Nazim Uddin Khan

Nazim Uddin Khan

Share

সমাজের প্রতিটি কল্যাণকর কাজে নিজেকে ?

26/03/2024
21/03/2023

আমাদের সাকিব সোনার কত কৃর্তি!
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ‘সোনার ছেলে’! ‘সোনা’ বিষয়ক যেকোনও কিছুর সঙ্গে তিনি জড়াতেই পারেন। বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট অলরাউন্ডারকে নিয়ে এটা মোটেও আদিখ্যেতা নয়। তবে সোনা নিয়ে এ দেশের মানুষের আদিখ্যেতা আছে। এই আদিখ্যেতা বা সোনার ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। এমনকি সোনা বিদ্রোহ বিপ্লব বা দেশের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। যেমন, আইয়ুব ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রতিবাদ বা যুদ্ধের সময়ে জনপ্রিয় একটা দেয়াল লিখন ছিল এমন– ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন আইয়ুব খান জবাব চাই’ কিংবা ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন ইয়াহিয়া খান জবাব চাই’ । আমাদের জাতীয় সংগীতে আছে– ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’।

21/03/2023

ভালো আর মন্দ:
পৃথিবী অনেক বড়। ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীতে অগণিত, অসংখ্য লোক আর গণিত, স্বল্পসংখ্যক মানুষ। দিনদিন প্রতিদিন লোকসংখ্যা বাড়ছে, কমছে মান্‌ হুঁশ বা মানুষ। নিবেদিতপ্রাণ, পরার্থপর কিছু মানুষ আছেন যাঁরা আমাদের সমাজের সম্পদ। বিপরীতে, সুবিধাবাদী,স্বার্থপর তথাকথিত মানুষের মুখোশ মানুষ– প্রাণীগুলো সকলের বোঝা। শুধুমাত্র জগতে স্বার্থের কারণে চেনা মানুষগুলো অচেনা রূপ ধারণ করে। নীতি ও মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে হয়ে যায় আপনসত্ত্বাহীন। একদিন সব নিঃশেষ হয়ে হবে বন্ধ। থেকে যাবে দুটি শব্দ ভালো আর মন্দ।
ভালো এবং মন্দ হল দুটি বিশদ প্রতিফলন যা আমাদের মানবিক জীবনে সমস্তকিছুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভালো হল যেকোন কাজ বা ক্ষেত্র যা আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রকাশ করে, এটি আমাদের জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি উপহার দিয়ে থাকে। ভালোটি আমাদের একটি সমস্তকিছুর জন্য উপকারপূর্ণ হয়, যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং আরও অনেক কিছু।
অন্যদিকে, মন্দ হলো যেকোন কাজ বা ক্ষেত্র যা সৃষ্টিকর্তা তথা আল্লাহর প্রতি অসম্মান এবং অবজ্ঞার প্রকাশ করে। এটি আমাদের জীবনে দুঃখ এবং বিপদ ডেকে আনে। মন্দ আমাদের সমস্তকিছুর জন্য ক্ষতিকর, যেমন অসুখ, অসম্পদ, অবিশ্বাস, বিদ্বেষ এবং আরও অনেক কিছু।
সুতরাং, ভালো এবং মন্দ হল মানব জীবনের দুটি প্রতিফলন।

21/03/2023

আমি যদি বলি, দুনিয়ায় খারাপ কিছু নেই; অনেকেই ভিন্নমত দেবেন। অনেকেই বলবেন, আমি অতিরিক্ত পজিটিভ। প্রশ্ন হল, খারাপ কিভাবে ভালোয় রূপান্তরিত হয়? আমি একটি খারাপ কাজ করছি, কিন্তু কেউ বাধা দিল না; কাজ শেষ করে ভাবব, আমি ভালো কাজ করেছি- এই চালচলন আমরা ছোটবেলা থেকে শিখি।

