নব দিগন্ত

নব দিগন্ত

Share

কি লিখবো?
কলমে - "রক্ত"
মগজে - "বারুদের গন্ধ"!

12/06/2026

রাজনীতির ময়দানে জনপ্রিয়তা, সমালোচনা, সমর্থন কিংবা বিরোধিতা—এসব কখনোই স্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনমত বদলায়, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, আর নতুন নতুন ঘটনাপ্রবাহ সেই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করে। অনেক সময় কোনো ব্যক্তি বা জননেতা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, আবার কোনো বিতর্ক, সিদ্ধান্ত বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা কি সত্যিই চিরতরে হারিয়ে যায়, নাকি তা কেবল সময়ের প্রভাবে আড়ালে চলে যায়?
ইতিহাস বলছে, বহু ব্যক্তি এমন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন যখন তাঁদের জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে কাজ, আচরণ এবং মানুষের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে তাঁরা আবার মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে সততা, নিষ্ঠা এবং বাস্তব কাজের মূল্যায়ন।
এই প্রেক্ষাপটে কোয়েল মল্লিককে নিয়ে নানা আলোচনা ও মতামত দেখা যায়। কেউ মনে করেন মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি আগের সেই ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা এখনও রয়ে গেছে, শুধু প্রকাশের সুযোগ কমে গেছে। আবার কেউ মনে করেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পছন্দ ও প্রত্যাশা বদলে যাওয়ায় সেই অবস্থান আর আগের মতো নেই।
আপনার কী মত? কোয়েল মল্লিকের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা কি আবার আগের মতো ফিরে আসতে পারে? নাকি সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক নতুন রূপ নিয়েছে? আপনার যুক্তিসহ মতামত কমেন্টে জানান।

10/06/2026

অজয় মুখার্জি ✅
প্রণব মুখার্জি ✅
মমতা ব্যানার্জী ❓

যাঁরা মনে করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিষ্ঠাতা নেতা দল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ঘটনা ঘটছে, তাঁদের জানা উচিত—দেশ ও রাজ্যের রাজনীতিতে এমন ঘটনা নতুন নয়।
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামী অজয় মুখার্জি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলা কংগ্রেস। আবার প্রণব মুখার্জি ১৯৮৬ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস গঠন করেছিলেন, যা পরে ১৯৮৯ সালে পুনরায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সঙ্গে মিশে যায়।রাজনীতিতে দল গঠন, দলত্যাগ, ভাঙন ও পুনর্মিলন রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। তাই কোনও নেতার দল ছাড়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান সুনিশ্চিত করা।

(এটা শুধুমাত্র বাংলার কয়টি উদাহরণ)

10/06/2026

একটা সময় মুর্শিদাবাদ শুধু একটি প্রশাসনিক জেলা ছিল না, ছিল রাজনৈতিক শিক্ষা, গণচেতনা এবং প্রগতিশীল চিন্তার এক উজ্জ্বল কেন্দ্র। এই মাটি দেখেছে ত্রিদিব চৌধুরী, ননী ভট্টাচার্য, রেজাউল করিম, সৈয়দ বদরুদ্দোজার মতো ব্যক্তিত্বদের; যাঁরা রাজনীতিকে ক্ষমতার অলিন্দে প্রবেশের পথ হিসেবে নয়, মানুষের মুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম হিসেবে দেখতেন।

সেই সময় রাজনীতি মানে ছিল মতাদর্শ। রাজনীতি মানে ছিল সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। রাজনৈতিক বিরোধ ছিল, মতপার্থক্য ছিল, তর্ক-বিতর্ক ছিল; কিন্তু মানুষের মধ্যে ঘৃণার দেয়াল তুলে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা ছিল না। নেতারা মানুষের কাছে যেতেন ভোট চাইতে নয়, মানুষের পাশে দাঁড়াতে। রাজনৈতিক কর্মীরা পরিচিত ছিলেন তাঁদের আদর্শ, ত্যাগ এবং সংগ্রামের জন্য।

