20/03/2026
শাজাহানপুর ইলম এন্ড দাওয়াহ কমিউনিটির পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা, 🌙 ঈদ মোবারক 🌙
আল্লাহ তাআলা আমাদের সিয়াম, কিয়াম ও সকল ইবাদত কবুল করুন 🤲
🌿 রাসূল ﷺ বলেছেন:
"للصائم فرحتان: فرحة عند فطره وفرحة عند لقاء ربه"
অর্থ: “রোজাদারের জন্য রয়েছে দুটি আনন্দ—একটি ইফতারের সময়, আরেকটি তার রবের সাক্ষাতে।” (সহীহ বুখারী)
একটি আনন্দ আমরা পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ, এখন রবের দিদারের জন্য যেভাবে জীবনযাপন করতে হবে সেভাবেই যেন বাকিটা জীবন অতিবাহিত করতে পারি কায়মনোবাক্যে এই দোয়া করি।
এই পবিত্র ঈদ আমাদের জীবনে আনুক তাকওয়ার শুদ্ধতা, হৃদয়ের প্রশান্তি এবং পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন।
কুরআনের আলো ও সুন্নাহর আদর্শে আলোকিত হোক আমাদের প্রতিটি দিন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন
18/03/2026
মক্কায় অদ্ভূত এক নারী ছিলো, যে সুতা পাকিয়ে সুন্দর সুন্দর কাপড়, টুপি, কম্বল ইত্যাদি তৈরি করতো। এরপর সে নিজেই সুতার দুই দিক থেকে টান দিয়ে এগুলোকে নষ্ট করে ফেলতো। এই নারীকে লোকজন পাগল মনে করতো তার এমন কাজের জন্য। সে এত পরিশ্রম করে পাকানো সুতাগুলোকে খামখেয়ালিপনায় টুকরো টুকরো করে ফেলতো।
ইমাম ইবনু কাসির (রাহ.) তাঁর ‘তাফসিরুল কুরআনিল আযিম’-এ বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনুল কারিমে এই নারীর উদাহরণ দিয়ে বলেন—
وَلاَ تَكُونُواْ كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِن بَعْدِ قُوَّةٍ أَنكَاثًا
‘‘তোমরা ওই নারীর মতো হয়ো না, যে পরিশ্রমের পাকানো সুতো টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে।’’ [সুরা নাহল, আয়াত: ৯২]
আয়াত দ্বারা যদিও শপথ পাকাপাকি হওয়ার পর তা ভেঙে না ফেলতে বলা হয়েছে, তথাপি শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিল (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর জনপ্রিয় লেকচার সিরিজ Gems of Ramadan (ধূলিমলিন উপহার: রামাদান বই)-এ এই ঘটনাটিকে সামনে এনে রোজাদারদের সতর্ক করেছেন। রোজাদারদের অনেকে সারা মাস রোজা রাখে, আমল করে, কিন্তু রামাদানের শেষ দিকে এসে হাল ছেড়ে দেয়, গুনাহে জড়িয়ে যায় আর সারা মাসের সিয়ামসাধনাকে পণ্ড করে দেয়। এটি খুবই বাস্তব একটি বিষয়। ব্যাপারটি এমন যে, কেউ ৩ ঘণ্টা ধরে পরীক্ষার খাতায় চমৎকার উত্তর লিখেছে। এরপর খাতাটি জমা না দিয়ে ছিঁড়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ কোনো আমল করে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন, সে ওই আমলটি পূর্ণাঙ্গভাবে করবে।’’ [ইমাম বাইহাকি, শু‘আবুল ঈমান: ৪৯৩০; ইমাম তাবারানি, মু‘জামুল আওসাত্ব: ৮৯৭; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ১৮৮০; হাদিসটি সহিহ]
সুতরাং, রামাদানের এই শেষ লগ্নে এসে আমরা হাল ছাড়বো না, বরং সুন্দর ও যথার্থভাবে রামাদান শেষ করবো। দীর্ঘ এক মাসের সিয়ামসাধনা এবং ইবাদত-বন্দেগি ধরে রাখবো।
এরপর, রামাদান শেষে নতুন করে আবার অন্ধকারময় গুনাহের জীবনে ডুবে যাবো না। রামাদানের মতই সারা বছর গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবো। বলা হয়, জীবন যদি কাটে রামাদানের মতো, তবে মৃত্যুর মুহূর্তটিও হবে ঈদুল ফিতরের মতো (আনন্দময়)!