যদি নীতি চিন্তা করি, তাহলে পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা খারাপ। যদিও নীতিকথা অনেক মানুষের জন্য নাজায়েজ, তাদের নৈতিকতা বলতে কিছু নেই- শুধু আখের গোছানোর চিন্তা। একদিন এক লোক বাচ্চা কোলে নিয়ে সিগারেট টানছে। আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, এটি আপনি ও আপনার বাচ্চার জন্য খারাপ। সে জবাব দিল- সে তার বিষয় খুবই ভালো বোঝে। সে একবারও খারাপ কথাটি উচ্চারণ করল না। অন্য একজন দেশপ্রেমিকের সঙ্গে কথা বললাম। সে বলল- এটি দেশের ভালোর জন্য। সিগারেট থেকে প্রচুর রাজস্ব আসে।
যদি প্রশ্ন করি বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, মাদক গ্রহণ, ভেজাল পণ্য বিক্রি, ঘুষ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস- এগুলো খারাপ নাকি ভালো? জানি, আপনি বলবেন খারাপ। কিন্তু বাস্তবতা কী বলে?
বাল্যবিবাহ নিয়ে একজন বাবার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তিনি বললেন, ভালো পাত্র পাইছি, তাই বিয়া দিয়া দিছি। বউকে মারধর করেন এমন একজনকে জিজ্ঞেস করলাম-
: কেন বউ পিটান!
সে বলল- সংসার ভালোভাবে চালাইতে হইলে পিটাইতে হয়।
মাদক গ্রহণকারীর কাছে প্রশ্ন রাখলাম।
সে উত্তর দিল-: কষ্ট ভুলে ভালো থাকার জন্য মাদক নিচ্ছি।
ভেজাল বিক্রেতার কাছে প্রশ্ন রাখলাম।
সে বলল-: ভাই, ব্যবসায় উন্নতি করতে হলে ভেজাল দিতে হয়।
সিগারেট খোরকে জিজ্ঞেস করলাম-
সিগারেট খাইলে মাথার ব্রেন খোলে?
তিনি উত্তর দিলেন-যত জ্ঞানী,গুণী শিক্ষক রয়েছেন সবাই সিগারেট খেয়ে থাকেন। সিগারেট খেলে ব্রেন খুলে, টেনশন দূর হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী ও ঘুষ গ্রহণকারী- এই দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। আমার মনে হয়, তারাও বলবে ‘ ভালো রেজাল্ট’ আর ‘ভালোভাবে জীবন কাটানোর’ জন্য।
দেখা যাচ্ছে, এরাও অতিরিক্ত মাত্রায় পজিটিভ। কেউই খারাপ কথাটি জানে না। অনেকেই বলেন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শব্দ দুটি মানুষের মন থেকে মুছে যাচ্ছে। আমি বলি, আছে; তবে এর ব্যবহার পাল্টেছে। খারাপকে ভালো মনে করা যদি বন্ধ করা না যায়, তাহলে এটি একদিন রীতিনীতিতে পরিণত হবে।

21/03/2023

I have reached 300 followers! Thank you for your continued support. I could not have done it without each of you. 🙏🤗🎉

13/01/2023

আমি দিনে ১৮ ঘন্টা কাজ করে দেখেছি। দিনে ১২ঘন্টা ঘুমিয়েও দেখেছি। পরীক্ষায় ফেল করে দেখেছি। ক্লাসে প্রথম হয়েও দেখেছি। আমি রোমাঞ্চকর প্রেম দেখেছি। শিকড়ের টান দেখেছি। তিক্ত বিচ্ছেদ ও দেখেছি। আমি খালি পকেটে পুরো শহর ঘুরেছি। আবার সেই শহরে হাজার টাকার নোট উড়িয়েছি। আমি সবকিছুর বিনিময়ে নিজেকে খুজেছি, খুজে পায়নি কোথাও, কোথাও আমার অস্তিত্ব নেই। আমি ভিখারির ন্যায় পথে পথে ঘুরেছি তবে কিসের সন্ধানে জানা নেই। বুঝলাম মহান রবের দিকে ফিরে আসা ছাড়া কোন উপায়েই ভালো থাকা সম্ভব নয়। আলহামদুলিল্লাহ।

