শেখ হাসিনা উৎখাত ষড়যন্ত্রে কি ভারতও জড়িত ছিল,!!বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র তাই বলে,!!
Jamat-E Islam politics Ban In Bangladesh
In 1971 the ruler of Pakistan in active association with there local agents of Jamat-e islam,al-bodor and islami chhatro songho killed 30 million innocen,,
IN 1971 PAKISTAN GOVERNMENT WITH THERE LOCAL AGENT ""JAM AT E ISLAM,,ALSHMS,ALBODOR AND ISLAMI CSHTRO SENA KILLED,RAPE,DESTROY 30 MILLION PEOPLE,,THEY ARE ALL INNOCENT,,AND THEN WE GOT THE VICTORY 16 DCE 1971,,,NAMED BANGLADESH.
বেঈমান রাজাকার মুরতাদ জামাত শিবির শুধু মাত্র দেশের শত্রু নয় , তার সাথে সাথে ইসলাম এর বড় মারাত্মক শত্রু ও মুনাফিক । তাদের কে ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আলিম ওলামা মুরতাদ
বিগত এক যুগে আ:লীগের হাইব্রিড নেতাদের কারনে তৃনমুল নেতা কর্মী'রা যেভাবে নির্যাতিত,অপমানিত হয়েছেন তা আজকের অবস্থার প্রমান করে।তাদের মনোবল চাঙ্গা করুন।তারা আবার ফিরে আসবে।।
১৯৭১ এ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা রাজাকার,আল বদর,আল সামস'ছিল,আজ তাঁদের নাতি পুতিরাই 'সমন্বয়ক'তৌহীদি জনতা রুপে আবির্ভূত হয়েছে,!!
২০২৫ এ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের ১৯৭১ এ আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকার ,আলবদর হত্যার বিচারের কার্যক্রম শুরু হবে।
নতুন প্রজন্ম কে আরেকটা মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করুন,!!
08/29/2024
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে খালেদ মোশাররফ
১৫ আগস্ট '৭৫ সকালে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ রক্ষীবাহিনীর দুইজন ডেপুটি ডিরেক্টর জনাব আনোয়ারুল আলম শহীদ এবং জনাব সারোয়ার মোল্লাকে ডেকে পাঠান।
তিনি তাদেরকে এই অবস্থায় কী করনীয় সে ব্যাপারে ব্রিফ করেন।
সেসময় ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ বলেন,
"Shaheed, Sarwar,
I know you are patriots, but we had to do it because we do not want this country to be a kingdom."
(অনুবাদ)
"শহীদ, সারোয়ার,
আমি জানি তোমরা দেশপ্রেমিক। কিন্তু আমাদের এটা করতে হয়েছে
কারণ আমরা এই দেশে কোন রাজতন্ত্র কায়েম করতে দিতে পারিনা।"
References:
রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা, আনোয়ারুল আলম শহীদ, পৃষ্ঠা ১৪৮
15th August A National Tragedy Major Gen K M Safiullah BU PSC, p. 184
08/28/2024
"ভাইভা বোর্ড !!"
না, এগুলো কোন বিদ্যালয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নয়। পাকিস্তান আর্মি মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে এই রুমের মধ্যে নির্যাতন করতো। এবং বিভিন্ন রকমের নির্যাতনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতো। আপনারা কি বলতে পারেন এগুলোর কোনটার নাম কী? এবং টর্চার করার সময় এগুলো কোনটা কোন কাজে লাগতো?
This is a recreation of the torture chamber used by the Pakistan army showing some of the instruments that they frequently used to draw their perverted thirst of revenge over the freedom fighters of Bangladesh during the liberation war.
= Genocide of 1971
Photographer: Sandeep Unnithan, Genocide Museum Khulna.
