25/02/2026
পরিবারের মধ্যে বণ্টননামা দলিল করার নিয়ম:
মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগির জন্য একটি বণ্টননামা দলিল করতে হয়। এতে মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, সম্পত্তির দলিল এবং সকল ওয়ারিশের লিখিত সম্মতি আবশ্যক। এটি স্ট্যাম্প পেপারে লিখে রেজিস্ট্রি করতে হয় এবং এর জন্য যথাযথ ফি প্রদান করতে হয়, যা ভবিষ্যতে বিবাদ এড়াতে ও নামজারির জন্য অপরিহার্য।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
➡️ মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ (Death Certificate): যার সম্পত্তি বণ্টন হবে, তার।
➡️ ওয়ারিশ সনদ (Succession Certificate): সকল ওয়ারিশের।
➡️ সম্পত্তির মূল দলিল: যে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে, তার।
➡️ সকল ওয়ারিশের সম্মতিপত্র: প্রত্যেকের স্বাক্ষরসহ।
➡️ বণ্টননামা দলিলের খসড়া: সম্পত্তির বিবরণ ও অংশ উল্লেখসহ।
পদ্ধতি:
খসড়া তৈরি: একজন আইনজীবীর সহায়তায় একটি বণ্টননামা দলিল তৈরি করুন, যেখানে সম্পত্তির প্রতিটি অংশ ও ওয়ারিশদের নাম স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে।
স্ট্যাম্প পেপারে লেখা: দলিলটি উপযুক্ত মূল্যের স্ট্যাম্প পেপারে লিখতে হবে।
সকল ওয়ারিশের স্বাক্ষর: সকল ওয়ারিশ (বা তাদের বৈধ প্রতিনিধি) দলিলে স্বাক্ষর করবেন।
রেজিস্ট্রেশন: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলটি রেজিস্ট্রি করতে হবে, যা ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক।
ফি জমা: রেজিস্ট্রেশন ফি, ই-ফি, এন-ফি ইত্যাদি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
আইনের প্রয়োগ: ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩(খ) ধারা অনুযায়ী ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টননামা দলিল করা হয়।
উদ্দেশ্য: এটি ওয়ারিশদের মধ্যে ভবিষ্যতে সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিবাদ এড়াতে এবং নামজারির (Mutation) জন্য একটি চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
আইনি বাধ্যবাধকতা: বণ্টননামা দলিল ছাড়া ওয়ারিশি সম্পত্তির নামজারি করা কঠিন, তাই এটি রেজিস্ট্রি করা জরুরি।
উৎস কর: বণ্টননামা দলিলের ক্ষেত্রে উৎস কর প্রযোজ্য হয় না (উৎস কর বিধিমালা, ২০২৪ অনুযায়ী)।
05/11/2025
চাঁদপুরে স্বামী’র দায়ের করা যৌতুক মামলায় স্ত্রী কারাগারেঃ
চাঁদপুরে স্বামী’র দায়ের করা যৌতুক মামলায় স্ত্রী কারাগারে
স্বামীর দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারা মামলায় স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহরাস্তির আমলী আদালত, চাঁদপুর। ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহরাস্তির আমলী আদালতের বিচারক তন্ময় কুমার দে এই আদেশ দেন।
মামলার আসামি কামরুন নাহার (৩২) চাঁদপুর শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া গ্রামের মজিবুর রহমানের স্ত্রী। তার স্বামী মজিবুর রহমান বিগত ২০ জুলাই ২০২৫ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, শাহরাস্তির আমলী আদালত, চাঁদপুরে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সি আর-৩৭১/২০২৫ নং মামলা দায়ের করেন।
শাহরাস্তির আমলী আদালতের বিচারক তন্ময় কুমার দে উক্ত মামলায় বিগত ২১/৮/২০২৫ তারিখে আসামী কামরুন নাহার এর বিরুদ্ধে সমন দেন। সমন জারির পরেও আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিগত ০৫/১০/২০২৫ তারিখে বিচারক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ান জারি করেন।
আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার নির্দেশের পর শাহরাস্তি থানা পুলিশ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে কামরুন নাহার এর অবস্থান নির্ণয় করে ৩ নভেম্বর সন্ধায় শাহারাস্তির কালি বাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করে। পরে পুলিশ ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার আসামীকে আদালতে প্রেরন করেন। ঐদিন আসামি কামরুন নাহার আদালতে জামিন চাইতে গেলে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহরাস্তির আমলী আদালতের বিচারক তন্ময় কুমার দে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন চাঁদপুর বারের বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা।
