23/05/2025
আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, শোভা কলোনির একটি বাড়ির সামনে থেকে সাপটিকে উদ্ধার করা হয়। অত:পর সাপটিকে লোকালয় থেকে দূরে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়।
উদ্ধারকৃত সাপের পরিচয়↓
বাংলা নাম- বার্মিজ অজগর।
ইংরেজি নাম- Burmese python
বৈজ্ঞানিক নাম- Python bivittatus
🔴 বিষের ধরন- অবিষধর।
🖐️ সচেতনতা মূলক বার্তা -
🔘 ভয় পাবেন না সর্পদংশন মানেই মৃত্যু নয়, সরকারি হাসপাতালে সর্পদংশনে বিনামূল্যে চিকিৎসা আছে মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছে।
🔘 সাপে কাটলে জীবন বাঁচাতে ওঝার কাছে নয়, হাসপাতালে ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়া আবশ্যক।
🔘 সাপে কাটলে কোনপ্রকার শক্ত বাধ না দেওয়া ও কাটাছেঁড়া না করা।
🔘 রাতে অবশ্যই মশারী টানিয়ে ঘুমানো, সম্ভব হলে মেঝেতে না ঘুমানো।
🔘 অন্ধকারে পথ চলতে আলোর (হ্যান্ড টর্চ,মোবাইল ফ্লাস) সাহায্য নেওয়া।
🔘 সাপ মারতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়া, সাপ মেরে ফেলা সমাধান নয়, প্রয়োজন সর্পদংশন বিষয়ক সতর্কতা-সচেতনতা ও প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
28/09/2024
তোতলামী দূর করা এক তরুনের গল্প।
তোতলামি বা কথা বলতে জড়তা একটি খুবই পরিচিত শারীরিক সমস্যা। এই সমস্যার কারণে সাধারণত মানুষ কোন শব্দ উচ্চারণে অসমর্থ হয়ে পড়ে কিংবা দীর্ঘ সময় নেয়।
পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের মত মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু যাদের এ সমস্যা আছে, ছোটবেলা থেকেই তাদের নানা রকম বৈরি সামাজিক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়।
তোতলামির কারণে ব্রিটেনের ১৭ বছর বয়সী মর্গান হুপারকে ছোটবেলা থেকেই চারপাশের মানুষেরা বিশেষ করে সমবয়সী বন্ধুরা খেপাত।
কারো সঙ্গে কথা বলা ও শব্দ করে কিছু পড়ার সময় দ্বিধা আর সংকোচে রীতিমত কুঁকড়ে যেতেন তিনি।
কিন্তু বছর খানেক আগে তোতলামি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ক্লাসে যান তিনি, আর এরপরই বদলে যায় তার জীবন।
"তোতলামি থাকা মানেই যেন ব্যপারটা এমন যে আপনাকে জীবনে অনেক কিছু ছাড় দিতে হবে। আমার মনে আছে, প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় আমি সব সময় ক্লাসে নেতৃত্ব নিতে চাইতাম। কিন্তু আমি নিজেই নিজেকে থামিয়ে দিয়েছি, কারণ আমি প্রকাশ করতে চাইনি যে আমি কথা বলার সময় তোতলাই।"
ক্লাসে জোরে কিছু পাঠ করতে দিলেই মর্গান মরমে মরে যেতেন, কারণ নির্ভুলভাবে একটি লাইন পড়া ভীষণ কষ্টকর ছিল তার জন্য।
সহপাঠীদের কাছে এ নিয়ে তাকে বহুবার অপদস্থ হতে হয়েছে। ফলে যে কারো সঙ্গে মিশতেও সমস্যা হতো তার।
কিন্তু এখন সে সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। ফলে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে তিনি অন্য যারা তার মত একই সমস্যায় ভুগছে তাদের সাহায্য করতে চান।
"এখন আমি আমার সামনে আসা প্রতিটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করি, আমার আর পালিয়ে বেরাই না। এটা আমার জন্য সত্যি ভীষণ আনন্দের একটি ব্যপার। কারণ আমার তোতলামির সমস্যাসহই আমি যেমন মানুষ সেটা আর আমাকে লুকিয়ে রাখতে হচ্ছে না।"
চিকিৎসকেরা বলছেন, তোতলামি জন্মগত সমস্যা নয়। অনেক কারণেই তোতলামি হতে পারে।
এরমধ্যে জেনেটিক এবং নিউরোজেনিক কারণে তোতলামি হতে পারে। আবার কেউ হয়তো ছোটবেলায় মাথায় আঘাত পেয়েছিল, তা থেকেও কথা বলার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কোন শিশুকে হয়ত ছোটবেলায় কথা বলার জন্য বেশি চাপ সৃষ্টি দেয়া হয়েছিল, সেক্ষেত্রেও ঐ শিশুটির মধ্যে তোতলামো ভাব আসতে পারে।
