23/11/2025
ভূগোলের গোল গোল ছাত্রী আমি। গতকাল থেকেই বাংলাদেশের ভূমিকম্প আমাকে ভাবাচ্ছে।
তাই অনেক রিসার্চ করছিলাম। অবশেষে এই লেখাটি দাঁড় করালাম।
বিভিন্ন সোর্চ থেকে তথ্য নিয়ে।
বাংলাদেশে ভূমিকম্প একটি গুরুতর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি করে, যার মূল কারণ হলো এর ভূতাত্ত্বিক অবস্থান এবং টেকটোনিক প্লেটগুলির কার্যকলাপ।
🌍 বাংলাদেশে ভূমিকম্পের কারণ
বাংলাদেশ মূলত তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা একে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। প্লেটগুলির মধ্যে ক্রমাগত মিথস্ক্রিয়া এবং সঞ্চিত শক্তির মুক্তিই ভূমিকম্পের প্রধান কারণ।
১. টেকটোনিক প্লেটের অবস্থান
বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান প্লেট (বা ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট), ইউরেশিয়ান প্লেট, এবং বার্মা মাইক্রোপ্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত।
🌍 ইন্ডিয়ান প্লেট: এই প্লেটটি বছরে প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে ইউরেশিয়ান প্লেটের নিচে প্রবেশ করছে (সাবডাকশন)।
🌏 বার্মা মাইক্রোপ্লেট: এটি পশ্চিম দিকে ইন্ডিয়ান প্লেটের দিকে এগিয়ে আসছে।
🎑 শক্তি সঞ্চয় (Locked Zone): ইন্ডিয়ান প্লেটটি ইউরেশীয় এবং বার্মা প্লেটের দিকে এগোলেও, একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে (যেমন সিলেট-চট্টগ্রাম অঞ্চল) তা আটকে গিয়ে বিপুল পরিমাণে ইলাস্টিক শক্তি সঞ্চয় করছে। এই সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ মুক্তি পেলেই বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
২. সক্রিয় ফল্ট লাইন বা ভূচ্যুতি রেখা
বাংলাদেশের ভেতরে ও আশেপাশে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফল্ট লাইন (ভূ-অভ্যন্তরের ফাটল) রয়েছে, যা ভূ-আলোড়নের উৎস হিসেবে কাজ করে। এই ফল্ট লাইনগুলোতে চাপ বাড়লে বা হঠাৎ খুলে গেলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। প্রধান কিছু ফল্ট হলো:
🕹️ ডাউকি ফল্ট (Dauki Fault): এটি ভারতের মেঘালয় থেকে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ফল্ট।
🐲 মধুপুর ফল্ট (Modhupur Fault): এটি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত।
📈 প্লেট বাউন্ডারি-১, ২, এবং ৩: মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী, নোয়াখালী থেকে সিলেট, এবং সিলেট থেকে ভারতের দিকে চলে যাওয়া এই ভূচ্যুতি রেখাগুলিও ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ায়।
🚨 ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ও ঝুঁকি
ভূমিকম্পের ঝুঁকির মাত্রার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে সাধারণত তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়:
নীচের টেবিলের দিকে লক্ষ্য কর:
| ঝুঁকিপূর্ণ জোন | এলাকার নাম | ঝুঁকির মাত্রা |
|---|---|---|
| জোন ১ | সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ (উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল) | সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ |
| জোন ২ | ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, বগুড়া (মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের কিছু অংশ) | মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ |
| জোন ৩ | খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী (পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল) | তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ |
ঢাকার বিশেষ ঝুঁকি
ভূ-তত্ত্ববিদরা রাজধানী ঢাকাকে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন, কারণ:
* অস্থিতিশীল মাটি: ঢাকার বেশিরভাগ অঞ্চল নরম, পলল এবং জলাভূমি ভরাট করে তৈরি, যা ভূমিকম্পের সময় কম্পনকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
⚠️ অপরিকল্পিত নগরায়ন: অপরিকল্পিত উঁচু ভবন নির্মাণ এবং বিল্ডিং কোড (National Building Code, 2020) না মেনে তৈরি করা অধিকাংশ ভবন বড় ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলানোর জন্য যথেষ্ট মজবুত নয়।
