CHT- Bigyan O Yuktibadi Samiti

CHT- Bigyan O Yuktibadi Samiti

Share

কুসংস্কার মুক্ত, বিজ্ঞান মনস্ক, সুন্দর সমাজ গোড়ার উদ্দেশ্যে 'আমরা যুক্তিবাদী'

15/09/2025

আজ সেই মহান নেতার জন্মদিন,
যিনি নিজের জনগণের অধিকার, আত্মপরিচয় ও মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে
জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছিলেন।

তিনি ছিলেন পাহাড়ের অমর সন্তান,
সত্য ও ন্যায়ের অদম্য কণ্ঠস্বর,
যিনি অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি।

অধিকারহীনতার অন্ধকার ভেদ করে
তিনি দেখিয়েছিলেন আমাদের সংগ্রামের আলোকপথ,
যেখানে সাহস, ত্যাগ আর আদর্শ
হয়ে উঠেছিল মুক্তির দিশারী।

🙏 আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি—
তাঁর আত্মত্যাগ, তাঁর সাহস, তাঁর অটল আদর্শ,
যা আগামী প্রজন্মের জন্য
চিরকাল প্রেরণার জ্যোতিষ্ক হয়ে থাকবে।

✨ শুভ জন্মদিন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ✨
তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শ পূর্ণ হোক আমাদের প্রতিটি পদযাত্রায়।

09/09/2025

অন্ধবিশ্বাসভিত্তিক ধর্মীয় নৈতিকতার কোনো বাস্তব মূল্য নেই।

মানবসভ্যতার মূল ভিত্তি হলো নৈতিকতা। নৈতিকতা ছাড়া কোনো সমাজই স্থায়ী শান্তি, অগ্রগতি বা প্রকৃত সভ্যতা অর্জন করতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যায়, নৈতিকতার নামে অনেক সময় ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসকে সামনে আনা হয়। অথচ অন্ধবিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিকতা কখনোই স্থায়ী বা মূল্যবান হতে পারে না।

বৌদ্ধ ধর্মে করুণা, দয়া, মৈত্রী ইত্যাদি মহৎ গুণ স্বীকৃত এবং মানবকল্যাণের জন্য সত্যিই প্রয়োজনীয়। এগুলো গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসনীয়। কিন্তু যখন এসব মহৎ গুণকে অন্ধবিশ্বাসের আড়ালে প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন সেটি প্রকৃতভাবে কার্যকর থাকে না। কারণ অন্ধবিশ্বাস মানুষকে কখনো প্রকৃত নৈতিক করে তুলতে পারে না। বর্তমান চাকমা সমাজে এ বিষয়টি সহজেই দেখা যায়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন অনেক হলেও, সামাজিক নৈতিকতার ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিবর্তন তেমন আসে না।

একটি প্রজন্মকে সত্যিকারের সভ্য ও নৈতিক করে তুলতে হলে তাদের প্রশ্ন করার সাহস জাগাতে হবে, যুক্তি দিয়ে ভাবতে শেখাতে হবে। যুক্তি ও জিজ্ঞাসা ছাড়া কোনো জ্ঞানই গভীরভাবে উপলব্ধি করা যায় না। যদি শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শুধু বলা হয় “বিশ্বাস করো, প্রশ্ন করো না”, তবে তারা অন্ধ অনুকরণকারী হয়ে ওঠে, স্বাধীন চিন্তাশীল মানুষ হয়ে উঠতে পারে না।

দুঃখজনকভাবে, অনেক ধর্মগুরু এ কাজটি করতে চান না। অধিকাংশ সময় তারা কেবল কাল্পনিক গল্প শোনান, দান-পুণ্যের উপদেশ দেন বা ভয়ের মাধ্যমে ভক্তদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কল্পকাহিনি ও অন্ধবিশ্বাস দিয়ে কখনো একজন প্রকৃত শিক্ষিত, নৈতিক ও সভ্য মানুষ তৈরি হয় না।

যদি কেউ অন্ধবিশ্বাসের ভিত্তিতে নৈতিক হয়, তবুও তার নৈতিকতার প্রকৃত মূল্য নেই। সহজ উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক। আমরা দু’জন এসএসসির জ্যামিতির পরীক্ষা দিচ্ছি। পরীক্ষায় পিথাগোরাসের উপপাদ্য এসেছে। আপনি ভালোভাবে শিখে সুন্দরভাবে লিখলেন। আমি কিছুই শিখিনি, শুধু আপনার খাতা দেখে উত্তর লিখে পাশ হয়ে গেলাম। কিন্তু এই পাশের কি আসল কোনো মূল্য আছে? আমি তো কিছুই শিখিনি বা বুঝিনি।

