Birganj Upazila Awami League/ বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ

Birganj Upazila Awami League/ বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ

Share

গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ।

31/05/2026

#শোক_সংবাদ

26/05/2026
Photos from Birganj Upazila Awami League/ বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ's post 20/05/2026

17/05/2026

আল্লাহর দোহাই দিয়ে গরিবের ভাত চুরি, এটাই জামায়াতের "ইসলাম" চর্চা!

জামায়াত নিজেদের ইসলামী দল দাবি করে। অথচ এই দলেরই এক ইউনিট আমিরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ৯৯ বস্তা সরকারি চাল। চালগুলো গরিবের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে মজুদ করা হয়েছিল নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজব্বার ইউনিয়নে। অভিযুক্ত আবদুস সামাদ, জামায়াতের ওয়ার্ড আমির, এখন আত্মগোপনে। প্রশ্ন একটাই, কোন ইসলামে গরিবের খাবার চুরি করে কালোবাজারি করা জায়েজ?

ঘটনার গুরুত্ব শুধু চাল চুরিতে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন ভোটের নামে পুরো জাতির সাথে প্রতারণা করে এক অংশগ্রহণবিহীন তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে বিএনপি-জামায়াত জোট। ফেব্রুয়ারি থেকে মে, এই চার মাসে দেশ দেখেছে দুর্নীতির কী নগ্ন মহড়া। চাল চুরি তারই সর্বশেষ সংযোজন। যে দলগুলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, তারা জনগণের খাবার লুটবে, এটাই স্বাভাবিক। বৈধতা না থাকলে জবাবদিহির প্রশ্নও আসে না।

আরেকটি বিষয় চোখে লাগার মতো। জামায়াত বারবার বলে বেড়ায় তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে। অথচ এই দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটা অংশ যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হয়েছে, বাকিরা এখনো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এড়াতে মরিয়া। এই প্রেক্ষাপটে একজন স্থানীয় আমিরের চাল চুরির ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, এটা তাদের রাজনৈতিক চরিত্রেরই প্রতিচ্ছবি। প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতি আর সন্ত্রাসকে ইসলামের চাদরে মুড়িয়ে সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে জিম্মি করাই তাদের কৌশল।

সুবর্ণচরের ঘটনায় স্থানীয়রা জানিয়েছে, এই চাল দীর্ঘদিন ধরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। কেউ প্রতিবাদ করলে থামিয়ে দেয়া হতো দলীয় প্রভাবে। জামায়াতের তথাকথিত নৈতিকতার বুলির পেছনে এটাই বাস্তবতা। যেখানে গরিব মানুষ সরকারি চাল পেতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে দলের আমির বসে বসে সেই চালের বস্তায় ফুলে ফেঁপে ওঠা লাভ গুনছেন।

মানুষের কষ্টের দিনে, ঈদের আগে এই কাণ্ড শুধু অপরাধ নয়, এটা বিবেকহীনতার চূড়ান্ত নমুনা।

https://www.agamirsomoy.com/country/fq6htwqpk7hp

Photos from Birganj Upazila Awami League/ বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ's post 15/05/2026

#বিনম্র_শ্রদ্ধা_বীরচট্টলার_বীর

বীর চট্টলা বাসী চাইলে আজ ইউনুস সহ বিগত সময়ে যারা মব করেছিলো চট্টগ্রাম শহরের তাদের বাড়ি কিংবা প্রতিষ্টান গুড়িয়ে দিতে পারতো। কিন্তু আমরা তাদের মতো উগ্র নই কিংবা সাংগঠনিক ভাবে এই শিক্ষা আমাদের দেয়নি কখনো।

বীর চট্টলা বাসী জানাযা শেষে শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিল করে এটাই বীর চট্টলার আওয়ামী রাজনীতির ঐতিহ্য।

আমাদের মিছিলের ডান পাশে সেনাবাহিনীর ইউটিলিটি জিপ আটকা পড়লো। বাম পাশে পুলিশ সশস্ত্র অবস্থায় সজ্জিত।
মিছিল থেকে সেনাবাহিনীর জিপ যাওয়ার জায়গা করে দেওয়া হলো একদম প্রটোকল সহকারে।

