বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, Political organisation, Chittagong University, Chittagong.

24/05/2026

“পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে শিশু-নারী ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও” শ্লোগানে বান্দরবানে ৫ বছরের ত্রিপুরা শিশুকে ধর্ষণের বিচার এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী জনতার ওপর পুলিশ-বিজিবির নগ্ন হস্তক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম(ডিওয়াইএফ) ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি), চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। ...

>

#বিক্ষোভ #চট্টগ্রাম #পিসিপি #ডিওয়াইএফ

22/05/2026

পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত কর!
-------------------------------------
ঢাকায় ৭ বছরের রামিসা ও পাহাড়ে চিংমা খিয়াং এবং চট্টগ্রাম বাকলিয়ায় ৪ বছরের শিশু'সহ সারাদেশে নারী- শিশু ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে-

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ,

২৩ মে ২০২৬, চট্টগ্রাম।

বিকাল- ৫ ঘটিকায়।

হিল উইমেন্স ফেডারেশন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)
(চবি ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখা)।

20/05/2026
20/05/2026

২০/০৫/২০২৬
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

অবিলম্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংবেদনশীল প্রক্টরের পদত্যাগ চাই

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে ক্যাম্পাস নিরাপদ করতে ব্যর্থ জাবি প্রশাসন

গত ১৩ মে, ২০২৬ বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এক নারী শিক্ষার্থী ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন। অপরাধী শনাক্ত করতে ভিক্টিম প্রক্টরের সহায়তা নিতে গেলে প্রক্টর সেখানে অসংবেদনশীল মন্তব্য করেন। এই ঘটনায় ভিক্টিমসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

আজ ২০ মে, ২০২৬ ইং বুধবার, সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি যৌথ বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ জাবি প্রশাসনের এই বিচারহীনতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এটি সারাদেশে ক্রমবর্ধমান নারী হেনস্থার ও ধর্ষণের বিচারহীনতারই ধারাবাহিকতা। এই ধারাবাহিক বিচারহীনতা দেশের আইন শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার ভঙ্গুরতা ও পক্ষপাতীত্বকেই দেখিয়ে দেয়।"

বক্তারা বলেন, "অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ইন্টেরিম আমলে বাংলাদেশের ভিন্নমতধারার মানুষদের পাশাপাশি নারীদের উপর লৈঙ্গিক দমন পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। সমস্ত ক্ষেত্রেই নারীদের অবমূল্যায়ন ঘটেছে। গ্রাম, শহর, বস্তি, কারখানা, পরিবার, অফিস, স্কুল-কলেজ, শ্রমিক এলাকা সহ দেশের প্রত্যেকটি রাস্তা, ফুটপাথ আজ যেন ছাত্রী, শিক্ষিকা, শিশু, নারী শ্রমিক, কিষানী, কিংবা পেশাজীবী নারীহেনস্থার উল্লাসমঞ্চ! ভোকাল নারীদের বহিষ্কার এবং অফলাইন ও অনলাইন হেনস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরদের জড়িত থাকতে দেখা গেছে ইন্টেরিম সরকারের আমলে। এমনকি বাল্যবিবাহকে জনপরিসরে বৈধতা দেওয়া নির্দিষ্ট মতধারার মানুষদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বিএনপি সরকারের আমলেও। এ সবকিছুই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলের ধারাবাহিকতারই আরও নিকৃষ্টতম রূপ। বিগত জাতীয় নির্বাচনেও আমরা দেখলাম, নারীর প্রতি মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী নারীবিদ্বেষী ব্যক্তিরা সংসদে আসন পেতে বসেছে। আমরা দেখছি, এই সমস্তকিছুর ধারাবাহিকতাই মূলত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণচেষ্টা। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বরাবরই সন্ত্রাসীদের আশ্রয়কেন্দ্র হয়েছে। এবারও প্রশাসনের বিলম্ব সেদিকটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।"

বক্তারা আরও বলেন, "জাহাঙ্গীরনগরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহের প্রতি গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। অবিলম্বে অসংবেদনশীল ও নিরাপত্তাদানে ব্যর্থ প্রক্টরের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচারের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। ধর্ষণচেষ্টার আসামীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।"