02/03/2026
৩রা মার্চ ১৯২৪ থেকে ৩রা মার্চ ২০২৬
আজকের এই দিনে মুসলিম উম্মাহ তাদের খি"ল|ফাহ্ ব্যবস্থা হারায়। ১০২ বছর পূর্ণ হলো আজ!
হে আরশে আযিমের মালিক আমাদের দূর্বলতা কাটিয়ে তুলে আবার খিলাফাহ আমাদের হস্তগত করুন।
18/02/2026
আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া জানায় তিনি আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত হায়াত দিয়েছেন(আলহামদুলিল্লাহ)। এই রমজানকে হেলায় না কাটিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠ রমাদান বানাতে আমরা যেভাবে রমাদান কাটাতে পারি-
১) প্রতিদিন ন্যূনতম ৪ রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবো এবং কিছু সময় আন্তরিকভাবে দু‘আয় কাটাবো। শেষ রাতের দু‘আ ও ইস্তিগফার আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
২) সারা মাসে কমপক্ষে একবার কুরআন পড়ে শেষ করবো। বিশেষভাবে রাতের বেলা কিছু সময় তিলাওয়াত করবো। রাতের তিলাওয়াতের মর্যাদা অনেক বেশি।
৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আওয়াল ওয়াক্তে (ওয়াক্তের শুরুতেই) পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আদায় করবো। পুরুষরা অবশ্যই জামাতের সাথে পড়তে চেষ্টা করবো। ধীরে-সুস্থে তারাবির নামাজ আদায় করবো। বাসায় তারাবি পড়লে জামাতের সাথে পড়বো এবং নারীদেরকেও শামিল রাখার চেষ্টা করবো। তাঁদের কাতার হবে সবার শেষে। নারীদের কাতারে কোনো পুরুষ থাকবে না।
৪) গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবো- বিশেষত রোজা অবস্থায় চোখ, কান এবং জিহ্বা দিয়ে কোনো ছোট গুনাহও করবো না। টেলিভিশনে সতর্কতার সাথে ইসলামি অনুষ্ঠানগুলো দেখা যেতে পারে। এর বেশি কিছু অবশ্যই না।
৫) প্রয়োজন ব্যতীত অনলাইনে আসবো না। কারণ অনলাইন হলো গুনাহের মহাসমুদ্র। ইউটিউব, ফেইসবুক, টিকটকে ডুবে যাবো না।
৬) সারা মাসে অন্তত একবার আত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করবো অথবা ফোন করে খোঁজ-খবর নেবো। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফরজগুলোর একটি।
৭) প্রতিদিন অন্তত তিন ঘণ্টা সময় কুরআনের তিলাওয়াত, কুরআন মুখস্থকরণ এবং কুরআনের অর্থ ও তাফসির পাঠে ব্যয় করবো। সম্ভব হলে সম্মিলিতভাবেও এই কাজটি করা যায়।
৮) সাধ্যানুযায়ী পুরো মাস জুড়ে অসহায় ও দরিদ্রদের দান-সাদাকাহ করবো। এক্ষেত্রে নিজ আত্মীয়দের প্রাধান্য দেবো। এটিই ইসলামের নির্দেশনা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমন অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে আছে, যারা লজ্জায় কারও কাছে হাত পাতে না; তাদেরকে খুঁজে বের করে সাধ্যানুযায়ী হেল্প করবো। এটি বিরাট নেকির কাজ হবে। বিশেষ করে তাদের সাহরি ও ইফতারের ভালো-মন্দ খোঁজ নেবো।