স্ত্রী কামরুন নাহার এর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধন আইনের -৩ ধারায় দায়ের করা মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুন শাহরাস্তি উপজেলার উল্লাশ্বর গ্রামের আবুল কালামের কন্যা কামরুন নাহার এর সঙ্গে একই উপজেলার বেরনাইয়া গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র মজিবুর রহমানের সাথে ২ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্যে বিবাহ হয়। বিবাহের সময় মজিবুর রহমান ও তার অভিভাবকগন কামরুন নাহার কে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার স্বর্ণ অলংকার দেন এবং মেহমানদারী করাতে ২.৫ লক্ষ টাকা খরচ করেন। বিবাহের পর থেকে স্ত্রী কামরুন নাহার তার স্বামীকে নগদ অর্থ, জমিজামা লিখে দিতে ও শহরে তার নামে ফ্ল্যাট কিনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। কামরুন নাহার সুকৌশলে তার স্বামী মজিবুর রহমানের নিকট থেকে বিগত ৯/০৮/২০২৪ইং তারিখে ১,৯৭,০০০/-(এক লক্ষ সাতানব্বই হাজার) টাকা এবং ১০/০২/২০২৫ইং তারিখে ১,৬০,০০০/-(এক লক্ষ ষাট হাজার) টাকা ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকারে করে আর ফেরত দেয়নি।
স্ত্রী কামরুর নাহার বিভিন্ন পরপুরুষের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে আসক্ত ছিল। সারাক্ষন মোবাইলের ইমোতে ও হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনে ব্যস্ত থাকত। কামরুন নাহার বিবাহের সময় তার স্বামীকে আগে একটি বিয়ে হয়েছে বললেও তার স্বামী জানতে পারে যে ইতিপূর্ব তার স্ত্রী তিনটি বিবাহ হয়েছে। স্ত্রী কামরুন নাহার ১০ শতাংশ জায়গা তার স্বামীর দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার নিজ নামে লিখে দিতে ও শহরে একটি ফ্ল্যাট যৌতুক হিসেবে কিনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এই নিয়ে সংসারে চলতে থাকে চরম পর্যায়ে দাম্পত্য কোলাহল। ব্যবসায়িক কাজে রাখা স্বামীর ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা কাউকে না বলে সে বাপের বাড়ি চলে যায়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করলেও স্ত্রী কামরুন নাহার সবাইকে গালাগালি করে কাউকে পাত্তা দেয়নি।
স্বামী মজিবুর রহমানের পক্ষের চাঁদপুর বারের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা বলেন যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ এর ৩ ধারায়-
যদি বিবাহের কোনো এক পক্ষ, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, বিবাহের অন্য কোনো পক্ষের নিকট কোনো যৌতুক দাবি করেন, তাহা হইলে উহা হইবে এই আইনের অধীন একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কিন্তু অন্যূন ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন। স্ত্রী যদি যৌতুক দাবি করে তাহলে স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা দায়ের করতে কোনো আইনি বাধা নেই। আমরা তাই করেছি। আদালত আমাদের মামলা আমলে নিয়েছে।
এ বিশেষার শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া গ্রামের স্থানীয়রা জানান কামরুন নাহার সংসার করতে এসে এই ভাবে সংসারে অশান্তি করাটা ঠিক করে না। তার মধ্যে এত চাহিদা। এর আগেও তিনটা সংসার ভেঙ্গেছে। এসব মহিলার আইনের মাধ্যমে উপযুক্ত বিচার হোক।
এদিকে চাঁদপুরের সুশীল সমাজের দাবি বর্তমানে পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষরা নারী দ্বারা নির্যাতিত। সমাজে পুরুষ নির্যাতন বর্তমানে একটি ভয়ঙ্কর রূপে পরিণত হয়েছে। সমাজে নারী কর্তৃক পুরুষ নির্যাতিত বা নিগৃহীত হলে সেটা অনেকে লোক লজ্জ্বায় প্রকাশ করে না বা সমাজ সেটাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে না। সমাজে অনেক পুরুষই স্ত্রীর যন্ত্রণায় নীরবে কাঁদেন। লোকচক্ষুর আড়ালে গিয়ে চোখ মোছেন; কিন্তু দেখার কেউ নেই। বলারও কোন উপায় নেই। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিক স্খলন, লোভ-লালসা, উচ্চবিলাসিতা, পরকীয়াই হচ্ছে এর মুল কারন।আমরা অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই মুজিবুর রহমানকে ।সে আইনগত ভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। মাননীয় আদালতকেও ধন্যবাদ সঠিক সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য। এই জঘন্য অপরাধের জন্য একজনকে শাস্তি দিয়ে আরও দশজনকে সতর্ক করে দেয়ার জন্য। আর আদালত প্রমাণ করে দিল আইন সবার জন্য সমান।
