Official page of Bangladesh Islami Chhatrashibir, Dhaka City South
⇲ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ⇱
⋮⋮ মানুষের পরিচয়
আমরা মানুষ, সৃষ্টির অন্যতম সেরা জীব। মহান আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য ছোটো-বড়ো সৃষ্টির মধ্যে মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সব সৃষ্টিকেই তিনি একটি নিয়মের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষকে তিনি ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানুষ তার সাধ্যের মধ্যে যা চায় তাই করতে পারে। এ স্বাধীনতা দেওয়ার সাথে সাথে তিনি মানুষকে করেছ
েন তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি। মানুষ সৃষ্টির আগে তিনি ফেরেশতাদের ডেকে বলেন, “আমি পৃথিবীতে আমার খলিফা বা প্রতিনিধি প্রেরণ করব” (সূরা আল বাকারা : ৩০)। খলিফার কাজ হচ্ছে মনিবের প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করা এবং পরে প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরই কাছে জবাবদিহি করা।
⋮⋮ জীবন বিধান ইসলাম
আল্লাহ মানুষকে দুনিয়ায় পাঠালেন। সাথে দিলেন তাঁর পক্ষ থেকে হেদায়াত। মানুষ যখনই তাঁর দেওয়া হেদায়াত ভুলে পথভ্রষ্ট হয়েছে তখনই আল্লাহ পাঠিয়েছেন নবী বা রাসূল। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা); তিনি খাতামুন্নাবিয়্যিন, সাইয়্যেদুল মুরসালিন। তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না। তিনি মানুষের কাছে নিয়ে এসেছেন হেদায়াত গ্রন্থ আল-কুরআন। আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবনব্যবস্থা ইসলামকে তাঁর মাধ্যমে পরিপূর্ণতা দান করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং আমার নেয়ামত পূর্ণ করলাম” (সূরা আল মায়েদা : ৩)।
⋮⋮ মুসলমানের পরিচয়
ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ করা। তাই মানুষের মধ্যে যারা ইসলাম কবুল করে বা আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে তাদের বলা হয় ‘মুসলিম'। কেবল মুসলমানের ঘরে জন্ম নিলেই কেউ মুসলমান হয় না, যতক্ষণ না সে ঈমান আনে ও ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলে। আবার কাফের মুশরিকদের ঘরে জন্ম নিয়েও কেউ যদি ঈমান আনে এবং ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলে তবে সেও মুসলিম হিসেবে গণ্য হয়। মানুষের মধ্যে মুসলিমরা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। কুরআনের ভাষায়, “তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে" (সূরা আলে ইমরান : ১১০)। অন্য স্থানে বলা হয়েছে, “তোমাদেরকে মধ্যমপন্থি জাতি হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তোমরা মানুষের জন্য সত্যের সাক্ষ্য হতে পার” (সূরা আল বাকারা : ১৪৩)।
⋮⋮ কিন্তু,
আজ মানুষ ভুলে গেছে তার পরিচয়। মুসলমান বিস্মৃত হয়েছে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। ফলে জলেস্থলে সর্বত্র চলছে অনাচার, অবিচার ও অশান্তির প্রবলস্রোত। মানুষে মানুষে চলছে হানাহানি, কাটাকাটি ও হিংসা-বিদ্বেষ। অসংখ্য বনি আদম অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। মানবরচিত বিভিন্ন মতবাদ যেমন সমাজতন্ত্র, বস্তুবাদ, পুঁজিবাদ, সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ, নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ধ্বজাধারীদের অসারতা এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের চরম ব্যর্থতা সকলের সামনে আজ দিবালোকের মতো ফুটে উঠেছে। পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে শোষণ ও বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে চলছে সভ্যতা বিধ্বংসী মারণাস্ত্রের প্রতিযোগিতা। যাদের মুখে শোনা যায় শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষার অমিয় বাণী তারাই দেশে দেশে চালাচ্ছে আগ্রাসন এবং ধ্বংসযজ্ঞ। নির্যাতিত ও নিপীড়িত অসহায় মানুষ আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করছে মুক্তির জন্য। মুসলমানদের অবস্থাতো আরো করুণ; বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে ইসলাম বিদ্বেষী শক্তি। দিকে দিকে মুসলমানদের ওপর চলছে ইসলাম বিরোধী শক্তির নিষ্ঠুর নিধন অভিযান। এ ব্যাপারে মুসলমানদের কোন ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা নেই, নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। তাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে দিন দিন ষড়যন্ত্র তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। যদিও দেশে দেশে ইসলামী পুনর্জাগরণ আন্দোলন আশার নবদিগন্ত উন্মোচন করে চলেছে, আলহামদুলিল্লাহ।
⋮⋮ একদিন,
সব মানুষকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। ফিরে যেতে হবে মহান আল্লাহর কাছে। কিয়ামতের প্রবল প্রলয়ে সমস্ত কিছু ধ্বংসের পর মানুষের ভাল-মন্দের বিচারের সময় এসে যাবে। সেদিন অবশ্যই সকলকে দুনিয়ায় থাকা অবস্থায় তার ভূমিকা ও কাজ সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। সেদিন যাদের ভাল কাজের পরিমাণ বেশি হবে তারাই মুক্তি পাবে, পুরস্কার হিসেবে পাবে চির শান্তির জান্নাত। আর যাদের মন্দ কাজের পাল্লা ভারী হবে, তারা পাবে অবর্ণনীয় আজাবে ভরপুর চির দুঃখের জাহান্নাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তারপর যার (ভালো কাজের) পাল্লা ভারী হবে, সে মনের মতো সুখী জীবন লাভ করবে। আর যার (ভালো কাজের) পাল্লা হালকা হবে, তার আবাস হবে গভীর খাদ। আর তুমি কি জানো সেটি কী? (সেটি) জ্বলন্ত আগুন” (সূরা আল কারিয়াহ : ৬-১১)।