* জনসংখ্যার ঘনত্ব: জনবসতির উচ্চ ঘনত্ব এবং গ্যাস-বিদ্যুতের অপরিকল্পিত লাইনের কারণে সামান্য ভূমিকম্পেও বড় ধরনের বিপর্যয় ও প্রাণহানির আশঙ্কা অনেক বেশি।
📜 বাংলাদেশের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ইতিহাস
নিকট অতীতে বড় কোনো ভূমিকম্প না হলেও, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে শত শত বছর আগে বেশ কিছু বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যা প্রমাণ করে যে অঞ্চলটি বড় ভূমিকম্পের সক্ষমতা রাখে।
* ১৭৬২ সালের ভূমিকম্প: এটি ছিল অন্যতম বড় ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা আনুমানিক ৭-এর বেশি ছিল। এতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাটি ফেটে কাদা-পানি বের হয় এবং একটি বড় নদী শুকিয়ে যায়।
* ১৮২২ সালের ভূমিকম্প: সিলেটে ৭.৫ মাত্রা।
* ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল ভূমিকম্প: প্রায় ৭.৫ মাত্রা।
* ১৮৯৭ সালের গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়াক (The Great Indian Earthquake): রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৮.৭। এটি ছিল এক বিশাল বিধ্বংসী ভূমিকম্প, যার কম্পন বাংলাদেশেও প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছিল এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
* ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প: ৭.৬ মাত্রা।
* ১৯৫০ সালের আসাম ভূমিকম্প: ভারতে ৮.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশেও প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়ায়, ইন্ডিয়ান ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে বিশাল পরিমাণ শক্তি জমা হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ৭ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারে।
🔔 সাম্প্রতিক সতর্কতা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ও এর আশপাশে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। ঘন ঘন ছোট কম্পনগুলো ইঙ্গিত দেয় যে ভূ-অভ্যন্তরে চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৫ থেকে ৬ মাত্রার বেশ কিছু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের কাছাকাছি ছিল।
এর জন্য সরকারি, বেসরকারি, জনগন সবার সতর্ক হওয়া দরকার।
কালেক্টড পোস্ট
Image- AI generated
06/07/2025
এটি একটি ১,০০০ গ্রাম লোহার বার, কাঁচামাল হিসেবে যার মূল্য মাত্র ১০০ ডলার।
যদি আপনি এটাকে ঘোড়ার খুর বানাতে ব্যবহার করেন,এর মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ২৫০ ডলার।
সেলাইয়ের সূঁচ তৈরি করলে এর মূল্য হয় প্রায় ৭০,০০০ ডলার।
ঘড়ির স্প্রিং ও গিয়ার তৈরি করলে এর মূল্য পৌঁছে যায় ৬ মিলিয়ন ডলারে।
আর এটাকে যদি উন্নত প্রযুক্তির লেজার উপাদানে রূপান্তর করা হয়, যা কম্পিউটার চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, তখন এই একই লোহার বারের মূল্য দাঁড়ায় ১৫ মিলিয়ন ডলার।
আপনার প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় আপনি কি দিয়ে তৈরি তার মাধ্যমে নয়, বরং আপনি কীভাবে আপনার দক্ষতাকে বিকশিত করেন এবং তা প্রয়োগ করেন,তাঁর উপর।
01/07/2025
একদিন এক গরিব ছেলে রাস্তায় হাঁটছিল। ছেলেটি তার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতে ঘরে ঘরে গিয়ে নানা জিনিস বিক্রি করত। তার গায়ে ছিল জীর্ণ মলিন পোশাক, আর পেট ছিল খালি। ক্ষুধার তাড়নায় সে ঠিক করল, এবার যে বাড়িতে যাবে, সেখানে কিছু খাবার চাবে।
কিন্তু যখন সে এক বাড়িতে গিয়ে খাবারের কথা বলার সাহস করছিল, তখন ঘর থেকে এক সুন্দরী মহিলা বেরিয়ে এলেন। ছেলেটি লজ্জায় খাবারের কথা না বলে শুধুমাত্র এক গ্লাস পানি চাইলো। মহিলাটি ছেলেটির ক্ষুধার্ত অবস্থা বুঝে গেলেন। তাই তিনি এক গ্লাস পানি নয়, বরং এক বড় গ্লাস দুধ এনে দিলেন।
ছেলেটি ধীরে ধীরে দুধ খেয়ে বলল,
— "এই দুধের জন্য আপনাকে কত টাকা দিতে হবে?"
