সাধনপুর ইসলামী পাঠাগার

সাধনপুর ইসলামী পাঠাগার

Share

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সাধনপুরের ছাত্র-জনতার একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংস্থা....

নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক বিশৃংখল পরিবেশ, ঈমান আক্বিদা পরিপন্থি কাজের ব্যাপক বৃদ্ধি, অপসংস্কৃতির সয়লাভ ও ধর্মীয় আদর্শ বিধ্বংশী বিভিন্ন কার্যক্রম গভীর উদ্বেগের সহিত উপলব্ধি করত আদর্শবান ও নৈতিক চরিত্র সম্পন্ন দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরীর উদ্দেশ্যে, ১৯৯৬ সালে সাধনপুরের ছাত্র-জনতার একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংস্থা....

28/05/2026

মুসলিম বঙ্গের কুরবানী🔥

27/05/2026

❤️

পশ্চিম সাধনপুরের কৃতী সন্তান
ডা. আহমদ আলী চৌধুরী — চিকিৎসা, মানবতা ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল নাম।

চট্টগ্রামের পশ্চিম সাধনপুর গ্রামের ইতিহাসে যাঁদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়, তাঁদের অন্যতম হলেন ডা. আহমদ আলী চৌধুরী। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি কর্ম, সততা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর জীবন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং সমাজসেবা, দেশপ্রেম ও মানবকল্যাণে নিবেদিত এক আলোকিত জীবনের ইতিহাস।

এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষানুরাগী পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা ছিলেন মরহুম সফর আলী মুন্সী এবং মাতা মরহুমা নাছিয়া খাতুন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও অধ্যবসায়ী। শিক্ষাজীবনে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগে যোগদান করেন।

চিকিৎসক হিসেবে তাঁর দক্ষতা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা খুব দ্রুতই তাঁকে মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত করে। ব্রিটিশ আমলে তিনি আর্মি মেডিকেল কোরে মেজর পদে উন্নীত হন, যা তাঁর যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার উজ্জ্বল স্বীকৃতি। পরবর্তীতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে—কুমিল্লা, যশোর, খুলনাসহ নানা স্থানে সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি সুনাম অর্জন করেন।

ডা. আহমদ আলী চৌধুরীর কর্মজীবনের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায় ছিল চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রশাসনে তাঁর নেতৃত্ব। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ-এর অধ্যক্ষ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তিনি চট্টগ্রামের প্রথম মুসলিম ব্যক্তি হিসেবে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি সমগ্র বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং সাধনপুর তথা সমগ্র বাঁশখালীবাসীর জন্য এক গর্বের বিষয়। দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থেকে তিনি নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

তাঁর জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল মানবিকতা ও সমাজসেবা। বড় ভাই অধ্যাপক আসহাব উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক ও সাবেক সংসদ সদস্য। ফলে অনেক সময় ডা. আহমদ আলী চৌধুরীর নিজস্ব কৃতিত্ব ও সামাজিক অবদান আড়ালে পড়ে যায়। অথচ গ্রামের মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য ও ভোলার নয়।

তিনি পশ্চিম সাধনপুর গ্রামের অসংখ্য যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর সহযোগিতায় বহু পরিবার জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছিল এবং সংসারের হাল ধরার সুযোগ লাভ করেছিল। একজন অভিভাবকের মতো তিনি এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং সমাজের উন্নয়নে নিরবে কাজ করে গেছেন।

চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল। এলাকার অসহায় ও অসুস্থ মানুষ তাঁর কাছ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেতেন। তিনি চিকিৎসাকে শুধু পেশা হিসেবে দেখেননি; বরং এটিকে মানবসেবার এক মহান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আকুপাংচার চিকিৎসাতেও তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং বহু মানুষ তাঁর চিকিৎসা থেকে উপকৃত হয়েছেন।

তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত স্নেহশীল, বিনয়ী ও সহানুভূতিশীল। সহকর্মী, ছাত্র, রোগী কিংবা সাধারণ মানুষ—সবার প্রতি তাঁর আচরণ ছিল আন্তরিক ও মমতাপূর্ণ। জটিল পরিস্থিতিতেও তিনি ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও মানবিকতা দিয়ে সমস্যার সমাধান করতেন। তাঁর জীবন ছিল কর্ম, আদর্শ ও মানবকল্যাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

