Purba Putiary

Purba Putiary

Share

Purba Putiary , at End of South Kolkata in West Bengal

18/12/2024

বাংলাদেশের বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর । আজ কিছু মানুষ ভুলে যাচ্ছেন ভারত না হলে মাত্র নয়মাসে কখনো পাকিস্তানি পরাস্ত করে লাল-সবুজের পতাকা আর পৃথিবীর মানচিত্র বাংলাদেশ নামে একটা দেশ তৈরি হতোনা।
স্বাধীন বাংলাদেশের স্রষ্টা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী, রাষ্ট্রপতি ভিগি গিরি, জাতীয় চারনেতা, ১১ সেক্টর কমান্ডার, ৩০ লক্ষেরও বেশী প্রাণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, ১৭ হাজার ভারতীয় শহীদ মিত্রবাহিনীর সদস্য, অনন্য বিদেশি যোদ্ধা সহ যারা যেভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন সবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে গিয়ে খুব দুঃখ পাচ্ছে মনে মনে।
বাংলাদেশ আজ একটি বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের দখলে। বাংলাদেশ বিজয় পেয়েছিলো ৫৩ বছর আগে, তখন সংখ্যালঘুরা মুক্তি যুদ্ধ অংশ গ্রহণ করেছে। আজো কিন্তু সংখ্যালঘুদের পূর্ণ স্বাধীনতা আসেনি বাংলাদেশ। স্বাধীন দেশের মাটিতে রাজাকারের প্রেতাত্মাদের আস্ফালন দেখে অবাক হই। চারপাশে প্রতিক্রিয়াশীল উগ্রবাদীরা ছড়িয়ে আছে। ওরা সুযোগ পেলে হামলে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের উপর। মুক্তি অর্জিত হলেও রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি এখনো মেলেনি। প্রত্যেক সেক্টরে নানা ধরনের দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্যে অসহনীয় জীবনযাত্রা। সত্যিকারের অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অসহায়। অস্ত্রহাতে, বিভিন্নভাবে যুদ্ধ করলেও এতোগুলো বছর পরেও পাননি স্বীকৃতি, সম্মান। অনেকে আক্ষেপ নিয়ে পরপারে চলে গেছেন। বিশ্বের ঘৃণিত মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ করেও অনেকে ধরা-ছোয়ার বাইরে আছে।
বাংলাদেশর জাতির পিতার লক্ষ্য ছিলো মৌলবাদীদের শেকড় গোড়া থেকে উপড়ে সকল ধর্মাবলম্বীদের মুক্ত বাতাসে বসবাসের উপযুক্ত জায়গা তৈরি করি, ধর্ম-বর্ণ-জাতের ভেদাভেদ ছিন্ন করি, চিৎকার করে সমস্বরে বলে উঠি -
'সবার উপরে মানুষ সত্য, সকলের তরে সকলে আমরা'
তাই বোধহয় তাঁর মূর্তিকে ভেঙে ফেলছে, ছবি সরিয়ে দিতে চাইছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষ গুলো। আজ ভারতে তারা সংখ্যালঘু। তবে হুমকি দিচ্ছে তাঁরা ভারতেও সংখ্যা গরিষ্ঠ হবে। হয়তো ভারত হিন্দু শুন্য হবে আগামী দিনে। আকাশ যে দিকে তাকালাম সবুজ গম্বুজ ভরে যাবে একদিন। কিন্তু সত্যি সবুজ গম্বুজ ভরে গেলেই পেট ভরবে গরীব মানুষের?? বিজয় হোক মানবতার।শোষন মুক্ত সমাজ চাই আমরা। ধর্ম চিরকাল শোষকের অস্ত্র। গরীব মানুষের ঐক্য বদ্ধ হতে পারে না তাদের ব্যাথা নিয়ে। কারণ তারা থেকে যায় হিন্দু, থেকে যায় মুসলমান থেকে যায় বৌদ্ধ হয়ে।
Manab Mondal

