বিশ্বজুড়ে জানা অজানা

বিশ্বজুড়ে জানা অজানা

Share

To know something new & help the people to read something uncommon. Because we are curious to know the unknown.

13/10/2021

করোনার পরে শরীর গঠনে যা জরুরি

মোঃ জামশেদ আলম, ডায়েটিশিয়ান

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এবং ভীতিকর শব্দ হচ্ছে কোভিড-১৯। এ পর্যন্ত এই ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে ২২ কোটিরও বেশি মানুষ আর মৃত্যুবরণ করেছে ৪৫ লাখেরও বেশি।
বাংলাদেশেও এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কিছু কম নয়। যারা এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু দুয়ার থেকে ফিরে আসছেন তাদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যার সাথে রয়েছে খাদ্য ও পুষ্টির বিশেষ সম্পর্ক। যেমন- মাল্টি অরগান ফেইলিউরে কি খেতে হবে কতটুকু খেতে হবে তা জানা খুব জরুরি। আবার স্টেরয়েডের ব্যবহারের ফলে রক্তে চিনির পরিমান বেড়ে যাচ্ছে তাই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পুষ্টির ভূমিকা রয়েছে।

এজন্যই চীনা চিকিৎসকরা সঠিক খাদ্যগ্রহণ ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণকে দ্বিতীয় অবস্থানে রেখেছেন।
করোনা ভাইরাসসহ যেকোনো জীবাণু আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে আমাদের প্রয়োজন অতিরিক্ত খাদ্য শক্তি, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস।
কোভিড ১৯- এর কারণে আমাদের হার্ট, লাংস, লিভার, কিডনী এমনকি মস্তিষ্কও ও ক্ষতিগ্রস্হ হতে পারে। হতে পারে পেশীর দুর্বলতা। শ্বাসকষ্টজনিত কারণে রোগীর খাদ্যগ্রহণ ব্যাহত হয় ফলে সৃষ্টি হয় অপুষ্টিজনিত দুর্বলতা। ৫০% রোগীর ক্ষেত্রে পেশী ক্ষয় হয় ফলে সুস্থ হতে আরো দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
দেহের catabolism হয় অন্যদিকে ইনফেকশনের কারণে স্বাদ ও খাবার গ্রহণের ইচ্ছা কমে যায় ফলে রোগীর দেহ শীর্ণকায় হয়ে পড়ে।
করোনাক্রান্ত রোগীরা করোনা পরবর্তী সময়ে যাতে অপুষ্টিতে না ভোগেন তাই কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি।
√ উচ্চমাত্রায় প্রথম শ্রেনীর প্রোটিন খেতে হবে, যাতে পেশীর ক্ষয় কমানো যায় পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
√ মৌসুমি ফল ও সবজি থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেলস গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। যাতে দেহে সৃষ্টি অবসাদ ও ইনফ্লামেশন কমে।
√ এন্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার যেমন- তিসি, কালোজিরা, মেথি খাওয়া যেতে পারে শরীরের অবসাদ দূর করতে।
√ এ সময় খাবারে রুচি থাকে না বললেই চলে তাই খিচুরি, পায়েস, পাউরুটি, দুধ, আলু, বাদাম, খেজুর ও ড্রাইড ফ্রুটস জাতীয় খাবার খেলে সহজে শক্তি পাওয়া যায় এবং ইমিউনিটিও বুস্ট হয়।
সবচেয়ে বড় কথা কোভিড পরবর্তী অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বারে বারে অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

মোঃ জামশেদ আলম: ডায়েটিশিয়ান, ইমপেরিয়াল হসপিটাল লিমিটেড, চট্টগ্রাম।

11/03/2021

বিভিন্ন ভাষার শব্দ মনে রাখার কৌশল!

** পর্তুগীজ শব্দ মনে রাখার কৌশল
গীর্জারপাদ্রী চাবি দিয়ে গুদামের আলমারি খুলে তাতে আনারস পেঁপে পেয়ারা আলপিন ও আলকাতরা রাখলেন। কেরানি দিয়ে কামরা পরিষ্কার করে জানালা খুলে দিলেন। তারপর পেরেক ইস্ত্রি ইস্পাত ও পিস্তল বের করে বালতিতে রেখে বোমা বানালেন।

শব্দঃ গির্জা, চাবি, গুদাম, আলমারি, আনারস, পেঁপে, পেয়ারা, আলপিন, আলকাতরা, কেরানি, কামরা, জানালা, পেরেক, ইস্ত্রি, ইস্পাত, পিস্তল, বালতি, টুপি, সাবান, বোতাম, পাউরুটি, মিস্রি, পেরেক, ইংরেজ, নিলাম ও বেহালা ইত্যাদি ।

**তুর্কি শব্দ মনে রাখার কৌশল
বিবি বেগম কোর্মা খায় বাহাদুর দেশচালায়। দারোগা বাবু তাকিয়ে দেখে গালিচায়কুলির লাশ। চাকু হাতে বাবুর্চি তাইদেখে হতবাক।সুলতান মাহমুদ বন্দুকনিয়ে দৌড়ে পালায় ।

শব্দঃ বাবা, দারোগা, কুলি, লাশ, চাকু, বাবুর্চি , সুলতান, বন্দুক , বারুদ , চাকর, মুচলেকা ।

**আরবি শব্দ মনে রাখার কৌশল
আরবে ইসলামে বিশ্বাসী ঈমানদার ওযু গোসল করে হাদিস কোরয়ান তসবি পড়ার পর হজ যাকাত ও কোরবানী করে হারাম হালাল ও আল্লাহর পথ মেনে চলে জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম হতে মুক্তির জন্য। উকিল মোক্তার মক্কেল, মুন্সেফ কিতাব,কানুন, দোয়াত,কলম নিয়ে মহকুমা আদালতে এজলাসে বসে রায় খারিজ করেন। ঈদের দিন আলেম এলেম, ইনসান বলে মুসাফির লেবুর ব্যবসায় লোকসানে আছি। বাকির ওজর কেচ্ছা দালালি বাদ দিয়ে নগদ দাও।

শব্দঃ ঈমানদার, ওযু, গোসল, হাদিস, কোরয়ান, তসবি, হজ, যাকাত, কোরবানী, হারাম, হালাল, আল্লাহ, জান্নাত,জাহান্নাম, উকিল, মোক্তার, মক্কেল, মুন্সেফ, কিতাব,কানুন, দোয়াত,কলম,মহকুমা, আদালত, এজলাস, রায়, ঈদ, আলেম, এলেম, ইনসান, মুসাফির, লেবু, ব্যবসা, লোকসান, বাকি, ওজর, কেচ্ছা, দালালি ও নগদ।

** মায়ানমার (বর্মি) শব্দ মনে রাখার কৌশল
বর্মিরা লুঙ্গি ফুঙ্গি পছন্দ করে।
শব্দঃ লুঙ্গি ,ফুঙ্গি

** পাঞ্জাবি শব্দ মনে রাখার কৌশল
শিখদের কাছে পাঞ্জাবির চাহিদা অনেক।

** দেশি শব্দ মনে রাখার কৌশল
এক গঞ্জের কুড়ি ডাগড় টোপর মাথায় দিয়ে চোঙ্গা হাতে পেটের জ্বালায় চুলা কুলা ডাব ও ডিংগা নিয়ে টং এর মাচায় উঠল।