সংগৃহিত

14/07/2022

মায়া ছড়ানোতে যে শান্তি সে শান্তিই তো বেহেস্তের নিদর্শন।
মায়া শব্দে ‘মা’ মায়ের মায়া-মমতায় মাকে নিয়ে বিক্ষিপ্ত কিছু ভাবনা
‘মা’ একটি ছোট্ট শব্দ। এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব মায়া, মমতা, অকৃত্রিম স্নেহ, আদর, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সব সুখের কথা। চাওয়া-পাওয়ার এই পৃথিবীতে বাবা-মায়ের ভালোবাসার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। মায়ের তুলনা মা নিজেই। মায়ের মতো এমন মধুর শব্দ অভিধানে দ্বিতীয়টি আর নেই। নদীর তলদেশে তো যাওয়া যায় কিন্তু মায়ের ভালোবাসার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না। ‘মা’ যেন সীমার মাঝে অসীম।

মায়ের স্পর্শেই সন্তান ধীরে ধীরে পূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে। পৃথিবীর সব ধর্মেই মায়ের মর্যাদাকে উচ্চাসীন করেছে। ৩৬৫ দিনের প্রতিটি সেকেন্ডেই মনে করতে চাই ‘মা’ শব্দটিকে। মা, আম্মা, আম্মি, মাম্মি সন্তানেরা যে যেভাবে ডাকুক; এই শান্তির ডাক শতকিছুর বিনিময়েও অন্য কোনো শব্দের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। বিভিন্ন ভাষাভাষীর সন্তানের কাছে ‘মা’ ডাক শব্দটি কতই না আপন। প্রথম দিন থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসার কোনো পরিবর্তন হয় না। মা তাই আমাদের কাছে অতুলনীয়, তিনি অনন্য। কিন্তু সেই অতুলনীয় মানুষটিকে অনেক সময় তাঁদের সন্তানেরা উপযুক্ত প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়। তখনো মা আগের মতোই তাঁর সন্তানের জন্য মঙ্গল কামনা করেন।

দিবস দিয়ে মায়া ছড়ানো বোকামী ছাড়া কিছুই নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সম্প্রসারণের ফলে আজকাল মানুষের মাঝে যে কত দিবসের জন্ম হয়েছে, তার হিসাব নেই। বাবা দিবস, মা দিবস, ভালোবাসা দিবস, বন্ধু দিবস ইত্যাদি। নাম না জানা আরও কত যে দিবস আছে! বাবা দিবসে বাবার ছবি দিয়ে অনলাইনে পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়—‘বাবা, আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।’ অথচ সেই বাবাই হয়তো জানেন না যে তাঁর সন্তান তাঁকে কতটুকু ভালোবাসে! কারণ ওই বাবার তো অনলাইন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। মা দিবসে লেখা হয়—‘মা, তুমি আমার জীবন।’ অথচ মা দিবসে সেই বয়স্ক মা জীবনের তোয়াক্কা না করে কষ্ট করে হলেও রান্নাঘরে উনুনের সামনে রান্না করেন। কারণ তিনি রান্না না করলে বাড়ির সবাইকে উপোস থাকতে হবে। আমার জীবনে ৩৪টি বছর চলে গেছে। এই ৩৪ বছরে ৩৪ বার মা দিবস, বাবা দিবস চলে গেছে।

‘মা’ তোমার কথা মনে হলেই মনে পড়ে তোমার কষ্টের কথা। ছোট থেকে বড় হয়েছি, যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, দেখেছি কোনো না কোনো ঝামেলা জড়িয়ে আছো তুমি, মধ্যবিত্ত পরিবারের অভাব অনটনের সংসার। এ সংসার চালানোর মতো শক্ত কোনো কুঠি ছিলো না। এসব চিরন্তন সব ঝামেলা। ছোট বেলাতে তোমার এসব ঝামেলাগুলো মনে তেমন প্রভাব ফেলত না, অবুঝের মতো এটা সেটা আবদার করে ফেলতাম। অনেক ছোট ছিলাম মা, অনেক অবুঝ ছিলাম। তাই বিনা কারণেই অনেকভাবে কষ্ট দিয়েছি তোমাকে। পড়াশোনা করতাম না, স্কুলে যেতে চাইতাম না, সাইকেল নিয়ে সারা দিন রোদে রোদে ঘুরতাম। আরও অনেক কিছু করেছি, যেগুলো বলে শেষ করা যাবে না। জানি না সবকিছু তোমার মনে আছে, না ভুলে গেছ অনেক কিছু। তুমি বলতে- গরীবের ছেলে কষ্ট করে যতো সুযোগ পাও লেখা পড়া করো। একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। সত্যি সত্যি এখন সব ঠিক হয়ে গেছে ‘মা’ তবে তোমাকে পাওয়া হয় খুবই কম। দুনিয়াবী কর্মব্যস্ততার কারণে তোমার ছায়া থেকে বঞ্চিত থাকি। যখন খুব অভাব-অনটন ছিলো তখন তোমাকে খুব কাছে পেয়েছি। অভাব গুছে যাওয়ার পর থেকে তোমাকে পাওয়া হয় না। কেন? আমার কিন্তু সবই মনে আছে মা। কিছুই ভুলিনি আমি।


