17/06/2021
সাতকানিয়াঃ জানা অজানা কথা
সাতকানিয়া চট্টগ্রাম জেলা শহর থেকে প্রায় ৬১ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত।
নামকরণ ও ইতিহাসঃ
ব্রিটিশ শাসনামলে প্রশাসনিক ও
বিচার কাজের স্বার্থে এই এলাকায়
আদালত ভবন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা
দেখা দিলে বর্তমানে অবস্থিত আদালত
ভবনের নামে ৭ কানি (২৮০ শতক) ভূমি
জনৈক জনাব পেঠান নামক একজন জমিদার
সরকারের অনুকূলে হস্তান্তর/দান করেন।
তখন হতে এ উপজেলার নামকরণ
সাতকানিয়া হয় মর্মে জনশ্রুতি আছে।
উল্লেখ্য ঐ সময় হতে বাঁশখালী,
লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলা
নিয়ে "সাতকানিয়া সার্কেল" নামে
পরিচিত ছিল। সার্কেলকে আপগ্রেড করে
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে
পৃথক পৃথক উপজেলা সৃজনের মাধ্যমে
আজকের সাতকানিয়া একটি স্বতন্ত্র
উপজেলায় পরিগণিত হয় ১৯৮৩ সালে।
অবস্থান ও আয়তনঃ
সাতকানিয়া উপজেলার আয়তন ২৮২.৪০ বর্গ কিলোমিটার। ২২°০১´ থেকে ২২°১৩´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫৭´ থেকে ৯২°১০´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে এ উপজেলার অবস্থান।
সাতকানিয়া উপজেলার উত্তরে চন্দনাইশ উপজেলা, উত্তর-পশ্চিমে আনোয়ারা উপজেলা , পশ্চিমে বাঁশখালী উপজেলা, দক্ষিণে লোহাগাড়া উপজেলা এবং পূর্বে বান্দরবান জেলা ।সমতল ভূমি, পাহাড় ও সাঙ্গু নদী ও ডলু নদী দ্বারা বেষ্টিত ।
প্রশাসনিক এলাকাঃ
সাতকানিয়া থানা গঠিত হয় ১৯১৭ সালে
এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা
হয় ১৯৮৩ সালে। এ উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে।
পৌরসভাঃ সাতকানিয়া পৌরসভা ।
সাতকানিয়া ইউনিয়নসমূহঃ
১নং চরতী,
২নং খাগরিয়া,
৩নং নলুয়া,
৪নং কাঞ্চনা,
৫নং আমিলাইশ,
৬নং এওচিয়া,
৭নং মাদার্শা,
৮নং ঢেমশা,
৯নং পশ্চিম ঢেমশা,
১০নং কেঁওচিয়া,
১১নং কালিয়াইশ,
১২নং ধর্মপুর,
১৩নং বাজালিয়া,
১৪নং পুরাণগড়,
১৫নং ছদাহা,
১৬নং সাতকানিয়া ও
১৭নং সোনাকানিয়া।
জনসংখ্যাঃ
২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী
সাতকানিয়া উপজেলার লোকসংখ্যা
৩,৮৪,৮০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৯০,৯৪১ জন এবংমহিলা ১,৯৩,৮৬৫ জন। বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭%।
মোট জনসংখ্যার ৮৯% মুসলিম, ১০% হিন্দু এবং১% বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।
শিক্ষা ব্যবস্থাঃ
সাতকানিয়া উপজেলার শিক্ষিতের হার ৬৭%।
এ উপজেলায় ৬টি কলেজ
১টি সাতকানিয়া সরকারী কলেজ সহ
১টি মহিলা কলেজ
১টি কামিল মাদ্রাসা,
৪টি ফাজিল মাদ্রাসা,
৫টি আলিম মাদ্রাসা,
২১টি দাখিল মাদ্রাসা,
৩৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
(৫টি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ),
২টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,
১০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
১৫টি রেজিস্টার্ড প্রাঃবিদ্যালয়,
১৭টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
২৪টি কওমী মাদ্রাসা ও
১৬টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে ।
স্বাস্থ্যঃ
সাতকানিয়া উপজেলায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট
১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,
৫টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র,
১৩টি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র,
৬টি কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র,
১টি দাতব্য চিকিৎসালয় ও
১০টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে।
অর্থনীতিঃ
প্রধান কৃষি ফসল- ধান, আলু, মরিচ, বেগুন ও টমেটো।
শিল্পঃ
২৬টি আইস ফ্যাক্টরী,
১টি কাঠ শিল্প,
১৯০টি চাল কল,
২০টি আটা কল,
৩৫টি কল ঢালা,
কুটিরশিল্পঃ
বাঁশের ১৭৬৪টি,
সেলাই ৫০০টি,
পাট কাজ ৩০০টি,
কাঠের কাজ ২৫৩টি,