২০০৭ সালের ৫ আগস্ট এই গুণী মানুষটি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে মীরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান-এ সমাহিত করা হয়। তবে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর কর্ম, আদর্শ ও অবদান আজও মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।
ডা. আহমদ আলী চৌধুরী নিঃসন্দেহে ছিলেন বাংলাদেশের চিকিৎসা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র—যাঁর স্মৃতি, মানবিকতা ও অবদান চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

23/05/2026

❤️

ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী “বদল মুন্সির ব্রীজ”-
পশ্চিম সাধনপুরের ইতিহাস ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নের এক অনন্য নিদর্শন।

তৎকালীন জমিদার বদল মুন্সি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মাণ করেছিলেন এই শক্তিশালী সেতু এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগ সেই সময়ের মানুষের জীবনযাত্রায় এনে দিয়েছিল নতুন গতি।
বর্তমানে পশ্চিম সাধনপুরের সর্বশেষ সীমানায় বেড়িবাঁধ (ওয়াপদা হাডি) সংলগ্ন রাস্তার পাশে স্লুইসগেটের সাথে আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই ঐতিহাসিক ব্রীজটি। সময়ের নির্মম পরিক্রমায় সংস্কারের অভাবে ব্রীজটির কিছু অংশ ভেঙে গেলেও, এটি এখনো বহন করে চলেছে অতীতের গৌরব, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতি।

এই স্থাপনাটি শুধু একটি সেতু নয়, বরং পশ্চিম সাধনপুরের ইতিহাস, উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের জীবন্ত দলিল।

Photos from সাধনপুর ইসলামী পাঠাগার's post 20/05/2026

ছোট ছোট উপকার পরকালে ছোট থাকবে না

মানুষ মনে করে বড় বড় ইবাদতই হয়তো আখিরাতে বেশি কাজে আসবে। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো—আল্লাহ তা‘আলা ছোট ছোট নেক আমলকেও অত্যন্ত মূল্যবান মনে করেন। একটি হাসি, একটি ভালো কথা, কারো কষ্ট লাঘব করা, পথ থেকে কাঁটা সরিয়ে দেওয়া কিংবা ক্ষুধার্তকে একমুঠো খাবার দেওয়া—এসব সাধারণ কাজই হতে পারে জান্নাতের কারণ।

দুনিয়াতে আমরা অনেক সময় ভাবি, “এত ছোট কাজ করে আর কী হবে?” অথচ আল্লাহর কাছে কোনো নেক আমলই তুচ্ছ নয়। মানুষের উপকারে আসা প্রতিটি কাজই আখিরাতের জন্য সঞ্চয় হয়ে থাকে।

🔸 মানুষের উপকার করা সবচেয়ে প্রিয় আমল

রাসূল ﷺ বলেছেন—
“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সেই, যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে।”
---আল-মু‘জামুল আওসাত, হা/ ৫৯৩৭; সহীহুল জামে‘, হা ১৭৬
একজন মানুষ যখন অন্যের উপকার করে, তখন সে শুধু একজন মানুষের মন জয় করে না; বরং আল্লাহর রহমতও অর্জন করে। তাই একজন মুসলিমের জীবন হওয়া উচিত উপকার, সহানুভূতি ও কল্যাণে ভরা।

🔸 একটি হাসিও সদকা

আমরা অনেক সময় ভাবি সদকা মানেই টাকা-পয়সা দান করা। কিন্তু ইসলামে সুন্দর আচরণও সদকা।

রাসূল ﷺ বলেছেন—
“তোমার ভাইয়ের দিকে হাসিমুখে তাকানোও সদকা।”
----তিরমিজি, হা/১৯৫৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪৭৪

কাউকে হাসিমুখে অভিবাদন দেওয়া, মন খারাপ থাকা কাউকে সাহস দেওয়া, হতাশ মানুষকে সান্ত্বনা দেওয়া—এসব ছোট কাজও আখিরাতে বিশাল সাওয়াবের কারণ হবে।

🔸 পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো

রাস্তার মধ্যে পড়ে থাকা কাঁটা, পাথর, কাঁচ বা কোনো ক্ষতিকর জিনিস সরিয়ে দেওয়া খুব সাধারণ কাজ মনে হতে পারে। কিন্তু ইসলামে এটাকে ঈমানের অংশ বলা হয়েছে।

একজন ব্যক্তি শুধু পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোর কারণে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছিলেন—এমন বর্ণনাও হাদিসে এসেছে। কারণ ইসলাম মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।

🔸 ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া

এক গ্লাস পানি, এক টুকরো রুটি কিংবা সামান্য খাবার—এগুলো হয়তো আমাদের কাছে খুব ছোট বিষয়। কিন্তু একজন ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে তা অনেক বড় নেয়ামত।

কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা সেই সব মানুষকে বিশেষ মর্যাদা দেবেন, যারা অভাবীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এতিম, মিসকিন, অসহায় ও পথিকদের সাহায্য করা শুধু মানবতা নয়; এটি ইবাদতও।

🔸 কারো দুঃখ হালকা করা

আজকের পৃথিবীতে অনেক মানুষ ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছে। কেউ অর্থকষ্টে, কেউ পারিবারিক সমস্যায়, কেউ মানসিক যন্ত্রণায়। এমন সময়ে কারো পাশে দাঁড়ানো, তার কথা মন দিয়ে শোনা, তাকে সান্ত্বনা দেওয়া—এসবও বড় নেক আমল।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনের কষ্ট থেকে তার কষ্ট দূর করবেন।”
----সহীহ মুসলিম, হা/ ২৬৯৯

🔸 ভালো কথা বলাও নেকি

কঠিন কথা মানুষের হৃদয় ভেঙে দেয়, আর সুন্দর কথা হৃদয় জুড়িয়ে দেয়। তাই ইসলাম আমাদের জিহ্বাকে সুন্দর করতে শিখিয়েছে।
একটি উৎসাহমূলক কথা, একটি দোয়া, একটি নসিহত কিংবা কারো সম্মান রক্ষা করে কথা বলা—এসবও সাওয়াবের কাজ। অনেক সময় একটি ভালো কথাই একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।

🔸 পরিবারে ছোট ছোট সহযোগিতা

ঘরের কাজে সাহায্য করা, মা-বাবার খোঁজ নেওয়া, স্ত্রীর কষ্ট বুঝা, সন্তানের সাথে সময় দেওয়া—এসব কাজও আল্লাহর কাছে মূল্যবান।
রাসূল ﷺ নিজেও পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন। তাই পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীলতা শুধু সামাজিক আচরণ নয়; এটাও সুন্নাহ।

🔸 গোপনে উপকার করার মর্যাদা

সবচেয়ে সুন্দর উপকার হলো, যেটা লোক দেখানোর জন্য নয়; শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। গোপনে কাউকে সাহায্য করা, কাউকে লজ্জা না দিয়ে সহযোগিতা করা—এসব আমলের প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দান করবেন।

🔹 ছোট নেকিকে তুচ্ছ ভাববেন না

অনেক সময় মানুষ বড় কাজের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ছোট ছোট নেক আমলগুলো হারিয়ে ফেলে। অথচ প্রতিদিনের জীবনেই অসংখ্য সুযোগ রয়েছে—

কাউকে সালাম দেওয়া

বৃদ্ধ মানুষকে রাস্তা পার করানো

কারো বোঝা বহনে সাহায্য করা

অসুস্থের খোঁজ নেওয়া

কাউকে ক্ষমা করে দেওয়া

একটি গাছ লাগানো

তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো

মানুষের জন্য দোয়া করা

এসব কাজ হয়তো দুনিয়াতে ছোট মনে হয়, কিন্তু আখিরাতে এগুলোর ওজন অনেক ভারী হতে পারে।

▪️উপসংহার

আমরা জানি না কোন আমলটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে যাবে। হয়তো এমন একটি ছোট উপকার, যেটাকে আমরা গুরুত্বই দিইনি, সেটাই কিয়ামতের দিন নাজাতের কারণ হবে।

তাই আসুন, আমরা ছোট ছোট ভালো কাজকে অবহেলা না করি। প্রতিদিন অন্তত কিছু মানুষের উপকার করার চেষ্টা করি। কারণ—

দুনিয়ায় ছোট মনে হওয়া উপকারগুলো, পরকালে কখনোই ছোট থাকবে না।

----লেখা: আইন উদ্দিন আইনী
:
#হাদিস

05/05/2026

পশ্চিম সাধনপুরের ক্রীড়ার প্রাণপুরুষ: মোহাম্মদ শামশুল আলম (শামশু বদ্দা)...

