At a certain point of time, every direction seems to be pointless, doesn’t it?
Sudden rain হঠাৎ বৃষ্টি
itz a page about life
Life is beautiful because it ends...
আপনার ধরুন জ্বর এসেছে ১২ তারিখে। আপনি ডাক্তার দেখতে গেলেন আলসেমি করে ১৪তারিখে। অর্থাৎ জ্বরের তৃতীয় দিনে। ডাক্তার যখন দেখলো যে আপনি জ্বরের তৃতীয় দিনে গিয়েছেন, তিনি আপনাকে Dengue NS1 antigen test করতে দিলো, সাথে Complete Blood Count (CBC) ও করতে দিলো। আপনি করলেন কি যে, আজকে তো টাকা নেই, ২দিন পরে করবো নে। সেই টেস্ট আপনি করলেন ২দিন পরে, অর্থাৎ ১৬ তারিখে। সেদিন হলো জ্বরের ৫ম দিন। আপনার ডেংগু টেস্ট এ রেজাল্ট আসলো ডেঙ্গু নেগেটিভ। আপনি মহান আল্লাহ্ পাকের দরবারে খুশিতে শুকরিয়া আদায় করতে লাগলেন। ওদিকে সিবিসিতে প্লেটলেট ৩০-৩৫হাজার/কিউমিমি, হেমাটোক্রিট ৪৫%। ডাক্তারের মাথায় হাত! আপনি তো বলবেন, টাকা খরচ করে টেস্ট করলাম, ডেংগু নেগেটিভ আসলো, ডাক্তার তাইলে ভয় দেখায় কেনো! আপনি ডাক্তারকে দিলেন দুই ঘা বসিয়ে, আর নাইলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাংচুর করতে গেলেন, কারণ আপনার ইয়েতে অনেক কারেন্ট।
ঘটনা হচ্ছে, দোষটা আপনার। Dengue NS1 Antigen পরীক্ষা জ্বরের প্রথম ৩দিন এর মধ্যে পজেটিভ আসে(১)। এরপরে আপনার যদি ডেঙ্গু হয়েও থাকে, তাও সেটি নেগেটিভ আসতে পারে, এবং আসেও। আমি নিজে এই সোমবার এমন রোগী পেয়েছি যার ডেংগু NS1 নেগেটিভ দেখে সে হেলতে দুলতে এসেছে রিপোর্ট পাওয়ারও দুইদিন পরে। সে টেস্ট করিয়েছে জ্বরের ৫ম দিনে। অর্থাৎ ৭ম দিনে সে রিপোর্ট দেখাতে এসেছে কারণ তার ডেংগু নেগেটিভ তার ভয়ের কিছু নেই। ২দিন আগেই তার প্লেটলেট ছিলো ৩২হাজার/কিউমিমি, হেমাটোক্রিট ৪৭%।
তাহলে কি করবেন?
১) আপনার চিকিৎসককে একদম এগজ্যাক্ট হিসেব বলবেন যে আপনার জ্বর কয়দিনের, পারলে কতো তারিখে কখন সেটাও জানাবেন। তিনিই আপনাকে জানাবেন যে আপনার কোন টেস্ট করাতে হবে।
২) ৫ম/৬ষ্ঠ দিন হতে Dengue IgG & IgM পরীক্ষা করাতে হবে(২)। যেহেতু এই পরীক্ষাটি Dengue NS1 পরীক্ষার তুলনায় কিছুটা মুল্য বেশী, তাই জ্বর আসবার সাথে সাথেই এক মুহুর্ত দেরী না করে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন।
৩) ডেংগু নিশ্চিত হলে, চিকিৎসক এর পরামর্শ মতো নিয়মিত CBC পরীক্ষা করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট দেখাতে আসবার পাশাপাশি রোগীকে নিয়ে আসতে হবে। শুধু রিপোর্ট দেখে রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়।
৪) আপনার চিকিৎসক যদি CBC এবং ডেংগু পরীক্ষার পরে লিভার ফাংশন টেস্ট সহ, ইসিজি, বুকের এক্সরে সহ অন্য পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেয়, আগেই ধরে নিয়েন না যে তিনি টাকা খাওয়ার ধান্ধায় পরীক্ষা দিয়েছেন। এ ধরণের চিন্তা করবার প্রবনতা আমাদের মধ্যে রয়েছে বলেই বললাম। ডেংগু শক সিন্ড্রোম/ এক্সপ্যান্ডেড ডেংগু সিন্ড্রোম থেকে খুব সহজেই অরগান ফেইলার ডেভেলপ করছে। প্লেটলেট কমে রক্তক্ষরন হয়ে মৃত্যুর সেইদিন গত হয়েছে, ডেংগু এখন এসেছে নতুন রুপে। লিভার ফেইলার, কিডনি ফেইলার, একিউট রেস্পিরেটরি সিন্ড্রোম, প্লুরাল ইফিউশন সহ বিভিন্ন ধরণের নিউরোলজিকেল সিম্পটমও দেখা যাচ্ছে এবার(৩)। রোগী পয়সা খরচ করতে চায় না বলে অনেক চিকিৎসক বাধ্য হয়ে টোটাল সিবিসি রিপিট না করিয়ে শুধু প্লেটলেট কাউন্ট রিপিট করাচ্ছেন। মনে রাখবেন, রোগীর কিছু টাকা হয়তো সেভ হচ্ছে, কিন্তু আল্টিমেটলি ১০জনের মধ্যে ১জনও যদি খারাপ হয়ে যায়, সেই দায় আপনার উপরেই আসবে। আপনাকে হেমাটোক্রিট ও দেখতে হবে। এমন কি, পেশেন্ট শকে চলে গেলে তো ঘন্টায় ঘন্টায় হেমাটোক্রিট করবার নির্দেশনাও গাইডলাইনে আছে (৪)।
