26/05/2026
গরুগুলোর চোখে মরিচের গুঁড়ো দিয়ে দেয়া হয়েছে, আর জিহ্বায় ডলে দেয়া হয়েছে, চুলকানি পাতা। তাতেও হয়নি, পেটের নিচে আঁড়াআঁড়িভাবে দেয়া হয়েছে বাঁশ, চোয়ালে বাঁধা হয়েছে ঊর্ধ্বমুখী রশি।
এ সব কিছু করা হয়েছে, ঢাকায় আনার পথে দীর্ঘ দুইদিনের যাত্রায় গরুগুলো যেন বসে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা। যন্ত্রণায় সে ছটফট করতে করতেই চলে যাবে দুইদিন।
হাটে যখন তোলা হয়েছে, তাতেও কি মিলেছে স্বস্তি? না, মাথা যথাসম্ভব ঊর্ধ্বমুখী রেখে ছোট করে এভাবে রশি বাঁধা হয়েছে, যেন কোনোভাবেই বসতে না পারে, বসলে ক্রেতাদের দেখানো যাবেনা। ক্রেতারা আকৃষ্ট হবে না।
যতদিন অবিক্রীত অবস্থায় থাকবে, ততদিনই সয়ে নিতে হবে কষ্টের এই সুতীব্র যাতনা।
অন্যদিকে ছাগলের গলায় পাইপ ঢুকিয়ে দিয়ে কল ছেড়ে দেয়ার দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে অন্যত্র। পাঁচ কেজি পানি পেটে পুড়ে দিলেই বেড়ে যাচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা।
অবলা এসব প্রাণীদের ওপর এমনসব অমানবিক জুলুমের সাক্ষী আমি নিজেই। হাটে হাটে ছোটবেলা থেকে প্রচুর ঘুরি, এবারও ঘুরেছি। ব্যাপারীদের সাথে একসাথে বসে ভাতও খেয়েছি। এরকম অসহনীয় বহু জুলুমের কথা ওরাই আমাকে অকপটে বলেছে৷
এতসব ধাপ পেরিয়ে যাবীহাগুলো যখন আপনার হাতে কুরবানি হওয়ার জন্য আপনার গ্যারেজে বা দরজায় অপেক্ষমাণ, তখন কি এই প্রাণীদের প্রতি একটুও মায়া কাজ করছে আপনার? কিছু খাচ্ছেনা দেখে, কীভাবে একটু খাওয়ানো যায়, এ ভেবে বেচাইন হচ্ছে আপনার মন?
একটু গোসল করিয়ে দেয়া, বসার জায়গাটা পরিস্কার করে দেয়া, সুযোগ পেলে আদর করা, এসব কিছুই যদি আপনার ইচ্ছে না করে, সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায় কুরবানির প্রধানতম একটি মাকসাদ লঙ্ঘিত হচ্ছে আপনার অজান্তেই।
অথচ কুরবানির মাকাসিদের প্রধানতম মাকসাদ কিন্তু এটাই যে, আল্লাহ আপনার ত্যাগ দেখতে চান, যেমন দেখতে চেয়েছিলেন হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কাছ থেকে। আল্লাহর আদেশে তিনি নিজ সন্তানকে পর্যন্ত উৎসর্গ করে দিতে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন।
আল্লাহ আপনার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। প্রিয় জিনিসটি আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করে দেয়ার পরীক্ষায় আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন বিকল্প পথ। কিন্তু মাকসাদ কিন্তু অভিন্নই আছে; আল্লাহর জন্য 'প্রিয়' জিনিসের ত্যাগ ও কুরবানি।
কিন্তু কুরবানি তখনই তো কুরবানি, যখন যাবীহা আপনার 'প্রিয়' হয়ে উঠবে। কুরবানি হয়ে যাওয়া যাবিহার জন্য আপনার ভেতরটা লুকিয়ে রাখা বিষণ্ণতায় ভরেই যদি না উঠলো, শুধু ভোজনের আনন্দ মনে কিলবিল করতে থাকল, সে আর কুরবানি কী থাকলো?