#সংগ্রামের_নোটবুক
08/26/2024
মুজিবনগরে গােপন আলােচনা এবং '৭৫-এর ঘটনাবলী সম্পর্কে আরাে কিছু তথ্য
[সাংবাদিক লরেন্স লিফসুজ স্বীয় রচিত বাংলাদেশ : দি আনফিনিশড রেভলিউশন' গ্রন্থে ১৯৭১-এর মুজিবনগর এবং ১৯৭৫-এর ঢাকার ঘটনাবলী। সম্পর্কে আরও কিছু অর্থবহ বিবরণ দান করেছেন। এখানে তার অংশবিশেষ উপস্থাপন করা হলাে ।-লেখক]
“...১৯৭৫-এর সহিংস তৎপরতার প্রেক্ষিতে, বিশেষত মুজিব উৎখাত অভ্যুত্থানের কথা বিবেচনায় রাখলে, ১৯৭১ সালের ঘটনাবলীর গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালে কোলকাতা এবং অন্যত্র বাঙালি কর্মকর্তাদের সাথে ৮টি গােপন যােগাযােগের অস্তিত্ব সম্বন্ধে যে সংবাদ আমরা পেয়েছিলাম, উর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে কার্নেগির সাক্ষাৎকারে তা তর্কাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাঙালি নেতৃত্বের যে অংশ পাকিস্তানের বিবেচনায় দেশদ্রোহীতার অপরাধে অপরাধী নয়, তার সাথে সামরিক জান্তার মধ্যস্থতার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষামূলকভাবে চেষ্টা চালায়। কোলকাতার এসব আলােচনায় কী কী বিষয় নিয়ে কথা হয়, কারাই বা অংশ নিয়েছিলেন, এসব আজও গােপনীয় তথ্য হিসাবে বিবেচিত। কিন্তু কোলকাতার ঘটনাবলী সম্বন্ধে খুব ভালােভাবে ওয়াকিফহাল সূত্রসমূহ দাবি করেন যে, আটটি যােগাযােগই মােস্তাকের রাজনৈতিক চক্রের সাথে করা হয়েছিল। এসব সূত্রের মধ্যে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মােশতাকের তৎকালীন কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত। এটই গােপন যােগাযোেগসমূহের অধিকাংশ কোলকাতায় হয়েছিল বলে জানা গেলেও এর বাইরেও যােগাযােগ হয়েছিল বলে শােনা যায়। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের গােয়েন্দা ও গবেষণা বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কার্নেগি গবেষকদের জানান, উনি (কিসিঞ্জার) বাঙালি প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।” সে সময় মােশতাক অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তাই মার্কিন দৃষ্টিকোণ থেকে তার সাথে আলাপ আলােচনা করাটা আপাত দৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হয়।
কিন্তু ব্যাপারটা এত সহজ নয়। তখন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের মধ্যে বহু উপদলের প্রবণতা ছিল। তাজউদ্দিন আহমদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিসিঞ্জারের অভিমত ছিল তাঁকে পাশ কাটিয়ে আলােচনা হােক। মার্কিন মদদপুষ্ট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রামে তিনি (তাজউদ্দিন) রুশ-ভারতের সাথে মৈত্রীর কৌশলগত প্রয়ােজনীয়তা স্বীকার করেছিলেন। অথচ এজন্য তাঁকে সােভিয়েত ঘেঁষা ও ভারত ঘেঁষা মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে তাজউদ্দিন শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী মুজিবের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবার কথা। কিন্তু ৭১-এর মার্চে পাকিস্তান তা মানতে অস্বীকার করে এবং সেই সাথে বর্বর নির্যাতনের ভয়াবহ মাত্রা—এসব বিবেচনা অস্থায়ী সরকারের সিদ্ধান্তকে ইস্পাতকঠিন ও তর্কাতীত করে তােলে। আর পেছন ফেরা নয়, বাংলাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া আর কোনাে আলােচনা নয়। স্বাধীনতার ব্যাপারে তাজউদ্দিন ও প্রায় সমগ্র বাঙালি নেতৃত্বের মনােভাব ছিল আপােসহীন। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, যারা যুদ্ধক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, কিংবা যারা নেতৃত্বে ছিলেন, তাঁদের কারাে পক্ষে পাকিস্তানের সরকারের অধীন কোনাে স্বায়ত্তশাসনের বােঝাপড়ায় অংশ নেয়া কল্পনাতীত ছিল। অথচ কিসিঞ্জার বহু দেরিতে এ ধরনের আপােসরফার পক্ষপাতী ছিলেন। যদিও বাংলাদেশ আন্দোলন নেতাদের অধিকাংশের কাছে এ ধরনের প্রস্তাব সম্পূর্ণ। অগ্রহণযােগ্য ছিল। এ প্রস্তাব যেমন দেরিতে এসেছে, তেমনি তাতে মজুরিও বড় সামান্য। যেখানে বােঝা যাচ্ছে যে, বিজয় বেশি দূরে নয় এবং বিশ্ব জনমত তাদের পক্ষে, সেখানে এরকম একটা প্রস্তাব গ্রহণ রাজনৈতিকভাবে হাস্যকর হতাে।
