষ-এর মতো মানুষকেও এই প্রথম ইসকনের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়তে দেখে এলাকার মানুষ। যা ইসকনের অসাধুতা নিয়ে মানুষের সন্দেহকে বিশ্বাসে বদলে দেয়। তারপরও নানভাবে নানান অদৃশ্য ও দুষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গুলিহেলনে ধর্মীয় ঢালকে সামনে রেখে একটা চাপা ইসকনাইজেশনের অপসংস্কৃতি প্রশ্রয় পেতেই থাকে।
এরপর পাশেই পুরোনো কলুঘাট হাতানো হয়। তৎসংলগ্ন হুগলি ভাগিরথীর তীর ধরে বিস্তৃত অঞ্চলে ফাঁকা অথচ বেশ মজবুত অসংখ্য নোটিশ বোর্ডের লৌহ কাঠামো বসানো আছে এখনো। কেন, কি ফরমানের অপেক্ষায় সেই অজানা আশঙ্কায় আছে স্থানীয় মানুষ। সম্ভবত ভবিষ্যতে এলাকার স্থিতাবস্থা বিঘ্নকারী কোনো পরিকল্পনার সপক্ষে মনোস্তত্বের বিনির্মানের জন্যই এই কাজ। উৎসবকে কেন্দ্র করে জমায়েত লাখো লাখো মানুষের জন্য কোনো পয়ো-প্রস্রাপ ও যথেষ্ট জলের যোগান কিন্তু এত বছরেও প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। অথচ ইতিমধ্যে সমহিমায় সক্রিয় ক্রংক্রিটের মজবুত পানিহাটী কোন্নগর সাধারণ ফেরি সার্ভিসের পাশেই যুদ্ধকালিন তৎপরতায় একটা নতুন ফেরী কাঠামো গড়ে উঠেছে কোন উদ্দেশ্যে? লোহার খাঁচা দিয়ে তৈরী যে ফেরী কাঠামো সম্ভবত সরকারি ও আইনি নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই মনে হয়। বিনা নোটিশে জনগণের জ্ঞাতার্থে কোনোরকম সরকারি ঘোষণা ছাড়াই যে কাঠামোর প্রয়োজন ও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ আছে। অনেকেরই আশঙ্কা- যা ইসকনের ভবিষ্যৎ বিনোদন পার্কের একটা নমুনা সম্ভবত। বর্তমানে স্থানীয় বহু আবাসনের বেশিরভাগ অংশই নামে বেনামে ইসকনের মালিকানাধীন।
ভক্তিমূলক গণ সংবেদনের ভাষা আমাদের গণ কৃত্তনের সংস্কৃতি। উল্টো দিকে কোনো অনুভূতি বিহীন তারই বিকৃত অনুশীলনে যখন তখন উদ্দাম হেরে ভণ্ডামির ইসকনিয় উচ্ছাসে শান্তিপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নকারী ও অত্যন্ত বিরক্তিকর শব্দ সন্ত্রাসের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে এই এলাকা। এসবই এলাকার একটা নতুন বিন্যাস ও মনোস্তত্ব বিনির্মানেরই অংশ বিশেষ। বহুমাত্রিক প্রগতিশীল সংস্কৃতির ধাত্রী এই মহোৎসবতলা ও পানিহাটীর আবহওয়াকে শুধুমাত্র এক কপট বহুজাতিক ধর্মান্মোদনার আখড়া হতে দিলে চলবে না।
ভীড় বরাবরই হয়। তারাই ধারাতে ও ইসকনীয় অতি সক্রিয় প্রচারোন্মদনায় দুবছর বন্ধ থাকার পরে ভীড় বেশি হওয়ার তত্ত্ব একটা সস্তা ও সহজবোধ্য চর্চা মাত্র। ৫-৭ বছর আগেও গণ আন্ত্রিকে অসংখ্য মানুষ ভয়ংকরভাবে আক্রান্ত হলেও সম্পূর্ণ স্থানিয় উদ্যোগে সরকারি চিকিৎসায় সুস্থ্য হয়েছিল মানুষ। তাতে একজন ও অস্থিরতাজনিত রক্তচাপে একজন, মোট মাত্র দুজন মানুষের মৃত্যুতেই ক্ষয়ক্ষতিকে আটকানো গেছিল। আজ স্বঘোষিত তথাকথিত নতুন মাতব্বররা সেসব হয়ত স্বীকার না করলেও সতর্ক হওয়ার মতো অভিজ্ঞতা যথেষ্টই ছিলো। বদলে কিন্তু এবারের দুর্ঘটনা যেন সম্পূর্ণ এক অদৃশ্য ও সচেতন সুতোর টানেরই খেলা ছিল। এক দুজন দক্ষ ও সক্রিয় পুলিশ কর্মীও তাদের অপ্রতুল ক্ষমতা নিয়ে একটা দুর্ঘটনার অজানা আশঙ্কায় সকাল থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল। সুযোগ পেলে তাঁরা যে বহু সমস্যা সহ এই মারাত্মক দুর্ঘটনাও এড়িয়ে যেতে ভুমিকা রাখতে পারত, তাঁদের আন্তরিক উদ্বেগই তার প্রমান। অথচ হটাৎ অতিসক্রীয় অসংখ্য খুচরো অদক্ষ ও দলীয় তথাকথিত স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্ব্যবহারে হতদ্যম বহু দক্ষ ও পুরোনো সহযোগী মানুষেরদের পেছিয়ে যাওয়ার ধারা হল এই অব্যবস্থার অন্যতম ও আগাম প্রকৃয়ার অংশ।
