মাজারে গিয়ে মক্কা-মদীনার টিকেট চাইবেন, সন্তান চাইবেন। (নাউজুবিল্লাহ)
ভন্ডপীর আবু সুফিয়ান আল-কাদেরী
এসব ভন্ড জাহেলদের ঝাড়ু পিটা করা উচিৎ।
ফরিদগঞ্জ দারুস সালাহ ইসলামিক পাঠাগার
আসুন ইলম অর্জন করি।
আল্লাহুম্মাহদিনা ফী-মান হাদাইত।
ওয়া 'আফিনা ফী-মান 'আফাইত।
হে মহান আল্লাহ, আপনি যাঁদের হিদায়াত দান করেছেন, তাঁদের সাথে আমাদের হিদায়াত দান করুন।
আপনি যাঁদের ক্ষমা করেছেন, তাঁদের সাথে আমাদের ক্ষমা করুন।
#দুঃখ_ও_দুশ্চিন্তার_সময়_পড়ার_দোআ।
اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ، ابْنُ عَبْدِكَ، ابْنُ أَمَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُــــلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَداً مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الغَيْبِ عِنْدَكَ، أَنْ تَجْعَلَ القُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي، وَنُورَ صَدْرِي، وَجَلاَءَ حُزْنِي، وَذَهَابَ هَمِّي
হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা, আপনারই এক বান্দার পুত্র এবং আপনার এক বাঁদীর পুত্র। আমার কপাল (নিয়ন্ত্রণ) আপনার হাতে; আমার উপর আপনার নির্দেশ কার্যকর; আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ন্যায়পূর্ণ। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার প্রতিটি নামের উসীলায়; যে নাম আপনি নিজের জন্য নিজে রেখেছেন অথবা আপনার আপনি আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টজীবের কাউকেও শিখিয়েছেন অথবা নিজ গায়েবী জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন—আপনি কুরআনকে বানিয়ে দিন আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, আমার বক্ষের জ্যোতি, আমার দুঃখের অপসারণকারী এবং দুশ্চিন্তা দূরকারী।
আল্লা-হুম্মা ইন্নী ‘আবদুকা ইবনু ‘আবদিকা ইবনু আমাতিকা, না-সিয়াতী বিয়াদিকা, মা-দ্বিন ফিয়্যা হুকমুকা, ‘আদলুন ফিয়্যা কাদ্বা-য়ুকা, আসআলুকা বিকুল্লি ইসমিন্ হুয়া লাকা সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা, আও আনযালতাহু ফী কিতা-বিকা আও ‘আল্লামতাহু আহাদাম্-মিন খালক্বিকা আও ইস্তা’সারতা বিহী ফী ‘ইলমিল গাইবি ‘ইনদাকা, আন্ তাজ‘আলাল কুরআ-না রবী‘আ ক্বালবী, ওয়া নূরা সাদ্রী, ওয়া জালা’আ হুযনী ওয়া যাহা-বা হাম্মী
আহমাদ ১/৩৯১, নং ৩৭১২। আর শাইখ আলবানী তাঁর সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ গ্রন্থে ১/৩৩৭ একে সহীহ বলেছেন।
#আযানের_যিক্রসমূহ:
মুয়াযযিন যা বলে শ্রোতাও তা বলবে, তবে
حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ وَحَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ
নামাযের দিকে আসো, কল্যানের দিকে আসো
হাইয়্যা ‘আলাস্সালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ’
..এর সময় বলবে,
لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ
আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই। [১]
লা-হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ
মুয়াযযিন তাশাহহুদ (তথা আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার...) উচ্চারণ করার পরই শ্রোতারা এ যিক্রটি বলব,
وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبَّاً، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً، وَبِالْإِسْلاَمِ دِينَاً
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দাহ ও রাসূল। আমি আল্লাহকে রব্ব, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে রাসূল এবং ইসলামকে দীন হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট। [২]
ওয়া আনা আশ্হাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহু, রাদীতু বিল্লা-হি রব্বান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসূলান, ওয়া বিলইসলা-মি দীনান
মুয়াযযিনের কথার জবাব দেওয়া শেষ করার পর বলবে,
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامَاً مَحمُوداً الَّذِي وَعَدْتَهُ، [إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ]
হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব্ব! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে ওসীলা তথা জান্নাতের একটি স্তর এবং ফযীলত তথা সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন। (নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।) [৩]
আল্লা-হুম্মা রববা হা-যিহিদ্ দা‘ওয়াতিত্ তা-ম্মাতি ওয়াস সালা-তিল ক্বা-’ইমাতি আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা ওয়াব্‘আছহু মাক্বা-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়া‘আদতাহ, (ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ)
[১] বুখারী, ১/১৫২, নং ৬১১, ৬১৩; মুসলিম, ১/২৮৮, নং ৩৮৩।
[২] মুসলিম ৩/১৫৫৭, নং ১৯৬৭; বায়হাকী ৯/২৮৭, দু ব্রাকেটের মাঝখানের অংশ বাইহাকী থেকে, ৯/২৮৭, ইত্যাদি। তবে সর্বশেষ বাক্যটি ইমাম মুসলিমের বর্ণনা থেকে অর্থ হিসেবে গৃহীত।
[৩] আহমাদ ৩/৪১৯, নং ১৫৪৬১, সহীহ সনদে। আর ইবনুস সুন্নী, নং ৬৩৭; আরনাঊত তার ত্বাহাভীয়ার তাখরীজে এর সনদকে বিশুদ্ধ বলেছেন, পৃ.১৩৩। আরও দেখুন, মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ ১০/১২৭।
[৪] বুখারী, ১/১৫২, নং ৬১১, ৬১৩; মুসলিম, ১/২৮৮, নং ৩৮৩। মুসলিম ১/২৯০, নং ৩৮৬। ইবন খুযাইমা, ১/২২০। মুসলিম ১/২৮৮, নং ৩৮৪। তিরমিযী, নং ৩৫৯৪; আবূ দাউদ, নং ৫২৫; আহমাদ, নং ১২২০০; আরও দেখুন, ইরওয়াউল গালীল, ১/২৬২।
#যে_ব্যক্তি_ইলমে_গায়েব_দাবী_করবে_তার_হুকুম_কি?
