আজাদ গণ মোর্চা

আজাদ গণ মোর্চা

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আজাদ গণ মোর্চা, Political organisation, .

গণ রাজনৈতিক সংগঠন। যার মূল উদ্দেশ্য হলো – মানুষের গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন এবং জীবন-জীবিকা-শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর বিকাশ ও সম্প্রসারণ ঘটানো, দলিত-আদিবাসী-সংখ্যালঘুদের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

20/05/2026

জঙ্গলমহলের মানুষ বহু বছর ধরে হাতির সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেও সহাবস্থান করে এসেছে। এই অঞ্চলে হাতির হানায় বহু মানুষের প্রাণ গেছে, অসংখ্য বাড়িঘর ভেঙেছে, বছরের পর বছর ফসল নষ্ট হয়েছে। তবুও জঙ্গলমহলের মানুষ কোনোদিন হাতিকে শত্রু ভেবে প্রাণে মারার কথা ভাবেনি। কারণ তারা জানে, হাতিও এই জঙ্গলেরই বাসিন্দা। জঙ্গল যেমন মানুষের, তেমনই হাতিরও। তাই ক্ষতি, কষ্ট আর আতঙ্কের মধ্যেও এখানকার আদিবাসী ও স্থানীয় মানুষ হাতির সঙ্গে এক ধরনের অলিখিত সহাবস্থান বজায় রেখেছে।

কিন্তু আজ সেই জঙ্গলই ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে বাইরের ব্যবসায়ীদের মুনাফার জন্য।

ঝাড়গ্রামের লোধাশুলি রেঞ্জের গড় শালবনি এলাকায় আবারও এক দাঁতাল হাতির মৃত্যু সেই নির্মম বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিল। প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছরের একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতি প্রাণ হারিয়েছে কৌশল্যা হেরিটেজ নামের একটি বেসরকারি রিসর্টের আমবাগানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। অভিযোগ, রিসর্ট ঘিরে থাকা বিদ্যুতের তার বা সোলার ফেন্সিং-এর কারণেই এই মৃত্যু। বনদফতর তদন্ত শুরু করেছে ঠিকই, কিন্তু ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রিসর্ট মালিকের বিরুদ্ধে কোনো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন।

কারণ, জঙ্গলমহলে যখন কোনো স্থানীয় তাসা পার্টি বা হাতি খেদানোর দলকে ডাকা হয় এবং কোনো অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনায় হাতির মৃত্যু ঘটে, তখন প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো হয়। গ্রেফতার, মামলা, জেরা — সব দ্রুত হয়। অথচ একটি বিলাসবহুল রিসর্টের সীমানার মধ্যে বিদ্যুতের ফাঁদে হাতি মারা গেলেও নীরবতা। এই দ্বিচারিতা মানুষকে বুঝিয়ে দিচ্ছে, আইন সবার জন্য সমান নয়। গরিব আদিবাসীর জন্য একরকম, আর টাকাওয়ালা রিসর্ট মালিকের জন্য আরেকরকম।

এটা শুধু একটি হাতির মৃত্যু নয়। এটা জঙ্গলমহলের প্রকৃতি, পরিবেশ এবং সংস্কৃতির উপর আঘাত।

গত কয়েক বছরে জঙ্গলমহলে একের পর এক বিলাসবহুল রিসর্ট গড়ে উঠছে। শহুরে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য কাটা হচ্ছে শালজঙ্গল, দখল হচ্ছে হাতির চলাচলের পথ। জঙ্গলের ভেতরে তৈরি হচ্ছে “প্রাইভেট প্রপার্টি”, চারপাশে টানা হচ্ছে বৈদ্যুতিক তার ও কাঁটাতারের বেড়া। যে পথ দিয়ে একসময় হাতির পাল নিশ্চিন্তে চলাফেরা করত, আজ সেই পথেই মৃত্যু ফাঁদ পাতা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় কথা, হাতি কোনোদিন মানুষের এলাকায় ঢোকেনি — মানুষই হাতির এলাকায় ঢুকেছে। জঙ্গল কেটে, ব্যবসার লোভে রিসর্ট বানিয়ে, প্রকৃতিকে পণ্য বানিয়ে আজ তারাই আবার হাতিকে “সমস্যা” বলে দাগিয়ে দিচ্ছে। অথচ জঙ্গলমহলের আদিবাসী মানুষ কখনও জঙ্গলকে মুনাফার জায়গা হিসেবে দেখেনি। তাদের কাছে জঙ্গল মানে জীবন, সংস্কৃতি, সম্পর্ক।

আজ উন্নয়নের নামে যে মডেল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা আসলে লুটের মডেল। বনাধিকার আইন, আদিবাসীদের অধিকার, বন্যপ্রাণী সুরক্ষার কথা সবই কাগজে রয়ে যাচ্ছে। বাস্তবে জঙ্গল খুলে দেওয়া হচ্ছে বাইরের ব্যবসায়ীদের জন্য। ফল একটাই — হাতি মরছে, মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছে, আর জঙ্গল ধ্বংস হচ্ছে।

জঙ্গলমহলের লড়াই তাই এখন শুধু পরিবেশের লড়াই নয়, অস্তিত্বের লড়াই। এই লড়াই জঙ্গলকে বাঁচানোর, হাতিকে বাঁচানোর, স্থানীয় মানুষের অধিকার বাঁচানোর। যতদিন না এই শোষণ বন্ধ হবে, যতদিন না জঙ্গলমহলের মানুষ নিজের জমি ও জঙ্গলের উপর প্রকৃত অধিকার ফিরে পাবে, ততদিন এই মৃত্যু থামবে না।

কারণ এই হত্যা শুধু একটি হাতির নয় — এটা জঙ্গলমহলের আত্মার উপর আঘাত। এখন সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার, প্রতিবাদ গড়ার, এবং জঙ্গলকে আবার জঙ্গলের মানুষের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার।

19/05/2026

ফরিদুল ইসলামকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে !!