⋮⋮ তাই,
জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি এবং চিরস্থায়ী জান্নাত লাভের পথনির্দেশনা আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন। তাঁর কালামের ভাষায়, “তোমরা আল্লাহর রাস্তায় জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম করো। এটিই হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝ। তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করা হবে, আর তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; যার তলদেশে আছে ঝর্ণাধারা” (সূরা আস সফ : ১১-১২)।
⋮⋮ সুতরাং,
আজকের এই অবস্থায় আমাদের উচিত ইসলাম সম্পর্কে জানা, কুরআন-হাদিস পড়া, মানুষের মুক্তির জন্য আল্লাহর পথে প্রাণান্ত চেষ্টা চালানো এবং সৎ কাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎ কাজ হতে বিরত রাখা। কিন্তু এ কাজটি একা একা করা যায় না। এজন্য প্রয়োজন সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা। আল্লাহ বলেন, “তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর: পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না” (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)। হযরত উমর (রা) তাই বলেছেন, “সংগঠন ছাড়া ইসলাম হয় না।”
আমাদের দেশের অবস্থা বড়ই নাজুক। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এখনও দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে। অধিকাংশ মানুষের জীবনে নেই নিরাপত্তা, নেই সুখ, নেই শান্তি, নেই কোনো আদর্শের ছবি। আমাদের শিশু কিশোররা গড়ে উঠছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও অনৈতিকতার চর্চার মধ্য দিয়ে। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও মাদকের কালো থাবায় জাতি আজ জর্জরিত। সেক্যুলার ও নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষাব্যবস্থা জাতিকে নিয়ে যাচ্ছে এক অনিশ্চয়তার দিকে। এ অবস্থা চলতে দিলে জাতির ভবিষ্যৎ গাঢ় অন্ধকারময়। এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজন একদল সচেতন লোকের। তাই মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকার জন্য এবং দেশের তরুণ ছাত্রসমাজকে সৎ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও আদর্শ চরিত্রবানরূপে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তরুণ ও মেধাবী ছাত্রদের সংগঠন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
⋮⋮ ছাত্রশিবিরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সা.) প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী মানুষের সার্বিক জীবনের পুনর্বিন্যাস সাধন করে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন।
⋮⋮ কর্মসূচি
উল্লেখিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রণয়ন করেছে বিজ্ঞানসম্মত পাঁচ দফা কর্মসূচি -
১। দাওয়াত : তরুণ ছাত্রসমাজের কাছে ইসলামের আহ্বান পৌঁছিয়ে তাদের মাঝে ইসলামী জ্ঞানার্জন এবং বাস্তব জীবনে ইসলামের পূর্ণ অনুশীলনের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা।
২। সংগঠন : যেসব ছাত্র ইসলামী জীবনবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিতে প্রস্তুত, তাদেরকে সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করা।
৩। প্রশিক্ষণ : এই সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ ছাত্রদেরকে ইসলামী জ্ঞান প্রদান এবং আদর্শ চরিত্রবানরূপে গড়ে তুলে জাহেলিয়াতের সমস্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী হিসেবে গড়ার কার্যকরী ব্যবস্থা করা।
৪। ইসলামী শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্র সমস্যা সমাধান : আদর্শ নাগরিক তৈরীর উদ্দেশ্যে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন সাধনের দাবিতে সংগ্রাম এবং ছাত্রসমাজের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান।
৫। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ : অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং সাংস্কৃতিক গোলামী হতে মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।
দেশের প্রতিটি জনপদে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শিবির একজন তরুণকে একই সাথে একজন ভাল ছাত্র ও একজন ভাল মুসলমান হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করে। ইসলাম সকল মানুষের কল্যাণের জন্য; তাই ইসলামী ছাত্রশিবির মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সবার কাছে ইসলামের সুমহান সৌন্দর্যকে সুন্দরভাবে তুলে ধরার কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এই সুন্দর কর্মসূচি ও চরিত্রবান কর্মীদের প্রতি দিন দিন জনসমর্থন বাড়ছে। আসুন, আপনিও শিবিরের পতাকাতলে সমবেত হয়ে নিজেকে গড়ে তুলুন সুন্দর ও যোগ্যতম ব্যক্তি হিসেবে। শরিক হউন, ইহকাল ও পরকালের মুক্তিকামী মানুষের এই কাফেলায়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জানতে হলে পড়ুন
¦ সংবিধান
¦ কর্মপদ্ধতি
¦ ছাত্রসংবাদ
¦ আমরা কী চাই কেন চাই কেন চাই কীভাবে চাই?