৯) মনের সংকীর্ণতা দূর করে উদারচিত্তে সবাইকে ক্ষমা করে দেবো। বিনিময়ে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। কুরআন ও হাদিসে এই ওয়াদা আছে।
১০) রমাদানের শেষ দশকে ইবাদাতে ডুবে যাবো এবং লাইলাতুল কদর তালাশ করবো; শুধু ২৭তম রাতেই নয়, শেষ দশকের পুরোটাতেই। বিশেষত বিজোড় রাতগুলোতে।
১১) সাহরি ও ইফতারে খাবারের অপচয় করবো না এবং খাবার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা, কথা-বার্তা ও হৈ-হুল্লোড় করবো না। খাবার তৈরিতে বাসার নারীদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করবো এবং কোনো খাবার পছন্দ না হলে মেজাজ দেখাবো না। কেউ ইচ্ছা করে খাবার বিস্বাদ করে না। কারণ যে রাঁধে, সে নিজেও খায়।
১২) নামাজের পর, সকাল-সন্ধ্যায় ও ঘুমের আগে-পরের মাসনুন যিকরগুলো গুরুত্বের সাথে পড়বো। বিশেষভাবে চাশতের নামাজে অভ্যস্ত হবো। প্রতিদিন অন্তত ৪ রাকাত পড়বো।
১৩) সারা মাস তাওবাহ এবং ইস্তিগফারে লেগে থাকবো। সাহরি ও ইফতারের সময়ে দু‘আয় কিছু সময় কাটাবো। এ দুটো সময়ে দু‘আ কবুল হয়। মনে রাখতে হবে, রমাদানে মুমিনের প্রধান টার্গেটই হলো, নিজের গুনাহ মাফ করানো।
১৪) আমরা যারা গীবত, গান শোনা, নাটক-মুভি দেখা, প*র্নোগ্রাফি, কুদৃষ্টি, কুধারণা, লালসা, হিংসা, অহংকার এসব গুনাহ থেকে বের হতে পারছি না, বরং এগুলো জীবনের সাথে মিশে গেছে এবং অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, তারা রমাদানের দীর্ঘ এক মাসের কঠিন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করে নিতে পারি। যারা অনলাইনে গেইম খেলায় আসক্ত, তারাও নিজেদের সংশোধন করে নিতে পারি। খেলা দেখে নিজের মহামূল্যবান সময় ও আমলকে ক্ষতিগ্রস্ত করবো না।
১৫) এই রমাদানই হতে পারে আমাদের অনেকের জীবনের শেষ রমাদান। তাই, হাসি-ঠাট্টা, ফূর্তিবাজি ও গতানুগতিক উদ্দেশ্যহীন জীবনযাপন বাদ দিয়ে যথাসাধ্য তাকওয়া, বিনয় ও গাম্ভীর্যের সাথে এমনভাবে এই রামাদান কাটানো, যেন সবাই আমরা মৃ*ত্যুপথযাত্রী। এই অনুভূতি ধারণ করে দিনগুলো কাটাবো।
মহান রব আমাদের এই কাজগুলো সঠিকভাবে করার তাওফিক দিন, আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করুন এবং তাঁর সন্তুষ্টির উপর মৃ*ত্যু দিয়ে কবরবাসী করুন। আমিন।
সবাইকে রামাদানের শুভেচ্ছা। আল্লাহ্ আমাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন।
লেখা : Nusus
17/02/2026
হাসান আল-বসরী (রাহি.) বলেছেন, যেই কাজগুলো অন্তরকে কলুষিত করে—
১. পরবর্তীতে তাওবাহ করবো, এই আশা নিয়ে পাপ কাজে লিপ্ত হওয়া।
২. ইলম অর্জন করে, তার অনুসরণ না করা।
৩. ইখলাস ছাড়া আমল করা।
৪. আল্লাহর রিযক্ থেকে খাদ্য গ্রহণ করা, কিন্তু আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করা।
৫. আল্লাহর ইচ্ছার উপরে সন্তুষ্ট না থাকা।
৬. মৃ’ত ব্যক্তিকে ক’বর দেওয়া, কিন্তু তাদের থেকে কোন শিক্ষা গ্রহণ না করা।