আইন এবং আদালত - Law & Court
31/05/2025
🥰 সেভ করে রাখুন কাজে লাগবে 🥰
পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত ১৩০টি শব্দের অর্থের তালিকা
খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত অনেক শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে। কিছু শব্দ খুব কম ব্যবহৃত হয়। যারা পুরাতন দলিলের শব্দের অর্থ বোঝেন না, তাদের জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো —
১) মৌজা: গ্রাম
২) জে.এল. নং: মৌজা নম্বর/গ্রামের নম্বর
৩) ফর্দ: দলিলের পাতা
৪) খং: খতিয়ান
৫) সাবেক: আগের/পূর্বের
৬) হাল: বর্তমান
৭) বং: বাহক (যিনি নিরক্ষর ব্যক্তির নাম লেখেন)
৮) নিং: নিরক্ষর
৯) গং: অন্যান্য অংশীদার
১০) সাং: সাকিন/গ্রাম
১১) তঞ্চকতা: প্রতারণা
১২) সনাক্তকারী: বিক্রেতাকে চিনেন এমন ব্যক্তি
১৩) এজমালি: যৌথ
১৪) মুসাবিদা: দলিল লেখক
১৫) পর্চা: প্রাথমিক খতিয়ানের নকল
১৬) বাস্তু: বসতভিটা
১৭) বাটোয়ারা: সম্পত্তির বণ্টন
১৮) বায়া: বিক্রেতা
১৯) মং: মোট
২০) মবলক: মোট পরিমাণ
২১) এওয়াজ: সমমূল্যের বিনিময়
২২) হিস্যা: অংশ
২৩) একুনে: যোগফল
২৪) জরিপ: ভূমি পরিমাপ
২৫) চৌহদ্দি: সীমানা
২৬) সিট: মানচিত্রের অংশ
২৭) দাখিলা: খাজনার রশিদ
২৮) নক্সা: মানচিত্র
২৯) পিং: পিতা
৩০) জং: স্বামী
৩১) দাগ নং: জমির নম্বর
৩২) স্বজ্ঞানে: নিজের জ্ঞানের ভিত্তিতে
৩৩) সমুদয়: সব কিছু
৩৪) ইয়াদিকৃত: পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু
৩৫) পত্র মিদং: পত্রের মাধ্যমে
৩৬) বিং: বিস্তারিত
৩৭) দং: দখলকারী
৩৮) পত্তন: সাময়িক বন্দোবস্ত
৩৯) বদলসূত্র: জমি বিনিময়
৪০) মৌকুফ: মাফকৃত
৪১) দিশারী রেখা: দিকনির্দেশক রেখা
৪২) হেবা বিল এওয়াজ: বিনিময়সূত্রে জমি দান
৪৩) বাটা দাগ: বিভক্ত দাগ
৪৪) অধুনা: বর্তমান
৪৫) রোক: নগদ অর্থ
৪৬) ভায়া: বিক্রেতার পূর্বের দলিল
৪৭) দানসূত্র: দানকৃত সম্পত্তি
৪৮) দাখিল-খারিজ: মালিকানা পরিবর্তন
৪৯) তফসিল: সম্পত্তির বিবরণ
৫০) খারিজ: পৃথক খাজনা অনুমোদন
৫১) খতিয়ান: ভূমির রেকর্ড
৫২) এওয়াজসূত্র: বিনিময় সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি
৫৩) অছিয়তনামা: উইল/মৃত্যুকালীন নির্দেশ
৫৪) নামজারি: মালিকানা হস্তান্তরের রেকর্ড
৫৫) অধীনস্থ স্বত্ব: নিম্নস্তরের মালিকানা
৫৬) আলামত: মানচিত্রে চিহ্ন
৫৭) আমলনামা: দখলের দলিল
৫৮) আসলি: মূল ভূমি
৫৯) আধি: ফসলের অর্ধেক ভাগ
৬০) ইজারা: নির্দিষ্ট খাজনায় সাময়িক বন্দোবস্ত
৬১) ইন্তেহার: ঘোষণাপত্র
৬২) এস্টেট: জমিদারি সম্পত্তি
৬৩) ওয়াকফ: ধর্মীয় কাজে উৎসর্গকৃত সম্পত্তি
৬৪) কিত্তা: ভূমিখণ্ড
৬৫) কিস্তোয়ার জরিপ: কিত্তা ধরে ভূমি পরিমাপ
৬৬) কায়েম স্বত্ব: চিরস্থায়ী মালিকানা
৬৭) কবুলিয়ত: স্বীকারোক্তি দলিল
৬৮) কান্দা: উচ্চভূমি
৬৯) কিসমত: ভূমির অংশ
৭০) খামার: নিজস্ব দখলীয় ভূমি
৭১) খিরাজ: খাজনা
৭২) খসড়া: প্রাথমিক রেকর্ড
৭৩) গর বন্দোবস্তি: বন্দোবস্তবিহীন জমি
৭৪) গির্ব: বন্ধক
৭৫) জবরদখল: জোরপূর্বক দখল
৭৬) জোত: প্রজাস্বত্ব
৭৭) টেক: নদীর পলি জমে সৃষ্টি ভূমি
৭৮) ঢোল সহরত: ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা
৭৯) তহশিল: রাজস্ব এলাকা
৮০) তামাদি: নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত
৮১) তফসিল: সম্পত্তির বিবরণ
৮২) নামজারি: মালিকানা হস্তান্তর
৮৩) নথি: রেকর্ড
৮৪) দেবোত্তর: দেবতার নামে উৎসর্গকৃত
৮৫) দখলী স্বত্ব: দখলের ভিত্তিতে মালিকানা
৮৬) দশসালা বন্দোবস্ত: দশ বছরের বন্দোবস্ত
৮৭) দাগ নম্বর: জমির ক্রমিক নম্বর
৮৮) দরবস্ত: সব কিছু
৮৯) দিঘলি: নির্দিষ্ট খাজনা প্রদানকারী
৯০) নক্সা ভাওড়ন: পূর্ব জরিপের মানচিত্র
৯১) নাম খারিজ: পৃথককরণ
৯২) তুদাবন্দি: সীমানা নির্ধারণ
৯৩) তরমিম: সংশোধন
৯৪) তৌজি: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রেকর্ড
৯৫) দিয়ারা: নদীর পলিতে গঠিত চর
৯৬) ট্রাভার্স: জরিপের রেখা পরিমাপ
৯৭) খাইখন্দক: জলাশয় বা গর্তযুক্ত ভূমি
৯৮) চর: নদীর পলি জমে গঠিত ভূমি
৯৯) চৌহদ্দি: সম্পত্তির সীমানা
১০০) খাস: সরকারি মালিকানাধীন জমি
শেষ কথা:
এই শব্দগুলো পুরাতন দলিল পড়ার সময় আপনাকে দারুণ সহায়তা করবে। সেভ করে রেখে দিন — প্রয়োজনে অমূল্য হয়ে উঠবে।
আইন এবং আদালত - Law & Court
03/05/2025
এক ভাই ম্যাসেঞ্জারে প্রশ্ন করেছেন লাল গোল বৃত্তের দাগ গুলো দিয়ে কি বুঝানো হয়েছে?