30/11/2024

1⃣)হিন্দু কারা👇👇
"হিন্দু" শব্দের উৎপত্তি "হীনম দুষ্যতি ইতি হিন্দু" থেকে হয়েছে, অর্থাৎ যে অজ্ঞানতা ও হীনতাকে ত্যাগ করে, তাকেই হিন্দু বলে, হিন্দু শব্দ হাজার হাজার বছর প্রাচীন, সংস্কৃত শব্দের থেকে এসেছে, যদি এই সংস্কৃত শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ করা হয় তাহলে পাওয়া যাবে,,,,
হীন + দু = হীন ভাবনা + থেকে দূর, অর্থাৎ যে হীন ভাবনার থেকে বা দুর্ভাবনা থেকে দূরে থাকে বা মুক্ত থাকে তাকেই হিন্দু বলে, আমাদের বারবার মিথ্যা বলা হয় যে মুঘলরা হিন্দু শব্দটা দিয়েছে, যেটা "সিন্ধু" থেকে "হিন্দু" হয়েছে, যেটা হিন্দুদের ভুল বোঝানো হয়েছে।

2⃣)👇👇
কোথা থেকে এসেছে এই হিন্দু শব্দ আর কোথার থেকেই উৎপত্তি:-
হিন্দু শব্দ বেদ থেকেই উৎপত্তি হয়েছে, কিছু লোক বলে সিন্ধু শব্দ থেকে হিন্দু শব্দটি এসেছে, আর এটি ফারসি শব্দ, কিন্তু এরকম কিছুই নয়, এটা শুধু মিথ্যা প্রচার, আমাদের বেদ ও পুরাণেও হিন্দু শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়, বিশদে জানা যাক হিন্দু শব্দের উৎপত্তি কোথা থেকে এসেছে, "ঋগ্বেদের বৃহস্পতি অগ্যমে" হিন্দু শব্দের উল্লেখ এইরকম,,,,
"হিমালয়ং সমারম্ভম যাওদ্ ইন্দুসরোবরং তং দেব নির্মিতং দেশং হিন্দুস্তানং প্রচক্ষতে" অর্থাৎ
হিমালয় থেকে ইন্দু সরোবর পর্যন্ত বিস্তৃত দেবনির্মিত দেশকে হিন্দুস্থান বলা হয়, শুধু বেদ নয় শৈব গ্রন্থেও হিন্দু শব্দের উল্লেখ এইরকম করা হয়েছে,,,, হীনম চ হিন্দুরীত্যুচ্চ দুষ্যতেব তে প্রিয়ে, অর্থাৎ যে অজ্ঞানতা ও হীনতাকে ত্যাগ করে তাকেই হিন্দু বলা হয়, এইরকম প্রায় একই কথা "কল্পদ্রুমে" লেখা আছে, হীনম দুষ্যতি ইতি হিন্দু, অর্থাৎ অজ্ঞানতা হীনতা ত্যাগ করা ব্যক্তিকেই হিন্দু বলা হয়,

3⃣)👇👇পারিজাত হরণে হিন্দুকে কিছুটা এইরকম ভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে,,,,
"হিনাস্তি তপসা পাপাং দৈহিকাং দুষ্টং, হেতিভি: শত্রুবর্গ স চ হিন্দুরভিধিয়তে" অর্থাৎ যে নিজের তপস্যার দ্বারা দুষ্ট ও শত্রুর পাপ নাশ করে সেই হলো হিন্দু, মাধব দীগ্বিজয়ে হিন্দু শব্দের ব্যাখ্যা কিছুটা এইরকম উল্লেখ করা হয়েছে,,,,
"ওমকারামন্ত্রমুলাধ্যায়া পুনর্জন্ম দৃঢ়াশ্চয়:, গৌভক্ত ভারত: গরুহিন্দুহিসন দুষক:", অর্থাৎ যে ওমকারকে ঈশ্বরীও শব্দ মানে, কর্মে বিশ্বাস করে, গো-পালক হয়, অশুভ অধর্মকে দূরে রাখে সেই হিন্দু হয়,

4⃣)👇👇শুধু এটাই নয় আমাদের ঋগ্বেদে হিন্দু নামের অনেক পরাক্রমী ও দানবীর রাজার নাম উল্লেখ আছে, যারা 46 হাজার গোমাতা দানে দিয়েছিল, আর "ঋগ্বেদ মন্ডলেও" এর উল্লেখ আছে, অশুভ ও অধর্মকে সর্বদা দূর করার প্রয়াসকারীকে, ও সনাতন ধর্মের পালন পোষণকারীকে হিন্দু বলা হয়,
"হিনস্তু দুরিতাম"
Manab Mondal

Photos from Purba Putiary's post 28/11/2024

বিশ্ববরেণ্য রসায়ন বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বর্তমান খুলনা জেলার পাইকগাছার রাড়ুলী গ্রামের এই জমিদার বাড়িতে জন্মগ্রহন করেছিলেন ১৮৬১ সালের ২রা আগষ্ট।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে আচার্য সম্ভোধন করেন।
পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রবন্ধ নিয়ে চর্চা হয়। মোট গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১৪৫ টি।

