18/10/2026
যে ভাষণ বদলে দিয়েছিল অনেক কিছু:
১৯৪২ সালের হ্যামবুর্গে নেতাজির সেই ঐতিহাসিক জার্মান বক্তৃতা
এটা শুধু একটা বক্তৃতা ছিল না, এটা ছিল স্বাধীন ভারতের জন্মের প্রথম ঘোষণা।
নেতাজী সুভাষ ব্রিগেড - এক সংগ্রাম এর পক্ষ থেকে আজ সেই ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে আনা এক অসাধারণ দেশপ্রেমের গল্প।
১৯৪১ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশের চোখে ধুলো দিয়ে কলকাতা থেকে মহানিষ্ক্রমণ। কাবুল, মস্কো হয়ে বার্লিন। নেতাজি ভেবেছিলেন হিটলারের জার্মানি তাঁকে অস্ত্র, অর্থ দিয়ে সাহায্য করবে ভারত আক্রমণ করতে। কিন্তু বার্লিনে গিয়ে তিনি বুঝলেন, হিটলার ভারত নিয়ে মোটেও আগ্রহী নয়।
তিনি হতাশ হননি। শত্রুর দেশে বসেই তিনি গড়তে শুরু করলেন এক নতুন ভারতের ভিত।
আর সেই ভিতের সবচেয়ে শক্ত পাথরটি গাঁথা হয়েছিল ১৯৪২ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর, জার্মানির হ্যামবুর্গ শহরে।
হোটেল আটলান্টিকে কী ঘটেছিল সেদিন?
সেদিন হ্যামবুর্গের বিখ্যাত হোটেল আটলান্টিকে প্রতিষ্ঠা হল "Deutsch-Indische Gesellschaft" - ভারত-জার্মান সংঘের। উদ্দেশ্য - দুই প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।
উপস্থিত ছিলেন হ্যামবুর্গের মেয়র ডঃ ক্রোগম্যান, জার্মানির বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিদেশি কূটনীতিক, এবং মধ্যমণি হয়ে ছিলেন এক বাঙালি - সুভাষচন্দ্র বসু।
এখানেই তিনি দিলেন সেই ঐতিহাসিক বক্তৃতা। জার্মান ভাষায় তিনি বললেন, তিনি চান স্বাধীন ভারত এবং জার্মানি পাশাপাশি বিজয়ীর বেশে দাঁড়াক।
কিন্তু ভাষণ শেষ হতেই যা হল, তাতে ইতিহাস বদলে গেল -
তিনটি ঘটনা একসাথে ঘটল, যা আজও আমাদের পরিচয়:
১. প্রথমবার বাজল 'জন গণ মন': সেদিন নেতাজির বক্তৃতার পর রেডিও হ্যামবুর্গের চেম্বার অর্কেস্ট্রা প্রথমবারের মতো বাজালো রবীন্দ্রনাথের লেখা 'জন গণ মন'। নেতাজি ঘোষণা করলেন, এটাই হবে স্বাধীন ভারতের জাতীয় সঙ্গীত। তার ৮ বছর পর, ১৯৫০ সালের ২৪শে জানুয়ারি ভারতের গণপরিষদ সেটাই গ্রহণ করল।
২. জন্ম হল 'জয় হিন্দ' ধ্বনির:জার্মানিতে থাকাকালীনই নেতাজি চালু করলেন এক নতুন অভিবাদন - 'জয় হিন্দ'। যাতে হিন্দু-মুসলমান, জাত-পাত সব ভুলে ভারতীয়রা একসাথে একে অপরকে ডাকতে পারে। এই হ্যামবুর্গের মঞ্চই ছিল সেই নতুন ভারতের সূচনা।
৩. 'নেতাজি' নামের জন্ম: জানেন কি, আমাদের প্রাণের 'নেতাজি' নামটি প্রথম কোথায় ব্যবহার হয়? জার্মানিতেই। ১৯৪২ সালের শুরুর দিকে আজাদ হিন্দ ফৌজের ভারতীয় সৈন্যরা এবং বার্লিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীরাই প্রথম তাঁকে শ্রদ্ধাভরে 'নেতাজি' বলে ডাকতে শুরু করেন।
হ্যামবুর্গের সেই বক্তৃতা হিটলারকে টলাতে পারেনি, কিন্তু হাজার হাজার যুদ্ধবন্দী ভারতীয় সৈনিকের বুকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। উত্তর আফ্রিকায় ব্রিটিশদের হয়ে যুদ্ধ করা ৩০০০ ভারতীয় যুদ্ধবন্দী নেতাজির ডাকে সাড়া দিয়ে যোগ দিলেন ইন্ডিয়ান লিজিয়নে- ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়তে।
নেতাজি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন - স্বাধীনতা ভিক্ষা করে পাওয়া যায় না, তা ছিনিয়ে নিতে হয়। দেশের ভিতরে না পারলে বিদেশের মাটি থেকেই যুদ্ধ শুরু করতে হয়।
এই হলেন আমাদের নেতাজি। যিনি জার্মানির মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়েছিলেন, যখন ভারত তখনও পরাধীন।
এই ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।
জয় হিন্দ!
নেতাজী সুভাষ ব্রিগেড - এক সংগ্রাম
#নেতাজীসুভাষব্রিগেডএকসংগ্রাম