মহিলা হেসে বললেন,
— "তোমাকে কিছুই দিতে হবে না।"
ছেলেটি মাথা নিচু করে বলল,
— "আমার মা বলেছেন, কখনো করুণার দান নেবে না। তাই আমি আপনাকে অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।"
ছেলেটির নাম ছিল স্যাম কেইলি। দুধ খেয়ে সে নতুন করে শক্তি আর সাহস ফিরে পেল। তার মনে ছিল অগাধ বিশ্বাস আর অধ্যবসায়।
বছর কয়েক পর
অনেক বছর পরে, সেই মহিলাটি হঠাৎ মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। স্থানীয় ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেও তাকে সুস্থ করতে পারলেন না। শেষমেষ তাকে বড় শহরের বিখ্যাত এক হাসপাতালে পাঠানো হলো, যেখানে জটিল রোগের চিকিৎসা হয়।
সেই হাসপাতালে তার চিকিৎসার দায়িত্ব পেলেন ডা. স্যাম কেইলি।
মহিলার গ্রামের নাম শুনেই ডা. স্যাম কেইলির চোখে যেন এক অদ্ভুত আলো ঝলমল করল। তিনি তৎক্ষণাৎ রোগীকে দেখতে গেলেন। ডাক্তারের সাদা এপ্রোন পরে যখন তিনি রুমে ঢুকলেন, তখন প্রথম দেখাতেই চিনতে পারলেন এই নারীকে — এ তো সেই মহান হৃদয়ের মানুষ, যিনি একদিন ক্ষুধার্ত ছেলেটিকে এক গ্লাস দুধ দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন।
তিনি মনে মনে শপথ করলেন, যেভাবেই হোক, এই মহিলাকে তিনি সুস্থ করবেনই। সেই থেকে তিনি তার উপর বিশেষ যত্ন নিতে লাগলেন। অবশেষে চিকিৎসার চেষ্টায় সেই মহিলা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলেন।
শেষ চমক
চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের হিসাব বিভাগ থেকে বিল তৈরি করা হলো। নিয়ম অনুযায়ী, ডা. স্যাম কেইলির স্বাক্ষর ছাড়া সেই বিল কার্যকর হবে না।
ডা. স্যাম কেইলি বিলের একপাশে কিছু লিখলেন এবং বিলটি মহিলার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
মহিলা থরথর করে বিলের খাম খুললেন — ভাবলেন, এত বড় হাসপাতালের বিল কোনোদিনই তিনি শোধ করতে পারবেন না।
কিন্তু বিলের একপাশে লেখা কিছু কথা তার চোখে পড়ল। সেখানে লেখা ছিল:
"আপনার চিকিৎসার খরচ হলো — এক গ্লাস দুধ।"
— ডা. স্যাম কেইলি
শিক্ষণীয় বার্তা
মানুষকে সাহায্য করুন যতটুকু সম্ভব। আপনি হয়তো আজ সামান্য কিছু দিচ্ছেন, কিন্তু একদিন সেই অল্প দানই ফিরে আসবে অজানা আশীর্বাদ হয়ে।
01/07/2025
"উত্তম ও অধম"
---সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
কুকুর আসিয়া এমন কামড়
দিল পথিকের পায়
কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে
বিষ লেগে গেল তায়।
ঘরে ফিরে এসে রাত্রে বেচারা
বিষম ব্যথায় জাগে,
মেয়েটি তাহার তারি সাথে হায়,
জাগে শিয়রের আগে।
বাপেরে সে বলে ভৎসনা ছলে
কপালে রাখিয়া হাত,
তুমি কেন বাবা, ছেড়ে দিলে তারে
তোমার কি নাই দাঁত?
কষ্টে হাসিয়া আর্ত কহিল
তুইরে হাসালি মোরে,
দাঁত আছে বলে কুকুরের গায়ে
দংশি কেমন করে?
কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ান কি রে
মানুষের শোভা পায়?
28/06/2025
একজন অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছিলেন। ক্লাস শুরু হতেই এক ছাত্র শিস দিয়ে বসল।
অধ্যাপক থেমে গিয়ে বললেন:
— "কে শিস দিল?"
কেউ কোনো উত্তর দিল না।
তিনি আবার পাঠ দেওয়া শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পর সেই ছাত্র আবার শিস দিল।
অধ্যাপক আবার থেমে জিজ্ঞেস করলেন:
— "কে শিস দিচ্ছে?"