মর্গানের অনেক স্বপ্নের একটি হচ্ছে লাইভ রেডিও ইন্টারভিউতে অংশ নেয়া, যেকারণে সে বিবিসি রেডিও ফাইভের কাছে চিঠি লেখার পর, তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বাবাকে নিয়ে সেখানে এসেছিল মর্গান। তার বাবা বলছিলেন, তার অভিজ্ঞতার কথা
তিনি বলেন, "যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমার ছেলের কষ্ট হচ্ছে এটা একজন বাবার জন্য দেখা খুবই কঠিন। ও কারো সঙ্গে মিশতে লজ্জা পাচ্ছে, এটা দেখেও কষ্টে বুক ভেঙ্গে যেত। এখন ও নিজে ভীষণ চেষ্টা করছে সব বাধা কাটিয়ে উঠতে, আর যা সবসময় করতে চেয়েছে, তা করতে পারছে, সেটা দেখা খুবই আনন্দের।"
বলা হয়ে থাকে, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে বেশি তোতলামি দেখা যায়।
মর্গান এখন স্কুলে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অল্প বয়েসী ছেলেমেয়েদের মধ্যে তোতলামি কাটানোর পদ্ধতি নিয়ে আলাপ করেন।
কথা শুরুর জন্য তিনি ম্যাজিক বা জাদু দেখানোর কিছু কৌশল রপ্ত করেছেন। ফোনে কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রেও তিনি আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ।
16/10/2022
■ কিছু কথা
সোনায় সোহাগা আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের আনাচে কানাচে, ঝোপ জঙ্গলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মুক্তো মানিক। কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় এই যে আমারা আজও সেই মুক্তো মানিক চিনতেই পারিনি। আমরা এগুলোকে পা দিয়ে মাড়িয়ে চলে যাই,তারপরও ভেবে দেখিনি, জেনেও দেখিনি কোন উপকারে আসবে কিনা। রাস্তার ধারে, পুকুরের পাড়ে,বনে বাগানে হাজারো উপকারী গাছপালা, লতাপাতা আছে যা আমাদের প্রাকৃতিক সুরক্ষার দেয় , পাশাপাশি অনেক সুবিধাও দিয়ে থাকে। আজ আপনাদের জানাবো এমনই এক উপকারী গাছের কথা।
■ রিফুজি লতা'র পরিচয়
বাংলা নাম রিফুজি লতা বা আসামি লতা। বৈজ্ঞানিক নাম Mikania micantha । আসামলতা, কইয়া লতা, বুচিলতা, তরুলতা, রিফুজি লতা, শঙ্খুনি লতা, ইত্যাদি নামে এটাকে ডাকা হয়। এই লতা অতি বৃদ্ধিপ্রবল, একবার বেড়ে উঠবার সুযোগ পেলে বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়ে, জড়িয়ে ধরে অন্য গাছের শাখা-প্রশাখা।
রিফুজি লতা বনে-জঙ্গলে, পতিত জমিতে বা পথের পাশে যেখানে ফোটে সে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হতেই থাকে। রিফুজি লতার কোন ধরনের যত্ন না নিলেও চলে,এটি একবার বেয়ে গেলে আর সহজে মরে না।
■ রিফুজি লতা'র ঔষধী গুনাগুন
* প্রসাবে জ্বলাপোড়ায় নিয়মিত পাতার রস খেলে সমস্যা কেটে যাবে।
* লিভারের যে কোন সমস্যায় এই পাতার রস অনেক উপকার করে।
* চোখ লাল হয়ে গেলে এই পাতার রস খেলে সমস্যা কেটে যাবে।
* পাকস্থলীর প্রদাহ হলে আদার সাথে তিনটি পাতা চিবিয়ে খেয়ে নিন।
* এই পাতার রস নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
* শরীরের কাটা ছেঁড়ায় এ লতার পাতা পিষে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে তিন থেকে চার ঘন্টা বেধে রাখুন, জোড়া লেগে যাবে।
* বসন্ত বা হাম হয়েছে যাদের, তারা রিফুজি পাতা পিষে রস পানির সাথে মিশিয়ে পু্রো শরীর ধুয়ে ফেলুন।
* রক্ত দূষিত হলে ৭দিন প্রতি সকালে খালি পেটে আধা-কাপ পাতার রস এক চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে খাবেন।
* পেটে গ্যাস, এসিডিটি হলেই আধা-কাপ রিফুজি পাতার রস খেয়ে নিন, সেরে যাবে।