গােটা প্রবাসী বাঙালি নেতৃত্বে শুধু একজনের এ বিষয়ে দ্বিমত ছিল—তিনি খন্দকার মােশতাক আহম্মদ। তাজউদ্দিনের যেমন রুশ-ভারতের কৌশলগত পক্ষপাতের নাম হয়েছিল, তেমনিভাবে মােশতাককে মার্কিন লবির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব মনে করা হতাে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মতাদর্শগত বহুমুখিতায় তাজউদ্দিনকে তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নয়নের প্রেক্ষিতে একজন বামঘেঁষা সামাজিকগণতন্ত্রী মনে করা হতাে। তাঁর মতে স্বাধীন বাংলাদেশে বিদেশী পুঁজিসহ ব্যাপকভাবে শিল্প-কারখানা জাতীয়করণ করা উচিত। আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মতাদর্শগতভাবে মােশতাকের অবস্থান ছিল তাজউদ্দিনের বিপরীত মেরুতে। তিনি খােলাখুলিভাবে অবাধ ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও বিদেশী পুঁজির জন্য উত্তম শর্ত সমর্থন করতেন এবং জাতীয়করণের বিরােধী ছিলেন। ৫০ ও ৬০-এর দশকে পাকিস্তান কম্যুনিস্ট পার্টির বেশ কজন সদস্যের সাথে তাজউদ্দিনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। ৫০ দশকের গােড়ায় তাজউদ্দিন এবং মাওবাদী পূর্ব বাংলা কম্যুনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর নেতা মােহাম্মদ তােয়াহা এক বাড়িতে থাকতেন। অপর দিকে মােশতাক ছিলেন ধর্মভীরু মুসলমান ও প্রচণ্ড কমুনিস্ট বিদ্বেষী। বাঙালি সূত্রসমূহের মতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনকে বাদ দিয়ে খন্দকার মােশতাকের সাথে যােগাযােগ স্থাপন করেছিল। অত্যন্ত সাবধানে তাজউদ্দিন ও অন্যান্য নেতাদের এ ব্যাপারে অজ্ঞ রাখা হয়েছিল। এই আলােচনা চলাকালে মােশতাকের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দুজন সহকারী ছিলেন মাহবুব আলম চাষী এবং তাহেরউদ্দিন ঠাকুর। কোলকাতায় বাংলাদেশ পর্যবেক্ষকদের কাছে এদের এই ছােট্ট দলটি 'মােশতাক ত্রয়ী' নামে পরিচিত ছিল।
এই সময়ের ঘটনাবলী সম্বন্ধে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পরিচিত বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কর্মকর্তারা বলেন যে, ১৯৭১-এ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোপন যােগাযােগে চাষী ও ঠাকুর মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। চার বছর পর এই তিনজনই মােশতাক, চাষী, ঠাকুর বাংলাদেশ বেতারে উপস্থিত হয়ে মুজিবের মৃত্যুর কথা ঘােষণা করেন এবং জানান যে, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে খন্দকার মােশতাক আহম্মদ ক্ষমতায় এসেছেন। প্রাক্তন কর্মকর্তাদের মতে ১৯৭১-এর আলােচনায় মােশতাক ও মার্কিনীরা এই ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন যে, পরিস্থিতি আবার পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এসব সূত্র আরাে জানিয়েছে যে, মােশতাক ও তাঁর পররাষ্ট্র সচিব চাষী মােটামুটিভাবে পাকিস্তানের একটা আলাদা শান্তি চুক্তিতে রাজি হয়েছিলেন। এই শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যদি সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে ব্যারাকে ফিরে যায় ও নতুন আলােচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে, তাহলে পাকিস্তানের অখণ্ডতা স্বীকার করে নেওয়া হবে। নিকসন প্রশাসনের কাছে এটি একটি কাক্ষিত ও যুক্তিযুক্ত সমাধান মনে হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ বাঙালির কাছে পূর্ববঙ্গে পাকিস্তানি গণহত্যার পরে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভের আপােষহীন অঙ্গীকারের পর এ ধরনের আপোসরফা দেশের মুক্তি আন্দোলনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল ছিল। সােজা কথায় বেঈমানী।
