নির্বাচিত কলাম';:
শুধু বিএনপি না, বাংলাদেশের আগামী ৩ টা সরকার একদিনও শান্তিতে থাকতে পারবে না।
চাঁদাবাজি করে, জুলুম করে শান্তিতে থাকা শেষ সরকারটা হাসিনার সরকার।
এরপর আর একটা সরকারও এই সুযোগটা পাবে না।
ইউনূসই কি শান্তিতে আছে? নাই। ছাত্র উপদেষ্টাদেথও তুমুল গালিগালাজ সহ্য করতে হচ্ছে।
দুই উপদেষ্টার পিএসের দুর্নীতি নিয়ে যা হইছে, হাসিনার আমলে মন্ত্রীর দুর্নীতি নিয়েও এতো হাউকাউ হয় নাই।
কেন?
কারণ ৫ আগস্টের পর থেকে মানুষের ভয় ডর চলে গেছে। সবার হাতে মোবাইল ফোন। দেশ ভর্তি সাংবাদিক। একটা কিছু করবেন, ভিডাওটা জাস্ট আসবে।
এরপরের ধাপের জন্য আমরা আছি।
আমাদের পর আসতে শুরু করবে মিমাররা। জাস্ট একটা ভুল করে দেখেন, মানুষ আপনাকে জোক বানাইয়া ছাইড়া দেবে।
এইটা কারো ষড়যন্ত্র না।
এইখানে ষড়যন্ত্র খুজে লাভ নাই।
অমুক দল,তমুক দল আপনাকে শান্তিতে সরকার চালাতে দিবে না, এসব কান্নাকাটির ভাত নাই।
শান্তিতে থাকতে হলে নিজেদের আগে শান্তিপ্রিয় বানাতে হবে। সাবধানে কথা বলতে হবে। কাজ করতে হবে।
এর বাইরে আর অপশন নাই।
উদাহরণ দিই। মনে হয় না ইউনূস অনেক জনপ্রিয়? বা ইউনূস টাকা দিয়ে অনলাইন মেকানিজম করে জনপ্রিয়তা পাইছে?
ইউনূসের পেজে যান।
আয়নাঘর দেখতে যাওয়ার পোস্টে বা দাম কমানোর পোষ্টে লাখ লাখ পজিটিভ রিঅ্যাকশন।
আবার নারী কমিশন প্রশ্নে তীব্র গালিগালাজ।
কিনে নেওয়া রিঅ্যাকশন হলে তো সবই পজিটিভ হতো, নাকি?
কিছুদিন আগে খিলগাওতে এক পুলিশ এক রিকশাওয়ালার ঘাড়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দিসিলো। রিকশাওয়ালা এসে পুলিশটাকে চড় মেরে জিগাইছে, আমার ঘাড় ধরলি কেন?
প্রতিটা মানুষ এখন ইউটিউবে নাটকের চে পলিটিক্স বেশি দ্যাখে।
গত দুইদিন বেশ কিছুটা মফস্বলে থাকার সৌভাগ্য হলো। গ্রাম এলাকা। খুবই স্লথ লাইফ। অথচ খাইতে বসে সবাই কথা বলতেছে পলিটিক্স নিয়ে।
গ্রামের মানুষের কাছে বাংলাদেশের সবচে বড় দুইটা মিডিয়া হলো পিনাকী ভট্টাচার্য আর ইলিয়াস হোসেন।
আমি রাস্তাঘাটে বেশ কয়েকজনকে দেখতে দেখলাম।
জেলা শহরের ব্যাংকের অফিসে আলোচনা কী চলতেছে জানেন?