আজ সেই মুর্শিদাবাদ যেন এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। আদর্শের জায়গায় এসেছে সুযোগসন্ধানিতা, নীতির জায়গায় ব্যক্তিস্বার্থ, রাজনৈতিক চর্চার জায়গায় কেবল নির্বাচনী অঙ্ক। দলবদল আজ আর ব্যতিক্রম নয়, প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। যে রাজনীতি মানুষের অধিকার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষক-শ্রমিকের জীবনযুদ্ধের কথা বলার কথা ছিল, সেই রাজনীতির বড় অংশ আজ পরিচয় ও বিভাজনের ব্যবসায় ব্যস্ত।

দেশের রাজনৈতিক পরিসরেও আজ এক বিপজ্জনক প্রবণতা স্পষ্ট। ধর্ম, জাতি এবং সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক লাভ তোলার চেষ্টা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এই রাজনীতি শুধু গণতন্ত্রের জন্য নয়, ভারতের বহুত্ববাদী চেতনার জন্যও এক বড় চ্যালেঞ্জ।

এই পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা নতুন করে স্মরণ করা জরুরি। কারণ এই জেলার রাজনৈতিক ঐতিহ্য আমাদের শেখায়—মানুষকে বিভক্ত করে নয়, ঐক্যবদ্ধ করেই সমাজের অগ্রগতি সম্ভব। ত্রিদিব চৌধুরীরা আমাদের শিখিয়েছেন রাজনীতি মানে মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো। ননী ভট্টাচার্যরা শিখিয়েছেন নীতির সঙ্গে আপস না করার সাহস। রেজাউল করিমরা দেখিয়েছেন ধর্মনিরপেক্ষতা শুধু একটি শব্দ নয়, একটি জীবনদর্শন।

আজ মুর্শিদাবাদের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি ঘৃণা, বিভাজন ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণ করব, নাকি আমাদের গৌরবময় রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করব? আমরা কি রাজনৈতিক চরিত্রহীনতার এই অন্ধকারকে মেনে নেব, নাকি নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেব আদর্শ, যুক্তিবাদ, সম্প্রীতি এবং প্রগতির রাজনীতি?

মুর্শিদাবাদকে বাঁচাতে হলে, সমাজকে বাঁচাতে হলে, বাংলাকে বাঁচাতে হলে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে মানুষের পরিচয় তার ধর্ম নয়, তার নাগরিকত্ব; তার ভোট নয়, তার অধিকার; তার সম্প্রদায় নয়, তার মানবিক মর্যাদা।

সময় এসেছে আবার ত্রিদিব চৌধুরীদের রাজনীতি, ননী ভট্টাচার্যদের সততা, রেজাউল করিমদের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা এবং প্রগতিশীল গণআন্দোলনের ঐতিহ্যকে নতুন করে ধারণ করার।

কারণ ইতিহাস কখনও শূন্যস্থান পছন্দ করে না। যদি আদর্শের রাজনীতি পিছিয়ে যায়, তবে বিভেদের রাজনীতি সেই জায়গা দখল করে নেয়। তাই মুর্শিদাবাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই আসলে তার রাজনৈতিক আত্মাকে পুনরুদ্ধারের লড়াই।

আসুন, আমরা আবার এমন এক মুর্শিদাবাদ গড়ার স্বপ্ন দেখি—যেখানে রাজনীতি হবে মানুষের জন্য, সমাজের জন্য, সম্প্রীতির জন্য; ক্ষমতার জন্য নয়।

09/06/2026

বস্তি উচ্ছেদ: সেকাল ও একাল, উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের প্রশ্ন

স্বাধীনতার পর ভারতবর্ষে নগরায়নের গতি যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে শহরমুখী মানুষের সংখ্যা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং উন্নত জীবনের আশায় গ্রাম থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহরে এসে বসতি গড়েছেন। কিন্তু শহরের পরিকল্পিত বিকাশের বাইরে থাকা এই মানুষদের বড় অংশই বস্তি, ঝুপড়ি বা অনানুষ্ঠানিক বসতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারতের নগর উন্নয়নের ইতিহাস একদিকে যেমন নতুন রাস্তা, সেতু, আবাসন ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার ইতিহাস, তেমনি বস্তি উচ্ছেদ এবং পুনর্বাসন নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কেরও ইতিহাস।