জিপ সামনে গেলো মিছিল তবুও চললাম। পুলিশ, ডিবি, সেনাবাহিনী ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মিছিল তার গতি নিলো।
শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে।

আমরা নিষিদ্ধ হয়েও প্রসিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আমরা শান্তির বার্তা দিই। সংহতির বার্তা দিই।

06/05/2026

১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনী গঠিত না হলে বাংলাদেশ কখনোই স্বাধীন হতো না । ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য ও জাতীয় কিংস পার্টির সদস্য নাহিদুল ইসলাম যে শিশুসুলভ মিথ্যাচার জাতির সামনে করলেন, তার জবাবে এই লিখাটি তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব আপনাদের সবার ।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল সুজন সিং উবান এর নাম বাংলাদেশের অধিকাংশ তরুণ হয়তো জীবনেও শুনেনি । তাই তাদের ১০ হাজার সদস্যের মুজিব বাহিনীর কথা ও মুক্তিযুদ্ধে তাদের আত্মত্যাগের গল্প শুনে আসমান থেকে পড়তে হয়।ওরা ভাবে, আসমান থেকে ওহি এসেছে ,আর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেল !

জাসদের কথা এই দেশের তরুণ প্রজন্ম জানলেও সিরাজুল আলম খান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তা বোধহয় এই দেশের অধিকাংশ তরুণ জানে না । ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদের নাম শুনে থাকলে একটা আহম্মেকের পর্যন্ত এটা বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান না হলে ৭০ এর নির্বাচন ও ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ হয়ে কোনদিনও বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না । ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের পেছনে আরও দুজন ছাত্রনেতার ভুমিকা খুব উল্লেখযোগ্য ছিলো । ৬২ র শিক্ষা আন্দোলন , ৬৬ এর জয় দফা ও ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের আরেক নায়ক ছিলেন ১৯৬৫-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত পরপর দুইবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া আব্দুর রাজ্জাক ।
১৯৬০ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি ।
৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা মনি ভাই । এদের ইতিহাস অস্বীকার করা মানে কি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার করা নয় ⁉️

নিউক্লিয়াস নামটি কখনো শুনেছেন ⁉️

নিউক্লিয়াস না জানলে মুক্তিযুদ্ধ আপনাদের কাছে গালগল্প মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক । ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান এসে on behalf of our great national leader Bongobandhu Sheikh Mujibur Rahman বলে মাইক হাতে নিলেন , আর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেল ‼️ ভাইলোক্স, আপনারা স্বপ্নদোষের কল্পনার শহরে বসবাস করছেন । এজন্য মুক্তিযুদ্ধ শব্দটা কানে এলেই আপনাদের শাউ মাউ হাদী হয়ে বারবার স্বপ্নদোষ হয় ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ভিত্তি তৈরি হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের ৯ বছর আগে ১৯৬২ সালে " নিউক্লিয়াস " প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে । ছাত্রলীগ নেতা কাজী আরেফ , সিরাজুল আলম খান ও ছাত্রলীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এর নেতৃত্বে এই নিউক্লিয়াস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অস্ত্র হাতে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য । বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য ১৯৬৮ -৭০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সকল মহকুমা শহরে নিউক্লিয়াস গঠিত হয় । বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক জনসভায় - " প্রত্যেক মহল্লায়, প্রত্যেক গ্রামে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল" এই কথাগুলো মনে আছে ?

বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ভাষণ দিলেন , আর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেলো ! ভাইলোক্স, আপনারা নাহিদ ইসলাম , বদরুদ্দীন উমর , ফ্রড মজহার ও পিনাকী নামক বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন ।