১৮৮৭ সালেঅর্জন করেন PHD ও DSC ডিগ্রী।
১৮৮৮ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন।

কলকাতায় বেঙ্গল কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠা করেন ১৯০১ সালে।

১৯০৩ সালে নিজ পিতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণ বাংলায় প্রথম মাধ্যমিক স্কুল আর. কে. বি হরিশ চন্দ্র ইনস্টিটিউট। মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেন যশোর-খুলনার প্রথম " ভুবনমোহিনী বালিকা বিদ্যালয়"।

১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাগেরহাটের পিসি কলেজ।

প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার “মারকিউরাস নাইট্রাইট (Ng N02) ১৮৯৫ সালে।

29/10/2024

চলো কালীঘাট 'চ্যাপ্টা'র জন্য, কে সে?
এক রকম রসগোল্লার নামই "চ্যাপ্টা"!
এই মিষ্টিটা কিন্তু কালিঘাটেই মিলবে!
১৫০ বছরেরও অধিক পুরনো হারান
মাঝির দোকান। হাওড়ার দেউলটির
বাসিন্দা হারান চন্দ্র মাঝি এই দোকান
প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কালীঘাট মন্দিরের
পেছনে। সেই থেকেই এই দোকান চলে
আসছে চার পুরুষ ধরে। এই দোকান
থেকেই কালীঘাটের মায়ের ভোগের
জন্য মিষ্টি যায়!

প্রবাদ আছে, কলকাতায় নাকি খুঁজলে 'বাঘের দুধ'ও মেলে! বড় বিচিত্র এই শহর। এই যেমন ধরুন, রসগোল্লা। নামেই গোল্লা। অর্থাত্‍ গোল। নবীন ময়রার অমর আবিষ্কার। এহেন রসগোল্লা হয়ে গেল চ্যাপ্টা । মুখে দিলেই জিভের পেল্লায় আরাম। ভূমিকা ছেড়ে মোদ্দা কথায় আসি। তো এই চ্যাপ্টা রসগোল্লা কলকাতার (Kolkata Rosogolla) কোথায় মেলে? এর ইতিহাসও বেশ প্রাচীন। তাহলে আসুন চ্যাপ্টা রসগোল্লার অভিযানটা সেরে ফেলা যাক।

কলকাতার কালীঘাট মন্দিরের অদূরেই দেবনারায়ণ লেনে রয়েছে এই দোকান। না, এই দোকানের কোনও পোশাকি নাম নেই, নেই কোনও সাইনবোর্ডও। এই দোকান পরিচিত প্রতিষ্ঠাতার নামেই। সেই কারণেই এটি হারান মাঝির মিষ্টির দোকান বলেই পরিচিত লোকমুখে। স্থানীয়রা অবশ্য হারান ময়রার মিষ্টির দোকান বলেই ডাকে। এই দোকানেই পাওয়া যায় চ্যাপ্টা রসগোল্লা।

আসলে আমরা রসগোল্লা বলতে যেটা বুঝি সেটার আকার আলাদা। সেই মিষ্টির আসল নাম ক্ষীরমোহন, তবে রসগোল্লা যেভাবে তৈরি করা হয় ঠিক সেভাবেই এই মিষ্টি তৈরি হয়। তৈরির পাকে কিছু পার্থক্য থাকলেও রসগোল্লা যেভবে তৈরি করা হয়, ঠিক সেভাবেই ক্ষীরমোহনকে রসে ফোটানো হয়। পার্থক্য বলতে শুধু আকারের। গোল না করে চ্যাপ্টা করা হয়। সেই কারণেই এই মিষ্টি চ্যাপ্টা রসগোল্লা নামেই বিক্রি হয়।

১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো এই হারান মাঝির মিষ্টির দোকান। হাওড়ার দেউলটির বাসিন্দা হারান চন্দ্র মাঝি এই দোকান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কালীঘাট মন্দিরের পেছনে। সেই থেকেই এই দোকান চলে আসছে চার পুরুষ ধরে। বর্তমানে দোকানের হাল ধরেছেন বুবাই মাঝি ও রাজু মাঝি। বুবাই জানালেন যে এই ক্ষীরমোহন বা চ্যাপ্টা রসগোল্লা রোজ ২০০ পিস করে বিক্রি হয়। অনেক দূর থেকে লোকজন এই মিষ্টি কিনতে আসেন। অনেকে আবার এই মিষ্টি দিয়ে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন।