সবার জ্ঞতার্থে বলছি, বৃত্তের ভিতরের দাগ গুলো দিয়ে বাঁশ ঝাড় নির্দেশ করা হয়েছে।
ধন্যবাদ।
শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন।
আইন এবং আদালত - Law & Court
22/04/2025
ষাটের দশকের কোন এক দিনে সদরঘাট থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর দৃশ্য,,,,😍
তখন পানি ছিলো স্বচ্ছ ও স্নিগ্ধ, পরিষ্কার আকাশ। বুড়িগঙ্গার পানি পান করতেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। বুড়িগঙ্গার পানি এতোই স্বচ্ছ ছিলো যে হাঁটু পানিতে নামলেও পায়ের পাতা স্পষ্ট দেখা যেত।
তখন পালতোলা নৌকা অহরহ চলতো বুড়িগঙ্গায়। বজরা, মহাজনি, কোষা, জেলে নৌকা সহ অজস্র নৌকার সমাহার ছিলো বুড়িগঙ্গায়। পাট বোঝাই নানা প্রান্ত থেকে বিশাল সব নৌকা যেত বুড়িগঙ্গা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাটকলগুলোতে।
লঞ্চ ছিলো হাতে গোনা কয়েকটি। ছিলো কাঠের স্টীমার ও প্যাডেল স্টীমার। প্যাডেল স্টীমার চলতো কয়লায়।
ছবি তুলেছেন- John Wakefield
21/04/2025
শিশুদের কাছ থেকে মোবাইল সরিয়ে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখানে কিছু উপায় দেওয়া হলো যার মাধ্যমে আপনি
শিশুদের মোবাইল ব্যবহার কমাতে বা সরিয়ে রাখতে পারেন:
১. বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করুন:
* শারীরিক কার্যকলাপ: খেলাধুলা, দৌড়াদৌড়ি, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটার মতো কার্যক্রমে তাদের উৎসাহিত করুন। এতে তাদের শারীরিক ব্যায়াম হবে এবং মোবাইল থেকে মনোযোগ সরবে।
* সৃজনশীল কাজ: ছবি আঁকা, গান গাওয়া, নাচ, গল্প লেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা অন্য কোনো শখের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি করুন।
* পারিবারিক সময়: তাদের সাথে বোর্ড গেম খেলুন, বই পড়ুন, একসাথে রান্না করুন বা অন্য কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করুন।
* প্রকৃতিতে সময় কাটানো: তাদের পার্কে নিয়ে যান, বাগান করতে উৎসাহিত করুন বা প্রকৃতির কাছাকাছি কোনো স্থানে ঘুরতে যান।
২. মোবাইলের ব্যবহার সীমিত করুন:
* সময় নির্ধারণ: প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিন যখন তারা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে। সময়ের বাইরে মোবাইল ব্যবহার করতে নিষেধ করুন।
* স্থান নির্ধারণ: ঘরের কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় (যেমন খাবার টেবিল, শোবার ঘর) মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করুন।
* অ্যাপ্লিকেশন নিয়ন্ত্রণ: কিছু অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিন অথবা তাদের জন্য উপযুক্ত নয় এমন অ্যাপ্লিকেশন সরিয়ে ফেলুন। প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোরে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল (Parental Control) অপশন ব্যবহার করে এটি করা যায়।
* নিজেদের উদাহরণ তৈরি করুন: শিশুরা তাদের বাবা-মাকে দেখে শেখে। তাই তাদের সামনে নিজেদের মোবাইল ব্যবহার কমান এবং অন্যান্য কাজে বেশি মনোযোগ দিন।
৩. বুঝিয়ে বলুন:
* তাদের সাথে মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহারের খারাপ দিকগুলো নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করুন। তাদের বোঝান কেন এটি তাদের চোখের জন্য, ঘুমের জন্য এবং পড়াশোনার জন্য ক্ষতিকর।
* মোবাইলের পরিবর্তে অন্যান্য কাজ করলে তারা কী কী সুবিধা পাবে (যেমন - ভালো ঘুম, ভালো ফল, বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা) তা তাদের বুঝিয়ে বলুন।