হাসনাত আব্দুল্লাহ নাহিদকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী বলে পোস্ট দিছে, ঐটা।
সারা বাংলাদেশের মানুষই রাজনৈতিক হয়ে উঠছে।
এরা কোন দলকেই গালিগালাজ করতে ছাড়তেছে না, ইনক্লুডিং বৈষম্য বিরোধীরা।
তো, ব্ল্যাংক চেক পেয়ে দেশ চালানোর স্বপ্ন দেখে লাভ নাই।
ভয়ের সংস্কৃতি হাসিনার সাথে সাথেই বিদায় নিছে।
এতোটাই যে যে পুলিশকে দেখলে পলিটিশিয়ানরা বোরকা পরে পালাইতো, সেই পুলিশকে এখন রিকশাওয়ালাও তেড়ে মারতে যায়।
এই ভয়টা তৈরি হতে আরো ১০ বছর লাগবে।
হাসিনার মতো তিনটা জেনোসাইড আর ৫০০ গুম না হলে আগের ভয়টা আর তৈরি হবে না মানুষের মধ্যে।
আবার এইটা করতে গেলে ৫০০ না, ৫ টা করলেই সরকার পড়ে যাবে।
সো, শান্তিতে আকাম করার দিন শেষ হয়েছে। এই প্রথম বাংলাদেশের পলিটিক্যাল পার্টিগুলোকে কঠিন এক পরীক্ষার মধ্যে পড়ে যেতে হয়েছে।
১৯৭১ নিয়ে যতটুকু পড়েছি, মানুষ একাত্তরের পরেও এতোটাই রাজনৈতিক হয়ে উঠেছিলো। তবে এইটা সবসময়ই ভালো না। কারণ মুজিবকে এই জেনারেশন ঠান্ডা করতে ৪০,০০০ খুন করতে হয়েছিলো।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি, নিজেরেও প্রাণ দিতে হয়েছে সপরিবারে।
আবারও সেইম সিচুয়েশন আমাদের সামনে হাজির হয়ে গেছে।
এই জেনারেশনের সাথে অশান্তি করলে এরাও চূড়ান্ত অশান্তি আপনাকে উপহার দেবে।
ইভেন ৭১ এর মুজিবকে মানুষ যে সুযোগ দিছিলো, ২৪ এর নাহিদদের সেই সুযোগটাও দেয় নাই। বরং গালিগালাজ শুরু করেছে।
পরের তিনটা সরকারকে এই আগুনের উপর দিয়েই হাঁটতে হবে।
আগামী ১০ বছর বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য সবচে ভয়ঙ্কর দশটা বছর হতে যাইতেছে।
বিপ্লব জিনিসটা ভূমিকম্পের মতো। একা আসে না, অনেকগুলো সাথে করে আসে।
জুলাই এর মতো আরো কিছু জুলাই এর হটস্পটে বসেই দেশ চালাতে হবে, যারাই চালান।
এই ১০ বছরে রাজনৈতিক ভুলের মাশুল খুব চড়া হতে যাইতেছে।
কোন দলের উপর দায় চাপাইয়া কোন লাভ হবে না। ভুল হলেই ডিরেক্ট মাটির তলে চলে যেতে হবে, আওয়ামীলীগের মতো।
আওয়ামীলীগ ১৭ বছর সময় পাইছিলো।
এরপরের ৩ টা সরকার ১৭ মাস পাবে কি না, আমার সন্দেহ আছে।
-সাদিকুর রহমান খান।
Rulership Brought on Islam's
আসুন আমরা সকল মানুষ ইসলাম এর সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহন করে নিজ জীবন ধন্য করি ।
স্বাধীন রাষ্ট্র বনাম শরীয়া রাষ্ট্র(বিজয় দিবস পালন)
আমরা মুসলিম জাতিসত্তা, এক ও অভিন্ন আল্লাহর আনুগত্য করি। তার প্রেরিত রসুলই (সা:) একমাত্র আদর্শ, আর সে আদর্শ প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করার জন্য আমাদের সংগ্রাম। প্রতিটি মুসলিমদের আমরা ভালোবাসি, প্রতিটি নিরীহ মানুষের কল্যান চাই – যেন দ্বীন ইসলামের ছায়াতলে এসে জান্নাতে আমরা একত্রিত হতে পারি।
কিন্তু আমরা যখন আকীদার জন্য কোন সংগ্রামী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বলি তার মানে এই নয়- আমরা তার সংগ্রামকে অপছন্দ করি বরং তারা আকীদা বিশুদ্ধ করে সংগ্রাম চালিয়ে যাক ও শহীদ হয়ে জান্নাতের মর্যাদা অর্জন করুক, এটাই প্রার্থনা করি। কিন্তু আকীদা বিশুদ্ধ না করে কোন ব্যক্তি বা সংগঠন শুধু ভূখন্ড বিজয় করবে।
কাফের হতে হয়তো ক্ষমতা হস্তান্তর হবে শুধু কিন্তু কুফরী আইন সুদ, জেনা, মদ সবই বৈধ থেকে যাবে। তখন প্রকৃত ইসলাম যারা চাইবে – তাদের উপরই জুলুম, নির্যাতন আসবে। যুগ যুগ হতে তাই হয়ে আসছে। তাই আমাদের সমর্থন, ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য যারা শুধু ভূখন্ড বিজয় নয়, আল্লাহর দ্বীনের বিজয় চায়!