16/05/2026
15/05/2026

অবিলম্বে বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করতে হবে !!

15/05/2026

ভারতের অর্থনৈতিক সংকট এবং মেহনতি জনগণ : কিছু বাস্তব খন্ডচিত্র

সরকার জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৪% বা ৮.২% বলে দাবি করলেও, বিশেষজ্ঞরা একে একটা পরিসংখ্যানগত কারসাজি বা ‘জুমলা’ বলছেন। এই জিডিপি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে যে অনেক প্রশ্নচিহ্ন আছে সেটা নিয়ে আমরা অতীতেও বিশদে আলোচনা করেছি। বরং ভারতের অর্থনীতিতে যেসমস্ত চিহ্ন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তার থেকে এইটা স্পষ্ট যে আমাদের দেশ একটা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাই জিডিপি নিয়ে নাচানাচি না করে এই লেখায় আমরা দেখে নেব ভারতীয় অর্থনীতির আসল ছবিটা ঠিক কীরকম, এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কীভাবে এই অর্থনীতিতে দিন কাটাচ্ছেন।

শ্রিঙ্কিং মিড্‌ল ক্লাস

জনগণের খরচের হিসেব এবং বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য কীরকম বিক্রি হচ্ছে সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে কয়েকটা গবেষণা বলছে, ভারতের শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণী আসলে “শ্রিঙ্ক” করছে, অর্থাৎ সঙ্কুচিত হচ্ছে। এর মানে হল এই শ্রেণীর একটা ছোট অংশ উপরের দিকে উঠলেও, বেশিরভাগ অংশটাই নিচের দিকে, অর্থাৎ প্রায় নিম্ন-মধ্য বা নিম্নবিত্তের জীবনযাত্রায় নেমে যেতে বাধ্য হয়েছে। নেস্ট্‌লে, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ইত্যাদি বড় বড় কোম্পানির সিইও-রা পর্যন্ত আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে বড় বড় শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জনগণ এখন কম বেতন, ঋণ নেওয়া, চড়া সুদে ঋণ মেটানো ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যায় জরাজীর্ণ। কিছু প্রতিবেদন বলছে, বাস্তবে ভারতে গত পাঁচ বছরে বেতন বৃদ্ধির হার মাত্র ০.০১%; যার ফলে শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রময়ক্ষমতা কমছে, তারা বেহিসেবী খরচ কমিয়েছে, এবং ফলস্বরূপ এইসমস্ত এফএমজিসি (ফাস্ট মুভিং কনসিউমার গুড্‌স) কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ধাক্কা খাচ্ছে।

‘স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’-র একটা সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে যে গত দশকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর গড় আয় যে হারে বেড়েছে তার থেকে নিত্যনৈমিত্তিক জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির হার বেশি। হিসেবমতো একজন ব্যক্তি, যিনি ২০১৩-১৪ সালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা আয় করতেন, তাঁকে ২০২৩-২৪ সালে এসে ৮.৬ লক্ষ টাকা আয় করতে হতো। স্বাভাবিকভাবেই, বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি। এদিকে খাদ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ আরও বেশি – প্রায় ১০.৮৭%। অতএব, মধ্যবিত্ত জনতার ক্রময়ক্ষমতা কমতে বাধ্য।

সরকারের ধামাধারিদের চোখে অবশ্য এগুলো ধরা পড়বে না। তাঁরা বলবেন জনগণ এখন দুই-চাকার মোটরবাইক ছেড়ে, সরাসরি এসইউভি গাড়ি কিনছে! তাঁদের এই আজগুবি কথার উত্তর অবশ্য মারুতি কোম্পানির চেয়ারম্যান নিজেই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এসইউভি বিক্রি বেশি হওয়ার পিছনে কারণ হলো যারা বড়লোক, তারা আরও বড়লোক হয়েছে। সত্যিটা হলো, মধ্যবিত্ত শ্রেণী ধুঁকছে।

ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি

‘রিজার্ভ ব্যাবক অফ ইন্ডিয়া’-র গত বছরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী পারিবারিক ঋণের পরিমাণ ২০২৩-এর মাথাপিছু ৩.৯ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪.৮ লক্ষ টাকাতে, অর্থাৎ ২৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। চিন্তার ব্যাপার হল এই ঋণের একটা বড় অংশ (৫৫%, মার্চ ২০২৫) বাড়ি তৈরি বা বাড়ির ইএমআই সংক্রান্ত নয়, পড়াশোনা বা ছোট ব্যবসার জন্য নয়; বরং দৈনন্দিন খুচরো খরচে এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার জন্য। ক্রেডিট কার্ড কেন্দ্রিক ঋণের পরিমাণ বিরাট পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৩ বছরে ক্রেডিট কার্ড মারফৎ করা খরচের পরিমাণ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে; ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ গুণ। পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে ঋণখেলাপীর পরিমাণও।