৪. ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনুন:
* হঠাৎ করে মোবাইল কেড়ে না নিয়ে ধীরে ধীরে তাদের ব্যবহারের সময় কমান। প্রথমে কিছুটা বেশি সময় কমিয়ে আনুন, তারপর ধীরে ধীরে আরও কমান।
৫. পুরস্কার ও উৎসাহ দিন:
* মোবাইল ব্যবহার না করে অন্য কাজে মনোযোগ দিলে তাদের প্রশংসা করুন এবং ছোটখাটো পুরস্কার দিন। এতে তারা উৎসাহিত হবে।
৬. নিয়মের ব্যতিক্রম করবেন না:
* একবার নিয়ম তৈরি করলে তা কঠোরভাবে মেনে চলুন। মাঝে মাঝে ছাড় দিলে শিশুরা নিয়ম ভাঙতে উৎসাহিত হবে।
৭. তাদের আগ্রহের বিষয় খুঁজে বের করুন:
* তাদের কীসে আগ্রহ আছে তা জানার চেষ্টা করুন এবং সেই সম্পর্কিত বিকল্প বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে দিন।
৮. শিক্ষামূলক অ্যাপস ব্যবহার:
* যদি মোবাইল ব্যবহার করতেই হয়, তবে কিছু শিক্ষামূলক অ্যাপস ব্যবহার করতে উৎসাহিত করুন যা তাদের শেখার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।
৯. ঘুমের আগে মোবাইল নয়:
* ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে তাদের মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করতে বলুন। মোবাইলের আলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
১০. ধৈর্য ধরুন:
* শিশুদের অভ্যাস পরিবর্তন করতে সময় লাগে। তাই ধৈর্য ধরুন এবং लगातार চেষ্টা চালিয়ে যান।
এই উপায়গুলো অবলম্বন করে আপনি ধীরে ধীরে আপনার শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের আসক্তি কমাতে এবং তাদের একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন দিতে সাহায্য করতে পারেন।
15/04/2025
জরিপ: ভূমির মালিকানা ও ম্যাপ তৈরির মূল ভিত্তি
বাংলাদেশের কোন জমির মালিক কে তা সরকারকে জানতে হয়। তাই ভূমির মৌজা ম্যাপ এবং মালিকানার উপর ভিত্তি করে খতিয়ান তৈরির উদ্দেশ্যে সরকার নির্দিষ্ট সময় পরপর জরিপ কাজ পরিচালনা করে থাকে। বিভিন্ন নামে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত এ সকল জরিপে ম্যাপ ও রেকর্ড (খাতিয়ান) ছাপা হয়েছে। এই উপমহাদেশে ১৮৮৮ সালের দিকে প্রথম ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভের (সিএস) সূচনা হয়। সিএস এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৮ শতাংশ সঠিক বলে বিবেচিত। এরপর রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ভিত্তিতে স্টেট অ্যাকুইজিশন (এসএ) রেকর্ড তৈরি হয়। এসএ রেকর্ডের সবচেয়ে ত্রুটিপূর্ণ দিক হচ্ছে খতিয়ান বা মালিকানার স্বত্বলিপি হাতে লেখা হয়েছে। এসএ রেকর্ডে হয়নি কোন ম্যাপ, এর খতিয়ানের নেই কোন মাস্টার কপি। ফলে দেশের অধিকাংশ মামলা—মোকদ্দমা সৃষ্টি হয়েছে এই রেকর্ডকে কেন্দ্র করেই। এরপর সম্পন্ন হয়েছে রিভিশন সার্ভে (আরএস)। কোন কোন ক্ষেত্রে এটিকে বলা হয় বিআরএস জরিপ। ঢাকা মহানগরীর জন্য সম্পাদিত বিআরএস জরিপ সিটি জরিপ নামে পরিচিত। জমির পরিচিতি হয় দাগ নম্বর দিয়ে বা মৌজা ম্যাপে লিপিবদ্ধ থাকে। ম্যাপ প্রস্তুতের পর যে কাগজে জমির মালিকানার বিবরণ লেখা থাকে তাকে বলা হয় খতিয়ান। জরিপের নামানুসারে খতিয়ানেরও নামকরণ হয়েছে যেমন: সিএস খতিয়ান, এসএ খতিয়ান, আরএস খতিয়ান ইত্যাদি।
জরিপ চলাকালীন আপনার করণীয়