জানা গেছে ১৯৭১ সালের শরৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মােশতাকের গােপন যােগাযােগের খবর অস্থায়ী সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীদের কানে আসে। অস্থায়ী সরকারকে না জানিয়ে এত সব কাণ্ড হচ্ছে, এই সংবাদ পাওয়ার পর তাজউদ্দিন ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেন বলে জানা যায়। কৌশলগত স্বার্থে বাংলাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ায় ভারতও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদ হতে মােশতাকের বহিষ্কারের প্রস্তাব করা হয়। বাহ্যিকভাবে একতার একটা চেহারা অটুট রাখার জন্য তাকে সাময়িকভাবে মন্ত্রীত্ব আঁকড়ে থাকতে দেওয়া হলেও যুদ্ধের শেষ মাসগুলােতে মােশতাকের ক্ষমতা সামান্যই ছিল। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তাকে নিউইয়র্ক যেতে দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ হতে সরিয়ে মােশতাককে তুলনায় আরাে কম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়। পাকিস্তানের পরাজয়ের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীত্ব হতে মােশতাককে বিদায় করার সিদ্ধান্ত তাজউদ্দিনের প্রথম বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। ১৯৭২-এর জানুয়ারিতে পাকিস্তানের কারাগার হতে মুজিবের মুক্তির আগে এটিই একমাএ বড় সিদ্ধান্ত যা কার্যকর করা হয়।
গােয়েন্দা ও গবেষণা বিভাগের একজন প্রবীণ মার্কিন কর্মকর্তা কার্নেগির গবেষকদের বলেন : আমরা ভেবেছিলাম কোলকাতায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে আপােসরফার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পরে অক্টোবরে আমরা জানতে পারি যে, সব অংশের প্রতিনিধিত্ব করা ওদের পক্ষে সম্ভব নয়। ওরাও বুঝতে পেরেছিলেন যে, ওদের অবস্থা অনুরূপ... স্পষ্ট করে এর বেশি কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। মুজিবের মৃত্যুর এক বছর পর এবং নিজে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আট মাস পরে ১৯৭৬-এর জুন মাসে লরেন্স লিফসুজ মােশতাকের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। সেখানে মােশতাক ১৯৭১-এ কোলকাতায় গােপন যােগাযােগের কথা স্বীকার করেন। কিন্তু সে সময় মার্কিনীদের সাথে ঠিক কী বােঝাপড়া হয়েছিল সে বিষয়ে। স্পষ্ট করে কিছু বলতে অস্বীকার করেন। লিফসুজকে তিনি বলেন, 'জানতে চাইলে নিকসন সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন। আমি কিছু বলবাে না।” ক্ষমতা হতে অপসারণের এক বছর পর ১৯৭৬-এর নভেম্বরে ঢাকায় সামরিক শাসন কর্তৃপক্ষ মােশতাককে গ্রেফতার করে এবং দুর্নীতির দায়ে বিচার করে। সরকারি পদমর্যাদা অবমাননার জন্য তাঁর ১,০০,০০০ টাকা জরিমানা হয়। বর্তমানে (১৯৭৭-৭৮) মুজিব হত্যার জন্য নয়, দুর্নীতির দায়ে তিনি কারাবাস করছেন। মােশতাক ও তাজউদ্দিনের পারস্পরিক বিদ্বেষ কিন্তু কখনাে প্রশমিত হয়নি। . তাজউদ্দিনের মতে মােশতাক যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সাথে একাট্টা হয়ে গােপনে স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। এটা তিনি ভুলতে পারেননি। মােশতাকের মনেও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পদ হতে চট-জলদি অপসারণের অপমান এবং তার ফলে ভারতের সন্তোষের স্মৃতি স্পষ্ট ছিল। চার বছর পর মুজিবের মৃত্যুর পর যখন মােশতাক নিজে ক্ষমতা হতে অপসারিত হতে যাচ্ছিলেন, তখন ১৯৭৫-এর ৪ নভেম্বর কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন।