শব্দঃ গঞ্জ , কুড়ি, ডাগড়, টোপর, চোঙ্গা, চুলা,কুলা, ডাব, ডিংগা, টং ,মাচা ইত্যাদি ।

** ফারসি শব্দ মনে রাখার কৌশল
ফরিয়াদি সালিশের জন্য মুনশীর কাছে নালিশ করতে গেলে বেগম বাদশাহ, জমিদার আসামীকে জরিমানা ও খাজনা দিতে বলল। আফসোস, আলুর আমদানী রপ্তানী কম হওয়ায় বাগান থেকে বস্তা ভরে মরিচ, সবজি, পশম নিয়ে পাইকারী বিক্রেতা চশমা পরা চশমখোরের কারসাজিতে বদমাস জানোয়ার সুজমিয়ার আস্তানাতে নিয়ে গেল।

** ওলন্দাজ শব্দ মনে রাখার কৌশল
ওলন্দাজরা ইস্কাপন , টেক্কা , তুরুপ , রুইতন , হরতন দিয়ে তাস খেলে
শব্দঃ ইস্কাপন , টেক্কা , তুরুপ , রুইতন , হরতন , চিরাতন , ইস্কুল

19/02/2021

The official language of OIC :

1) Arabic
2) English
3) French

* Farsi is not the official language of OIC

16/01/2021

জ্যামিতির মহা এপিসোডঃ
এক নজরে জ্যামিতির সকল সংজ্ঞা।

❑ সূক্ষ্মকোণ (Acute angle) : এক সমকোণ (৯০°) অপেক্ষা ছোট কোণকে সূক্ষকোণ বলে।

❑ সমকোণ (Right angle) : একটি সরল রেখার উপর অন্য একটি লম্ব টানলে এবং লম্বের দু’পাশে অবস্থিত ভূমি সংলগ্ন কোণ দুটি সমান হলে, প্রতিটি কোণকে সমকোণ বলে। এক সমকোণ= ৯০°

❑ স্থূলকোণ (Obtuse angle) : এক সমকোণ অপেক্ষা বড় বিন্তু দুই সমকোণ অপেক্ষা ছোট কোণকে সথূলকোণ বলে।

❑ প্রবৃদ্ধ কোণ (Reflex angle) : দুই সমকোণ অপেক্ষা বড় কিন্তু চার সমকোণ
অপেক্ষা ছোট কোণকে প্রবদ্ধ কোণ বলে। অর্থাৎ ৩৬০° > x ১৮০° হলে x একটি প্রবৃদ্ধ কোণ।

❑ সরল কোণ (Straight angle) : দু’টি সরল রেখাপরস্পর সম্পর্ণ বিপরীত দিকে গমন করলে রেখাটির দু’পাশে যে কোণ উৎপন্ন হয় তাকে সরলকোণ বলে। সরলকোণ দুই সমকোণের সমান বা ১৮০°।

❑ বিপ্রতীপ কোণ (Vertically Opposite angle ) : দু’টি সরল রেখা পরস্পর ছেদ করলে যে চারটি কোণ উৎপন্ন হয় এদের যে কোন একটিকে তার বিপরীত কোণের বিপ্রতীপ কোণ বলে।

❑ সম্পূরক কোণ(Supplementary angle ) : দু’টি কোণের সমষ্টি ১৮০° বা দুই সমকোণ হলে একটিকে অপরটির সম্পূরক কোণ বলে।

❑ পূরককোণ (Complementary angle) : দু’টি কোণের সমষ্টি এক সমকোণ বা ৯০° হলে একটিকে অপরটির পূরক কোণ বলে।

❑ একান্তর কোণ : দু’টি সমান্তরাল রেখাকে অপর একটি রেখা তির্যকভাবে ছেদ করলে ছেদক রেখার বিপরীত পাশে সমান্তরাল রেখা যে কোণ উৎপন্ন করে তাকে একান্তর কোণ বলে। একান্তর কোণগুলো পরস্পর সমান হয়।

❑ অনুরূপকোণ: দু’টি সমান্তরাল সরল রেখাকে অপর একটি সরল রেখা ছেদ করলে ছেদকের একই পাশে যে কোণ উৎপন্ন হয় তকে অনুরূপ কোণ বলে। অনুরূপ কোণগুলো পরস্পর সমান হয়।

❑ সন্নিহিতকোণ: যদি দু’টি কোণের একটি সাধারণ বাহু থাকে তবে একটি কোণের অপর কোণের সন্নিহিত কোণ বলে।

❑ ত্রিভূজ (Triangle): তিনটি সরলরেখা দ্বারা সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রকে ত্রিভূজ বলে।

❑ সুক্ষ্মকোণী ত্রিভূজ (Acute angle triangle ) : যে ত্রিভূজের তিনটি কোণই এক সমকোণ(৯০° ) এর ছোট তাকে সূক্ষ্মকোণী ত্রিভূজ বলে।

❑ স্থূলকোণী ত্রিভূজ (Obtuse angled triangle) : যে ত্রিভূজের একটি কোণ স্থূলকোণ বা এক সমকোণ অপেক্ষা বড় তাকে স্থূলকোণী ত্রিভূজ বলে। কোন ত্রিভূজের একের অধিক স্থূলকোণ থাকতে পারে না।

❑ সমকোণী ত্রিভূজ (Right angled triangle) : যে ত্রিভূজের একটি কোণ সমকোণ তাকে সমকোণী ত্রিভূজ বলে। কোন ত্রিভূজে একটির অধিক সমকোণ থাকতে পারে না। সমকোণী ত্রিভূজের সমকোণের বিপরীত বাহুকে অতিভূজ এবং সমকোণ সংলগ্ন বাহুদ্বয়ের একটিকে ভূমি এবং অপরটিকে লম্ব বলা হয়।

❑ পরিবৃত্ত : তিনটি শীর্ষবিন্দু যোগ করে যেমন একটিমাত্র ত্রিভুজ হয় তেমনি তিনটি বিন্দু (শীর্ষ)গামী বৃত্তও একটিই, এর নাম পরিবৃত্ত।

❑ পরিকেন্দ্র : পরিবৃত্তের কেন্দ্র (যে বিন্দু ত্রিভুজের শীর্ষত্রয় থেকে সমদূরত্বে স্থিত)।

❑ চতুর্ভুজ : চারটি রেখাংশ দিয়ে সীমাবদ্ধ সরলরৈখিক ক্ষেত্রের সীমারেখাকে চতুর্ভুজ বলে।

বিকল্প সংজ্ঞা: চারটি রেখাংশ দিয়ে আবদ্ধ চিত্রকে চতুর্ভুজ বলে।

❑ কর্ণঃ চতুর্ভুজের বিপরীত শীর্ষ বিন্দুগুলোর দিয়ে তৈরি রেখাংশকে কর্ণ বলে। চতুর্ভুজের কর্ণদ্বয়ের সমষ্টি তার পরিসীমার চেয়ে কম।

❑ চতুর্ভুজের বৈশিষ্ট্যঃ চারটি বাহু, চারটি কোন, অন্তর্বর্তী চারটি কোনের সমষ্টি ৩৬০°।