যত্ন নিন আপনার যাবীহার। আদর করুন। মমতাভরে পেতে দিন আপনার সব ভালোবাসা, যেন ওরা দু'দিনেই ভুলে যায় ফেলে আসা যাতনার সব ব্যথা, ক্লেশ এবং ক্লান্তি...
#সংগ্রহিত #ঈদমুবারক
02/05/2026
আমাদের স্বাস্থ্য সেবায় ‘দালাল’-এর অবস্থান এখন এক রকমের স্বীকৃত বিষয়ে পরিণত হতে যাচ্ছে। কি কারণে দালাল তৈরি হয়, কিভাবে তারা কাজ করে এবং এর প্রভাব যে কত ক্ষতিকর তা নিয়ে আলাপ করেছি একটি লেখায়। প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক সমকালের মুক্তমঞ্চ বিভাগে। Sadia Mahjabin Imam কে ধন্যবাদ। প্রকাশের পর অনেকেই এই বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন, উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আমার দুইজন স্বনাম ধন্য শিক্ষক ফোন করেছেন Syed Atiqul Haq স্যার ও ফয়েজ স্যার। ডাক্তারদের একটি বড় অংশ এই বিষয়টিকে পেশাগত নৈতিকতার ব্যতয় হিসাবে দেখছেন।
অনেকের আগ্রহ দেখে লেখাটির একটি বিস্তৃত ভার্সন এখানে দিচ্ছি । লেখাটা দীর্ঘ, তাই ধৈর্য ধরে পড়তে হবে।
=========================================
রোগীরা যেভাবে দালালের কাছে জিম্মি
মিলন কিবরিয়া
আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বলি। চল্লিশ বছরের ব্যবধানে দুইটি ভিন্ন চিত্র কিন্তু আবার একই চিত্র। আমার ইন্টার্নিশিপের সময় দেখেছি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরকারী হাসপাতালের বারান্দায় রোগী, অনেক ওয়ার্ডে এক বিছানায় একাধিক রোগী, আউটডোরে উপচে পড়া ভিড়, ভর্তিচ্ছুদের লম্বা লাইন, ভর্তির পর অপারেশনের তারিখের জন্য অনিশ্চিত অপেক্ষা। এখনো তাই। যে কোন সরকারী হাসপাতালে যান কম-বেশি একই চিত্র।
আমরা যে দালালদের দেখি- টেলিভিশনের পর্দায়, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনির কব্জায়, মান্যবরদের সামনে ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তারা প্রায় সকলেই সরকারী হাসপাতাল কেন্দ্রিক। সরকারী হাসপাতালকে ঘিরেই মূলত দালালচক্র গড়ে উঠে। এর বাইরেও দালালেরা আছে। কারণ এই দালালচক্র গড়ে উঠার সকল শর্তই আমাদের বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান এবং দৃশ্যমান। চাহিদার তুলনায় যখন সেবা অপ্রতুল , তখন মধ্যস্বত্বভোগীরা জায়গা করে নিবে।
শহরের হাসপাতালগুলোতে বেশির ভাগ রোগীই আসেন দূর-দূরান্ত থেকে; দুই ধরণের রোগী- জুরুরি রোগী যার তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন ও রুটিন রোগী যারা দীর্ঘদিন ধরে রোগে আক্রান্ত কিন্তু তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। ভর্তিযোগ্য রুটিন রোগিদের অনিশ্চিত ও দীর্ঘ লাইনে পড়তে হয়, অনেকে একাধিক দিন অপেক্ষা করেও কুল-কিনারা করতে পারেন না। অনেক হাসপাতালে সিট সংখ্যার বেশি রোগি ভর্তি করার নিয়ম নেই, সেই রুগি জরুরি হলেও। তখন তাকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়। ভর্তিযোগ্য রুগিদের সংখ্যা ও হাসপাতালের খালি আসন সংখ্যার বিপুল অসমতার কারণে এমনটি হয়। দুইভাবে এই সমস্যার সমাধান হয়। আউটডোরে অপেক্ষমান রোগিকে হাসপাতালের ভিতরের কেউ অর্থের বিনিময়ে সিট পাইয়ে দেয়। অনিচ্ছুক এই অর্থ প্রদানে বাধ্য হয়েও সিট পেয়ে রোগি ও তার আত্মীয়-স্বজন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। অন্ততঃ চিকিৎসা শুরু হলো তা না হলে বাড়ি থেকে যে টাকা-পয়সা নিয়ে রওনা হয়েছিল তা যে ক্রমশঃ কমছিল। এই অসহায় পরিস্থিতিকেই পুঁজি করে দালালদের জন্ম ও প্রবেশ।