অন্ধবিশ্বাসনির্ভর নৈতিকতাও ঠিক তেমনই। ভক্তরা ধর্মীয় উপদেশ শুনে কোনো গভীর বোঝাপড়া ছাড়াই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে বাড়ি ফেরে। বাইরে থেকে তারা নৈতিক বলে মনে হতে পারে, কিন্তু ভেতরে প্রকৃত পরিবর্তন ঘটে না। যেমন নকল করে পাশ করলে আসল জ্ঞান হয় না, তেমনি অন্ধবিশ্বাসের উপর দাঁড়ানো নৈতিকতাও আসল নৈতিকতা নয়।

প্রকৃত নৈতিকতা জন্ম নেয় তখনই, যখন মানুষ নিজের বুদ্ধি, যুক্তি ও অনুধাবনের মাধ্যমে কোনো আদর্শ গ্রহণ করে। যে নৈতিকতা বোঝার মধ্য দিয়ে আসে, সেটিই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় এবং সমাজকে প্রকৃত উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

সুতরাং বলা যায়, ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসের নৈতিকতার কোনো স্থায়ী মূল্য নেই। নৈতিকতাকে কার্যকর করতে হলে তাকে যুক্তি, বুদ্ধি ও সচেতনতার ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। অন্ধবিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিকতা কেবল ক্ষণস্থায়ী মুখোশ; আর যুক্তি, জ্ঞান ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিকতাই মানুষের চরিত্র ও সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।

07/09/2025

সাধারণত মানুষ মনে করে যে চীবর গায়ে দিলে বা ধর্মীয় পোশাক পরে, কয়েকটি ধর্মগ্রন্থ পড়লেই সে সেই ধর্মের বিশারদ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুধু ধর্মগ্রন্থ পড়লেই ধর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান পাওয়া যায় না। ধর্মকে সত্যিকারভাবে বোঝার জন্য রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস, দর্শন ও বিজ্ঞান সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন। কারণ ধর্মগ্রন্থে যা কিছু লেখা আছে, তা সত্য প্রমাণের জন্য বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে হয়।
উদাহরণস্বরূপ, বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়েছে—পূর্বজন্মের কুশল কর্মফলের কারণে কেউ মানুষ হিসেবে জন্মায়, আর অকুশল বা পাপ কর্মফলের কারণে কেউ পশু বা পাখি হিসেবে জন্মায়। তবে এই “পূর্বজন্ম” ধারণার সত্যতা যাচাই করার জন্য আমাদের বিষয়টি অন্য দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করতে হবে।
চলুন, আমরা জন্মান্তর, পূর্বজন্ম, পরকাল, স্বর্গ ও নরক সত্য নাকি মিথ্যা তা প্রমাণ করার চেষ্টা করি।

১. বৌদ্ধ ধর্মে কোনো সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের ধারণা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—ঈশ্বরহীন বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারে পৃথিবীতে প্রথম প্রাণ বা প্রথম জীব কিভাবে সৃষ্টি হলো?

আজকের দিনে প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে দুটি প্রধান মতবাদ বিদ্যমান—
1. ঈশ্বরবাদ – সবকিছু ঈশ্বরের সৃষ্টি।
2. বিবর্তনবাদ – প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ।

যেহেতু বৌদ্ধ ধর্মে ঈশ্বর নেই, তাহলে এটি হয় বিবর্তনবাদকে মেনে নেবে, নয়তো সম্পূর্ণ নতুন কোনো ব্যাখ্যা হাজির করবে। যদি ধরে নিই বৌদ্ধ ধর্ম বিবর্তনকে মেনে নেয়, তবে কিছু দ্বন্দ্ব সামনে আসে।

বিবর্তনবাদ কী বলে?
প্রথমে এক কোষী প্রাণীর উদ্ভব হয়। ধীরে ধীরে সেই প্রাণী থেকে বহু কোষী প্রাণী তৈরি হয়। দীর্ঘ সময়ের বিবর্তনের ধারায় প্রাণীরা পরিবর্তিত হতে হতে আজকের মানুষ, পশু-পাখি, উদ্ভিদসহ নানান প্রজাতিতে রূপ নিয়েছে। এই প্রক্রিয়া আজও চলছে, ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে। এমনকি মানুষও হয়তো একদিন অন্য কোনো নতুন প্রাণীতে রূপান্তরিত হতে পারে।

অন্যদিকে, বৌদ্ধ ধর্মের জন্মান্তরবাদ কী বলে?
পূর্বজন্মের কুশল কর্মফলের কারণে কেউ মানুষ জন্ম পায়, আর অকুশল বা পাপ কর্মফলের কারণে কেউ পশু-পাখি হয়ে জন্মায়। অর্থাৎ প্রাণীজন্ম ও মানবজন্ম নির্ভর করে পূর্বজন্মের কর্মের ওপর।

এখানেই দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে যায়।

বিবর্তনবাদ বলছে: মানুষ ও পশু-পাখি এক কোষী প্রাণী থেকে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়েছে।

জন্মান্তরবাদ বলছে: মানুষ-পশুর জন্ম নির্ধারিত হয় পূর্বজন্মের কর্মফলের দ্বারা।

এখন প্রশ্ন—দুটো একসঙ্গে কি সত্য হতে পারে?
যদি বিবর্তন সত্য হয়, তবে জন্মান্তরবাদ মিথ্যা। আর যদি জন্মান্তরবাদ সত্য হয়, তবে বিবর্তন তত্ত্ব মিথ্যা।