একদিকে মূল্যবৃদ্ধি এবং অন্যদিকে সেই অনুপাতে আয় না বাড়া ও ঋণের বোঝা – এই দুইয়ের মাঝে পরিবারের মোট সঞ্চয় কমতে কমতে এসে যেখানে দাঁড়িয়েছে সেটা গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সঞ্চয় হবে কীভাবে, যদি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বেতনের ৩৩%-ই চলে যায় ইএমআই দিতে; বাড়িভাড়া, খাওয়া-খরচ ইত্যাদি শুরু হওয়ার আগেই। গ্রামের ক্ষেত্রেও ছবিটা আলাদা কিছু নয়। সেখানে ঋণের কারণটা দৈনন্দিন খুচরো খরচের বদলে মূলত কৃষি-ঋণ, এবং মাধ্যমটা ডিজিটালের বদলে মহাজনের উপর নির্ভরতা। এই প্রবণতাগুলোই বুঝিয়ে দেয় যে দেশের সার্বিক অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। আর এই ঋণ-চক্র থেকে উদ্ধার পাওয়ার কোনও রাস্তা তো সরকার দেখাচ্ছেই না, বদলে স্টক মার্কেটে অনিয়ন্ত্রিত ও অযৌক্তিক লগ্নি করতে উৎসাহ দিচ্ছে, এবং আরও ভয়ঙ্কর, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তথাকথিত সেলিব্রিটিদের সামনে রেখে নানান রকমের অনলাইন জুয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে।

গত তিন দশকে নয়া-উদারনৈতিক অর্থনৈতিক মডেল যে অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে তা একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই বোঝা যায়। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে উস্কে দিয়ে এফএমজিসি, অটোমোবাইল, ও রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রগুলো ভেবেছিল যে কয়েক বছরের মধ্যেই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সংখ্যা ৪৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তথ্য বলছে যে সংখ্যাটা টেনেটুনে হয়েছে এর পাঁচ ভাগের এক ভাগে, যাদের মাসিক আয় ২৫,০০০-৫০,০০০ টাকার মধ্যে। কোভিড লকডাউনের পর এটারও তিন ভাগের এক ভাগ ধসে গিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৬০ লক্ষে। জনগণের স্বার্থে কিছু করার সদিচ্ছা থাকলে অনেক কিছুই করা যেত, যেমন – উপযুক্ত বেতনসহ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, মূল্যবৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা করা, ছোট ব্যবসাগুলোকে সরকারি সাহায্য দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু আমরা দেখেছি সরকার উল্টে জিএসটি চালু করে ছোট ব্যবসার মেরুদণ্ড ভেঙ্গেছে, চাকরি চাইতে গেলে পুলিস লেলিয়ে লাঠিপেটা করিয়েছে। তাই মাঝে মাঝে বাজেটে কর-ছাড় দিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্ষতবিক্ষত শরীরে ব্যান্ডেজ লাগানোর চেষ্টা সরকারকে করতে হয়; যেটুকু না করলে এই ব্যবস্থাটা তাসের ঘরের মতো ধসে পড়বে মুহুর্তে।

বৈষম্যের বাস্তব, বাস্তবের বৈষম্য

‘ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ডেটাবেস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালে ভারতের মোট সম্পদের প্রায় ১১.৪% ছিল নিচের ৫০% মানুষের হাতে; ২০২৩ সালে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসে ৬.৫%-তে দাঁড়িয়েছে (বর্তমানে ৬.৪%)। ওই একই সময়কালে, শীর্ষস্থ ১০% মানুষের সম্পদ ৪৪.৯% থেকে বেড়ে ৬৪.৬%-তে (বর্তমানে ৬৫%) এবং উপরের ০.১% জনগণের সম্পদ মাত্র ৩.২% থেকে এক বিশাল লাফ মেরে ২৯%-তে পৌঁছেছে। সম্পদের যে অংশটি হাতছাড়া হয়েছে, তার সিংহভাগই এসেছে মাঝের ৪০% গোষ্ঠীর মানুষের কাছ থেকে, যাদের সম্পদের পরিমাণ ৪৩.৭% থেকে কমে ২৯%-তে নেমে এসেছে। বর্তমানে আয়ের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেও দেখা যাবে, শীর্ষস্থানীয় ১০% বড়লোক দখল করে আছে মোট জাতীয় আয়ের ৫৭.৭%, আর সর্বনিম্ন ৫০% জনগণের গড় আয় মোটের ১৫%।

এইসব তথ্যের দিকে ভালো করে তাকালে এটা দেখা যায় যে বড়লোক-গরীবদের মধ্যে বৈষম্য স্বাধীনতার পর থেকে মোটের উপর একই রকম ছিল, বা বলা চলে অত্যন্ত ধীরগতিতে হলেও কমছিল। অর্থনৈতিক বৈষম্য ক্রমাগত বাড়তে থাকার এই প্রবণতাটা শুরু হয়েছে সেই ১৯৮০-র দশক থেকে। তারপর ১৯৯০-এর দশকের শুরুতেই নয়া-উদারনৈতিক অর্থনৈতিক মডেলকে অনুসরণ করার পর থেকে যত দিন গেছে, গরীবরা আরই গরীব হয়েছে, বড়লোকেরা আরই বড়লোক হয়েছে, এবং তাদের মধ্যেও যারা বেশি বড়লোক তাদের সম্পদের পরিমাণ, আয়ের পরিমাণ বাকি বড়লোকেদের থেকে বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটা রকেটের গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ছবিটা আরও পরিষ্কার হয় বিভিন্ন স্তরের দেশবাসীর ২০২২-২৩ সালের বার্ষিক আয়ের তারতম্যের দিকে তাকালে। দেশবাসীর নিচের ৫০%, মাঝের ৪০%, উপরের ১০%, শীর্ষস্থ ১%, শীর্ষস্থ ০.১%, শীর্ষস্থ ০.০১%, শীর্ষস্থ ০.০০১%-র ২০২২-২৩ সালের বার্ষিক গড় উপার্জন ছিল যথাক্রমে ৭১ হাজার ১৬৩, ১.৬৫ লক্ষ, ১৩.৫৩ লক্ষs, ৫৩ লক্ষ, ২.২৫ কোটি, ১০.১৮ কোটি, এবং ৪৮.৫২ কোটি! এককথায় এর মানে দাঁড়ায়, ভারতের শীর্ষস্থ ১ শতাংশ মানুষের আয় নিচের ৫০ শতাংশ মানুষের আয়ের চেয়ে ৭৫ গুণ এবং সম্পদ ৩১৩ গুণ বেশি। অর্থনৈতিক বৈষম্যের নিরিখে আজকে দেশের সার্বিক অবস্থা ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের তুলনাতেও খারাপ। আর এই বাস্তবতাকেই ‘জিডিপি’-র ঢক্কানিনাদ দিয়ে আড়াল করতে চায় শাসক শ্রেণী।