আমাদের সরকারী হাসপাতালের আশে-পাশেই বা খানিকটা দূরে গড়ে উঠেছে অনেক প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও হাসপাতাল। সেটাই স্বাভাবিক, যেখানে ভোক্তা বেশি সেখানেই ব্যবসায় সাফল্য। আমরা বলি স্বাস্থ্য সেবা। এখন স্বাস্থ্যসেবা একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসা খাত, অন্য সকল ব্যবসার মতো এই ব্যবসার সাফল্যেও চাই ভোক্তা বা রোগী। এই রোগী পাওয়ার জন্য এদের অনেকে, বলতে গেলে বেশির ভাগই দালাল নিয়োগ করে। দালালদের অনেকে এইসব বেসরকারী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও হাসপাতালের বেতনভোগী কর্মচারী এবং অনেকেই আবার সরকারী হাসপাতালের কর্মচারী। অসহায় রোগীরা দালালদের খপ্পরে পড়ে, না বুঝে বা বাধ্য হয়ে। ভর্তিযোগ্য দুই ধরণের রোগীই এখানে ধরা পড়েন, সিট না পেয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় জরুরি রোগী এবং অপেক্ষায় ক্লান্ত রুটিন রোগী। সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা রোগীর গন্থব্য হয় বেসরকারী হাসপাতাল।
যারা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন তাদের প্রয়োজন হয় রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা। আমরা সকলেই জানি সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এবং স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। একই সাথে এটাও সত্য সকল হাসপাতালে সকল পরীক্ষা হয় না। নানা কারণে এমনটি হয়। হয়তো পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয় যন্ত্রটি সেই হাসপাতালে নেই, থাকলেও সেই সময়ে হয়তো কোন কারণে হাসপাতালে রিএজেন্টের সরবরাহ নেই, অথবা যন্ত্র চালনার জনবলের নিয়োগ নেই বা জনবল সীমিত। যে কোন একটির অভাব থাকলে এই সেবা ব্যহত হবে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা করে ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু করতে হয়। নাই-নাই পরিস্থিতিতে নিরুপায় রোগী ও তার আত্মীয় স্বজনদের নিকটবর্তী ক্লিনিক বা হাসপাতালের দিকে ছুটতে হয়। এইসব ক্লিনিক ও হাসপাতাল নিরবচ্ছিন্ন দিন-রাত সেবা দিচ্ছে, মানে সেবাখাতের বাণিজ্য বিরতিহীন। বছরের সকল দিন, দিনের সকল ঘন্টা। কোথায় গেলে এই পরীক্ষাগুলো করা যাবে তা যেমন হাসপাতালের ভিতর থেকে পরামর্শ দেয়া হয় তেমনি সেইসব ক্লিনিক ও হাসপাতালের বিভিন্ন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা সর্বক্ষণ হাসপাতালে ঘুরঘুর করতে থাকেন। এই দুই দলের মধ্যেও একটা বোঝাপড়া থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট কর্মচারীও থাকে নমুনা সংগ্রহের জন্য। কোন পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের বাহিরে যেতে হলে রোগী বহনের জন্য ওই বেসরকারী হাসপাতাল থেকে থাকে অ্যাম্বুলেন্স বা নির্দিষ্ট যানবাহন। চাকুরিরত দালালদের মাসিক টার্গেট দেয়া থাকে, সেটা পূরণ করার একটা চাপ থাকে। কারণ এই টার্গেট পূরণের উপর নির্ভর করছে বেতন ও চাকুরির স্থায়িত্ব। ফলে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়, এমন অভিযোগ কম নয়। অভিজ্ঞ ও পুরানো দালালদের অনেকে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করেন। তারা নানা হিসাবে দালালি বা কমিশন পান। দালালি-র চেয়ে কমিশন শব্দটি ভদ্রস্থ শোনায়।