❑ সামান্তরিক: যে চতুর্ভুজের বিপরীত বাহুদ্বয় সমান ও সমান্তরাল এবং বিপরীত কোণগুলো সমান (কিন্তু কোণ গুলো সমকোন নয়), তাকে সামান্তরিক বলে। সামান্তরিকের কর্ণদ্বয় পরস্পরকে সমদ্বিখণ্ডিত করে।

❑ আয়ত: যে চতুর্ভুজের বিপরীত বাহুগুলো সমান ও সমান্তরাল এবং প্রতিটি কোণ সমকোণ, তাকে আয়ত বলে।

❑ বর্গক্ষেত্র: বর্গক্ষেত্র বলতে ৪টি সমান বাহু বা ভূজ বিশিষ্ট বহুভূজ, তথা চতুর্ভূজকে বোঝায়, যার প্রত্যেকটি অন্তঃস্থ কোণ এক সমকোণ বা নব্বই ডিগ্রীর সমান।

❑ রম্বসঃ যে চতুর্ভুজের চারটি বাহুর দৈর্ঘ্য পরস্পর সমান তাকে রম্বস বলে।রম্বস হলো সামান্তরিকের একটি বিশেষ রূপ অর্থাৎ সামান্তরিকের সন্নিহিত বাহুদ্বয় সমান হলে তখন তা রম্বস হয়ে যায়।(রম্বসের কর্ণদ্বয় পরস্পরকে সমকোণে সমদ্বিখণ্ডিত করে।রম্বসের বিপরীত কোণগুলো পরস্পর সমান।)

❑ ট্রাপিজিয়াম (Trapezium) : যে চতুর্ভুজের একজোড়া বিপরীত বাহু সমান্তরাল কিন্তু অসমান তাকে ট্রাপিজিয়াম বলে।

❑ বহুভুজঃ একই সমতলে অবস্থিত কতকগুলো রেখাংশ তাদের প্রান্তবিন্দুতে পরস্পর যুক্ত হয়ে যে বদ্ধ সমতলীয় আকৃতি তৈরি করে তাকে বহুভুজ বলে।
(সরলরেখা দ্বারা সীমাবদ্ধ বহুভুজ হয়, বক্র রেখা দ্বারা সীমাবদ্ধ বহুভুজ নয়)

যদি বহুভুজের সবগুলি বাহু ও কোণ সমান হয়, তবে সেটিকে সুষম বহুভুজ বলে।

❑ বিপ্রতীপ কোণঃ কোন কোণের বাহুদ্বয়ের বিপরীত রশ্মি যে কোণ তৈরি করে, তা ঐ কোণের বিপ্রতীপ কোণ বলে।

❑ গোলকঃ দুইটি পরস্পর বিপরীত রশ্মি তাদের সাধারণ প্রান্ত বিন্দুতে যে কোণ উৎপন্ন করে, তাকে সরল কোণ বলে।

❑ প্রবৃদ্ধকোণঃ দুই সমকোণ থেকে বড় কিন্তু চার সমকোণ থেকে ছোট কোণকে প্রবৃদ্ধকোণ বলে।

❑ সমান্তরাল রেখাঃ একই সমতলে অবস্থিত দুটি সরল রেখা একে অপরকে ছেদ না করলে, তাদেরকে সমান্তরাল সরল রেখা বলে।

❑ ছেদকঃ যে সরলরেখা দুই বা ততোধিক সরলরেখাকে ছেদ করে, তাকে ছেদক বলে।

❑ অন্তঃকেন্দ্রঃ ত্রিভুজের কোণত্রয়ের সমদ্বিখন্ডকগুলো সমবিন্দু ।ত্রই বিন্দু ত্রিভুজের অন্তঃকেন্দ্র।

❑ পরিকেন্দ্রঃ ত্রিভুজের বাহুত্রয়ের লম্বদ্বিখন্ডকত্রয় সমবিন্দু। ত্রই বিন্দু ত্রিভুজের পরিকেন্দ্র।

❑ ভরকেন্দ্রঃ ত্রিভুজের কোণ একটি শীর্ষবিন্দু এবং তার বিপরীত বাহুর মধ্যবিন্দুর সংযোজক সরলরেখাকে মধ্যমা বলে। ত্রিভুজের মধ্যমাত্রয় সমবিন্দু। ত্রই বিন্দু ত্রিভুজের ভরকেন্দ্র।

❑ লম্ব কেন্দ্রঃ ত্রিভুজের তিনটি শীর্ষ থেকে বিপরীত বাহুগুলির উপর তিনটি লম্ব সমবিন্দুগামী, এবং বিন্দুটির নাম লম্বকেন্দ্র (Orthocenter )

❑ লম্ববিন্দুঃ ত্রিভুজের শীর্ষত্রয় হতে বিপরীত বাহুর উপর অঙ্কিত লম্বত্রয় সমবিন্দু। ত্রই বিন্দু ত্রিভুজের লম্ববিন্দু।

❑ সর্বসমঃ দুইটি ক্ষেত্র সর্বসম হবে যদি একটি ক্ষেত্র অন্যটির সাথে সর্বতোভাবে মিলে যায়। সর্বসম বলতে আকার ও আকৃতি সমান বুঝায়।

❑ বর্গঃ আয়তক্ষেত্রের দুটি সন্নিহিত বাহু সমান হলে তাকে বর্গ বলে।

❑ স্পর্শকঃ একটি বৃত্ত ও একটি সরলরেখার যদি একটি ও কেবল ছেদবিন্দু থাকে তবে রেখাটিকে বৃত্তটির একটি স্পর্শক বলা হয়।

❑ সাধারণ স্পর্শকঃ একটি সরলরেখার যদি দুইটি বৃত্তের স্পর্শক হয়, তবে বৃত্ত দুইটির একটি সাধারণ স্পর্শক বলা হয়।

❑ আয়তিক ঘনবস্তুঃ তিন জোড়া সমান্তরাল আয়তাকার সমতল বা পৃষ্ট দ্বারা আবদ্ধ ঘনবস্তুকে আয়তিক ঘনবস্তু বলে।

❑ ঘনকঃ আয়তাকার ঘনবস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সমান হলে, তাকে ঘনক বলে।

❑ কোণকঃ কোন সমকোণী ত্রিভুজে সমকোণ সংলগ্ন যে কোন একটি বাহুকে স্থির রেখে ঐ বাহুর চতুর্দিকে ত্রিভুজটিকে ঘুরালে যে ঘনবস্তু উৎপন্ন হয় তাকে সমবৃত্তভুমিক কোণক বলে।

❑ সিলিন্ডার বা বেলুনঃ একটি আয়তক্ষেত্রের যে কোন একটি বাহুকে স্থির রেখে ঐ বাহুর চতুর্দিকে আয়তক্ষেত্রটিকে ঘুরালে যে ঘনবস্তু উৎপন্ন হয় তাকে সমবৃত্তভুমিক বেলুন বলে।

❑বাহু :
❑ ত্রিভুজের বাহু = ৩টি,
❑ চতুর্ভুজের বাহু = ৪টি
❑ বৃত্তের বাহু = নাই,
❑ ঘনকের বাহু = ৮টি
❑ ঘনবস্তুর বাহু = ১২টি
❑ কিছু প্রাসঙ্গিক ইংরেজী শব্দ