হারান মাঝির দোকানের আরেকটি বিশেষত্ব আছে। এই দোকান থেকেই কালীঘাটের মায়ের ভোগের জন্য় মিষ্টি যায়। অন্য সবকিছুর সঙ্গে এই দোকানের মিষ্টিও মা কালীকে নিবেদন করা হয় সন্ধ্যারতির সময়। বলা হয়, হারান মাঝির দোকানের মিষ্টি খেয়েই মা কালী শয়নে যান। চার পুরুষ ধরে ব্যবসা চললেও এই দোকানের অন্দরসজ্জা পুরনো আমলের। ঝকঝকে তকতকে ব্যাপার নেই। কলকাতার বহু মানুষ তাই এই দোকানের খোঁজ জানেন না। সঙ্গে জানেন না এই দোকানের মাহাত্মের কথাও।
Manab Mondal

08/10/2024

গওহরজান উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদের একটি মিশনারি স্কুলে এক দিন অর্থ সাহায্য করতে এলেন ।গওহরজান যখন স্কুলের প্রবীণ শিক্ষিকার সাথে স্কুল ঘুরে দেখাচ্ছিলেন, হঠাৎই তাঁর ওড়নায় পড়ে টান । তিনি দেখেন, ছোট্ট একটি মেয়ে অবাক হয়ে , তাঁর সেই বহুমূল্য ওড়নাটি। গওহরজান সস্নেহে মেয়েটিকে, নাম জানতে চাইলেন, উত্তর দেওয়ার সময় মেয়েটির কণ্ঠস্বরই গওহারজানকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, মেয়েটি গায়িকা হতে পারেন। তাঁর কথাতেই ছোট্ট বিব্বি তখন গেয়ে উঠেছিল, একটি কলি। অথচ এর আগে বিব্বি কোনোদিন গানই গায়নি। সেই এক কলি গান শুনেই গওহারজান বুঝতে পারেন যে এই মেয়ে এক দিন বড় শিল্পী হবে।

১৯১৪ সালে উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে অভিজাত সৈয়দ পরিবারে জন্ম বিব্বির। পারিবারিক অশান্তিরৎকারণে দুই যমজ সন্তান জোহরা আর বিব্বিকে নিয়ে মুস্তারি বেগম তাঁর স্বামীর সাথে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করতে বাধ্য হন। আর গয়াতে তাঁর এক দূর সম্পর্কের ভাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। বিখ্যাত উস্তাদ জামির খাঁ-র কাছে বিব্বির তালিম নেওয়াও শুরু করেলেন।আর পাটনায় বন্যা দুর্গতদের সাহায্যার্থে একটি বড় সঙ্গীতানুষ্ঠান হলো। সেই অনুষ্ঠানে বিব্বির গান গাওয়ার ব্যবস্থা করা হলো। কিন্তু বেশি সুবিধা হলো না। কিন্তু‘ দিওয়ানা বানানা হ্যায় তো’ গানটি গান রেকর্ড হয়ে বেরোনোর পরে বিব্বিকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র তেরো বছর বয়সে গাওয়া সেই গান তাকে এনে দিয়েছিল ভারতজোড়া খ্যাতি।

এলেন কলকাতায় বিব্বি এরপর । পাতিয়ালার উস্তাদ আতা মহম্মদ খানের কাছে শুরু হল তালিম। প্রথম দিকে আখতারির গান রেকর্ড করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মেগাফোন কোম্পানির কর্ণধার জিতেন্দ্রনাথ ঘোষ। জিতেনবাবুর জহুরির চোখ আখতারিকে চিনতে ভুল করেনি। এরই মধ্যে বিব্বি যোগ দিলেন থিয়েটারে। সেখানেও নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিলেন। এর পরেই সিনেমায় অভিনয় করার জন্য বম্বে থেকে ডাক আসে। এরই পাশাপাশি আসতে থাকে বিভিন্ন রাজপরিবারের সঙ্গীতের মেহফিলে গান গাইবার অনুরোধ। ‘নলদময়ন্তী’ ছায়াছবিতে অভিনয়ের পরে ‘রোটি’ নামক ছায়াছবিতেও তিনি অভিনয় করেন। ছবিতে অভিনয়ের আমন্ত্রণের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। কিন্তু বম্বের জীবনযাত্রা আখতারির একেবারেই পছন্দ ছিলনা। লখনউ তিনি ফিরে এসে তাঁর বাড়িতে প্রতি সন্ধ্যায় বসত গানের মেহফিল শুরু করলেন।
ডাক পড়ল উত্তরপ্রদেশেরই রামপুরের নবাব-দরবারে। নিমন্ত্রণ রাখলেন বিব্বি। কিন্তু, কিছু দিন সেখানে থাকার পর, নবাব আখতারিকে নিকাহ্ করার প্রস্তাব দেওয়া য় । তাই আখতারি বাঈ রামপুর ছেড়ে চলে গেলেন।