‘মা’ বড় হওয়ার পরে একটা সময় আমি বুঝতাম আমার ভুলগুলোর কথা। সব ব্যাপারে রেগে যেতাম তোমার সঙ্গে। পরে খুব কষ্ট হতো। এখন খুব কষ্ট হচ্ছে। তোমাকে ছাড়া এখন সকল সময় অর্থহীন লাগে মা। সবকিছু ছেড়ে দিয়ে তোমার কাছে চলে যেতে ইচ্ছা করে। অনেক কথা বলেছি, যেগুলো আমার বলা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। মা, আমার এই লেখায় আমি তোমাকে যেভাবে বলতে পারি, সামনাসামনি কোনো দিন এভাবে কথা বলতে পারব না। মা, আমি আমার সবকিছুর জন্য ক্ষমা চাই তোমার কাছে, যা করেছি তোমার সঙ্গে তার জন্য, যা হয়তো ভবিষ্যতে করতে পারি, তার জন্যও।

সময় কত দ্রুত চলে যায় মা। তোমার সেই দুষ্টু ছেলেটা এখন কত বড় হয়ে গেছে, সবকিছু জানে-বুঝে। কত মানুষের সাথে পরিচয়! আমি জানিনা কোনো দিন কি তোমাকে এক টুকরা সুখ দিতে পেরেছিলাম মা? কেবলই মনে পড়ে তোমার সঙ্গে বিনা কারণে রাগ করে কথা বলার মুহূর্তগুলোর কথা। মা, ছোট আমি, অবুঝ আমি তোমার কাছে, আমি তোমার সন্তান, মা। তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার মতো যোগ্যতাটুকুও আমার নেই।

শুনেছি মা আর ছেলের মাঝে অজানা একটা বাঁধন থাকে। যে বাঁধনের কারণে মা তাঁর ছেলের কথা কোনো মাধ্যম ছাড়াই শুনতে পায়। তুমিও কি আমার হৃদয় থেকে বলা কথাগুলো শুনতে পারছ মা? আমি অনুভব করি তুমি শুনতে পাচ্ছো।

মাকে নিয়ে বিক্ষিপ্ত কিছু ভাবনা
চীনের পৌরাণিক একটা গল্প আছে। গল্পটা এমন ‘এক প্রেমিকা তার প্রেমিককে পরীক্ষা করার জন্য বলল, তোমার ভালোবাসার পরীক্ষা নিতে চাই আমি! প্রেমিক বলল, কী পরীক্ষা নেবে? সব পরীক্ষার জন্য আমি প্রস্তুত। প্রেমিকা বলল, তোমার মায়ের হৃৎপিণ্ডটা নিয়ে আসো…! প্রেমে অন্ধ ছেলেটি ছুটল মায়ের কাছে! মাকে হত্যা করে তার হৃৎপিণ্ড নিয়ে ছুটল প্রেমিকার কাছে, ভালোবাসার পরীক্ষায় পাস করতে…! পথে হঠাৎ আছড়ে পড়ল ছেলেটি। হাত থেকে ফসকে গেল মায়ের তাজা হৃৎপিণ্ডটা! ছেলেটি খুঁজে পেয়ে মায়ের হৃৎপিণ্ড হাতে নিল। তখনো ধক ধক করছে মায়ের হৃৎপিণ্ড। হাতে নিতেই তা বলে উঠল, ব্যথা পেলি খোকা?’