Geometry-জ্যামিতি,
Point-বিন্দু্,
Line-রেখা,
Solid-ঘনবস্ত
Angle-কোণ,
Adjacent angle-সন্নিহিত কোণ,
Vertically opposite angles-বিপ্রতীপকোন,
Straight angles-সরলরেখা,
Right angle-সমকোণ,
Acute angle সূক্ষকোণ,

Obtuse angle- স্থুলকোণ ,
Reflex angle –প্রবিদ্ধ কোন,
Complementary angle-পূরক কোণ,
Supplementary angle-সম্পুরক কোণ,
Parallel line-সমান্তরাল রেখা,
Transversal-ছেদক,
Alternate angle-একান্তর কোণ,
Corresponding angle-অনুরূপ কোণ,
In-center – অন্ত-কেন্দ্র,
Circumcenter – পরিকেন্দ্র,
Centroid –ভরকেন্দ্র,
Orthocenter- লম্ববিন্দু,

Equilateral triangle-সমবাহু ত্রিভুজ,
Isosceles angle-সমদিবাহু ত্রিভুজ,
Scalene angle –বিষমবাহু ত্রিভুজ,
Right angled triangle- সমকোণী ত্রিভুজ,
Acute angled triangle-সূক্ষকোণী ত্রিভুজ,
Obtuse angled triangle-স্থুলকোণী ত্রিভুজ,
Congruent – সর্বসম,

Equiangular triangles-সদৃশকোণী ত্রিভুজ,
Quadrilateral- চতুভুজ,
Diagonal-কর্ণ,
Parallelogram- সামন্তরিক,
Rectangle-আয়তক্ষেত্র ,
Square-বর্গ, Rhombus-রম্বস,
Mensuration -পরিমিতি

উল্লেখ্য, বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা ছাড়াও প্রতিযোগিতামূলক চাকুরির পরীক্ষায় জ্যামিতি থেকে প্রশ্ন থাকেই। ভালো লাগলে শেয়ার করুন। সংরক্ষণ না করলে পরে আর খুঁজে পাবেন না।

02/09/2020

জনসচেতনতা

শরীরের উপর মোবাইল ফোনের প্রভাব
Dr. Opurbo Chowdhury
London, England

মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অলস । এই অলসতার কারণ - Inactivity । বাংলা করলে দাঁড়ায় - নিষ্ক্রিয়তা । আমি বলি - অকর্মণ্যতা ।

এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে অনেক । 2002 সাল থেকে 2017, এই সময়কালের মধ্যে মানুষ কী পরিমান অলস হয়েছে ইউরোপে, তা গবেষণা করতে গিয়ে দেখতে পেল যে - ইউরোপে মানুষ আগের চেয়ে 20 পার্সেন্ট বেশি অলস হয়ে গেছে ।

কিন্তু কেন অলস হয়ে উঠেছে ?

শুরুতে উত্তরে বলেছিলাম - এই অলসতার কারণ - নিষ্ক্রিয়তা ।

কিন্তু কি কারনে তাহলে নিষ্ক্রিয় ?

এই শতকে একটি মাত্র জিনিস মানুষকে এতটা অলস করে দিয়েছে । সেটি হল - মোবাইল ফোন । মোবাইল ফোন ! মোবাইল ফোন !

মানুষ এখন টিভির চেয়ে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকে বেশি অথবা মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে অনেক বেশি ।

এক গবেষণায় দেখা গেছে - গড়ে মানুষ এখন দৈনিক সাড়ে তিন ঘন্টা থেকে সাড়ে চার ঘন্টা মোবাইল ফোনে কাটায় ।

গড়ে একটি মানুষ দিনে 58 বার মোবাইল ফোনটি হাতে নেয় ।

প্রেম ট্রেম করলে তো কথাই নেই ! উঠতে-বসতে ফোন-কেও হয়তো চুমু খায় ।

প্রতিদিন তিন ঘন্টার উপর ধরলেও বছরে একটি মানুষ 50 দিন মোবাইল ফোনে কাটায় ।

সে হিসেবে বছরে বারমাসের প্রায় দুই মাস কেটে যায় মোবাইল ফোন দেখে দেখে । জীবনের আর কী বাকী থাকে । আধুনিক মানুষের অদ্ভুত সব ব্যাপার স্যাপার ।

স্মার্টফোন মানুষকে কি আসলেই স্মার্ট করে তুলেছে ! নাকি মানুষ আগের চেয়ে আরো বেশি আনস্মার্ট জীবন যাপন করছে ।

যন্ত্রের সামনে বসে থাকতে-থাকতে মানুষের এই নিষ্ক্রিয়তা শরীরকেও খেয়ে ফেলে ।

যন্ত্রের আনন্দে বিভোর থাকে বলে শরীরের যন্ত্রণা ভুলে থাকে । কিন্তু যন্ত্র থেকে উঠিয়ে নিলে শরীর যে যন্ত্রনা শুরু করে, সেটা আবার কাটাতে পারে না ।

দেখা গেছে 30 থেকে 45 বছর বয়সের লোকেরা বেশি সময় এখন মোবাইল ফোনে কাটায় । কিশোর তরুণরাও এখন একই অনেক সময় দেয় ফোনে । অথচ কিশোর-তরুণদের আরো বেশি উদ্দাম এবং শারীরিক অ্যাকটিভিটিতে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল ।

মানুষ এখন গড়ে তিন ঘন্টা করে সময় দিলে তার দেড় ঘণ্টায় দেয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ।

আর ঠিক এই কারনে এখন দেখা গেছে যে- 40 এর আগেই অনেকের শরীরে ডায়াবেটিস এবং হার্টের বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে ।

সারা পৃথিবীতে এখন প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতি এগারোজনে একজনের ডায়াবেটিস । প্রায় 500 মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিস আক্রান্ত পৃথিবীতে । মানুষের সংখ্যা 8 বিলিয়ন, প্রায় ছয় বিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক ।

বাংলাদেশে এখন 7 মিলিয়ন বা 70 লক্ষ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত । 18 কোটি মানুষের মধ্যে 12 কোটি মানুষ হল প্রাপ্তবয়স্ক । এই 12 কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় এক কোটির কাছাকাছি লোকই ডায়াবেটিস আক্রান্ত ।

পাশের দেশ ভারতেও প্রায় 80 মিলিয়ন লোক ডায়াবেটিস আক্রান্ত এখন ।

সাথে কম বয়সে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মারা যায় এখন হার্টের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ।

ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফোনের অলস জাতি হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রিটিশরা । গবেষণায় দেখা গেছে যে - ব্রিটিশ জনগণ গড়ে 3 ঘন্টা 15 মিনিট প্রতিদিন ফোনের পেছনে ব্যয় করে । শুধু ফোন নিয়ে অযথা বসে থাকার কারণে বছরে প্রায় 80 হাজার এর উপরে মৃত্যু হয় । সারা পৃথিবীতে এরকম অলসতার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে এখন মিলিয়নের মতো ।

পশ্চিমে সরকারগুলো শিশু কিশোরদের দৈনিক দেড় ঘণ্টার বেশি ফোনে সময় না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেন ।

বাংলাদেশ লোকজন গড়ে 4 ঘন্টার উপরে ফোনে সময় দেয় । 5 ঘন্টার উপরে সময় দেয় 28% এর মতো । এমনকি ছয় ঘন্টার উপরেও সময় দেয় 12 পার্সেন্ট এর মতো । তার মধ্যে আবার দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় দেয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ।

ফোনের পেছনে এই নিষ্ক্রিয়তা কিডনি থেকে শুরু করে ডিপ্রেশন, আর্থ্রাইটিস থেকে শুরু করে হজম সমস্যা, ইমিউনিটি থেকে কার্ডিয়াক সমস্যা, কত কিছুতেই যে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, নিজেরাই জানেনা ।

তাহলে কি করবেন ?