তবুও কেউ উত্তর দিল না।
তিনি আবার ক্লাস শুরু করলেন। কিন্তু এবার যখন তৃতীয়বারের মতো শিস এল,
তিনি কলম বন্ধ করলেন এবং বই গুটিয়ে বললেন:
— "আজকের ক্লাস এখানেই শেষ। তবে আমি তোমাদের একটা গল্প শোনাব।"
ক্লাসে নেমে এলো নিস্তব্ধতা, সবাই মনোযোগ দিল।
অধ্যাপক বললেন:
"এক রাতে ঘুম আসছিল না, অস্থির হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গাড়ি চালিয়ে কোথাও যাচ্ছিলাম। কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য ছিল না।
হঠাৎ দেখি এক বৃদ্ধা মহিলা, হাতে ভারী বোঝা নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।
আমি গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'মা, কিছু সাহায্য লাগবে কি?'
তিনি খুশি হলেন, গাড়িতে উঠলেন।
চলতে চলতে বুঝলাম, তিনি আমাকে ভালোভাবেই চেনেন।
তিনি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন:
— ‘ডক্টর সাহেব, আমার একটা অবৈধ সন্তান আছে, সে আপনার ইউনিভার্সিটিতেই পড়ে। আমি চাই আপনি তার পাশে থাকুন, তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।’
আমি বললাম:
— 'নিশ্চয়ই মা, কিন্তু নামটা বললে তো আমি তাকে চিনতে পারব।'
তিনি হেসে বললেন:
— 'নাম বলার দরকার নেই। আপনি নিজেই তাকে চিনে ফেলবেন — সে খুব দুষ্ট, সব সময় ক্লাসে শিস দেয়।'"
এই কথা শুনে ক্লাসের সব ছাত্র ঘুরে তাকাল সেই শিস দেওয়া ছাত্রের দিকে!
অধ্যাপক তখন বললেন:
"এসো ছোট ভাই, তুমি কি ভাবছ আমি এই পিএইচডি সার্টিফিকেট গাধার হাট থেকে কিনেছি?"
02/01/2025
এটি হচ্ছে মহাকাশের সব থেকে কাছের শহর !!
ছবিতে যে জায়গাটি দেখছেন এটি মহাকাশের সব থেকে কাছের শহর নামে বেশ পরিচিত ! মানে এখানে যারা বসবাস করেন তারা পৃথিবীর সব মানুষ থেকে মহাকাশের অধিক কাছাকাছি বসবাস করেন !!
এটি হলো "লা রিনকোনাদা" শহর যা পেরুর আন্ডেস পর্বতমালায় অবস্থিত । এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,১০০ মিটার (১৬,৭০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থায়ী জনবসতির অধিকারী শহর এটি কারণ পৃথিবীতে যত শহর বা জনবসতি রয়েছে তার মধ্যে এটি সর্বোচ্চতায় অবস্থিত ! এ যেন তুষার পাহাড়ের উপরে এক কল্পনার শহর । এই শহর সম্পর্কে আরেকটি সব থেকে দারুন বিষয় হলো এখানকার সোনা ! সোনা আহরণ করাই এখানকার প্রধান অর্থনৈতিক কার্যক্রম। এখানে প্রায় ৫০,০০০-এর অধিক মানুষ বাস করেন, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই স্বর্ণখনিতে কাজ করেন ।
লা রিনকোনাদা শহর এবং এর জীবনযাত্রা সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য:
১. শহরের আবহাওয়া ও পরিবেশ:
শহরের তাপমাত্রা খুবই শীতল এবং বছরের বেশিরভাগ সময়ই তুষারে ঢাকা থাকে।
অক্সিজেনের ঘনত্ব সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় অনেক কম, ফলে এখানে বসবাস করা শারীরিকভাবে কঠিন।
এখানকার পানি এবং বায়ু দূষিত, বিশেষ করে খনিজ উত্তোলনের কারণে।
২. স্বর্ণ খনির প্রক্রিয়া:
শহরটি স্বর্ণ আহরণের জন্য বিখ্যাত।
এখানকার খনিগুলো বেশিরভাগই ছোট এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হয়।
শ্রমিকেরা সাধারণত “কাচোরো সিস্টেম”-এ কাজ করেন। এই ব্যবস্থায় তারা কোনো অর্থমূল্য পান না; বরং এক মাস কাজ শেষে স্বর্ণের একটি অংশ সংগ্রহ করার অনুমতি দেওয়া হয়, যার মধ্যে তারা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে স্বর্ণ খুঁজে পান।
৩. জীবনযাত্রার মান:
শহরে সরকারি সেবা প্রায় অনুপস্থিত।
স্যানিটেশন, পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাব প্রকট।
বসবাসকারীরা বেশিরভাগই অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র এবং এখানকার জীবনযাত্রা অনেক কঠিন।
৪. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক:
লা রিনকোনাদায় বিভিন্ন উৎসব এবং ঐতিহ্য পালিত হয়, যেগুলোতে ধর্মীয় ও সংস্কৃতির মিশ্রণ দেখা যায়।