পার্থিব উপন্যাসে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘মানুষ যখন ভয় পায়, যখন বিপদে পড়ে, যখন মনে হয় একা তখন ভয়ার্ত শিশুর মতো মাকেই আঁকড়ে ধরে।’ সন্তানের জন্য মায়ের আবেগ অনন্তকালের। অন্যদিকে সন্তানের কাছে মায়ের কোল পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সন্তান যত বড়ই হোক না কেন মায়ের জন্য সেই শিশুটিই থাকে। মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক চিরন্তন। ‘মা’ কথাটি খুব ছোট অথচ ওই শব্দই পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম শব্দ; মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহের সাথে অন্য কোনো সম্পর্কের তুলনা চলে না।

নাজিম খা (মায়ের ডাকা শব্দ)
তের জুলাই, দুই হাজার বাইশ

24/04/2022

আমি একজন মানুষ, আমি হয়তো গীবত করেছি বা আপনার সম্পর্কে খারাপ কথা বলেছি তাই আমি বিনীতভাবে আপনাদের সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।
আমি দুঃখিত, আপনাকে যে সমস্ত ব্যথা দিয়েছি তার জন্য এবং আপনি যদি কোনও দিন কাঁদেন অথবা আমার কারণে খারাপ অনুভব করে থাকেন তার জন্যও। আমাদের আত্মা পরিষ্কার করা ভাল যাতে আমাদের রোজা এবং দোয়া আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) কবুল করেন। আমি আপনার জন্য দোয়া করব, ইন শা আল্লাহ।
এক‌ইসাথে আমাকেও যারা কষ্ট দিয়েছেন কখনো, আমার সম্মুখে বা অজ্ঞাতে আমার সমালোচনা বা গীবত করেছেন.....আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম..
আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন।
রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে রহমত, বরকত, হিদায়াত, ঈমান, তাকওয়া ও সবর দান করুন। আমীন।

10/04/2022

সুখ-দুঃখের সম্মিলনই জীবন
পিয়ারা বেগম

সকালে মর্নিংওয়াকে বের হলে অনেক নিপাট সুখী মানুষের সাক্ষাৎ পাই। সাক্ষাতের শুরুতে কুশল বিনিময়ে সবাই বলে থাকেন, আলহামদুলিল্লাহ! কেউ বলেন, ইনশাআল্লাহ! বেশ ভালো আছি। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আলাপচারিতার শেষে তাদের দুঃখের ফিরিস্তি শুনে অবাক হই! আর নিজের দুঃখের কথা বেমালুম ভুলে যাই। যেমন :কারো মেধাবী কিশোরী মেয়েটা বখাটে ছেলের সঙ্গে পালিয়েছে। যৌতুক লোভী স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্ত্রীর করুণ আহাজারি! বহুগামী স্বামীর অবহেলা-অনাদরে, বঞ্চনা আর নিগ্রহের ধূপ হয়ে পুড়ছেন সুন্দরী গৃহবধূ। বিধবা শাশুড়ি পুত্রবধূ কর্তৃক নির্যাতিত হচ্ছেন। কেউ-বা স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে সন্তানসহ বৃদ্ধ মা-বাবার ওপর বোঝা হয়ে আছেন। কারো সন্তান হচ্ছে না। স্বামীর অবহেলা আর শাশুড়ির জ্বালাতনে জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। কেউ-বা প্রতিবন্ধী সন্তানের ভবিষ্যৎ দায়ভার নিয়ে মহাসংকটে। কিংবা ভাগ্যাহত বিপত্নীক বৃদ্ধ পুত্রবধূদের গলার কাঁটা হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ইত্যাদি।

আসলে এই হলাম আমরা। নিরবচ্ছিন্ন সুখী লোক এই পৃথিবীতে নেই। সত্যটা এই যে, বিত্তশালী, ক্ষমতাসীন থেকে শুরু করে সবাই ‘ভালো আছি’ বলা সুখী মানুষগুলো কোনো না কোনো দিক দিয়ে অসুখী? সে হিসাবে বলতে গেলে দুঃখী মানুষে এ দুনিয়া পূর্ণ।