[বই : তাক্বওয়া (মুমিনদের পাথেয়); পৃ. ৩০]
14/02/2026
📌 ১৪ ফেব্রুয়ারি — সচেতনতা, সংযম ও ঈমান রক্ষার দিন
সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন দিবস কোনো মুসলিম সংস্কৃতির অংশ নয়। এটি অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতির একটি উৎসব — তারা পালন করবে, কিন্তু আমাদের ঈমান ও পরিচয় আলাদা।
যেমন সরস্বতী পূজাকে “বিশ্ব জ্ঞান দিবস” বলে পালন করলেও তা পূজাই থেকে যায় — তেমনি ভ্যালেন্টাইনকে “ভালোবাসা দিবস” বললেও তার বাস্তবতা বদলায় না।
— খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ)
📖 কোরআনের কঠোর সতর্কবাণী:
“তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ।”
— সূরা আল-ইসরা: ৩২
“মুমিন পুরুষদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে…
মুমিন নারীদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে…”
— সূরা আন-নূর: ৩০-৩১
💔 বাস্তবতা মনে রাখুন —
হারাম সম্পর্ক শুরু হয় ছোট ছোট বিষয় থেকে:
একটা মেসেজ,
একটা ছবি,
একটা দেখা,
তারপর ধীরে ধীরে পাপের দিকে টেনে নেয়।
🌿 একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা —
মানুষকে জোর নয়, দাওয়াত দিন ভালোবাসা ও হিকমাহ দিয়ে।
নিজে বাঁচুন, অন্যকে সচেতন করুন।
💬 মনে রাখুন —
যে আল্লাহর জন্য কিছু ত্যাগ করে,
আল্লাহ তাকে তার চেয়েও উত্তম কিছু দান করেন।
১৪ ফেব্রুয়ারি হোক —
পাপ থেকে দূরে থাকার দিন,
সংযমের দিন,
ঈমান রক্ষার দিন,
আল্লাহর কাছে ফিরে আসার দিন 🤍
হে যুবক ভাই ও বোন রমজানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন 🌸
আল্লাহ আমাদেরকে সেই তৌফিক দান করুন। আমীন
13/02/2026
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
আপনারা জেনে অত্যন্ত খুশি হবেন যে, আমরা রামাযানে কুরআন শিক্ষা প্রোগ্রাম করে থাকি। যারা বিশুদ্ধভাবে তাজবীদসহ কুরআন পড়তে পারেন না অথবা পড়তে পারেন কিন্তু বিশুদ্ধ না বা তাজবীদ জানেন না; তাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।
আমাদের সাথে কুরআন শিক্ষা প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে তাজবীদসহ কুরআন শিখুন। বারাকাল্লাহু ফিকুম!
কমেন্ট বক্সে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে যুক্ত হয়ে যান।
Send a message to learn more
09/02/2026
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন —
“কবিরা গুনাহের মধ্যে অন্যতম গুনাহ হল — মুসলিমের বালা-মুসিবতে আনন্দিত হওয়া এবং তাদের আকস্মিক বিপদে উল্লাসিত হওয়া।”
[মাদারিজুস সালিকীন, ১/৪০২]
08/02/2026
অন্তরে খোদাভীতি নেই এবং মানুষের প্রতি মমতাও নেই তাদের হাতে ক্ষমতা না যাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।
~ আব্দুল মালেক হাফিঃ