শহরের মানুষ মূলত অ্যান্ডিয়ান সংস্কৃতি ও ভাষার ধারক।
৫. পর্যটন আকর্ষণ:
যদিও এটি খুব প্রতিকূল পরিবেশে অবস্থিত, তবুও এর অনন্য ভৌগোলিক অবস্থান এবং সৌন্দর্য কিছু অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটককে আকর্ষণ করে।
৬. ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ:
পরিবেশ দূষণ এবং খনিজ আহরণ প্রক্রিয়ার কারণে শহরটির ভবিষ্যৎ উদ্বেগজনক।
সোনার ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি টেকসই নয় এবং এখানকার পরিবেশগত ভারসাম্য আরও খারাপ হতে পারে।
লা রিনকোনাদা শহরে ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা অত্যন্ত সীমিত এবং উচ্চতা ও প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি আরও জটিল। তবে সেখানে পানি সংগ্রহ এবং ব্যবহারের জন্য কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়:
১. হিমবাহ গলন থেকে পানি সংগ্রহ:
লা রিনকোনাদা শহরটি আন্ডেস পর্বতমালার কাছে অবস্থিত এবং এর আশেপাশে অনেক হিমবাহ (glaciers) রয়েছে।
এই হিমবাহগুলো গ্রীষ্মকালে গলে, যা থেকে পানি পাওয়া যায়।
হিমবাহ গলনের পানি স্থানীয়দের জন্য প্রধান পানির উৎস।
২. বরফ সংগ্রহ ও গলিয়ে পানি তৈরি:
অনেক মানুষ বরফ সংগ্রহ করে এবং তা গলিয়ে ব্যবহার করেন। এটি পানীয় জল এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের জন্য অন্যতম উপায়।
৩. ভূগর্ভস্থ পানির উৎস:
উচ্চতার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর (groundwater level) অত্যন্ত গভীরে।
প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম কোনো আধুনিক পরিকাঠামো ছাড়াই অনেক জায়গায় ছোট ঝর্ণা বা জলাধার থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়।
৪. পানি সংরক্ষণ এবং পুনর্ব্যবহার:
শহরে পানির চাহিদা পূরণের জন্য অনেকেই পানি পুনর্ব্যবহার করেন।
স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা পানি দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করা হয়।
৫. সমস্যাসমূহ:
পানির উৎসগুলো (বিশেষত হিমবাহ থেকে প্রাপ্ত) ভারী ধাতু এবং খনিজ দ্বারা দূষিত।
খনি কার্যক্রম থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ যেমন পারদ (mercury) এবং অন্যান্য বিষাক্ত উপাদান পানিকে ব্যবহার অনুপযোগী করে তুলেছে।
পরিশোধিত পানির অভাব শহরের প্রধান সমস্যাগুলোর একটি।
এত উচ্চতায় পানির উৎস সীমিত হলেও প্রকৃতি থেকে যতটুকু পাওয়া যায়, তা দিয়েই স্থানীয়রা জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।
02/12/2024
ছবিতে দেখানো প্রাণিটির নাম ওরফিশ (Regalecus glesne) ! যাকে বলা হয় 'Harbinger of Doom '😮 মানে কেয়ামত? হ্যাঁ এই মাছের আরেক নাম 'কেয়ামতের দূত'! সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় এমন একটি ওরমাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। কেন এই মাছটি রহস্যময় চলুন বিস্তারিত জেনে আসি –
পৃথিবীর মোট আয়তনের চার ভাগের তিন ভাগই সমূদ্রবেষ্টিত। সমূদ্রের ধু ধু জলরাশির মধ্যেই লুকিয়ে আছে কত হাজারো জীবের সমাহার! যার মধ্যে হয়ত অধিকাংশ প্রাণির হদিসই মানুষের কাছে নেই। কখনো জানাও বোধহয় সম্ভব নয়, কারণ এই সমূদ্রমালা তো বিশাল, যার গভীর থেকে গভীরে যে কত দৈত্যাকার রহস্যময় প্রাণের অস্তিত্ব আছে তা আমাদের ধারণাতীত! তেমনই একটি দৈত্যাকার মাছ হলো ওরফিশ। খুবই অদ্ভুত দর্শন এবং অস্বাভাবিকভাবে লম্বা এই মাছের দেখা মিলবে সমূদ্রের ১০০০ মিটার গভীরে মেসোপিলেজিক জোনে!বুঝতেই পারছেন এগুলো খালি চোখে দেখতে পাওয়া কতটা দূর্লভ। লম্বায় এরা সর্বোচ্চ ৩০ ফিট পর্যন্ত হতে পারে, এই লম্বা ও বিশাল দেহ নিয়ে পানিতে ভেসে থাকতে এরা বিশেষ এক ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। ওরফিশ উল্লম্ব ভাবে একেঁবেকেঁ চলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। রুপালী বর্ণের এই অদ্ভুত মাছ সাধারণত ক্রিল,প্লাংকটন জাতীয় জীব আহার করে। এই মাছের একটি ভয়ানক নাম আছে। 'The Doomsday Fish' । আসলেই কি এরা কেয়ামতের সংকেত ? 🙄😬
