18/05/2026
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ডাক
----------------------------------
'অপারেশন উত্তরণ' বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিন, পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করুন!
প্রিয় সহযোদ্ধাবৃন্দ,
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সংগ্রামী অভিবাদন গ্রহণ করুন। আমাদের সংগঠন প্রতিষ্ঠার এই দিনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে জুম্ম জনগণের জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে আত্মবলিদানকারী বীর শহীদ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদ ছাত্র-জনতাকে। গভীর সমবেদনা ও বীরোচিত সম্মান জানাচ্ছি আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী সহযোদ্ধাদের। জুম্ম জনগণের আন্দোলনে সার্বক্ষণিক পাশে থাকা দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাচ্ছি রক্তিম অভিবাদন। প্রাণতেজোময় অভিবাদন জানাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জনগণের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকা পিসিপির লড়াকু নেতা-কর্মীদের। শহীদের রক্তস্নাত কণ্টকাকীর্ণ বন্ধুর পথ ও বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, শাসকগোষ্ঠী ও তার দোসরদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে এবং আন্দোলনের বহু ঝড়ঝঞ্ঝা মোকাবিলা করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ আপোষহীন সংগ্রামের ৩৭ বছর পার করছে। অধিকার অর্জনের সংগ্রাম করতে গিয়ে দেশে সমসাময়িক আর কোনো সংগঠনকে এত ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। পিসিপির জন্য এই সংগ্রাম অত্যন্ত গৌরবের ও সম্মানের।
প্রিয় ভাই-বোনেরা,
পার্বত্য চট্টগ্রাম হলো সেনা ছাউনিতে ভরা একটি খোলা কারাগার। এখানে চলছে অপারেশন উত্তরণের নামে সেনা দমন-পীড়ন, অভিযান ও রাজনৈতিক হত্যাকা-। নেই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ। অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে বর্তমানে দেশে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। নির্বাচিত হলেই সরকার যে গণতান্ত্রিক হয় না সেটা গত ৪ মাসে বিএনপি অসংখ্য প্রমাণ দেখিয়েছে। একটা সরকার কতটা গণতান্ত্রিক, অর্ন্তভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব সেটা সংখ্যালঘু জাতি, নারী ও নিপীড়িত জনগণের দিকে তাকালে ভালোভাবে বোঝা যায়। রাঙামাটির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের আদেশে চাকমা রাণী ও মানবাধিকার কর্মী ইয়েন ইয়েনের বিরুদ্ধে ‘‘আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ উত্থাপনপূর্বক অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলে চিঠি দিয়েছেন, যা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও সংবিধান পরিপন্থী। এই চিঠি এমন সময় দেয়া হলো যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার রক্ষা সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করে প্রকারান্তরে নিরাপত্তা বাহিনীকে মানবাধিকার লঙ্ঘনে উৎসাহিত করেছেন। অথচ তিনি নিজেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে গুমের মতো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ফ্যাসিস্ট বিদায় হলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা রয়ে গেছে এবং তাঁরা এখন নিজেরাই নব্য ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে এই নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েমে তাদের সাথে জুনিয়র পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সহযোগি ফ্যাসিস্ট সন্তু লারমা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্তু নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির বিএনপিকে নির্লজ্জ সমর্থন সেটাই প্রমাণ করে। এই সমর্থনের বিনিময়ে সন্তু লারমা তার আঞ্চলিক পরিষদের গদি রক্ষা ও ভ্রাতৃ হত্যার লাইসেন্স নবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ রাঙামাটি সদর উপজেলায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ধর্মশিং চাকমাকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএস সন্ত্রাসীরা ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। তার আগে তারা পানছড়িতে ইউপিডিএফ সংগঠক আপন ত্রিপুরাকে খুন করে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমনের নামে সেনাবাহিনী বম জাতিসত্তাকে নির্মূলীকরণের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও তা অব্যাহত রয়েছে। বিনা বিচারে দুই বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে নারী-শিশুসহ ৫৭ জন বম ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নাগরিককে। পাহাড়িদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ, জীবন-জীবিকা, পানি ও খাবারের উৎস নষ্ট করা, বন, পাথরসহ প্রাকৃতিক সম্পদ লুন্ঠন ও ধ্বংস এবং গুলি করে নির্বিচারে হত্যাসহ দমনপীড়নের স্টিমরোলার এখনো চলছে পাহাড় জুড়ে। বিগত অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১৮-২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে এবং ২৭-২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলা ও হত্যাকান্ডের কোনো সরকারি তদন্তের প্রতিবেদন আজও প্রকাশ করা হয়নি। অপরাধীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণও সামিল হয়েছিলেন। পাহাড়ি জনগণ হাসিনার পাতানো নির্বাচন বয়কট করে, যা সে সময় বিএনপির কাছে প্রশংসিত হয়েছিল। অথচ আজ ক্ষমতায় এসে তারা সেসব বেমালুম ভুলে গেছে।