৫) সর্বোপরী, আপনার চিকিতসককে সহায়তা করুন। এই মহামারিতেও পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশের তুলনায় ডেংগুতে মৃত্যুহার ঈর্ষনীয়ভাবে কম আমাদের। এই কৃতিত্ব আমি আমাদের বড় স্যারদের কে না, এবারের মতো আমাদের মিডলেভেল ডক্টর, নার্স আর ব্রাদারদের দিতে চাই।
সবাই সাবধানে থাকুন। এখনও সময় আছে। বাড়িতে কিংবা বাড়ির পাশে পরিষ্কার রাখুন, পানি জমতে দিবেন না। মশারি টাংগিয়ে ঘুমাবেন। শিশুদের দিকে বিশেষ করে খেয়াল রাখুন। আর জ্বর আসলে সেটা ১দিনের জ্বর হলেও দেরী না করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। সবার সুস্থ্যতা কামনা করছি।
লিখেছেনঃ ডা. নিশম সরকার
এমবিবিএস (ডিএমসি)
======================
তথ্যসুত্রঃ
১। National Guideline for Dengue 2018,পৃষ্ঠাঃ ২০
২। National Guideline for Dengue 2018,পৃষ্ঠাঃ ২০
৩। National Guideline for Dengue 2018,পৃষ্ঠাঃ ১৫
৪। National Guideline for Dengue 2018,পৃষ্ঠাঃ ২০
"কাল থেকে পড়বো" বলার সাথে সাথে প্রতিটা ছাত্রের বাম কাধের ফেরেসতা হাসতে হাসতে বলে, আমার কলমটা কইরে?
-আকাশ আব্দুল্লাহ
জ্যামটা ইদানীং প্রচুর বেড়ে গেছে।
জ্যামে বসে সময় কাটানোর একটা ভালো উপায় হচ্ছে বই পড়া। যেহেতু আমাকে প্রায় প্রতিদিনই ঢাকার এমাথা-ওমাথা ক্রস করতে হয় তাই আমার ব্যাগে কোনো না কোনো বই থাকেই।
সেদিন পড়ছিলাম নেলসন ম্যান্ডেলার আত্মজীবনী। বেশ ডুবে গিয়েছিলাম বইটায়। হঠাৎ পাশ থেকে শুনি, এক লোক ভারী গলায় জিজ্ঞেস করছেন, 'কার বই পড়েন? ম্যান্ডেলার?'
আমি মুখ তুলে তাকালাম। বইয়ে ডুবে থাকার কারণে পাশে কে বসেছে খেয়াল করি নি। ত্রিশোর্ধ্ব বয়স, স্বাস্থ্যবান। মুখে চাপ দাড়ি। গায়ের রঙ কালো।
উনি বলে চললেন, এই বিপ্লবী নেতা সারাজীবন বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গেছেন। লাভ কি হয়েছে? রেসিজম ছিল, রেসিজম আছে, রেসিজম থাকবে। এটা শুধু আফ্রিকার না, যেকোনো দেশের যেকোনো কালো মানুষের মনের কথা।
আমি প্রতিবাদ করলাম। বললাম, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রেসিজমের বোধহয় তেমন ইমপ্যাক্ট নেই।
লোকটা আমার কথা হেসেই উড়িয়ে দিল। বলল, কোন দুনিয়ায় যে থাকেন ভাই। কালো মানুষের গল্প শুনতে চান? বই রাখেন, আমার গল্প শোনেন। মজা পাবেন।
লোকটা শুরু করল-
................................................................................
'আমার নাম রাকিব। কিন্তু জীবনের বেশির ভাগ সময় লোকে আমাকে 'কালা রাকিব' বলেই ডেকেছে। পরিবার থেকে স্কুল, স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে ভার্সিটি- এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমার গায়ের রঙ নিয়ে খোটা শুনতে হয় নি।
মানুষ আমাকে ডাক দিতো কাল্লু, কাউলা কিংবা নিগ্রো বলে। জিম্বাবুয়ের যখন খেলা চলতো তখন বন্ধু-বান্ধব বলতো আমার জাত ভাইদের নাকি খেলা চলে। মানুষজন এসে আমার মায়ের কানে কানে বলতো, রাকিব যে কালো, ওর কাছে তো কেউ মেয়ে বিয়ে দিবে না। ইভেন টিচাররা ক্লাসে পড়া জিজ্ঞেস করার সময় ডাক দিতো 'এই কালো ছেলে...দাঁড়াও'।
জগৎ নিষ্ঠুরভাবে সৌন্দর্যের পূজারী- এটা আমি ছোটবেলাতেই বুঝে ফেলি। মানুষজন বলে, দেহের সৌন্দর্য প্রধান নয়, মনের সৌন্দর্যই আসল। এটা যে কি পরিমাণ ভুয়া কথা তা আমি টের পেয়েছি প্রেমের চেষ্টা করতে গিয়ে। যেই মেয়েকে একটু ভালো লাগতো, সেই-ই আমাকে রিজেক্ট করে দিতো। আরে...দেখতে ভালো না হইলে কে আমার মনের সৌন্দর্য খুঁজে বের করতে আসবে?