সবশেষে বক্তারা বলেন, "বিদ্যমান বুর্জোয়া সমাজবাস্তবতায় ন্যায়বিচারের একটি অর্থমূল্য আছে। ন্যায়বিচারও সম্পদশালীদের ইশারায় তার গতিমুখ বদলায়। ফলে গত ৫৪ বছর ধরে এদেশে ধনিরা ছাড়া কেউই কোনকিছুর বিচার পায়নি। ফলে বিচারব্যবস্থাকে ধনীদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার লড়াইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।"

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন:

১. মোহাম্মদ আকিব - আহ্বায়ক, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, চবি
২. জশদ জাকির - সভাপতি, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, চবি
৩. ভুবন চাকমা - সভাপতি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চবি
৪. চন্দনা রানী - সংগঠক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, চবি
৫. মাহিদুল ইসলাম ইবাদ - সংগঠক, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন, চবি

বার্তাপ্রেরক,
রিশাদ আমীন বর্ণ
সদস্য, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা

20/05/2026

সরকারপন্থীদের খপ্পর থেকে পিসিপি’র হৃত গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এক হও!
---------------------------------
পিসিপি'র ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনলাইন আলোচনা সভা

২০ মে ২০২৬, বুধবার, আজ সন্ধ্যা ৭টা

সঞ্চালক: সোহেল চাকমা, সাধারণ সম্পাদক, পিসিপি।

আলোচনা সভায় অতিথি:

১. অংগ্য মার্মা, পিসিপি'র সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বর্তমানে ইউপিডিএফ মুখপাত্র।

২. দিলীপ রায়, সমন্বয়ক, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ও সভাপতি, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।

৩. নীতি চাকমা, সভাপতি, হিল উইমেন্স ফেডারেশন।

৪. সমর চাকমা, সভাপতি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।

~ চোখ রাখুন আমাদের পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ-Hill Students' Council ফেসবুক পেইজ এ।

#অনলাইনআলোচনাসভা
#২০মে২৬সন্ধ্যা৭টায়
#৩৭তমপ্রতিষ্ঠাবার্ষিকী২৬
#পাহাড়িছাত্রপরিষদ
#৩৭তমপ্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
*P
#পার্বত্যচট্টগ্রাম
#পূর্ণস্বায়ত্তশাসন

Photos from বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়'s post 18/05/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১৮মে ২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিসিপি'র আপোষহীন সংগ্রামের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ছাত্রসমাজকে একাত্ম হতে হবে- সোহেল চাকমা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত পিসিপি'র ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি ছাত্রসমাজকে এ আহ্বান জানান। এ সময় সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ধ্রুব বড়ুয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।

‎আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে বিকাল ৫ ঘটিকায় পিসিপি'র আপোষহীন সংগ্রামের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎আলোচনা সভায় পিসিপি চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা'র সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা। এতে সভাপতিত্ব করেন পিসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি অংহ্লাচিং মারমা।

‎আলোচনা সভায় শুরুতে নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

ছাত্রনেতা সোহেল চাকমা বলেন, ১৯৮০ সালে এরশাদ শাসমনামলে দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে সেসময় শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামতে পারতো না। তবুও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালিত করত। সেসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পার্বত্য জনমানুষের ওপর শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের চিত্র হিল লিটারেচার ফোরাম, রাডার ম্যাগাজিনের মাধ্যমে বিভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরত। এসব তেতো সত্য ও অত্যাচারের ঘটনা তুলে ধরার জন্য নিষিদ্ধ হয় রাডার ম্যাগাজিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসীগণ মোঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ, পাকিস্তানের সময়কালেও সংগ্রাম করেছিল। বর্তমান বাংলাদেশ সেনা-শাসকগোষ্ঠীর শত নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করছে। এ অঞ্চলের মানুষ সবসময় নিগৃহীত হয়েছে, অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে কিন্তু কখনো শাসকগোষ্ঠীর কাছে মাথানত করেনি। আমাদের দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। বর্তমান সময়ে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে তেজোদীপ্ত ছাত্রনেতা বিপুল, সুনিল,লিটন, রমেলদের জীবন দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভীষিকাময় লংগদু হত্যাকান্ডের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বুয়েটে ২০০২ নং কক্ষে জন্ম নেয়া পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ আপোষহীনভাবে সংগ্রামের ৩৭বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৭ বছরে শাসকগোষ্ঠী পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সংগ্রামকে ভেস্তে দিতে যা কিছু প্রয়োজন সবই করেছে। কিন্তু পাহাড়ি ছাত্র পরিষদকে দমিয়ে রাখা যায় নি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে জাতি রক্ত দিতে পারে, সে জাতি ইতিহাস রচনা করতে পারে। রক্ত দেওয়ার ইতিহাস পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রয়েছে।

