23/03/2026
একটা বিশাআআআল ইম্পর্ট্যান্ট টপিক আছে! এই যে মেয়েদের ফিতরাত নষ্ট হয়েছে, কামাই করতে চায়, বের হতে চায়, এসব নিয়ে তো অনেক কথা হয়!
কিন্তু পুরুষের পুরুষালি ফিতরাত নষ্ট হওয়া নিয়ে কি কথা দেখি? যারা সেলিব্রিটি তারাও শুধু নারীবাদ, নারী অমুক, নারী তমুক এই গান গাইতে দেখি। কিন্তু পুরুষের কথা দেখি না কেন?
পুরুষ যে এখন ঘরের সিদ্ধান্তদাতা নাহ, এইটা কি ভয়ানক নাহ? এই যে তাকে বড় করা হয়েছে তুলুতুলু করে, বড় হওয়ার পর সে শুধু কামাই এ ব্যস্ত, কেউ কেউ তাও নাহ, নিজের কম্ফোর্টজোন ছাড়তে পারবে না, অসংখ্য বেকার পুরুষ, এফোর্ট নাই, সাহস নাই, বাজার-সদাই ঘরে কি হয়, না হয় জানে না, বুড়া বাপ মা বাজার-সদাই করে।
এরপর তাদের বিয়ে শাদি হয়। এইখানে বাচ্চা কবে হবে, কয়টা হবে এইসব বিষয়েও অন্যদের সিদ্ধান্ত তাকে মানতে হয়। কারণ সে ভদ্রলোক। সে শান্তি চায়। ঝামেলা চায় না। এরপর বউ-শ্বাশুড়ির যুদ্ধ হয়। এইখানে তার ভূমিকা, দর্শক। সে জানে না শ্রদ্ধার সাথেই কিভাবে ঘরে কর্তার ভূমিকা রাখতে হবে। তাকে কিছু কিছু সময় জাজ হতে হবে। হয় উল্টা, কাঠগড়ায় বউটাকেই দাঁড়াইতে হয়। বউটা নরম থেকে গরম হয়, সমাধান চায়। এইখানে পুরুষ নিরব। সে ভয়ানক ভীতু, দুর্বল। সে মানসম্মান ভয় পায়। সে বলে, সবর করো।
অবশ্য এইখানে শ্বশুর শ্বাশুড়ি ইহসানের মুখাপেক্ষী না হওয়া সত্বেও বউয়ের যৌবনকাল বাধ্যতামূলক কাটাইতে হয় এইভাবে, গঞ্জনা শুনতে শুনতে, বাচ্চাদের শৈশব হয় চাপে পিষ্ট মায়ের নিঃশব্দ কান্না দেখে, বাবা মায়ের নীরব যুদ্ধ দেখে, কখনো কখনো নিজেরা মার/বকা খেয়ে। সুস্থ পরিবারে সুস্থ সন্তান বড় হয়, এটাই তো না?
বউদের মনে চায়, আসো একটু পাহাড় দেখে আসি। পুরুষ ভয় পায়, কাকে রেখে কাকে নিবে, নেয়ই না তাই। বউদের শখ আহ্লাদ সব মাটি করে অপেক্ষা করতে হয়, করতে করতে একদিন তাদের সুখ আসে। বয়স যখন ত্রিশ পাড়। বউটা এসেছিলো ষোলোতে-কুড়িতে। সে জাতার কলে পিষ্ট হতে হতে ভীষণ টক্সিক একটা মানুষে পরিণত হয়।
পুরুষ কিন্তু পারতো যদি তাকে পুরুষের ফিতরাতে গড়া হতো। যদি বালেগ হলে তাকে বাজারে পাঠাতো, অসুখ হলে বলতো, বাপ আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যা। বাপ! দেখ তো আমার রিপোর্টগুলো, খোঁজ কোথায় দেখাবো। বাপ! তোর আত্নীয়রা আসবে, পুরা আয়োজন তোর দায়িত্বে। আমি শুধু রান্না করবো।
না! বাপকে তারা শেখায় না। তাই পুত্র তাদের পয়ত্রিশে, চল্লিশে এসেও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী। সে বউ শ্বাশুড়ির ঝামেলা মিট করতে গিয়ে পুরা এলাকায় গ্যাঞ্জাম লাগিয়ে ফেলে। সে জানে না, কিভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সে জানে না, ফীল করে না, কনফিডেন্টলি সিদ্ধান্ত নেয়ার গুরুত্ব কি। সে বউটাকে মায়ের কাছে, কিংবা মা'কে বউয়ের কাছে দিনভর ছেড়ে দেয়। দুইটা বারুদ একসাথে হয়ে আগুন জ্বলে দিনের পর দিন।
পুরো কাহিনী উল্টোও হয়। মায়ের দুঃখ দেখে না, খেদমত জানে না, বউ খারাপ। কিন্তু সমাধান করতে পারে না।
কিসের এতো ভয়!? আল্লাহর বেঁধে দেওয়া সীমানাটাই জানে না, অনুভব করে না। দ্বীন বুঝে কিন্তু সমাজের মানুষের কথাকে শরীয়তের চেয়ে বেশি মানে। সমাজ বলবে তমুক আলাদা হয়েছে, সমাজ বলবে বউ ছেড়ে দিয়েছে, সমাজ বলবে এই সেই!
যদি তুমি না-হক্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে না পারো, তুমি তো তোমার দায়িত্ব পালন করছো না। রাস্তায় একটা মানুষ খুন হয়ে যাচ্ছে, তুমি যেন অন্ধ। সমাজে জুলুমের পর জুলুম। তুমি শুধু খাও-দাও-ঘুমাও। তোমার দ্বীন কি, কয়টা নিয়ম পালন! তোমার তো ইতিহাস পড়ে, শিখে নিজের মধ্যে প্রয়োগ করার দরকার ছিলো। সরকার জুলুম করে, তুমি ভয়ে নাম নাও না। তুমি কম্ফোর্ট জোনের পূজারী হয়ে গেছো। তুমি রাস্তায় নামতে ভয় পাও, উদ্যোগে নামতে ভয় পাও।
নারীর দায়িত্ব ঘরের মধ্যে স্বামী, সন্তান, সংসার, পরিবার। কিন্তু বাহিরটা কে সামলাবে? কার দায়িত্ব! আল্লাহ যে বলছে, পুরুষ নারীর উপর দায়িত্বশীল। এই আয়াতটা বুঝে বুঝে পড়লে না কেন? তুমি বাপু দিনভর খবর পড়তে পারো, আড্ডা দিতে পারো ফাও টপিকে, চান্দা দিতে পারো ভয় পেয়ে, তোমার সময় কই কুরআন জানার, বোঝার, সীরাত পড়ার, সীরাত নিয়ে কথা বলার। বলবা কেন? এইগুলা বললে তো মানুষ জেনে যাবে! সব সত্যি জেনে যাবে! তোমাদের ব্যর্থতা বুঝে যাবে। এইজন্য তোমাদের ঘর পড়াশোনা জানা বউ আনে না। সে তো সত্যি বলবে, হক্ক কথা বলবে।

05/03/2025