কলেজে উঠলাম। ততোদিনে আমি আমার মনকে বুঝ দিয়ে ফেলেছি। কেউ কালা-টালা, অসুন্দর বললেও আমার আর তেমন গায়ে লাগে না। ক্লাসে আরেকজন রাকিব ছিল। টম ক্রুজের মতো ফর্সা আর হ্যান্ডসাম। ওর নাম দিল সবাই ধলা রাকিব। আর আমি কালা রাকিব। ধলা রাকিবের উপর প্রতিদিন তিন-চারটা মেয়ে ক্রাশ খায়। আর কালা রাকিব? ফরেভার এলোন।
এইসময় বজ্রপাতের মতো আমার জীবনে একজনের আগমন ঘটল, নাম তার শায়লা। আমাদের জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের মেয়ে। হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের নায়িকাদের যেমন বিবরণ থাকে, তেমন সুন্দর। প্রথম দেখাতেই আমি ধপাস করে প্রেমে পড়ে গেলাম।
শায়লার সাথে কেউ সাহস করে কথা বলতে পারছিল না। লোকমুখে শোনা যেত, শায়লার তিন বড়ভাই আছে। তিনজনই বডি বিল্ডার। শায়লার সাথে কাউকে দেখলে নাকি হাড্ডি- গুড্ডি ভেঙে নদীতে ভাসিয়ে দেবে।
আর আমার কি ভাগ্য! ক্লাসে আসার এক সপ্তাহ পর শায়লা আমার কাছে এসে বলল-
'রাকিব, শুনেছি তুমি খুব ভালো নোট তোলো। আমাকে কি তোমার বাংলা নোট খাতাটা একটু দিতে পারবে?'
আমি পারলে বলি- নোট খাতা কেন আমার জীবনটাই নিয়ে যাও! আর ওই প্রথম ক্লাসে কেউ আমাকে কালা রাকিব বাদে শুধু রাকিব ডেকেছিল। আনন্দে আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল প্রায়।
আমি নোট খাতা দিলাম। ফোন নাম্বার বিনিময় হল। (তখন ফেসবুক ছিল না)। তারপর ফোনে কথা বলা শুরু।
আমি রোজ রাত বারোটার পর ওকে ফোন দিতাম। ডিজুসের সারা রাত ফ্রি অফার চলতো। আমি ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতাম। আমার ফোন রাখতে মনই চাইতো না।
সে বড় সুখের সময় ছিল। জীবনের সেরা কয়েকটি দিন। কিন্তু নক্ষত্রেরও নাকি একদিন মরে যেতে হয়। আমার সুখের ঘোর শেষ হল ক্লাসমেট খালেদের একটা কথায়- 'শুনেছিস,ধলা রাকিব নাকি শায়লাকে প্রপোজ করবে!'
আমার মাথায় বাজ পড়লেও আমি এতো অবাক হতাম না। দৌড়ে গেলাম ধলার কাছে।
- কোন সাহসে তুই শায়লাকে প্রপোজ করবি?
'কেন করব না?', নির্বিকারভাবে ধলা রাকিব বলল।
- জানিস না, আমি ওর সাথে কত কথা বলি। ওকে পছন্দ করি?
- আমিও ওর সাথে সপ্তাহখানেক ধরে কথা বলছি। ও বলেছে তোদের মধ্যে কিছু হয় নাই।
- হয় নাই, হবে! সময় কি শেষ?
- ভাই বাদ দে তো, ওরে আমার ভাল্লাগছে। আর আমার যারে ভাল্লাগে আমি তারে নিয়া নিই।
দুই ঘন্টা ধলা রাকিবকে বোঝালাম। ভয় দেখালাম, বারণ করলাম, অনুনয় বিনয় করলাম। রাকিবের মন গলে না। শেষমেশ কেঁদে ফেললাম। আমার কান্না দেখে রাকিবের একটু দয়া হল।
সে বলল, ঠিক আছে। আমরা তাহলে শায়লাকেই ডিসাইড করতে দেই। সামনের আঠারো অক্টোবর ওর জন্মদিন। ঠিক রাত বারোটায় আমরা দুজন একসাথে ওকে প্রপোজ করব। শায়লা যাকে পছন্দ করবে, ও তার হবে। বাকি যে থাকবে, অন্য রাস্তা ধরবে। খেলা যখন হবে ফেয়ার গ্রাউন্ডেই হোক।
আমি মেনে নিলাম। এইটুকুই অনেক পাওয়া। আমার মন বলছিল শায়লা অনেক সেন্সিবল মেয়ে, ও হয়তো আমার ভালোবাসাটুকু বুঝবে।
আঠারো অক্টোবর ঠিক এগারোটা উনষাট মিনিটে আমরা চোরের মতো দুজনে দুটো গোলাপ ফুল নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের বাড়ির পাঁচিল টপকালাম। পাইপ বেয়ে শায়লার ব্যালকনিতে উঠলাম। শায়লা আমাদের দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল।
আমরা কাঁপাকাঁপা গলায় বললাম, 'হ্যাপি বার্থডে শায়লা। উই বোথ লাভ ইউ।'
................................................................................
বাস তখন খামারবাড়ি থেমে আছে। ভদ্রলোক বললেন, 'কি ভাবছেন? শায়লা আমাকে চুজ করেছিল?
আমি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম। লোকটা মৃদু হেসে বলল- ভাই রে, জীবন গল্প উপন্যাস না। শায়লা আমাকে পছন্দ করে নি। ওর বলা কথাগুলো এখনও আমার কানে বাজে।
শায়লা বলেছিল- 'রাকিব, তোমার মতো ফ্রেশ মাইন্ড আর ওয়েল পার্সোনালিটির ছেলে আমি আর দেখি নি। তুমি অনেক ভালো মানুষ। কিন্তু কিন্তু...আমি তোমাকে নিয়ে ওভাবে কখনো ভাবি নি। তুমি আমার কাছে সবসময় একজন ভালো বন্ধুর মতো ছিলে এবং থাকবে। আমি বরং (ধলাকে দেখিয়ে) ওর সাথেই সম্পর্কে যেতে চাই।'
আমার হৃদয়টা তখন সশব্দে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এমনকি আমি চিইই করে দুনিয়া কাঁপানো একটা শব্দ পর্যন্ত শুনলাম।
তারপর মনে হল, ব্যাপার কি! হৃদয় ভাঙার শব্দ তো এতো জোরে হতে পারে না!