১৯৬৪ সালে ছাত্রলীগ নেতা কাজী আরেফের পৈতৃক নিবাস পুরান ঢাকার দাস লেনে সাইকোস্টাইল মেশিন স্থাপন করা হয়।ফটোকপি মেশিন ও কম্পিউটার প্রিন্টার আবিস্কারের আগে স্টেনসিল ব্যবহার করে নথি ও প্রচার পত্রের কপি বের করা হতো এই সাইকোস্টাইল ডুপ্লিকেট মেশিনের মাধ্যমে । এখানে থেকেই ১৯৬৪ সালে তথা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সাত বছর আগে থেকেই ছাত্রলীগের নেতারা " জয় বাংলা " , " বিপ্লবী বাংলা " ও " স্বাধীনতার ইশতেহার " প্রচার করা হতো ।আজ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এসে বলছেন ,
▪️ মুজিব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধ করেনি!
▪️ ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি!
তো এসব কি জামায়াত শিবির ও বিএনপির নেতৃত্বে হয়েছে ⁉️

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৫ সালে, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে আমেরিকার নির্দেশে ও পাকিস্তানী আইএসআই এর প্রোপাগান্ডা মেশিন হিসেবে ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জামায়াত ও বিএনপি মিলে মুজিব বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা শুরু করে । সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকার স্নায়ুযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করতে খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান নামক সেনাবাহিনী শাসিত পুতুল সরকার ক্ষমতায় বসিয়ে আমেরিকা এসব গোয়েবলসীয় প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে , যা আজও অব্যাহত আছে ।

মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বাংলাদেশের পতাকা ও মানচিত্র তৈরি , ২ রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ , জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন ও জয় বাংলা বাহিনী গঠন এসব ছিলো ছাত্রলীগের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন নিউক্লিয়াসের পরিকল্পিত কাজ ।এরপর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ এসেছে।আজ যদি কেউ বলে , ছাত্রলীগ ও মুজিব বাহিনী যুদ্ধ করেনি , তবে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে -
👉 মুক্তিযুদ্ধ কি তবে তোর বাপ / দাদা করেছিল ?

বিখ্যাত সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ " নিউক্লিয়াস " সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন , ১৯৭০ সালের ১২ আগষ্ট ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় " সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ" এর প্রস্তাব করা হয় ।
বাংলাদেশের সংবিধানের সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা , বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র এসব একদিনে আসেনি । বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিউক্লিয়াস ছিলো মুজিববাদ।এই মুজিববাদকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চার খলিফা ছিলেন যথাক্রমে ছাত্রলীগের নেতা সিরাজুল আলম খান, ফজলুল হক মনি , আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ । বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছাত্রলীগ নেতা তথা " নিউক্লিয়াস" এর সাথে আলোচনা করেই করা হয়েছিল। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য ২৫ মার্চের আগেই মুজিব বাহিনী " বিএলএফ " গঠন করেছে। মুক্তিযুদ্ধ কোন হলিউড অ্যাকশন মুভির ৩ ঘন্টার চলচ্চিত্র নয় । মুক্তিযুদ্ধ সাড়ে সাত কোটি বাঙালির দীর্ঘ সাড়ে নয় মাসের রক্ত , ত্যাগ ও সংগ্রামের ২৩ বছরের ইতিহাস।এই ইতিহাসের একটি পাতাকেও অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে , মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে রাষ্ট্রদ্রোহীতা করা । ১৯৬৫ সাল থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রায় সব আন্দোলনের ঘোষণা নিউক্লিয়াস থেকে আসতো । ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করার পর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন জেলায় প্রচারে গেলেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাকে গ্রেফতার করতো । এর প্রতিবাদে ১৯৬৬ সালে ৮ মে লক্ষ লক্ষ ছাত্রলীগের জনসমাবেশে ছাত্রলীগের নেতাদের স্লোগান ছিল -

" জাগো জাগো - বাঙালি জাগো।
পিণ্ডি না ঢাকা - ঢাকা - ঢাকা"

আজ যে তথাকথিত স্বাধীনতাবিরোধীরা " দিল্লী না ঢাকা" স্লোগান দেয় এটা বাংলাদেশের ছাত্রলীগের স্লোগান থেকে চুরি করে দেয় । লুঙ্গির তলার শিবিরের মতো মাওলানা ভাসানীর ধানের শীষ চুরি করেছে বিএনপি । এজন্য চোরদের প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কোন সত্য ইতিহাস নাই । ১৯৭০ সালে ন্যাপের মাওলানা ভাসানীর ধানের শীষ চুরি করে ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতীক " ধানের শীষ" করেছিলেন । চুরি বিদ্যা যাদের জন্মগত বিদ্যা যাদের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা , মুজিব বাহিনীর অবদান অস্বীকার করাই স্বাভাবিক ।