এজন্য আপনাদের স্বাধীনতা ও স্বাধীন রাষ্ট্রের ধোকা বুঝতে হবে।
এই মহাবিশ্বে একমাত্র স্বাধীন হল আল্লাহ। তিনি যা ইচ্ছে করেন, সবকিছুই তার অধীন। আল্লাহ মানুষকে কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন। আল্লাহর ইচ্ছেই সে তা কর্মে পরিণত করতে পারে। তবে আল্লাহর কাছে প্রিয় হল মুসলিম। মুসলিম হল যারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পনকারী। আর ইবলিশ শয়তানই আল্লাহর কাছে কেয়ামত পর্যন্ত অবকাশ চান তার ইচ্ছেমত পাপ ও ফেতনা ছড়ানোর জন্য।
মানুষ হয় ইসলামী নিয়মনীতি মেনে আল্লাহর অধীন হয়ে মুসলিম হবে, না হয় নিজের মনমতো চলে নফসের অধীন হয়ে শিরকে লিপ্ত হবে। ইসলামি রাষ্ট্র বলতে বুঝায় এমন রাষ্ট্রব্যবস্হা যা আল্লাহর আইন ও একমাত্র সংবিধান কুরআন-সুন্নাহর অধীন।
যেখানে সার্বভৌম ক্ষমতা আল্লাহর আর তথাকথিত স্বাধীন রাষ্ট্র বলতে বুঝায় জনগনের পছন্দনীয় শাসক, শাসন ও তার আইন বা সংবিধানের অধীন যা প্রয়োজনে আল্লাহর আইনকে বাতিল করে নিজেরা মনমতো আইন রচনা করতে পারবে।
এভাবে আল্লাহর বিধানদাতা সত্তার সাথে শিরকে লিপ্ত হয়। যারা এই ধরনের নিয়মনীতিকে ভালোবাসবে, সর্মথন করবে তারা আল্লাহর শত্রুকে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে আল্লাহর শত্রুতে পরিণত হয়। মুসলিম অধ্যুষিত দেশ যদি কুরআনের আইন দ্বারা পরিচালিত না করে আল্লাহ সেখানে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি করেন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) হতে বর্নিত- “যখন কোন জাতি আল্লাহ ও তার রসুলের সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাসীন করেন এবং সে তাদের সহায় সম্পদ কেড়ে নেয়। যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে গ্রহন করে না, তখন আল্লাহ পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে দেন।” (ইবনু মাজাহ- ৪০১৯)।
সারা বিশ্বে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর দিকে তাকালে এই হাদীসের প্রতিফলন দেখা যায়। তারা আল্লাহর আইন দ্বারা রাষ্ট্র চালায়নি তাতেই গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
পরে বিজাতীয় কাফেররা তাদের ভূখন্ডের সম্পদ লুন্ঠন করে নিচ্ছে। ব্রিটেন হতে আলাদা হয়ে যখন পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয় তখন পাকিস্তান ইসলামি রাষ্ট্র গঠন না করে নিজেদের ক্ষমতার জন্য জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র গঠন করে। যদি ইসলামি রাষ্ট্র হত তাহলে পূর্ব-পশ্চিমে হত একই পতাকা, একই সংবিধান আল-কুরআন, একই রসুলের সুন্নাহ চলত, দাপ্তরিক ভাষা হত আরবি আর সবাই নিজ ভাষায় কথা বলার অধিকার থাকত। সকল মুসলিম সবক্ষেত্রে তাদের পরিপূর্ণ অধিকার পেত তা যে ভূখন্ডেই থাকুক না কেন!!