স্বাধীনতার পর কংগ্রেস শাসনামলে দেশের বড় শহরগুলিতে নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একাধিক বস্তি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। তৎকালীন সরকারের যুক্তি ছিল, অপরিকল্পিত বসতি শহরের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও পরিকাঠামোর উপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে বস্তি উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের নীতিও গ্রহণ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে বস্তি উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হয় এবং সরকারি আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু মানুষের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়। তবে বাস্তবে পুনর্বাসন সবক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের অভিযোগ ছিল, বিকল্প বাসস্থান কর্মস্থল থেকে অনেক দূরে হওয়ায় তাদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পুনর্বাসন কেবল মাথার উপর ছাদ দেওয়ার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা জীবিকা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে।

পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার দীর্ঘ ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল। এই সময় ভূমি সংস্কার, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং কৃষকদের কিছু অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বামফ্রন্ট প্রশংসা পায়। কিন্তু শহরাঞ্চলে উচ্ছেদ নীতি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ১৯৯৬ সালের ‘অপারেশন সানশাইন’। কলকাতার ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করার নামে হাজার হাজার হকারকে উচ্ছেদ করা হয়। সরকারের বক্তব্য ছিল, শহরের যান চলাচল ও নাগরিক সুবিধার জন্য এটি প্রয়োজনীয়। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং হকার সংগঠনগুলির একাংশ অভিযোগ তোলে যে জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এই উচ্ছেদ সামাজিকভাবে অন্যায়। একইভাবে কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় রেললাইন বা সরকারি জমির ধারে বসবাসকারী মানুষের উচ্ছেদ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বামফ্রন্ট সরকার অনেক ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের কথা বললেও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর রাজনীতির কথা বলা হয়। গরিব ও প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক সামাজিক প্রকল্প চালু হয়। কিন্তু নগর উন্নয়ন, রাস্তা সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প, জলাশয় সংস্কার বা অবৈধ দখল উচ্ছেদের নামে বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালিত হয়। কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকটি উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে নাগরিক সমাজের একাংশ প্রশ্ন তোলে যে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না। সরকারের দাবি ছিল আইন মেনেই কাজ করা হচ্ছে এবং বহু ক্ষেত্রেই বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশের অভিযোগ ছিল, পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তব চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। ফলে উচ্ছেদ বনাম পুনর্বাসন বিতর্ক অব্যাহত থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে ‘বুলডোজার রাজনীতি’ শব্দবন্ধটি জাতীয় স্তরে আলোচিত হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লির কিছু অংশ এবং অন্যান্য রাজ্যে অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদের নামে বড় আকারের অভিযান চালানো হয়েছে। সরকারের সমর্থকদের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অবৈধ দখল রোধ এবং নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠন, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের একাংশ অভিযোগ করেছে যে অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নোটিশ, আইনি প্রক্রিয়া এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন আদালতও বারবার উল্লেখ করেছে যে কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পুনর্বাসনের প্রশ্নকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আসলে স্বাধীনতার পর সাত দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও বস্তি উচ্ছেদের প্রশ্নে একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব থেকেই গেছে। একদিকে শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, যান চলাচলের সুবিধা এবং পরিকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে লক্ষ লক্ষ গরিব মানুষের বাসস্থান ও জীবিকার অধিকার। সরকার যেই দলেরই হোক— কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপি— প্রত্যেক সময়েই উন্নয়নের যুক্তি দেখিয়ে উচ্ছেদ হয়েছে। পার্থক্য হয়েছে মূলত পুনর্বাসনের পরিমাণ, মান এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।