অন্যদিকে এই দণ্ড মহোৎসবের আয়োজনে প্রসাদী হিসেবে চিড়ে দই কেন;-তারও একটা সচেতন তাৎপর্য আছে। কারণ এই গরম ঋতুতে মানুষের সুস্থ্যতার জন্য সহজ পাচ্য তার উপকারিতার জন্য। ৫০০ বছরের আগের উদ্যোক্তাদেরও মাথায় ছিল যে সচেতনতা, বর্তমান নির্বোধ উদ্যক্তাদের স্বার্থে বোধহয় তার তাৎপর্য খাপ খায়না। তাই জাগায় জাগায় অনিয়ন্ত্রিত আগুন জ্বেলে গুরুপাক খিচুড়ি আলুরদম, খোলা রাস্তায় গাদা গাদা দই-চিড়ে মাখা খাদ্য সর্বদাই বিপজ্জনক ঝুঁকি নিয়ে তোষণ পেয়ে এসেছে। কিন্তু এবারে যা ছিল অদৃশ্য প্রশ্রয়ের অংশ। কোনোভাবেই ভীড় নিয়ন্ত্রণের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল না। দীর্ঘ লকডাউনের পরে তা যে সম্ভব নয়,- সে অযুহাতও ধোপে টিকবে না কিন্তু। কারণ রাজনৈতিক মদতপুষ্ট গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে প্রকাশ্য দিবালোকে কথায় কথায় গুলি বোমা চলা এই এলাকার মাতব্বরদের ধর্ম আর উৎসবের প্রতি সহনশীলতা পাক্কা ভণ্ডামি ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত তোষণের রাজনীতি ছাড়া যে আর কিছু নয় তা এই এলাকার পশুপাখিও বোঝে। যার ধারাতেই বেসরকারি মতে প্রায় ১০ জন মানুষের মৃত্যুর এই ঘটনা ৫০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম। ফলত এই আয়োজনের অদক্ষতা হেতু দক্ষ ও পেশাদারিত্বের অযুহাতে পুরো অঞ্চলটারই ইসকনাইজেশনের মনস্তত্ত্বের সহায়ক অনুঘটক হয়ে গেল এই দুর্ঘটনা, তা যেকোনো সুস্থ্য মানুষই বুঝছে। কারণ ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সাধারণ গরীব মেলা হকারদের তুলে দেওয়ার অযথা সক্রিয়তাই কিন্তু প্রমাণ, নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিন্তু তার চেয়েও বেশি প্রমাণ অসংগঠিত হকার ও তথা খুচরোজীবীদের বিপক্ষে কোনো সংগঠিত অসাধু চক্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা। যা মানুষের মৃত্যুর চেয়েও তার অযুহাতে নির্লজ্জ সুযোগের প্রতি বেশি আগ্রহী। তাই বিভিন্ন প্রগতিশীল সংস্কৃতি ও ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী ঐতিহাসিক ভক্তিবাদী আন্দোলনের ও চৈতন্য স্মৃতি বিজরিত এই চেতনাভুমির পবিত্রতা রক্ষার জন্য সকল সাধারণ ভক্তিবাদী ভক্তমণ্ডলী জনগণেরও সচেতন হওয়া উচিৎ। আমাদের সকলের স্মরণে রাখা উচিৎ আমাদের ভক্তি, ভক্তিবাদী আন্দোলন ও ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী সচেতন সংস্কৃতির ৫০০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতার ইতিহাস আছে আমাদের। তাই আমাদের তথাকথিত কৃষ্ণ কনসাসনেসের গ্যাঁজাখোড়ির জন্য কোনো বহুজাতিক বৈদেশিক অনুদানপ্রাপ্ত এজেন্সির দরকার নেই। আমাদের স্মরণে রাখা উচিৎ বৃটিশ উপনিবেশিকদের (১৯৫০-এ) পাকাপাকিভাবে চলে