আমরা যদি কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকাই, তবে দেখব অধিকাংশ লোকের চেহারায় দুঃখের ছাপ সুস্পষ্ট দৃশ্যমান। মনে হয় আমরা মানুষ যেন একেকটা দুঃখের সাগরে বাস করছি। আসলে তা নয়। মূলত সুখ-দুঃখের সম্মিলনই জীবন। তবে কোনোটাই চিরস্হায়ী নয়। কিন্তু সুখের স্মৃতিগুলো আমরা মনে লালন করি না। স্মৃতিতে ধরে রাখি না। ফলে সহজেই ভুলে যাই। পক্ষান্তরে, দুঃখের স্মৃতিগুলো পুষে রাখি। ভাবনায় সব সময় লালন করি আর স্মৃতিচারণায় কষ্ট পাই। কারণ, আমরা দুঃখবিলাসী। তাই সুখস্মৃতির অনুরণনগুলো ভেতরে স্হায়ীভাবে জায়গা করতে পারে না। কারণ, মন থাকে দুঃখ নামক নেতিবাচক আবেগের পূর্ণ দখলে। ফলে অহেতুক নেতিবাচক আবেগের তোড়ে সুখ নামক অনুভূতিগুলো শুকিয়ে যায়। জীবনের সুখ-দুঃখ মূলত প্রদীপের মতো। প্রদীপের নিচে অন্ধকার থাকবেই। সুতরাং সব সময় অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আফসোস করে লাভ নেই। বরং আলোর জন্য স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। মূলত যে ঘটনায় আমাদের হাত নেই, তাকে সহজে গ্রহণ করাটাই শ্রেয়। অযথা কারো কাছে দুঃখ বলে আদৌ কোনো লাভ নেই। কারণ, সমাজে দুঃখের ক্ষতে মলম দেওয়ার লোকের বড়ই অভাব, কিন্তু লবণ দেওয়ার লোকের অভাব নেই। তাছাড়া অযথা দুশ্চিন্তা করে সময়ক্ষেপণ করাটাও বোকামি। কারণ, জীবনে আমাদের আয়ুর সময়টা কিন্তু মাপা। এই স্বল্পায়ু জীবনে কিছু না কিছু সুখের স্মৃতিও আছে। সুতরাং, দুঃখের স্মৃতিগুলো ভুলে যান। আর কৃতজ্ঞচিত্তে সুখের স্মৃতিগুলো লালন করুন, ধারণ করুন। অবসর আবডালে প্রতিনিয়ত স্মৃতিচারণায় তা জীবন্ত করে তুলুন। মূলত যে অবস্হাতেই থাকুন, ‘বেশ ভালো আছি’—এই ভাবনাটুকু ধরে রাখুন। কারণ, ভাবনাও এক প্রচণ্ড শক্তি। ভাবনা শুধু বাস্তবতার বিবরণই দেয় না, বাস্তবতা সৃষ্টিও করতে পারে। এতে আপনার চেহেরায় প্রশান্ত ও সুখী মনের প্রতিচ্ছবিই প্রতিফলিত হবে। কারণ, চিন্তা বা অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটে স্বভাব বা প্রকৃতিতে। মূলত সুখ হচ্ছে ইতিবাচক এমন এক প্রশান্ত অনুভূতি, যা অযাচিত সব দুঃখ, অশান্তি বা উদ্বেগজনিত ভাবাবেগকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মূলত, ঘটনা বা পারিপার্শ্বিকতা আমাদের দুঃখের বা সমস্যার কারণ নয়। কারণ, মূলত উদ্ভূত পরিস্হিতি কীভাবে গ্রহণ করলাম, তার ওপর। আসলে সুখ হচ্ছে কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়ায় আমাদের মনের অনুভূতির প্রতিফলন মাত্র। তাই সুখ নির্ভর করে মানুষের ব্যক্তিগত ভাবাবেগ, সর্বোপরি দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। এগুলো মূলত সুখের অনুঘটক। আর্থিক দুরবস্হা, দৈনতাও মানুষকে অুসুখী করে না। কারণ, মানুষের অভাববোধ ও অতৃপ্তিটাই অসুখী করে তোলে। তাই তো অর্থবিত্ত, ঐশ্বর্য-প্রাচুর্য, অঢেল সম্পদও মানুষকে সুখী করে না। তাই যদি হতো, তবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনীরা বিষণ²তায় ভুগতেন না। দুগ্ধ ফেননিভ শয্যায় শুয়ে মুঠো মুঠো ঘুমের ওষুধ খেতেন না। হতাশার চরমে পৌঁছে আত্মহত্যা করতেন না।