* বিষাক্ত পোকা-মাকড় কাঁমড় দিলেই রিফুজি পাতার রস দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, সেই সাথে পাতা পিষে লাগিয়ে রাখুন।
* চুলকানী, একজিমা, দাদ হলে এই পাতার রস দিয়ে ধুয়ে রস লাগাতে থাকেন দেখবেন সেরে যাবে।
* এই পাতার রস কাচা হলুদের সাথে মিশিয়ে শরীরে লাগালে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং শরীরে দাগ দুর হয়।
* মূখে মেসতা হলে হলুদের সাথে লেবুর রস ও এই পাতার রস মিশিয়ে লাগান সেরে যাবে।
27/07/2022
হিটস্ট্রোকে কী করবেন
গরমজনিত সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো হিটস্ট্রোক। দীর্ঘসময় প্রচণ্ড গরমে থাকার ফলে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে হিটস্ট্রোক হয়।
লক্ষণ
শরীর প্রচণ্ড ঘামতে শুরু করে, তবে একসময় হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়।
শ্বাস–প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যায়। নাড়ির অস্বাভাবিক স্পন্দন—ক্ষীণ বা দ্রুত হয়ে পড়ে।
রক্তচাপ কমে যায়।
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।
হাত–পা কাঁপা, শরীরে খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা ও তীব্র মাথাব্যথা হয়।
ত্বকের বর্ণ লালচে হয়ে যায়।
আক্রান্ত ব্যক্তি অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন। অসংলগ্ন কথাবার্তাও বলতে পারেন।
অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
কখনো কখনো আক্রান্ত ব্যক্তি পুরো নিস্তেজ হয়ে পড়েন, এমনকি কোমা বা শকে চলে যেতে পারেন।
কী করবেন
প্রথমেই শরীরের তাপ কমানোর জন্য ঠাণ্ডা বা বরফ পানি দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর মুছে দিন।
বাতাস আছে এমন শীতল জায়গায় আনুন নিয়ে আসুন।
শরীরের কাপড় যথাসম্ভব খুলে নিন বা ঢিলে করে দিন।
প্রচুর ঠাণ্ডা পানি, ফলের শরবত অথবা স্যালাইন খেতে দিন।
জ্ঞান হারিয়ে ফেললে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে।
যাদের হতে পারে
যেকোনো বয়সের মানুষের হিটস্ট্রোক হতে পারে। তবে সাধারণত ৪ বছরের কম বয়সী শিশু ও ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, অর্থাৎ যাঁদের গরম সহ্যের ক্ষমতা কম, তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
যাঁদের শরীর খুব দুর্বল, তাঁরাও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন।
কিডনি, হার্ট, লিভার ও ডায়াবেটিসের রোগীর হিটস্ট্রোক হতে পারে।
ক্রীড়াবিদ, ব্যায়ামবিদ ও প্রচণ্ড রোদে কাজ করেন, এমন ব্যক্তিদেরও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
হিটস্ট্রোক এড়াতে যা খাবেন
সারা দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
চিনি ও কৃত্রিম চিনি (আর্টিফিশিয়াল সুইটনার) ছাড়া পানিতে লেবু, শসা, মালটা, কমলা বা স্ট্রবেরির স্লাইস দিন। কয়েক ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। খাওয়ার সময় চাইলে লেবুর রসও মেশাতে পারেন।
ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে টক্সিনের সঙ্গে সঙ্গে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস ও ক্লোরাইড বের হয়ে যায়। সেলারি জুস পারফেক্ট রিহাইড্রেটর। এতে রয়েছে পটাশিয়াম ও প্রাকৃতিক সোডিয়াম। প্রতিদিন সেলারি জুস খেলে শরীরে তাপ সহ্যক্ষমতা বাড়বে।
অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
26/07/2022
করোনা নেই, করোনা আছে