👉 অতঃপর তোমারা " নিউক্লিয়াস" এর কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে ⁉️

জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খান ১৯৬৩-৬৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন । ছাত্রলীগের নেতা হয়েই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন । মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তোফায়েল আহমেদের সাথে এক হয়ে তিনি " বিএলএফ " তথা মুজিব বাহিনী গঠন করে মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্ব দেন ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলুল হক মনি মুজিব বাহিনীর সেনাপতি হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম , কুমিল্লা , নোয়াখালী , সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন । ছাত্রলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মুজিব বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার ও ৪ নম্বর সেক্টরে মেজর সি আর দত্তের অধীনে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন । মুক্তিযুদ্ধের সময় বরিশাল , পটুয়াখালী , যশোর , কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলা মুজিব বাহিনীর সমন্বয়ক ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ ।

" Bangladesh Liberation Force" বিএলএফ ছিলো ছাত্রলীগের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা বাহিনী। ভারতের স্পেশাল ফোর্সের ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল এস. এস. উবান ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত তাঁর " ফ্যান্টমস্ অব চিটাগাং" গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর ভুমিকা ও জনাব আব্দুল মালেক ( লোহা মালেক) ভুমিকা নিয়ে লিখেছেন ।

বাংলাদেশের ২২৩ টি থানায় মুজিব বাহিনীর কার্যক্রম ছিল। ডক্টর জাফর উল্লাহ চৌধুরীরা দীর্ঘদিন ধরেই মুজিব বাহিনীর বিরুদ্ধে নানামুখী মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত ছিলো ।" মুজিব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধ করেনি, লুটপাটে ব্যস্ত ছিলো" এমন ভয়াবহ মিথ্যাচার ছড়ানো হয়েছে যুগের পর যুগ । ভারতের ঝাড়খন্ডের দেরাদুন ছিল মুজিব বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র । এখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধের দুর্ধর্ষ গেরিলা যোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার হারুন , লোহা মালেক ও শ্রী অমল মিত্ররা চট্রগ্রাম বিভাগে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য দুর্ধর্ষ গেরিলা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন ।

৭০- এর নির্বাচনের পর পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ইয়াহিয়া গং বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে না নিলে ও ক্ষমতা হস্তান্তর করতে না চাইলে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে নিউক্লিয়াসের চার ছাত্রনেতা কে তার বাসভবনে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলেন,
" ওরা আমাদের ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না, ক্ষমতায় আমাদেরকে যুদ্ধ করে যেতে হবে । এজন্য তোমাদেরকে আমি দীর্ঘমেয়াদি গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছি"
তানভীর মোকাম্মেলের " মেগা ডকুমেন্টারি ফিল্ম ১৯৭১ " দেখলে এই বিষয়ে আপনারা আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন ।

এম আসগর খানের বই " উই হ্যাভ লার্ন নাথিং ফ্রম হিস্ট্রি : পাকিস্তান পলিটিকস অ্যান্ড মিলিটারি পাওয়ার " এর " হাও বাংলাদেশ ওয়াজ বর্ন" অধ্যায়টি পড়লে এই বিষয়ে আপনারা আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১৭ হাজার নেতাকর্মী গেরিলা যুদ্ধ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন ।
১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সংগ্রামের ইতিহাসকে অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা । মুক্তিযুদ্ধ ৩ ঘন্টার হলিউড মুভি নয় , মুক্তিযুদ্ধ সুদীর্ঘ ২৩ বছর তথা ৮৪০৫ দিন , ২ লাখ ১ হাজার ৭২০ ঘন্টা ও ৭২ কোটি ৬১ লাখ , ৯২ হাজার সেকেন্ডের সাড়ে সাত কোটি বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।এই সত্য গল্পের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । এই সত্য গল্পকে সত্য করার পেছনের অন্যতম কারিগর হচ্ছে নিউক্লিয়াস বা মুজিব বাহিনী ।
০৪-০৫-২০২৬
১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনী গঠিত না হলে বাংলাদেশ কখনোই স্বাধীন হতো না । ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য ও জাতীয় কিংস পার্টির সদস্য নাহিদুল ইসলাম যে শিশুসুলভ মিথ্যাচার জাতির সামনে করলেন, তার জবাবে এই লিখাটি তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব আপনাদের সবার ।
🇧🇩