আসলে, ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সুখের স্বাধীনতাকে নষ্ট করে দেয়। ফলে হতাশা, বিষণ²তায় জীবন অর্থহীন ও ক্লান্তিকর বোঝায় পরিণত হয়। জীবন তো একটাই। তাই জীবন শেষ হয় এমন হতাশার কালো অন্ধকারে গহ্বরে যেন আমরা তলিয়ে না যাই। তাই এখন থেকে পজিটিভ চিন্তাচেতনা ধারণ করব। লালন করব। অন্যের প্রতি সংবেদনশীল হব। অপরিমেয় চাহিদার লাগাম টেনে ধরব। ফলে প্রতিমুহূর্তে সুখ নামক অনুভূতির অনুরণনে আন্দোলিত হব। উপভোগ করব উচ্ছ্বল আর নির্মল আনন্দ। আর সারাক্ষণ সুখ-সমৃদ্ধির সরোবরে অবগাহন করব। এতে সুখানুভূতি আর উপলব্ধির অদ্ভুত সংমিশ্রণে জীবন হবে প্রাচুর্যময়।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক

31/03/2022

অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত আমরা সবাই। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতায় হারিয়ে
যাচ্ছে মানসিক প্রশান্তি। কার্ল মার্কস বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে বেশি মানুষকে
যে সুখী করতে পারে, সেই সবচেয়ে বেশি সুখী।’ যে কাজ চারপাশের মানুষের
জীবনকে আনন্দময় করে, তার তৃপ্তি মানুষকে দেয় গভীরতম প্রশান্তি।
চাপ আর চাপ। আর তার চিরসখা অস্থিরতা। এটাই তো এখন আমাদের জীবন ব্যবস্থা।
আসলেই এটা হওয়ার কথা ছিলো? অনার্সে অল্পের জন্য ফার্স্ট ক্লাস হয়নি,
মাস্টার্সে না পেলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার, পদোন্নতি হয়ে গেল পাশের টেবিলের
সহকর্মীর। আর বিসিএস ক্যাডার যেন সর্বোচ্চ সফলতা। এমন সময়ে কেবলই মনে হতে
থাকে, আমরা ক্রীতদাস এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার। মনকে চেপে ধরে উদ্বেগ,
উৎকণ্ঠা, হতাশা। এ যুগে প্রশান্তি চপল–চরণ আসলেই সোনার হরিণ।
দিনে দিনে আমরা অসুস্থ প্রতিযোগিতা নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে বিক্রি করে
দিচ্ছি সোনালী সকাল, রূপালী বিকেলগুলো। ব্যক্তি, সামাজিক, চাকরি-বাকরি,
ব্যস্ততা, অসুখ-বিসুখ সবকিছু মিলিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টির ফলে জীবন হয়ে
ওঠে দুর্বিষহ।
ছোট ছোট অবুঝ শিশুদের পিঠে ওজনভরা বইভর্তি বেগ। অভিভাবকের চোখে মুখে চাপ
আর চাপ। ডাইয়েরীতে লিখছে না। আমার বাচ্চা পড়ছে না, লিখছে না, এটা সমস্যা
ওঠা সমস্যা। উদ্বিগ্ন হতাশার মন-মানসিকতায় জর্জরিত শান্তিহীনা সময়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্যকে পরাজিত করে এক ধরনের আনন্দ পাওয়ার মনোভাব
শেখানো হচ্ছে। জিপিএ ৫ পাওয়ার এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে
শিশুরা বেড়ে উঠছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মানসিক অশান্তির বেড়াজালে আটকে বিসর্জন দিতে হয় আনন্দ, সুখ-শান্তি,
মায়া-প্রেম, ভালোবাসা। আমাদের কাছে একান্ত নিজের সময় বলতে যা থাকে তা
আমরা ব্যয় করি আশপাশের মানুষগুলোর সঙ্গে অহেতুক অসুস্থ প্রতিযোগিতায়
নেমে। সহকর্মীর মডেলের মার্সিডিজ, বিএমব্লিউ, নান্দনিক বাড়ি দেখে আর
ভালো লাগে না, প্রতিহিংসার মেতে ওঠি। এটা চাই, ওটা চাই, সব চাই। তখন
ব্যাংক লোন নিয়ে গাড়ি কিনি অহেতুক অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে। সেই টাকা
যথা সময়ে পরিশোধ নিয়ে আবার ব্যাপক হতাশায় থাকি। কেন গাড়ি পরিবর্তন
করি এমন প্রশ্ন আমাদের মাথায় আসে না।
কে কত দামের গ্যাজেট ব্যবহার করে। কার কত ব্যাংক ব্যালেন্স আছে, কার
ছেলে-মেয়ে কোন স্কুলে পড়ে, কার রেজাল্ট কত ভালো প্রতিযোগিতায় আমাদের
নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে। কখনও কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে অমানুষে
রূপান্তরিত হয়ে হারিয়ে ফেলছি নৈতিক মূল্যবোধ।