সঙ্কটাপন্ন ও মরণাপন্ন রোগীদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিশেষ সেবার প্রয়োজন হয়। নিবিড় পরিচর্যার দরকার হয় অনেকের। তখন আসে আইসিইউ-র প্রশ্ন, নবজাতকের জন্য এনআইসিইউ। চাহিদার তুলনায় সরকারি স্থাপনায় আইসিইউ ও এনআইসিইউ-র শয্যা সংখ্যা অনেক কম। এই ধরণের রোগী আসে উপজেলা বা জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে। অথবা যে হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে সেই হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় বা সেই সময়ে আইসিইউ-তে সিট খালি না থাকায়। বাধ্য হয়ে এই রোগীদের বিকল্প হাসপাতালের সন্ধান করতে হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের পক্ষে সম্ভব নয় সব তথ্য জানা বিশেষত আইসিইউ-র মতো বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে। এই রোগীরা তখন দালালের খপ্পরে পড়ে। অনেকে বুঝলেও কিছু করার থাকে না। দেশের অনেক প্রাইভেট চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান এই বাণিজ্যের সাথে জড়িত। আইসিইউ-কেন্দ্রিক দালালির অর্থমূল্য বেশি। অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারেরা আইসিইউ-কেন্দ্রিক দালালদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষত জেলা-উপজেলা পর্যায়ে। যথাযথ তদারকি না থাকায় চাহিদা পূরণে তৈরি হচ্ছে মানহীন আইসিইউ, যাদের কোন নিবন্ধন বা অনুমোদন নেই; নেই কোন দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও। দালাল ও হাসপাতাল লাভবান হলেও প্রতারিত হচ্ছেন রোগী, চিকিৎসা সেবায় ও অর্থে।
আমাদের গ্রামাঞ্চলের রোগীরা যাদের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন তাদের সবাইকেই ‘ডাক্তার’ বলেন। এমনই ডাক্তারদের একটি দল পল্লী ডাক্তাররা। তাদের বেশির ভাগেরই চিকিৎসা বিষয়ক কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এবং তাদের প্রায় সবাই ঔষধ বিক্রি করেন, দোকান দিয়ে বা ব্যাগে করে। রোগির উপসর্গ শুনে ও ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে ঔষধ দেন। গ্রামের মানুষজন প্রথম ধাপে তাদের কাছেই যান। এদের সাথে উপজেলা ও জেলা শহরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও হাসপাতালের যোগসূত্র থাকে। আমাদের বেসরকারী খাতের স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নেটওয়ার্ক গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। আমাদের এখানে রোগীর পরীক্ষা কে লিখছে কে লেখার হকদার এমন কোন বিষয় নেই। এমনকি যে কোন ব্যক্তি নিজে গিয়ে যে কোন পরীক্ষা করাতে পারেন। পল্লী ডাক্তাররা তাদের নিকট আগত রোগীদের পরীক্ষা করতে পাঠান, ভর্তিযোগ্য হলে তার নেটওয়ার্কের হাসপাতালে পাঠান। এদের অনেকের যোগাযোগ রাজধানী শহর পর্যন্ত। গ্রাম পর্যায়ের পল্লী চিকিৎসক ও ঔষধের দোকানদারদের সাথে বেসরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের এই লেনদেনের বিষয়টি আমরা সবাই কম-বেশি জানলেও তা নিয়ে আলোচনা কম হয়।