জরিপ পরিচালনার জমির মালিক হিসেবে আপনাকে অবশ্যই মালিকানার সপক্ষে বৈধ কাগজপত্রসহ জরিপ কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপন করতে হবে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জমির প্রকৃত অবস্থার উপর ভিত্তি করে ম্যাপ তৈরি হয়, যেখানে থাকে দাগ নম্বর এবং পরে মালিকানার কাগজপত্র দেখে খতিয়ান তৈরি হয়। কাজেই রেকর্ডের সময় সঠিক কাগজপত্র প্রদর্শন করতে না পারলে অনেক সময় রেকর্ড ভুল হয়ে যেতে পারে। তবে রেকর্ড ভুল হলে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। এক্ষেত্রে সংশোধনের প্রক্রিয়াও খুব সুনির্দিষ্ট। রেকর্ডের সময় আপনাকে জরিপ বিভাগের কর্মকর্তা হাতে লিখিত একটি খসড়া খতিয়ান বা মাঠ পর্চা প্রদান করবেন। এটি সবুজ কালিতে স্বাক্ষরিত থাকে। আপনি মাঠ পর্চা সংগ্রহ করবেন এবং এতে আপনার জমির বিবরণ সঠিক আছে কি না তা যাচাই করে দেখবেন। ভুল থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে ভুল সংশোধন করিয়ে নিবেন। ভূমি মালিক হিসেবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা আপনার কর্তব্য।
জরিপে ভুল রেকর্ড হলে সমাধানের উপায়
জরিপ চলাকালীন ভুল রেকর্ড সংশোধনের দুটি ধাপ রয়েছে। প্রচলিত ভাষায় যা ৩০ বিধি বা আপত্তি স্তর নামে পরিচিত। আপনি আপত্তি দেওয়ার পর জরিপ বিভাগের একজন কর্মকর্তা এর শুনানি গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন। এ সিদ্ধান্তের ওপর আপনার কোন আপত্তি থাকলে ৩১ বিধিতে আপিল করতে হবে। আপিলের সিদ্ধান্ত সঠিক না হলে ছাপানো রেকর্ড প্রকাশের পরে রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে সংক্ষুব্ধ হলে ল্যান্ড সার্ভে আপিলেট ট্রাইব্যুনালে এবং পরে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে আপীল করা যাবে। কেউ ব্ধ হয়ে পরের ধাপে না গেলে পূর্বের রায় চূড়ান্ত হবে। একজন জমির মালিক হিসেবে জরিপ চলাকালে আপনার প্রধান দায়িত্ব হলো চোখ—কান খোলা রাখা, অর্থাৎ জরিপ সম্পর্কে খোঁজ—খবর রাখা। বেশ কয়েকটি ধাপে জরিপ কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। প্রতিটি ধাপে তথ্য, প্রমাণকের ভিত্তিতে আপত্তি বা আবেদন দিয়ে মালিকানা নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। আপনার খতিয়ান বা মালিকানা সঠিক রয়েছে কি না তা যাচাই করবেন। আবহেলা বা গাফিলতি করলে রেকর্ড অশুদ্ধ হবার সম্ভবনা থাকে। তবে জরিপের গেজেট প্রকাশের পর ভুলটি যদি কেবল করণিক ভুল হয়, তাহলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)—এর নিকট আবেদন করলে সংশোধন হতে পারে।
জরিপের ছাপা রেকর্ডের গেজেট প্রকাশের পর মিউটেশন প্রক্রিয়া
একবার জরিপের রেকর্ডের গেজেট প্রকাশিত হবার পর যতবার জমি কেনাবেচা হবে বা অন্যভাবে মালিকানা পরিবর্তন হবে ততবারই উপজেলা/সার্কেল ভূমি অফিস হতে নতুন ক্রেতার নামে মিউটেশন বা রেকর্ড সংশোধন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াকে আমরা নামপত্তন বা জমা—খারিজ বলি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কাজটি সম্পাদন করে থাকেন। এই মিউটেশন খতিয়ানটি আপনার সর্বশেষ রেকর্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে মিউটেশন বা অনলাইন মিউটেশন চালু করার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করা হয়েছে।
----
বই: ভূমি আমার ঠিকানা
ভূমি সুরক্ষায় ভূমি মালিকের করণীয়
পৃষ্ঠা: ২,৩
প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০২৫
প্রকাশনায় : ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়
#আইন #বাংলাদেশ
#ভূমি #ভূমিআইন #সমস্যা #সমাধান
09/04/2025
এখন থেকে অনলাইনেও বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করা যাবে,জটিলতা অনেকটাই অবসান হবে!