06/05/2026

হাওয়া ভবনের উত্তরসূরিরা ক্ষমতায়, বাজারে আগুন না লেগে উপায় কি!

তুষার হার্ডওয়্যারের দোকানে কাজ করেন। বাসায় তিন সন্তান। বাজারে গিয়ে বেগুন কিনতে পারেননি একশ টাকা কেজি বলে। আধাকেজি নিয়েই ফিরতে হয়েছে। এটা শুধু তুষারের গল্প না, এটা এখন বাংলাদেশের কোটি পরিবারের গল্প। আফরোজা বেগম মাছ কিনতে গিয়ে ভয় পান। পাঙাস মাছ দুইশ থেকে দুইশ পঞ্চাশ টাকা কেজি। মুরগি কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। বাজারে ঢুকে আগে দাম শোনেন, তারপর ভাবেন কিনবেন কি না।

এই পরিস্থিতির দায় কার? সেটা বুঝতে হলে একটু পেছনে তাকাতে হবে।

এই বছরের ফেব্রুয়ারির বারো তারিখে একটা নির্বাচন হয়েছে বাংলাদেশে। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই নির্বাচনে ছিল না। জনগণ সেটা বয়কট করেছে। কিন্তু বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে, নিজেরা নিজেরা ভোট দিয়ে, ক্ষমতায় বসে গেছে। এই ক্ষমতা জনগণের দেওয়া না। জনগণ এই ক্ষমতাকে বৈধতা দেয়নি। তারপরও একটা মন্ত্রিসভা হয়েছে, মন্ত্রীরা গাড়িতে চলছেন, বক্তৃতা দিচ্ছেন। আর তুষারেরা আধাকেজি বেগুন নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

বিএনপির জন্মের ইতিহাসটা মাথায় রাখা দরকার। জিয়াউর রহমান সেনানিবাসে বসে এই দলটা বানিয়েছিলেন। গণতন্ত্রের পথে হেঁটে না, ক্ষমতার জোরে। সেই শুরু থেকেই দলটার ভেতরে একটা মনোভাব কাজ করে যে জনগণ আসলে তেমন কোনো বিষয় না, ক্ষমতাটাই আসল। পরে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে দেশের মানুষ দেখেছে দুর্নীতি কাকে বলে। হাওয়া ভবনের নাম মানুষ ভুলে যায়নি। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছাত্রদলের সন্ত্রাস, প্রশাসনে দলীয় লোক ভরানো সব মিলিয়ে সেই পাঁচ বছর বাংলাদেশের জন্য একটা দুঃস্বপ্ন ছিল। বিশ বছর পরে ২০২৬ সালে এসে মনে হচ্ছে সেই দুঃস্বপ্নটা আবার ফিরে এসেছে।

এখন যারা মন্ত্রী হয়ে বসে আছেন, তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে কী করেছেন? বেগুনের দাম একশ টাকা কেজি কেন? পাঙাস মাছ কেন দুইশ টাকা? এই প্রশ্নের জবাব তারা দিতে পারবেন না, কারণ দেওয়ার ইচ্ছা নেই। যে সরকার জনগণের ভোটে আসে না, সে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য না, এটা তারা ভালো করেই জানে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বলছে বড় মুখ করে এই সরকার। কিন্তু তুষাররা যখন বাজারে যান, সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে আছে। আড়তদাররা দাম ঠিক করছেন, খুচরা বিক্রেতারা সেই দামেই বিক্রি করছেন, আর সাধারণ মানুষ হিসাব কষছেন কতটুকু কিনলে এই মাসটা টিকে থাকা যাবে।

