11/08/2023
Natural Beauty of Dutta Pukur - Health benefits of Living Near Water @indian-music-and-nature
Natural beauty of pond.Natural Beauty of Dutta Pukur - Health benefits of Living Near Water -music-and-nature Health benefits of living near water: W...
30/01/2022
এই *বাবা* নামক প্রজাতিটা সত্যি বড় অদ্ভুত। এরা ভালবাসতে জানে, ভালবাসি বলতে জানে না। চিন্তা করতে পারে আমাদের নিয়ে সর্বক্ষন, কিন্তু ফোন রাখার আগে সাবধানে থাকিস বলতে জানে না। আমাদের সাথে কথা বলার অপেক্ষা করতে জানে কিন্তু মায়েদের মত দিনে ৪ বার করে ফোন করতে জানে না। আমাদের সঙ্গ পেতে দারুন চেষ্টা করে কিন্তু একসাথে থাকলেও নিজে থেকে দুটোর বেশী কথা বলতে জানে না।
বছর খানেক পর যখন বাড়ী যাই আর কিছুদিনের জন্য থেকে আবার ফিরে আসি তখন মা কান্নাকাটি করে। *বাবা* করে না। ভোর বেলা ট্রেন থাকে। তার আগের রাতটা *বাবা* একটু বেশী কথা বলে আমার সাথে। কয়েকবার বেশী ঘরে আসে আমার। হয়তো একই কথা দুবার জিজ্ঞাসা করতে আসে। কারন *বাবা* নামক প্রজাতি খুব একটা বেশী কথা বলতে জানে না। মনের কথা মুখে আনতে জানে না, ভালবাসতে জানে কিন্তু ভালবাসা দেখাতে জানে না। তাই কি বলবে বুঝতে না পেরেও আমার ঘরে আসে বারবার সময়টা একটু বেশী ভাগ করে নিতে।
আমার যত আবদার মায়ের কাছে। কারন মায়ের কাছে সহজে আবদার করা যায়। বাবাদের কাছে অতটা সহজে যায় না। হয়তো আমরা জানি না আমাদের আবদার মেটাবার জন্য *বাবা* নামক মানুষটাই সবচেয়ে বেশী চেষ্টা করে। যত সহজে মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়তে পারি সেটা বাবাকে পারি না। মায়ের কষ্ট যতটা সহজে অনুভব করি বাবাদেরটা পারি না বোধহয়। *বাবা* মানে শাসন, দুরত্ব আর শৃঙ্খলা। বাবাদের একটা দিকই আমরা চিনি, বুঝি আর মেনে চলি। ছোট থেকেই মনে হত *বাবা* মানেই সুপারির মত শক্ত,নীরস আর রুক্ষ একটা পদার্থ। বোধহয় সেটা নয়। বাবারা অনেকটা নারকোলের মত বোধহয়। ভেতরের নরম সাদাটা বাইরের বেরঙীন শক্ত খোলস আর শুষ্ক ছিবড়ে দিয়ে ঢাকা। সেই ছিবড়ে আমরা কোনদিনও ছাড়িয়ে ভেতরে যাবার চেষ্টা ও করিনি। বাবারা একঘেঁয়ে বলেই বোধহয় এদের অবদান সাহিত্য, সমাজ, স্যোসাল মিডিয়ায় বা মনে একটু কম জায়গা পায়।
মনে আছে ছোটবেলায় যখন প্রথমবার সাইকেলের ব্যালেন্স হুইলগুলো খুলে নিজে সাইকেল চালাতে যাব, সেদিন মা বারবার বলেছিল সাবধানে সাবধানে। বাবা কিছু বলে নি। তাই হয়তো ভেবেছিলাম মা ই বোধহয় শুধু ভালবাসতে জানে, বাবারা নয়। সেদিন যদি একটু ভাল করে দেখতাম হয়তো বুঝতে পারতাম মানুষটা পায়ের পাতায় ভরদিয়েই পেছন পেছন চলছিল, যদি আমার সাইকেলটা ভারসাম্য হীন হত সেদিন মানুষটা একদৌড়ে ধরে ফেলত আমাকে একটা আচড় লাগবার আগেই। আজও যখন ভাবি প্রতি মুহুর্তে মিল পাই সেদিনের সাথে। জীবনের রাস্তায় এখনও একটা সাইকেলে চলছি সবাই। কখনও খারাপ রাস্তার জন্য কখনও বা নিজের বেপরোয়া ভাবনার জন্য ভারসাম্য হারিয়েছি। যখনই পড়ার উপক্রম হয়ছে বা চলতে চলতে ক্লান্ত হয়েছি পেছন ফিরে সবসময় সেই মানুষটাকে দেখেছি। ভরসা পেয়েছি, আর কঠিন রাস্তায় চলার সাহস পেয়েছি। মানুষটা একবারও বলে নি, আস্তে যা ,বেশী দুর যাস না বা সাবধানে যাস। খালি বলেছে " তুই চল না যেদিকে তোর মন চায়, *আমি আছি* ।
সংগৃহীত