আসলে শায়লার বড়ভাই কথার আওয়াজ শুনে 'কে ওখানে...' ডাক দিয়ে ছুটে এসেছে। পেছনে আরো দুই ভাই। মুহূর্তের মধ্যে বাড়িতে হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। চিৎকার-চেঁচামেচি। ধলা রাকিবের কলার ধরে লিভিং রুমে নিয়ে গেল তারা। সেখানে নিয়ে বেদম মার। বেগতিক দেখে শায়লাও আর ধলার পক্ষ নিল না। সম্পর্কের ব্যাপারটা অস্বীকার করে গেল।
ধলা রাকিবের বাপ-মাকে ডাকলেন ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব। বলে দিলেন, তাদের ছেলে যেন আর কখনো শায়লার ধারে কাছে না যায়। গেলে তিনি খুন করে ফেলবেন। রাকিবের বাবা-মা ওর কলেজ বদলে নিয়ে গেলেন। ধলা রাকিব আর কখনো শায়লার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে নি।
ধলা চলে যাওয়ার পর শায়লা বেশ একা হয়ে পড়ে। আমি ওর বন্ধুত্বে্র হাত কখনো ছাড়ি নি। ও কলেজ থেকে ঢাকায়- ভার্সিটিতে পড়তে আসে, আমিও ওর সাথে আসি। ততোদিনে ও বেশ স্বাধীন এবং ম্যাচিউরড হয়েছে। ফাইনালি আমি অনার্স চতুর্থ বর্ষে এসে ফ্রেন্ডজোন ভাঙ্গতে পারি। পুনরায় প্রপোজ করি ওকে। ও এক্সেপ্ট করে। আল্লাহর ইচ্ছায়, শি ইজ মাই ওয়াইফ নাও।
..............................................................
কন্ডাকটার ডাকছে- 'ধানমন্ডি সাতাইশ। ধানমন্ডি সাতাইশ।'
ভদ্রলোক উঠে দাঁড়ান। আমি একটু আমতা আমতা করছিলাম। তারপর বলেই ফেলি- ভাই, আমার একটা প্রশ্ন ছিল।
লোকটা ফিরলেন। বললেন, 'আমি বোধহয় আপনার প্রশ্নটা জানি। করেন'
আমি বললাম, 'ওই দিন রাতে শায়লা আপুর ভাইয়েরা আপনার ফ্রেন্ডকে ধরে মাইর দেয়। অথচ আপনি ওখানেই ছিলেন। আপনাকে কিছু বলে নি কেন?'
লোকটা মুচকি হেসে বলল, এটাকেই বোধহয় নিয়তি বলে। শায়লার ব্যালকনিতে ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার। ঐদিন জীবনে প্রথম আমি আমার গায়ের রং এর জন্য অ্যাডভান্টেজ পাই। ওরা আমাকে অন্ধকারে দেখতে পায় নি ।।
লেখাটি লিখেছেন আহমাদ ইশতিয়াক
১৯৭২ সাল, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারার সাথে মিটিং এ বসেছেন তাজউদ্দীন আহমেদ। প্রাথমিক আলোচনার পর বিস্তারিত আলোচনার জন্য ম্যাকনামারা, তাজউদ্দীন আহমদ এবং সিরাজুদ্দিন সাহেব যখন বসলেন, তখন ম্যাকনামারা জানতে চাইলেন বাংলাদেশের জন্য কোথায় কী ধরনের সাহায্য দরকার।
তাজউদ্দীন আহমদ বললেন, 'আমাদের যা দরকার তা আপনি দিতে পারবেন কি-না আমার সন্দেহ আছে। ম্যাকনামারা বললেন, 'মিস্টার মিনিস্টার, আপনি বলুন, আমরা চেষ্টা করব দিতে।' তখন তাজউদ্দীন আহমদ বললেন, 'মিস্টার ম্যাকনামারা, আমার গরু এবং দড়ি দরকার। যুদ্ধের সময় গরু সব হারিয়ে গেছে। এখানে-ওখানে চলে গেছে, মরে গেছে। পাকিস্তান যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, চাষিরা এদিক-সেদিক পালিয়ে গেছে, তখন গরু হারিয়ে গেছে।
এখন যুদ্ধ শেষ, চাষি ফিরেছে কিন্তু গরু নাই, তাই চাষ করবে কীভাবে? কাজেই আমাদের অগ্রাধিকার চাহিদা হলো গরু। ম্যাকনামারার চোখ-মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। তাজউদ্দীন আহমদ বললেন, 'আর আমাদের সমস্ত দড়ি তো পাকিস্তানিরা নষ্ট করে ফেলেছে, এখন গরু পেলে গরু বাঁধতে দড়ি প্রয়োজন। গরু এবং দড়ি প্রয়োজন খুব তাড়াতাড়ি, না হলে সামনে জমিতে চাষ হবে না।'
অস্বস্তিকর এই মিটিং শেষে যখন তাজউদ্দীন আহমেদ কে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কেন এরকম করলেন। উনি বললেন, 'কেন, গরু ছাড়া কি চাষ হয়? মহা চটেছিলেন। বললেন, 'এই লোকটি তো আমেরিকার ডিফেন্স সেক্রেটারি ছিলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে আমেরিকা। আমাদেরকে স্যাবোটাজ করেছে। শেষ পর্যন্ত সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছে আমাদেরকে ধ্বংস করে দিতে। আর তার কাছে সাহায্য চাবো আমি? এমনই আত্মসম্মান বোধ ছিলো তাঁর।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থানকালে বাংলাদেশের অন্যরা যখন ভারতীয় সময়ে চলতেন সেখানে তিনি চলতেন ভারতীয় সময় অপেক্ষা ৩০ মিনিট এগিয়ে তথা বাংলাদেশ সময়।
অস্থায়ী সরকার গঠন করার পর ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের যাবেন তিনি। ভারতের সীমান্তে পৌছেছেন অথচ ভারতে ঢুকেননি। একজন বলে উঠলো “আপনি যাবেন না?”