02/12/2024
জমির হিসাব, সাবেক পাই, আনা পদ্ধতি থেকে হাজার পদ্ধতিতে হিসাব করার নিয়মঃ
এই আর্টিকেলে জমি মাপার বিভিন্ন সূত্র এবং নিয়ম গুলো খুব সহজ করে বর্ণনা করা হয়েছে। সুত্র এবং নিয়ম গুলো জানা থাকলে আশা করি, জমি মাপার বিষয়টি আপনাদের কাছে খুবই স্বচ্ছ হয়ে উঠবে।
জমির মাপের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন এককঃ
১ শতাংশ = ১০০০ বর্গলিংক
১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গ ফুট
১ শতাংশ = ১৯৩.৬০ বর্গহাত
১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ
১ শতাংশ = ৪০.৪৭ বর্গ মিটার
জমি কেনার আগে আপনাকে যা যা জানতে হবে।
বিভিন্ন পরিমানে জমির হিসাবঃ
১ শতক = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট
১ শতক = ৪৮.৪০ বর্গগজ
১ শতক ৪০.৪৬ বর্গমিটার
১ শতক = ১৯৪.৬০ বর্গহাত
১ শতক ১০০০ বর্গলিংক
১ কাঠা = ১.৭৫ শতক (৩৫ এর মাপে)
১ কাঠা = ১.৬৫ শতক (৩৩ এর মাপে)
১ কাঠা = ১.৫০ শতক (৩০ এর মাপে)
১ একর = ৬০.৬০ কাঠা
১ একর = ৩.০৩ বিঘা
১ হেক্টর = ২.৪৭ একর
১ একর = ৪৩৫৬০ বর্গফুট
১ একর = ৪৮৪০ বর্গগজ
১ একর = ৪০৪৬ বর্গমিটার
১ একর = ১৯৪৬০ বর্গহাত
১ একর = ১০০০০০ বর্গলিংক।
উদাহরণঃ
একটি জমির দৈর্ঘ্য উত্তর আইল ৫০ ফুট, দক্ষিণ আইল ৫৪ ফুট, প্রস্থ পশ্চিম আইল ৩০ ফুট, ভিতরে এক অংশে ৩৪ ফুট, এক অংশে ৩৮ ফুট এবং পূর্ব আইল ৪০ ফুট জমিটির পরিমাণ কত ?
জমিটির দৈর্ঘ্য ৫০+৫৪ = ১০৪ (দুই দিকের দৈর্ঘ্য যোগ করা হলে) তাই ২ দিয়ে ভাগ করলে দৈর্ঘ্য পাওয়া যায় (১০৪ ভাগ ২) = ৫২ ফুট।
জমিটি প্রস্থে অসম হওয়ায় এর ২ দিকের বাউন্ডারীর প্রস্থ ছাড়াও ভিতরের দিকে অন্তত ২াট প্রস্থ পরিমাপ এবং তা গড় করে মূল প্রস্থ বের করা যায় ৩০+৪০+৩৪+৩৮ = ১৪২ (ফুট) এর গড় (১২৪ ভাগ ৪) ৩৫.৫ ফুট।
ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য x প্রস্থ = ৫২ x ৩৫.৫ = ১৮৪৬ বর্গফুট (জমিটির ক্ষেত্রফল)
সূত্র মতে ৪৩৫.৬০ বর্গফুট = ১ শতাংশ।
অতএব উপরের জমিটির পরিমাণ (১৮৪৬ ভাগ ৪৩৫.৬০) = ৪.২৪ শতাংশ।
পরচা, দাখিলনামা, জমাবন্দি, দাখিলা, দাগ নাম্বার, ছুটদাগ কি?
ক্ষেত্রফল আকৃতির জমির মাপঃ
প্রথমেই সুত্রগুলো জেনে নেয়া যাক-
ক্ষেত্রফল = বাহু X বাহু
কর্ন = ১ বাহু X ১.৪১৪
পরীসিমা= ১ বাহু X ৪
এখন যদি প্রশ্ন হয় একটি বর্গক্ষের বাহুগুলির দৈর্ঘ্য ১২০ লিংক করে হলে উহার ক্ষেত্রফল এবং জমির পরিমাণ বের কর।
তাহলে আমরা জেনেছি যে, ক্ষেত্রফল= বাহু X বাহু = ১২০ X ১২০= ১৪৪০০ বর্গলিংক (যদি ক্ষেত্রফলের একেকটি বাহু ১২০ লিংক হয়)।
এখন আমরা আগেই জেনেছি যে, ১ শতাংশ = ১০০০ বর্গ লিংক তাহলে জমির পরিমান,
১০০০ বর্গ লিংক = ১ শতাংশ
১ বর্গ লিংক = ১০০০ ভাগের ১ ভাগ
১৪৪০০০ বর্গ লিংকে কত হবে?