যাওয়ার ১৬ বছরের মাথায়ই মার্কিন স্বার্থে ও উদ্যোগে ১৩ জুলাই ১৯৬৬ সালে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এই ইসকন সংস্থাটা গড়ে ওঠে। ২০০৯ সালের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে সারা বিশ্বে ইসকনের ৫০০০০ টারও বেশি মন্দির এবং কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টা খামার সংগঠন (কয়েকটা স্বনিযুক্তি প্রকল্প সহ), ৫৪ টা বিদ্যালয় ও ৯০টা ভোজনালয় সহ। বর্তমানে পূর্ব ইউরোপে (সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর) হতাশাগ্রস্থ জনগণের মধ্যে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মনে রাখা উচিত এখনো যে ভারতে প্রতি ৪৬ মিনিটে একজন কৃষক আত্মহত্যা করেন, ৪০০০ হাজার শিশু সহ মোট প্রায় ৭০০০ লোক রোজ খেতে না পেয়ে মারা যায়। সারা গোলক জুড়ে স্রেফ সেই দেশের আধ্যাত্ম ভাবাবেগের জন্যই শুধু এত বড় আয়োজন কখনো কোনো বৃহত্তর কায়েমী স্বার্থ ও ঘুষের টাকা ছাড়া সম্ভব কি? এখনো যার পৃষ্ঠপোষকদের অন্যতম মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী গাড়ি নির্মাতা ফোর্ড কোম্পানির মালিকরা-তখন তা নিয়ে সত্যিই কি আর সন্দেহ থাকে? যারা আসলে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ মাফিয়াদেরও সদস্য।
এহেন অবস্থায় ৫০৬ বছরের একটা ঐতিহাসিক মহোৎসবের উদ্যোক্তা হিসেবে মাত্র ৫৬ বছর আগে গড়ে ওঠা একটা বহুজাতিক এজেন্সিকে জুড়ে দায়িত্ব জ্ঞানহীন প্রাতিষ্ঠানিক প্রচারও সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। শক্তি ভারসাম্যের কূটচক্রে প্রমাণ করতে না পারা কিন্তু হাড়ে মজ্জায় উপলব্ধি করা খারাপ প্রকৃয়ার সঙ্গে খাপ খেয়ে যাওয়া যেকোনো মন্তব্যকে এলাকার মানুষের পক্ষে সন্দেহাতীত ও বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ঘটনা না ভাবাই স্বাভাবিক। ভুলে যাওয়া উচিৎ নয় আমাদের বিশ্বাসঘাতক ও দেশদ্রোহী রাজনীতিকদের ঘাড়ে চেপেই ঠিক এমনভাবেই আমাদের দেশটাকে দখল করেছিল এদেরই পূর্বসূরি ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির মালিকরা। তখন তারাও প্রথমে খ্রীষ্ট কনসাসনেসের মিশনারী সাধু সেজেই এসেছিল কিন্তু।
স্থানীয় আন্দোলনের ফলে যা ছিল আপাত বিরত এখন ফের তা মাথাচাড়া দিচ্ছে চালু রাজনৈতিক শক্তির ভাড়াটে মদতে। হটাৎই সংলগ্ন জল প্রকল্পে নাকি তাজা বোমাও আবিস্কার হয়েছে। বরাবরই বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে আড়ালে আবডালে পুষ্ট করে এখন তাকেই অজুহাত করে সেই মোদোমাতালদের ধরার নামে ইদানিং সংলগ্ন ঘাটগুলোকে জনবিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই এলাকার "নাগরিক বৃন্দ" নামে এই দখলদারির বিরুদ্ধে পোষ্টারিংও দেখা যাচ্ছে এলাকায়। এখন প্রয়োজন শুধু দলমত নির্বিশেষে এই অসাধু চক্রান্ত রুখে দেওয়ার মতো জঙ্গি গণ আন্দোলন। সমগ্র গণতান্ত্রিক মানুষের ঐকান্তিক অংশগ্রহণই পারে ভক্তির নামে এই ভণ্ডামি রুখে দিতে। তাই যেকোনো সচেতন মানুষের উচিৎ এই দুষ্টচক্র ও তার সঙ্গে যুক্ত অপশক্তিগুলোর তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে তাদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা....