মােশতাকের শাসনের সমাপ্তির কয়েক ঘণ্টা আগেই তার পুরনাে প্রতিদ্বন্দ্বী তাজউদ্দিন আহমদকে মুজিবের আরাে তিনজন মন্ত্রীসহ বেয়নেট চার্চ করে হত্যা করা হয়। আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর এঁদের চারজনকেই মােশতাক জেলে পুরেছিলেন। লিফসুজের কাছে সাক্ষাঙ্কারে মােশতাক জেল হত্যার সাথে তার নিজের কোনাে সংস্রবের কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু সেদিন উপস্থিত ছিলেন, কারাগার কর্তৃপক্ষের এমন কিছু সূত্র সন্দেহ করেন যে, মােশতাক এবং সেনাবাহিনীতে তার দোসররা এই জেল হত্যার নির্দেশ দেন। এদের উদ্দেশ্য ছিল শেখ সাহেবের মূল রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা যাতে আর কোনােদিন কোনাে মুজিবপন্থী রাজনৈতিক পুনরুত্থান সংগঠিত করতে না পারেন সেটা সুনিশ্চিত করা।… অন্তরালের আরেক নায়ক। ১৫ই আগস্ট-এর আগের এই সময়টাতে মােশতাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোসর ছিলেন মাহবুব আলম চাষী। কোলকাতার দিনগুলােতে তিনি মােশতাকের পররাষ্ট্র সচিব হিসাবে কাজ করেছেন। ১৯৫০-এর শেষ দিকে ওয়াশিংটনের পাকিস্তান দূতাবাসে তিনি কাজ করতেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিভাগের তখন থেকেই জানা ছিল যে, এই ব্যক্তি মার্কিন কূটনৈতিক ও একাডেমিক সহকর্মীদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন। পাকিস্তানের আমলাতন্ত্রের হাজারাে মতাদর্শগত ভাগগুলাের মধ্যে মার্কিন লবীর প্রতি চাষীর অনুরাগ সুবিদিত ছিল। কোলকাতাস্থ অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারে কর্মরত কিছু উঁচু পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযােগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গােপন আলােচনায় চাষী ছিলেন প্রধান মধ্যস্থতাকারী। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি যে আজ অন্যতম ঝানু লােক (বছর কয়েক আগে মক্কার অদূরে গাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু) এ কথা তর্কাতীত। তিনি ঢাকার উচু সমাজের একজন অত্যন্ত সংস্কৃতিমনা মাতব্বরও বটে। সেই হিসাবে তিনি একই সাথে একজন বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া ছাড়াও প্রতিকূল পরিস্থিতি মােকাবেলায় পটু ধুরন্ধর তাত্ত্বিক হিসাবেও স্বীকৃত। ১৯৬৭ সালে তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিভাগ হতে পদত্যাগ করেন। এ সময় দক্ষিণ এশিয়া এবং গােটা তৃতীয় বিশ্বে গ্রামীণ দারিদ্র ও অনুন্নয়নের সমাধান হিসাবে ‘সবুজ বিপ্লব’কে তুলে ধরা হচ্ছিল। সর্বরােগহর মতাদর্শ হিসাবে ১৯৬০-এর শেষ দিকে এর স্বীকৃতি তখন আকাশস্পর্শী। ভারতের মতাে পাকিস্তানেও বিভিন্ন নতুন কৃষি পরিকল্পনার সাথে যুক্ত বেশ বড় আকারের সাহায্য আসে।
পাকিস্তানের উন্নয়ন দশক-এ (নামটা আন্তর্জাতিক রক্ষণশীল অর্থনীতিবিদদের দেওয়া) এই সবুজ বিপ্লবের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। মাহবুব আলম যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন, তখন তিনি তাঁর নামের শেষে চাষী জুড়ে দেন। তিনি এরপর সবুজ বিপ্লবীদের কাতারে শামিল হয়ে যান এবং চট্টগ্রাম-এর রাঙ্গুনিয়ার একটি উন্নয়ন প্রকল্প সংগঠিত করেন। এই এলাকায় এর আগে প্রবল বন্যায় কয়েক হাজার একর জমির আমন ফসল নষ্ট হয়েছিল। বাংলাদেশের কুমিল্লা মডেল হিসেবে যা পরিচিত, সেটার নিজস্ব রূপ দিয়ে চাষী রাঙ্গুনিয়ায় একটা সমবায় গঠন করেন। বেশ ভালাে সরকারি ঋণ ও বিদেশী সাহায্যের সহায়তায় প্রকল্পটিকে তিনি অচিরেই ধনতান্ত্রিক ভূমি সংস্কারের আদর্শ মডেল হিসাবে দাঁড় করিয়ে ফেলেন। | বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চাষী আবারও পররাষ্ট্র বিভাগে মুজিব নগরে যােগ দেন—এবার পররাষ্ট্র সচিব ও মােশতাকের দোসর হিসাবে। কিন্তু ১৯৭১-এ মার্কিনীদের সাথে তাদের যােগাযােগ সম্পর্কিত শােরগােলের জন্য তিনি কৃষির অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অঙ্গনে চলে এসে অক্যুনিস্ট গ্রামীণ গণতােষ কর্মপদ্ধতির একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি ও তার প্রয়ােগের একটা রূপরেখা দাঁড় করাবার চেষ্টা করেন। স্বাধীনতার পর মুজিবের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কুমিল্লাস্থ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানের পদে আসীন ছিলেন। মাহবুব আলম চাষী সম্বন্ধে এত কথা বলার কারণ আছে। বেশ কিছু ওয়াকিফহাল সূত্র মুজিব বিরােধী অভ্যুত্থানে তার নেপথ্য ভূমিকার কথা বলেছেন। স্রেফ বিদ্যাচর্চার জন্যই যে শুধু পল্লী জীবনের সমাজতত্ত্বের প্রতি চাষীর আগ্রহ ছিল তা নয়, রাজনৈতিক ক্ষমতার শীর্ষদেশের প্রতি খেয়ালও এর পেছনে কাজ করেছে।
অভ্যুত্থানের আগেই চাষীর নির্দেশনা ও মধ্যস্থতায় মুজিবের বিরুদ্ধে সামরিক কৌশল বিষয়ক পরিকল্পনার জন্য কুমিল্লায় কয়েকটা বৈঠক হয়েছিল বলে অভিযােগে প্রকাশ। কুমিল্লা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে যে, আগস্টের অব্যবহিত আগে কয়েক মাস ধরে তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ওখানে ঘন ঘন যাতায়াত করতেন। তিনি চাষীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং মােশতাকের '৭১-এর কোলকাতাস্থ সহকারীদের দলভুক্ত আরেকজন ব্যক্তিত্ব। তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ১৯৭৫-এ মুজিব সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদে ছিলেন। যেসব সামরিক ব্যক্তিত্ব মুজিব হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন, মার্চের শেষে বা এপ্রিলের শুরুতে তাঁদের মােশতাক চক্রের পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে মেজরদের নিজস্ব পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দরকার ছিল সুবিধাজনক রাজনৈতিক সমর্থনের। মােশতাক ও তাঁর রাজনৈতিক চক্র তখন খুব সাবধানে এমন কিছু সামরিক যােগসূত্র খুঁজছিলেন, যেটা তাদের নিজেদের পরিকল্পনার সাথে খাপ খেয়ে যাবে। মেজর রশিদ মােশতাকের আত্মীয় বটে, কিন্তু মােশতাক চক্রের বেশি পছন্দ ছিল সিনিয়র অফিসারদের অভ্যুত্থান। চাষী জিয়ার কাছে মােশতাকের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। বলে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর সূত্রে অভিযােগ করা হয়েছে। এসব সূত্র জানাচ্ছে যে, জিয়া প্রস্তাবিত পরিকল্পনা সম্বন্ধে আগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রয়ােজনীয় সামরিক কার্যক্রমে হাত দিতে অনীহা দেখান। এরপর ১৯৭৫-এর মার্চে মেজর রশিদ তাঁর নিজের প্রস্তাব নিয়ে জিয়ার কাছে হাজির হন। তিনি জিয়াকে বলেন যে, জুনিয়র অফিসাররাই সব ঠিক ঠাক করে ফেলেছেন। শুধু তার সমর্থন ও নেতৃত্ব চাই।
জিয়া আবারাে ইতস্তত করলেন। রশিদের মতে জিয়া তাকে বলছিলেন যে, একজন সিনিয়র অফিসার হিসাবে তার (জিয়ার) এ ব্যাপারে জড়িত হওয়া উচিত নয়। কিন্তু ইচ্ছে থাকলে জুনিয়র অফিসাররা এগিয়ে যেতে পারেন। সিনিয়র অফিসার পর্যায়ে ভালাে নেতৃত্ব না আদায় করতে পেরে, জুনিয়র অফিসারদের এই চক্রান্তের সাথে মােশতাক মহল জড়িত হয়ে পড়লাে। সিনিয়র অফিসারদের অভ্যুত্থান তাদের বেশি পছন্দ হলেও সেটা অসম্ভব হওয়ায় এই অভ্যুত্থান পরিকল্পনাটাই সবচাইতে উত্তম বিকল্প। জিয়ার পরােক্ষ সম্মতি তারা পেয়ে গেছেন এটা বিশ্বাস হবার পর তারা দ্বিতীয় সারির সমর কর্তাদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে জিয়ার নিরপেক্ষতা বা পরােক্ষ সমর্থনের ফলে জুনিয়র অফিসাররা এ ব্যাপারে আশঙ্কামুক্ত হতে পারেন যে, জিয়া সর্বশক্তি দিয়ে এই অভ্যুত্থান ঠেকানাের চেষ্টা করবেন না। এপ্রিল-এর (১৯৭৫) পর এদের নিয়ে পরিকল্পনা পাকাপােক্ত করা হলাে।
সূত্রঃ মুজিবের রক্ত লাল - এম আর আখতার মুকুল
ছবি - তাহের উদ্দিন ঠাকুর
আনসার বাহিনী প্রশাসনের একটা অংশ,তাদের'কে দমন করার জন্য প্রশাসনই যথেষ্ট ছিল।তাদের'কে দমন করার জন্য বিএনপি জামাত শীবিরের কি প্রয়োজন ছিল,এটার শুভ ফল সাধারণ জনগণকে ভোগ করতে হবে,!