• ফোনের ব্যবহার কমিয়ে দিন ।

• নিজেকে অ্যাক্টিভ করুন এবং অ্যাক্টিভ রাখুন ।

• দৈনন্দিন জীবনে পরিশ্রমের কাজ বাড়িয়ে দিন ।

• সে সুযোগ কম থাকলে ব্যায়াম করুন, হাঁটুন ।

• ঘরে মহিলারা কাজের লোকের উপর নির্ভর না করে নিজ হাতে কাজ করুন ।

• ফোনে বেশি অলস সময় না দিয়ে প্রিন্ট ফরমেটে ভালো একটি বই পড়ুন, গান শুনুন, প্রকৃতির কাছে যান, বাগান করুন ।

• সামাজিক সাক্ষাতে গল্প করুন, ফোনে নয় সাক্ষাতে কথা বলুন ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষকে এখন সবচেয়ে বেশি অসামাজিক করে তুলেছে । সামাজিক শব্দটি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে সবচেয়ে বেশি অসামাজিক করেছে মিডিয়াগুলো । এই দানবদের হাত থেকে বেরিয়ে আসুন ।

অ্যান্ড্রয়েড এবং অ্যাপেল, দুটোই একটি সিস্টেম রেখেছে তাদের প্রডাক্টগুলোতে এখন । সেটি হলো - স্ক্রিন টাইম ।

আপনি কত সময় স্ক্রিনে সময় কাটাচ্ছেন, তার একটি সাপ্তাহিক হিসাব দেবে আপনাকে ।

আমি নিজে এটি ব্যবহার করি । কতটা সময় আমি অপব্যয় করছি এখানে, তা বুঝতে পারি এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারি ।

সপ্তাহে আমার স্ক্রিন টাইম সাড়ে ছয় থেকে আট ঘণ্টা মাত্র । সে হিসাবে দৈনিক আমি 50 থেকে 60 মিনিটের বেশি ফোনে সময় দেই না । ধরে নিলাম গড়ে এক ঘন্টা ।

ফেসবুকে লেখালেখি করি । শুধু আমার লেখাটি লিখতেই এখানে আসি । মুখে মুখে ছোট ছোট লেখা লিখি বলে বেশি সময় লাগেনা । এমনকি এই লেখাটিও ফোনে কফি খেতে খেতে মুখে মুখেই লিখছি । সামাজিক মাধ্যমে খুব কম মানুষের লেখা পড়ি । তারচেয়ে বড় কথা - স্বাস্থ্যকে এবং শরীরকে নিরাপদ রাখি । সেটাই জরুরি । নিজেকে উদাহরণ দিয়ে নিজের কথাগুলো এই কারণেই বলা । অ্যাক্টিভ থাকি । নিজ হাতে ঘরের কাজগুলো করি । কাজে কিংবা শপিং বা দূরে ঘুরতে যাওয়া ছাড়া কোথাও ড্রাইভ করি না । এরচেয়ে পায়ে হেঁটে যাই । কখনও হাঁটতে বেরিয়ে হেঁটে হেঁটে অডিও বুক শুনি । সেইভ করতে করতে সকালের নিউজটি শোনা হয়ে যায় । টিভি দেখি না তেমন । গোসল করতে করতে দিনের সবচেয়ে আনন্দময় গানটি শুনে ফেলি । রান্নাঘরে খাবারের আয়োজনে মেতে উঠলে কোন একটি ইন্টারেস্টিং ডিসকাশন ছেড়ে দেই, পডকাস্ট -এ আলোচনা শুনি । গুণী লোকদের লেকচার শুনি । সময় পেলে TED লেকচারে 20 মিনিটের মজার কোনো আলোচনা শুনে নেই ।

কাজের সময় কাজ, পরিশ্রমের সময় পরিশ্রম, বিনোদনের সময় বিনোদন, ঘুমের সময় ঘুম ।

ফোনে সময় দেয়াটুকু নিয়ন্ত্রণ করুন । সামাজিক মাধ্যমে নিজের পছন্দের একটি বলয় তৈরি করুন । ভালো কোন লেখা পেলে মনোযোগ সহকারে পড়ুন । অনেক আবর্জনা এবং অপ্রয়োজনীয় লেখা পড়ে চোখ এবং মাথা নষ্ট না করুন ।

শরীর এবং মন দুটোই ভাল থাকবে ।

একমুখী কোন কিছুই ভালো নয় । ভারসাম্যের আরেক নাম জীবন ।

সূত্র

1. The End of Absence - Michael Harris
2. Marketwatch
3. PsychCentral
4. The Guardian
5. King Juan Carlos University, Spain - Prof. Xian Mayo Mouriz

© অপূর্ব চৌধুরী । চিকিৎসক এবং লেখক । জন্ম বাংলাদেশ, বসবাস ইংল্যান্ড । গ্রন্থ ৭ । উল্লেখযোগ্য বই : অনুকথা, জীবন গদ্য, বৃত্ত ।

Collected from 's BCS specials

01/09/2020

#জিআই(GI) -জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন বা ভৌগােলিক নির্দেশক পণ্য

#জিআই(GI) হলাে – একটি সাইন , যেটা নির্দিষ্ট একটি পণ্যের জন্য ব্যবহার করা হয় , যা কোনাে নির্দিষ্ট ভৌগােলিক এলাকায় ( শহর বা দেশ ) পণ্যের পরিচিতি বহন করে । এতে পণ্যটি ওই দেশের পণ্য হিসেবে খ্যাতি পায় এবং প্রতিযােগিতামূলক বিশ্ববাজারের নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয় ।

#জিআই পণ্য → ৩ টি ;
যথা :
1.জামদানি শাড়ি ( ২০১৬ ) ,
2.ইলিশ ( ২০১৭ ) ,
3.খিরসাপাত আম ( ২০১৯ )

জিআই বা ভৌগােলিক নির্দেশক নিবন্ধন দেয় – মেধাস্বত্ববিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা World Intellectual Property Organization ( WIPO )