নেপোয় মারে দই

কিন্তু গরীব-মধ্যবিত্তদের পকেট থেকে এই টাকা তাহলে যাচ্ছে কোথায়? উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’-র প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর ভিরাল আচার্য-র কথাতেই। ২০২৩ সালে তিনি লেখেন যে ভারতের ‘বিগ-৫’ বা শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি শিল্পগোষ্ঠী—রিলায়েন্স, টাটা, আদানি, আদিত্য বিড়লা এবং ভারতী টেলিকম—এর প্রভাব ক্রমশ বেড়ে চলেছে; ‘নন-ফিনান্সিয়াল’ ক্ষেত্রগুলোতে তাদের মোট সম্পদের অংশ ১৯৯১ সালের ১০% থেকে বেড়ে ২০২১ সালে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর এই একত্রীকরণ বা আধিপত্যের বিস্তার ঘটেছে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাগুলোর ক্ষতির বিনিময়ে।

২০১৯ সালে ভারত সরকার কর্পোরেট করের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। সরকারের তরফে যুক্তি দেওয়া হয় এর মাধ্যমে নাকি কর্মসংস্থান হবে, আয়ের বৃদ্ধি ঘটবে! যার একটাও হয়নি, হওয়ার কথাও নয়। বরং এর ফলে যেটা হয়েছে সেটা হল – ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত আয়কর থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব কর্পোরেট কর রাজস্বকে ছাড়িয়ে গেছে; ২০২০-২১ অর্থবছরের ২.৫ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে কর্পোরেট মুনাফা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭.১ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে; এবং কর্পোরেট মুনাফা ও জিডিপি-র অনুপাত ২০২৪ সালে গত ১৫ বছরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ‘রাইট-অফ’-এর অব্যাহত প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৬.১৫ লক্ষ কোটি টাকা কর্পোরেট ঋণ মকুব করা হয়েছে।

তাই যখনই কর্পোরেট কর বাড়ানোর প্রশ্নটা ওঠে শাসক শ্রেণীর নেতামন্ত্রীরা দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে ওঠেন। যেমন, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে নির্মলা সীথারমন বলেন যে – ‘সম্পদ সৃষ্টিকারী’দের যদি এই কারণে শাস্তি দেওয়া হয় যে তাদের হাতে কিছু অর্থ সঞ্চিত রয়েছে, তবে গত দশ বছরে ভারতের যে ‘অগ্রগতি’ হয়েছে তার গোটাটাই নাকি নস্যাৎ হয়ে যাবে! বোঝাই যায় আসলে কাদের অগ্রগতির কথা সরকার ভাবছে!

সম্পদ কারা তৈরি করে?

নির্মলা সীথারমন-এর কাছে ‘সম্পদ সৃষ্টিকারী’র সংজ্ঞা অন্যরকম হতে পারে, কিন্তু সমাজের আসল সম্পদ যারা সৃষ্টি করে সেই মেহনতি মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করছেন তার খবর কি তিনি রাখেন? ২০১৯-২০২৪ সালের মধ্যে গ্রামীণ মজুরি নামমাত্র হিসেবে বার্ষিক ৫.২% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে; যেটাকে মুদ্রাস্ফীতির সাথে সমন্বয় করলে দেখা যায় যে প্রকৃতপক্ষে বৃদ্ধির হার হল বার্ষিক -০.৪%, অর্থাৎ বৃদ্ধি তো হয়ইনি, বরং ‘জিডিপি’ বৃদ্ধি নিয়ে ভূতের নেত্যর মাঝে মেহনতি জনগণের মজুরি ধারাবাহিক ভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল–জুন কোয়ার্টারে গ্রামাঞ্চলের অস্থায়ী (ক্যাসুয়াল) শ্রমিকদের গড় দৈনিক মজুরি ছিল প্রায় ৪১৭ টাকা (পুরুষ ৪৪৪, নারী ২৯৯), আর শহুরে অস্থায়ী শ্রমিকদের ৫১৬ টাকা (পুরুষ ৫৩৭, নারী ৩৬৪); যেখানে এই টাকার বড় অংশই খাবার, ভাড়া, যাতায়াতে চলে যায়। এই সামান্য টাকায় তাদেরকে দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হয়। কাজের অস্বাস্থ্যকর ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৮,০০০ শ্রমিক প্রাণ হারান, যে সংখ্যাটা বিশ্বে সর্বোচ্চ।