এই যে দালালদের দৌরাত্ম যেমনটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার শিকার কারা। আমরা কোন তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই বলতে পারি দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্ন-বিত্ত ও বিত্তহীন মানুষেরা এই দালালচক্রের সহজ শিকার। তারাই সরকারী স্বাস্থ্য সেবার মূল ভোক্তা। তাদের সামর্থ্য সীমিত বা নাই বললেই চলে। জনসংখ্যার বৃহদংশ এরাই। তাদের এমনিতেই সামর্থ্যের অনেক বাইরে গিয়ে চিকিৎসা সেবার ব্যয় বহন করতে হয়। উপরন্তু দালালরা যে অর্থ নিয়ে যায় তা গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো যন্ত্রণা দেয়। বেশির ভাগ রোগী বা রোগীর আত্মীয়-স্বজন টেরই পায় না কিভাবে তার বা তাদের পকেট কাটা হচ্ছে, আবার বুঝলেও কিছু করার থাকে না।
আমাদের সংবিধান চিকিৎসা প্রাপ্তিকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিলেও তা বাস্তবায়নের বাধ্য-বাধকতা আরোপ করে নাই। এই ফাঁক দিয়ে রাষ্ট্র কখনোই স্বাস্থ্য সেবাকে যথাযথ গুরুত্ব ও মনযোগ দেয় নাই। বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ বরাবরই অপ্রতুল, কম-বেশি ৫ শতাংশের আশে-পাশে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ ১৫ শতাংশ। তেমনি ভাবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় স্বাস্থ্য খাতের সরকারি বরাদ্দ ১ শতাংশের কম এবং এই ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ কমপক্ষে ৫ শতাংশ। এর প্রভাব স্বাস্থ্য সেবার প্রতিটি ধাপেই দৃশ্যমান। দেশে জনপ্রতি স্বাস্থ্য সেবায় ব্যয় ৫৮ ডলার। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আমাদের পিছনে আছে পাকিস্তান ও আফগানিস্থান। শীর্ষে আছে মালদ্বীপ, জনপ্রতি ব্যয় ১ হাজার ডলারের বেশি। স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের করুণ অবস্থা এর ভিতর দিয়ে স্পষ্ট হয়। ফলে জনগণকে নিজের পকেট থেকে ব্যয় করতে হচ্ছে (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার)। এই হার অনেক বেশি প্রায় ৭০ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিবার এই অবস্থায় বিপর্যয়কর ব্যয়ের মুখোমুখি হয়। বিপর্যয়কর ব্যয় বলতে বোঝায় স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণে যখন একটি পরিবার মোট আয়ের ১০ শতাংশের বেশি ব্যয় করে। আমাদের দেশে প্রায় এক চতুর্থাংশ পরিবারকে তা করতে হয়। এবং তা করতে গিয়ে প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। রাষ্ট্রের অনীহা ও সেবাগ্রহীতাদের চাহিদার এই বিপুল অসামঞ্জ্যের প্রতিবিধান না করে যাই করা হোক না কেন তা হবে প্রহসনের নামান্তর। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ও দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া এর থেকে উত্তরণের সহজ কোন রাস্তা নেই।
যতই দেরি হবে ততই পরিস্থিতি খারাপ হবে। এরই একটি উদাহরণ দালালি বা কমিশন, ক্রমশঃ একটি স্থায়ী ক্ষত হিসাবে জেঁকে বসছে। আমাদের প্রভূত ক্ষতি করছে।
প্রথম ক্ষতিটি হচ্ছে নৈতিকতার। আমরা সবাই জানি দালালির কাজটি বৈধ নয়। কিন্তু এই কাজটি হচ্ছে, আমাদের চোখের সামনেই হচ্ছে, প্রতিনিয়ত হচ্ছে। এখানে যে আর্থিক লেন-দেন হয় তাও জানি। একটি অপ্রকাশ্য আর্থিক নেটওয়ার্ক এখানে কাজ করে। ক্রমেই এটা আমাদের গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে। অবৈধ এক কাজটি ধীরে ধীরে অনিচ্ছা সত্ত্বেও গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। সামাজিক নৈতিকতার বিচারে এটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয়।