এই সরকারের মন্ত্রীরা যখন কথা বলেন, তখন মনে হয় দেশে কোনো সমস্যাই নেই। বক্তৃতায় উন্নয়নের কথা আসে, ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা আসে। কিন্তু আফরোজা বেগমের কথা আসে না। তুষারের কথা আসে না। তাদের কথা আসবেও না, কারণ এই মানুষগুলো এই সরকারকে ভোট দেননি, ক্ষমতায় বসাননি। তাদের কাছে দায় নেই এই সরকারের।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপির আমলে বাজারে অস্থিরতা ছিল। দ্রব্যমূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্ট ছিল। দুর্নীতি সরাসরি মানুষের পকেটে টান দিত কারণ সব জায়গায় চাঁদা দিতে হতো, সেই চাঁদার বোঝা শেষমেশ পণ্যের দামের মধ্যে এসে পড়ত। ২০২৬ সালে এসে সেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে। দলের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজির খবর আসছে, ব্যবসায়ী মহলে দলীয় প্রভাবের কথা শোনা যাচ্ছে। ইতিহাস যেন নিজেই নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে।

তুষার বলেছেন, আগে একবার বাজারে এলে দুইতিন দিনের বাজার হতো। এখন একদিনের বাজারও কষ্টকর। এই একটা কথার ভেতরে একটা সরকারের পুরো ব্যর্থতা লুকিয়ে আছে। কোনো পরিসংখ্যান লাগে না, কোনো অর্থনীতিবিদের বিশ্লেষণ লাগে না। তুষারের মলিন মুখটাই যথেষ্ট।

05/05/2026

অজান্তে যে সর্বনাশ ঘটে গেছে
--------------------------
পৃথিবীতে যত বিপ্লব-বিদ্রোহ ঘটেছে, তার পেছনে ছিল শিল্পী সাহিত্যিকদের বৌদ্ধিক প্রেরণা৷ ফরাসি বিপ্লবে যেমন রুশো মন্তেস্কু ভলতেয়ারের চিন্তা কাজ করেছে, রুশ বিপ্লবে তেমনি মার্ক্স এঙ্গেলসের।

সত্তরের দশকে পশ্চিমবঙ্গে যে বামপন্থী উত্থান হলো, তাতে মৃণাল সেন, ঋতিক ঘটক, সত্যজিতদের অবদান অস্বীকারের উপায় নেই। এঁরা জনগণকে সংবেদনশীল ও রাজনৈতিক সচেতন করে তুলেছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জহির রায়হানের "জীবন থেকে নেয়া"র অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সাতচল্লিশের দেশভাগের সময় চলচ্চিত্র এতো প্রভাববিস্তারী হয়ে ওঠেনি। তারপরও সেসময় কলকাতা নগর কাঁপিয়েছিল একটি চলচ্চিত্র- 'উদয়ের পথে'।

দরিদ্র বেকার এক তরুণ অনুপের আত্মমর্যাদাসম্পন্ন সংলাপ কলকাতার যুবকদের মুখে মুখে ফিরত। সেসময় আদর্শবাদের মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল অনুপ।

এসব চলচ্চিত্র বাংলায় সাম্যবাদী চেতনা বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। এই সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের কারণে, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করেও মার্কিন দালালরা পূর্ব বা পশ্চিম বাংলায় সুবিধা করতে পারেনি।

ষাটের দশকে আমেরিকানরা সমস্যাটা চিহ্নিত করতে পেরেছিল। তোপাখানা রোডের আমেরিকান ইনফরমেশন সেন্টার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে শিল্পী সাহিত্যিকদের ভিড়াতে লাগল। তবে তখন প্রবল জাতীয়তাবাদী চেতনার উত্থানের ফলে তারা স্পেস করে নিতে পারেনি। সুযোগটা আসে আশির দশকে আওয়ামীলীগের মতো জাতীয়তাবাদী শক্তিকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়ে।