প্রশ্ন হলো, উন্নয়ন কি শুধুমাত্র জমি খালি করার নাম? একটি ফ্লাইওভার, মেট্রো প্রকল্প বা আধুনিক নগর কেন্দ্র অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু সেই উন্নয়নের মূল্য যদি গরিব মানুষের মাথার উপর থাকা একমাত্র আশ্রয় হারানো হয়, তাহলে সেই উন্নয়নের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে। কারণ শহরের অর্থনীতি মূলত শ্রমজীবী মানুষদের উপর নির্ভরশীল। নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাচালক, গৃহকর্মী, হকার, পরিবহন কর্মী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা শহরের অপরিহার্য অংশ। তাদের বাদ দিয়ে কোনো শহরের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তাই বস্তি উচ্ছেদ নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত পুনর্বাসন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি এবং ভারতের সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী, মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো উচ্ছেদের আগে বিকল্প বাসস্থান, বিশুদ্ধ জল, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বাসনকে দয়া বা অনুগ্রহ হিসেবে নয়, নাগরিক অধিকার হিসেবে দেখতে হবে।

সেকাল হোক বা একাল, উচ্ছেদের ঘটনাগুলি আমাদের একটি শিক্ষা দেয়— উন্নয়ন ও মানবাধিকারের মধ্যে কৃত্রিম দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না করে উভয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শহর সুন্দর হোক, আধুনিক হোক, কিন্তু সেই শহরের নির্মাতা শ্রমজীবী মানুষদের স্থানচ্যুত করে নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন রাষ্ট্র উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবন, জীবিকা ও মর্যাদাকেও সমান গুরুত্ব দেবে। কারণ একটি সভ্য সমাজের পরিচয় কেবল তার উঁচু অট্টালিকায় নয়, বরং সবচেয়ে দুর্বল মানুষটির প্রতি তার আচরণে প্রকাশ পায়।

07/06/2026
06/06/2026

দিল্লিতে শুরু হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সমাবেশ। প্রতিবাদকারীদের হাতে সংবিধান, মুখে গণতন্ত্র, শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্ন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি তারা সরব হয়েছে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি, কর্পোরেট-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, তরুণ প্রজন্মের একাংশ এবং বামপন্থী রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা।
ঘটনাটি শুধু একটি রাজনৈতিক জমায়েত নয়; এটি বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতার এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিফলন। গত কয়েক বছরে বেকারত্ব, শিক্ষা ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন, সামাজিক বৈষম্য এবং ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে তরুণ সমাজের মধ্যে যে অসন্তোষ জমে উঠেছে, এই আন্দোলনকে তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, যে শক্তিকে কিছুদিন আগেও রাষ্ট্রবিরোধী, পাকিস্তানপন্থী বা বিশৃঙ্খলাকারী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছিল, তাদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে এখন শাসক শিবির অনেক বেশি সতর্ক। আরএসএস ও বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলেও তার ছাপ স্পষ্ট। বিরোধীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করলেও, বৃহত্তর জনমতের চাপ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের কারণে এখন অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।
দিল্লিতে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হবে না এবং অযথা গ্রেফতারের পথেও হাঁটা হবে না। অনেকেই মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থান-পতন—বিশেষ করে শাসকবিরোধী গণআন্দোলনের অভিজ্ঞতা—ভারতের শাসকদেরও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
তবে বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে। ভারতের মতো বিশাল, বৈচিত্র্যময় এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর দেশে কোনো ছাত্র-যুব আন্দোলনের পক্ষে দ্রুত ও নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো সহজ নয়। ভাষা, অঞ্চল, জাতি, ধর্ম, শ্রেণি—অসংখ্য বিভাজনের মধ্যে একটি সর্বভারতীয় জনমত গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তবুও ইতিহাস বলে, অনেক বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে ছাত্র ও তরুণদের হাত ধরেই। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন—যুবসমাজ বহুবার রাজনৈতিক ইতিহাসের গতিপথ বদলেছে।
আজকের ভারতের তরুণ প্রজন্মের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কর্মসংস্থান, শিক্ষার সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার। তারা ক্রমশ বুঝতে পারছে যে ধর্মীয় উত্তেজনা, ঘৃণার রাজনীতি বা মিডিয়ার চটকদার প্রচার বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান করে না। চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের দাবিই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই কারণেই দিল্লির এই সমাবেশকে শুধুমাত্র একটি সংগঠনের কর্মসূচি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি হয়তো সেই বৃহত্তর অস্থিরতার ইঙ্গিত, যা ভারতের একাংশের তরুণ সমাজের মধ্যে ধীরে ধীরে জমা হচ্ছে। এই ক্ষোভ কতদূর যাবে, তা সময়ই বলবে। আন্দোলন কি আরও বিস্তৃত হবে, নাকি সীমিত পরিসরেই আটকে থাকবে—সেটাও ভবিষ্যতের বিষয়।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, প্রশ্ন এবং প্রতিবাদকে আর সহজে উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। গণতন্ত্রে সেই প্রশ্নের উত্তর দমন-পীড়নের মাধ্যমে নয়, বরং সংলাপ, জবাবদিহি এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের মধ্য দিয়েই খুঁজে বের করতে হবে। ইতিহাস শেষ পর্যন্ত তাদেরই মনে রাখে, যারা প্রশ্ন করতে সাহস করে এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে জানে।