একই সাথে স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস হারাচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো আসলেই প্রয়োজনীয় কিনা বা সবগুলোই প্রয়োজনীয় কিনা এমন সন্দেহের উদ্রেক হচ্ছে। আমার সব পরীক্ষা আসলেই করেছে নাকি এক বা একাধিক পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিয়ে দিচ্ছে। যেখানে অর্থ নিয়ামক শক্তি সেখানে ব্যক্তিগত লাভালাভ ও মুনাফা রোগমুক্তির চেয়ে বেশি মনযোগ পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আবার আমাদের নেই নিয়মিত ও কার্যকরী মনিটরিং এর ব্যবস্থা। কোন সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। হঠাৎ হঠাৎ খুব তোড়জোড় করে অভিযান চালানো হয় বিশেষ করে গণমাধ্যমে কোন সংবাদ এলে। কিছুদিন হৈ চৈ এর পর তা মিইয়ে যায়।
স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়,কোন সুযোগ নয়; এটি একটি মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত না হলে দালালচক্র বন্ধ হবে না—বরং আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে। যত দেরি হবে, সংকট তত গভীর হবে।
#সংগ্রহিত
#স্বাস্থ্য_সেবার
#রোগীরা_যেভাবে_দালালের_কাছে_জিম্মি
23/04/2026
শুক্রবার বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়ুন।
আল্লাহ আমাদের দয়া ও ক্ষমা করুন।আল্লাহুম্মা আমীন।
22/04/2026
মাত্র ২টা আয়াত — সারারাতের সুরক্ষা! 🌙
নবীজি ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়বে, এটাই তার জন্য যথেষ্ট।"
(সহীহ বুখারী: ৫০০৯)
"কাফাতাহু" — মানে যথেষ্ট।
কিসের জন্য যথেষ্ট?
✅ সব বিপদ থেকে
✅ সব শয়তানি থেকে
✅ সব অনিষ্ট থেকে
মাত্র ২টা আয়াত। ১ মিনিটও লাগে না পড়তে। আর সারারাতের সুরক্ষা!
আজ রাত থেকেই শুরু করুন। ঘুমানোর আগে সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়ুন।
কমেন্টে বলুন — "ইনশাআল্লাহ" 💚
#সূরাবাকারা
21/04/2026
সেই মহিলা যিনি জান্নাতে গেলেন একটি কুকুরকে পানি পান করিয়ে 🐕💧
আজ একটা হাদিস পড়লাম, সত্যিই চোখে পানি চলে এলো। শেয়ার না করে পারলাম না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
একজন মহিলা পথ চলছিল। প্রচণ্ড গরম। হঠাৎ সে একটি কুয়ার পাশে একটি কুকুর দেখলো। কুকুরটি পিপাসায় এতটাই কাতর ছিল যে, জিহ্বা বের করে হাঁপাচ্ছিল এবং পিপাসায় মাটি চাটছিল।
মহিলাটি ভাবলো—"এই প্রাণীটি যে পিপাসায় মরে যাচ্ছে!"
কিন্তু সমস্যা হলো, তার কাছে কোনো পাত্র নেই। কুয়া অনেক গভীর।
তখন সে কী করলো জানেন?
সে তার চামড়ার মোজা খুলে নিলো, সেটা দিয়ে কুয়া থেকে পানি তুলে কুকুরটিকে পান করালো। বারবার পানি তুলে তার তৃষ্ণা মেটালো।
আল্লাহ তায়ালা তার এই ছোট্ট কাজের জন্য তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং জান্নাত দান করলেন!
সুবহানাল্লাহ! 😭
সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন—"ইয়া রাসুলাল্লাহ! পশুদের ব্যাপারেও কি আমাদের সওয়াব আছে?"
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: "প্রতিটি প্রাণীর প্রতি দয়া করার মধ্যে সওয়াব রয়েছে।"
(সহিহ বুখারী: ২৪৬৬, সহিহ মুসলিম: ২২৪৪)
এখন চিন্তা করুন—
একজন মহিলা, যার জীবনে হয়তো অনেক গুনাহ ছিল, কিন্তু একটি কুকুরের প্রতি দয়া দেখানোর কারণে আল্লাহ তাকে জান্নাত দিয়ে দিলেন!
আর আমরা?