গৌরবময় সংগ্রামে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নাম ভাঙিয়ে যারা শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করছে, বিভিন্নভাবে শাসক-সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধেও ছাত্রদের সংগ্রাম জারী রাখতে হবে। ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে দুর্বল করতে পিসিপি'র নাম ভাঙানো প্রতিক্রিয়াশীল গ্রুপগুলোর শিক্ষার্থীদের বিরাজনীতিকরণের শাসকগোষ্ঠীর কৌশল বাস্তবায়ন হতে দেয়া যাবেনা। তিনি ছাত্র সমাজকে আপোষকামীতা, সুবিধাবাদীতা পরিহার করে অস্তিত্ব রক্ষায় একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অংহ্লাচিং মারমা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতির পটপরিবর্তন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের দমন-পীড়নের চিত্র বদল হয়নি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেও পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক প্রতিনিয়ত দমন, পীড়ন ও নির্যাতন আরো তীব্র হয়েছে। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আছে এবং আগামী দিনেও ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করবে।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ছাত্রসমাজকে আহ্বান করে তিনি আরো বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমান ছাত্রসমাজকে লড়াই সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে। লড়াই সংগ্রাম ছাড়া কোন জাতি অধিকার আদায় করতে পারে না।

বার্তা প্রেরক
ক্যাসিংহ্লা মারমা
দপ্তর সম্পাদক
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চবি শাখা।

Photos from বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়'s post 18/05/2026

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ডাক
----------------------------------
'অপারেশন উত্তরণ' বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিন, পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করুন!

প্রিয় সহযোদ্ধাবৃন্দ,
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সংগ্রামী অভিবাদন গ্রহণ করুন। আমাদের সংগঠন প্রতিষ্ঠার এই দিনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে জুম্ম জনগণের জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে আত্মবলিদানকারী বীর শহীদ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদ ছাত্র-জনতাকে। গভীর সমবেদনা ও বীরোচিত সম্মান জানাচ্ছি আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী সহযোদ্ধাদের। জুম্ম জনগণের আন্দোলনে সার্বক্ষণিক পাশে থাকা দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাচ্ছি রক্তিম অভিবাদন। প্রাণতেজোময় অভিবাদন জানাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জনগণের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকা পিসিপির লড়াকু নেতা-কর্মীদের। শহীদের রক্তস্নাত কণ্টকাকীর্ণ বন্ধুর পথ ও বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, শাসকগোষ্ঠী ও তার দোসরদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে এবং আন্দোলনের বহু ঝড়ঝঞ্ঝা মোকাবিলা করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ আপোষহীন সংগ্রামের ৩৭ বছর পার করছে। অধিকার অর্জনের সংগ্রাম করতে গিয়ে দেশে সমসাময়িক আর কোনো সংগঠনকে এত ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। পিসিপির জন্য এই সংগ্রাম অত্যন্ত গৌরবের ও সম্মানের।