মাসখানেক আগে হঠাৎ করে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে গিয়েছিল। ঊর্ধ্বমুখী ছিল শনাক্ত ও মৃত্যুর হার। তবে এ হার এখন নিম্নমুখী হচ্ছে। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলা যাচ্ছে। কিন্তু তার মানে কি করোনা একেবারে গেছে? না, তা নয়। এখনো করোনাভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। যখন তখন আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা অসম্ভব কিছু নয়।
যদিও বিপুলসংখ্যক মানুষ করোনার টিকার আওতায় আসার কারণে এখন সংক্রমণ হলেও পরিস্থিতি ততটা জটিল আকার ধারণ করছে না।
করোনাবিষয়ক জটিলতা ও মৃত্যুহার কমে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতা এখন কম। স্বাস্থ্যবিধি মানা বা মাস্ক পরার কথা প্রায় ভুলেই যাচ্ছি আমরা। কিন্তু করোনা বারবার ধরন পাল্টাচ্ছে, আর নতুন নতুন ধরন যা সামনে আসবে, সেসব সম্পর্কে গবেষকদের ধারণা কম। এ ছাড়া বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মৃত্যুঝুঁকি তো আছেই। আছে ভোগান্তিও। এসব কারণে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা ভুলে গেলে চলবে না।
চারদিকে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা, দুর্বলতা, শরীরে ব্যথা—এসব লক্ষণ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। মৌসুমি ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে উপসর্গ মিলে যাওয়ায় অনেকেই পিসিআর টেস্ট করান না, আবার অনেকের টেস্ট করলেও ফলাফল নেগেটিভ আসে। এরপরও এ সময় জ্বর–কাশি হলে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মানতে হবে। অন্তত ৫-৭ দিন ঘরে থাকতে হবে, অন্যদের চেয়ে আলাদা হলে ভালো।
এই বর্ষা মৌসুমে জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি হলে প্রথমেই করোনা ও ডেঙ্গু পরীক্ষা করে নিতে হবে। এ দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট তফাত আছে উপসর্গে, আবার দুটো রোগ একসঙ্গেও হতে পারে। ডেঙ্গুতে জ্বরের সঙ্গে প্রবল মাথা, চোখ ও শরীর ব্যথা থাকলেও সর্দি–কাশি তেমনটা থাকে না। করোনা হলে কাশি, গলাব্যথা থাকে। তবে এ মৌসুমে দুটো রোগই হঠাৎ জটিল হতে পারে এবং হাসপাতালে ভর্তির দরকার হতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হলো প্রতিরোধের চেষ্টা করা।
করণীয়
বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। যথাসম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। বয়স্ক ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল—এমন ব্যক্তির বিশেষ কোনো কাজ না থাকলে ঘরে থাকাই শ্রেয়।
নিয়মিত বিরতিতে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
হাঁচি-কাশির সময় অবশ্যই নাকে–মুখে রুমাল ব্যবহার করতে হবে।
করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই পরীক্ষা করে নিতে হবে।
জ্বর না সারা পর্যন্ত সাত দিন আলাদা থাকতে হবে। জ্বর নিয়ে ভ্রমণ করা বা জনসমাগম বা অনুষ্ঠান–উৎসবে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
যাঁরা এখনো টিকা বা বুস্টার ডোজ নেননি, তাঁরা এখনই নিয়ে নিন।
জ্বর হলে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। যথেষ্ট পরিমাণ পানীয়, শরবত, তরল খাবার গ্রহণ করুন। পর্যাপ্ত ফলমূল ও সুষম খাবার খান।
জ্বর-ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল–জাতীয় ওষুধ খাবেন।
সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন–জাতীয় যেকোনো ওষুধ খেতে পারেন।
চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও বয়স্ক ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিন।
অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
24/06/2022
গরমের কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে?