তিনি দৃঢ় গলায় বললেন আমার দেশ স্বাধীন। আর স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমি বিনা প্রটোকল আর তাদের আমন্ত্রণ ছাড়া আমি তাঁদের দেশে যেতে পারিনা। এটি আমার দেশের জন্য প্রচণ্ড অসম্মানজনক। আমাকে তো ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। পরবর্তীতে যদিও ভারত সরকার তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে ভারতে নেয়। এমনই ছিলো তাঁর আত্মসম্মান বোধ।
যেদিন সর্বপ্রথম ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর ভারতে দেখা, ইন্দিরা গান্ধী মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সাহায্যের কথা বলে বসলেন। এবং যেকোন মুহূর্তে ভারত প্রস্তুত বলে স্মরণ করান। তাজউদ্দীন আহমেদ বিনয়ের সঙ্গে বলে উঠলেন “ এটা তো আমাদের যুদ্ধ। আমাদেরই করতে দিন”!
মুক্তিযুদ্ধের মে মাস। কলকাতার থিয়েটার রোডে একটি দুই তলা বাড়ি ভাড়া নেয়া হয় মুজিব নগর সরকারের পক্ষ থেকে। বাড়িটির দু তলার এক দিকের ছোট একটি স্যাতস্যাতে কামড়ায় থাকতেন তাজউদ্দিন, বাকিটা অফিসের জন্য ছেড়ে দিলেন। বাড়ির বাড়িওয়ালা যেদিন জানলো একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী তার বাড়ির এই ময়লা কামরায় তখন তিনি বলে উঠলেন, “তোমরা পারোও! প্রধানমন্ত্রী হয়ে এই কামরায়! তোমরা স্বাধীন না হলে আর কে স্বাধীন হবে!”
মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিক তখন।
একদিন বাড়িতে দুই ধরনের রান্নার আয়োজন করা হলো। মন্ত্রীরা, প্রধানমন্ত্রীর জন্য এক ধরনের রান্না, আর সাধারন বাকিদের জন্য আরেক ধরনের রান্না। মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীদের রান্নায় বেশ আয়োজন হয়েছে। তাজউদ্দীন আহমেদ খেতে বসেই খাবারের আয়োজন দেখে গর্জে উঠে সহকারীকে ডাকলেন। সঙ্গে সঙ্গে সহকারী হাজির হতেই বলে উঠলেন এগুলো কেন? সাধারণ খাবার কই?
সহকারী বলে উঠলো এটা আপনার জন্যই স্পেশাল রান্না হয়েছে। সাধারণ খাবার কেবল ডাল, ছোট মাছ আর আলুর তরকারী।
তিনি এবার চেঁচিয়ে উঠে বললেন দেশের মানুষ না খেয়ে আছে আর আমি এখানে পোলাও কোর্মা খাবো?
আনিসুজ্জামান তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন একদিন আনিসুজ্জামান তাজউদ্দীন আহমেদের বাসায় গেলেন। দেখলেন তাঁর চোখ লাল, দেখে অসুস্থ মনে হচ্ছে। তিনি বলে উঠলেন স্যার আপনার শরীর খারাপ নাকি?
তাজউদ্দিন সাহেব বলে উঠলেন " গতকাল রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর, হঠাৎ ঝড়ে আমার ঘরের জানালার একটা অংশ খুলে গেল, তখন হঠাৎ মনে হলো, এই ঝড়ে আমার ছেলেরা না খেয়ে, না ঘুমিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করছে, আর আমি এখানে ঘুমাচ্ছি! আর সারারাত ঘুমাতে পারিনি!
মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি ঘটনা বলি। ভারতে তখন মুজিবনগর সরকারের ব্যস্ত সময়। মুক্তিযুদ্ধের তখন চূড়ান্ত সময়। একদিন তিনি অফিসে গেলেন। কিন্তু পিয়ন নেই অফিসে।দ্রুত তিনি পিয়নের থিয়েটার রোডের বাসায় চলে গেলেন।
তাঁর আরেক কর্মচারী অফিসে এসে, তাঁকে না পেয়ে সেই পিয়নের বাসায় গেলো। ঢুকেই তো ভিমরি খাওয়ার যোগাড়! জ্বরে আক্রান্ত পিয়নের মাথায় বদনা দিয়ে পানি ঢালছেন স্বয়ং তাজউদ্দিন আহমেদ।
এমনই ছিলেন এই কিংবদন্তী প্রবাদপ্রতিম মানুষটি। তাঁর ত্যাগ আমাদের জন্য কতোখানি তা অবর্ণনীয়।
‘আমার ঠোটে তোমার তৃষ্ণাগুলো রেখে দাও
তারপর ঠোটে ঠোট রেখে দুদণ্ড অবসর নাও
ভাবো-
পৃথিবীর আরও কিছু কি পাওয়া বাকি আছে?