ইতিহাস বলছে, এই ওরফিশ যেখানে দেখা যায় সেখানে নাকি বড়সড় বিপর্যয় বা প্রাকৃতিক দূর্যোগ হানা দেয়! যেসব অঞ্চলে কয়েকবার সমুদ্রের তীরে এই রহস্যময় মাছ দেখা গিয়েছিল, পরবর্তীতে ঐ এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগ ঘটেছে। ২০১১ সালে জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, তার কিছুদিন পূর্বেই সমূদ্রতটে প্রায় ২০টির মত ওরফিশ দেখা গিয়েছিল। এগুলো কোনো এক অজানা কারণে ১০০০ মিটার নিচ থেকে উঠে এসেছিল।
এর পরে ২০১৭ সালে ফিলিপিনের মিনডানোতে স্থানীয়রা কয়েকটি ওরফিশ দেখতে পেয়েছিল। তার কিছুদিন পরেই এলাকাটিতে 6.7 মাত্রার ভূমিকম্প সংগঠিত হয়। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এবং শক্তিশালী (৯.৫ মাত্রার!) ১৯৬০ সালের চিলি তে সংঘটিত ভূমিকম্পের আগেও নাকি অনেক মানুষ সমুদ্রতীরে ওরফিশের মতো অনেক উদ্ভট সামুদ্রিক প্রানি দেখেছে বলে দাবি করছে ! যদিও গভীর জলের মাছ বলে ওরফিশ কখনো সমূদ্রের উপরে উঠে আসে না, আর দেখা গেলেও তা খুব দুর্লভ। আহত বা অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়।
আসলে কী এই ওরফিশের কোনো অলৌকিক শক্তি আছে ? এরা কী ভবিষ্যতবাণী দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? নাকি বড় বড় দূর্যোগের পূর্বে এদেরকে দেখতে পাওয়া নিছক কাকতালীয় ঘটনা মাত্র? আপনার কী মনে হয়?
মতামত জানাতে ভুলবেন না।
লেখা ✍️ জাওয়াদ ওসমান,
09/10/2024
📚মিথ্যা প্রতিশ্রুতির করুণ পরিণতি:
কানাডার এক বরফ শীতল রাতে, এক কোটিপতি তার ঘরের সামনে এক দরিদ্র বৃদ্ধকে দেখতে পেলেন। তিনি বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসা করলেন, "এত ঠাণ্ডায় আপনি কীভাবে আছেন? আপনার গায়ে কোনো উষ্ণ কাপড় নেই!"
বৃদ্ধ উত্তর দিলেন, "আমার উষ্ণ কাপড় নেই, কিন্তু আমি মানিয়ে নিয়েছি।"
কোটিপতি উত্তর দিলেন, "আমার জন্য একটু অপেক্ষা করুন, আমি আপনার জন্য একটা উষ্ণ কাপড় নিয়ে আসবো।"
বৃদ্ধ খুশি হয়ে বললেন, "আমি অপেক্ষা করবো।"
কোটিপতি তার বাড়িতে ঢুকে নিজের কাজে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন যে, বৃদ্ধের কথা ভুলে গেলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে বৃদ্ধের কথা মনে পড়তেই তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে এলেন। কিন্তু বৃদ্ধ তখন আর বেঁচে নেই। ঠান্ডায় জমে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
বৃদ্ধের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেলো, তাতে লেখা ছিলো:
"যখন আমার কোনো উষ্ণ কাপড় ছিল না, তখন আমি মানিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি যখন আমাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিলেন, তখন সেই আশায় অপেক্ষা করতে করতে আমি ঠান্ডার সাথে লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললাম।"
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি মানুষকে ভেঙে ফেলে। তাই প্রতিশ্রুতি দেয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন, এবং অপ্রয়োজনীয় মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
[এই গল্প থেকে আমরা সবাই শিক্ষা নিতে পারি যে, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া একজন মানুষের উপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।]
(সংগৃহীত)
04/10/2024
প্রশান্ত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরের জল মিশ্রিত হয় না, যদিও উভয়ই লবণাক্ত
দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দুতে "কেপ হর্ন" নামক একটি এলাকায়, একটি রেখা রয়েছে যা প্রশান্ত মহাসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পৃথক করেছে.... এক প্রান্তে জল সবুজ এবং অন্য প্রান্তে জল নীল৷ ..