গান, মেহফিল মধ্যে দুবে থাকা বিব্বির জীবনে এলেন ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ আব্বাসি। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন আখতারি বাঈ। বিয়ের পর পেলেন শিক্ষিত-সুপুরুষ স্বামীর ভালবাসা, অর্থ, প্রতিপত্তি, হিরে-জহরত সব কিছুই। শুধু জীবন থেকে বিদায় নিল গান! কেননা, বিবাহের ক্ষেত্রে আব্বাসি সাহেবের শর্তই ছিল, বিব্বিকে ত্যাগ করতে হবে তাঁর প্রানপ্রিয় সঙ্গীত।

জীবনের অর্থই বদলে গেল বিব্বির কাছে। সব আছে, অথচ কিছুই যেন নেই! সংসার জীবনে একাধিক বার গর্ভবতী হয়েও জন্ম দিলেন মৃত সন্তান। জীবনে বেঁচে থাকার প্রয়োজনটাই হারিয়ে ফেললেন বিব্বি। তখন
নতুন করে শুরু হল গান। আকাশবাণীর লখনউ-র স্টেশন ডিরেক্টর সুনীল বসু ইতিমধ্যেই অনেক অনুনয়বিনয় করে বিব্বির গান রেকর্ড করাতে আব্বাসি সাহেবকে রাজি করান। বিব্বি গান গাইবেন শুনে গ্রামোফোন কোম্পানি তাঁকে রেকর্ড করার প্রস্তাব দিল। তবে আর আখতারি বাঈ ফৈজাবাদি নয়! ‘বেগম আখতার’ নামে প্রকাশিত হল দু’টি বিখ্যাত গানের রেকর্ড। ‘কোয়েলিয়া মত কর পুকার’ এবং ‘সঁইয়া ছোড় দে’।

এতো কিছুর মধ্যেও আখতারির মনে কলকাতার প্রতি টান কোনোভাবেই ছিন্ন হয়নি। তাই, সত্যজিত রায়ের অনুরোধে অভিনয় করেছিলেন ‘জলসাঘর’ ছায়াছবিতে।ফ্ল্যাশব্যাকে জমিদার বিশ্বম্ভর রায়ের ছেলের উপনয়নের সেই সন্ধ্যা। জলসাঘরে গানের আসরে দুর্গাবাঈ ধরলের পিলু ঠুমরি। ‘ভরি ভরি আয়ি মোরি আঁখিয়া’। কণ্ঠের মাদকতায় আচ্ছন্ন হলেন দর্শকেরা।বাঙালির হৃদয়ে ‘জোছনা করেছে আড়ি’, ‘পিয়া ভোলো অভিমান’, ‘কোয়েলিয়া গান থামা’ ইত্যাদি গান আজও নবীন। ‘ অ্যায়ে মোহাব্বত তেরে আঞ্জামপে রোনা আয়া’, ‘উয়ো যো হাম মে তুম মে’ কিংবা মির্জা গালিবের লেখা ‘ইয়ে না থি হামারি কিসমৎ’ শ্রোতাদের মোহাবিষ্ট করে রাখে।

সঙ্গীতই ছিল তাঁর জীবন।১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে আমদাবাদে অনুষ্ঠান চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাত্র ৬০ বছর বয়সে,৩০ অক্টোবর সকল গুণমুগ্ধ শ্রোতাদের নিঃস্ব করে চিরদিনের মতো চলে যান আখতারি বাঈ ফৈজাবাদী।
Manab Mondal

21/06/2024

ভোজনরসিক রবীন্দ্রনাথ

‘আমসত্ত্ব দুধে ফেলি
তাহাতে কদলি দলি
সন্দেশ মাখিয়া...’