যাঁদের ফুসফুসের সমস্যা আছে, তাপমাত্রার দ্রুত তারতম্য তাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা হাঁপানি (অ্যাজমা), যক্ষ্মা, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজসহ (সিওপিডি) ফুসফুসের অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, তীব্র গরমে তাঁদের ভয়ানক শ্বাসকষ্ট হতে পারে। পরিবেশ দূষণ ও বাতাসে ধুলাবালুর সঙ্গে আবহাওয়ার ওঠানামার ফলে শ্বাসতন্ত্রের অসুখ বেড়ে যায়।
গরমে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার কারণ
গরমকালে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয়কে বিবেচনা করা যেতে পারে।
উচ্চ তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে ঘাম হয়। এই ঘাম পানিশূন্যতা তৈরি করে এবং শ্বাসকষ্ট বাড়ায়।
সূর্যরশ্মি: সূর্যরশ্মি দূষিত বাতাসে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা মূলত ওজোনস্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই দূষিত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়ার ফলে শ্বাসকষ্ট হয়। নাকে-গলায় অস্বস্তি হয় এবং হাঁচি-কাশির প্রকোপ বেড়ে যায়।
আর্দ্রতা: আর্দ্রতার উচ্চমাত্রা শ্বাসকষ্ট বাড়াতে পারে। উষ্ণ বাতাসে শীতল বাতাসের চেয়ে আর্দ্রতা বেশি থাকে এবং এটি বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে আর্দ্রতার মাত্রা যত বাড়ে, ফুসফুসের সমস্যা তত বেশি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
গরমে শ্বাসকষ্ট থেকে বাঁচতে করণীয়
তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে না থাকাই ভালো। এ সময় রোদের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে।
দূষণযুক্ত পরিবেশ এড়িয়ে চলুন। ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
যথাসম্ভব শীতল পরিবেশে থাকুন। বাড়িতে বা কর্মক্ষেত্রে আরামদায়ক মাত্রায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালু রাখুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করবেন। মদ্যপান ও ধূমপানের অভ্যাস থাকলে পরিহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করবেন না।
ঘরে যাতে পর্যাপ্ত আলো–বাতাস আসা-যাওয়া করতে পারে, সে ব্যবস্থা রাখুন।
নিয়মিত গোসল করতে হবে।
ধুলাবালু থেকে দূরে থাকুন। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন।
ফুসফুসের যত্ন নিন। ফুসফুসের কিছু ব্যায়াম আছে, সেগুলো নিয়মিত অনুশীলন করুন।
ফুসফুসের যত্ন নিন
শ্বাসতন্ত্রের অসুখ থেকে বাঁচতে ফুসফুসের যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ফুসফুসের ব্যায়াম খুবই কার্যকর। এ ছাড়া জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে সচেতন থাকা দরকার। ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে নিচের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারেন।
ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট খাবার খাওয়া ভালো। হলুদ, আদা, রসুন, বিট, ব্রকলি, টমেটো, আপেল, ডিম ইত্যাদি খাবার অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট খাবার।
নিয়মিত মধু খেলে ফুসফুস ভালো থাকে। মধু কাশি ও ফুসফুসে জমে থাকা শ্লেষ্মা দূর করে।
