18/05/2026
পেলে কি করবেন 🙂
আমরা আমাদের জন্মভুমিকে ভালবাসি।
বরিশাল আমাদের গর্ব আমাদের অহংকার।
18/05/2026
পেলে কি করবেন 🙂
17/05/2026
14/05/2026
শশা কত নাম্বার!
12/05/2026
মাঝে কোন বর্ণ বসালে ৬ টি শব্দই পূর্ণ হবে মনে হয় আপনার!
12/05/2026
নাম— আফরোজা খানম, বয়স— ৬১ বৎসর
পিতা— শহীদ আবুল বাসার সিকদার,
ডাক নাম—মনির, মাতা— সেতারা বেগম
সাক্ষাৎকারের স্থান— নিউ হাউজ রোড, বাংলা বাজার
১৬.০৯.২০১৮, রাত ৪.২ মি.
উপজেলা— মেহেন্দিগঞ্জ, জেলা— বরিশাল
ঐতো ১৭ই সেপ্টেম্বর আনুমানিক সকাল ৮টায় হত্যা করছে। আমরা আগের দিন করছি কি, মুক্তিযোদ্ধারা আইস্যা বলছে আপনারা গ্রাম খালি কইর্যা দেন, এইখানে আমরা ফাইট করমু। আমাদের গ্রামে একটা খালের মতো আছে পাশেই, খালের একপারে মুক্তিযোদ্ধা অন্য পারে নকশাল পার্টি থাকার কথা, মেলেটারিরা নামলে তারা আক্রমণ করবে। পুরা গ্রাম খালি কইর্যা রাখছে। আমার চাইর নম্বর চাচা ছিল অসুস্থ। ডাক্তার বইল্যা দিছে ৩ মাসের বেশি বাঁচবে না। উনারে লইয়া কোথায় যাই? দাদু-টাদু সবারে লইয়া আমরা তখন মামাবাড়ি যাই।ঐ মামা বাড়িতে বড়ো মামা ছিল, ওনার বিল্ডিং খালি ছিল। তারপর আব্বা বলল কবে যে দেশ স্বাধীন হবে তাতো ঠিক নাই, ঐখানে রুগি লইয়া আমরা নিজেগো খরচে থাকব। আমার বড়ো চাচা তার ফ্যামিলি লইয়া গেছে তার শ্বশুর বাড়ি। দাদা-দাদু, চাচা-চাচি সহ সবাইরে লইয়া আমরা গেলাম আমার মামা বাড়ি। যেদিন গেছি আগের দিন দেইখ্যা লই, মেলেটারিরা আবার কোথায় নামে। এইভাবে বলায় আমরা ৮টা ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। রাত্রে নৌকা ঠিক করা হইছে চই্ল্যা যাওনের লইগ্যা দাদুর বাবা বাড়িতে। কিন্তু সেদিন আর মেলেটারিরা আর ঐখানে...নামে নাই, মিথ্যা কথা বইল্যা ওরা অন্য জায়গায় নামে। আগের দিন আবার করছে কি, দাদু ওজু করতে আছে ফজর নামাজের সময় একজন বোরখা পরা লোক, আমার চাচা অসুস্থতো সেও দেখে, আব্বায় বলে কে আসবে? তয় আমাগো এইখানে থাকা ঠিক হইবে না। সকাল আটার সময় মেলেটারিরা আসে, পাশের বাড়ির তোন ওরা দৌড়াইয়া আইস্যা খবর দেয় আমনেরা যান গিয়া মেলেটারি আমাগো ওইখানে আসছে। আমার চাচা ছিল দরজার কাঁচাড়িতে। আর দাদু আর চাচারা দৌড়াইয়া বাড়িতে আসতেছিল। লোকেরা আইস্যা কয় মেয়া যান কৈ, মেলেটারিরা আসতেছে। চাচায় কয় কই না বাপ, মায় অসুস্থ, ছোড ভাইডা অসুস্থ দেহি। উনি আবার আগের রাইতে আসছে। খারাপ অবস্থা দেইখ্যা রইছে ‘কয় আমার মনডা খারাপ যাইতে ইচ্ছা করে না।’ মায় কয় থাকেন ভাইর বেটিগো লগে গল্প করতে করতে সময় কাইট্টা যাইব। মৃত্যুতে টাইন্যা আনছে। শেষে তো ওই ভাবে গেছে। সকাল ৮টার সময় মেলেটারিরা সব আসছে। আব্বায় বলে আপনারা বসেন চা, টা খান। ওরা কয় না আমরা অপারেশনে নামলে চা-টা খাই না।