26/04/2020

ইচ্ছেমত টাকা ছাপালে কি সমস্যা ???
------------------------

অনেকের মাথায় প্রশ্ন সরকার নিজেই যদি বিলিয়ন-বিলিয়ন টাকা প্রিন্ট করে আমাদের সবার হাতে তুলে দেয়, তাহলেই তো সব আর্থিক সমস্যা এবং করোনার ক্ষতি মিটে যায়! কিংবা, সরকার যদি বস্তা বস্তা টাকা প্রিন্ট করে পদ্মা সেতু, মেঘনা সেতু, বুড়িগঙ্গা সেতু তৈরী করে, তাহলেই বা সমস্যা কোথায়?
অনেক সমস্যা! এত বড় সমস্যার এত সহজ সমাধান হলে তো আর কোন চিন্তাই থাকত না।
চলুন জেনে নেয়া যাক সমস্যাটা কোথায়-
নির্দিষ্ট করে বললে টাকা প্রিন্ট করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তো, সে কীসের ভিত্তিতে টাকা তৈরী করে? সে কি মন চাইলেই যত ইচ্ছা টাকা প্রিন্ট করতে পারে?
টাকা উৎপাদন করার কোনো আবশ্যক নিয়ম নেই। যেকোনো দেশের সরকারের যত ইচ্ছে টাকা প্রিন্ট করার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে কোনো দেশই যত ইচ্ছা টাকা প্রিন্ট করে না, টাকা প্রিন্ট করা হয় সেই দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজন অনুসারে তার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে। টাকা উৎপাদনের পরিমাণের সঙ্গে জড়িত দেশের মানুষের উপার্জন, অর্থনৈতিক চাহিদা, দেশের সম্পদ ইত্যাদি। এর বেশি উৎপাদন করলেই শুরু হয় সমস্যা, দেশের অর্থনীতি ভারসাম্য হারাতে শুরু করে।
ধরুন, একটা দেশে সম্পদ বলতে রয়েছে দশটা আপেল। আর সেই দেশ বছরে ৩০ টাকা প্রিন্ট করে। পরিবহন খরচ, খুচরা মূল্য পাইকারী মূল্য ইত্যাদি জটিলতা বাদ দিয়ে ধরেই নেই প্রতিটি আপেলের মূল্য ৩ টাকা। তাহলে দেশের মোট সম্পদ আর মোট কারেন্সী ভারসাম্যপূর্ণ হল। পরের বছর ঐ দেশটি সর্বমোট ৬০ টাকা প্রিন্ট করল, কিন্তু মোট সম্পদ বলতে দশটি আপেলই রইল। যেহেতু দেশে নতুন কোনো সম্পদ নেই, ওই ১০টি আপেল কেনার জন্য বরাদ্দ হল ৬০টাকা, অর্থাৎ প্রতিটি আপেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেল। এভাবেই দেশের মোট সম্পদের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা উৎপাদন করলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়, টাকার দাম বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। একে বলে মূদ্রাস্ফীতি।
দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে বেশি করে টাকা ছাপিয়ে আর লাভ কি হল? তাই একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রীতিমত গবেষণা করে চাহিদা নির্ধারণ করতে হয়, সেই অনুযায়ী টাকা প্রিন্ট করতে হয়। সাধারণত একটি দেশের জিডিপির ২-৩ শতাংশ টাকা প্রিন্ট করা হয়, তবে উন্নয়নশীল দেশে এই হার আরেকটু বেশি।
এই কারণেই আমরা ইচ্ছামত টাকা তৈরি করে রাতারাতি পদ্মা সেতু বানিয়ে ফেলতে পারি না। তাহলে সেই বাড়তি টাকা শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার, ডিলার, সাপ্লায়ার এবং আরো অনেকের হাত ধরে প্রবেশ করবে মূলধারার অর্থনীতিতে এবং এর বারোটা বাজিয়ে দেবে।
মূদ্রাস্ফীতির কারণে বাড়তি অর্থ কাটাকাটি হয়ে যায় কেবল তা-ই না, এর ফলে দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কীভাবে হয় সেটা জানেন কি?
সঞ্চয়ের মূল্য কমে যাবে। আজকে ১০ টাকা দিয়ে চিপস না কিনে সেটা ব্যাংকে রাখলাম। এখন যদি দুইদিন পরে দেখি একটা চিপসের দাম ২০ টাকা, তাহলে তো সঞ্চয় ব্যাপারটা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা হল!
যে দেশে মুদ্রাস্ফীতি হবে, সে দেশের মুদ্রার দাম অন্যদেশের মুদ্রার তুলনায় কমে যাবে। ধরুন, জার্মানীতে মুদ্রাস্ফীতির হার দিনে ২০%, আর ভারতে ০%। অর্থাৎ ১০০ টাকার একটি দ্রব্যের মূল্য কাল জার্মানীতে হবে ১২০ টাকা, ভারতে ১০০ টাকাই থাকবে। সেক্ষেত্রে ভারতের এক রুপির মূল্য হবে জার্মানীর ১.২০ মার্কের (জার্মানীর মুদ্রা) সমান।
জিম্বাবুয়ের অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতির কথা আমরা জানি। সেখানে এক প্যাকেট পাউরুটি কেনার জন্য এক বস্তা টাকা নিয়ে দোকানে যেতে হত, এমন কথা প্রচলিত আছে। কথাটা খুব একটা ভুলও নয়, বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন জিম্বাবুইয়ান ডলার সেখানে ডালভাত।
অতিরিক্ত ছাপা হওয়া টাকা দিয়ে যে দেশের ঋণই শোধ করেন, যে দেশেই তা খরচ করেন, তা ঘুরেফিরে আবার নিজের দেশেই ফেরত আসবে। কারণ আমাদের দেশের মুদ্রা তো শেষতক আমার দেশের মানুষকেই গ্রহণ করতে হচ্ছে, অন্যান্য দেশে তো এই মুদ্রা দিয়ে কেনাকাটা করতে পারছেন না! সুতরাং বাড়তি টাকাটা ঘুরেফিরে আমাদের দেশের অর্থনীতিতেই প্রবেশ করছে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হল এই টাকা কিন্তু সরাসরি বৈদেশিক ঋণ শোধ করায় ব্যবহার করতে পারছি না, কারণ ঋণের চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট কারেন্সীতে তা শোধ করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা থাকে।
একটা দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন করতে বেশি করে টাকা তৈরি করা কোন সমাধান নয়, সমাধান হল উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। উল্টোভাবে উন্নয়ন করতে গেলে উন্নয়নও উল্টোভাবেই হবে!

#এসো শিখি ডটকম থেকে সংগৃহীত।

26/02/2020

বায়োমেট্রিক পদ্ধতির হুমকি..!!

বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতির প্রলোভনে পড়ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ করে আধুনিক রাষ্ট্রগুলোতে এই পদ্ধতি হয়তো অনিবার্য। তবে এই প্রযুক্তিগুলোর ঝুঁকির বিষয়টি কারোরই ছোট করে দেখা উচিত হবে না।
বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতিগুলো মানুষের পরিচয় যাচাই করার জন্য তাদের আঙুলের বা হাতের ছাপ, মুখমণ্ডল, কণ্ঠস্বর, কনীনিকা, শিরার মানচিত্র এমনকি মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলো ব্যবহার করে। পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাই করতে এবং নিরাপত্তার হুমকি শনাক্ত করতে সরকারগুলো এই প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটাচ্ছে।
বেসরকারি সংস্থাগুলোও বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। স্মার্টফোন লক-আনলক করতে আঙুলের ছাপ ও মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আর্থিক পরিষেবাদিসহ বিভিন্ন পরিষেবার জন্য বিভিন্ন পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে ব্যবহারকারীরা কেবল তাঁদের ফোনের একটি বোতামে আঙুলটি রাখেন অথবা ফোনের ক্যামেরার লেন্সে মুখটি দেখিয়ে দেন।
এটা অবশ্যই সুবিধাজনক। এবং প্রথম নজরে এটিকে অনেক বেশি সুরক্ষিত বলে মনে হতে পারে: কিন্তু আসলে তা নয়। আপনার তথ্য সরকারের কাছে থাকতেই পারে। কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন সেটি তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যায়। গত কয়েক বছরে ফেসবুক-টুইটার তাদের ব্যবহারকারীর এসব তথ্য ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে। বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তারা এসব তথ্য বিক্রি করে। আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে আপনাকে ইন্টারনেটে শনাক্ত করা সহজ হয়। আপনার কাছে তারা বিজ্ঞাপনগুলো সহজে পৌঁছাতে পারে। ফেসবুক, ‍টুইটার শুধু বিজ্ঞাপনের কাজে সীমাবদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপে এগুলো নিরাপদ নয়। আপনার হাতের ছাপ তারা ব্যবহার করে আপনাকে নিঃস্ব করে দিতে পারে!
অন্যান্য অনেক সুবিধাজনক প্রযুক্তির মতো, আমরা বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতির ঝুঁকিগুলোকেও খুব একটা পাত্তা দিই না। ভারত এই ঝুঁকি সম্পর্কে জেনেছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ২১০টি ওয়েবসাইট থেকে আধার তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা থেকে।
মূলত আধার প্রকল্পটির প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সরকারি সুবিধাগুলো পরিচালনা করা এবং সরকারি ভর্তুকির ‘অযাচিত সুবিধাভোগীদের’ নির্মূল করা। তবে এটি এখন অনেক ক্ষেত্রে কাজে লাগছে: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে স্কুলে শিশুদের ভর্তি করা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া—সবকিছুর জন্য এখন আধার কার্ড দরকার। দুর্নীতি রোধে নরেন্দ্র মোদির সরকার প্যান কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, রেশন কার্ড, মিড–ডে মিল, রান্নার গ্যাস, বিমা ইত্যাদিতে আধার কার্ড নম্বর যোগ বাধ্যতামূলক করেছে। ভারতের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ এই প্রকল্পে নাম তালিকাভুক্ত করেছে।
তবে এখন আধার প্রকল্পে গুরুতর দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। বায়োমেট্রিক যাচাই চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত সমাধানের মতো মনে হতে পারে, তবে মানুষের ভুল উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে, বিশেষত যখন ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতিগুলো যথেষ্ট নিখুঁত নয়। ভারতে, সরকার আধার প্রকল্পে প্রচুর মানুষকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করতে চেয়েছিল, তাই ক্ষুদ্র পরিষেবা সরবরাহকারীদের কাছে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁরাই এসব ভুল করেছেন।
যদি আঙুলের ছাপ বা চোখের মণির ছাপ নেওয়ার সময় সেগুলো একটু সরে যায় বা কাত হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে যাচাইয়ের সময় এসব ছাপ মেলে না। এ ছাড়া দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে যেসব শ্রমিক কাজ করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, তাঁদের আঙুলের ছাপ পরিবর্তিত হতে পারে। তখন রেকর্ড করা ছাপের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না।
এ ধরনের ত্রুটিগুলো সংশোধন করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এটা তখন মারাত্মক সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। বায়োমেট্রিক ছাপের সঙ্গে ব্যক্তির আঙুল বা কনীনিকার অমিলের ফলে রেশন নিতে বা মজুরি পেতে বহু লোককে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
ভারতের গুজরাট রাজ্যের পুলিশ সম্প্রতি সিলিকনজাতীয় উপাদানের ওপর ১ হাজার ১০০টির বেশি সুবিধাভোগী ব্যক্তির আঙুলের ছাপ খুঁজে পেয়েছে, যেগুলো কিনা সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা থেকে অবৈধভাবে খাদ্য নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। যেহেতু আমরা যা কিছু স্পর্শ করি সবকিছুর ওপরে আমরা আঙুলের ছাপ রাখছি, তাই আমরা সবাই ঝুঁকির মধ্যে আছি।
বায়োমেট্রিক তথ্য স্থানান্তর এবং সংরক্ষণের সময় আরও ঝুঁকি দেখা দেয়। একবার সংগ্রহ করা হলে, বায়োমেট্রিক তথ্য সাধারণত সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসে স্থানান্তরিত হয়। আর এই স্থানান্তরের সময় তথ্যগুলো হ্যাকড হতে পারে। এমনকি স্থানীয়, বিদেশি বা ক্লাউড সার্ভারগুলোতে আসার পরও তথ্যগুলো যে নিরাপদ, তা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই।
অবশ্যই সব ব্যক্তিগত তথ্যে এই জাতীয় দুর্বলতা বিদ্যমান। তবে কারও বায়োমেট্রিক তথ্যের ফাঁস হওয়াটা, একটি পাসওয়ার্ড বা ক্রেডিট কার্ড নম্বর প্রকাশের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ, আঙুলের বা কনীনিকার ছাপ ধ্বংস করা যায় না। আর আমরাও নতুন কনীনিকা পেতে পারি না।
চীন এবং অন্য কোথাও যেমন ঘটে থাকে তদারকি ও নজরদারি করার জন্য সংগৃহীত বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহারের প্রচেষ্টার ফলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে। এই অর্থে, বিশালসংখ্যক মানুষের বায়োমেট্রিক তথ্যভান্ডার তাঁদের গোপনীয়তার জন্য এক অভূতপূর্ব হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং মাত্র কয়েকটি দেশ তাদের বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়নের কাছাকাছি রয়েছে।
বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতিগুলো আমাদের জীবনের প্রতিটি দিককে ঘিরে রেখেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত নাগরিকেরা ও নীতিনির্ধারকেরা এ পদ্ধতির ঝুঁকিগুলো শনাক্ত না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কারও নিজেকে নিরাপদ বোধ করা উচিত নয়।

সূত্র: প্রথম আলো।
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, ইংরেজি থেকে অনূদিত

জ্যোতি ঘোষ: নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক

22/01/2020

৪১ তম প্রিলি প্রস্তুতি (আন্তর্জাতিক):
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিরোধপুর্ন অঞ্চল ও সংকটের স্বরুপ:
---------------------------------

জেরুজালেম: জেরুজালেম এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত একটি নাম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ায় বিশ্বব্যাপী আবারো আলোচনায় এসেছে এই নামটি। জেরুজালেম শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত সহস্র বছরের প্রাচীন ইতিহাস। বর্তমানে ইসরাইলেই অবস্থিত। এই শহরকে বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর একটি বলে গণ্য করা হয়। তিনটি ধর্মের সঙ্গে খুবই ওতোপ্রতোভাবে ও গভীরভাবে জড়িত জেরুজালেমের নাম। ইহুদী, ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্ম। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি দেশই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে। ফলে এই দুটি দেশের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে এই শহর এবং সেখানে থাকা কিছু বিশেষ ছোট ছোট স্থানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রাচীন কাল থেকেই ভয়াবহ সংঘর্ষ চলে আসছে।

শাত-ইল-আরবঃ
ইরাক -- ইরান যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার মূল কারন ছিল শাত-ইল-আরব জলাধার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে। ১৯৭৯ সালে খোমেনির ক্ষমতায় আরোহনের পরবর্তী কয়েক মাস ‘শাত-ইল-আরব’ এর উভয়পার্শ্বের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে(ইরাক –ইরান) বিরোধ ক্রমশ যুদ্ধের দিকে গড়ায়। এই নদীটি ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের সীমানা হিসেবে চিহ্নিত।