05/06/2026

বিশ্ব পরিবেশ দিবস এলেই সামাজিক মাধ্যমে হঠাৎ করে সবুজের বন্যা নেমে আসে। কেউ একটি চারা গাছ হাতে ছবি তুলছেন, কেউ আবার “গাছ লাগান, পৃথিবী বাঁচান” লিখে ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে পোস্ট করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বছরের বাকি ৩৬৪ দিন কোথায় থাকে এই পরিবেশপ্রেম? গাছ লাগানোর ছবি আপলোড করা যতটা সহজ, সেই গাছটিকে বড় করে তোলা, তার বেঁচে থাকার দায়িত্ব নেওয়া কি ততটাই সহজ?
আজ পরিবেশ দিবসে তাদের সকলকে শুভেচ্ছা, যারা সারা বছর জঙ্গল ধ্বংসের বিরুদ্ধে নীরব থেকে একদিনের জন্য পরিবেশপ্রেমী সেজে ওঠেন। গাছ লাগানোর বদলে হয়তো এসি লাগানোই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাস্তবতা হলো, একদিকে কয়েকটি চারা রোপণের প্রচার চলছে, অন্যদিকে হাজার হাজার পরিণত বৃক্ষ কেটে রাস্তা, শিল্পাঞ্চল, আবাসন ও কর্পোরেট প্রকল্পের জন্য জায়গা তৈরি করা হচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সাধারণ মানুষকে দোষ দিয়ে দায় এড়ানো যায় না। সরকারগুলিরও বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। উন্নয়নের নামে যখন বিস্তীর্ণ বনভূমি উজাড় হয়, পাহাড় কাটা হয়, নদী দখল হয়, তখন পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। কর্পোরেট মুনাফার স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের যে প্রবণতা গত কয়েক দশকে বেড়েছে, তা পৃথিবীর জলবায়ু সংকটকে আরও গভীর করেছে।
আমরা ভুলে যাচ্ছি যে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ কেবল অক্সিজেনই দেয় না; এটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর রক্ষা করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং অসংখ্য জীবজন্তুর আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। একটি শতবর্ষী বটগাছ কেটে তার পরিবর্তে দশটি চারা লাগিয়ে কখনও সেই ক্ষতি পূরণ করা যায় না। কারণ প্রকৃতি সংখ্যার হিসাব বোঝে না, বোঝে ভারসাম্য।
আজ পৃথিবীর বহু অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা, জলসংকট ও অস্বাভাবিক আবহাওয়া মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করছে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দীর্ঘস্থায়ী খরা, মরুকরণ ও বনভূমি ধ্বংসের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্য ও পানীয় জলের সংকটে ভুগছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সেখানে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। যদি আমরা এখনই সতর্ক না হই, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের দেশও একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, টেকসই উন্নয়নই হতে হবে রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।
পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ভাবতে হবে। কারণ দূষিত বাতাস শ্বাস নেওয়ার আগে মানুষের পরিচয় জানতে চায় না, খরা বা বন্যাও কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক-প্রতিপক্ষ আলাদা করে না। পরিবেশ ধ্বংসের মূল্য সবাইকে সমানভাবে দিতে হয়।
তাই আজ প্রয়োজন প্রতীকী কর্মসূচির নয়, বাস্তব উদ্যোগের। গাছ লাগাতে হবে, কিন্তু সেই গাছ বাঁচানোর ব্যবস্থাও করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে, স্কুল-কলেজ ও সামাজিক সংগঠনগুলিকে গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে, এবং সাধারণ মানুষকে নিজের এলাকায় গাছ কাটার বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।
সরকারের কাছে আমাদের দাবি স্পষ্ট—বনভূমি রক্ষা করতে হবে, নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে, পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষাকে কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে এবং কর্পোরেট স্বার্থের আগে মানুষের ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়ন এমন হতে হবে যা প্রকৃতির সঙ্গে সংঘর্ষ নয়, সহাবস্থান নিশ্চিত করে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে তাই শুধু ছবি তুলে পোস্ট করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। একটি গাছ লাগানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই গাছকে বাঁচিয়ে রাখা। কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা কেবল একটি দেশ নয়, একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়ার দায় বহন করি।
পরিবেশ দিবসের প্রকৃত শপথ হোক—“গাছ লাগাব, গাছ বাঁচাব, জঙ্গল রক্ষা করব, উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব।” স্ট্যাটাসের সবুজ নয়, বাস্তবের সবুজই পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে।