কিন্তু আমরা জানি, বিবর্তন একটি বৈজ্ঞানিক সত্য। আজ পর্যন্ত কেউ এটি ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। এমনকি ঘোষণা দেওয়া আছে—যদি কেউ বিবর্তন তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করতে পারে তবে তাকে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু তা আজও কেউ পারেনি।

২. বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়—পূর্বজন্মের সৎকর্মের কারণে কেউ ধনী পরিবারে জন্মায়, আবার পূর্বজন্মের অসৎকর্মের ফলেই কেউ গরিব পরিবারে জন্ম নেয়। কিন্তু ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে বিচার করলে ভিন্ন চিত্র আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়। আদিম যুগে মানুষের মধ্যে ধনী-গরিবের কোনো বিভাজন ছিল না। তারা সবাই সমানভাবে বনে ফলমূল সংগ্রহ ও পশু শিকারের মাধ্যমে জীবনধারণ করত। সেই সময়ে সমাজে শ্রেণি বৈষম্যের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

কিন্তু কৃষি বিপ্লব মানবজীবনে এক মৌলিক পরিবর্তন এনে দেয়। মানুষ জমি চাষ শুরু করে এবং অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। এই উদ্বৃত্ত খাদ্যের মাধ্যমেই জন্ম নেয় সম্পদের সঞ্চয়। আর সেই সঞ্চয় থেকেই ধনী-গরিবের বিভাজন, সামাজিক শ্রেণি বিভাগ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের সূচনা ঘটে। অর্থাৎ, আদিম সমাজে যেখানে সবাই সমান ছিল, কৃষি-নির্ভর সভ্যতার আবির্ভাবের পরেই ধনী-গরিব পার্থক্য প্রকট হয়ে ওঠে।

তাই ঐতিহাসিক বাস্তবতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায়, আদিম মানবসমাজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মে বর্ণিত জন্মগত ধনী-গরিব বিভাজনের ব্যাখ্যা সরাসরি মেলে না। ইতিহাস ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা এখানে একে অপরের বিপরীত অবস্থান প্রকাশ করে। আর এ থেকেই স্পষ্ট হয়—সামাজিক সত্যকে বোঝার জন্য ইতিহাসভিত্তিক বিশ্লেষণই অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত ও নির্ভরযোগ্য পথ।

৩. বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়—যদি কেউ সত্যিকার অর্থে বৌদ্ধ ধর্ম বুঝতে চায়, তবে তাকে বিদর্শন ভাবনা (Vipassanā meditation) অনুশীলন করতে হবে। এই ভাবনার মাধ্যমে অর্জন করা যায় ঋদ্ধিজ্ঞান বা দিব্যজ্ঞান, যার মাধ্যমে নাকি জানা সম্ভব স্বর্গ, নরক, পরকালসহ বহু অদৃশ্য জগতের সত্যতা।
বৌদ্ধ স্কলারদের মতে, দিব্যজ্ঞান দ্বারা পরকাল দেখা যায়, নরক-স্বর্গ অনুভব করা যায়, এমনকি বুদ্ধত্ব বা নির্বাণের অভিজ্ঞতাও অর্জন করা যায়। অর্থাৎ, দিব্যজ্ঞান একটি এমন মানসিক অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে একজন ধ্যানী ব্যক্তি ইন্দ্রিয়াতীত জ্ঞান লাভ করেন।
তবে প্রশ্ন হলো—যদি দিব্যজ্ঞান সত্যি হয়, এবং যদি তার মাধ্যমে পরকাল বা নরকের মতো রহস্যময় ও গভীর সত্য জানা সম্ভব হয়, তবে আমাদের দৈনন্দিন জগতের বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক সত্যগুলো কেন এই জ্ঞানের আওতায় আসে না?
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়:
“পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে”—এই সত্যটি কোনো সাধক বা ঋদ্ধিপ্রাপ্ত দিব্যজ্ঞানে আবিষ্কার করেননি, বরং এটি আবিষ্কৃত হয়েছে বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে।
মাটির নিচে সোনার খনি, কয়লার স্তর, বা প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ—এসবও কখনো কোনো দিব্যজ্ঞান বা ধ্যানী মনুষ্যের ভবিষ্যৎবাণী থেকে জানা যায়নি।
এমনকি মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্র, কৃষ্ণগহ্বর, কোয়ান্টাম কণার মতো বাস্তব ও পরীক্ষণযোগ্য জ্ঞান আমরা পাচ্ছি কেবল বিজ্ঞানের মাধ্যমে, দিব্যজ্ঞান নয়।
তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—যদি দিব্যজ্ঞান সত্য হয় এবং তা দ্বারা সত্য-তথ্য জানা সম্ভব হয়, তবে কেন দিব্যজ্ঞান দিয়ে আমরা বাস্তব ও প্রমাণযোগ্য কোনো জ্ঞান লাভ করতে পারি না? কেন তা কেবল অতীন্দ্রিয়, অধরা, ও পরীক্ষাহীন কিছু ধারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে?
এই অবস্থায় সন্দেহ জাগা অস্বাভাবিক নয়—দিব্যজ্ঞান কি তাহলে বাস্তব নয়? দিব্যজ্ঞান কি কেবল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বা কাল্পনিক প্রতারণা তত্ত্বেই সীমাবদ্ধ?
বিজ্ঞান যে সত্য প্রকাশ করে, তা পরীক্ষিত, পর্যবেক্ষণযোগ্য ও সকলের জন্য অভিন্ন। অথচ দিব্যজ্ঞান ব্যক্তিনির্ভর, অনিরীক্ষণযোগ্য এবং প্রায়শই ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত।
তাই প্রশ্ন রয়ে যায়—দিব্যজ্ঞান যদি বাস্তব হয়, তবে তা দিয়ে বিশ্ব-মহাবিশ্বের প্রমাণযোগ্য জ্ঞান অর্জিত হয় না কেন? না কি এটি কেবল কল্পনা, অন্তর্জগতের প্রতিচ্ছবি, বা এক ধরনের বিশ্বাসগত অভিজ্ঞতা মাত্র?