রাস্তা ঘাট কথিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে,!
প্রশাসন,মন্দির,মসজিদ,
আদালত,হাসপাতাল,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামাত শীবিরের নিয়ন্ত্রণে,!
সাবাস 'কিউট'বাঙ্গালী🤣
*সিগারেটের প্যাকেট পাওয়ার অভিযোগে একজন শিক্ষকের মাথায় পানি ঢেলে দিলেন, আরো কতভাবে লাঞ্চিত করলেন,🤔অথচ জামাত শীবিরের অনেক উপদেস্টাই মদ খেয়ে থাকেন,🤔
08/20/2024
কবর খোঁড়া হলেও খালেদ মােশাররফ সােহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে কবর দিতে দেয়নি।
আমরা কিছুদিন ধরেই শুনতে পাচ্ছিলাম তাজউদ্দীন সাহেব পদত্যাগ করতে পারেন। ২৬ তারিখে (২৬ অক্টোবর ১৯৭৪) পদত্যাগের খবরটা শুনে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। লুৎফুল হক সাহেব আর আমি ঠিক করলাম আজকে আমরা তাজউদ্দীন সাহেবের বাসায় যাব। বিকেলে আমরা গেলাম। দেখলাম সেখানে কিছু লােক ঘােরাফেরা করছে। আমাদের খবর শুনেই তাজউদ্দীন সাহেব বের হয়ে এলেন এবং বেশ রাগ করে বললেন, 'আপনারা এখানে এসেছেন কেন?' আমরা বললাম, আপনি যখন কর্মরত অবস্থায় ছিলেন তখন তাে আমরা আসিনি, আজ আমাদের আপনার কাছে আসতেই হয়। তাজউদ্দীন সাহেব বললেন, আপনাদের চাকরি চলে যাবে। এখানে সব এনএসআই এবং এসবি-র লোেক ঘােরাফেরা করছে।' আমরা বললাম, আজ আপনার সাথে দেখা করতে এসে যদি আমাদের চাকরি যায় যাক, তাতে পরােয়া করি না।' আমরা যখন কথাবার্তা বলছি সেই সময় অন্তত আমি একটু উত্তেজিতই ছিলাম। আমি কথায় কথায় বলেই ফেললাম, বঙ্গবন্ধুর অবদানের চেয়ে আপনার অবদান তাে কম নয়!' আমার এই কথা শুনে তাজউদ্দীন সাহেব আমার উপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন। বললেন, ‘এ কথা কখনও বলবেন না। বঙ্গবন্ধুর অবদান আমার চেয়ে অনেক বেশি। এ কথা বলতে পারি, শেষ পর্যন্ত আমিই বঙ্গবন্ধুর সাথে থাকব। বর্তমানে সাময়িক এক বিভ্রান্তি হতে পারে, কিন্তু এটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, বঙ্গবন্ধু না হলে এ দেশটা স্বাধীন হত না। আমরা এই স্বাধীনতার কাজে সহযােগিতা করেছি। বঙ্গবন্ধুর অবদান আর আমার অবদানের তুলনা করাটা আপনার ঠিক নয়, মতিউর রহমান।' এই দিনই কথাপ্রসঙ্গে তাজউদ্দীন সাহেব আরও একটি কথা বলেছিলেন যে, বঙ্গবন্ধু তাে ১৯৭১-এর নয় মাস দেশে ছিলেন না, তাই আমরা কীভাবে, কত রকম করে দেশটা স্বাধীন করলাম সেই বিষয়গুলাে তিনি জানতেন না। ১৯৭২এর ১০ জানুয়ারি তারিখে বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে আমার সাথে কথা হয়েছিল তিনি সমস্ত শুনবেন। মুজিব ভাই বলেছিলেন, ঠিক আছে, তােমরা কীভাবে দেশ স্বাধীন করলে, আমি সমস্ত শুনব। কিন্তু ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সেই সমস্ত কথা শােনার জন্য সেই সময়টুকু তিনি আর দেননি বা দিতে পারেননি। এবং আর কোনদিনই তিনি জিজ্ঞাসা করেননি যে, তাজউদ্দীন, আমি যে নয় মাস ছিলাম না, দেশটা কীভাবে স্বাধীন হল ? এই যে তিনি জানতে চাইলেন না, শুনলেন