তাহলে যুদ্ধই হত না কারণ লাখো মুসলিমের ভেতর ইসলামের জ্ঞান না থাকলেও ইসলামের প্রতি ভালোবাসা ছিল।
কিন্তু তারা জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র কায়েম করে। নিজস্ব পতাকা, সংবিধান, আদর্শ, ভাষা চালু করতে গিয়ে জুলুম নির্যাতন শুরু করে ফলে শুরু হয় যুদ্ধ। আজ দেখুন কুরআনের আইন নেই এইদেশে তাই একদল ক্ষমতায় এলে আরেক দল ও সাধারণ মানুষ নির্যাতিত হয়।
তথাকথিত স্বাধীনতার নামে আমাদের বার বার বিভক্তি হয়েছে (ভারত হতে পাক-ভারত, পাকিস্তান হতে বাংলাদেশ)। আর শাসক বদল হয়েছে, মানুষ তার অধিকারের সঠিক মূল্যায়ন পায়নি। সাহাবীরা কখনো মক্কা বিজয় বা বদর দিবস পালন করেনি কারণ বদর, উহুদের চেতনা একদিনের জন্য না বরং সবসময় পালনীয়। আজও আরবদেশসহ বিভিন্ন দেশে কথিত মুসলিম ক্ষমতাসীনরা খুন, ধর্ষন করছে আর তাদের বিরোধিতা করলে আঘাত আসছে।
যারা ইসলাম চায়- এরকম শত শত আলেমগন বন্দী, নির্যাতিত। স্বাধীনতার নামে আপনি যদি শাসকের অন্যায়, শিরকের বিরোধিতা করলেই দেশদ্রোহী উপাধি পাবেন তাহলে যারা ভারত, পাকিস্তান শাসকের বিরোধিতা করেছে তারা দেশদ্রোহী ছিলেন। কারন তখন দেশটা তাদের ও শাসক তারা ছিল।
আর রসুলগণ ফেরাউন, নমরুদ, আবু জাহেলদের শিরকী নিয়মনীতির বিরোধিতা করেন। ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন যা মসজিদ হতে রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে দেশীয় চেতনার নামে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রনীতি মানার সুযোগ নেই।
ভারত, পাকিস্তান হতে বাংলাদেশ)।
আর শাসক বদল হয়েছে, মানুষ তার অধিকারের সঠিক মূল্যায়ন পায় নি। আর মুসলিমদের সবচেয়ে বড় বিজয় হল মক্কাবিজয় ও জেহাদের ময়দানে বদরের বিজয়। সাহাবীরা কখনও মক্কাবিজয় বা বদর দিবস পালন করে নি কারণ বদর, উহুদের চেতনা একদিনের জন্য না বরং সবসময় পালনীয়। তাহলে স্বাধীনতা দিবস পালন কতটা বৈধ!? আজ ইংরেজ, পাক, ভারত নেই তবুও কি ধর্ষন, দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে!? আজও ক্ষমতাসীনরা খুন, ধর্ষন করছে আর তাদের বিরোধিতা করলে গুম করছে।
বিজয় দিবস পালনের নামে একদিকে কুফর, শিরকী, অশ্লীল নাচ-গান সবই চলছে।
যে রমনা, ধানমন্ডিসহ সারাদেশে গান ও বিজয় দিবসের নামে কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হয় এসব পার্কে, ফুটপাতে হাজারও শিশু, বৃদ্ধ আশ্রয়হীন, বস্ত্রহীন, খাদ্যহীন থাকে। ওরা কি দেশের অংশ নয়!?