✍️শঙ্খ চিল
09/04/2022
অরাজকতা চলছে রাজ্যে। একেরপর এক রাষ্ট্রীয় হত্যা; ধড়পাকড়। এরই অন্যতম আনিস সত্যা। তাই নিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের...
আনিসের মৃত্যুর সুবিচার চেয়ে বিক্ষোভ রাজপথে #Anis_khan_murder #protest
23/12/2021
লিখেছেন শঙ্খ চিল
◆ভারতের শ্রমিক শ্রেণীর
রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসের
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ...
☆প্রথম পর্ব:-
◆শুরু করার অযুহাতে...
--------------------------------------------------
◆জাতিভেদ প্রথায় জর্জরিত অস্পৃশ্যতা ও বর্ণাশ্রম ভিত্তিক সামন্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে হাজার হাজার বছরের সঞ্চিত ঘৃণায় দগ্ধ, বিভিন্ন অবর্ণ জনজাতি, সম্প্রদায়, গোষ্ঠী, জাতি, উপজাতি সহ তথাকথিত শুদ্র সমাজের অংশ হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন কৃষক সংগ্রামের ইতিহাসই হচ্ছে মূলত ভারতের শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস। যার ধারায় বৃটিশ অধীন ভারতেও জনগণ ঔপনিবেশিক নীতি ও তার সহায়ক মুৎসুদ্দি ও বহুস্তরিয় নব্য জমিদারি ভিত্তিক সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধেও অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে গেছে।
আধুনিক বিশ্বে প্রাক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রসব যন্ত্রণা হিসেবে মোটামুটি ১৭৬০-১৮৪০ পর্যন্ত সময়কালে কৃষি এবং বাণিজ্যিক ব্যবস্থা থেকে আধুনিক শিল্পায়নের দিকে গতি শুরু হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিস্ময়কর পরিবর্তন ঘটে ইওরোপিয় দুনিয়ায়। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর সমুদ্র যাত্রা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের পথ খুলে দেয়। যে পথে শিল্পোৎপাদনের জন্য কাচামাল, সস্তা শ্রম ও পণ্য বিক্রির বাজার দখেলে মরিয়া পুঁজিবাদী ইওরোপ, দুনিয়া জুড়ে উপনিবেশ বিস্তারে ঝাঁপিয়ে পরে। বিভিন্ন ইওরোপিয় শক্তির প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ইংরেজরা শেষ পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের উপনিবেশ তৈরিতে সফল হয়। অপরদিকে পুঁজিবাদী শোষণের মূল লক্ষ্যই মানুষকে সমস্ত অধিকার ও সম্পর্ক থেকে উচ্ছেদ করে শুধুমাত্র মজুরি দাসত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ করে তার শোষণকে সুনিশ্চিত করা। তাই সবকিছু থেকে ছিন্নমূল ঐ ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বহারা মজুরি দাসরাও জন্মলগ্ন থেকেই বিদ্রোহী শ্রেণী হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু বৃটিশরা তাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যমাত্রায় ভারতীয় উপমহাদেশের পুঁজিবাদী উত্থানের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই নাশ করতে উদ্যোগ নেয়।