ভারতের অসংগঠিত ক্ষেত্রটা হল ভারতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড, যেখানে দেশের মোট কর্মীবাহিনীর ৯০%-ই যুক্ত আছেন। জিডিপি-র প্রায় ৫০% সম্পদ তারা সৃষ্টি করেন যেটা নির্মলা সীথারমন-দের চোখে পড়ে না। অসংগঠিত ক্ষেত্রের এই শ্রমিকদের মধ্যে মাত্র ১০%-ই মাসে ১০,০০০ টাকার বেশি আয় করতে পারেন, এবং ২০%-এরও কম শ্রমিকদের কাছে পেনশন, স্বাস্থ্য বীমা, মাতৃকালীন সুবিধা, বা আইনি সুরক্ষার রক্ষাকবচ আছে। ভারতে পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি, যাদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা তো নেই-ই, সেটা ছাড়াও এখন তাদেরকে দ্বিমুখী সামাজিক আক্রমণ সামলাতে হচ্ছে। একদিকে যেমন ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে জাত-ধর্ম এমনকি ভাষাভিত্তিক পরিচয়ে তাদেরকে ব্রাহ্মণ্যবাদী আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে SIR-এর মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব হরণ করে নেওয়ার চেষ্টাও চলছে, যাতে তাদের নাগরিক অধিকারের বিষয়টাই না থাকে।

এসবের সাথে যুক্ত হয়েছে শ্রমিকদের সম্পূর্ণরূপে ক্রীতদাসে পরিণত করার নীল নকশা – লেবার কোড। এই কোডের মাধ্যমে শিল্প মালিকদের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে; ১২ ঘণ্টার কাজের দানবীয় নীতিকে আইনসম্মত করা হচ্ছে; শ্রমিকদের ধর্মঘট করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। শহুরে এলাকায় গিগ শ্রমিকদের দুর্দশার ছবিও প্রতিনিয়ত সামনে আসছে। চাকরি নেই, তাই শিক্ষিত যুব সম্প্রদায় সাইকেল/বাইক নিয়ে এই ‘গিগ’ শ্রমকেই নিজেদের পূর্ণ সময়ের কর্মসংস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাদেরকে তো আবার ‘কর্মী’ হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না, যাতে তাদের ওপর শ্রম আইনগুলোই প্রয়োগ করা না যায়। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় কাজ, দুর্ঘটনার সম্ভাবনা—এসব সত্ত্বেও তাদের কোনো ন্যূনতম সুরক্ষা নেই। নির্মলা যাদের ‘সম্পদ সৃষ্টিকারী’ বলে মনে করেন, তাদের সম্পদ সৃষ্টি করার জন্য দশ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি করতে গিয়ে রাস্তায় প্রাণ হারাচ্ছে এই গিগ কর্মীরা। দুর্ঘটনা নয়; বরং এগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক খুন বলাই ভালো।

উপসংহার

সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাবলীর দিকে তাকিয়ে এই আশা করাই যায় যে ‘জিডিপি’ ও ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’ নিয়ে সরকারি প্রচারের ফানুসকে মেহনতি জনগণ খুব শীঘ্রই ফাটিয়ে দেবে। গত বছর ২৫ ও ৩১ ডিসেম্বর ধর্মঘট করে গিগ কর্মীরা নিজেদের শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে। ডেলিভারি থমকে গিয়েছিল অনেক শহরে। তাদের শক্তি ক্রমশ আরও সংগঠিত হচ্ছে। এছাড়া, লেবার কোড প্রত্যাহার, বেসরকারিকরণের বিরোধিতা, ন্যূনতম মহুরি বৃদ্ধি ইত্যাদি বিভিন্ন ন্যায্য দাবিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘ভারত বন্ধ’ ছিল দেশব্যাপী শ্রমিকদের একটা সফল ধর্মঘট, যেখানে সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্র মিলিয়ে প্রায় প্রায় ৩০ কোটি মেহনতি জনগণ অংশ নিয়েছিল। এর পরেও নয়ডা-র সাফাই কর্মীদের ধর্মঘট, পানিপাত-এ রিফাইনারি শ্রমিকদের বিক্ষোভ, এবং সিঙ্গরৌলি-তে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টে শ্রমিকদের বিক্ষোভ – এগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে ‘জিডিপি’-র জুমলা দিয়ে বেশিদিন মেহনতি জনগণকে ভুলিয়ে রাখা যাবে না। যারা প্রকৃতই সম্পদ সৃষ্টি করে, তারা নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিতেও জানে।

#জিডিপির_জুমলা

13/05/2026

আজকের ভারতে সত্যি কথা বলা ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আপনি যদি সাংবাদিক হন, তাহলে আরও বেশি। সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললে, আদিবাসীদের জমি লুট নিয়ে লিখলে, কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বললে বা কর্পোরেট-রাষ্ট্র যোগসাজশ নিয়ে রিপোর্ট করলে খুব সহজেই আপনাকে “রাষ্ট্রবিরোধী” বা “দেশের শত্রু” বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের World Press Freedom Day-তে প্রকাশিত Free Speech Collective-এর রিপোর্ট “Press Freedom in India: Caged Voices, Silenced Truths” সেই ভয়ঙ্কর বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। NewsClick-এ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কীভাবে গত কয়েক বছরে স্বাধীন সাংবাদিকদের ওপর রেইড, গ্রেফতার, নজরদারি আর UAPA-র মতো কঠোর আইনের ব্যবহার ভয়ঙ্করভাবে বেড়েছে।

RSF-এর ২০২৬ World Press Freedom Index-এ ভারত ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫৭তম স্থানে নেমে গেছে, যেখানে গত বছর অবস্থান ছিল ১৫১তম। “বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র” বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে সাংবাদিকদের জন্য পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে ভারত এখন “Very Serious” ক্যাটাগরিতে। কারণ একদিকে গোদি মিডিয়া সরকারের প্রচারযন্ত্রে পরিণত হচ্ছে, অন্যদিকে যারা সত্যি প্রশ্ন করছে, তাদের চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র হয়ে উঠেছে UAPA। এই আইনে অভিযোগ হলেই বছরের পর বছর জেলে রাখা যায়, জামিন পাওয়া প্রায় অসম্ভব। Conviction rate খুব কম হলেও উদ্দেশ্য সাজা দেওয়া নয় — উদ্দেশ্য হলো ভয় দেখানো, ভেঙে দেওয়া, যাতে আর কেউ সত্যি কথা বলার সাহস না পায়।