৪. আধ্যাত্মিক কুযুক্তি ও তার খণ্ডন

অধিকাংশ ধর্মগুরু বা ধার্মিকদের যুক্তি–কুযুক্তি সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। তাই তারা নিজেদের অন্ধবিশ্বাসকে সত্য প্রমাণ করার জন্য কুযুক্তির আশ্রয় নেন।

কুযুক্তি ১: "আধ্যাত্মিকতার প্রমাণ বিজ্ঞান দিয়ে খুঁজতে চাওয়া, যেন সরিষার তেলের স্বাদ সয়াবিন তেল দিয়ে বোঝার চেষ্টা।"

এটি একটি ভ্রান্ত উপমা (false analogy)। সরিষার তেল আর সয়াবিন তেল দুটি স্বতন্ত্র পদার্থ, যাদের স্বাদ একে অপরকে দিয়ে যাচাই করা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞান আর আধ্যাত্মিকতা দুই সমান্তরাল পদার্থ নয়।

বিজ্ঞান হলো একটি পদ্ধতি (method)—যা পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা যাচাই করে। অন্যদিকে আধ্যাত্মিকতা যদি বাস্তবের উপর কোনো দাবি করে (যেমন—ধ্যান করলে বিশেষ শক্তি পাওয়া যায়, বা মৃত্যুর পর আত্মার অস্তিত্ব থাকে, বা অলৌকিক কিছু ঘটে), তবে সেটি বাস্তবতার সাথেই সম্পর্কিত। আর বাস্তবতা যাচাইয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো বিজ্ঞান।

তাই বলা উচিত—
আধ্যাত্মিকতার দাবি যদি বাস্তব জগতে প্রভাব ফেলে, তবে বিজ্ঞানের কাছে তা যাচাইযোগ্য। বিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে আধ্যাত্মিকতার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করা মানে প্রমাণহীন বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া।

অতএব, এই বক্তব্যটি একটি কুযুক্তি, কারণ এটি বিজ্ঞানকে ভুলভাবে সয়াবিন তেলের মতো সমান্তরাল কিছুর জায়গায় বসিয়েছে, অথচ বিজ্ঞান আসলে যাচাইয়ের মানদণ্ড, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো পদার্থ নয়।

কুযুক্তি ২:
"মিষ্টি না খেলে যেমন তার স্বাদ বোঝা যায় না, তেমনি বিদর্শন ভাবনা ছাড়া দিব্যজ্ঞান সত্যও উপলব্ধি করা যায় না।"

এ বক্তব্য আসলে একটি ভ্রান্ত উপমা (False Analogy)। নিচে কারণগুলো দেওয়া হলো—

1. উপমার অসঙ্গতি
মিষ্টি একটি ইন্দ্রিয়গোচর বস্তু। এটি খেলে জিহ্বা দিয়ে সরাসরি স্বাদ যাচাই করা যায়। এ অভিজ্ঞতা সর্বজনীন—যে-ই মিষ্টি খাবে, সে একই ধরনের স্বাদ অনুভব করবে। ফলে অন্যদের দ্বারাও সহজে যাচাই করা সম্ভব।

কিন্তু “বিদর্শনের দিব্যজ্ঞান” সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির দাবি। এটি না ইন্দ্রিয়গোচর, না পরীক্ষণযোগ্য; বরং মানসিক ও অদৃশ্য অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। কারো ধ্যানচর্চা থেকে যে দিব্যজ্ঞান অর্জনের দাবি করা হয়, তা অন্য কারো দ্বারা সরাসরি যাচাই করার কোনো উপায় নেই। তাই একে মিষ্টির অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করা যুক্তিগতভাবে ভুল।