যে ব্যক্তি ইলমে গায়েব দাবী করবে সে কাফের। কেননা সে আল্লাহ তাআ’লাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করল। আল্লাহ তাআ’লা বলেন,
)قُلْ لَا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ(
“হে নবী আপনি বলে দিন! আকাশ এবং জমিনে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ গায়েবের সংবাদ জানে না এবং তারা জানে না যে, কখন পুনরুত্থিত হবে।” (সূরা নামলঃ ৬৫) যেহেতু আল্লাহ তাঁর নবীকে এই মর্মে ঘোষণা করার আদেশ দিয়েছেন, আকাশ-জমিনে আল্লাহ ছাড়া গায়েবের খবর আর কেউ জানে না, এরপরও যে ব্যক্তি গায়েবের খবর জানার দাবী করবে, সে আল্লাহকে এই ব্যাপারে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করল। যারা ইলমে গায়েবের দাবী করে, তাদেরকে আমরা বলব, তোমরা কিভাবে এটা দাবী কর অথচ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা জানতেন না। তোমরা বেশী মর্যাদাবান না রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)? যদি তারা বলে আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বেশী মর্যাদাবান, তাহলে তারা এ কথার কারণে কাফের হয়ে যাবে। আর যদি বলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেশী মর্যাদাবান, তাহলে আমরা বলব কেন তিনি গায়েবের সংবাদ জানেন না? অথচ তোমরা তা জান বলে দাবী করছ? আল্লাহ তাআ’লা বলেন,
)عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا إِلَّا مَنْ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا( “তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যকভাবে পরিজ্ঞাত। তিনি অদৃশ্য বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না- তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। তখন তিনি তার অগ্রে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন।” (সূরা জিনঃ ২৬-২৭) ইলমে গায়েবের দাবীদারদের কাফের হওয়ার এটি দ্বিতীয় দলীল। আল্লাহ তাআ’লা তাঁর নবীকে মানুষের জন্য ঘোষণা করতে বলেন যে,
)قُلْ لَا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ(
“আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার আছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য জগতের বিষয় অবগতও নই। আমি এমনও বলিনা যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার নিকট প্রেরণ করা হয়।” (সূরা আনআ’মঃ ৫০)
#ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, অধ্যায়ঃ ঈমান, অনুচ্ছেদঃ (১৪)
#দ্বীনের-ভিতরে মধ্যম পন্থা বলতে কি বুঝায়?
দ্বীনের ভিতরে মধ্যম পন্থা অবলম্বনের অর্থ এই যে, মানুষ দ্বীনের মধ্যে কোন কিছু বাড়াবে না। যাতে সে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে ফেলে। এমনিভাবে দ্বীনের কোন অংশ কমাবে না। যাতে সে আল্লাহর নির্ধারিত দ্বীনের কিছু অংশ বিলুপ্ত করে দেয়।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবনীর অনুসরণ করাও দ্বীনের মধ্যে মধ্যম পন্থা অবলম্বনের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর জীবনাদর্শ অতিক্রম করা দ্বীনের ভিতরে অতিরঞ্জনের শামিল। তাঁর জীবন চরিতের অনুসরণ না করা তাঁকে অবহেলা করার অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, একজন লোক বলল আমি আজীবন রাত্রি বেলা তাহাজ্জুদের নামায পড়ব। রাত্রিতে কখনই নিদ্রা যাব না। কারণ নামায সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদাত। তাই আমি নামাযের মাধ্যমে বাকী জীবনের রাত্রিগুলো জাগরণ করতে চাই। আমরা তার উত্তরে বলব যে, এই ব্যক্তি দ্বীনের মাঝে অতিরঞ্জিতকারী। সে হকের উপর নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর যুগে এরকম হয়েছিল। তিন জন লোক একত্রিত হয়ে একজন বলল, আমি সারা রাত্রি নামায আদায় করব। আর একজন বলল আমি সারা বছর রোযা রাখব এবং কখনো তা ছাড়ব না। তৃতীয় জন বলল আমি স্ত্রী সহবাস করব না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে এই সংবাদ পৌঁছলে তিনি বললেন একদল লোকের কি হল তারা এ রকম কথা বলে থাকে? অথচ আমি রোযা রাখি এবং কখনো রোযা থেকে বিরত থাকি। রাত্রে ঘুমাই এবং আল্লাহর এবাদত করি। স্ত্রীদের সাথেও মিলিত হই। এটি আমার সুন্নাত। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ থাকবে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই লোকেরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করার কারণে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নতার ঘোষণা করলেন। কেননা তারা রোযা রাখা না রাখা, রাত্রি জাগরণ করা, ঘুমানো এবং স্ত্রী সহবাস করার ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাতকে প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছিল। দ্বীনী বিষয়ে যে ব্যক্তি অবহেলা করে বলবে যে, আমার নফল এবাদতের দরকার নেই। শুধ ফরজ ইবাদতগুলো পালন করব। আসলে সে ব্যক্তি ফরজ আমলেও অবহেলা করে থাকে। সঠিক পথের অনুসারী হল সেই ব্যক্তি যে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাহর উপর চলবে। অন্য একটি দৃষ্টান্ত হল, মনে করুন তিন জন ভাল লোকের পাশে রয়েছে একজন ফাসেক ব্যক্তি। তিনজনের একজন বলল, আমি এই ফাসেককে সালাম দিব না। তার থেকে দূরে থাকব এবং তার সাথে কথা বলব না। অপর জন বলল, আমি এর সাথে চলব, তাকে সালাম দিব, হাসি মুখে তার সাথে কথা বলব, তাকে দাওয়াত দিব এবং তার দাওয়াতে আমিও শরীক হব। আমার নিকট সে অন্যান্য সৎ লোকের মতই। তৃতীয়জন বলল, আমি এই ফাসেক ব্যক্তিকে তার পাপাচারিতার কারণে ঘৃণা করি। তার ভিতরে ঈমান থাকার কারণে আমি তাকে ভালবাসি। তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করব না। তবে তাকে সংশোধনের কারণে বর্জন করা হলে তা ভিন্ন কথা। তাকে বর্জন করলে যদি তার পাপাচারিতা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়, তবে আমি তাকে বর্জন করব না। এই তিনজনের প্রথম ব্যক্তি বেশী বাড়াবাড়ি করল। দ্বিতীয়জন ত্রুটি করল এবং তৃতীয়জন মধ্যম পন্থা ও সঠিক পথের অনুসরণ করল।
অন্যান্য সকল এবাদত ও মানুষের মুআমালাতের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। মানুষ এতে ত্রুটি, বাড়াবাড়ি, এবং মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে থাকে।
আরো একটি উদাহরণ ভাল করে শ্রবণ করুন। মনে করুন একজন লোক তার স্ত্রীর কথায় চলে। তার স্ত্রী তাকে যেখানে পাঠায় সেখানে যায়। সে তার স্ত্রীকে অন্যায় কাজ হতে বাধা প্রদান করে না এবং ভাল কাজে উৎসাহ দেয় না। সকল ক্ষেত্রেই স্ত্রী তার উপর কর্তৃত্ব করছে এবং তার মালিক হয়ে বসেছে।
আরেক ব্যক্তি তার স্ত্রীর কোন ব্যাপারেই গুরুত্ব দেয়না। তার স্ত্রীর সাথে অহংকার করে চলে। যেন তার স্ত্রী তার কাছে চাকরানীর চেয়ে অবহেলিত। অন্য ব্যক্তি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে এবং আল্লাহ ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদত্ব সীমা অনুযায়ী স্ত্রীর সাথে আচরণ করে থাকে। আল্লাহ বলেন,
)وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ(
“তাদের (স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের উপর হক রয়েছে, যেমন তাদের উপর তোমাদের হক রয়েছে।” (সূরা বাকারাঃ ২২৮) কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করবে না। স্ত্রীর কোন একটি চরিত্রকে অপছন্দ করলে হয়ত অন্য একটি গুণ দেখে সে সন্তুষ্ট হয়ে যাবে। শেষ ব্যক্তি মধ্যম পন্থা অবলম্বনকারী, প্রথম ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় শিথিল এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি ত্রুটিকারী (অবহেলাকারী ও অবজ্ঞাকারী)। হে পাঠক! আপনি সকল এবাদত ও আচর-আচরণকে উক্ত উদাহরণগুলোর উপরে অনুমান করুন।
ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, অধ্যায়ঃ ঈমান, অনুচ্ছেদঃ (৭)
#শাফায়াত কাকে বলে? তা কত প্রকার ও কি কি?