না, এই দুঃখটা আমার চিরদিন থাকবে। মুজিব ভাই যদি জানতে পারতেন কীভাবে দেশটা স্বাধীন হল, এই যুদ্ধে কারা ষড়যন্ত্র করেছিল এবং অন্যান্য বিষয়গুলাে যদি তাকে অবহিত করতে পারতাম তাহলে হয়ত তাঁর অনেক ধারণা পরিবর্তন হত।' এরপর আর আমার তাজউদ্দীন সাহেবের সাথে দেখা হয়নি। দেখা হয়েছে তার মৃতদেহের সাথে। নভেম্বরের ৩ তারিখে হত্যাকাণ্ডের পর ৪ তারিখে আমরা কানাঘুষা শুনতে পাচ্ছি যে, চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। ৫ তারিখে শুনলাম তাজউদ্দীন সাহেবের মরদেহ তার বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। আমি তখন ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রােডে থাকতাম। তাজউদ্দীন সাহেবের সাত মসজিদ রােডের বাসাটা আমার চেনা ছিল, সেখানে গিয়ে দেখি যে বহু লােকজনের ভিড়। বাসার নিচতলাতে তাজউদ্দীন সাহেবের মরদেহ খাটিয়ায় রাখা, নিচে বরফের চাই (বরফের খণ্ড)। আমি ঘণ্টা দুয়েক সেখানে ছিলাম। আমি থাকা অবস্থায় শুনেছিলাম তাজউদ্দীন সাহেবসহ অন্যান্য নেতাদের সােহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে শেরে বাংলার কবরের কাছাকাছি সমাহিত করা হবে। সেখানে কবর খোঁড়াও হয়েছিল, কিন্তু খালেদ মােশাররফ সেখানে কবর দিতে দেয়নি।
Reference:
তাজউদ্দীন আহমদ - আলোকের অনন্তধারা
সাক্ষাৎকারঃ মতিউর রহমান, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক যুগ্মসচিব।
সংগ্রামের নোটবুক
08/20/2024
মুজিব হত্যার ষড়যন্ত্র । ওকে ফাঁসি দাও। গুলি করো। চক্রান্তের বাইরের রূপ আগরতলা মামলা। উদ্দেশ্য মুজিব-হত্যা। সেই থেকে আমরণ তার সামনে, পেছনে, এপাশে ওপাশে একটি বুলেট, এক ঝাঁক বুলেট মৃত্যুর ছায়া হয়ে তাড়া করে ফিরেছে বার বার।
বাঙালি ভাবল : একি জঘন্য ষড়যন্ত্র! বাঙালি দেখল : একি দুঃশাসন! বাঙালি বুঝল : শেখ মুজিব মানে বাঙালির অধিকার। বাংলার স্বাধীনতা। বাংলার মুক্তি। বাঙালির স্বপ্নে, চেতনায়, আঘাতে সংগ্রাম। আন্দোলনে রক্ত বহ্নিতে শেখ মুজিব আর বাঙালি-বাংলাদেশ এক অবিভাজ্য অভিন্ন। মুজিব মানেই বাংলাদেশ অত্যাচারিত মুজিব আর তার দুঃখিনী বাংলা! দেখে শুনে বুঝে বাঙালি গর্জে উঠল— দুঃশাসন হটাও। ছাত্র এল। এল শিক্ষক। জনতা। চাষি। মজুর মুটে সবাই এল—নেমে এল রাজপথ। হটাও আইয়ুব শাহী। কবর খোড়ো মোনায়েম খার। ঘেরাও করো লাট ভবন। সেনা ছাউনি। ছিনিয়ে আনো মুজিবকে। সকল রাজবন্দিদের। আইয়ুবের বড় সাধ ছিল— মোনায়েমের প্রতিজ্ঞা ছিল— মুজিবকে ফাসিতে, গুলিতে হত্যা করার। তাদের সাধ আর প্রতিজ্ঞা অপূর্ণ রইল। সংগ্রামী জনতা ছিনিয়ে আনলো মুজিবকে। রক্ত দিয়ে। প্রাণ দিয়ে। বড় বেশি ভালোবাসা দিয়ে! আগরতলা মামলা প্রত্যাহৃত হলো। মুজিব বেরিয়ে এলেন স্বাপ্নিক সূর্যের প্রখরতা আর প্রগাঢ়তা নিয়ে। আইয়ুবের বিদায় ঘণ্টা বেজে উঠলো! মুজিব হত্যার প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হলো।
#সংগ্রামের_নোটবুক
Click here to claim your Sponsored Listing.