শিল্প সাহিত্য ও চলচ্চিত্র থেকে আদর্শবাদ ও সাম্যবাদী চেতনা সরিয়ে চটকদারি বিষয় আর ভাড়ামি প্রতিস্থাপন করা শুরু হয়। প্রথমে টিভি স্ক্রিনে পরে চলচ্চিত্রে তা সফলভাবে করে দেখান হুমায়ুন আহমেদ। তবে তিনি শিক্ষিত ও সূক্ষ্ম রুচিসম্পন্ন ছিলেন। তাই বিষয়টিকে কদর্য করে তুলেন নি। ভাড়ামি ও গভীর চিন্তাকে মিলিয়ে মিশিয়ে দিয়েছিলেন।

তবে ন্যাক্কারজনকভাবে আদর্শহীন ভোগবাদী স্ক্রিন উপহার দিতে শুরু করল মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার অনুসারীরা। শূন্য দশকে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বৃন্দাবন দাস ও সালাউদ্দিন লাভলুর গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে লেখা নাটককে হটিয়ে দিয়ে তারা আনল উগ্র শহুরে জীবন। সেখানে পরকীয়া উপস্থাপিত হলো স্মার্ট জীবনের অনুষঙ্গ হিসাবে। বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ককে দেখানো হলো শহুরে সংস্কৃতির উপদান স্বরূপ। বহুগামিতাকে দেওয়া হলো সামাজিক স্বীকৃতি। গ্যাং কালচারকে আনা হলো সামাজিক বিনোদন রূপে। লিটনের ফ্ল্যাট রীতিমতো একটা আইকনিক ওয়ার্ড হয়ে গেলো। বাংলা স্ক্রিনে অনুপ অপুর বিপরীতে এলো কাবিলা পাশারা। এরা মিথ্যুক ঠগ ও প্রতারক। অন্যকে ঠকানোর মধ্যেই ওদের সাফল্য প্রতিষ্ঠিত। গালি দেওয়া আর বস্তির ভাষায় কথা বলতে পারা হয়ে গেলো সমসাময়িকতার লক্ষণ।

এই ফারুকীর হাত ধরে এলো ইফতেখার ফাহিম, আশফাক নিপুণ, রেদোয়ান রনিদের মতো আরও কিছু উন্মূল তরুন। অথচ অনেক ভালো প্রস্তুতি নিয়ে আসা তরুণ নির্মাতা মেসবাউর রহমান সুমন, শিবু চন্দ্র শিলরা এদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে গেল। ফারুকীর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলো তৌকির আহমেদ, ফেরদৌস হাসান, বৃন্দাবন দাসরা। ফারুকীরা কী ভয়ানক শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাসের সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়। রুচিসম্পন্ন জাত শিল্পীরা রুচিহীন নির্মাতাদের কারণে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজই পেত না।

এই ফারুকীর ভাই ব্রাদাররা বাংলাদেশের তরুণদের বৌদ্ধিক বিপর্যয়ে কী ভূমিকা রেখেছিল তা একদিন গবেষণার জনপ্রিয় বিষয়ে পরিণত হবে।

বাংলাদেশের তরুণ কিশোরদের সামনে আদর্শরূপে 'জীবন থেকে নেয়া' কিংবা 'সিরাজউদ্দৌলা'র আনোয়ার হোসেন রইল না, এলো 'বিহাইন্ড দ্য স্ক্রিনে'র মোশাররফ করিম। যে প্রতিনিয়ত সবাইকে ঠকাচ্ছে। এমনকি তাকে যে বিশ্বাস করে অনুসরণ করে তাকেও। স্ক্রিনে চার্লি চ্যাপলিনও চুরি করতেন। ঠকবাজিতে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। কিন্তু এর মাধ্যমে লন্ডনের নিম্নবিত্ত মানুষের টিকে থাকার লড়াই ফুটে উঠেছে। শ্রেণিদ্বন্দ্ব প্রকটিত হয়েছে। বিপরীতে ফারুকী গঙের ঠগবাজি একধরনের ভাড়ামোজাত বিনোদন।