এখানে তারা সামন্ত ব্যবস্থার সঙ্গে আঁতাত গড়ে তোলে। পুঁজিবাদের সাধারণ শত্রু সামন্তদের মধ্যে থেকেই বৃটিশদের দালাল একদল মুৎসুদ্দি বেনে ব্যাপারী ও সমস্ত আবর্জনা সমেত ভারতীয় সামন্ততন্ত্রকেই তারা তাদের মতোন আরও মজবুত ও তথাকথিত আধুনিক কাঠামোতে গড়ে তুলে, ভারতের সাধারণ পুঁজিবাদী বিকাশের সম্ভাবনাকে আটকে দেয়। কিন্তু তবুও আধুনিক ইতিহাস তৈরির কারিগর শ্রমিক শ্রেণীর বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ সংহত হওয়ার অনেক আগেই, উপনিবেশিক স্বার্থে তথাকথিত আধুনিক শিল্পজাত কর্মসূচির প্রাক্কালেই ভারতে সামন্ত ও মুৎসুদ্দি বিরোধী সংগ্রামে কৃষক জনসাধারণ সহ সদ্যজাত শ্রমিক শ্রেণীর সংগ্রামও খুব সাধারণ ভাবেই বৃটিশদের বিরুদ্ধেই সংগঠিত হতে বাধ্য হয়।
--------------------------------------------------
◆ভারতের শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসকে সংক্ষেপে বুঝতে হলে তাকে তিনটে পর্যায়ে ভাগ করা দরকার।
যথা:-☆☝১) ১৯৪৭-এর ক্ষমতা
হস্তান্তরের আগে পর্যন্ত।
--------------------------------
☆✌২) ১৯৪৭-এর ক্ষমতা
হস্তান্তরের পর থেকে
১৯৬৭-নকশালবাড়ির
আগে পর্যন্ত।
---------------------------------
☆🤟৩) ১৯৬৭-এর
নকশালবাড়ি
আন্দোলনের
পরবর্তী।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
☆১) ১৯৪৭-এর ক্ষমতা
হস্তান্তরের আগে পর্যন্ত...
~~◆প্রাক্কাল◆~~
--------------------------------------------------
◆১)-ভারতে বৃটিশদের আধুনিক ধাচের শিল্প সংস্থানের অনেক আগেই এমন এক বিদ্রোহ হয়, যাকে সম্ভবত দুনিয়ার প্রথম আধুনিক শ্রমিক বিদ্রোহের জননি ধাত্রী বা শৈশব অবস্থা বলা যায়। যা ছিল মহান পাইক বিদ্রোহ। মোগল আমলে চোয়ার সম্প্রদায়রা সেনা ও পাইকের কাজ করত। বাংলায়ও চোয়াড় সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ মেদিনীপুরের রানি শিরোমণির অধীনে পাইক বা সৈনিকের কাজ করত। এই কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে তারা নিষ্কর জমি ভোগ করত, যার নাম ছিল 'পাইকান' জমি। বৃটিশরা তাদের কাজ ও জমি থেকে উচ্ছেদ করলে, তারা ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পরে। চোয়ার জনজাতির অন্যান্য অংশও এই পাইক বিদ্রোহ সামিল হয়। ১৮১৭-এ ওড়িশার খুরদা-রাজ্যের সেনাপতি বিদ্যাধর মহাপাত্রের নেতৃত্বে এই পাইক বিদ্রোহ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। যা সারা বাংলা ও ওড়িশার এক বিস্তৃত অঞ্চলে বৃটিশ শাসনের প্রথম ধাপেই প্রবল বাধা হয়ে দেখা দিয়েছিল।
◆২)-১৮৫০-এরর পর ভারতের গভর্নর জেনারেল হলেন লর্ড ডালহৌসি। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সাম্রাজ্যবাদী ভীত মজবুত করতে তাঁর উপরিকাঠামো তৈরির পথে আধুনিক ধাঁচের শিল্পক্ষেত্রের পথচলা শুরু। তৈরি হতে থাকে আধুনিক ধাচের ভারতের শিল্প শ্রমিক শ্রেণীও।
◆৩)-১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল রেল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয় শিল্প দৌড়। টেলিগ্রাফের মতো যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে ভারতের শিল্পোন্নতির দিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে ব্রিটিশ সরকার।