ঝাড়খণ্ডের সাংবাদিক রূপেশ কুমার সিংহ আদিবাসী এলাকায় রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, জমি দখল ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে রিপোর্ট করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি জেলে। তাঁর স্ত্রী লিখেছেন, কীভাবে বারবার জেল বদল, চিকিৎসার অভাব, হাই-সিকিউরিটি সেলে বন্দিত্ব আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দিয়ে একজন মানুষকে ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়া হয়। একইভাবে কাশ্মীরি সাংবাদিক ইরফান মেহরাজ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে কাজ করতেন। ২০২৩ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, তারপর থেকে এখনও বিচারহীন বন্দিত্বে। পরিবার থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে, কাচের ওপারে কয়েক মিনিটের সাক্ষাৎ — এটাও এক ধরনের শাস্তি।

এগুলো আলাদা ঘটনা নয়। NewsClick-এর বিরুদ্ধে রেইড, স্বাধীন মিডিয়ার ওপর চাপ, সাংবাদিকদের “দেশবিরোধী” তকমা দেওয়া — সব মিলিয়ে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে মানুষ সত্যি বলার আগেই ভয় পায়। আর যখন সাংবাদিক ভয় পায়, তখন সাধারণ মানুষও অন্ধকারে ঢুকে পড়ে। কারণ তখন আর কেউ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে না। গণতন্ত্র শুধু ভোট নয়। গণতন্ত্র মানে প্রশ্ন করার অধিকার, সত্য বলার স্বাধীনতা। আর সেই জায়গাটাকেই আজ সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করা হচ্ছে। খাঁচায় কণ্ঠস্বরকে বন্দি রাখা যায়, কিন্তু চিরকাল চুপ করিয়ে রাখা যায় না।








12/05/2026

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশের লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়ে বছরের পর বছর পরিশ্রম করে। কেউ রাত জেগে পড়ে, কেউ সংসারের কষ্ট সামলে কোচিং করে, কেউ বাবা-মায়ের শেষ সঞ্চয়টুকু খরচ করে একটা সুযোগের আশায় এগোয়। NEET শুধু একটা পরীক্ষা নয় — এটা কোটি পরিবারের স্বপ্ন, সম্মান আর ভবিষ্যতের লড়াই।

কিন্তু বারবার সেই স্বপ্নটাই ভেঙে দিচ্ছে এই ব্যবস্থা।

প্রতি বছর NTA আর কেন্দ্রীয় সরকার বড় বড় কথা বলে — AI নজরদারি, বায়োমেট্রিক, GPS tracking, CCTV, digital security। কিন্তু বাস্তবে কী হচ্ছে? আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস, আবারও টাকার খেলা, আবারও মাফিয়া চক্র। ২০২৪ সালের ভয়ঙ্কর কেলেঙ্কারির পরও কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালেও একই ঘটনা সামনে এল।

৩ মে ২০২৬-এ পরীক্ষা হওয়ার পর রাজস্থানের SOG তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সিকারকে কেন্দ্র করে একটা handwritten “guess paper” ঘুরছিল। সেখানে প্রায় ৪১০টা প্রশ্ন ছিল, যার মধ্যে ১২০-১৫০টা প্রশ্ন সরাসরি মিলে গেছে — প্রায় ৬০০ নম্বরের সমান। এই প্রশ্নব্যাংক ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। শুধু রাজস্থান নয়, কেরালা, দেহরাদুন, ঝুনঝুনু — একাধিক জায়গায় এই চক্র ছড়িয়ে ছিল। ইতিমধ্যেই ১৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে, যার মধ্যে কোচিং কাউন্সেলর, মধ্যস্থতাকারী, PG অপারেটর এমনকি কেরালায় পড়া চুরু জেলার এক MBBS ছাত্রও রয়েছে।

আর ২০২৪ সালের ঘটনা তো এখনো মানুষের মাথা থেকে মুছে যায়নি। বিহারের পাটনা থেকে শুরু করে হাজারিবাগের স্কুল স্ট্রংরুম থেকে প্রশ্নপত্র বের করে solver gang-এর কাছে পাঠানো হয়েছিল। CBI তদন্তে উঠে আসে অন্তত ১৫৫ জন পরীক্ষার্থী সরাসরি সুবিধা পেয়েছিল। তারপর আসে grace marks কেলেঙ্কারি — ১৫৬৩ জন ছাত্রকে অস্বাভাবিক grace marks দেওয়া হয়। ফলে ৭২০-এ পূর্ণ নম্বর পাওয়া ছাত্রের সংখ্যা আচমকা ৬৭ জনে পৌঁছে যায়। দেশজুড়ে আন্দোলন হয়, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা যায়, re-test হয়। কিন্তু আসল চক্র? তারা আজও অধরা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো — NTA তো সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে। তাহলে এত বড় বড় দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস, grace marks কেলেঙ্কারি বছরের পর বছর চলতে থাকলেও দায় নেবে কে? শুধু কয়েকজন ছোট এজেন্ট বা দালালকে গ্রেপ্তার করলেই কি বিজেপি সরকারের দায়িত্ব শেষ?

যদি একটা সংস্থা বারবার একইভাবে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার রাজনৈতিক দায় কি কেন্দ্রীয় সরকার এড়িয়ে যেতে পারে?

এত “ডিজিটাল ইন্ডিয়া”, এত নিরাপত্তা, এত প্রচার — তারপরও প্রশ্ন বাইরে বেরিয়ে যায় কীভাবে? কারা এই মাফিয়াদের ছত্রছায়া দিচ্ছে? কেন প্রতি বছর একই নাটক দেখতে হচ্ছে? সবকিছুর শেষে শুধু “তদন্ত চলছে” বললেই কি দায় শেষ?