03/06/2026

চারিদিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে—রাস্তা চকচকে, স্টেশন সাজানো, বাসস্ট্যান্ড নতুন রূপ পাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, মানুষের মন কি পরিষ্কার হচ্ছে?
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু উন্নয়নের নয়, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা। যখন ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হয়, তখন সমাজের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। ভোটের রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণকে হাতিয়ার বানানো হলে সাধারণ মানুষের আসল সমস্যাগুলি—বেকারত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষকের দুর্দশা, মূল্যবৃদ্ধি—আড়ালে চলে যায়।
একইভাবে বুলডোজার রাজনীতি কোনো গণতান্ত্রিক সমাজের সমাধান হতে পারে না। আইন ও বিচারব্যবস্থার পরিবর্তে শক্তির প্রদর্শন গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। একজন নাগরিকের অধিকার আদালত ও সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত হবে, বুলডোজারের মাধ্যমে নয়।
পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য হলো সম্প্রীতির। এখানে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান-শিখ সকল সম্প্রদায় যুগের পর যুগ একসঙ্গে বসবাস করেছে। তাই বাংলার রাজনীতির মূল সুর হওয়া উচিত ঐক্য, মানবতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ; বিভাজন, ঘৃণা ও প্রতিহিংসা নয়।
রাস্তা পরিষ্কার করলেই সমাজ পরিষ্কার হয় না। সমাজ পরিষ্কার হয় যখন ঘৃণার বদলে ভালোবাসা, বিভেদের বদলে ঐক্য এবং বুলডোজারের বদলে সংবিধানের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

20/05/2026

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত “মহেশ” বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও হৃদয়স্পর্শী ছোটগল্প। এটি মূলত দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা এবং মানুষের অসহায় জীবনের করুণ চিত্র তুলে ধরে।
গল্পের সংক্ষিপ্তসার
গল্পের প্রধান চরিত্র গফুর — একজন দরিদ্র মুসলিম কৃষক। তার একমাত্র মেয়ে আমিনা এবং একটি গরু “মহেশ”কে নিয়ে তার ছোট সংসার। মহেশ শুধু একটি গরু নয়, গফুরের পরিবারের সদস্যের মতো।
কিন্তু চরম দারিদ্র্য, খরা ও অনাহারের কারণে গফুর মহেশকে ঠিকমতো খাওয়াতে পারে না। গ্রামের জমিদার ও সমাজের প্রভাবশালীরা গফুরের দুঃখ বোঝার বদলে তাকে অপমান করে। একসময় ক্ষুধার্ত মহেশ অন্যের জমিতে ঢুকে পড়লে গফুর অপমানিত ও ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে। রাগের মাথায় সে মহেশকে আঘাত করে ফেলে, এবং সেই আঘাতেই মহেশ মারা যায়।
শেষে গফুর নিজের ভুল বুঝতে পারে, কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকে না। গভীর শোক ও হতাশা নিয়ে সে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।🥲

Want your business to be the top-listed Government Service?

Website