কিশোর তরুণদের সংস্কৃতির নামে মনোবৈকল্য ধরিয়ে দিয়েছে এরা। এতে সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ায় কিশোর গ্যাং-এর জন্ম হয়েছে। এই সমাজবিনষ্টকারীরাই যখন জুলাইয়ে রাস্তায় নামে সরকার উচ্ছেদের দাবিতে, তখন বুঝতে হয়- এতোদিন যে ভাড়ামি তারা করেছিল, সেটা স্রেফ বাজারি সংস্কৃতির চর্চা ছিল না- একটা জাতিকে চিন্তায় পুঁজিবাদের দাস বানানোর চেষ্টা ছিল সেটা। এরা সম্ভাব্য প্রতিরোধকারীদের জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল আগেই। পুলিশ হত্যার পটভূমি ত 'মহানগর' ওয়েব সিরিজ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।

কিন্তু নন ম্যাট্রিক আর ভার্সিটি ড্রপ আউটরা এতো বড়ো বৌদ্ধিক বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলল কীভাবে? আসলে এদের পেছনে ছিল পাকা মাথার খেলোয়াড়েরা। যারা সোশ্যাল ডাইনামিকস বোঝে। বোঝে সাহিত্যও। লক্ষ করুন, ২০০৪-এ ফারুকীর উত্থান যে 'ব্যাচেলর' সিনেমা দিয়ে, সেটা কিন্তু আনিসুল হকের লেখা। আনিসুল হক তখন শুধু প্রথম আলোর উপ সম্পাদক নন, মার্কিন দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা মেরিনা ইয়াসমিনের স্বামীও।

ফারুকী আনিসুল হকের 'মেড ইন বাংলাদেশ' চলচ্চিত্রটা সরকার নামিয়ে দেয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে তৈরি। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র যে যুবক ডিসিকে জিম্মি করে সরকার থেকে দাবি আদায় করতে চায়, সিনেমার শুরুতে সে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। অর্থাৎ কোনো বৈপ্লবিক আদর্শ বা লক্ষ্য থাকবে না, কিন্তু সরকার ফেলে দিতে হবে। তারপর যা হওয়ার হবে। ৫ আগস্টে তার সফল পরিসমাপ্তি দেখলাম আমরা।

এই আনিসুল হক মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় মেতে ছিলেন। গণ্ডায় গণ্ডায় বই লিখেছেন। ফারুকী সস্ত্রীক মুজিব বন্দনায় মত্ত ছিল। আজ প্রশাসনের বহু কর্মকর্তা কেবল মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে বই লেখার অপরাধে অপরিমেয় নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। কিন্তু আনিসুল হক ও ফারুকীরা নির্ভার। কারণ এরা 'ট্রজন হর্স' হয়ে লুকিয়ে ছিল প্রগতিশীল শিবিরে। আমরা তাদের ভাষা ও কাহিনীর ভাঙাগড়াকে এক্সপেরিমেন্ট ভেবে গুরুত্ব দেইনি। আদতে তারা আমাদের মগজে বিষ পুরে দিচ্ছিল।

আওয়ামী লীগ সরকার নামিয়ে এরা দেশের যত বড়ো ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে বড়ো ক্ষতি তারা আগেই করে ফেলেছে। এর আফটার শক ছিল ৫ আগস্ট এবং এর পরে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ৷ একটা স্বাধীন দেশে জন্ম নেয়া তরুণরা দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর পর কেন পরাধীন হতে চায়? কেন তারা পূর্বপুরুষের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেন তাদের মধ্যে আবেগ সঞ্চার করতে পারে না? এসব আসলে অসুস্থ সংস্কৃতি উপভোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

20260507

fans

Want your business to be the top-listed Government Service in Birganj?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Birganj-Pirganj Road, Dinajpur
Birganj
5220

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
18:00 - 22:00
Tuesday 09:00 - 17:00
18:00 - 22:00
Wednesday 09:00 - 17:00
18:00 - 22:00
Thursday 09:00 - 17:00
18:00 - 22:00
Friday 09:00 - 17:00
18:00 - 22:00
Saturday 09:00 - 17:00
18:00 - 22:00
Sunday 09:00 - 17:00
18:00 - 22:00