প্রিয় ভাই-বোনেরা,
পার্বত্য চট্টগ্রাম হলো সেনা ছাউনিতে ভরা একটি খোলা কারাগার। এখানে চলছে অপারেশন উত্তরণের নামে সেনা দমন-পীড়ন, অভিযান ও রাজনৈতিক হত্যাকা-। নেই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ। অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে বর্তমানে দেশে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। নির্বাচিত হলেই সরকার যে গণতান্ত্রিক হয় না সেটা গত ৪ মাসে বিএনপি অসংখ্য প্রমাণ দেখিয়েছে। একটা সরকার কতটা গণতান্ত্রিক, অর্ন্তভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব সেটা সংখ্যালঘু জাতি, নারী ও নিপীড়িত জনগণের দিকে তাকালে ভালোভাবে বোঝা যায়। রাঙামাটির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের আদেশে চাকমা রাণী ও মানবাধিকার কর্মী ইয়েন ইয়েনের বিরুদ্ধে ‘‘আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ উত্থাপনপূর্বক অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলে চিঠি দিয়েছেন, যা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও সংবিধান পরিপন্থী। এই চিঠি এমন সময় দেয়া হলো যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার রক্ষা সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করে প্রকারান্তরে নিরাপত্তা বাহিনীকে মানবাধিকার লঙ্ঘনে উৎসাহিত করেছেন। অথচ তিনি নিজেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে গুমের মতো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ফ্যাসিস্ট বিদায় হলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা রয়ে গেছে এবং তাঁরা এখন নিজেরাই নব্য ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে এই নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েমে তাদের সাথে জুনিয়র পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সহযোগি ফ্যাসিস্ট সন্তু লারমা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্তু নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির বিএনপিকে নির্লজ্জ সমর্থন সেটাই প্রমাণ করে। এই সমর্থনের বিনিময়ে সন্তু লারমা তার আঞ্চলিক পরিষদের গদি রক্ষা ও ভ্রাতৃ হত্যার লাইসেন্স নবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ রাঙামাটি সদর উপজেলায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ধর্মশিং চাকমাকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএস সন্ত্রাসীরা ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। তার আগে তারা পানছড়িতে ইউপিডিএফ সংগঠক আপন ত্রিপুরাকে খুন করে।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমনের নামে সেনাবাহিনী বম জাতিসত্তাকে নির্মূলীকরণের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও তা অব্যাহত রয়েছে। বিনা বিচারে দুই বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে নারী-শিশুসহ ৫৭ জন বম ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নাগরিককে। পাহাড়িদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ, জীবন-জীবিকা, পানি ও খাবারের উৎস নষ্ট করা, বন, পাথরসহ প্রাকৃতিক সম্পদ লুন্ঠন ও ধ্বংস এবং গুলি করে নির্বিচারে হত্যাসহ দমনপীড়নের স্টিমরোলার এখনো চলছে পাহাড় জুড়ে। বিগত অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১৮-২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে এবং ২৭-২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলা ও হত্যাকান্ডের কোনো সরকারি তদন্তের প্রতিবেদন আজও প্রকাশ করা হয়নি। অপরাধীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণও সামিল হয়েছিলেন। পাহাড়ি জনগণ হাসিনার পাতানো নির্বাচন বয়কট করে, যা সে সময় বিএনপির কাছে প্রশংসিত হয়েছিল। অথচ আজ ক্ষমতায় এসে তারা সেসব বেমালুম ভুলে গেছে।

আসলে বিএনপির মতো ধনিক শ্রেণীর গণবিরোধী দলগুলোর চরিত্র হলো এমনই। জনগণকে সবসময় মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তারা অত্যন্ত দক্ষ ও সুচতুর। বিএনপি নেতারা এখন প্রতিদিন ‘রেইনবো নেশনের’ বুলি কপচিয়ে ও ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের’ মন্ত্র জপে সংখ্যালঘু জাতিসত্তার জনগণকে সম্মোহিত করতে চাইছে। অথচ দেশের বিদ্যমান সংবিধানে এখনো বাঙালি বাদে অন্য কোনো জাতির, ভাষার কিংবা তাদের রাজনৈতিক অধিকারের স্বীকৃতি নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি বর্তমানে সংখ্যালঘু দরদী, ধর্মনিরপেক্ষ ও নাগরিক অধিকারের পক্ষে একমাত্র বিকল্প হিসেবে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করলেও প্রকৃত অর্থে তাদের আদর্শ ও নীতির সাথে উগ্র ডানপন্থীদের তেমন তফাত নেই।