সবুজ জল হল মিষ্টি জলের একটি নদী যা দুটি মহাসাগরকে পৃথক করে.... এই মিষ্টি জলের উত্স হল অ্যান্টার্কটিকার নদীগুলি থেকে পলি গলে যাওয়া... যা বিভিন্ন ঘনত্বের মিষ্টি জল তৈরি করে যা প্রশান্ত মহাসাগরের জলকে আলাদা করে আটলান্টিকের জলরাশি।
19/09/2024
হটাৎ দেখে মনে হতে পারে এটি ঝিনুক বা ছিলে রাখা আঙুর ফল। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে এটি এক ধরনের ভিন্ন প্রজাতির ফুল
যার নাম: কপরোসমা পেট্রিই একটি আশ্চর্যজনক উদ্ভিদের বা ফুলের বিশদ বিবরণ
কপরোসমা পেট্রিই নামটি শুনলে হয়তো অনেকেই অচেনা হবেন। কিন্তু এই ছোট্ট, মাদুরের মতো গাছটি নিউজিল্যান্ডের বন্যপ্রাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য আর আকর্ষণীয় তথ্যগুলি জানলে আপনিও অবাক হবেন।
একটি দৃষ্টিনন্দন গাছ
মিররপ্ল্যান্ট: সাধারণত একে 'মিররপ্ল্যান্ট' নামে ডাকা হয়। কারণ এর পাতাগুলি এতই চকচকে যে, সূর্যের আলো পড়লে যেন একটি ছোট্ট আয়না!বর্ণিল পাতা: পাতার রংও এর একটি আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। সবুজের বিভিন্ন ছায়া, বাদামি আর বেগুনি রঙের মিশ্রণে এই গাছটি দেখতে অনেক সুন্দর।মাদুরের মতো গঠন: এই গাছটি মাটিতে মাদুরের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর শাখাগুলি মাটিতে গেঁথে নতুন করে গাছ গজায়।
অনন্য বৈশিষ্ট্য
পুরুষ ও স্ত্রী গাছ: কপরোসমা পেট্রিই গাছগুলি পুরুষ বা স্ত্রী, দুই প্রকারের হয়। অর্থাৎ, একই গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল একসাথে ফোটে না।বায়ু পরাগায়ন: এই গাছগুলি বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন হয়।শুষ্ক পরিবেশের সহিষ্ণুতা: এরা শুষ্ক পরিবেশ সহ্য করতে পারে এবং খুব বেশি পরিচর্যাও প্রয়োজন হয় না।পাখির আকর্ষণ: এই গাছের ফল নীল রঙের হয় এবং পাখিরা এগুলি খুব পছন্দ করে।
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
মৃত্তিকা সুরক্ষা: এই গাছটি মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করে এবং মৃত্তিকার উর্বরতা বৃদ্ধি করে।জীববৈচিত্র্য: বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড় ও পাখির আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।বাগান সজ্জা: বাগান সাজাতে এই গাছটি ব্যবহার করা হয়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, কপরোসমা পেট্রিই একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং পরিবেশের জন্য উপকারী উদ্ভিদ। এর সৌন্দর্য, অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশগত গুরুত্ব একে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
02/04/2024