গ্রিন টিতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ফুসফুসের জন্য ভালো। এটি নিয়মিত পান করার অভ্যাস করতে পারেন।
খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করবেন না। আস্তে আস্তে সময় নিয়ে খাবেন। একবারে অনেক বেশি খাবেন না। পরিমাণে অল্প করে বারবার খাওয়া ভালো।
খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে যাবেন না। অন্তত দুই ঘণ্টা পর ঘুমাতে যান।
নিয়মিত শরীরচর্চা ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। দৈনন্দিন অন্তত কিছু সময় শরীরচর্চার অভ্যাস করুন।
নিকোটিন ও কার্বন ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে চিরতরে তা পরিহার করুন।
লেখক: মেডিসিন,
বক্ষব্যাধি ও অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ এবং চেয়ারম্যান, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
05/06/2022
ডাক্তার হতে যদি এই জিনিসটা তোমাকে মোটিভেট না করে তাহলে কিসে মোটিভেট করবে আমি জানি না।
চমেকের সার্জারী ইউনিট-১ এর Emergency OT বরাবরই বিকেলে শুরু হয়ে মাঝরাতে শেষ হয় (মাঝে মাঝে পরদিন সকালও হয়ে যায়)...
গতকালও বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু করে লাগাতার আমাদের ইমার্জেন্সী অপারেশন চলছিল...
রাত সাড়ে ১১টায় তখন আর মাত্র ২ জন রোগীর অপারেশন বাকি...ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চিন্তা করলাম আজ হয়তো রাত ২টার মধ্যে বাসায় যেতে পারবো; পরদিন (মানে রবিবার) যে আবার সকাল ৮টা থেকে মর্নিং ডিউটি আছে আমার...
অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে থাকায় তখন আমরা বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন...
ঠিক সেই সময়ই খবর আসলো চট্টগ্রামে Mass Casualty হয়েছে...
শয়ে শয়ে এম্বুলেন্স চমেকের উদ্দেশ্যে আসছে...
Be prepared...
এর ঠিক ১০ মিনিট পরই একজন রোগী আসলেন নাঁড়িভুঁড়ি সব বের হয়ে গেসে...এভাবে পর পর Casualtyর রোগী এসে ভিড় করতে লাগলো আমাদের ওয়ার্ডে...কারো বুকে লোহার পাত ঢুঁকে গেছে তো কারো বুকের মাংসই উড়ে গেসে...একজনের কোমড়ের পিছনে মাংস নাই; সেখান থেকে কিডনি-নাঁড়িভুঁড়ি বাইরে ঝুলতেছে...আবার কোনো রোগীর শরীর থেকে মাংস খসে খসে পরে যাচ্ছে...
এরকম অসংখ্য অসংখ্য আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে দিতেই রাত পার হয়ে আজ বিকেল এখন...কিন্তু থেমে নেই চিকিৎসা সেবা...
খবর পাওয়া মাত্রই সকল চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল স্টুডেন্ট, স্বেচ্ছাসেবীরা একত্রে লড়ে গেছেন এই দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের রক্ষার্থে...
স্যালুট তাদের সবাইকে...
এই ছবিগুলো গতকালকে Emergency OT শুরুর ২২ ঘন্টা পরের 'চমেক সার্জারী ইউনিট-১' এর বিধ্বস্ত কিন্তু হাস্যজ্জ্বল ডাক্তারদের ছবি...
এই হাসির কারণ আমাদের ওয়ার্ডে আসা 'সীতাকুন্ড ট্র্যাজেডির' ৩৬ জন রোগীকেই আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি...
এইটুকুই যথেষ্ট আমাদের টানা ২২ ঘন্টার পরিশ্রম এক নিমিষেই ভুলে যাওয়ার জন্য...
(ছবিতে গতকাল থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাওয়া অনেক ডাক্তারই অনুপস্থিত)
ওয়ার্ড-২৪
সার্জারী ইউনিট-১
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।