প্রতিবাদী ছাত্র সমাজ,
দেশের এক কোণে পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত একটি জনপদ। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর জুম্ম জনগণের প্রতি শাসকগোষ্ঠীর অবিশ্বাস থেকে জন্ম নেয়া দমন-পীড়নের ভ্রান্ত নীতি এখনো বিদ্যমান। আত্মপরিচয়ের বঞ্চনাবোধ, বিশেষ অঞ্চলের স্বীকৃতি রহিত হওয়া ও রাজনৈতিক অধিকারহীনতা হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌলিক সমস্যা। সরকার শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায় বেছে না নিয়ে বাঙালিকরণ ও উগ্র বল প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করে। এরপর ’অপারেশন দাবানল’ ও জিয়া-এরশাদ সরকারের উদ্যোগে ৪ লক্ষ বাঙালিকে পাহাড়িদের জমিতে পুনর্বাসন ও দমন-পীড়ন পাহাড়ের সমস্যাকে আরো জটিল, বহুমুখী ও দীর্ঘায়িত করে তোলে। কিন্তু শত শত সেনা অভিযান, দমন-পীড়ন ও গণহত্যা দিয়ে যে কোনো জাতীয় মুক্তি আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যায় না, পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) তার জ¦লজ্যান্ত উদাহারণ। সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানও সেই সত্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। বর্তমান বিএনপি সরকারও অতীতের সরকারগুলোর মতো সেনাবাহিনীর জেনারেলদের দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন করেছে। দলটি তার নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তির পুর্নমূল্যায়ন এবং ‘উন্নয়নের’ গতানুগতিক মামুলি প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতীতের সরকারগুলোর মতো সমস্যার সমাধানের কথা বলেছে। নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানের সরকারও পূর্বের সরকারগুলোর ভুল নীতি অনুসরণ করছেন। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির সম্ভাবনা তিরোহিত হচ্ছে। তার মনে রাখা উচিত দেশের এক পাশে সেনাশাসনের গবেষণাগার রেখে অন্য অংশে গণতন্ত্র কায়েম করা কখনই সম্ভব নয়। সারা দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে হলে পাহাড় থেকে সেনা শাসন প্রত্যাহার করে বেসামরিক প্রশাসন ও জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কোনো বিকল্প নেই। দমনপীড়ন চালিয়ে জুম্ম জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে ধ্বংস করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।

সংগ্রামী তারুণ্য,
ইদানিং বিএনপি সরকারের মন্ত্রীরা ঘন ঘন পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করছেন। মন্ত্রীদের সফরে জনগণের ‘কল্যাণ’ সাধিত হওয়ার পরিবর্তে বরং তাদের কপাল পুড়ছে। পাহাড়ের সর্বত্র এবং বিশেষ করে ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সেনাদের অপারেশন-তল্লাশি, হয়রানি, অবৈধ গ্রেফতার ও খুনের ঘটনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি অধ্যুষিত খাগড়াছড়ির আলুটিলায় মসজিদ স্থাপনের পাঁয়তারা চলছে। আওয়ামী সরকার ইকো পার্ক ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য আলুটিলায় ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে চেয়েছিল। জনগণের ব্যাপক আন্দোলনের চাপে সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

বান্দরবানে দরিদ্র ম্রো ও ত্রিপুরা শিশুদের শিক্ষার নামে ব্যাপকভাবে ধর্মান্তরিতকরণ চলছে। এ সম্পর্কে চাক্ষুষ প্রমাণসহ তথ্য বিভিন্ন মিডিয়ায় উঠে এসেছে। বান্দরবানে বিনা চিকিৎসায় হাম আক্রান্ত শিশুরা মারা যাচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থারও বেহাল দশা। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষার বই সরবরাহ করা হলেও চলছে না পাঠদান। কারণ শিক্ষকের ঘাটতি, তাদের প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, অধের্ক শিশু ঝরে পড়ে প্রাইমারিতেই। দুর্গম এলাকাসহ জেলা-উপজেলা সদরে নেই শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল ও আবাসন ব্যবস্থা। ভাঙা বেড়া ও বাঁশের অবকাঠামো দিয়ে চলছে বিদ্যালয়গুলো। জনগণের অর্থ ও উদ্যোগে নির্মিত সাজেক কলেজ চালু করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী ও বন বিভাগ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে গোয়েন্দা নজরদারি। সেনা অপারেশনের সময় স্কুলঘরকে ক্যাম্পে রূপান্তরিত করা হচ্ছে এবং এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের রোজ হাজিরা দিতে হচ্ছে স্থানীয় ক্যাম্প কিংবা ক্যান্টনমেন্টে।