আসলে বিএনপির মতো ধনিক শ্রেণীর গণবিরোধী দলগুলোর চরিত্র হলো এমনই। জনগণকে সবসময় মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তারা অত্যন্ত দক্ষ ও সুচতুর। বিএনপি নেতারা এখন প্রতিদিন ‘রেইনবো নেশনের’ বুলি কপচিয়ে ও ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের’ মন্ত্র জপে সংখ্যালঘু জাতিসত্তার জনগণকে সম্মোহিত করতে চাইছে। অথচ দেশের বিদ্যমান সংবিধানে এখনো বাঙালি বাদে অন্য কোনো জাতির, ভাষার কিংবা তাদের রাজনৈতিক অধিকারের স্বীকৃতি নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি বর্তমানে সংখ্যালঘু দরদী, ধর্মনিরপেক্ষ ও নাগরিক অধিকারের পক্ষে একমাত্র বিকল্প হিসেবে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করলেও প্রকৃত অর্থে তাদের আদর্শ ও নীতির সাথে উগ্র ডানপন্থীদের তেমন তফাত নেই।
প্রতিবাদী ছাত্র সমাজ,
দেশের এক কোণে পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত একটি জনপদ। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর জুম্ম জনগণের প্রতি শাসকগোষ্ঠীর অবিশ্বাস থেকে জন্ম নেয়া দমন-পীড়নের ভ্রান্ত নীতি এখনো বিদ্যমান। আত্মপরিচয়ের বঞ্চনাবোধ, বিশেষ অঞ্চলের স্বীকৃতি রহিত হওয়া ও রাজনৈতিক অধিকারহীনতা হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌলিক সমস্যা। সরকার শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায় বেছে না নিয়ে বাঙালিকরণ ও উগ্র বল প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করে। এরপর ’অপারেশন দাবানল’ ও জিয়া-এরশাদ সরকারের উদ্যোগে ৪ লক্ষ বাঙালিকে পাহাড়িদের জমিতে পুনর্বাসন ও দমন-পীড়ন পাহাড়ের সমস্যাকে আরো জটিল, বহুমুখী ও দীর্ঘায়িত করে তোলে। কিন্তু শত শত সেনা অভিযান, দমন-পীড়ন ও গণহত্যা দিয়ে যে কোনো জাতীয় মুক্তি আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যায় না, পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) তার জ¦লজ্যান্ত উদাহারণ। সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানও সেই সত্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। বর্তমান বিএনপি সরকারও অতীতের সরকারগুলোর মতো সেনাবাহিনীর জেনারেলদের দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন করেছে। দলটি তার নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তির পুর্নমূল্যায়ন এবং ‘উন্নয়নের’ গতানুগতিক মামুলি প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতীতের সরকারগুলোর মতো সমস্যার সমাধানের কথা বলেছে। নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানের সরকারও পূর্বের সরকারগুলোর ভুল নীতি অনুসরণ করছেন। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির সম্ভাবনা তিরোহিত হচ্ছে। তার মনে রাখা উচিত দেশের এক পাশে সেনাশাসনের গবেষণাগার রেখে অন্য অংশে গণতন্ত্র কায়েম করা কখনই সম্ভব নয়। সারা দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে হলে পাহাড় থেকে সেনা শাসন প্রত্যাহার করে বেসামরিক প্রশাসন ও জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কোনো বিকল্প নেই। দমনপীড়ন চালিয়ে জুম্ম জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে ধ্বংস করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।
সংগ্রামী তারুণ্য,
ইদানিং বিএনপি সরকারের মন্ত্রীরা ঘন ঘন পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করছেন। মন্ত্রীদের সফরে জনগণের ‘কল্যাণ’ সাধিত হওয়ার পরিবর্তে বরং তাদের কপাল পুড়ছে। পাহাড়ের সর্বত্র এবং বিশেষ করে ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সেনাদের অপারেশন-তল্লাশি, হয়রানি, অবৈধ গ্রেফতার ও খুনের ঘটনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি অধ্যুষিত খাগড়াছড়ির আলুটিলায় মসজিদ স্থাপনের পাঁয়তারা চলছে। আওয়ামী সরকার ইকো পার্ক ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য আলুটিলায় ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে চেয়েছিল। জনগণের ব্যাপক আন্দোলনের চাপে সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।