রসুলগণ ফেরাউন, নমরুদ, আবু জাহেলদের শিরকী নিয়মনীতির বিরোধিতা করেন। ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন যা মসজিদ হতে রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে দেশীয় চেতনার নামে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রনীতির মানার সুযোগ নেই।
অন্য ধর্মের মানুষেরা তাদের দেবদেবীর জন্ম/মৃত্যুদিনে বিভিন্ন শিরকীয় অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করে। আর মুসলিমদের বিশ্বাস হল দিন-রাত পরিবর্তনকারী ও দিবসের মালিক আল্লাহ, তাই একমাত্র তারই অধিকার আছে কোনদিন কোন দিবস হিসেবে পালিত হবে তা নির্ধারণ করার। তিনি আমাদের ঈদ, জুমা, হজ্ব, রমাদান, কদ্বরের মত আনন্দ ও বরকতময় দিনগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।
যারা আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ করা রাত-দিনের মাঝে নতুন নতুন দিবস চালু করছে, তাদের এই অধিকার কে দিয়েছে?? তারা কি রাত দিন, সময় পরিবর্তনের মালিক বা দিবসের মালিক!?
17/12/2024
দর্শক প্রশ্ন করলেন "সম্মানিত আমীর, আপনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন❓
😃 হাস্যোজ্জ্বল আমীর সাহেব দলের প্রধান হওয়া স্বত্বেও নিঃসংকোচে উত্তর দিলেন "সেটা আমি বলতে পারি না, দলের ইলেকটোরাল কমিটি যেটা সিদ্ধান্ত নেবেন সেই অনুযায়ীই হবে।” 😘 আরও বলেন এমনও হতে পারে তারা হয়তো আমাকে নির্বাচনের জন্য আনফিট মনে করলো যে আমি একজন বয়স্ক মানুষ!
আমীরে জামায়াত, Dr. Shafiqur Rahman ❤️
আসিফ আদনান এর এই আলোচনাটি আমার কাছে তাৎপর্য্যপূর্ণ মনে হয়!
#দিকদর্শন ২
গতো ১০০ বছরে কোন ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রন (তামকীন) অর্জন করে ইসলামী শাসন বাস্তবায়ন করার উদাহরণ—
১। রীফ ইম|| র৩: সময়কাল, ১৯২১-১৯২৬। অঞ্চল; মরক্কোর পাহাড়ি রীফ অঞ্চল। প্রতিষ্ঠাতা; আমীর মুহাম্মাদ বিন আব্দেলকারীম আল-খাত্তাবী, রাহিমাহুল্লাহ।
পদ্ধতি: গেরিলা যুদ্ধ। আল-খাত্তাবীকে আধুনিক গেরিলা যুদ্ধের জনক বলা হয়।
১৯২১ সালে স্প্যানিশ উপনিবেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রীফের গোত্রগুলোকে একত্রিত করতে শুরু করেন আমীর আল-খাত্তাবী। সে বছরের এপ্রিলে উলামা ও গোত্রপতিদের ঐক্যমতে তাঁকে আমীর নির্ধারণ করা হয়। ১৯২১ সেপ্টেম্বরে দেয়া হয় ইماরতের ঘোষণা। রিপাবলিক অফ রীফ। নামে রিপাবলিক হলেও এটি ছিল ইসলামী শরীয়াহ দ্বারা শাসিত ইماরত। আয়তনে ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। আজকের কুয়েতের চেয়ে বড়। ৮০ জন গোত্র প্রধান ও আলিমদের নিয়ে গঠিত হয় মজলিশে শূরা। শরীয়াহ আদালতে বিচার হতো মালিকী ফিকহ অনুযায়ী।
১৯২৪ নাগাদ স্প্যানিশদের পাশাপাশি শুরু হয় ফ্রেঞ্চদের আগ্রাসন। মুসলিমদের সাথে গাদ্দারি করে ফ্রেঞ্চদের অধীনস্ত মরক্কোর সুলতান। তবু বিপুল প্রতিকূলতার মুখে আমীর আল-খাত্তাবীর বাহিনী টিকে থাকে। একসময় সাধারন জনগণকে নিশানা বানিয়ে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার শুরু করে স্প্যানিশরা। ১৯২৫ থেকে ১৯২৬ এর মধ্যে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে মারা যায় প্রায় দেড় লক্ষ মরক্কোন মুসলিম। সাধারন জনগনকে রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেন আমীর আল-খাত্তাবী। [১]
২। প্রথম অ||ফ..গ||ন ইম|| র৩ : সময়কাল, ১৯৯৪-২০০১।