শাফায়াত শব্দটির আভিধানিক অর্থ মিলিয়ে নেয়া, নিজের সাথে একত্রিত করে নেয়া। শরীয়তের পরিভাষায় কল্যাণ লাভ অথবা অকল্যাণ প্রতিহত করার আশায় অপরের জন্য মধ্যস্ততা করাকে শাফায়াত বলে। শাফায়াত দু’প্রকার। যথাঃ-
প্রথমতঃ শরীয়ত সম্মত শাফায়াত। কুরআন ও সুন্নাহয় এ প্রকার শাফায়াতের বর্ণনা এসেছে। তাওহীদপন্থীগণ এ ধরণের শাফায়াতের হকদার হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ
مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لَا يَسْأَلُنِي عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الْحَدِيثِ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ أَوْ نَفْسِهِ
“কিয়ামতের দিন কোন্ ব্যক্তি আপনার শাফায়াতের বেশী হকদার হবে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আবু হুরায়রা! তোমার হাদীছ শেখার আগ্রহ দেখে আমার ধারণা ছিল যে, তোমার পূর্বে এ বিষয় সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞাসা করবে না। যে ব্যক্তি অন্তর থেকে ইখলাসের সাথে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তি আমার শাফায়াতের সবচেয়ে বেশী হকদার হবে। এ প্রকার শাফায়াতের জন্য ৩টি শর্ত রয়েছে।
১- শাফায়াতকারীর উপর আল্লাহর সন'ষ্টি থাকা।
২- যার জন্য সুপারিশ করা হবে, তার উপরও আল্লাহর সন'ষ্টি থাকা।
৩- শাফায়াতকারীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফায়াত করার অনুমতি থাকা।
আল্লাহ তাআ’লা এই শর্তগুলো কুরআন মজীদে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেনঃ
)وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى(
“আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছেন, যাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসু হয়না। কিন্তু আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন এবং যাকে শাফায়াত করার অনুমতি দেন তার কথা ভিন্ন।” (সূরা নাজ্মঃ ২৬) আল্লাহ বলেনঃ
)مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ(
“কে এমন আছে যে, সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া?” (সূরা বাকারাঃ ২৫৫) আল্লাহ বলেনঃ
)يَوْمَئِذٍ لَا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَانُ وَرَضِيَ لَهُ قَوْلًا(
“দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারও সুপারিশ সেদিন কোন উপকারে আসবে না।” (সূরা ত্বো-হাঃ ১০৯) আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
)وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنْ ارْتَضَى(
“তারা শুধু তাদের জন্যে সুপারিশ করবেন, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট।” (সূরা আন্বীয়াঃ ২৮) সুতরাং শাফায়াত পাওয়ার জন্য উপরোক্ত তিনটি শর্ত থাকা আবশ্যক। এই শাফায়ত আবার দু’প্রকারঃ
১) সাধারণ শাফায়াতঃ সাধারণ শাফায়াতের অর্থ হল, সৎ বান্দাদের মধ্যে থেকে যাকে ইচ্ছা এবং যার জন্য ইচ্ছা আল্লাহ শাফায়াত করার অনুমতি দিবেন। এই ধরণের শাফায়াত আল্লাহর অনুমতি পেয়ে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), অন্যান্য নবী-রাসূল, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ করবেন। তাঁরা পাপী মুমিনদেরেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বের করে আনার ব্যাপারে সুপারিশ করবেন।
২) বিশেষ ও নির্দিষ্ট সুপারিশঃ এই ধরণের শাফায়াত নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জন্য নির্দিষ্ট। এই শাফায়াতের মধ্যে সবচেয়ে বড় হল হাশরের মাঠের শাফায়াত। হাশরের মাঠে মানুষ যখন বিপদে পড়ে যাবে এবং অসহনীয় আযাবে গ্রেপ্তার হবে, তখন তারা একজন সুপারিশকারী খুঁজে ফিরবে। যাতে করে তারা এই ভীষণ সংকট থেকে রেহাই পেতে পারে। প্রথমে তারা আদম (আঃ)এর কাছে গমণ করবে। অতঃপর পর্যায়ক্রমে নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা (আঃ)এর কাছে যাবে। তাঁরা কেউ সুপারিশ করতে সাহস করবেন না। অবশেষে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে আসবে। তিনি মানুষকে এই বিপদজনক অবস্থা হতে মুক্ত করার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তাঁর দু’আ এবং শাফায়াত কবূল করবেন। এটিই হল সুমহান মর্যাদা, যা আল্লাহ তাকে দান করেছেন। আল্লাহ বলেনঃ
)وَمِنْ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا(
“আপনি রাত্রির কিছু অংশ জাগ্রত থেকে আল্লাহর এবাদতে মশগুল থাকুন। এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত (নফল ইবাদত)। আপনার পালনকর্তা অচিরেই আপনাকে সুমহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করবেন।” (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৭৯)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সমস্ত সুপারিশ করবেন, তার মধ্যে জান্নাতবাসীদের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করানোর সুপারিশ অন্যতম। জান্নাতবাসীগণ যখন পুলসিরাত পার হবে, তখন জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে একটি সেতুর উপরে আটকানো হবে। সেখানে তাদের পারস্পরিক জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। প্রতিশোধ নেয়া ও পারস্পরিক জুলুম-নির্যাতন হতে পবিত্র করার পর জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সুপারিশক্রমে বেহেশতের দরজা খোলা হবে।
দ্বিতীয়তঃ শরীয়ত বিরোধী শাফায়াতঃ এধরণের শাফায়াত কোন কাজে আসবে না। মুশরেকরা আল্লাহর নিকটে তাদের বাতিল মা’বূদদের কাছ থেকে এধরণের শাফায়াতের আশা করে থাকে। অথচ এই শাফায়াত তাদের কোন কাজে আসবে না। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
)فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ(
“কোন সুপারিশকারীর সুপারিশ তাদের উপকারে আসবে না।” (সূরা মুদ্দাস্সিরঃ ৪৮) কারণ আল্লাহ তাআ’লা মুশরিকদের শির্কের উপরে সন্তুষ্ট নন। তাদের জন্য শাফায়াতের অনুমতি দেয়াও সম্ভব নয়। আল্লাহ যার উপর সন্তুষ্ট হবেন, কেবল তার জন্যই সুপারিশ বৈধ। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য ফাসাদ ও কুফরী পছন্দ করেন না। মুশরিকরা কি যুক্তিতে মূর্তী পূজা করত তা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেনঃ
)هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ(
“এরা আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে।” (সূরা ইউনুসঃ ১৮) সুতরাং মুশরিকরা তাদের বানোয়াট মূর্তিদের উপাসনা করার পিছনে যুক্তি ছিল যে, মূর্তিরা তাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। এটা তাদের মূর্খতার পরিচয়। কারণ তারা এমন জিনিষের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের চেষ্টা করে, যা তাদেরকে আল্লাহ থেকে আরো দূরে সরিয়ে দেয়।
ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, অধ্যায়ঃ ঈমান, অনুচ্ছেদঃ (৫৬)
বেনামাযী স্বামীর সাথে মুসলিম নামাযী স্ত্রীর বসবাস করার বিধান কি? তাদের কয়েকজন সন্তানও আছে। বেনামাযীর সাথে মেয়ে বিবাহ দেয়ার বিধান কি?