¦ মুক্তির পয়গাম
¦ এসো আলোর পথে
#Current Central President:
Monzurul Islam
#Current Secretary General:
Jahidul Islam
#Alauddin Abir
Current President,
Shibir Dhaka City South.
#Helaluddin Robel
Current Secretary,
Shibir Dhaka City South.
28/05/2026
পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আদিলের পরিবারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং তাঁর কবর জিয়ারত করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদের গর্বিত পিতা, মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।
27/05/2026
تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ
পবিত্র ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
24/05/2026
একনজরে শাখা সেক্রেটারিয়েট এবং থানা সভাপতি ভ্রমণ-২০২৬
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ
16/05/2026
একনজরে দুই দিনব্যাপী “সদস্য শিক্ষাশিবির-২০২৬” || বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ
16/05/2026
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘সদস্য শিক্ষাশিবির-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহানগর সভাপতি দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল জব্বার ও মাহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম এবং ছাত্র অধিকার সম্পাদক মহিবুর রহমান মুহিব।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আহসান হাবিব ইমরোজ।
এছাড়াও ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় এবং শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
15/05/2026
ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ ও পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাইয়ের ওপর অগণতান্ত্রিক বিধিনিষেধ জারির প্রতিবাদ
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্বাচন-উত্তর পরিকল্পিত সহিংসতা এবং সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত সরকার কর্তৃক কঠোর বিধিনিষেধের অজুহাতে পরোক্ষভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ১৫ মে (শুক্রবার) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার ভারতে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার, খাদ্যাভ্যাস ও বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের ওপর ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানা হচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার কর্তৃক রাস্তাঘাট বা উন্মুক্ত স্থানে গবাদিপশু জবাই নিষিদ্ধ করা এবং তথাকথিত ফিটনেস সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা আরোপ মূলত মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলার একটি বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে সামনে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। এমন সময়ে অবাস্তব বিধিনিষেধ জারি করা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত।”
নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভয়াবহ জুলুম-নির্যাতন শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা APCR-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের পরপরই কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলমানদের লক্ষ্য করে ৩৪টিরও বেশি সুপরিকল্পিত সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অসংখ্য মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি পবিত্র মসজিদে বর্বরোচিত হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।”
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ভারতে উগ্রপন্থী শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। আসামে বিতর্কিত এনআরসি ও সিএএ আইনের মাধ্যমে লাখ লাখ মুসলিমকে নাগরিকত্বহীন করার ষড়যন্ত্র, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করে উপত্যকাটিকে অবরুদ্ধ কারাগারে পরিণত করা, ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস, বিতর্কিত ‘ওয়াকফ বিল’-এর মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় সম্পদ কেড়ে নেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রাচীন মসজিদ ও উপাসনালয় ভাঙচুর ও দখলের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। ভারতের মাটিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান এই পদ্ধতিগত নির্যাতন এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর চলমান সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান এবং গরু জবাইয়ের ওপর জারি করা বৈষম্যমূলক কালো আইন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভারতীয় মুসলিমরা আজ একা নন; বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মুসলিম উম্মাহ তাদের পাশে রয়েছে এবং গভীরভাবে তাদের এই পরিস্থিতির প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। একই সাথে তারা জাতিসংঘ, ওআইসি (OIC), আরব লীগসহ সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ববাসীকে ভারতের মাটিতে মুসলমানদের ওপর চলমান এই জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর এবং জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
13/05/2026
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে “থানা সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক কর্মশালা–২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম।
12/05/2026
১১ মে ঐতিহাসিক কুরআন দিবস উপলক্ষে হাফেজে কুরআন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা।
শাখা সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. খলিলুর রহমান মাদানী।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় মাদরাসা সম্পাদক আলাউদ্দিন আবির।