◆৪)-বম্বে, আমেদাবাদে কাপড়ের কলগুলো তৈরি হয়।
◆৫)-হাওড়া-হুগলিতে পাটকে কেন্দ্র করে নতুন একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালের আগে বাংলার পূর্বাঞ্চলে (বর্তমান বাংলাদেশে) খুব অল্পই শিল্প গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে প্রায় ১২,০০০ শ্রমিক নিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটের প্রায় ২৫ টা চা-বাগান শিল্প ছিল উল্লেখযোগ্য। যা প্রধানত ছোটনাগপুর অঞ্চলের আদিবাসী শ্রমিকদের নিয়েই তৈরি হয়েছিল। প্রায় ১০,০০০ শ্রমিক নিয়ে ঢাকা, কুষ্টিয়া ও খুলনা মিলিয়ে ৬টি টেক্সটাইল শিল্প তৈরি হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরেও কিছুসংখ্যক শ্রমিক কর্মরত ছিল।
◆৬)-শুরুর দিন থেকেই শ্রমিকদের উপর জোর জুলুম। তাদের শ্রমসময় বৃদ্ধি অথচ কারণে অকারণে বেতন কমে যাওয়া ও ছাটাইয়ে, ক্রমশ শ্রমিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
☆ পরবর্তী পর্বে:-
~ভারতে প্রথম শ্রমজীবী সংগঠন~
প্রথম পর্বের লিঙ্ক:- https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=770634307671808&id=100041757368131
পরবর্তী পর্বের লিঙ্ক গুলি পোস্টের কমেন্ট সেকশনে দেওয়া হবে...
01/11/2021
লিখেছেন Indrani Chakraborty
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1289152848204243&id=100013286197509
////ছবিটা করোনা সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করার জন্য তোলা হয়নি।////
ছবিটা তুললাম সাংবাদিকতার জালিয়াতি দেখানোর জন্য। এমনভাবে খবরটা লেখা হয়েছে যেন লোকাল ট্রেন চালানোর নির্দেশিকা জারি করার পরেই এই ভীড়টা হচ্ছে! অথচ, আমরা যারা স্টাফ ট্রেনেও রোজ যাতায়াত করেছি তারা কী দেখেছি? আমরা দেখেছি যে স্টাফ ট্রেনেও করোনাকাল পূর্ববর্তী লোকাল ট্রেনের ভীড় যা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকেনি। অস্বাভাবিক ঠেকেছিল ঠিক কী কারণে এত মানুষের প্রয়োজন সত্ত্বেও রোজ প্রায় সবকটি ট্রেন চালানো হচ্ছে স্টাফ ট্রেনের নামে, কিন্তু কখনোই লোকাল ট্রেন বলে উল্লেখ করে সবকটা ট্রেন চালাচ্ছে না। কেন? কারণ, যাতে ভারতীয় রেলের Loss-এ যাওয়ার গুল পাবলিককে খাইয়ে সহজেই তার 'সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ' (এখনই আধা সরকারি) সম্ভব হয়। কিন্তু জনগণ এবং তার প্রয়োজন তাদের আশায় জল ঢেলে দিলো। কাজের জন্য হু হু করে ট্রেনে চড়ে দূর দূরান্তে যেতে লাগলো(অবশ্যই টিকিট কেটে)। এর ফলে তাদের ওই মড়া পচা অজুহাত অবাঞ্ছিত হয়ে গেল। কিন্তু তবুও সমস্যা তো থেকেই যায়। সরকারি সম্পত্তি তো বেসরকারি করতেই হবে না হলে যে বাবা বকবে! তাই এই খবর। কী হবে এই খবরে? যারা কস্মিনকালেও ট্রেনে স্টাফ ট্রেনে চড়েনি এবং লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার পরেও তাদের ট্রেনে ওঠার প্রয়োজন পড়েনি, তারা রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কায় আশঙ্কিত হবেন এবং চাইবেন যেন ট্রেন পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর তাদের মতামতকে মেজরিটি বানিয়ে ওপরওয়ালা প্রচার করবে এবং সিদ্ধান্তে যাবে। ঠিক যেমনটা স্কুল, কলেজ, আন্দোলন, জমায়েত ইত্যাদির বিরুদ্ধে করা হয়েছে।