কোন নারী যদি এমন লোককে বিবাহ করে, যে ছালাত আদায় করে না, জামাআতের সাথেও না বাড়ীতেও একাকি না। তার বিবাহ বিশুদ্ধ নয়। কেননা ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের। যেমনটি আল্লাহর সম্মানিত কিতাব, পবিত্র সুন্নাত ও ছাহাবায়ে কেরামের উক্তি সমূহ একথাটি প্রমাণ করে। আবদুল্লাহ্ বিন শাক্বীক্ব বলেন,
كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الْأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)এর ছাহাবীগণ ছালাত ব্যতীত কোন আমল পরিত্যাগ করার কারণে কাউকে কাফের মনে করতেন না।” কাফেরের জন্য কোন মুসলিম নারী বৈধ নয়। আল্লাহ্ বলেন,
فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ لَا هُنَّ حِلٌّ لَهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ
“যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্য হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্য হালাল নয়।” (সূরা মুমতাহিনাঃ ১০)
বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর যদি স্বামী ছালাত পরিত্যাগ করা শুরু করে তবে তওবা করে ইসলামে ফিরে না আসলে তার বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যাবে। কতক বিদ্বান বলেছেন, বিবাহ ভঙ্গের বিষয়টি ঈদ্দতের সাথে সম্পৃক্ত। যদি ঈদ্দত পার হয়ে যায় তারপর সে তওবা করে ইসলামে ফিরে আসে তবে নতুন চুক্তি করে আবার উক্ত স্ত্রীকে ফেরত নিতে পারবে। উক্ত মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে বেনামাযী স্বামী থেকে আলাদা থাকবে। তাকে মেলামেশা করতে দিবে না- যতক্ষণ না সে তওবা করে ছালাত আদায় করে। যদিও তাদের সন্তান থাকে। কেননা এ অবস্থায় পিতার কোন অধিকার নেই সন্তানদের প্রতিপালনের।
এ উপলক্ষে আমি মুসলিম ভাইদেরকে সতর্ক করছি ও নসীহত করছি, তারা যেন কোন বেনামাযীর সাথে মেয়েদের বিবাহ সম্পন্ন না করেন। কেননা বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক। এক্ষেত্রে তারা যেন নিকটাত্মীয় বা বন্ধুর সাথে কোন আপোষ না করেন। (আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত আছেন)
ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, অধ্যায়ঃ সালাত, অনুচ্ছেদঃ (১৯২)
05/12/2016
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
মীলাদের উৎপত্তি ও মীলাদপন্থীদের জবাব
অনুবাদ ও সম্পাদনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
--------------------------------------------
ঈদে মীলাদুন্নবী এর শুরুর কথা:
মীলাদের আবিষ্কারক বনী উবায়দিয়া বা ফাতেমীয় সম্প্রদায়:
ইসলামের সোনালী অধ্যায়ের তিন শতাব্দী তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগ,সাহাবীদের যুগ এবং তাবেঈদের যুগ পার হয়ে গেলেও ইতিহাসে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না যে,কোন একজন সাহাবী, তাবেঈ, তাবে তাবেঈ এবং তাদের পরর্তিতে কেউ মীলাদ উদযাপন করেছেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি তাদের ভালবাসা কি কম ছিল? বরং তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রচণ্ডভাবে ভালবাসত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত সম্পর্কে তারা ছিলেন সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং ইসলামী শরীয়তের বিধিবিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা ছিলেন সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।
এই বিদআতকে যারা সর্বপ্রথম রূপদান করে তারা হল, বনী উবাইদ আল কাদ্দাহ। এরা নিজেদেরকে ফাতেমী বলে অবিহিত করত এবং নিজেদেরকে আলী রা. এর বংশধর বলে দাবী করত।
বনী উবায়দিয়া বা ফাতেমীয় সম্প্রদায়ের পরিচয় ও তাদের আসল রূপ:
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রাহ.কে এই ফাতেমীদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা কর হলে তিনি উত্তরে বলেন:
“তারা ছিল জঘণ্য ধরণের পাপাচারী এবং নিকৃষ্ট কাফের। কেউ যদি তাদেরকে ঈমানদার এবং পরহেযগার বলে স্বাক্ষ্য দেয় অথবা তাদের বংশ পরম্পরাকে সঠিক বলে স্বীকৃতি দেয় তবে তারা এমন বিষয়ে কথা বলল যে ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ
“সে বিষয়ের পিছে ছুটনা যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই।"[1]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
إِلَّا مَن شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
“তবে যারা জেনে-শুনে সত্য স্বাক্ষ্য দিল।”[2]