2. যুক্তির দুর্বলতা

মূল যুক্তির কাঠামো দাঁড়ায়:
👉 “দিব্যজ্ঞান সত্য, কারণ কেবল বিদর্শন ভাবনায় লিপ্ত হলেই দিব্যজ্ঞান লাভ হয়।”

এখানে বড় সমস্যা হলো—দিব্যজ্ঞান আদৌ বাস্তব কি না, তার প্রমাণ আগে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং ধ্যানকে শর্ত ধরে নিয়েই দিব্যজ্ঞানকে সত্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি এক ধরনের চক্রাকার যুক্তি (Circular Reasoning), যা যৌক্তিকভাবে দুর্বল।

3. যৌক্তিক ও বাস্তবভিত্তিক দিক
বিদর্শন ভাবনা মানসিক প্রশান্তি, মনোসংযম ও আত্ম-চিন্তার একটি কার্যকরী পদ্ধতি হতে পারে। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের উপকারে আসতে পারে—এ দাবি যৌক্তিক।

কিন্তু “অদৃশ্য দিব্যজ্ঞান লাভ” বলে একে অতিপ্রাকৃত প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্পূর্ণ বিশ্বাসনির্ভর এবং অবৈজ্ঞানিক অনুমান।

06/09/2025

দান-পুণ্যের গল্প শুনিয়ে মানুষকে মুক্তির পথ দেখানো শুধু প্রতারণাই নয়, বরং সমগ্র জাতির সঙ্গে এক ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতা।

মানবসভ্যতার ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—উন্নতি ও অগ্রগতির প্রকৃত চালিকাশক্তি সবসময়ই ছিল জ্ঞান, বিজ্ঞান ও যুক্তিনির্ভর চিন্তা। পৃথিবীর যেসব দেশ আজ উন্নত ও সভ্য, তারা কখনোই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান কিংবা দান-পুণ্যের অলীক কাহিনি অনুসরণ করে সেই অবস্থানে পৌঁছায়নি। বরং তারা গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষার প্রসার, বিজ্ঞানের উৎকর্ষ ও যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনের ওপর। অথচ আমাদের সমাজে এখনও দান-পুণ্যের কল্পগল্প শুনিয়ে মানুষকে মুক্তির মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে।

এটি কেবল সাধারণ প্রতারণা নয়; বরং জাতির ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীর বিশ্বাসঘাতকতা। কারণ, মানুষকে যদি ভুল পথে পরিচালিত করা হয়, তবে তারা কখনোই নিজেদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারবে না। প্রশ্ন হলো—যারা এসব গল্প শোনায়, তারা কি সত্যিই জাতিকে মুক্তির পথে নিতে চায়? নাকি অজ্ঞতা ও অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে?

আমরা কি এতটাই অন্ধ হয়ে গেছি যে দেখতে পাচ্ছি না—যেসব দেশ অগ্রসর হয়েছে, তারা ধর্মীয় কল্পকাহিনি নয়; বরং জ্ঞান, বিজ্ঞান ও বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের সভ্য সমাজ গড়ে তুলেছে? তারা আজ মহাকাশ জয় করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্ভাবন করছে, আর আমরা এখনও অজ্ঞতার শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে মুক্তির অলীক কাহিনিতে ডুবে আছি! তাহলে আমরা কেন এখনও দান-পুণ্যের ফাঁদে আটকে থাকব? কেন নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধবিশ্বাস ও প্রতারণার হাতে সমর্পণ করব?

জাতির প্রকৃত মুক্তির পথ কখনোই দান-পুণ্যের গল্পে নিহিত নয়। মুক্তি নিহিত আছে উন্নত শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা ও সুশাসনে। তাই যদি সত্যিকার অর্থে আমরা জাতিকে মুক্ত করতে চাই, তবে কুসংস্কার ও প্রতারণার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জ্ঞানের আলো জ্বালাতে হবে।

05/09/2025

শিক্ষা বা সুশিক্ষিত হওয়ার পরম ব্রত হলো নিজের অন্তরদৃষ্টির বিবেককে জাগ্রত করা। সবরকম দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া কিংবা অন্তত মুক্তির পথে এগিয়ে চলাই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য।

যে শিক্ষা বা ডিগ্রি মানুষের অন্তর্নিহিত নৈতিক বোধকে জাগাতে পারে না, সেই শিক্ষা কখনোই প্রকৃত শিক্ষা নয়। শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, কিংবা ডিগ্রির সার্টিফিকেটে আটকে থাকবে না—এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

