13/05/2021
পবিত্র ঈদুল ফিতর আপনি ও আপনার পরিবারের জন্য বয়ে আনুক শান্তি ও কল্যানের বার্তা।
একটি সামাজিক উন্নয়ন মূলক পেইজ
13/05/2021
পবিত্র ঈদুল ফিতর আপনি ও আপনার পরিবারের জন্য বয়ে আনুক শান্তি ও কল্যানের বার্তা।
14/12/2020
মহান বিজয় দিবসে সকল বীর শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি!!
28/08/2020
31/07/2020
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে
আলহাজ্ব মাওলানা মকবুল আহমেদ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে দেশে বিদেশে অবস্থানরত সকলকে জানাই "ঈদ মোবারক",,,
23/07/2020
#কুরবানীর_তাৎপর্য :---------
কুরবানী মুসলিম মিল্লাতের নিকট অতি পরিচিত আবেগময়ী একটি শব্দ যা শুনলে প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির হৃদয়ে সৃষ্টি করে এক পরম পরিত্রানুভূতি কম্পন, মনে পড়ে আল্লাহর প্রিয় খলিল হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ) এর ঐতিহাসিক সাড়া জাগানো সেই ত্যাগের ঘটনা । প্রতি বছরই আমাদের মাঝে কুরবানী আসে আমরা কুরবানী করি কুরবানীর ঘটনা স্মরণ করি আবার সময়ের ব্যবধানে তা হারিয়ে যায় ইতিহাসের অতল গহীনে কিন্তু কেন এই কুরবানী তার তাৎপর্যইবা কি, তা কি আমরা গভীরভাবে ভেবে দেখেছি ? আলোচ্য প্রবন্ধে তারই কিছুটা ইংগিত দেয়ার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ ।
কুরবানীর অর্থ : কুরবানীর শাব্দিক অর্থ ত্যাগ স্বীকার করা স্বেচ্ছায় নিজের স্বার্থকে পরিত্যাগ করা, আত্মত্যাগ বা অপরের জন্য কষ্ট স্বীকার করা ইসলামী পরিভাষায় কুরবানীর অর্থ হলো ১০ই জিলহজ্জ ঈদের নামাজের পর ১২ই জিলহজ্জ মাগরীবের আগ পর্যন্ত আল্লাহর নামে নির্ধারিত কোন (উট/গরু/মহিষ/বকরি/দুম্বা/ভেড়া) পশু জবাই করাকেই কুরবানী বলে ।
কুরবানী কি জন্যঃ
কুরবানী করা আল্লাহর হুকুম। এই হুকুম আল্লাহ কর্তৃক সকল মানব জাতির জন্যই নির্ধারিত ছিল সকল নবীর উম্মতগণকেই এই কুরবানী করতে হয়েছে । পবিত্র কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেনঃ
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِّيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ ۗ فَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا ۗ وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ
আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানী নির্ধারণ করেছি, যাতে (সে উম্মতেরা) তারা আল্লাহর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ কারার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে । অতএব তোমাদের আল্লাহ তো একমাত্র আল্লাহ সুতরাং তাঁরই আজ্ঞাধীন থাক এবং বিনয়ীগণকে সুসংবাদ দাও । সূরা হাজ্জঃ ৩৪ । অপর এক সূরায়
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
নামাজের পরই কুরবানীর হুকুম দিয়ে বলা হয়েছে তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কুরবানী কর সূরা আল্ কাউসারঃ ২
কুরবানীর উদ্দেশ্যঃ
কুরবানীর উদ্দেশ্য কি এ প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) যখন একের পর এক আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শেষ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হলেন সেটি ছিল নিজেরই প্রাণাধিক প্রিয় সন্তান হযরত ইসমাইল (আঃ)কে নিজ হাতে কুরবানী করা যখনই তিনি হীরার ধার তুল্য তীক্ষ ছুরি হাতে নিজের প্রিয় পুত্রের গলায় চালাতে উদ্যত হলেন ঠিক তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতী পশু ছুরির নিচে ধরে আল্লাহ তায়ালা পরম কুদরতে পশু কুরবানী করিয়ে দিলেন এবং সেই সাথে ঘোষণাঃ وَنَادَيْنَاهُ أَن يَا إِبْرَاهِيمُ, قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
হে ইব্রাহীম তুমি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়ে দিয়েছ আমি সৎকর্মশীলদের এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি । নিশ্চিতভাবেই এটি ছিল একটি প্রকাশ্য পরীক্ষা সূরা সাফফাতঃ ১০৪/১০৫ ।
উপরোক্ত আয়াত থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ যাদেরকে ভালবাসেন যাদেরকে প্রিয় বান্দা হিসাবে কবুল করেন তাদের নিকট থেকে এইভাবে জান ও মালের কুরবানী নিয়ে থাকেন অপর কথায় বলা যায়, যারা আল্লাহর এ ধরনের কঠিন পরীক্ষায় নিজের জান ও মালের কুরবানী দিতে পারে তারাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসাবে পরিগণিত হন ।
এছাড়া কুরবানীর আরো একটি উদ্দেশ্য রয়েছে এর মধ্যে প্রথমত কুরবানীর মাধ্যমে আল্লাহর একজন বান্দা এ কথা স্বীকার করে নেয় যে, আল্লাহই একমাত্র মুনিব এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ সারা দুনিয়ার মানুষের উপাসনা/ ইবাদত পাওয়ার একমাত্র অধিকার তারই, তিনিই সার্বভৌমত্বের মালিক এবং তার বিধান ছাড়া আর কারও বিধান মানা যায় না, মানা যেতে পারে না তারই বিধানকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে কোন ত্যাগ কুরবানীর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে ।
কুরবানীর দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো পশু জবাই করার সাথে সাথে নিজের ভিতরের পশুত্বকেও জবাই করে খাঁটি মানুষে পরিণত হতে হবে এই কথাটি বলা হয়েছে পবিত্র কুরআনে لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ ۗ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ
এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া । এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা করো এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন । সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন । সূরা আল হজ্জের ৩৭ ।
পশু কুরবানীর সাথে সাথে একজন মুসলিম তার অন্তর থেকে সকল খোদাদ্রোহী শক্তির ভয় দূর করে একমাত্র আল্লাহর ভয় হৃদয়ে জাগ্রত রাখবে কারণ আল্লাহ অপর এক আয়াতে বলেনঃ وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ ۖ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ
আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনান । যখন তারা ভয়েই কিছু উৎসর্গ নিবেদন করেছিল, তখন তাদের একজনের উৎসর্গ গৃহীত হয়েছিল এবং অপরজনের গৃহীত হয়নি । সে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করবো । সে বললঃ আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন ।
আল্লাহ শুধু মাত্র মুত্তাকীদের কুরবানীই কবুল করেন, সূরা মায়িদাঃ ২৭
কুরবানী মুসলিম উম্মার ঐক্যের এক অনন্য নিদর্শন । ঈদুল আজহার নামাজের পর মুসলমানগণ আল্লাহর হুকুমে তারই নিয়ম মেনে কুরবানী করে এর মধ্যে মুসলমানদের ঐক্য এবং ভ্রাতৃত্ববোধ ভালবাসা জাগ্রত হয়ে দুনিয়ার সকল মুসলমান একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে এ কথাই প্রমাণ করে যে, কুরবানীর হুকুম পালন করা মুসলিম উম্মার ঐক্যের প্রতীক, ঐক্যের সাক্ষী ।