লিখতেন আমসত্ত্ব দুধ আর সন্দেশ আর খেতেন নিমপাতার শরবত। না, শুধু নিমপাতার শরবত নয়, বিভিন্ন ধরনের সাহিত্যসৃষ্টিতে যেমন তাঁর নেশা ছিল, ঠিক তেমনই খাদ্যরসিক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

মাত্র ১২ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার তার বাবা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে দেশভ্রমণে বের হন। তারপর সারা জীবন ধরে বহু দেশ ঘুরেছেন। আর প্রতিটি দেশের ভালো লাগা খাবারগুলো সময়-সুযোগমতো ঠাকুরবাড়ির হেঁসেলে চালু করে দিতেন কবি। যেমন ইউরোপের কন্টিনেন্টাল ডিশের একটি ফ্রুট স্যালাড ঠাকুরবাড়িতে চালু করেছিলেন তিনি।

একটা সময় ছিল যখন ঠাকুরবাড়িতে সবাইকে নিয়ে কবিগুরু একসঙ্গে খেতে বসতেন। কবি জাপানি চা পছন্দ করতেন কেবল তা-ই নয়, সঙ্গে তাদের চা খাওয়ার রেওয়াজটিও ছিল তাঁর পছন্দের। তাই তিনি জাপানে গেলে প্রায় প্রতিদিনই তার জন্য ‘টি সেরিমনি’র আয়োজন করতেন গুণমুগ্ধরা।

১৯১৩ কবি নোবেল পুরস্কার পেলেন। এর আগের বছর ১৯১২ সালে লন্ডনে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ওই দিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল ইন্ডিয়ান সোসাইটি, লন্ডন। সেদিনের খাদ্য তালিকা হয়েছিল কবির পছন্দে।

এই খাবারের তালিকায় ছিল : গ্রিন ভেজিটেবল স্যুপ, ক্রিম অব টমেটো স্যুপ, স্যামন ইন হল্যান্ডেন সস এ্যান্ড কিউকামবার, প্রি সলটেড ল্যাম্ব উইথ গ্রিন ভেজিটেবল, রোস্ট চিকেন, ফেঞ্চ ফ্রাই, গ্রিন স্যালাড ও আইসক্রিম।

বাইরে এই ধরনের খাবার খেলেও বাড়িতে তিনি কম তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেতেন।

কবির স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর রান্না ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে খুব জনপ্রিয় ছিল। তার হাতের রান্না খেতে সবাই খুব পছন্দ করতেন, বিশেষত দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি নাকি টকের সঙ্গে ঝাল মিশিয়ে বেশ নতুন নতুন পদ তৈরি করতেন।

ঠাকুরবাড়িতে প্রায়শই খামখেয়ালি সভা বসত। সেই সভায় কবি থাকতেন মধ্যমণি। সেই খামখেয়ালিপনা থেকেই হয়তো তিনি রাত দুটোর সময় মৃণালিনী দেবীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে কিছু রান্না করে খাওয়াতে বলতেন। শোনা যায় এই ঘটনা প্রায়শই ঘটত আর মাঝরাতে মৃণালিনী দেবী রান্না করে রবীন্দ্রনাথকে খাওয়াতেন।

কবি দেশি খাবারের মধ্যে পছন্দ করতেন কাঁচা ইলিশের ঝোল, চিতল মাছ আর চালতা দিয়ে মুগের ডাল এবং নারকেল চিংড়ি।

এছাড়া তিনি কাবাব খেতে খুব পছন্দ করতেন। এর মধ্যে ছিল শ্রুতি মিঠা কাবাব, হিন্দুস্তানি তুর্কি কাবাব, চিকেন কাবাব নোসি।

কবি কাঁচা আম খেতে ভালবাসতেন। আচারও খেতেন। কাদম্বরী দেবী কবিকে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁচা আম এনে দিতেন।

এখানেই শেষ নয়, কবিগুরু ছিলেন পানের ভক্ত। তার নাতজামাই কৃষ্ণ কৃপালিনী তাঁকে একটি সুদৃশ্য পানদানি বা ডাবর উপহার দিয়েছিলেন।

ঠাকুরবাড়ির রান্নায় বেশি করে মিষ্টি দেওয়ার প্রচলন ছিল। গরম মশলা, লবঙ্গ, দারুচিনি বেশি পরিমাণে ব্যবহৃত হতো। রান্নার তালিকায় প্রতিদিনই দীর্ঘ পদ থাকত। আর তাতে নিয়মিত অবশ্যই থাকত সুক্তো আর দইমাছ।
সংগৃহিত
Manab Mondal

14/09/2023
Photos from Manab Mondal's post 16/07/2023
Want your business to be the top-listed Government Service in KOLKATA?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Purba Putiary
Kolkata
700093