সত্যিকারের শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আত্মদর্শন জন্ম নেয়, বিবেক সক্রিয় হয়, আর ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা তৈরি হয়। একজন প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ কখনো অন্ধ অনুকরণে জীবনযাপন করে না; বরং যুক্তি দিয়ে সত্য-মিথ্যা যাচাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। তাই শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত নৈতিক সচেতনতা জাগ্রত করা এবং দাসত্ব ভেঙে স্বাধীনচেতা মানুষ হয়ে ওঠা।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজকের সমাজে আমরা অনেক “শিক্ষিত” মানুষ দেখি, যারা আসলে কেবল ডিগ্রির মালিক। তারা হয়তো বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে, সম্পদও অর্জন করেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে বিবেকের আলো নেই। তারা সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার সাহস রাখে না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার বদলে চুপ করে থাকে, কারণ তাদের শিক্ষা কেবল চাকরি বা পদ-পদবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমন শিক্ষা মানুষকে ধনী করতে পারে, কিন্তু মানুষ বানাতে পারে না।

এক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে। অধিকাংশ বাবা-মা সন্তানকে মানুষ হতে শেখান না; তারা শেখান কিভাবে চাকরি পেতে হয়, কিভাবে টাকা কামাতে হয়, কিভাবে বড়লোক হতে হয়। ফলে সন্তানও শৈশব থেকেই অর্থকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। বড়লোক হওয়ার স্বপ্নে সে দালালি, তোষামোদ কিংবা দুর্নীতির পথে হাঁটে। এর ফলেই সমাজে তৈরি হয় ডিগ্রিধারী অথচ মেরুদণ্ডহীন মানুষ—যাদের নেই ব্যক্তিত্ব, নেই নৈতিক সাহস।

যখন শিক্ষা কেবল অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন সমাজে জন্ম নেয় মূক ও বধির মানুষের ভিড়। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়, কারণ নিজেদের স্বার্থ ছাড়া আর কিছু তারা দেখতে শেখেনি। এরা সমাজের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকে, কিন্তু সমাজের আলোর প্রদীপ হয়ে উঠতে পারে না।

সত্যিকার অর্থে শিক্ষা হলো মুক্তির পথ। যে শিক্ষা মানুষকে শোষণ, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়, সেটিই প্রকৃত শিক্ষা। আর যে শিক্ষা মানুষকে কেবল অর্থ আর পদমর্যাদার দাসে পরিণত করে, সেটি শিক্ষা নয়—বরং অশিক্ষার আরেক রূপ।
শিক্ষা যদি মুক্তি না দেয়, তবে তা শৃঙ্খল ছাড়া আর কিছু নয়।

27/08/2022

সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনকে গ্রহণ না করলে মানবজাতি এতদিনে লুপ্ত হত। শিকারি থেকে সে যদি উৎপাদক হয়ে না উঠতে পারতো, তাহলে সব শিকার একদিন ফুরিয়ে যেত,ফলে খাবারের অভাবে সে নিঃশেষ হয়ে যেত।
একইভাবে তাদেরও বিলুপ্তি ঘটবে যাদের চিন্তাচেতনা, ধর্মদর্শন অপরিবর্তনীয়।

25/08/2022

পৃথিবীতে মৃত্যুই একমাত্র সত্য। প্রশ্ন হল মৃত্যুর পরে মানুষের দেহ, মন, চিন্তা ইত্যাদির কি পরিণাম হয় ?
দেহের সমস্ত Matter এরং Energy কোথায় যায় ?

এই প্রশ্নের অনেক রকম প্রচলিত উত্তর রয়েছে। ধর্মীয় মোড়কে, অবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় এই উত্তরগুলো মানুষকে অলৌকিকত্বের প্রাথমিক পাঠটা মনে গেঁথে দেয়। জন্ম দেয় আত্মা নামক এক সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক আজগুবি এক ধারণার।

অথচ খুব সামান্য বিজ্ঞান ঘাঁটলেই এই প্রশ্নের বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
এবার দেখা যাক বিজ্ঞান কি বলে।
মানবদেহের মোটামুটি ১৫ % প্রোটিন ২০ % ফ্যাট ২ % কার্বোহাইড্রেট ২ % লবণ ১ % বিভিন্ন গ্যাস আর বাকি প্রায় ৬০ % জল।
এই উপাদানগুলো সবই বিভিন্ন মৌলিক কণা দিয়ে তৈরি। তারমানে আমার আপনার শরীরের হাড়, মাংস, চামড়া, চর্বি, দাঁত, চুল, নখ ইত্যাদি ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন কণার সমষ্টি ছাড়া আর কিছু নয়।
যদিও Standard model of Pratical physies. অনুযায়ী প্রোটন এবং নিউট্রন মৌলিক কণা নয়। তবু আলোচনার সুবিধার্থে আমরা এগুলোকে মৌলিক কণা হিসেবেই ধরে নিচ্ছি। মানুষ মারা গেলে তার শরীরকে মূলত পড়ানো হয় বা মাটির নিচে পুঁতে, সৎকার করা হয়।
আমরা জানি matter এবং energy তৈরি বা ধ্বংস করা যায় না। তারমানে মারা যাবার পর আপনার দেহের একটি পদার্থ কনাও নষ্ট হবে না। আপনার দেহের প্রতিটি কণা কোন না কোন রূপে এই মহাবিশ্বে থেকে যাবে।
আসুন ব্যাপারটা একটু খোলাসা করা যাক।