কিন্তু বন বিভাগ সাজেক কলেজ নির্মাণে বাধা দিলেও, বন বিভাগের জায়গার উপর চলছে পর্যটন, নির্মাণ করা হচ্ছে মসজিদ ও সেনা ক্যাম্প। তাদের (বন বিভাগের) চৌকির উপর দিয়ে প্রতিদিন পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার গাছ ও বাঁশসহ বনজ সম্পদ। একচোখা সরকারি মন্ত্রীদের শিক্ষার প্রতি দৃষ্টি নেই। তাদের দৃষ্টি কেবল সাজেক-আলুটিলা-ফুরোমোন আর নীলাচল-মেঘলা পর্যটনে। তাঁরা পাহাড়কে বাংলার দার্জিলিং কিংবা লাস ভেগাসের মতো মুনাফার স্বর্গরাজ্য বানাতে চায়। অথচ পর্যটন শিল্পের মুনাফা থেকে লাভবান হচ্ছে মুষ্ঠিমেয় সেনা কর্মকর্তাসহ একটি গোষ্ঠী। অন্যদিকে উচ্ছেদ, দারিদ্র্য ও প্রান্তিকীকরণের শিকার হচ্ছে ব্যাপক পাহাড়ি জনগণ।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তির মূল কারণ হলো সেনাশাসন, যার লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের জুম্ম জনগণের জাতীয় অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেয়া। সে কারণে আমরা দেখি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখানে তাই করছে, যা ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ফিলিস্তিনে করেছে। পাহাড়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে, সেখানে চরম অশান্তি জিইয়ে রেখে, সেনাবাহিনী বিদেশে শান্তি রক্ষার মিশনে যায়। সরকার একদিকে স্বীকার করছে পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, অথচ সেই মানবাধিকারের পক্ষে যারা কথা বলতে চায় তাদের মুখও বন্ধ করে দিচ্ছে। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে সোহাগী জাহান তনু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সেনা সদস্যদেও গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অথচ সারা দেশে আলোচিত কল্পনা চাকমা অপহরণে অভিযুক্ত লে. ফেরদৌস ও তার সহযোগীদের আদালত দায়মুক্তি দিয়েছে। এ এক উৎকট বৈষম্য, এক দেশে দুই নীতি। আশির দশকে সেনা জেনারেলরা ঘোষণা করতেন ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ নয়, মাটি চাই’। সেই নীতি আজও বলবৎ আছে, আজও পাহাড়ে ‘জাতিগত নির্মূলীকরণ’ চলছে। তাই ছাত্র সমাজের নিকট আমাদের আহ্বান- আসুন,

১. জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াইয়ে যুক্ত হই।
২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সেনা-গোয়েন্দা নজরদারি’ বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হই।
৩. শাসকগোষ্ঠীর ‘ভাগ কর, শাসন কর’ নীতির ফাঁদে পা না দিয়ে জনগণের পক্ষে প্রকৃত আন্দোলনকারীদের শক্তি বৃদ্ধি করি।
৪. পিসিপির শিক্ষা সংক্রান্ত পাঁচ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন গড়ে তুলি।

বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান:
১. সমতলের মতো পাহাড় থেকেও সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিন। অঘোষিত সেনাশাসন প্রত্যাহার করে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিন।
২. সেনা মদদপুষ্ট ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসী গ্রুপদের ভেঙে দিন, রাজনৈতিক হত্যাকান্ড বন্ধ করুন। বিনা বিচারে দীর্ঘ দুই বছরের অধিক কারাবন্দী বমদের মুক্তি দিন।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায্য দাবি পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন মেনে নিন। অবিলম্বে ইউপিডিএফ নেতা আনন্দ প্রকাশ চাকমা, প্রদীপ চাকমাসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি দিন।
৪. সকল মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিকারসহ পিসিপি’র শিক্ষা সংক্রান্ত পাঁচ দফা পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করুন।
৫. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংঘটিত খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও গুইমারায় সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট ও হত্যাকান্ডসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল সাম্প্রদায়িক হামলা ও গণহত্যার বিচার করুন। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করুন।
৬. কল্পনা চাকমার অপহরণকারী লে. ফেরদৌস গংদের গ্রেপ্তার ও বিচার করুন।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত/১৩ মে ২০২৬

17/05/2026

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের আপোষহীন সংগ্রামের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকেল ৫:০০ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধু প্রতিম সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক এবং শিক্ষার্থী বন্ধুদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।

স্থান: বুদ্ধিজীবী চত্ত্বর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আয়োজনে: পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর শাখা।

Photos from বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়'s post 14/05/2026

আগামী ২০শে মে ২৬, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিসিপি'র দেয়াল লিখন।

১৪মে ২০২৬।

13/05/2026

আপোষহীন লড়াই-সংগ্রামের ৩৭ বছর!
------------------------------------------------

আগামী ২০শে মে ২০২৬, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ভূবন চাকমা।

১৩ মে ২৬।

Want your business to be the top-listed Government Service in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Chittagong University
Chittagong
4330