এ সকল লোকদের ব্যাপারে সমস্ত আলেম সমাজ, ইমামগণ এবং সর্বস্তরের মানুষ সাক্ষ্য দেয় যে, এরা ছিল নাস্তিক,ধর্মচ্যুত এবং মুনফিক। এরা বাহ্যিকভাবে যদিও ইসলাম প্রকাশ করত কিন্তু তাদের অন্তরে লুকানো ছিল কুফুরী। সুতারাং কেউ যদি তাদের ঈমানের স্বাক্ষ্য দেয় তবে সে এমন বিষয়ে স্বাক্ষ্য দিল যে ব্যাপারে তার জ্ঞান নেই। কারণ,তাদের কার্যক্রম থেকে এমন কিছু পাওয়া যায় না যাতে তাদের ঈমানের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অনুরূপভাবে তাদের বংশগত সম্পর্কের ব্যাপারেও অধিকাংশ আলেমগণ দোষারোপ করেছেন। তারা বলেছেন,প্রকৃতপক্ষে এরা অগ্নীপুজক অথবা ইহুদীদের সন্তান এবং এটাই হানাফী, মালেকী, শাফেঈ,হাম্বলীদের অনেক আলেমের প্রসিদ্ধ মতামত। এমনকি মুহাদ্দেসীনগণ,আহলে কালাম,বংশ বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষেরও মন্তব্য এটাই। যে সকল লেখক মানুষের জীবন পঞ্জিকা এবং ইতিহাস লেখেছেন তারাও এ বিষয়টি তাদের বইয়ে উল্লেখ করেছেন।
সর্ব প্রথম যারা মীলাদ তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম অনুষ্ঠান পালনের বিদআন সূচনা করে তারা হল বাতেনী সম্প্রদায়। যাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হল দ্বীন ইসলামের মাঝে পরিবর্তন সাধন করে তার মধ্যে এমন কিছু ঢুকানো যার অস্তিত্ব দ্বীনের মধ্যে ছিল না। কারণ,ইসলামী শরীয়ত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত থেকে মানুষকে দূরে সরানোর সব চেয়ে সহজ পদ্ধতি হল তাদেরকে বিদআতের মধ্যে ব্যস্ত রাখা।
মাকরীযী বলেন, ফাতেমী খলীফাগণ বিভিন্ন দিনকে আনন্দ-উৎসবের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছিল এবং এসব দিনে তারা জন-সাধারণের মাঝে খাদ্য বিতরণ এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করত।
উবায়দিয়ারা সারা বছর ধরে যে সব দিনকে আনন্দ-উৎসবের দিন হিসেবে পালন করত সেগুলো হল:
১) নব বর্ষ ২) আশুরা ৩) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিবস ৪) আলী রা. এর জন্ম দিবস ৫) হাসান রা. এর জন্ম দিবস ৬) হুসাইন রা. এর জন্ম দিবস ৭) ফাতেমাতুয যোহরা রা. এর জন্ম দিবস ৮) ক্ষমতাসীন শাষকের জন্ম দিবস ৯) রজম মাসের ১ম দিন ৯) রজব মাসের ১৫ তারিখের রাত্রি ১০) শাবান মাসের ১ম দিন ১১) শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত্রি ১২) রামাযানের ১ম রাত্রি ১৩) রামাযানের ১ম দিন ১৪) রামাযানের মধ্যভাগ ১৫) রামাযের শেষ রাত্রি ১৬) ঈদুল ফিত্রের মৌসুম ১৭) কুরবানীর মৌসুম ১৮) গাদীর উৎসব ১৯) শীত বস্ত্র ২০) গ্রীষ্ম কালিন বস্ত্র ২০) উপসারগর বিজয় উৎসব ২১) নওরোজ ২২) গুতাস ২৩) এবং যিশু খৃষ্টের জন্ম দিন (বড় দিন) ইত্যাদি।
মাকরীযীর পক্ষ থেকে এটা একটি স্পষ্ট স্বাক্ষ্য। যদিও তিনি এদেরকে আলী রা. এর বংশধর হিসেবে শুধু স্বীকৃতি দেন না বরং তাদের পক্ষাবলম্বন করে বিরোধীদের জবাব দেন। কিন্তু তিনি অকপটে এ কথার স্বাক্ষ্য দিলেনে যে,এ ফাতেমীয়রাই মুসলমানদের বিপদের কারণ। এরাই বিভিন্ন বিদআতী অনুষ্ঠানের পথ উন্মুক্ত করে। এমন কি এরা অগ্নীপূজক এবং খৃষ্টানদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদীও পালন করে। যেমন নওরোজ বা নববর্ষ এবং যিশু খৃষ্টের জন্ম দিন (বড় দিন) ইত্যাদি।
এতেই প্রমাণিত হয় যে, এদের অবস্থান ইসলাম থেকে শুধু দূরেই নয় বরং এরা ইসলাম ও মুসলমানদের ঘোরতর দুশমন। যদিও এরা বাহ্যিকভাবে তা স্বীকার করে না।
মোট কথা, বনী উবাইদ আল কাদ্দাহ তথা ফাতেমীয়রাই সর্ব প্রথম মীলাদ অনুষ্ঠান শুরু করে।
সউদী আরবের সাবেক গ্রান্ড মুফতী শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আলুশ শাইখ (রহ.) বলেন,
“হিজরী ৬ষ্ঠ শতাব্দিতে এই বিদআত তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিবস পালনের প্রথা সর্ব প্রথম চালু করেন আবু সাঈদ কূকুবূরী। যদিও এ মর্মে অন্য আরও একাধিক মত রয়েছে।[3]
মীলাদপন্থীদের কতিপয় সংশয় ও সেগুলোর জবাব:
উবাইদিয়াদের শাষণামলে মীলাদ চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে তা ব্যাপকতা লাভ করতে লাগল। মুসলমানগণ জিহাদ ছেড়ে দিল এবং তারা রুহানী ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ায় এই বিদআতটি সাধারণ মানুষের মনে শিকড় গেড়ে বসল। এমনকি অনেক মূর্খ মানুষের নিকট এটা আকীদা-বিশ্বাসের একটি অংশ হয়ে দাঁড়ালো।
কিছু আলেম যেমন ইমাম সুয়ূতী রাহ. এই বিদআতের পক্ষে প্রমাণাদী খুঁজতে বাধ্য হলেন যাতে মীলাদের বিদআতকে বৈধতা দেয়া যায়। আবার অনেক আলেম একদিকে সরকারের ভয়ে অন্য দিকে জন সাধারণের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ার আশংকায় এ বিদআতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না পেরে নীরবতা অবলম্বন করলেন।
প্রথম সংশয়: আশুরার রোযার উপর ভিত্তি করে মীলাদ উদযাপন!