মারা যাবার পর দেহ পুড়িয়ে দিলে, আপনার শরীরের সমস্ত জল কনা দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে এই পৃথিবীর পরিবেশেই থেকে যাবে। এবং water cycle এর নিয়ম মেনে নদী হ্রদ বা সমুদ্রের জলের সাথে মিশে যাবে। জল ছাড়া বাকি যেটুকু পদার্থ আপনার শরীরে আছে, তারও প্রতিটি কণা কোন না কোন রূপে এই পৃথিবীতেই থেকে যাবে।
এ তো গেল আপনার শরীরের matter বা বস্তুকণার পরিণতির কথা।
কিন্তু energy ?
এই energy কে নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে আত্মা, ভূত, পেত্নী এই আত্মার সাথে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক কল্পনা মিশিয়ে, বইপত্র লিখে বেশ কিছু মানুষ বিখ্যাত হয়ে গেছেন। বই বিক্রি করে বেশ কিছু টাকা-পয়সাও কামিয়েছে।

এবার আসা যাক আপনার শরীরের energy- র কি হবে energy সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, শুধু form টাই পরিবর্তিত হয়। মানুষের শরীরের মূলত তিন ধরনের energy থাকে electrical energy. যেটা দিয়ে Nervous system এবং brain কাজ করে। heat energy যা মাংসপেশির নড়াচড়ার মাধ্যমে উদ্ভূত। তবে শরীরের বেশিরভাগ energy হল chemical energy. অর্থাৎ protein. fat. carbohydrates. অর্থাৎ মেদ।
যতক্ষণ আপনি বেঁচে আছেন, ততক্ষন আপনার সঞ্চিত chemical energy অনবরত অন্য energy তে convert হয়ে যায়। যার বেশির ভাগটাই convert হয় heat energy তে।
এখন প্রশ্ন হলো বেঁচে থাকাকালীন আপনার শরীরের যে পরিমাণ electrical energy. যেটা কিনা চিন্তা, চেতনা বা consciousness তৈরি করে। আপনি মারা যাওয়ার পর তার কিছুটাও কি অপরিবর্তিত থাকে ? যদি থাকে, তবেই আত্মা নামক কোন কিছু থাকার সম্ভাবনা থাকে। তবেই আত্মা নামক কোন কিছু থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তাই না?
না থাকেনা। ultimately সমস্ত energy ই heat energy তে convert হয়ে যায়, যেতে বাধ্য। আর সেই জন্যই মহাবিশ্বের Entropy অনবরত বেড়েই চলেছে, বেড়েই চলেছে।
এবার তাহলে ভেবে দেখুন কেউ মারা গেলে তার আত্মার শান্তি কামনা করে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান করার কোন যুক্তি আছে কি?
একটু বিজ্ঞান মনস্ক হয়ে খুব সাধারণভাবে ভেবে দেখুন, বুঝবেন আত্মা আসলে একটা ভ্রান্ত বিশ্বাস।
তাই " শ্রাদ্ধ নয়, প্রিয়জনদের নিয়ে স্মরণ সভা করুন।"

18/08/2022

আশীর্বাদ বা বর কি? এর ফল কি?
মানুষ যথাযত জ্ঞান ও কর্মস্পৃহার অভাবে কোনো কিছু লাভ করতে শর্টকাট চায়। সেই শর্টকাট-এর নামই হল আশীর্বাদ তথা বর! এটি পাওয়া যায় ধর্মগুরুরদের কাছে! ধর্ম গুরুর পায়ে কপাল ঠেকিয়ে প্রসন্ন করে, যা ইচ্ছা বর চাইতে পারে। এর মত সহজ শর্টকাট আর কি হতে পারে!

কিন্তু একমাত্র শিক্ষাহীন নির্বোধ, অলস ব্যাক্তিই নির্লজ্জের মত এই ধরনের শর্টকাট চাইতে পারে। একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে নিয়মিত পড়াশুনা না করে যেমন পরীক্ষায় ভাল করা সম্ভব নয়, তেমনি উপযুক্ত কর্ম প্রচেষ্টা না করে কখনও কোনো কিছু লাভ করা সম্ভব নয়। আশীর্বাদ প্রার্থনা করে যদি পরীক্ষায় ও কোনো কাজে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হত তাহলে প্রচেষ্টা ছাড়াই সফলতা অর্জন করা যেত। কিন্তু বাস্তবতা এর উল্টো, কারও কাছে প্রার্থনা না করে শুধু উপযুক্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই যে কোনো মানুষ সফল হতে পারে, সেটা হোক ব্যবসা, চাকরি বা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে, উপযুক্ত চেষ্টা ও পরিশ্রম করলে মানুষ কি না পারে! অর্থাৎ যারা মূলত নির্বোধ, অলস ও মানসিক ভাবে দুর্বল তারাই এই মিথ্যা আশীর্বাদ চায়!