বিচ্ছিন্ন ধোয়াটে শব্দ গুলি পূর্ণ একটা বাক্যতে
জায়গা করে নেবার আগেই ছেলেটি চাঁদে চলে গেল,
মেয়েটি নতুন একটা
খালি কাগজের পাতা নিয়ে
ভরা জোছনার আশায়
বুনো বাঁশ বাগানে
শিউলি ফুলের সুগন্ধ মেখে সারা রাত দাড়িয়ে রইলো,
আর কি আশ্চর্য -
রাত ভর জোছনার বদলে
আকাশ থেকে
শীতল বৃষ্টির জল
তুমুল বর্ষণে
নামতে থাকলো, নামতেই থাকলো।....
"একজন মাফিয়া, একজন লইয়ার এবং একজন পাইলটের অবিশ্বাস্য গল্প "
মাফিয়া জগতের কিংবদন্তী গডফাদার ছিলেন নটোরিয়াস আল কাপোন। ৪৮ বছর বয়সে ৩৩ জন গ্যাং লীডার খুন করে যিনি শিকাগো শহরের একচ্ছত্র অধিপতি হন ১৯৩০ সালের দিকে। যার জীবন কাহিনী নিয়ে হলিওডের দুনিয়া কাঁপানো ম্যুভি 'স্কারফেইস', ''আনটাচেভল" সহ ২১ টি চলচিত্র এবং ১৮ টি টিভি ড্রামা নির্মিত হয়। আল কাপোন ঘোষণা করেন- আকাশের মেঘে হয়তোবা শিকল পরানো যেতেও পারে। কিন্তু তাকে আটকানোর সাধ্য কারো নেই। যে বা যারা সে চেষ্টা করবে-তাকেই মেঘের রাজ্যে পাঠানো হবে। আল কাপোন সমস্ত প্রশাসন, পুলিশ, লইয়ার, কোর্ট, কাচারী নিজের কব্জাবন্দী করে মূলতঃ তিনিই শিকাগোর অলিখিত মেয়র, ইলিনয়ের গভর্ণর বনে যান।
মাফিয়া সম্রাট আল কাপুনের সমস্ত কুকর্মের শাস্তি থেকে বাঁচানোর বিশ্বস্ত উকিল ছিলেন ইজি ইডি। ইজি ইডি বুদ্ধি, মেধা, বিচক্ষণতা, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, যুক্তির পারদর্শিতার জন্য আমেরিকার বিখ্যাত এ্যাটর্নীদের অন্যতম। যেকোনো কেইসকে তিনি এমনভাবে ম্যানিপুলেট করে দিতেন-যাতে কোর্টের রায় তার পক্ষে না এসে উপায় ছিলোনা। হার্ভার্ড ল স্কুলে তার যুক্তি-তর্ক, আর্গুমেন্টের নানা মারপ্যাচের কিচ্ছা কাহিনী ছাত্রদের পড়িয়ে দুঁদে উকিল বানানোর কৌশল শেখানো হয়। কোর্টের ক্ষেত্রে জাজদের কাছেই সবসময় উকিলরা তটস্ত থাকতেন। কিন্তু ইজি ইডির সামনে জাজরা না আসতে পারলেই যেন মুক্তি পেতেন। জাজরা জানতেন আসামী দাগী ক্রিমিনাল। কিন্তু বিরোধী পক্ষের লইয়ার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে না পেরে বারবার ইজি ইডির কাছে হেরে যেতেন। ফলে, ক্রিমিনালরা রক্ষা পেতো, ভালো মানুষগুলো ফেঁসে যেতো। নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে জাজদের রায় লেখার যন্ত্রণা তাদের মনোকষ্টের কারণ হতো।
ইজি ইডি একবার মামলা জিতে ঘরে ফিরে দেখেন তার ছেলেটি গ্যাং বায়োলেন্সে খুব মারাত্মকভাবে স্ট্যাবড। শিকাগোর সমস্ত বিখ্যাত ডাক্তাররা উপস্থিত হয়েছে। মামলা-মোকাদ্দমা নিয়ে মিঃ ইডি এতো বেশি ব্যস্ত ছিলেন-সন্তান কীসে জড়িয়ে গেছে সেটা খেয়ালই রাখেননি। ধন-সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। মানুষ যেখানে বাচ্চাদের খেলনা গাড়ি, খেলনা প্লেন উপহার দেয়- ইজি ইডি সন্তানদের ব্যক্তিগত প্লেন উপহার দিয়েছেন। বাড়ীর পরিবর্তে দিয়েছেন ম্যানশান। সুইমিং পুলের পরিবর্তে দিয়েছেন পুরো লেক । শিকাগো শহরে মাইলের পর মাইল দামি অট্টালিকার মালিক হয়েছেন। কিন্তু এসব কিছুই তার সন্তানকে বাঁচাতে পারলোনা। চারদিকে ডাক্তাররা দাঁড়িয়ে। নিজের কোলে তার মৃত সন্তান।
ইজি ইডি উপলব্ধি করলেন- অর্থ হলেই কিনতে পাওয়া যায় এমন সব কিছুই তিনি তার সন্তানদের দিয়েছেন- সম্পদ, ধন -দৌলত,বিলাসিতা সব। কিন্তু পিতা হিসাবে সন্তানদের যে আদর্শ, যে সততা, যে নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া দরকার ছিলো তিনি তার এককণাও দিতে পারেন নি। একজন সন্তান তার পিতার জন্য যে কারণে গর্বিত হতে পারে এমন আদর্শ থেকে তিনি পুত্রদের বন্চিত করেছেন। নীতিভ্রষ্ট পিতার সন্তান নীতিবান হবে কেমন করে। এই পুত্রের মৃত্যুতে ইজি ইডি সম্পূর্ণ বদলে গেলেন। তিনি তার সন্তানদের জন্য এক নতুন লিগেসি রেখে যাওয়ার জন্য মৃত সন্তানের মাথা ছুঁয়ে শপথ নিলেন।
