30/05/2026
চট্টগ্রাম-১১ আসনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে জামায়াত নেতৃবৃন্দের ঈদ শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাতে চট্টগ্রাম-১১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, সাবেক কাউন্সিলর, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও জননেতা মুহাম্মদ শফিউল আলমের উদ্যোগে তাঁর বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বন্দর থানা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অশোক দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ শফিউল আলম, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আবু তালেব চৌধুরী, ইপিজেড থানা আমীর আবুল মোকাররম, বন্দর থানা শ্রমিক সংঘের সভাপতি মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বন্দর শ্রমিক সংঘের সেক্রেটারী মুহাম্মদ ইয়াছিন, সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রচার সম্পাদক উত্তম শীল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বন্দর থানা সাধারণ সম্পাদক সুজন শীল, ডবলমুরিং থানা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি শিবু প্রসাদ চৌধুরী, বন্দর থানা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিংকন দে সান্টু, বন্দর থানা সাধারণ সম্পাদক রতন দাশ, বন্দর থানা সহ সভাপতি নির্মল দাশ, বন্দর থানা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক দাশ, বন্দর থানা সহ সভাপতি অলোক দে বাবু, সুমন ত্রিপুরা প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী নুরুল আলম পিন্টু, ৪১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফ মোল্লা, ৩৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ শাহেদ, অ্যাডভোকেট খোরশেদ মোহাম্মদ বেলাল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোরশেদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার আহসান উদ্দিন রাজু, জামায়াত নেতা জাহেদ হোসেন, মোহাম্মদ আলীসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সৃষ্টিকর্তা একজন এবং সকল মানুষ তাঁরই সৃষ্টি। ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের ভিন্নতা থাকলেও মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠাই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজের ভিত্তি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মাবলম্বী নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক শক্তি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রতিবেশীর হক আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইসলাম প্রতিবেশীর অধিকার সংরক্ষণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার ও কুরবানী পালনে বাধা প্রদানের বিভিন্ন ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা সর্বজনীন অধিকার। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শফিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশও সম্মিলিত সামাজিক দায়বদ্ধতা, আত্মশক্তি ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেম ও দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে শিষাঢালা ঐক্যের। বর্তমানে ভারতের পশ্চিম বঙ্গে মুসলিমদের উপর কিছু ক্ষমতাসীন উগ্রবাদিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য মডেল হিসেবে পেশ করতে চাই। তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ এখন অপেক্ষা করছে এমন একটি বাংলাদেশের, যেখানে রাষ্ট্র হবে কেবল ক্ষমতার যন্ত্র নয়, ন্যায়বিচারের আশ্রয়স্থল; যেখানে রাজনীতি হবে প্রতিহিংসার নয়, প্রজ্ঞা ও জনকল্যাণের, যেখানে ধর্ম হবে বিভেদের দেয়াল নয়, মানবতার সেতুবন্ধন।
সভায় অন্যান্য বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।