তাদের দৃষ্টিতে আশীর্বাদ সফল ও পাকাপোক্ত করার জন্য নাকি দরকার হয় দান দেওয়ার। একশ টাকা দান করে সেটা তাকে এক কোটি টাকার বর চাইতে দিবে, এটাইতো চায় অলস ও নির্বোধেরা! নগদ অর্থ ভোজ্য-ব্যবহার্য বস্তু সামগ্রী দান করে চাওয়া হয় আশীর্বাদ। এতে ভবিষ্যতে অবাস্তব আশীর্বাদ বা বর লাভের লোভ দেখিয়ে ধর্মগুরুরা লাভ করে নগদ বাস্তব ভোগ্য বস্তু! নগদ অর্থ থেকে শুরু করে খাদ্য সামগ্রী, পোশাক-আশাক, পাকা বাড়ি, দামী গাড়ি এমনকি হেলিকপ্টার দান করেও বর চায় এই মানসিকভাবে দুর্বল, অলস, নির্বোধেরা! এ যেন আশীর্বাদ, বর এর লোভ দেখিয়ে চলা ভন্ডদের ও তাদের প্যাঁচে জড়ানো নির্বোধদের এক নাট্যমঞ্চ !
আশীর্বাদের ফল হল এটাই, ভন্ডরা পরের টাকায় আরাম আয়েশে থাকবে আর নির্বোধেরা নিজেদের কষ্টের উপার্জন বিনষ্ট করবে তাদের কাছে।

লেখা : https://www.facebook.com/206246423287612/posts/1150961705482741/

11/08/2022

বাচ্চাদের ভূতের ভয় দেখাবেন না।
সম্পূর্ণ আলোচনাটা শোনার অনুরোধ রইল।

11/08/2022

যিনি জ্ঞান চর্চা করতে চান তাকে প্রথমে সবকিছুতে সংশয় প্রকাশ করতে হবে। কোন বিষয়ে বিভিন্ন মতামত শোনার আগে এর পক্ষে ও বিপক্ষে উত্থাপিত যুক্তিগুলো দেখে শুনে বিবেচনা করার আগে ঐ বিতর্কে কোন মত দেবেন না। কানাঘুষায় কি শোনা গেছে অধিকাংশ লোক কি বলছে বা যে বলছে তার বয়স, বিদ্যা বা সামাজিক পতিপত্তি কেমন তার ভিত্তিতে কোন মতামত বিচার বা গ্রহণ করবেন না। যুক্তি দিয়ে যে সত্য যাচাই করা যায়, বাস্তব জগতের সাথে যে চিন্তাধারা মেলে তিনি তার ভিত্তিতে অগ্রসর হবে।
-জিওর্দানো ব্রুনো

Photos from CHT- Bigyan O Yuktibadi Samiti's post 10/08/2022

ষোড়শ শতকে সুইজারল্যান্ডের বেসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ও ভেষজ বিদ্যার অধ্যাপক ডাক্তার ফিলিপ্রাস আউরেওলাস প্যারাসেলসাস বলেছেন, মানুষের অসুস্থতার কারণ কোনও পাপের ফল বা অশুভ শক্তি নয়। মানুষের অসুস্থতা, রোগবালাইয়ের জন্য দায়ী হচ্ছে জীবাণু। জীবাণুর সংক্রমণে দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাইয়ের সৃষ্টি হয়। এই জীবাণুদের নির্মূল করতে পারলেই, অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে!

প্যারাসেলসাসের এরূপ বক্তব্য শুনে, বিভিন্ন ধর্মগুরু,যাজক,ধর্মবাদীরা তাঁর ওপর আক্রোশে ফেটে পড়েন। সে ধর্মের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান করেছে। যুগযুগ ধরে ধর্মের বাহক ও ধর্মগ্রন্থ তাঁদের বলে আসছে, রোগের কারণ পাপ, পাগল উম্মাদ প্যারাসেলসাসের কথায় আমরা এসব বিশ্বাস করিনা। উপরন্তু ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও তথ্য দেওয়ায় তৎকালীন ধর্মান্ধরা বিজ্ঞানী প্যারাসেলসাসকে মৃত্যুদন্ড দেয়।

বিজ্ঞানী প্যারাসেলসাস নিজ দেশ সুইজারল্যান্ড থেকে পালিয়ে, প্রাণে বাঁচে। সেদিন তাঁর সমর্থনে কেউ ছিলোনা বিধায়, সেদিনের বিশ্ববাসী রোগমুক্তির পাথেয় খুঁজে পায়নি!

আপনারা হয়তো ভাবছেন, এটা ষোড়শ শতকের ঘটনা এখন বলে শুনে কী লাভ....! কিন্তু এখনও এমন ধর্মান্ধ ব্যক্তি সমাজে, দেশে দেশে বিদ্যমান। যাঁরা রোগকে পাপের ফল, পূর্বজন্মের কর্মফল, সৃষ্টিকর্তার আজাব গজব বলে আখ্যায়িত করে।

Want your business to be the top-listed Government Service in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Chittagong