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি আর তাজমহল দুইটাই কিন্তু একই সময়ে করা। তো, ওদের ধনকুবেররা যখন একের পর এক ইউনিভার্সিটি বানাতে ব্যস্ত ছিলেন, আমাদেরগুলা তখন তাজমহল বা শৌখিন সব উদ্যান বানাতে ব্যস্ত ছিলো। তাও আবার জনগণের ট্যাক্সের টাকা ইউজ করেই।অথচ এক তাজমহলের খরচ দিয়ে কতটা ইউনিভার্সিটি করা যাইতো? হিসাব নাই। ঐ ধারাটা কেন জানি এখনও চলতেসে। ওয়েস্টের ধনকুবেরদের একটা জিনিস আমার খুব ভালো লাগে। এরা ধন সম্পদ বানায়। তবে সেই সম্পদ দিয়ে এরা নায়ক নায়িকা নাচায় না। এরা মরার আগে আগে সব টাকা পয়সা দান করে দিয়ে চলে যায়। আমাদের উপমহাদেশের ধনকুবেরদের মধ্যে এই ট্রেন্ড একেবারেই নাই। এইজন্যই দেখবেন, আমেরিকার বহু ইউনিভার্সিটিই ব্যক্তির নামে। বাট বাংলাদেশ বা ভারতে এমন কোন ধনকুবের দেখাইতে পারবেন, যে নিজের সম্পত্তি দিয়ে একটা ইউনিভার্সিটি বা হাসপাতাল করছে।পাক ভারত বা উপমহাদেশের কেউ ধনকুবের হলে অনেকেই খুশি হলেও সত্যি কথা হলো, এই টাকাটা ওয়েস্টের কেউ কামাইলে বরং আপনার লাভ হলেও হতে পারতো। বাট উপমহাদেশের লোকজন এতোটাই স্থূল যে, এরা ছেলেরে সোনার জামা পরাবে, বাট একটা ইউনিভার্সিটি কখনোই করে দেবে না। সেদিন এক বিলিয়নিয়ার মহিলা এসে নিজের সমস্ত সম্পদ আইনস্টাইন মেডিকেল স্কুলে দান করে গেলেন। ফলাফল? ঐ ছাত্রদের আর শিক্ষা ঋণ নিয়ে পড়তে হবে না। ওরা ফ্রি পড়তে পারবে। মহিলা চাইলেই হলিউডের নায়ক নায়িকা এনে নাচাইতে পারতেন। বাট ঐটা কয়দিন আর মনে রাখতো মানুষ? তাই তিনি এমন ব্যবস্থা করে গেলেন, এই ডাক্তার ছেলে মেয়েগুলা সারাজীবন এই মহিলারে মনে রাখতে বাধ্য। দোআ করতেও বাধ্য। আমাদের উপমহাদেশের মানুষ বা কালচার নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই এক ধরণের অহেতুক গর্ব আছে। আর পাশ্চাত্যের প্রতি আছে অহেতুক বিদ্বেষ। অথচ সত্যি কথা হলো, আপনার দেশের বা উপমহাদেশের একশোটা ধনকুবের থাকলে বড়জোর সালমান, শাহরুখের লাভ হবে। আপনার জন্য ফ্রি ওষুধের ব্যবস্থা শেষ মেশ ঐ বিল গেটস বা ওয়ারেন বাফেটের দান করা টাকা থেকেই আসবে। আপনার দেশের কোন ধনকুবের আপনার জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করবে না। বরং ওয়েস্টের কোন ধনকুবেরের দান করে যাওয়া টাকাতেই আপনি হয়তো একদিন পড়তে পারবেন। এবং ওয়েস্টের লোকজনের চিন্তা ভাবনা বলেন আর কাজ কর্মই বলেন, তারা আমাদের চে অনেক বেশি মানবিক, অনেক কম স্বার্থপর।।আলফ্রেড নোবেল শেষবয়সে নিজের বড় অংশের সম্পদ দিয়ে গেলেন বিজ্ঞান এবং অর্থনীতির জন্য। সেই আলফ্রেড নোবেল যদি এই উপমহাদেশের হতো, তাহলে ছেলের বিয়েতে খরচ করতেন অর্ধেক, মেয়ের বিয়েতে খরচ করতেন অর্ধেক। শেষ বয়সে এসে মসজিদ বা মন্দির করে দিয়ে সমাজসেবক উপাধি নিয়ে মরে যেতেন। মরার পর ছেলে, বৌ, মেয়ে, মেয়ের জামাই আর ভাই-ভাতিজা মিলে শুরু হতো সম্পদের ভাগ বাটোয়ারা। মামলা হতো, হামলা হতো। ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি লেগে শেষে মরা বাপরে গালিগালাজ করতো। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ধনকুবেরের মৃত্যুর পরের চিত্র কিন্তু এটাই হয়। তুলনা করছি না। কে কার টাকায় কী করবে, সেইটা অবশ্যই যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।বাট পার্সোনালি ওয়েস্টের ধনকুবেরদের এই মানবিক দিকটা আমার খুব ভালো লাগে। আমাদের ধনকুবেরদের চিন্তাভাবনা ঐ পর্যায়ে উঠতে আর কত হাজার বছর লাগবে, সেটাই এখন দেখার।
সংগৃহিত।