শুধু বড় হতে হবে এই আমাদের দৈনিক স্লোগান, অথচ কিসের পেছনে দৌড়াচ্ছি
আমরা সেটাও জানি না। অন্যের সঙ্গে অসুস্থ প্রতিযোগিতার প্রভাবে দিনে
দিনে জীবন হয়ে যাচ্ছে যান্ত্রিক। নিজেকে কখনো কখনো রোবট বানিয়ে
ফেলছি। যান্ত্রিক জীবনে আমাদের লক্ষ্যই যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে
প্রতিযোগিতা। সবদিক থেকেই যেন নিজেকে সেরা দেখতে চাওয়াই এখন মূল
লক্ষ্য।

উদ্দেশ্যহীনভাবে মূল লক্ষ্য যখন ভুল লক্ষ্য থাকে তখন অহেতুক
প্রতিযোগিতার মাঝে তৈরি হয় হতাশা। কখনো কখনো প্রতিহিংসা নিষ্ঠুরতা
যার কারণে সঙ্গী হয় ভয়ঙ্কর এক একাকিত্ব।

সেই সকাল ১০ থেকে বিকেল ৫টা, সারাদিন কাজ করে তারপর আবার মধ্যরাতে ঘুম
ভেঙে গেলে আমরা চিন্তা করি আমার কলিগদেরকে কত টাকা বেতন পায়, কার কয়টা
গাড়ি-বাড়ি ইত্যাদি।

ঘরে আমাদের জন্য অপেক্ষায় বসে আছে তাকেও সময় দেই না। নিজেকে
প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত রেখে প্রিয়জনের পাশে শুয়েও অসুস্থ
প্রতিযোগিতায় নেমে বিক্রি করে দিচ্ছি সুখ-শান্তি।

প্রিয়জনের আনন্দ ফেলে কৃত্রিমে আমরা অমানুষ হয়ে যাচ্ছি। অফিস, মিটিং,
সেমিনার, অর্থ, খ্যাতি, ক্ষমতা এত ব্যস্ত জীবন কি একজন মানুষের হওয়া
উচিত? কখনো নিজের আয়নায় প্রশ্ন করা হয় না।

কয়েকদিন আগে দেখলাম অসুস্থ প্রতিযোগিতায় আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষ। আরো
ভয়ঙ্কর লাগলো যখন দেখলাম দেশের ৮২ শতাংশ তরুণ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে
উদ্বিগ্ন। কেন হতাশ তা যদি স্পষ্ট না থাকে তাহলে নিশ্চয়ই দিনের একটা
সময় তাদের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে কাটে।

এই প্রতিযোগিতা নামক সংক্রামক থেকে একটু ভিন্ন পথে নিজেকে প্রভাবিত করায় জীবন।

আসুন সর্বদা নিজেকে সুখী ভেবে চিৎকার করে বলি আমি পৃথিবীর সেরা সুখী
মানুষ। জীবনকে নতুনভাবে চিন্তা করি। বেঁচে থাকার আনন্দে বেঁচে থাকি।
অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নিজেকে না জড়িয়ে উৎফুল্ল থাকি। ব্যক্তি যত
উৎফুল্ল, তার কাজ করার ক্ষমতা ততবেশি। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে প্রসারিত
হওয় হতাশা আর দুঃশ্চিন্তাকে মুক্তি দিয়ে আমরা বেড়ে উঠি নিজেদের মতো
করে নিজের মানদণ্ডে।

নাজিম উদ্দিন খান
৩১ মার্চ,২০২২ খ্রি.

Want your business to be the top-listed Government Service in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Chittagong
4000