পশ্চিম সাধনপুরের মাটিতে জন্ম নেওয়া এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের জীবন ও কর্ম শুধু একটি সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না—বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা হয়ে থাকেন অনুপ্রেরণার উৎস। তেমনই এক প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ছিলেন মোহাম্মদ শামশুল আলম, যিনি সবার কাছে অতি আপনজন “শামশু বদ্দা” নামেই পরিচিত ছিলেন।

মরহুম রমিজ আহমদ ও মরহুমা মাহফুজা খাতুনের সন্তান পশ্চিম সাধনপুরের নেজু মন্সির বাড়ির গর্ব শামশু বদ্দা জন্ম গ্রহন করেন ১৯৫৪ সালে । ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল। ফুটবল ও ভলিবল—এই দুই খেলায় তিনি ছিলেন অসাধারণ পারদর্শী। মাঠে তার উপস্থিতি মানেই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কিন্তু আনন্দঘন এক পরিবেশ।

তবে তিনি শুধু একজন খেলোয়াড় ছিলেন না—ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ক্রীড়াপ্রেমী সংগঠক। এলাকার ক্রীড়ার উন্নয়ন, নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল অসামান্য। তিনি বিশ্বাস করতেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
শামশু ভাইয়ের ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত সহজ-সরল ও আন্তরিক। এলাকার ছোট-বড় সবার সঙ্গে তার ছিল হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যার কাছে গেলে কেউ খালি হাতে ফিরত না—না উৎসাহে, না ভালোবাসায়।

গ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে তখন একটি প্রচলিত কথা ছিল—
“ক্রীড়া যেখানে, শামশু বদ্দা সেখানে”—যা তার জীবনের এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।

ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল গভীর ও আবেগময়। বিশেষ করে আর্জেন্টাইন ফুটবলের প্রতি তার ছিল আলাদা টান। সেই সময় এলাকায় টেলিভিশন ছিল খুবই সীমিত; তখন তার চায়ের দোকানটি হয়ে উঠেছিল ক্রীড়াপ্রেমীদের মিলনমেলা। বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা ক্রিকেট বিশ্বকাপ—যে কোনো বড় খেলার সময় সেখানে ভিড় জমাতো অসংখ্য মানুষ। সেই ছোট্ট দোকানটিই হয়ে উঠত আনন্দ, উত্তেজনা আর আবেগ ভাগাভাগির এক অনন্য কেন্দ্র।

জীবনের এই আলোকিত পথচলার মাঝেই হঠাৎ নেমে আসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। ২০০৬ সালের ১৯ জানুয়ারি রহস্যজনকভাবে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। চট্টগ্রামের আনজুমান ইত্তেহাদ, চৈতন্য গলিতে তাকে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে পত্রিকায় ছবি প্রকাশের মাধ্যমে দাফনের পর তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়—যা তার জীবনের মতোই এক বিষাদময় স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

আজ তিনি আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও, পশ্চিম সাধনপুরের প্রতিটি ক্রীড়াঙ্গনে, প্রতিটি তরুণের অনুপ্রেরণায় এবং মানুষের হৃদয়ের গভীরে তিনি বেঁচে আছেন। তার ভালোবাসা, তার ত্যাগ এবং ক্রীড়ার প্রতি তার অদম্য নিবেদন তাকে করেছে অমর।

শামশু ভাই শুধুই একজন খেলোয়াড় ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি সময়ের প্রতীক, একটি ভালোবাসার নাম, একটি প্রেরণার উৎস।

পশ্চিম সাধনপুরের গর্ব এই মানুষটি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে।।

01/05/2026

এমন একদিন আসবে, কোলের ওপর মাথা রেখে চোখ বুজে শুয়ে থাকার জন্য মা’কে এবং একটু জড়িয়ে ধরে কাঁদবার জন্য বাবাকে আর কোনোদিন খুঁজে পাওয়া যাবে না।

যদি আপনার বাবা-মা বেঁচে থাকে, জান্নাতে যাওয়ার দুটো বাড়তি দরোজা এখনও আপনার জন্য খোলা। সুতরাং, দৌঁড়ান...

30/04/2026

একজন নিভৃতচারী আলোর মানুষ: মাওলানা রফিক আহমদ (রহঃ)

মানুষের জীবনে কিছু মানুষ থাকেন, যারা প্রচারের আলোয় আসেন না, কিন্তু তাদের কর্ম ও অবদান চিরকাল মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। তেমনই এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন মরহুম মাওলানা রফিক আহমদ (রহঃ)—পশ্চিম সাধনপুরের ধর্মীয় জাগরণের এক নীরব পথপ্রদর্শক।