পদ্ধতি: গৃহযুদ্ধ, মোবাইল ওয়ারফেয়ার, মিলিশিয়া অফেন্সিভ।
প্রেক্ষাপট: ১৯৯৪ সালে সূচনার পর, ৯৬ নাগাদ পুরো দেশের অধিকাংশ অংশ নিয়ন্ত্রনে নেয় ৩||লে.. ব||ন আন্দোলন। প্রতিষ্ঠা করে ইসলামী ইম|| র৩। গৃহযুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে গেরিলা যুদ্ধের বদলে অনেকটাই কনভেনশানাল মিলিটারি কনকোয়েস্টের আদলে কর্তৃত্ব অর্জন করে তারা। ২০০১-এ অ্যামেরিকার আগ্রাসনের পর পতন ঘটে এই ইম|| র৩-এর।
৩। দ্বিতীয় অ||ফ..গ||ন ইমারাত: সময়কাল, ২০২১-চলমান।
পদ্ধতি: গেরিলা যুদ্ধ।
প্রেক্ষাপট: প্রায় বিশ বছর ধরে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে ৩||লে.. ব||ন। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে ন্যাটো সেনারা অ||ফ..গ||নি-- স্তান ছাড়ার আগেই নিয়ন্ত্রন এনে ফেলে কাবুলসহ প্রায় পুরো দেশ। দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী ইম|| র৩। অনেক বিশেষজ্ঞ মতে ন্যাটোর বিরুদ্ধে ৩||লে.. ব||নের প্রতিরোধকে ভিয়েতনামের পর গেরিলা যুদ্ধের সবচেয়ে সফল প্রয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। [২]
৪। ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান: সময়কাল, ১৯৭৯ – চলমান।
পদ্ধতি: গণবিপ্লব
প্রেক্ষাপট: শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম শীর্ষ বৈশ্বিক ধর্মীয় নেতা তথা ‘আয়াতুল্লাহ’ রুহুল্লাহ খোমেইনির নেতৃত্বে পাহলভী রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ গণআন্দোলন যা এক পর্যায়ে বিপ্লবী গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। গণঅভ্যুত্থানের সর্বশেষ পর্যায়ে ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০% এর মতো রাস্তায় নেমে আসে। অনেক অ্যাকাডেমিক একে আধুনিক সময়ের সর্ববৃহৎ ম্যাস পলিটিকাল মোবালাইযেইশান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন [৩]
গণঅভ্যুত্থানের কারণে ইরানের শাহ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বিপ্লবী রাজপথে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সামরিক বাহিনী বিপ্লবীদের নেতৃত্ব মেনে নেয়। ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী রিপাবলিক ঘোষণা দেয়া হয়।
৫। অ||ই সিস: সময়কাল, ২০১৪-২০১৭, মতান্তরে ২০১৯। অঞ্চল; ইরাক ও সিরিয়ার বিভিন্ন অংশ।
পদ্ধতি: গেরিলা যুদ্ধ, ইনসার্জেন্সি, ‘ব্লিটযক্রিগ’ ধাঁচের অভিযান।
প্রেক্ষাপট: জুন ২০১৪-তে সংগঠনটি ইরাকের মসুল দখল করার পর এককভাবে তাদের নেতাকে ‘খলিফা’ বলে ঘোষণা করে, এবং নিজেদেরকে খিল||..ফ||হ বলে দাবি করে। এই সময়ে সংগঠনটি ইরাক ও সিরিয়ার প্রায় ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছিল।
উল্লেখ্য, এই ঘোষণার সাথেসাথেই সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যেকোন অঞ্চলে তাদের পদার্পন হওয়া মাত্রই সেখানকার সকল ইসলামী সংগঠন, জামআহ এবং ইমারাত বাতিল বলে গণ্য হবে। প্রয়োজনে তাদের জোরপূর্বক দমন করা হবে।
পরবর্তীতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ-ও বলা হয় যে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা কার্যত ইসলামী শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে লড়াই বলে গণ্য হবে। অতএব, যারাই তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে তারা কুফরে লিপ্ত। এই নীতির কারণে সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তারা অন্যান্য মুসলিম দলগুলোর বিরুদ্ধে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং এধরণের সব সংগঠনকে ক||ফির ঘোষণা করে।