ইজি ইডি মাফিয়া কিং আল কাপুনকে বললেন- তিনি আর তার সাথে নাই। শুধু তাই নয়। তিনি তার সমস্ত পাপের প্রায়শ্চিত্য করবেন। আল কাপুন সহ সব মাফিয়া-গ্যাং লীডারদের কাঠগড়ায় ওঠাবেন। ইজি ইডি একের পর এক মামলা জিততে লাগলেন। ছোট, মাঝারি গ্যং লীডার, ধর্ষকরা একে একে কারাগারে যেতে লাগলো। ইজি ইডির বিরুদ্ধে আল কাপুন মৃত্যু পরোয়ানা জারি করলেন। ইজি ইডি বুঝলেন- যে কোনো সময় যে কোনো মুহুর্তে তিনি মারা যাবেন। এটা জেনেও তিনি হার না মানা লড়াই করলেন। নতুন করে কাপুনের মামলা কোর্টে ওঠালেন। ৩৩ মার্ডারের আসামী আল কাপুনের বিরুদ্ধে ফেডারেল ট্যাক্স ফ্রডের জন্য সাজা হলো। আমেরিকার ম্যাক্সমাম সিকিউরিটির ফেডারেল প্রিজন আলকাতরাজে আল কাপুনকে চালান করে দেয়া হয়। কিন্তু মামলা জিতে ইডির আর ঘরে ফিরা হলোনা। গাড়ী চালিয়ে বাড়ি ফিরার পথেই আঠারোটি বুলেট তাকে বিদ্ধ করে। ইজি ইডি গাড়িতেই মারা যান। ইডির ২য় পুত্র ইডির শেষকৃত্য সম্পাদন করে পিতার কফিন কবরে নামিয়ে ঘরে ফিরে আসে।
২য় বিশ্বযুদ্ধ তখন তুঙ্গে। আমেরিকার বিমান বাহিনীর এক চৌকষ অফিসার ইউএসএস লেক্সিংটন ব্যাটলশিপে তার দায়িত্বে নিয়োজিত। বেটলশীপ থেকে তিনি এফফোরএফ ওয়াইল্ড ক্যাট ফাইটার নিয়ে আকাশে উড়েন। হঠাৎ তিনি খেয়াল করেন- তার ফুয়েল ট্যাংক পুরোপুরি ভর্তি হয়নি। যার ট্যাংক ভর্তি করার কথা ছিলো সে হয়তো ভুলবশত তা ভর্তি করেনি। ঠিক এমনি মুহুর্তে তিনি আরো দেখেন নয়টি জাপানী বম্বারস প্যাসিফিকে অবস্থান রত আমেরিকার লেক্সিংটন ব্যাটলশীপের দিকে খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে। ঠিক ঠিক ভাবে বম্বিং করতে পারলেই যে কোনো মহুর্তেই যুদ্ধবিমান বহনরত জাহাজ পানিতে ডুবে যাবে। হাজারো মানুষ ব্যাটলশীপের ওপরে রয়েছে। তারা হয়তো জানেইনা কি ভয়াবহ বিপদ তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। চোখের সামনে যেন ঘটতে যাচ্ছে আরেকটি পার্ল হারবার।
গ্রামমেনের ককপিটে বসা পাইলট বুঝলেন তিনি মারা যাবেন। তারপরও একাই জাপানী নয়টি বম্বারসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে- খুবই দক্ষতার সাথে দুটি জাপানী যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিতে করেন। বাকি সাতটি বিমানের সাথে বিভিন্ন ডাইরেকশন পাল্টিয়ে জীবন বাজি রেখে লড়ে যান। তার একজনের মৃত্যুর বিনিময়ে যেন হাজারো মানুষ বেঁচে যায়। বেটলশীপ অক্ষত থাকে। বাকি সাতটির মধ্যে আরো তিনটি জাপানী বিমান বিধ্বস্ত হলো। বাকি চারটিকে খুবই ক্ষিপ্রতার সাথে বিভিন্ন এ্যংগেল থেকে চার্জ করলেন। জাপানী পাইলটরা মনে করলো- এই লোক সম্পূর্ণরুপে উন্মাদ হয়ে গেছে। এখন যত দ্রুত পারা যায়- পালিয়ে যাওয়াই মঙ্গল। মোট পাঁচটি জাপানি বম্বারসকে শট ডাউন করে তিনি নিরাপদে ব্যাটলশীপে ফিরেন।
তার এই অসাধারণ বীরত্বের জন্য ইউএস এয়ার ফোর্সের মাঝে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ পুরষ্কার "কংগ্রেশনাল মেডেল অফ অনার" লাভ করেন। গ্রেটেস্ট হিরোর মর্যাদায় ভূষিত হওয়া এই ব্যক্তির নাম হলো বোচ ওহারে এবং তাঁর নাম অনুসারেই পৃথিবীর একটি বিখ্যাত এয়ার পোর্টের নাম- "ওহারে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট"-যেটি আমেরিকার শিকাগোতে অবস্থিত।
কিন্তু সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ঘটনা হলো - এই ওহারে হলো মাফিয়া সম্রাট আল কাপুনের গ্যাংদের হাতে খুন হওয়া বিখ্যাত লইয়ার ইজি ইডির পুত্র। যিনি সম্পদের লোভ ভুলে গিয়ে ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার হয়ে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। বাপ জীবন দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন- সৎ আদর্শের মৃত্যু নেই। আর তারই আরেক সন্তান বড় হয়ে বাপের লিগেসিকে আমেরিকার ইতিহাসে নতুন মহীমায় চির ভাস্বর করে রেখে যান।
আদর্শবান ফ্যামিলি ফাউণ্ডেশন তৈরি হলো একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় অর্জন। পিতা-মাতা সন্তানকে যে আদর্শ দিয়ে তৈরী করবে-ঠিক সে আদর্শই ফিরে আসবে। আপনি আপনার সন্তানকে কি দিচ্ছেন? শুধুই ঘুষ, দুর্নীতি, জালিয়াতি থেকে অর্জিত বিশাল সম্পদ। না কি নীতি-আদর্শ-সততা, ন্যায়ের মূল্যবোধ। আজকে ঘরে ফিরে- আপনি কি পারবেন- আপনার সন্তানের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করতে।
বাবা তুমি কি চাও? ঘুষ আর দূর্নীতিতে অর্জিত আমার সম্পদ? নাকি এক সৎ পিতার আদর্শ আর মূল্যবোধ???