আনুমানিক ১৯১৬ সালে সাধনপুরের ঐতিহ্যবাহী শেখ বদলমুন্সী ( মাস্টার ওমর চৌধুরী) বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব থেকেই দ্বীনের প্রতি গভীর অনুরাগ তাকে নিয়ে যায় জ্ঞানার্জনের পথে। কৈয়গ্রাম মাদ্রাসা এবং ভারতের খ্যাতনামা মুরাদাবাদ মাদ্রাসায় তিনি শিক্ষালাভ করেন, যা তার জীবনকে গড়ে তোলে ইসলামের সেবায় নিবেদিত এক আলোকবর্তিকায়।
তার কর্মজীবন শুরু হয় কৈয়গ্রাম মাদ্রাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে। পাশাপাশি তিনি একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তার প্রকৃত অবদান শুরু হয় ১৯৪৭ সালের পর, যখন তিনি নিজ গ্রাম শেখ বদলমুন্সী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর তিনি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও তাকওয়ার সাথে এই দায়িত্ব পালন করেন—যা আজও এলাকার মানুষের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

শুধু মসজিদেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। এলাকার ছেলেমেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ফোরকানীয়া মাদ্রাসায় বিনামূল্যে কোরআন ও নামাজ শিক্ষা দিয়েছেন। তার এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা বহু মানুষকে আলোর পথে নিয়ে এসেছে। তিনি ছিলেন ঐতিহ্যবাহী সাধনপুর আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, যেখানে তিনি শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাওলানা রফিক আহমদ (রহঃ) ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, প্রচারবিমুখ এবং আল্লাহভীরু একজন মানুষ। তিনি কখনো নিজের কাজের প্রচার চাননি, বরং নীরবে কাজ করে গেছেন মানুষের কল্যাণে। পশ্চিম সাধনপুরে আরবী শিক্ষার প্রসার এবং মানুষকে নামাজমুখী করার ক্ষেত্রে তার অবদান অপরিসীম। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের বুজুর্গ, যার জীবন ছিল ইবাদত, দাওয়াত ও মানবসেবার এক অনন্য সমন্বয়।

২০০১ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন, কিন্তু রেখে গেছেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—কিভাবে একজন মানুষ নিঃস্বার্থভাবে একটি সমাজকে আলোকিত করতে পারে।

আজকের এই প্রজন্ম হয়তো অনেকেই তাকে সরাসরি দেখেনি, কিন্তু তার গড়ে দেওয়া পথেই আজও চলমান সাধনপুরের ধর্মীয় পরিবেশ। তার অবদান শুধু স্মৃতিতে নয়, বরং প্রতিটি নামাজে, প্রতিটি কোরআনের তিলাওয়াতে প্রতিফলিত হয়।

আল্লাহ তায়ালা যেন এই মহান আলেমে দ্বীনকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এবং তার রেখে যাওয়া কাজগুলোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন—আমীন।

Photos from সাধনপুর ইসলামী পাঠাগার's post 20/04/2026

গ্রামের প্রথম হাফেজে কোরআন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ তারেক হোসাইন। তাঁর জানাজা আজ সকাল ১০টায় সম্পন্ন হয়েছে।

জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের ছোট ভাই মাওলানা মোহাম্মদ খালেদ হোসাইন। এতে এলাকার গণ্যমান্য আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এবং সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
পশ্চিম সাধনপুরের প্রথম হাফেজে কোরআন হিসেবে তাঁর পরিচয় শুধু একটি উপাধি নয়, বরং এটি এই জনপদের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তাঁর মাধ্যমে এই এলাকায় কোরআনের হিফজের সূচনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার পথ খুলে দেয়।
তাঁর জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে— তিনি শুধু একজন আলেমই নন, বরং মানুষের হৃদয়ের গভীরে জায়গা করে নেওয়া এক প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
পশ্চিম সাধনপুরের প্রথম হাফেজ হিসেবে তাঁর এই অনন্য অবদান এলাকাবাসীর হৃদয়ে চিরদিন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

19/04/2026

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন..পশ্চিম সাধনপুর নিবাসী, শেখ বদল মুন্সী বাড়ীর মরহুম মাস্টার জাকের হোসাইনের প্রথম পুত্র এবং সাধনপুর ইসলামী পাঠাগারের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি আসলাম মাশহাদের সম্মানিত পিতা, পশ্চিম সাধনপুর গ্রামের প্রথম হাফেজে কোরআন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ তারেক হোসাইন আজ বিকাল ৪:৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। আগামীকাল সোমবার সকাল ১০:০০ টায় মরহুমের জানাজার নামাজ শেখ বদল মুন্সী জামে মসজিদের জানাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

মরহুমের ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। আল্লাহ তা’আলা যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেন।
আমিন।

Want your business to be the top-listed Government Service in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


West Shadanpur, Banshkhali
Chittagong