২০১৫ সাল থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলো দাঈশের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। ২০১৭ সালের শেষ দিকে মসুল (ইরাক) এবং রাক্কা (সিরিয়া) তাদের কাছ থেকে পুনর্দখল করা হয়। ২০১৯ সালের মার্চে সিরিয়ার বাঘুজ ছিল তাদের সর্বশেষ ঘাঁটি। এর পতনের পর তাদের দাবিকৃত অধিকাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রন তারা হারিয়ে ফেলে।
উল্লেখ্য, তথ্যগত অ্যাকুরেসি, স্বচ্ছতা, এবং আলোচনার খারিতে সর্বশেষ দৃষ্টান্ত দুটি যুক্ত করা হলো। যদিও ইরানি বিপ্লবের শিয়া নেতৃত্ব এবং অ||ই সিস-এর অবস্থান দুটোকেই আমি আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামাআহ-এর অবস্থানের জায়গা থেকে বিচ্যুত মনে করি।
দেখা যাচ্ছে, ওপরের ৫টি উদাহরণের মধ্যে চারটি ক্ষেত্রেই কর্তৃত্ব ও শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটা ঘটেছে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে। ব্যতিক্রম ইরান। একই সাথে লক্ষণীয় বিষয় হল, ইরান ছাড়া প্রত্যেক ক্ষেত্রে হয় বাহ্যিক আগ্রাসন ছিল অথবা গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান ছিল।
সম্ভাব্য হাইব্রিড:
সিরিয়াতে যদি ইসলামী শাসন কায়েম হয় তাহলে তা এই লিস্টে ষষ্ঠ এন্ট্রি হিসেবে যুক্ত হবে। সেক্ষেত্রে তাহলে সিরিয়া গণঅভ্যুত্থান ও গৃহযুদ্ধের একটি হাইব্রিড মডেল হিসেবে গণ্য হতে পারে, কারণে এখানে দুটো পদ্ধতির মিশ্রন ঘটেছে।
সিরিয়াতে প্রথমে নিরস্ত্র গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। সরকারের নৃশংসতা এবং নির্মমতার কারনে একসময় তা রূপ নিয়েছে গৃহযুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের পর তামকীন অর্জিত হয়েছে।
সশস্ত্রভাবে তামকীন অর্জনের যতোগুলো উদাহরণ আছে তার মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে (চারটির মধ্যে তিনটি) লড়াইয়ের পদ্ধতি ছিল গেরিলা যুদ্ধ। সিরিয়া এখানেও ব্যতিক্রম। সিরিয়াতে যদিও অ্যাসেমেট্রিক ওয়ারফেয়ার বা অসম যুদ্ধ চলেছে, কিন্তু এখানে গেরিলা যুদ্ধের পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে অত্যন্ত কম, বা ব্যবহার করা হয়নি বললেই চলে।
উল্লেখ্য, অ্যাসেমেট্রিক ওয়ারফেয়ার মানেই গেরিলা পদ্ধতি না, আর গৃহযুদ্ধ মানেই গেরিলা যুদ্ধ না। গেরিলা যুদ্ধ, সশস্ত্র যুদ্ধের একটি নির্দিষ্ট ধরণ যার বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য এবং উপাদান আছে। [৪]
নোট ১ – যে পদ্ধতিতে এক ইঞ্চি মাটিতেও আজ পর্যন্ত ইসলামী শাসন (সঠিক, আংশিক, কিংবা ত্রুটিপূর্ণ) কায়েম করা সম্ভব হয়নি; গণতন্ত্র।
নোট ২ - এটা কোন শার'ঈ আলোচনা না। বরং কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য তুলে ধরা এবং প্যাটার্ন রেকগনিশনের চেষ্টা।
..
Asif Adnan
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Cumilla
3500
Opening Hours
| Monday | 15:00 - 23:00 |
| Tuesday | 15:00 - 23:00 |
| Wednesday | 09:00 - 17:00 |
| Thursday | 09:00 - 17:00 |
| Saturday | 09:00 - 17:00 |
| Sunday | 09:00 - 17:00 |