ইমাম সুয়ূতী বলেন, মীলাদের স্বপক্ষে ইমাম ইবনে হাজার হাদীস থেকে একটি প্রমাণ বের করেছেন। আমি তার সাথে আরও একটি প্রমাণ বের করেছি।
তিনি (ইমাম সুয়ূতী) বলেন: যুগের হাফেযে হাদীস শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে হাজারকে মীলাদ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি যা বলেন তা হুবহু তুলে ধরা হল:
“মীলাদ করা বিদআত। এর স্বপক্ষে ইসলামের প্রথম তিন শ্রেষ্ঠ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মনিষী তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহবায়ে কেরাম এবং তাবেঈন থেকে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তদুপরি মীলাদে কিছু ভাল জিনিস রয়েছে। কিছু খারাপ জিনিস রয়েছে। কেউ যদি মীলাদে ভাল জিনিসগুলোর উদ্দেশ্য করে এবং মন্দ জিনিসগুলো পরিত্যাগ করে তবে তা বিদআতে হাসানা হিসেবে গণ্য হবে; অন্যথায় নয়। আমি এ ব্যাপারে একটি মজবুত প্রমাণ পেয়েছি। আর তা হল,সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করে মদীনা গমণ করার পর দেখলেন ইহুদীরা মুহাররম মাসের দশ তারিখে আশুরার রোযা পালন করছে। তিনি এ ব্যাপারে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলল,এই দিনে আল্লাহ তাআলা ফেরআউনকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন এবং মূসা আ.কে ফেরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাই আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ আমরা এ দিনে রোযা পালন করি।
তাই উক্ত হাদীস থেকে এই প্রমাণ গ্রহণ করা যেতে পারে যে,কোন একটি বিশেষ দিনে সুসংবাদ বা কল্যাণের বার্তা এলে কিংবা কোন বিপদ মুক্ত হলে আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে কিছু আমল করা যায় এবং প্রতি বছর ঐ বিশেষ দিনটি ফিরে আসলে সে আমলগুলো পূণরাবৃত্তিও করা যেতে পারে। আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যায় বিভিন্নভাবে। যেমন,সেজদায়ে শোকর, রোযা,কুরআন তেলাওয়াত, দান-সাদাকাহ ইত্যাদি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়ার দিনটির চেয়ে এত বড় আনন্দের এবং এত বিশাল নিয়ামতের দিন আর কী হতে পারে?
অতঃএব এ ভিত্তিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিনটিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। যাতে মূসা আঃ এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশুরার রোযা রাখার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। এ দিকটি যারা খেয়াল করে না তারা মাসের যে কোন দিন মীলাদ করতে কোন দ্বিধা করে না। কিছু মানুষ এটাকে আরেকটু ঢিল দিয়ে বছরের যে কোন একদিন পালন করে থাকে। কিন্তু এতে কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে।[4]
এই সংশয়ের জবাবঃ
উপরে উত্থাপিত সংশয়ের একাধিক জবাব রয়েছে। নিন্মে সেগুলো তুলে ধরা হল:
প্রথমতঃ ইবনে হাজার রাহ. প্রথমেই স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন যে,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম উপলক্ষ্যে মীলাদ উদযাপন করা বিদআত। যা ইসলামের প্রথম তিন শতাব্দীর মনিষীগণ তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈগণ থেকে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতঃএব মীলাদ বাতিল প্রমাণের জন্য এটাই যথেষ্ট। কারণ, মীলাদে যদি ভাল কিছু থাকত তবে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈগণ এবং তাদের পরবর্তিতে ইসলামের জ্ঞানী-গুনি এবং মহামনিষীগণ সবার আগে সেটা বাস্তবায় করার জন্য ছুটে যেতেন।
দ্বিতীয়তঃ আশুরার দিন রোযা রাখার হাদীসের উপর ভিত্তি করে মীলাদকে বৈধতা দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, ইবনে হাজার রা. তো নিজেই স্বীকার করেছেন যে, মীলাদ করা বিদআত। সালাফে-সালেহীন তথা ইসলামের প্রথম তিন যুগের মনিষীগণ থেকে প্রমাণিত নয়।
সালাফে-সালেহীন যেহেতু উপরোক্ত আশুরার হাদীসের উপর ভিত্তি করে মীলাদ করেন নি সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, এটাকে টেনে এনে মীলাদের পক্ষে দলীল বানানো মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এটাকে মীলাদের স্বপক্ষে দলীল বানাতে চান তাদের বুঝ এবং ইসলামের প্রথম যুগের মণিষীদের বুঝের মধ্যে কোন মিল নেই।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,সাহাবী এবং তাবেঈণগণ হাদীসের বক্তব্যকে যে অর্থে বুঝেন নি এবং তা আমল করেন নি তার উল্টো অর্থে যদি পরবর্তি যুগের লোকেরা হাদীসকে ব্যাখ্যা দিতে যায় তাহলে তা হবে মারাত্মক অন্যায়। কারণ এটা তাঁদের ইজমা বা সর্ব সম্মত মতের বিপরীত। আর তাঁরা কখনই বতিলের উপর একমত হতে পারে না।
তৃতীয়তঃ আশুরার রোযার উপর ভিত্তি করে মীলাদকে বৈধ করা করা একটি অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। কারণ যে কোন এবাদত গ্রহণযোগ্য হতে হলে শরীয়তের সুস্পষ্ট দলীলের উপর তার ভিত্তি থাকতে হবে। এক্ষেত্রে নিজস্ব খেয়াল-খুশী আর মনগড়া ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান যোগ্য।
চতুর্থতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো মুহাররম মাসে দশ তারিখে রোযা রাখতে উৎসাহিত করেছেন। কিন্তু তিনি তো মীলাদ করতে বলেন নি। কিংবা ঈদে মীলাদুন্নবী তথা তাঁর জন্মোৎসব পালন করতে বলেন নি। কিংবা নিজেও কখনও করেন নি।
মীলাদে যদি কোন উপকার থাকত তবে অবশ্যই তিনি তাঁর উম্মতকে স্পষ্টভাবে তা পালন করার কথা বলে যেতেন। কারণ,দুনিয়া-আখিরাতের এমন কোন কল্যাণকর দিক নেই যা তিনি তার উম্মতকে বলে দেন নি কিংবা এমন কোন ক্ষতিকর দিক নেই যে ব্যাপারে সাবধান করেন নি।
বরং তিনি দ্বীনের ভিতর নতুন নতুন বিদআত তৈরী করার ব্যাপারে কঠিনভাবে সতর্ক করে গেছেন। তিনি বলেন:
وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ
“দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্ট বিষয়াদী থেকে সাবধান! কারণ প্রতিটি নতুন আবিস্কৃত বিষয়ই গোমরাহী।[5]
তিনি বিভিন্ন সময় বক্তৃতা দেয়ার শুরুতে বলতেন:
أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ
“অতঃপর,সর্বত্তোম বাণী হল আল্লাহর কিতাব। আর সর্বোত্তম নির্দেশনা হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশনা। সব চেয়ে নিকৃষ্ট জিনিস হল দ্বীনের মধ্যে নতুন আবিস্কৃত বিষয়াদী। আর প্রতিটি নতুন বিষয়ই ভ্রষ্টতা।[6]
দ্বিতীয় সংশয়ঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নিজের আকীকা নিজেই করার হাদীস থেকে মীলাদের পক্ষে দলীল আবিষ্কার!!