স্বর্ণকার ১৮০টি,
কুমার ১৭৭টি,
কামার ১৪৫টি,
বয়ন ১৩১টি,
কারচুপি কাজ ২৫টি,
উলের কাজ ২০টি,
থ্রেড ৩০টি,
নকশীকাঁথা ও মাছ ধরার জাল বুনন ইত্যাদি ।
যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ
সাতকানিয়া উপজেলায় যোগাযোগের
প্রধান সড়ক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
মহাসড়ক ।এছাড়া এ উপজেলায়
১১০ কি.মি. পাকা রাস্তা,
১৩৪ কি.মি. আধা পাকা রাস্তা,
৪৫৩ কি.মি. কাঁচা রাস্তা ও
৩৯ নটিক্যাল মাইল নৌপথ রয়েছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানঃ
সাতকানিয়া উপজেলায়
১০২৫টি মসজিদ,
৭১টি মন্দির ও
৮টি বিহার রয়েছে।
নদ-নদীঃ
সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর সীমান্ত
দিয়ে বয়ে চলেছে সাঙ্গু নদী।
এছাড়া রয়েছে ডলু নদী সহ আরো
৮টি ছোট-বড় খাল।
দর্শনীয় স্থানঃ
গারাংগীয়া বড় হুজুর ও ছোট হুজুর
কেবলার মাদাসা ও কবর
বায়তুল ইজ্জত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার,
হলুদিয়া প্রান্তিক লেক,
আলিশা ডেসটিনি প্রজেক্ট,
কেওচিয়া বন গবেষণা প্রকল্প,
চরতী বৈলগাঁও চা বাগান,
ভোয়ালিয়া পাড়া মাঝের মসজিদ,
সাঙ্গু নদীর পাড়,
বৈতরণী-শীলঘাটার পাহাড়ী এলাকা,
আমিলাইশ বিল,
চরাঞ্চল মাহালিয়া জলাশয়,
সত্যপীরের দরগাহ,
ন্যাচারাল পার্ক,
দারোগা মসজিদ ও ঠাকুর দীঘি,
ডলু খাল,
আনিস বাড়ী জামে মসজিদ,
তালতল নলুয়া রোড,
মির্জাখীল দরবার শরীফ,
সোনাকানিয়া মঞ্জিলের দরগাহ,
মক্কার বলি খেলার মাঠ,
কাজীর জামে মসজিদ ও
এওচিয়ার চূড়ামণির সুউচ্চ পাহাড় ।
প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদঃ
দারোগা মসজিদ, সাতকানিয়া
(পঞ্চদশ শতাব্দী) ।
ডেপুটি মসজিদ, সোনাকানিয়া
(পঞ্চদশ শতাব্দী) ।
মূর্তি সম্বলিত মুদ্রা ও ঠাকুর দীঘি,
সাতকানিয়া (ত্রয়োদশ শতাব্দী)।
কোতওয়াল দীঘি, সোনাকানিয়া
(ত্রয়োদশ শতাব্দী)।
শিবমন্দির (ঢেমশা) ।
বোমাং হাট গির্জা (বাজালিয়া)।
হিন্দুপাড়া মন্দির (কাঞ্চনা) ।
আকবরবাড়ী জামে মসজিদ(১৬৮০সালে) ।
কৃতী ব্যক্তিত্বঃ
*শাহজাদা মৌলানা আহমদ ছগির- বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সাবেক এম.এন.এ ।
*এম ছিদ্দিক- সাবেক এম.এন.এ ও প্রাক্তন
সংসদ সদস্য ।
*আবুল ফজল- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও
সাবেক ভিসি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ।
*ডাঃ বি এম ফয়েজুর রহমান- বীর
মুক্তিযোদ্ধা ।
*যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত- রাজনীতিবিদ,
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি- নিখিল ভারত কংগ্রেস।
*রায় সাহেব কামিনী কুমার ঘোষ-
শিক্ষাবিদ, প্রতিষ্ঠাতা- এ কে বি সি ঘোষ
ইনস্টিটিউট (কাঞ্চনা হাই স্কুল- ১৮৮৮)।
*আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন-
শিক্ষাবিদ ও সাবেক ভিসি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ।
*মৌলানা এএসএম আবদুল গণি- প্রখ্যাত
আলেম ও প্রবীণ শিক্ষাবিদ ।
*ডাঃ হোসনে আরা বেগম-
প্রথম মহিলা পরিচালক, চট্টগ্রাম
মেডিকেল কলেজ।
*আনোয়ারুল আজিম আরিফ- শিক্ষাবিদ ও
ভিসি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
*মোহাম্মদ আলী চৌধুরী-
চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
শিক্ষা বোর্ড,চট্টগ্রাম ।
*কবি সুফিয়া কামাল
*সুলতানা কামাল
আইনজীবী ও সু সমাজ
*মোহাম্মদ আলী আহমেদ-
প্রাক্তন সদস্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
*অধ্যাপক ড. আহসানুল আলম পারভেজ-
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ ।
*শ্যামল দত্ত- সাংবাদিক ও
সম্পাদক, দৈনিক ভোরের কাগজ ।
*আবদুন নুর তুষার; মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ।
*মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান-
সভাপতি, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব।
এই ছিল আমার জানা তথ্য আপনাদের কাছে আরো তথ্য জানা থাকলে সহযোগীতা করার অনুরোধ রহিল.