আজ শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে টাকার জোরে মেধাকে হারিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোচিং মাফিয়া, প্রশ্নফাঁস চক্র আর প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা একসঙ্গে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে। যারা সত্যি সত্যি পরিশ্রম করে পরীক্ষা দেয়, তাদের সঙ্গে এটা সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।

বিজেপি সরকার সবকিছুতেই “নতুন ভারত”-এর প্রচার করে, কিন্তু বাস্তবে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্পোরেট, কোচিং মাফিয়া আর দুর্নীতির চক্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ছাত্রদের পরিশ্রমের কোনো মূল্য নেই, যদি টাকার জোরে প্রশ্ন কেনা যায়।

ছোটখাটো এজেন্টদের ধরে ছবি তোলা সহজ। কিন্তু যারা এই পুরো চক্র চালায়, যারা ক্ষমতার আড়ালে থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা হবে?

ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রহসন আর চলতে পারে না।
শিক্ষাকে মাফিয়া, দুর্নীতি আর রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে মুক্ত করতেই হবে।
মেধার সঙ্গে এই অন্যায় বন্ধ হোক।

11/05/2026

মহারাষ্ট্রের কৃষক রাজেন্দ্র ভোসলে তাঁর পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন মাত্র ৫০ পয়সা কেজি দরে। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন — ৫০ পয়সা। নাশিক জেলার সটানা APMC বাজারে তিনি প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন মাত্র ৫০ টাকায়। শুধু সটানা নয়, লাসালগাঁও, দিণ্ডোরি, ইয়েওলা, নান্দগাঁও, আহমেদনগর — মহারাষ্ট্রের একের পর এক পেঁয়াজ বাজারে একই ছবি। কোথাও ১ টাকা কেজি, কোথাও ২ টাকা, কোথাও ৩ টাকা। অনেক কৃষক ট্রাকভাড়া পর্যন্ত তুলতে পারছেন না। কেউ কেউ বাজার থেকে পেঁয়াজ ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, কারণ বিক্রি করলে লোকসান আরও বেশি।
একবার ভাবুন — যে পেঁয়াজ ফলাতে একজন কৃষকের প্রতি কুইন্টালে প্রায় ১৫০০-২৫০০ টাকা খরচ হয়, সেই পেঁয়াজ যদি ৫০-১০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়, তাহলে সেটা ব্যবসা নয়, সরাসরি ধ্বংস। আর সবচেয়ে বড় কথা — শহরে আমরা যে পেঁয়াজ ৩০-৪০-৫০ টাকা কেজি দরে কিনি, সেই পেঁয়াজই কৃষকের কাছ থেকে ৫০ পয়সা বা ১ টাকায় তুলে নেওয়া হচ্ছে। তাহলে লাভটা কার?
মহারাষ্ট্র ভারতের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ উৎপাদক রাজ্য। দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই রাজ্য থেকে। নাশিক জেলার লাসালগাঁও এশিয়ার অন্যতম বড় পেঁয়াজ বাজার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সবচেয়ে বড় উৎপাদক রাজ্যের কৃষকরাই আজ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দামের ধসের শিকার। কারণ ভারতের কৃষি বাজার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কৃষক শুধু উৎপাদন করবে — কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে আড়তদার, পাইকার, বড় ব্যবসায়ী আর স্টকিস্টরা।
চাষি মাঠে পেঁয়াজ ফলায়। বীজ কেনে। সার কেনে। কীটনাশক কেনে। সেচ দেয়। শ্রমিক লাগায়। ঋণ নেয়। তারপর ট্রাকভাড়া করে বাজারে আসে। কিন্তু বাজারে গিয়ে নিজের ফসলের দাম ঠিক করার কোনো ক্ষমতাই তার নেই। যখন উৎপাদন বেশি হয়, তখন ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করে দাম নামিয়ে দেয়। কারণ তারা জানে ছোট কৃষকের কাছে কোল্ড স্টোরেজ নেই। কয়েকদিনের বেশি সে পেঁয়াজ মজুত করে রাখতে পারবে না। ঋণের চাপ, সংসারের খরচ, বাজারের ফি, ট্রাকভাড়া — সব মিলিয়ে তাকে বাধ্য হয়েই কম দামে বিক্রি করতে হয়।
তারপর সেই একই পেঁয়াজ বড় গুদামে মজুত হয়। কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পরে বাজারে আবার “সংকট” তৈরি হয়। তখন শহরের মানুষ ৩০-৪০-৫০ টাকা কেজিতে সেই পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ — লোকসান কৃষকের, লাভ দালাল আর বড় ব্যবসায়ীর।
এই কারণেই গত কয়েকদিন ধরে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভে নেমেছেন। নাশিক, লাসালগাঁও, সটানা, আহমেদনগর-সহ একাধিক জায়গায় কৃষকরা রাস্তার উপর পেঁয়াজ ফেলে প্রতিবাদ করেছেন। কোথাও বাজার বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও APMC অফিস ঘেরাও হয়েছে। অনেক কৃষক বলেছেন, “এই দামে বিক্রি করার চেয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া ভালো।”
তাদের মূল দাবি — পেঁয়াজের জন্য গ্যারান্টিযুক্ত ন্যূনতম দাম নিশ্চিত করতে হবে, সরকারকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনতে হবে, কোল্ড স্টোরেজ ও গুদামের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে এবং রপ্তানি নীতির নামে বারবার কৃষকদের ক্ষতি করা বন্ধ করতে হবে। কারণ আজ ভারতের বাস্তবতা হলো — পেঁয়াজের দাম বাড়লেও কৃষক মরে, দাম কমলেও কৃষক মরে।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, এই ব্যবস্থায় শুধু কৃষক নয়, সাধারণ মানুষও শেষ পর্যন্ত ঠকে। একদিকে কৃষক ৫০ পয়সা কেজিতে বিক্রি করছে, অন্যদিকে শহরের মানুষ ৩০-৪০ টাকা কেজিতে কিনছে। মানে উৎপাদক ঠকছে, ক্রেতাও ঠকছে — লাভ করছে শুধু মধ্যস্বত্বভোগী আর কর্পোরেট চক্র।
মহারাষ্ট্রের এই আন্দোলন তাই শুধু পেঁয়াজের দামের লড়াই নয়। এটা এমন এক কৃষি অর্থনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ, যেখানে ফসল ফলায় কৃষক, কিন্তু বাজারের নিয়ন্ত্রণ থাকে অন্য কারও হাতে। ভারতের কৃষি বাজারের আসল ছবিটা এটাই — উৎপাদনকারী সবচেয়ে গরিব, আর বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সবচেয়ে ধনী।