ইমাম সুয়ূতী আরও বলেন, মীলাদের স্বপক্ষে ইমাম ইবনে হাজার রা. এর উপরোপক্ত দলীল ছাড়াও আমি আরেকটি দলীল বের করেছি। আর তা হল,
সুনান বায়হাকীতে আনাস রা. হতে বর্ণিত,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়ত প্রাপ্তির পর নিজেই নিজের আকীকা দিয়েছেন। যদিও তাঁর দাদা আব্দুল মোত্তালেব জন্মের সপ্তম দিনে তাঁর আকীকা দিয়েছিলেন। আর আকীকা তো একাধিকবার দেয়া যায় না। তাই বিষয়টার তাৎপর্য এভাবে গ্রহণ করতে হবে যে,আল্লাহ তাআলা যেহেতু তাকে জগতবাসীর জন্য রহমত স্বরূপ দুনিয়ার বুকে প্রেরণ করেছেন তার কৃতজ্ঞতা আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি আকীকা দিয়েছিলেন। তা ছাড়া তিনি নিজেই নিজের নামে দরুদ ও সালাম পেশ করতেন। সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের কর্তব্য হল, সম্মিলিতভাবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়,ভোজ সভার আয়োজন সহ আরও বিভিন্ন নেক কাজ আঞ্জাম দেয়া এবং আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করা।[7]
উক্ত সংশয়ের জবাব:
প্রথম কথা হল,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নিজেই নিজের আকীকা দেয়ার হাদীসটি মুহাদ্দেসীনদের নিকট সনদগতভাবে প্রমাণিত নয়। নিম্নে মুহাদ্দেসীনগণের মতামত তুলে ধরা হল:
১) আব্দুর রাযযাক রহ. তার মুসান্নাফ কিতাবে বলেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাররার হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে। কাতাদা আনাস থেকে। তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়তের পরে নিজেই নিজের আকীকা দিয়েছেন।”
ইবনে কাইয়েম জাওযিয়া রা. এ হাদীসটি আব্দুর রাযযাক রাহ. এর বরাতে উল্লেখ করে বলেন,আব্দুর রাযযাক বলেন,মুহাদ্দেসীনগণ উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করার কারণে ইবনে মুহাররারকে বর্জন করেছেন।[8]
২) হাফেজ ইবনে হাজার রহ. ফাত্হুল বারীতে উল্লেখ করেছেন, উক্ত হাদীসটি প্রমাণিত নয় এবং তিনি হাদীসটি বাযযারের দিকে সম্বন্ধ করে বলেন,ইমাম বাযযার বলেছেন: “এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ মুহাররারের একক বর্ণনা। কিন্তু তিনি দূর্বল।[9]
৩) ইমাম নওয়াবী আল মুহাযযাব কিতাবের ব্যাখ্যা গ্রন্থ আল মাজমু কিতাবে বলেন,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিজের আকীকা করার ব্যাপারে গ্রন্থকার যে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন তা আব্দুল্লাহ বিন মুহাররার কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। কাতাদা আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়তের পর নিজে নিজের আকীকা দিয়েছেন। কিন্তু এ হাদীসটি বাতিল। হাদীসের সনদে উল্লেখিত আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাররার সর্বসম্মত ভাবে দূর্বল রাবী। হাফেয ইবনে হাজার তাকে مَتْرُوْكٌ বা পরিত্যাক্ত বর্ণনাকারী বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ ভাল জানেন।[10]
৪) ইমাম যাহাবী মীযানুল ইতিদাল গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন মুহাররার এর জীবনী লিখেছেন এবং তার ব্যাপারে হাফেয ইবনে হাজার রাহ. এর মন্তব্য উল্লেখ করার পর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে,তিনি একজন পরিত্যাক্ত এবং অনির্ভর যোগ্য বর্ণনাকারী। তিনি আরও বলেন,আনাস রা. থেকে কাতাদা কর্তৃক “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবী হওয়ার পর নিজে নিজের আকীকা করেছেন” মর্মে বর্ণিত হাদীসটি তার অন্যতম একটি সমস্যাপূর্ণ বিষয়।[11]
তৃতীয় সংশয়ঃ স্বপ্নকে দলীল বানিয়ে মীলাদের পক্ষে সাফাই!
ইমাম সুয়ূতী রাহ. বলেন: ইমামুল কুররা হাফেয শামসুদ্দীন ইব্নুল জাযারী তার উরফুত তারীফ বিল মাউলিদীশ শারীফ কিতাবে বলেছেন,আবু লাহাব মারা যাওয়ার পর তাকে স্বপ্ন মারফত দেখানো হল। তাকে জিজ্ঞেস করা হল,তুমি কী অবস্থায় আছ? বলল, আমাকে জাহান্নামের আগুনে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তবে প্রতি সোমবারে শাস্তি কিছুটা হালকা করা হয় এবং আঙ্গুলের মাথা সমপরিমান জায়গা চুষে পানি পান করতে দেয়া হয়। এর কারণ হল,আমার দাসী সুওয়াইবিয়া যখন আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মের সুসংবাদ দেয় তখন তাকে আমি মুক্ত করে দেই এবং তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দুধ পান করার দায়িত্ব প্রদান করি।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, আবু লাহাব যদিও কাফের এবং যাকে কুরআনে কঠিনভাবে তিরষ্কার করা হয়েছে তারপরও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মের সংবাদে খুশী হওয়ার কারণে তার জাহান্নামের শাস্তি হালকা করে তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তাওহীদবাদী মুমিন-মুসলমানগণ যদি তাঁর জন্মে আনন্দিত হয় এবং তাদের সাধ্যানুযায়ী আনন্দ প্রকাশ করে তবে তারা কি সওয়াবের অধিকারী হবে না? হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করে তাকে প্রতিদান হিসেবে জান্নাতুন নাঈমে প্রবেশ করাবেন।“[12]
উপরোক্ত হাদীসটি ইমাম বুখারী মুরসাল সনদে وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ (তোমাদের সে মাতা,যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে)[13] অধ্যায়ে এবং রক্ত সম্পর্কের কারণে যা হারাম স্তন্যদান করার কারণে তাই হারাম অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। হাদীসটির সনদ নিম্নরূপ:
উরওয়া বিন যুবাইর বলেন,যাইনব বিনতে আবু সালামা তার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান। তিনি বলেনঃ
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোন তথা আবু সুফিয়ানের কন্যাকে বিয়ে করুন।
তিনি বললেন: তুমি কি এটি পছন্দ কর?
আমি বললাম: জি, হ্যাঁ। আমি তো একাই আপনার স্ত্রী নই। কোন কল্যাণের মধ্যে আমার বোন আমার সাথে শরীক হবে- এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশী পছন্দনীয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: সে আমার জন্য হালাল নয়।
আমি বললাম: আমরা শুনছি যে,আপনি আবু সালামার মেয়েকে বিয়ে করবেন।
তিনি বললেন: উম্মে সালামার মেয়ে?