রাস্তায় ক্ষুধার্ত বিড়াল দেখলে লাথি মারি। গরমে পাখিরা পানি খুঁজছে, আমরা ছাদে একটা পাত্রে পানি রাখার কথাও ভাবি না। রাস্তার কুকুর দেখলে ঢিল ছুঁড়ি।
অথচ রাসুল (সা.) আরও বলেছেন:
"একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে যেতে হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল, না খেতে দিয়েছিল, না ছেড়ে দিয়েছিল যাতে সে নিজে খেতে পারে।"
(সহিহ বুখারী: ৩৪৮২)
ভাবুন তো—একটা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার কারণে জাহান্নাম!
আজ থেকে চেষ্টা করি:
✅ ছাদে/বারান্দায় পাখিদের জন্য পানি রাখি
✅ রাস্তার প্রাণীদের সাথে ভালো ব্যবহার করি
✅ সম্ভব হলে খাবার দেই
হয়তো এই ছোট্ট কাজটাই আমাদের জান্নাতের কারণ হয়ে যাবে!
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হওয়ার তৌফিক দিন। আমিন। 💚
শেয়ার করুন, হয়তো কেউ এই হাদিস পড়ে একটা প্রাণীর উপকার করবে। সেটাও আপনার আমলনামায় যুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।
#হাদিস #ইসলামিকগল্প #দয়া
19/04/2026
সুবহানাল্লাহ! 🤲
আজ ফজরের নামাজ পড়ে বারান্দায় বসে ছিলাম। হঠাৎ দেখি একটা ছোট্ট পাখি এসে জানালার কার্নিশে বসলো। কী নিশ্চিন্তে বসে আছে, কোনো চিন্তা নেই—আল্লাহ তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দিবেন এই বিশ্বাসেই তো সে বেঁচে আছে!
আর আমরা মানুষ? সারাদিন দুশ্চিন্তায় পুড়ি—চাকরি হবে কি না, টাকা জমবে কি না, ভবিষ্যৎ কী হবে! অথচ আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন:
"وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ"
(ওয়া মাঁই ইয়াতাওয়াক্কাল আলাল্লাহি ফাহুয়া হাসবুহু)
অর্থ: "যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।" (সূরা তালাক ৬৫:৩)
সত্যি বলতে, এই আয়াতটা মনে আসার পর থেকে অনেক হালকা লাগছে। মনে হচ্ছে—হ্যাঁ, আমি চেষ্টা করবো পুরোপুরি, কিন্তু ফলাফলটা আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিবো।
আপনারা কি কখনো অনুভব করেছেন? যখন সব কিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দেন, তখন একটা অদ্ভুত শান্তি আসে মনে?
আসলে তাওয়াক্কুল মানে তো অলস হয়ে বসে থাকা না। তাওয়াক্কুল মানে—পুরো শক্তি দিয়ে চেষ্টা করো, তারপর ফলাফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও। উটটাকে বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করো—এটাই তো হাদিসে বলা আছে!
আজ থেকে ঠিক করলাম, প্রতিদিন সকালে ৭ বার এই দোয়াটা পড়বো:
"حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ"
(হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু)
অর্থ: "আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমি তাঁরই উপর ভরসা করি।"
আপনারাও চেষ্টা করে দেখুন না! কমেন্টে জানাবেন কেমন লাগলো। 💚
#তাওয়াক্কুল #আল্লাহরউপরভরসা #ইসলামিকচিন্তা #দৈনন্দিনইসলাম
13/04/2026
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ 🌺
নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আসুক আপনার জীবনে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর অফুরন্ত সম্ভাবনা।
কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে রাঙানো এই দিনে, আমার পক্ষ থেকে আপনার ও আপনার পরিবারের সকলের জন্য রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
নতুন বছর আপনার জীবনে নিয়ে আসুক—
🌿 সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু
🌿 সমৃদ্ধি ও শান্তি
🌿 সফলতা ও আনন্দ
🌿 পরিবার-পরিজনের সাথে মধুর মুহূর্ত
এসো হে বৈশাখ, এসো এসো!
পুরাতনকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ করি আমরা সবাই মিলে।
শুভ হোক নতুন বছর! ❤️🌾
অধ্যাপক ডা: দেলোয়ার হোসেন
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ
#পহেলাবৈশাখ #শুভনববর্ষ #নববর্ষ১৪৩৩ #শুভেচ্ছা #বাংলানববর্ষ