বান্দরবানে দরিদ্র ম্রো ও ত্রিপুরা শিশুদের শিক্ষার নামে ব্যাপকভাবে ধর্মান্তরিতকরণ চলছে। এ সম্পর্কে চাক্ষুষ প্রমাণসহ তথ্য বিভিন্ন মিডিয়ায় উঠে এসেছে। বান্দরবানে বিনা চিকিৎসায় হাম আক্রান্ত শিশুরা মারা যাচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থারও বেহাল দশা। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষার বই সরবরাহ করা হলেও চলছে না পাঠদান। কারণ শিক্ষকের ঘাটতি, তাদের প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, অধের্ক শিশু ঝরে পড়ে প্রাইমারিতেই। দুর্গম এলাকাসহ জেলা-উপজেলা সদরে নেই শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল ও আবাসন ব্যবস্থা। ভাঙা বেড়া ও বাঁশের অবকাঠামো দিয়ে চলছে বিদ্যালয়গুলো। জনগণের অর্থ ও উদ্যোগে নির্মিত সাজেক কলেজ চালু করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী ও বন বিভাগ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে গোয়েন্দা নজরদারি। সেনা অপারেশনের সময় স্কুলঘরকে ক্যাম্পে রূপান্তরিত করা হচ্ছে এবং এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের রোজ হাজিরা দিতে হচ্ছে স্থানীয় ক্যাম্প কিংবা ক্যান্টনমেন্টে।
কিন্তু বন বিভাগ সাজেক কলেজ নির্মাণে বাধা দিলেও, বন বিভাগের জায়গার উপর চলছে পর্যটন, নির্মাণ করা হচ্ছে মসজিদ ও সেনা ক্যাম্প। তাদের (বন বিভাগের) চৌকির উপর দিয়ে প্রতিদিন পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার গাছ ও বাঁশসহ বনজ সম্পদ। একচোখা সরকারি মন্ত্রীদের শিক্ষার প্রতি দৃষ্টি নেই। তাদের দৃষ্টি কেবল সাজেক-আলুটিলা-ফুরোমোন আর নীলাচল-মেঘলা পর্যটনে। তাঁরা পাহাড়কে বাংলার দার্জিলিং কিংবা লাস ভেগাসের মতো মুনাফার স্বর্গরাজ্য বানাতে চায়। অথচ পর্যটন শিল্পের মুনাফা থেকে লাভবান হচ্ছে মুষ্ঠিমেয় সেনা কর্মকর্তাসহ একটি গোষ্ঠী। অন্যদিকে উচ্ছেদ, দারিদ্র্য ও প্রান্তিকীকরণের শিকার হচ্ছে ব্যাপক পাহাড়ি জনগণ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তির মূল কারণ হলো সেনাশাসন, যার লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের জুম্ম জনগণের জাতীয় অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেয়া। সে কারণে আমরা দেখি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখানে তাই করছে, যা ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ফিলিস্তিনে করেছে। পাহাড়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে, সেখানে চরম অশান্তি জিইয়ে রেখে, সেনাবাহিনী বিদেশে শান্তি রক্ষার মিশনে যায়। সরকার একদিকে স্বীকার করছে পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, অথচ সেই মানবাধিকারের পক্ষে যারা কথা বলতে চায় তাদের মুখও বন্ধ করে দিচ্ছে। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে সোহাগী জাহান তনু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সেনা সদস্যদেও গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অথচ সারা দেশে আলোচিত কল্পনা চাকমা অপহরণে অভিযুক্ত লে. ফেরদৌস ও তার সহযোগীদের আদালত দায়মুক্তি দিয়েছে। এ এক উৎকট বৈষম্য, এক দেশে দুই নীতি। আশির দশকে সেনা জেনারেলরা ঘোষণা করতেন ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ নয়, মাটি চাই’। সেই নীতি আজও বলবৎ আছে, আজও পাহাড়ে ‘জাতিগত নির্মূলীকরণ’ চলছে। তাই ছাত্র সমাজের নিকট আমাদের আহ্বান- আসুন,
১. জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াইয়ে যুক্ত হই।
২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সেনা-গোয়েন্দা নজরদারি’ বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হই।
৩. শাসকগোষ্ঠীর ‘ভাগ কর, শাসন কর’ নীতির ফাঁদে পা না দিয়ে জনগণের পক্ষে প্রকৃত আন্দোলনকারীদের শক্তি বৃদ্ধি করি।
৪. পিসিপির শিক্ষা সংক্রান্ত পাঁচ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন গড়ে তুলি।
বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান:
১. সমতলের মতো পাহাড় থেকেও সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিন। অঘোষিত সেনাশাসন প্রত্যাহার করে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিন।
২. সেনা মদদপুষ্ট ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসী গ্রুপদের ভেঙে দিন, রাজনৈতিক হত্যাকান্ড বন্ধ করুন। বিনা বিচারে দীর্ঘ দুই বছরের অধিক কারাবন্দী বমদের মুক্তি দিন।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায্য দাবি পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন মেনে নিন। অবিলম্বে ইউপিডিএফ নেতা আনন্দ প্রকাশ চাকমা, প্রদীপ চাকমাসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি দিন।
৪. সকল মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিকারসহ পিসিপি’র শিক্ষা সংক্রান্ত পাঁচ দফা পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করুন।
৫. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংঘটিত খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও গুইমারায় সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট ও হত্যাকান্ডসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল সাম্প্রদায়িক হামলা ও গণহত্যার বিচার করুন। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করুন।
৬. কল্পনা চাকমার অপহরণকারী লে. ফেরদৌস গংদের গ্রেপ্তার ও বিচার করুন।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত/১৩ মে ২০২৬