আমি বললাম: হ্যাঁ।
তিনি বললেন: “সে যদি আমার সৎ মেয়ে নাও হতো, তবুও সে আমার জন্য হালাল হতো না। করণ, সে তো আমার দুগ্ধ সম্পর্কীয় ভাতিজী। সুয়াইবিয়া আমাকে এবং আবু সালামাকে দুধ পান করিয়েছে। সুতরাং তোমরা তোমাদের কন্যা ও বোনদেরকে আমার কাছে বিয়ের জন্য পেশ করো না।”[14]
উরওয়া বলেন: সুওয়াইবিয়া হল আবু লাহাবের দাসী। আবু লাহাব তাকে মুক্তি দিলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দুধ পান করান। আবু লাহাব মৃত্যু বরণ করার পর তার পরিবারের কোন লোক তাকে স্বপ্নে খুব করুণ অবস্থায় দেকে জিজ্ঞেস করল,মৃত্যু বরণ করার পর তোমার পরিণতি কী? সে বলল: তোমাদের নিকট থেকে বিদায় নেয়ার পর আর কখনো শান্তির সংস্পর্ষ পাইনি। তবে সুওয়াইবিয়াকে মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে আমাকে খুব সামান্য পানি পান করতে দেয়া হয়েছে।[15]
ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, কাফির কোন কোন সৎ কর্ম দ্বারা আখিরাতে উপকৃত হবে। কিন্তু তা কুরআনের সুষ্পষ্ট বক্তব্য বিরোধী কথা। কেননা, আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُوراً
“আর তারা যে সব আমল করেছিলো সেগুলোর প্রতি অগ্রসর হব অত:পর সেগুলোকে উৎক্ষিপ্ত ধুলিকনায় পরিণত করবো।“ (সূরা ফুরকান: ২৩)
কারণ ঈমান, ইখলাস এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ ছাড়া কোন আমলই আল্লাহর নিকট কাজে আসবে না।
এই সংশয়ের জবাব:
১) উক্ত হাদীসটি উরওয়া মুরসাল বা বিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ কে উরওয়ার নিকট এ হাদীসটি বর্ণনা করেছে তা তিনি উল্লেখ করেন নি। যেমনটি ইতোপূর্বে বলা হয়েছে।
২) যদি তা মুসাল বা অবিছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হিসেবে ধরেও নেয়া হয় তার পরেও কথা হল,এটা তো একটি স্বপ্নের কথা। স্বপ্ন কখনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হতে পারে না। এমনও হতে পারে, যে ব্যক্তি এ স্বপ্ন যে দেখেছে সে হয়ত তখন মুসলমান ছিল না। আর যদি সে তখন মুসলমান না থাকে তবে তো তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে না|[16]
৩) উরাওয়া কর্তৃক বর্ণিত উক্ত ঘটনায় বলা হয়েছে,আবু লাহাব তার দাসী সুওয়াইবিয়াকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দুধ খাওয়ার আগেই মুক্তি দিয়েছিল। কিন্তু এ তথ্য অন্যান্য সীরাত লেখকদের কথার বিপরীত। তারা লিখেছেন,সুওয়াইবিয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুগ্ধপান করানোর বহুদিন পরে আবু লাহাব তাকে মুক্তি দিয়েছিল।
উদাহরণ স্বরূপ দেখুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিশিষ্ট জীবনী লেখক ঐতিহাসিক ইবনে সাদ বলেন: “মুহাম্মাদ বিন আমর আল ওয়াকেদী একাধিক আলেম থেকে আমাদেরকে যে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন তা নিম্নরূপ:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় থাকা অবস্থায় তার সাথে ( দুধ মা সুওয়াইবিয়া) সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। খাদীজা রা.ও তাকে সন্মান করতেন। তখনও তিনি দাসী ছিলেন। খাদীজা রা. আবু লাহাবের নিকট সুওয়াইবিয়াকে মুক্ত করার জন্য ক্রয় করে নিতে চাইলে আবু লাহাব তা অস্বীকার করল। পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা হিজরত করার পর আবু লাহাব তাকে মুক্ত করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য কাপড় এবং অন্যান্য উপহার সামগ্রী পাঠাতেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সপ্তম হিজরীতে খাইবার থেকে ফিরে এসে তার মৃত্যুর খবর পেলেন।[17]
হাফেয ইবনে আব্দুল বার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনীতে সুওয়াইবিয়া কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দুগ্ধপানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হিজরত করার পর আবু লাহাব তাকে মুক্ত করে।[18]
ইব্নুল জাযারী বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদীজা রা. কে বিয়ে করার পর সুওয়াইবিয়া তার নিকট যাতায়াত করতেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খাদীজা রা. উভয়ে তাকে সম্মান করতেন। তখনও তিনি দাসী অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে আবু লাহাব তাকে মুক্তি দেয়।“[19]
৪) আবু লাহাব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম সংবাদে আনন্দিত হয়েছিল কিংবা সুওয়াইবিয়া তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মের সুসংবাদ দিয়েছিল এটা বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত নয়। অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মের সুসংবাদ পেয়ে আবু লাহাব তার দাসীকে মুক্তি দিয়েছিল এ বিষয়গুলো কোনটাই সহীহ সনদে প্রমাণিত হয় নি। কেউ এর দাবী করলে তার পক্ষে বিশুদ্ধ প্রমাণ উপস্থাপন করা অপরিহার্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর কোন বিশুদ্ধ প্রমাণ পেশ করা সম্ভব হবে না।[20]
চতুর্থ সংশয়ঃ সোমবারে রোযা থাকা মীলাদের দলীল?!
মীলাদের সমর্থক ভায়েরা মীলাদের পক্ষে যে সমস্ত দলীল পেশ করে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল:
সহীহ মুসলিমে আবু কাতাদা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সোমবারে রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন:
ذَاكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ وَيَوْمٌ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلَىَّ فِيهِ
“এ দিনেই আমি ভূমিষ্ট হয়েছি এবং এ দিনে আমি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি অথবা এ দিনেই আমার উপর কুরআন অবর্তীণ হয়েছে।”[21]
এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে তারা বলে থাকে যে,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্ম দিবসকে সন্মান করতেন। আর তা প্রকাশ করতেন রোযা রাখার মাধ্যমে। সুতরাং এটাকে মীলাদ বা জন্ম দিবস পালন হিসেবে ধরা যায়।[22]
এই সংশয়ের জবাব:
ক) এ হাদীসে ১২ রবীউল আওয়ালে রোযা রাখার কথা বলা হয়নি বরং যেটা বলা হয়েছে তা হল,তিনি প্রতি সোমবার রোযা রাখতেন। আর সোমবার তো প্রতিমাসে চার বার এসে থাকে। সুতরাং প্রতি সোমবার রোযা রাখার পরিবর্তে রবীউল আওয়াল মাসের ১২ তারিখকে নির্দিষ্ট করে অনুষ্ঠান পালন করা ইসলামী শরীয়তের মধ্যে নতুন সংযোজন নয় কি? এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আমলকে সংশোধন করার অপচেষ্টা করা হল না? এভাবে নিত্য-নতুন বিধান রচনা করে দ্বীন-ইস
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Chandpur
3650