এর মধ্যে দাদায় দেখে কি এক বোরখা পড়া মানুষ আইছে। আমার বাবারে কয় কি এ দোখি, মুক্তিযোদ্ধা? মেলেটারিরা কয়, সঠিক বলেন মুক্তিযোদ্ধা কিনা। আমার বাবারে বলছে, মেলেটারিরা বোরখা ধইরা কয় সঠিক বলেন? বলে ‘হ’। ঐ যে বোরখা ধরছে আমার দাদায় দেইখ্যা ফালাইছে। তারপর তো চই্ল্যা গেল। তারপর সবাইরে বানছে। এদিকে আমার অসুস্থ চাচা, যে বসা থেকে উঠতে পারে না সে দৌড়াইয়া লেট্রিনে গেছে। পায়খানা করার জন্য যায় নাই, ভয়ে পলাইতে গেছে। দাদু কয় কি তুই কতক্ষণ লেট্রিনে থাকবি। এর মধ্যে রাজাকারেরা দেইখ্যা ফালাইছে। সবাইরে বানছে, পরে আইস্যা উঠানে সবারে আনার পর দেখে ৫ জন। আব্বার মন খারাপ, আব্বায় কয়কি এদেরকে ছাইড়া দেন। আমার চাচাতো নানায় কয় এদেরকে ছাইড়া দেন দেখেন এরা আমার বাসায় বেড়াইতে আসছে, আমার জামাই, পুতরা, এরা দোষি নয়, এদেরকে ছাইর্যা দেন। আমার তিনকাল গিয়া এককাল আছে এদেরকে ছাইর্যা দেন। এরা কোনো দুষি না। আমার বাসায় বেড়াইতে আইছে। কাকায় অসুস্থ দেইখ্যা পাকিস্তানিরা বলে এইডা তো মইরা যাইবে এরে ছাইর্যা দেন।রাজাকারেরা কয় না এইডা সবচেয়ে দুষ্ট। বাইচ্যা থাকলে এইডা সাক্ষী হইয়া থাকবে। রাজাকারেরা ছিল পিছনে, সামনে, পাকিস্তানি বাহিনী মাঝখানে। এইভাবে তো সবাহকে নিয়া গেল। আমরা বাগানে ছিলাম। হঠাৎ শুনি কয়েকটা গুলির শব্দ। সবাই কয় শুইয়া পর, শুইয়া পর। আমার মেজ বোন তো কাইন্দা ফালাইছে, আব্বারে মনে হয় মাইর্যা ফালাইছে। কামলারা আইস্যা বলছে জামাইগোরে মাইর্যা...ফালাইছে। জাল বায় ওরা আইস্যা খবর দিছে রাস্তার পাশে যে কূপ আছে ঐখানে ৫ জনের লাশ ফালাইয়া রাখছে। আব্বায় বলছিল আমরা যদি দোষি হই আমাগোরে থানায় নিয়া যান। তারা শোনে নাই। আমারে মারলে মারেন আমার ছোটো দুই ভাইরে ছাইর্যা দেন। আমার বড়ো ভাই আসছে বেড়াইতে আমার অসুস্থ ভাইরে দেখতে। তারেও ছাইর্যা দেন। আলবদররা সামনে ওরা মাঝখানে আর রাজাকারেরা থাকত পেছনে। অনেক অনুরোধ করছে বাজারে নিয়া যাইতে। রাজাকারে শোনে নাই। আমার ছোড চাচার একজন ক্লাসমেট আছিল, বলে ফরিদ একজন নিরীহ মানুষ ওরে বানছে কেন? রাজাকারদের একজন তারে ধইরা রাখছে। আগুন দিছে ঘরে, মানুষেরা পানি দিয়া নিভাইছে। কেউ লাশের কাছে যায় না। অনেক খবর টবর নিয়া মেলেটারিদেব যাওয়ার কথা শুনে আমরা বাইরে আসলাম।আমার বড়ো মামা শান্তি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিল কিন্তু কোনো কাজের মধ্যে ছিল না। যেদিন মেলেটারি আসে তা-ও সে জানতো না। আমার ছোড মামা কয় এগোরে আমি লাশ দেখাইতে পারুম না। কিভাবে দেখামু এতগুলো লাশ। আমরা লাশ দেখি নাই। দাফন করছে দাদা আর ছোড মামা, চাষ বাসের লোকেরা আর বড়ো চাচার শালা, আব্বার বাল্যবন্ধু ইসমাইল, দাদুর চাচাতো ভাই এরা মিলে দাফন করে। অনেকের আত্মীয় স্বজনেরা আসতে দেয় নাই। অনেক রাত্রে লাশ নৌকা দিয়া বাড়িতে আনে, অল্প কয়েকজনে অনেক রাত্রে দাফন করে।
মুক্তিযুদ্ধে মেহেন্দিগঞ্জ: গণহত্যা ও নির্যাতন ॥ ৩৬
মুক্তিযুদ্ধে মেহেন্দিগঞ্জ: গণহত্যা ও নির্যাতন ॥ ৩৭
মুক্তিযুদ্ধে মেহেন্দিগঞ্জ: গণহত্যা ও নির্যাতন ॥ ৩৮
08/05/2026
🎉 Facebook recognized me for starting engaging conversations and producing inspiring content among my audience and peers!
সবকিছুর উপরে মহান রবের অশেষ শুকরিয়া। শুভ সকাল।