আমরা লকডাউনের যুগে প্রবেশ করেছি। ২০১৯ সালের কাশ্মীরে যেটা ট্রেলার এখানে এখন সেটা রিয়েলিস্টিক সিনেমা। তাই যারা বিধিনিষেধ, সামাজিক দূরত্ব মেনে এবং পাছায় ভ্যাকসিন গুঁজে তার পক্ষে প্রচার চালিয়ে পাবলিককে সরকারি নিয়ম মানতে উদ্বুদ্ধ করছে তাদের বলি- আপনারা পাঁড় মাতাল( রাষ্ট্রের মদে সিক্ত)। আপনাদের থেকে পাড়ার ঠেকে বাংলা খোর মস্তানরাও বরং ঢেড় ভালো।
18/10/2021
লিখেছেন ✒শঙ্খ চিল
◆আজ রাজ্যে এমন এক শক্তি ক্ষমতায় আছে, যাদের প্রথম দিকে অনেকেই তথাকথিত মতাদর্শ হীন অস্থায়ী শক্তি হিসেবে বিশেষ পাত্তাই দিতে চায়নি। বিশেষত 'রাজনৈতিক শক্তি যে তারা নয়'- এমন তথাকথিত রাজনৈতিক আভিজাত্যের অরাজনৈতিক উদাসীনতারা আজ কি বলবেন? আপনাদের মতাদর্শ হীন সেই অস্থায়ী অরাজনৈতিক শক্তির(!) মতাদর্শটা আসলে কোথায়, আজ টের পাচ্ছেন তো?
সারা ভারতেই যা কিছু যাচ্ছেতাই গণ বিরোধী নীতি, এমন নাটকীয় বিরোধিতার আড়ালে সে সবই এত দক্ষতা ও ভণ্ডামির সঙ্গে জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া, অথচ সেই জনগণকেই সাদরে লাইনে দাঁড় করিয়ে! সারা বিশ্বেই এমন নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল। যাতে তারা শাসক শ্রেণীর ধূর্ত দালাল হিসেবে এযাবৎ ক্ষমতার সেরা উত্তরাধিকারের স্থায়িত্ব আদায় করে নিচ্ছে, তা অস্বীকার করা কি সম্ভব? নাহলে জনমত বিপক্ষে যাওয়ার মতো যথেষ্ট যথেচ্ছাচার থাকা সত্বেও তথাকথিত নির্বাচনে তাদের শাসকগোষ্ঠীর আভ্যন্তরীণ ঝগড়ার ফল কি? এরপরও বড় ব্লকের বিরাট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আয়োজনকে হেলায় হারানো যে জনসমর্থনের ফল নয়, তা বলাই বাহুল্য। তাই সারা দেশেই যে গণ বিরোধী নীতির জন্য ফ্যাসিবাদী প্রকল্প চলছে, তারা তার নিরীহ, নির্বিকল্প ও বিচ্ছিন্ন অংশ তো মোটেই নয়, বরং নিরামিষাশীর ছদ্মবেশে আরও বেশি রক্তলোলুপ ও মাংসাশী খ্যাক শিয়াল বিশেষ।
তাই ভারতের বৃহত্তর পরিসরের তুলনায় ছোট ব্লক হিসেবে পার পাওয়া তারা, তাদের বিরুদ্ধে, গণ সংগ্রাম দমন সহ সমস্ত গণ বিরোধী কার্যক্রমে শাসক শ্রেণীর সেবায় নিয়োজিত সকলকেই পিছনে ফেলে দিচ্ছে।
চরম পিতৃতান্ত্রিক বঙ্গীয় রাজনীতির কাঠামোয় ক্ষমাতার তথাকথিত নারী প্রলেপ ফ্যাসিবাদের ষোলোকালার সংবেদন ছাড়া আর কিছু নয়। যা ইতিমধ্যেই ভারত সহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও বৃহত্তর দুনিয়ার অনেকাংশেই তার শঠতার সাক্ষী রেখেছে। তাই এই প্রণয়নী রাজনৈতিক ছলের অভিজ্ঞতা নেই বলে, আমরা সেই পাপাচার বর্দাস্ত করেছি, এমন কোনো অযুহাতই ইতিহাস ক্ষমা করবে না...