Source: Arif Mahmud
আজ ১৮ জুলাই ২০১৯,বৃহস্পতিবার
এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
★ঘটনাবলী
১৮৪১ - ১৮ জুলাই,রবিবার ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৬৬ - মহাকাশযান জেমিনি ১০ উৎক্ষেপন করা হয়।
১৯৬৮ - আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টাক্লারাতে ইন্টেল কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৭৬ - গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের ইতিহাসে রুমানিয়ার জিমন্যাস্ট নাদিয়া কোমিনিচি প্রথমবারের মতো পারফেক্ট ১০ স্কোর করেন।
১৮৫৪- স্যার চার্লস উডের বিখ্যাত ডেসপ্যাচ প্রকাশিত হয়।
১৮৭১- কলকাতা ও অন্যান্য পৌরসভার রাস্তাঘাট তৈরি ও রক্ষার খরচ নির্বাহের জন্য নীতিনির্ধারক আইন চালু হয়।
★জন্ম
১৬৩৫ - রবার্ট হুক, ইংরেজ বিজ্ঞানী। (মৃ. ১৭০৩)
১৭৬৮ - জঁ রোবের আরগঁ, সুইজারল্যান্ডীয় গণিতবিদ। (মৃ. ১৮২২)
১৮৯৩ - রিচার্ড ডিক্স, মার্কিন নির্বাক ও সবাক চলচ্চিত্র অভিনেতা। (মৃ. ১৯৪৯)
১৯০৯ - বিষ্ণু দে, বাঙালি কবি, লেখক ও চলচ্চিত্র সমালোচক। (মৃ. ১৯৮২)
১৯১৮ - আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী। (মৃ. ১৯৮১)
১৯১৮ - নেলসন ম্যান্ডেলা, দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা ও রাষ্ট্রপতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী। (মৃ. ২০১৩)
১৯২২ - টমাস স্যামুয়েল কুন, মার্কিন দার্শনিক। (মৃ. ১৯৯৬)
১৯২৫ - হুবার্ট ডগার্ট, ইংরেজ ক্রিকেটার, ক্রীড়া প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক। (মৃ. ২০১৮)
১৯২৭ - মেহদী হাসান, পাকিস্তানী গজল গায়ক ও ললিউডের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী। (মৃ. ২০১২)
১৯৪০ - জেমস ব্রোলিন, মার্কিন অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক।
১৯৪৯ - ডেনিস লিলি, অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯৮২ - প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
১৯৮৮ - কার্লোস ব্রাদওয়েট, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯৮৯ - ভূমি পেড়নেকর, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
১৯৯৬ - স্মৃতি মন্ধনা, ভারতীয় প্রমিলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
★মৃত্যু
৭১৫ - মুহাম্মদ বিন কাসেম, সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি। (জ. ৬৯৫)
১৮১৭ - জেন অস্টেন, ইংরেজ ঔপন্যাসিক। (জ. ১৭৭৫)
২০০৫ - রহমান, বাংলাদেশী অভিনেতা ও পরিচালক। (জ. ১৯৩৭)
২০১৬ - মুবারক বেগম, ভারতীয় গায়িকা। (জ. ১৯৩৫)
★দিবস
ম্যান্ডেলা দিবস
সংবিধান দিবস (উরুগুয়ে)
প্রাক্তন কে ভুলার কিছু কৌশল
১.প্রাক্তন কে কখনো ঘৃণা করবেন না কারণ ঘৃণা করলে তার প্রতি আপনার ভালোবাসা বেড়ে যাবে।।
২.প্রাক্তনের ব্যবহার করা সামাজিক সাইট গুলাকে ব্লক দিয়ে রাখবেন।
৩.আপনার কাছে থাকা প্রাক্তনের সকল স্মৃতি গুলা আগুনে পোড়াবেন কিংবা আশেপাশে পুকুর,নদী, সাগর যেটাই থাকে সেখানে ফেলে দিবেন।
৪.প্রাক্তন কে নিয়ে কোনো পজিটিভ চিন্তা ভাবনা করবেন না।
৫.হাসি-রসাত্নক মুলক বই পড়তে পারেন।
৬.নিজেকে কিছুদিনের জন্য প্লে-বয় বানিয়ে নিবেন না।
৭.প্রাক্তনের বাড়ি কাছে হলে ঐ এলাকা এড়িয়ে চলুন।
৮.সিগারেট, মদ, গাঁজা এগুলা না খেয়ে খেলাধুলায় মনোনিবেশ করুন।
দেখবেন কিছুদিন পর মনেই হবেনা যে আপনি রিসেন্ট ছ্যাকা খাইছেন আর প্রাক্তন বলে যে কেউ ছিল তাও উপলব্ধি করতে পারবেন না।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Website
Address
Chittagong