10/05/2026

“বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও” — এই স্লোগান আজ দেশের বহু নারীর কাছে এক নির্মম বিদ্রূপ ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ টিভির বিজ্ঞাপন আর নেতাদের ভাষণের বাইরে বাস্তব ভারতটা সম্পূর্ণ আলাদা। NCRB-এর রিপোর্ট বারবার দেখাচ্ছে, নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ ভয়ঙ্কর হারে বাড়ছে, আর সবচেয়ে বেশি ঘটনা সামনে আসছে বিজেপি ও NDA-শাসিত রাজ্যগুলো থেকেই। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, বিহার — প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, গণহেনস্থা বা নারীর উপর বর্বর আক্রমণের খবর সামনে আসছে। অথচ শাসকদের মুখে শুধু প্রচার, ইভেন্ট আর স্লোগান।

উত্তরপ্রদেশে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু শুধু সংখ্যাই নয়, ঘটনাগুলোর ভয়াবহতা আরও আতঙ্কজনক। মির্জাপুরের মহিলা সাংবাদিক সারিতা প্যাটেলকে অপহরণ করে হাত-পা বেঁধে ঝোপে ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারারও চেষ্টা করা হয়েছিল। একজন মহিলা সাংবাদিক পর্যন্ত নিরাপদ নন—এটাই আজকের বাস্তবতা। অথচ এই সরকারই প্রতিদিন “নারী সুরক্ষা”র গল্প শোনায়।

রাজস্থান আর মধ্যপ্রদেশ বহু বছর ধরেই ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনায় কুখ্যাত। ছোট মেয়ে, আদিবাসী নারী, গরিব পরিবারের মহিলা—কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার তো দূরের কথা, অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবেই তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে একটা ভয়ঙ্কর বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থাকলে অপরাধ করেও পার পাওয়া যায়।

বিহারের ঘটনাগুলো তো আরও ভয়াবহ। নালন্দায় এক মহিলাকে প্রকাশ্যে রাস্তায় টেনে-হিঁচড়ে হেনস্থা করা হলো, জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হলো, পুরো ঘটনা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়া হলো—আর চারপাশের মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল। এ কেমন সমাজ তৈরি হচ্ছে? এ কেমন “নতুন ভারত”, যেখানে একজন নারীকে জনতার সামনে অপমান করা হয় আর মানুষ সেটাকে মোবাইলে ভিডিও করে?

বিহারে সম্প্রতি এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করার পর অমানবিকভাবে আবর্জনা ফেলার জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাগুলো শুধু অপরাধ নয়, এরা দেখিয়ে দেয় নারীদের প্রতি সমাজ আর রাষ্ট্র কতটা নিষ্ঠুর ও উদাসীন হয়ে উঠছে। যখন একজন মেয়ের শরীরকেও এভাবে ফেলে দেওয়া যায়, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না—“নারী নিরাপত্তা”র সরকারি দাবি আর বাস্তবের মধ্যে কত ভয়ঙ্কর দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

আজ দেশের বহু নারী আতঙ্ক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কেউ জানেন না, নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না। অথচ শাসকরা ব্যস্ত নিজেদের প্রচারে। নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড় বড় কথা বলা খুব সহজ, কিন্তু বাস্তব নিরাপত্তা দিতে গেলে প্রশাসনের জবাবদিহি লাগে, দ্রুত বিচার লাগে, অপরাধীদের রাজনৈতিক রক্ষা বন্ধ করতে হয়। সেই ইচ্ছেটাই আজ সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত।

নারী নিরাপত্তা কোনো PR campaign নয়। এটা মানুষের বাঁচার অধিকার। কিন্তু আজ দেশের শাসকরা নিরাপত্তার বদলে শুধু প্রচারের রাজনীতি করছে। একদিকে “নারী শক্তি”র বুলি, অন্যদিকে রাস্তায়, গ্রামে, শহরে প্রতিদিন নারীরা ধর্ষণ, হেনস্থা আর অপমানের শিকার হচ্ছেন। অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ছত্রছায়া পায়, প্রশাসন চুপ থাকে, আর সরকার ব্যস্ত নিজের ভাবমূর্তি বাঁচাতে। যে রাষ্ট্র নিজের মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, নারীদের ভয়মুক্ত জীবন দিতে পারে না, সেই রাষ্ট্রের উন্নয়নের গল্প আসলে ফাঁকা প্রচার ছাড়া কিছুই নয়।


#নারীর_নিরাপত্তা

Want your business to be the top-listed Government Service?

Telephone