জম্মু ও কাশ্মীরঃ
জম্মু ও কাশ্মীর হল ভারতের কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল যা এতদিন সতন্ত্র রাজ্য ছিলো। কিন্তু এই অঞ্চলটি প্রধানত হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত। ভারতের এই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলটির দক্ষিণে ভারতের হিমাচল প্রদেশ ও পাঞ্জাব রাজ্য দুটি অবস্থিত। জম্মু ও কাশ্মীরের উত্তরে পাক-অধিকৃত গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চল ও পূর্বে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ অবস্থিত। জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকা এই দুই অঞ্চল নিয়ে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে ।
গোলান মালভূমিঃ
গোলান মালভূমি ১১৫০ কিলো মিটার আয়তনের একটি মালভূমি (Heights) যা গোলান পর্বতমালার অংশ। ইসরাইলের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত সিরিয়ার এই অঞ্চলটি ১৯৬৭ সালের আরব ইসরাইলী যুদ্ধে ইসরাইল দখল করে নিয়েছিল। দক্ষিণ পশ্চিম সিরিয়ার একটি পাথুরে মালভূমি হচ্ছে এই গোলান। জায়গাটা বেশি বড় নয়, কিন্তু এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।এটি নিয়ে ইসরাইল আর সিরিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে ।
ডোকলামঃ
ডোকলাম বিবাদ বা ২০১৭ সালের চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধিতা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ও চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির মধ্যকর সীমান্ত বিরোধকে বোঝায়। এই বিরোধ ঘটে চীনের সেনাবাহিনী যখন ডোকলামে সড়ক নির্মান শুরু করে, চীনে ডোকলাম এলাকা ডিক্ল্যাং, বা ডনল্যাং কাওচং (ডনল্যাং চারণভূমি বা চারণভূমির ক্ষেত্র) নামে পরিচিত। ১৬ জুন ২০১৭ সালে চীনের সৈন্যরা নির্মাণাধীন যানবাহন ও রাস্তাঘাট নির্মাণের সরঞ্জাম দিয়ে দখল করে একটি বিদ্যমান সড়কে দক্ষিণমুখী ভাবে ডোকলাম এলাকাতে নির্মান শুরু করে এবং এই অঞ্চলটি নিজের বলে দাবি করে, যখন ভারত ও ভুটান ভুটানের অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে।

নাগার্নো কারাবাখঃ
আজারবাইজানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ছিটমহল নাগার্নো কারাবাখ নিয়ে ১৯৮৮ থেকে ৯৪ সাল অবধি জাতিগত আজেরি ও আর্মেনীয়দের মধ্যে লড়াই চলেছে । ১৯৯৪ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও দুপক্ষ এখনও কোন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। ছিটমহলটিতে বিভিন্ন সময়ে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। নগর্নো কারবাখের দুটো অংশ রয়েছে। জাতিগত আর্মেনীয়রা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নাম কারাবাখ। লাইন অব কন্টাক্ট এ দুই অংশকে বিভক্ত করে রেখেছে।

অরুণাচল প্রদেশঃ উত্তর-পূর্ব ভারতে অবস্থিত ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য। এর দক্ষিণে ভারতের অঙ্গরাজ্য অসম, পশ্চিমে ভুটান, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে গণচীন, এবং পূর্বে মিয়ানমার। অরুণাচল প্রদেশের আয়তন ৮৩,৭৪৩ বর্গকিলোমিটার। চীন অঙ্গরাজ্যটির অংশবিশেষ নিজেদের বলে দাবী করেছে। এর রাজধানী ইটানগর।

স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জঃ দক্ষিণ চীন সাগরে কতকগুলো প্রবাল প্রাচীর এবং দ্বীপপুঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ একটি বিরোধপূর্ণ স্থান। প্রায় ৫ বর্গ কিলোমিটারেরও কিছু কম আয়তনের এই দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা চীন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ব্র“নাই দাবি করে। দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা বিরাজ করে। ১৯৮৮ সালে চীনের সাথে ভিয়েতনামের এক সামরিক সংঘাত ঘটে। দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি দ্বীপ চীনের ও ভিয়েতনামের দখলে রয়েছে। সামরিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকে দ্বীপপুঞ্জটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন । কারণ এটি প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের নৌ চলাচলের পথে অবস্থিত।

কুরিল দ্বীপঃ কুরিল দ্বীপ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়া জাপানের নিকট হতে দ্বীপটি দখল করে নেয়।

শাখালিন দ্বীপপুঞ্জঃ এটা নিয়েও রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ। এখানে রাশিয়ার একটি নৌঘাটি আছে।

সেনকাকুঃ চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলছে। চীনে এটি 'দিয়াওয়াউ' নামে পরিচিত। সেনকাকু দ্বীপ যা জাপানের কাছে পরিচিত, চীনের কাছে দিয়াওউ এবং তাইওয়ানের কাছে তিয়াওউতাই নামে পরিচিত। তবে সেনকাকু নামেই এটি সর্বাধিক পরিচিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একেক সময়ে এটি একেক নামে পরিচিত হয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ এখন জাপানের কাছে। কিন্তু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্ক বা রেষারেষি বন্ধ হয়নি, ক্রমে বেড়েই চলছে।

ফকল্যান্ড দ্বীপঃ
ফকল্যান্ড দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝে ছোট্ট ৭৭৮টি দ্বীপের সমষ্টি। সবথেকে বড় দুটোর নাম পূর্ব এবং পশ্চিম ফকল্যান্ড। দ্বীপপুঞ্জের মোট আকার বেশি না, মাত্র ৪,৭০০ বর্গ মাইল। ১৯৮২ সালে এর জনসংখ্যাও ছিল খুব কম, ১,৮২০ জন মানুষ আর ৪ লক্ষ ভেড়া।। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সেনাবাহিনী এই দ্বীপ দখল করে নেয়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আসলে ব্রিটিশ প্রোটেক্টোরেট। এর অর্থ দ্বীপটি স্বশাসিত এবং এর সামরিক দেখভাল করার দায়িত্ব গ্রেট ব্রিটেনের। দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীরাও প্রায় সকলেই ব্রিটিশ বংশোদ্ভুত ছিল। আর্জেন্টাইনদের কাছে এই দ্বীপপুঞ্জ ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত।

আবু মুসা দ্বীপঃ
আবু মুসা দ্বীপ ইরান-এ অবস্থিত। আবু মুসা দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।১৯৭১ সালে শারজাহতে অনুষ্ঠিত এক সমঝোতা বৈঠকে শারজাহ চুক্তির মাধ্যমে ইরান এর অধিকাংশ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। কয়েক বছর পূর্বে ইরান যোষণা দেয় যে, ইরানই হচ্ছে আবু মূসা দ্বীপ একমাত্র স্বত্বাধিকারী।
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপঃ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধপূর্ণদ্বীপ। ভারতে এই দ্বীপটি পূর্বাশা বা নিউমুর নামে পরিচিত।

সুত্রঃ ১। বিভিন্ন ব্লগ , দেশীয় ,আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম থেকে সংগৃহিত সম্পাদিত একটি লিখা।

#লেখক:
মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Collected from 's BCS specials

Want your business to be the top-listed Government Service in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Chittagong