সুতরাং ১৪৪০০০ বর্গ লিংকে ১০০০ দিয়ে ভাগ দিলে যা হবে তাই হচ্ছে তার ফল অর্থাৎ ১৪.৪০ শতাংশ হবে।
জমি মাপের সহজ পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতিঃ
গ্যান্টার জরিপঃ
ইংরেজ বিজ্ঞানী গ্যান্টার জরিপ কাজে ব্যবহৃত চেইন আবিস্কার করেন। তাই তার নামানুসারে এ চেইনের নামকরন করা হয়েছে “গ্যান্টর্র্স চেইন”। এ চেইনের দের্ঘ্য ২২ গজ বা ৬৬ ফুট। এতে ১০০টি লিংক আছে। প্রতি লিংকের দৈর্ঘ্য ৭.৯২ ইঞ্চি এর দু মাথায় দুটো হাতল এবং দশম লিংক একটি করে “পেন্ডিল” বা পুলি আছে।
ইদানিং ফিতা/টেপ ব্যবহার করেও জমি পরিমাপ করা হয়। সার্ভেয়ার বা আমিন সব সময় পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হিসাব ও পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি নিজেই জমি পরিমাপ করতে পারবেন।
হিসাবটি হলোঃ
১০০০ বর্গ লিংক (৩১.৬২x৩১.৬২ লিংক) ১ শতাংশ।
১৯৪.৬ বর্গ হাত (১৩.৯৫x১৩.৯৫ হাত) = ১ শতাংশ।
১০.০০০ বর্গ লিংক(১x১ চেইন) = ১০ শতাংশ।
৩৩.৩ শতাংশ কার্যত ৩৩ শতাংশ = ১ বিঘা। (ষ্টান্ডার্ড বিঘা)
১০০ শতাংশ বা ৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর।
৪৮৪০x৯ (৯ বর্গফুট = ১ বর্গ গজ বলে = ৪৩৫৬০ বর্গফুট।
৪৩৫৬০ ১০০ (১০০ শতাংশ ১ একর বলে)= ৪৩৫.৬ বর্গফুট।
অতএব ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট বা ৪০.৪৬ বর্গমিটার (প্রায়)
আমাদের দেশে কোথাও ৩৫ শতাংশে ১ বিঘা, কোথাও ৩৩ শতাংশে ১ বিঘা আবার ইদানিং ৩০ শতাংশে ১ বিঘা বলা হচ্ছে।
যদিও সরকারি বিঘা ৩৩ শতাংশেই করা হয়। অপরদিকে কাঠার পরিমাণ শতাংশের পরিমাণে স্থান বিশেষ পার্থক্য হলেও ২০ কাঠায় ১ বিঘার হিসেবে সর্বত্র প্রচলিত ও স্বীকৃত আছে।
ডায়াগনাল স্কেলঃ
ডায়াগনাল স্কেল একটি চার কোনা বিশিষ্ট তামা ব্রোঞ্জের তৈরি স্কেল। ইহার চার পাশে ১০ টি ঘর বা কক্ষ থাকে প্রতিটি ঘরের মান ১০০ লিংক। ১৬”=১ মাইল স্কেলে ইহা তৈরি করা হয়। এবং গান্টার চেইনের সাথে মিল আছে বলে একে গান্টার স্কেলও বলা হয়।
আভার অফসেটঃ
এটি একটি প্লাষ্টিকের তৈরি স্কেল এই স্কেলের সাথে গান্টার স্কেলের মিল আছে। ইহার দৈর্ঘ্য ২ ” এবং প্রস্ত .৫” (ইঞ্চি) এই স্কেলের সাহায্যে নকশার সংকোচিত দুরত্ব সহজে মাপা যায়। এটা ছাড়া অফনেট নেয়ার ক্ষেত্রে ইহা বিশেষ সুবিধাজনক। গুনে গুনে সংখ্যা হিসাব করা যায় বলে একে গুনিয়া বলা হয়।
ডিভাইডার বা কাটা কম্পাসঃ
ইহা একটি জ্যামিতিক কম্পাস। ইহার সাহায্যে নকশার সংকোচিত দুরত্ব নিয়ে ডাইগোনাল স্কেলে মাপ নেয়া যায় এবং দুরত্ব গুনিয়া গুনিয়া সংখ্যা বুঝা যায়।
জোনাল জরিপঃ
ভূমি সংস্কার কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক রিভিশনাল সেটেলমেন্ট পদ্ধতির পরিবর্তে ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে স্থায়ী পদ্ধতির জোনাল সেটেলমেন্ট আরম্ভ হয়। ১০ টি বৃহত্তর জেলায় জরিপ কাজ হয় এবং এ জরিপে সৃষ্ট খতিয়ানকে বাংলাদেল সার্ভে বা বি. এস. খতিয়ান বলে। কেউ আবার একে আর. এস. খতিয়ান বলে।দিয়ারা জরিপঃ দরিয়া শব্দ থেকে দিয়ারা শব্দের উদ্ভব। যে সকল এলাকায় নদী বা সাগরের কারনে জমির ভাঙ্গাগড়া বেশী হয় সে অঞ্চলে দিয়ারা জরিপ।
ভূমি পরামর্শক পেইজের সাথে থাকুন।
02/12/2024
অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন যে,
কাবিননামা ও দেনমহর কি একই বিষয়?
উত্তরঃ কাবিনানামা একটি চুক্তি। আর দেনমোহর হলো স্বামীর কাছে স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার। কাবিননামা বিয়ের জন্য আবশ্যক নয় বরং দেনমোহর বিয়ের জন্য অবশ্যই আবশ্যক।
অন্য ভাবে বলা যায়, মোহরানা হলো স্ত্রীর হক যা ধর্মীয় আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত একটি টাকার পরিমাণ যা স্বামী কতৃক আবশ্যিকভাবে পরিশোধ যোগ্য। আর কাবিননামা হলো সরকার কর্তৃক বিবাহের স্বীকৃতির একটি দলিল।
আশা করি বিষয়টি বুঝতে পারছেন।
আপনার কিছু জানা থাকলে আমাদের মেসেজ অপশানে অথবা কমেন্টবক্সে জানাতে পারেন। আমরা উত্তর দেওয়ার যথাযথ চেষ্টা করবো।
আইন এবং আদালত - Law & Court
#আদালত
#আইন #বাংলাদেশ
゚viralシ